শাকিল আহমেদ: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বাইরে আলো হয়ে আসলেই বেরিয়ে পরে সে। তাকে যে মহাজনের মন গলাতেই হবে। দিন শেষে বেশ আশা নিয়ে মহাজনের কাছে যায় রহিমুদ্দি। কিন্তু আগের ধার করা টাকা এখনো পুরো শোধ না হওয়ায়, মহাজন নতুন করে কর্জ দিবে না বলে ঠায় জানিয়ে দেয়। রহিমুদ্দির কোনো আকুতি মিনতিতেই কর্ণপাত করে না। আর কোনো উপায়ান্ত না পেয়ে পাগলের মত ছুটে চলে সে। 

বেশ হইহুল্লড় হচ্ছে সিদ্দিক আলীর বাড়িতে। সব মান্যগণ্য লোক আসছে একে একে, সে এক এলাহি কান্ড! রহিমুদ্দি হতদরিদ্র দিন মুজুর, ছোটলোক; তাই সামনে এগোতে সাহসে কুলোয় না তার। উঠোনের কোণে দাঁড়িয়েই সিদ্দিক আলীর বউকে খুঁজতে থাকে। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো আশার আলো না দেখে কাছে এগোতেই সিদ্দিক আলীর সাথে দেখা হয়। বিস্তারিত বলতেই সিদ্দিক আলী জানালো, তার বউ বাচ্চাকে নিয়ে অতিথিদের আপ্যায়নে ঘরে ব্যস্ত। এখন দেখা হবে না, পরে একসময় আসতে।

আশাহত হয়ে মাথা নিচু করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে থাকে রহিমুদ্দি। উঠোনের শেষ প্রান্তে আসতেই ফেলে দেয়া চটের ছালাটা চোখে পরে তার। কাছে গিয়ে তুলে নেয় সেটা। বেশ স্যাতস্যাতে হয়ে আছে, গরুর গায়ে থাকার কারনে উৎকট দুর্গন্ধও আসছে। কিন্তু নিরুপায় পিতার আর যে কোন গতি নেই। 

জুলেখা ছালাটা মাদুরের উপরে বিছিয়ে আবার শুইয়ে দিল মেয়েকে। সাঁঝের পর থেকেই কেমন যেন শব্দ করে ঘন ঘন শ্বাস নিচ্ছে, বুকের দুধও খাচ্ছে না। রহিমুদ্দি কিছু খাবে না বলে, চুপচাপ শুয়ে পড়ল মাদুরের এক পাশে। কিন্তু মেয়ের দুশ্চিন্তায় জুলেখার চোখে ঘুম নেই। শেষ রাতে মেয়েটাকে আরেকবার খাওয়ানোর বৃথা চেষ্টা করে, বুকের কাছে নিয়েই শুয়ে আছে সে।

ফজরের আযান পরতেই জুলেখার ঘুম ভেঙ্গে গেল। কখন যে চোখ দুটো লেগে এসেছে টেরই পায়নি সে। মেয়ের দিকে চোখ পরতেই জুলেখার বুকটা ধুক করে উঠল। কেমন যেন চুপচাপ নিস্তেজ হয়ে শুয়ে আছে, কোন সাড়াশব্দ পাচ্ছে না। জুলেখা দ্বিকবেদ্বিক শুন্য হয়ে স্বামীকে ডেকে তুলে। ঠান্ডায় নিথর হয়ে যাওয়া শরীরটাতে হাত দিতেই কিছু বুঝার আর বাকি রইল না রহিমুদ্দির। 

জুলেখা মেয়েকে বুকে জড়িয়ে চিৎকার করে কেদেঁ উঠল। মাথায় দু-হাত দিয়ে বসে অস্ফুস্ট স্বরে প্রলাপ বকে চলেছে আর দুচোখ বেয়ে অবিরত জল গড়িয়ে পরছে আমার গল্পের নায়ক রহিমুদ্দির; না না ওকে নায়ক বলা চলে না, সে যে খুনি...!

নবজাতকের এই নিদারুণ কষ্ট হয়ত উপরওয়ালার সহ্য হয়নি, তাই নিজের কাছেই নিয়ে গেছে... আমরা সৃষ্টির সেরা জীব বলেই হয়তো আমাদের সহ্য হয়... সয়ে যায়। নতুবা একই ভুখন্ডে দুই মেরুতে বিভক্ত কেন আমরা?? 



এমন হাজারো নাম না জানা ভাগ্যাহত রহিমুদ্দি আর জুলেখার পরিবার আমাদের সমাজে অভাব হবে না। আর মাত্র দুটি দিন বাকি, চলুন এগিয়ে আসি এসব হতদরিদ্র শীতার্তদের পাশে। যে যার জায়গা থেকে সাধ্যমত চেষ্টা করি। 

Name of the Account: MD. YASEEN KHAN
Account No: 105-101-70249
Dutch-Bangla Bank Ltd
Foreign Exchange Branch
Motijheel, Dhaka

Bkash No: 01820582636

যে কোন তথ্যের জন্য যোগাযোগঃ ০১৮২০৫৮২৬৩৬ । 

*শীতার্তদের-জন্য* *সাহায্য* *মানবিক-আহবান* *শীতার্ত* *এগিয়েআসুন* *শীতবস্ত্র* *আমারব্লগ*

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

এক্ষনি একাউন্ট তৈরী কর

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

বেশতো বিজ্ঞাপন