শাকিল আহমেদ: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ঘরে ডুকতেই চোখ গেল অসুস্থ্য পোয়াতি বউটার দিকে। বহু দিনের পুরোনো সেই ছেঁড়া কাঁথা গায়ে দিয়ে কেমন গুটিশুটি মেরে শুয়ে আছে মাটিতে পাতা মাদুরের বিছানার এক কোণে। দিন দিন যেন আরো কাহিল হয়ে পরছে বউটা। কি করারই বা আছে তার? প্রথম বার পোয়াতী হয়েছে, কোথায় তার একটু যত্ন আত্তি নেয়া দরকার বরং শয্যাশায়ী শশুরের খেদমত আর সংসারের দিনকার খাটাখাটুনিতেই ব্যস্ত থাকতে হয়। মাঝে মাঝে আবার উত্তর পাড়ার সিদ্দিক আলীর বৌ ডাকলে সেখানে গিয়েও হাত লাগিয়ে আসতে হয়, টানাটানির সংসার বলে কথা। কিন্তু এই অসুস্থ্য অবস্থায় রহিমুদ্দির কড়া বারণ থাকায় মাস দুয়েক ধরে সেখানেও যায় না জুলেখা।

ঘরের এক কোণে গোটাকয়েক হাড়ি পাতিল রাখা আছে। তার পাশেই পানির কলসি। বাপ দাদার রেখে যাওয়া এই ভিটেবাড়িতে আর তেমন কিছুই নেই। সেখানে বসেই খেয়ে নিল রহিমুদ্দি। খাওয়া শেষে কুপির বাতিটা নিভিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই সাড়া দিনের হাড় ভাঙ্গা খাটুনিতে ক্লান্ত চোখ দুটো বুজে আসে।

ভোর হতেই কনকনে শীতের মাঝে পুরনো সেই ছেড়া জামাটা গায়ে চড়িয়েই বেরিয়ে পরে সে। মহাজনের কাছে থেকে কিছু টাকা কর্জ চাইবে ভাবছে, হাতটা একেবারে খালি। ঘরে পোয়াতি বউ, কখন কি হয়ে যায় বলা যায় না। যদিও গত মাসে বাপের অসুখের সময় মহাজনের কাছ থেকে কিছু টাকা কর্জ নিয়েছিল, সেটাও এখনো পুরো শোধ দেয় নি। তাই কাজ করে মহাজনকে খুশি করতে চাইছে সে। 

বেলা শেষে হাটের দিকে পা বাড়াল রহিমুদ্দি, সকালে বের হবার সময় জুলেখা বারবার বলে দিয়েছে ঘরে বাজার সদায় কিছু নাই। হাটে ঢুকতেই জটলা চোখে পড়ল তার। উত্তর পাড়ার সিদ্দিক নাকি দেশে ফিরেছে। কাল ছেলের জন্মদিনে গ্রামের মান্যগণ্য সকলকে নেমন্তন্ন করেছে। এজন্যে গঞ্জ থেকে বেশ বড়সড় একটা গরুও কিনেছে আজ। এ নিয়েই হাটের সবাই বলাবলি করছে।

হাট থেকে বের হতে হতে অন্ধকার নেমে এলো। শীতটা যেন একেবারে জেঁকে বসছে তাকে, কোন গরম কাপড়ও নেই যে গায়ে দেবে। উত্তর পাড়ার কাছাকাছি আসতেই চোখে পড়ল সিদ্দিক আলীর বাড়ির উঠোনে বাতি জ্বলছে। গঞ্জ থেকে কেনা গরুটা উঠোনেই বাঁধা আছে। শীত থেকে বাঁচাতে চটের নতুন ছালা দেয়া হয়েছে পিঠে। একবার মনে করল যাবে ওদিকটায়, বলে কয়ে যদি কিছু পুরনো কাপড়ের ব্যবস্থা করা যায়। পরক্ষনেই ভাবতে থাকে, হাটে যাবার কারনে আজ এমনিতেই বেশ দেরী করে ফেলেছে সে। তাই তাড়াতাড়ি বাড়ির দিকেই পা বাড়াল সে।

ঘরের কাছে আসতেই গোঙানির আওয়াজ কানে এলো। দৌরে ঘরে ঢুকল সে। প্রশব ব্যথ্যায় রিতিমত কাতরাচ্ছে বউটা। ছুটে বেড়িয়ে গেল পাশের বাড়ির চাচীকে ডেকে আনতে। 

রাত তখন বেশ গভীর হয়ে গেছে, দুয়ারের বাইরে মাদুর পেতে বাপকে শুইয়ে তার পাশে বসেই অপেক্ষা করছে রহিমুদ্দি। এমনিতেই অসুস্থ্য শরীর উপরন্তু শীতে আর ঠান্ডা বাতাসের প্রকোপে একেবারে জমেই যাচ্ছে রহিমুদ্দির বাপ। হঠাত নবজাতকের কান্নার ধ্বনি কানে আসে। ঝাঁপ ঠেলে বেরিয়ে আসে চাচী। রহিমুদ্দি মেয়ের বাপ হয়েছে। ঘরে ঢুকেই দেখতে পেল মেয়ের ছোট্ট দেহটিকে কোনোমতে ছেড়া কাপড়ের টুকরো দিয়ে ঢেকে, নিজের বুকের কাছে নিয়ে শরীরের উত্তাপ দেবার চেষ্টা করে যাচ্ছে জুলেখা। 

সদ্য বাপ হওয়া রহিমুদ্দির চিন্তায় সারারাত আর ঘুম আসে না। তাকে যে কিছু একটা ব্যবস্থা করতেই হবে।  (বাকিটুকু শেষ অংশে...  http://beshto.com/contentid/473246
 )
*শীতার্তদের-জন্য* *সাহায্য* *মানবিক-আহবান* *শীতার্ত* *এগিয়েআসুন* *শীতবস্ত্র* *আমারব্লগ*

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

এক্ষনি একাউন্ট তৈরী কর

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

বেশতো বিজ্ঞাপন