কেয়া _নাহিদা: একটি বেশব্লগ লিখেছে

না এটা কোনো কল্প কাহিনী নয় ,আমার দেখা একটা মেয়ে এর মা হবার সাতকাহন .মেয়ে টার নাম বেনু ,
মা হারা মেয়ে টার বিয়ে হয় অজানা অচেনা একটি ছেলে এর সাথে (বাবা এর ইচ্ছায়). বিয়ে এর ৩/৪ দিন এর মাঝেই মেয়ে টা বুঝতে শুরু করে তার বর আর সে দুই মেরুর দুই বাসিন্দা , বেনু চাইছিল বিয়ের বছর খানেক পরে বাচ্চা নিতে কিন্তু তার বর তখন ই নেবে এবং তাই হলো অপরিকল্পিত ভাবে বিয়ের ২ মাসেই বেনু  গর্ভবতী হলো .
যেহেতু তাদের বোঝা পরা ভালো ছিল না তাই বেনু বেশির ভাগ ই মন খারাপ করে থাকত . বর সকাল এ অফিস এর জন্য বের হয়ে যেত আর ফিরত রাত ১১.00 টায়. সারা দিন একা আর সাথে মানসিক কষ্ট সব মিলে গর্ভকালীন জটিলতা দেখা দিতে সময় লাগলো না .৪ থ মাস থেকেই ডাক্তার তাকে পুরোপুরি বিশ্রাম এ থাকতে বলল . কিন্তু কত টুকু আর সম্ভব ! তাকে দেখার জন্য তার মা নাই আর শশুর বাড়ির কেউ ও আসল না .
মাসে গিয়ে সে একদিন অনুভব করলো বাচ্চা নড়ছে না , বাসায় অনেক অতিথি ছিল তাই শত চিন্তার মাঝেও কাজ করতে হয়েছে .রাত ১১.০০ টায় বেনু তার পরিচিত এক ডাক্তার কে ফোন করে সব জানালে ,ডাক্তার তাকে তখন ই হাসপাতাল এ যেতে বলল . মগবাজার এর আদদ্দীন হাসপাতাল এ যেতেই তারা ভর্তি করে নিল . এই হাসপাতাল এর বিসেসত্ব হলো - --"এখানে ভিতরে কোনো পুরুষ মানুষ প্রবেশ করতে পারে না " আর বেনুর যেহেতু বর ছাড়া দেখার মত কেউ ছিল না তাই একা একা ই থাকতে হয়েছে . আল্ট্রা সনো করার পর dr বলল ভিতরে পানি কম আছে তাই পুরা পুরি বিছানায় শুয়ে আরো অনেক দিন হাসপাতাল এ থাকতে হবে . ২০/২৫ দিন একা একা হাসপাতালের দিন গুলো যে কতটা কষ্ট কর ছিল ......কারণ তাকে সহযোগিতা করার মত কেউ ছিল না , ওখানকার সেবিকা রা শুধু রক্তচাপ পরীক্ষা করত রুটিন করে আর বাচ্চার নড়াচড়া দেখত . তার বর বাইরে এসে মাঝে মাঝে প্রয়জনীয় জিনিস কিনে দিয়ে যেত ! দীর্ঘ সময় পর আবার পরীক্ষা করে dr বেনুকে জানালো এভাবেই বাসায় শুয়ে সময় পার করতে হবে আর যেখানে ভালো ইন্কুবেটার আছে সেখানে প্রসব করানোর জন্য .

যখন ৭ মাস তখন বেনুর বাম পাশের কোমরে বেশ বড় আকারের একটা ফোড়া হলো অথচ ডাক্তার তাকে বলেছে বাম দিকে ঘুরে ঘুমাতে , আর এর সাথে আবার শুরু হলো আক্কেল দাতের যন্ত্রণা কিন্তু কোনটার জন্যই তো ঔষধ খাওয়া যাবে না , বাচ্চার ক্ষতি হতে পারে ! এত কষ্ট তার পরেও অপেক্ষা  কোলএ আসছে একটা ফুটফুটে বাবু . ................ খেতে পারে না , ঘুমাতে পারে না , দিন যে আর পার হতে চায় না .

অবশেষ এ তার ননদ আসল . সাড়ে সাত মাসে সে আবার ডাক্তার দেখাতে গেল বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ব বিদ্যালয় এ (ওখানকার ইনকুবেটার ভালো জেনে ), সাথে তার ননদ আর বর . তাদের আল্ট্রাসনো রুম এ রেখে বর চলে গেল অফিস এর কাজে . আল্ট্রাসনো শেষএ ডাক্তার তাকে কোনো রিপোর্ট না দিয়ে পাঠালো অন্য এক ডাক্তার এর কাছে . সে আরো দুই জন dr এর সাথে কথা বলে তখন ই ভর্তি হতে বলল , তাদের কথা থেকে বুঝলো অবস্থা ভালো নয় .তার ননদ ঢাকাতে নতুন কিছু চেনে না . PG হাসপাতাল এ এই বিল্ডিং থেকে ওই বিল্ডিং একা একা হেটে ভর্তির কাজ সে নিজেই করলো ,বর কে একবার ফোন করলো না , মনের কষ্টে .
*প্রসূতিমা* *সদ্যমা* *হবুমা*
কমেন্ট
আরও ৪৩ টি কমেন্ট সবগুলো দেখো

মেঘলা -মেয়ে: মারিয়া আপু আমরা ৪ বোন কোন ভাই নেই ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি একটা মেয়ে হয়ে জন্ম নিলে কতটা অবহেলা আর কষ্ট পেতে হয় বিশেষ করে আমার মাকে দেখেছি ছেলে হয়নি বলে তাকে কতটা অপমান সহ্য করতে হয়েছে .

1415065449000 ভালো ১

মেঘলা -মেয়ে: দেখেছি বড় হওয়ার প্রতিটি পদে পদে দেখেছি শুশুরবাড়ির অত্যচার তবুও আমি সব সময় মেয়েই চেয়েছি কেন জানো ? কারণ ছেলে হলে তাকে আমি কতটা বুঝবো জানিনা তবে মেয়ে হলে তাকে নিজের হাতের তালুর মত জানবো আমি ..

1415065558000 ভালো ১

মেঘলা -মেয়ে: তাকে আমি সেই ভাবে বড় করতে পারবো যেটার সে যোগ্য ,তাকে আমি সেটা শিখাতে পারবো যেটা না জেনে আমি অবহেলা পেয়েছি,তাকে আমি সেইসব শিখাতে পারবো যেটা জানলে কষ্টটা থেকে দূরে থাকা যায় ..

1415065674000 ভালো ১

মেঘলা -মেয়ে: সন্তান জন্ম দিয়া সত্যিই কষ্টের তবে একটু জানার পরিধি আর একটু সচেতনতা সবার কষ্টটা্ কমেই দেয় আমি নিজে জানি সেটা .তাই আমাদের কিছু করার আগে সেটা ভালো করে জেনে বুঝেই করা উচিত আমার মনে হয় ,(খুকখুকহাসি)

1415065810000 ভালো ১

মারিয়া আক্তার অর্পিতা: আল্লাহ আমার শেষ কমেন্ট কই গেল??? (অবাক)

1415083904000 ভালো ১

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

এক্ষনি একাউন্ট তৈরী কর

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

বেশতো বিজ্ঞাপন