দীপ্তি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

সাগর, পাহাড়, অরণ্য পেরিয়ে প্রকৃতির যে রূপ যুগের পর যুগ ধরে পর্যটকদের বিস্ময়-বিহ্বল করে রেখেছে, সেই মরুর চরিত্র অনেকটাই অন্য। মানুষের অবকাশ ভাবনায় বৈচিত্র্যের কোনো শেষ নেই। কেউ কেউ আছেন দুর্গম সব জায়গায় বেরিয়ে পড়েন অবকাশ কাটানোর জন্য। তেমনি একটি অবকাশযাপনের মাধ্যম হচ্ছে মরু ভ্রমণ। মরুভূমি ঠিক সুখের ভ্রমণের জায়গাও নয়। মরুশহরের কথা অবশ্য আলাদা। ভারতের মরুশহরের রঙিন বিস্তার চোখ ধাঁধিয়ে দেয়, কেল্লার পর কেল্লার সারি নিয়ে যায় অতীতে, ঝলমলে পোশাক-গয়না-জুতোর পসরা বিলাসী মনে তৃপ্তি আনে। সেইসব মরুশহরে উটের পিঠে সওয়ারি হয়ে মরুভূমিতে একটু-আধটু ঘুরে আসাও যায়। তাতে যদিও মরুভূমি সফরের স্বাদ অল্পই মেটে, তবু ভ্রমণ পূর্ণ হয়। যে কোনও ভ্রমণসংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ঢুঁ মেরে আসা যায় এমন মরুশহরে, অথবা চলে যাওয়া যায় নিজের উদ্যোগেই। সেই যাত্রায় ভাবনা-চিন্তার তেমন কিছু নেই।
এর বাইরে মরুভূমির আস্বাদ নেওয়া যায় ট্রেকিং-এর মাধ্যমে। পায়ে পায়ে বালির সমুদ্রে পায়চারি করে খুঁজে নেওয়া যায় অনন্তের আস্বাদ। তার জন্যও রয়েছে নানান ভ্রমণসংস্থা, রয়েছে ভারত সরকারের তরফে বন্দোবস্ত। কিন্তু যদি নিজের উদ্যোগে যেতে চান? তৈরি হয়ে থাকুন মরু-কান্তারের স্বভাবের সঙ্গে মোকাবিলার জন্য।

জলই জীবন : মরুসফরের প্রথম এবং প্রধান শর্তই হল সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল রাখা। পানীয় জল আর কিছুটা হাত-মুখ ধোওয়ার জল- দুটোই দরকার মরুর উত্তপ্ত আবহাওয়ার জন্য। মরু অঞ্চলে সফরের সময়ে অবশ্য জল নিয়ে খুব একটা বিলাসিতার সুযোগ পাওয়া যাবে না। তাই মুখ পরিষ্কারের জন্য ওয়েট টিস্যু এবং হাত সাফাইয়ের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার সঙ্গে থাকুক। বাকি রইল পানীয় জল- সেটা যতটা পারেন ভরে নিয়ে শুরু করুন মরুপথে পায়চারি।

মরুপথে সাবধান : মরু অঞ্চলের বালির মধ্যে লুকিয়ে থাকে এমন অনেক প্রাণীই যা আপনার সফরের আনন্দ তো বটেই, এমনকী বেঁচে থাকার আনন্দও মাটি করে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। তাই যে অঞ্চলে যাচ্ছেন, সেখানকার পোকামাকড়, সাপ, বিছে এসব সম্পর্কে একটু পড়াশোনা করে নিন। জেনে নিন, বিপদের আশঙ্কা কতটা এবং তার হাত থেকে বাঁচতে সঙ্গে কী কী না রাখলেই নয়। সেই শর্ত মেনেই কিছু ওষুধ-বিষুধ কাছে থাকাটা খুব জরুরি।

মরু-পোশাক : মরুভূমি দিনের বেলায় যতটা গরম হয়ে থকে, রাতের বেলায় ঠিক ততটাই ঠান্ডা হয়ে থাকে। এই আবহাওয়ার দ্বিচারিতা থেকে বাঁচার জন্য সঙ্গে গরম এবং হাল্কা সুতির জামাকাপড়- দুটোই থাকা প্রয়োজনীয়। নইলে সুস্থ শরীরকে ব্যস্ত করা ছাড়া আর কিছু হয়ে উঠবে না সাধের সফরে।
মরু-আবাস : মরুপথে ট্রেকিং-এর সময়ে কোথায় তাঁবু ফেলবেন, সে বিষয়েও একটু-আধটু পড়াশোনা করে নিন। মরুভূমিতে মাঝেসাঝেই ঝড় ওঠে, অতএব তাঁবু খাটাতে হবে যে দিক থেকে হাওয়া আসছে তার উল্টো পিঠে। নইলে বালি-ঝড়ে তাঁবু উড়ে যাওয়ার পরে বালুকা-সমাধিই হবে আপনার নিয়তি। তেমনই, মাথায় রাখতে হবে সূর্যের অবস্থান। নইলে খর তাপে তাঁবুটাই হয়ে উঠবে একটা গনগনে চুল্লি। দুটোরই কোনওটাই তো কাঙ্ক্ষিত নয়, তাই না?

বুঝেশুনে পায়চারি : মরুপথে সব দিক মেপেজুপে বেরিয়ে পড়লেই হবে না, মাথায় রাখতে হবে পায়চারির সময়টাও। বেলা যত বাড়তে থাকবে, খর তাপে পায়চারি করার মতো শারীরিক সামর্থ্যও কমতে থাকবে একটু একটু করে। তাই সূর্য মাথার উপরে উঠে যাওয়ার আগে পর্যন্ত যতটা সম্ভব পথ পেরিয়ে যাওয়া ভাল। তেমনই আবার হাঁটাহাঁটি শুরু করা যায় বিকেলের দিকে। কিন্তু সন্ধে হয়ে গেলে কখনই নয়। তখন পথ ভুল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তো রয়েছেই, তেমনই রয়েছে বিষাক্ত প্রাণী এবং দস্যুর হাতে পড়ার আশঙ্কা। এই ব্যাপারগুলো খেয়াল না রাখলে কিন্তু সফর বৃথা! আর হ্যাঁ, মরু-অঞ্চলে ট্রেকিং-এর সময়ে সঙ্গে টর্চ আর কম্পাস রাখতে ভুলবেন না।

আর কী! এবার তাহলে বেরিয়ে পড়ুন.....(মিশনেআছি)
মরু পথে হাঁটছি আমি একা একা,
সমুখে মরু পথের মরীচিকা, করছে ঝিকমিক,
যেন এ পথ স্বপ্ন ঘোরে চলা, কালের আঁধার ধুইয়ে ধুইয়ে
ছোপ ছোপ বরফ ঢাকা পথে পায়ের ছাপ একে।
*বিদেশভ্রমন* *ভ্রমনটিপস* *মরুভূমি*

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

এক্ষনি একাউন্ট তৈরী কর

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত