আমানুল্লাহ সরকার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

পিএলডিডি এর লেজার  পদ্ধতিতে হাড়, মাংস ও চামড়া কাটার যেমন প্রয়োজন হয় না । রোগীকে অজ্ঞান করারও প্রয়োজন হয় না। ফলে, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে লেজার সার্জারীর জন্য তেমন কোন অন্তরায় হয় না। লেজার প্রয়োগের স্থান দূর্বল হয় না। লেজার প্রয়োগের স্থানে কোন ক্ষতচিহ্ন (স্কার) থাকে না যেকারণে পরবর্তিতে কোন ব্যথা অনুভূত হবে না।

চলুন জেনে নেই ডিস্কপ্রোল্যাপ্স কি?
মানুষের মেরুদন্ডে শক্ত হাড় ছাড়াও দুই হাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে নরম হাড় (ইন্টারভার্টেব্রাল ডিস্ক) থাকে- যা গাড়ীর স্প্রীং বা শক এবজরবারের মতো কাজ করে। সাধারণত ভারী জিনিস উঠানো, আঘাত, শরীরের বিশেষ অবস্থায় ঝাকি খাওয়া এছাড়া আরও নানাবিধ কারণে ডিস্কের স্থানচ্যুতি (প্রোলাপ্স) হয়ে সংলগ্ন মেরুরজ্জু (স্পাইনাল কর্ড) অথবা স্নায়ুমূল (নার্ভরুট) অথবা উভয়ের উপরেই চাপ পরতে পারে। কোমড়ের (লাম্বার) ডিস্ক প্রোল্যাপ্সে রোগী মাজায় তীব্র ব্যথা অনুভব করে। ফলে, রোগী বসতে বা দাঁড়াতে পারে না।

ডিস্কপ্রোল্যাপ্স এর লক্ষণ:

কোমরে উৎপন্ন স্নায়ুসমূহ (নার্ভ) কোমর থেকে পা পর্যন্তছড়িয়ে থাকে। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে মাজা ব্যথার পাশাপাশি এক পার্শ্বে বা উভয় পার্শ্বের রানে, হাঁটুতে, হাঁটুর নীচের গোছা, গোড়ালী বা পায়ের আঙ্গুল পর্যন্তযে কোন জায়গায় ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এ ছাড়াও উপরোক্ত জায়গাগুলোতে ঝিন-ঝিন, শিন-শিন করে, পায়ের বোধ শক্তি কমে যায়, পর্যায়ক্রমে পা দুর্বল হয়ে যেতে থাকে এবং এক পর্যায়ে রোগী হাঁটতে, দাঁড়াতে এমনকি বসতেও পারে না। আবার ঘাড়ে (সারভাইকাল) উৎপন্ন স্নায়ুসমূহ ঘাড় থেকে হাত পর্যন্তছড়িয়ে থাকে। কাজেই ঘাড়ের ডিস্ক প্রোল্যাপ্সে প্রাথমিক পর্যায়ে ঘাড়ের ব্যথার পাশাপাশি ডান বা বাম হাত বা উভয় হাতে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। লাম্বার ডিস্ক প্রোল্যাপ্সের মত এখানেও হাত ঝিন-ঝিন, শিন-শিন করে, হাতের বোধ শক্তি কমে যায়। এক পর্যায়ে হাত দুর্বল হয়ে যেতে পারে- এমনকি হাত-পা উভয়ই দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

ডিস্ক প্রোল্যাপ্স এ কি হয়:
ইন্টারভার্টেব্রাল ডিস্ক গঠনগতভাবে নিউক্লিয়াস প্যালপোসাস (কেন্দ্রমধ্যস্থিত জেলির মতো পদার্থ) এবং অ্যানিউলাস ফাইব্রোসাস (চারি পার্শ্বস্থ শক্ত ফাইবার বা আঁশ ও ছোট ছোট রক্তানালী) দিয়ে তৈরী। দাড়ানো অবস্থায় বা ওজন বহনকালে কেন্দ্রস্থিত জেলির উপর চাপ পড়ে কিন্তু শক্ত অ্যানিউলাস ফাইব্য্র্রোসাস সেই চাপ নিয়ন্ত্রণ করে ডিস্কের গঠন ঠিক রাখে। কিন্তু বেশী ওজন বহনে বা অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়ায় নিউকিয়াস প্যালপোসাসের উপর মাত্রাতিরিক্ত বা অসম চাপ পড়ে গেলে সেই অতিরিক্ত চাপ (Raised Intradiscal Pressure) অ্যানিউলাস ফাইব্য্র্রোসাস আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ফলে, নিউকিয়াস প্যালপোসাস অ্যানিউলাস ফাইব্রোসাস এবং কখনও কখনও অ্যানিউলাস ফাইব্রোসাস ছিড়ে কোন একদিকে বের হয়ে আসে। ফলে, মেরুরজ্জু (স্পাইনাল কর্ড) অথবা স্নায়ুমূল (নার্ভরুট) অথবা উভয়ের উপরেই চাপ পড়ে। প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি: ১৯৩৪ সাল থেকে অদ্যাবধি প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে পিঠের চামড়া, মাংস ও হাড়ের মাঝখান দিয়ে কেটে বেরিয়ে আসা বা প্রোল্যাপ্সড নিউকিয়াস প্যালপোস্যাসের অংশটুকু তুলে এনে স্নায়ূ বা স্নায়ূ রজ্জুর চাপকে প্রশমিত করা হয়।

লেজার চিকিৎসা পদ্ধতি:
গবেষনা বা কিনিক্যাল পরীা-নিরীায় প্রমানিত হয়েছে যে- পারকিউটেনিয়াস লেজার ডিস্ক ডিকম্প্রেশনের (PLDD) মাধ্যমে নিদিষ্ট মাত্রার ও নিদিষ্ট ধরনের লেজার রশ্মি প্রয়োগ করে অতি সহজেই নিউকিয়াস প্যালপোসাসের অংশবিশেষ বাষ্পায়িত করার মাধ্যমে এর অতিরিক্ত চাপ কমানো সম্ভব। ফলে, স্থানচ্যুত (প্রোলাপ্সড) ডিস্ক পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে এবং স্পাইনাল কর্ড ও নার্ভরুটের উপর থেকে চাপ কমে গিয়ে রোগী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এছাড়া লেজারের অপটো-থারমো-মেকানিক্যাল স্টিমুলেশনের মাধ্যমে ছিড়ে যাওয়া অ্যানিউলাস ফাইব্র্রোসাসের পুরো মতাটাকেই রিপেয়ার বা পূর্বাবস্থানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

পিএলডিডি কি নিরাপদ পদ্ধতি:

উন্নত বিশ্বে ডিস্ক প্রোল্যাপ্সের বেশির ভাগ রোগীরই এখন আর কেটে অপারেশন করা হয় না। সারভাইক্যাল/লাম্বার ডিস্ক প্রোলাপ্সের বেশীর ভাগ রোগীই পারকিউটেনিয়াস লেজার ডিস্ক ডিকম্প্রেশনের (PLDD) মাধ্যমে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করে থাকে। এখানে উলেখ্য যে, এই চিকিৎসায় যে ধরনের বা যে মাত্রার লেজার রশ্মি ব্যবহার করা হয়ে থাকে- তার কোন ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নাই বললেই চলে। আমেরিকার ফেডারেল ড্রাগ এডমিনিষ্ট্রেশন ((US FDA) ইতিমধ্যে PLDD কে নিরাপদ চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

সূত্রঃ লেজার হসপিটাল.নেট
*কাধেব্যথা* *পিঠেব্যথা* *কোমরব্যথা* *স্বাস্থ্যতথ্য* *হেলথটিপস*

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

এক্ষনি একাউন্ট তৈরী কর

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

বেশতো বিজ্ঞাপন