জোবায়ের রহমান: একটি বেশব্লগ লিখেছে

প্রিয়দর্শিনী,

কেমন আছেন আপনি?
প্রশ্ন হয়ে গেল?
জানি, পত্রের শুরুতে শুভেচ্ছা জানাতে হয়। কিন্তু আমার যে আজ শুভেচ্ছা জানাতে ইচ্ছে করছে না।
রাত্রি প্রায় তিনটে হয়ে এলো। হঠাৎ করেই যেন মনে পড়লো, সৌন্দর্য সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে যার সৃষ্টি হয়েছে তার জন্যে আমার দু’লাইন লেখা হয়নি। আরাম কেদারায় বিরামহীন বসে থাকতে থাকতে কেটে গেছে বুঝি সময় নামক মূল্যবান জিনিসের অনেকখানি। জানালাটা খুলে দিয়ে কাগজ কলম নিয়ে টেবিলে বসলাম। হলদে পৃষ্ঠায় কলমের আঁচড় দিতে গিয়ে উপলব্ধি করলাম, আপনাকে কি নামে সম্ভাষিত করবো তা আমার জানা নেই। জানালার বাইরে তাকিয়ে রইলাম কয়েক মুহূর্ত। মাথার চুলে হাত বুলাতে বুলাতে ভাবছি। বাইরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বেশ কিছু আগ থেকেই শহুরে মেঘের মৃদু অহঙ্কারী হুংকার কানে ভেসে আসছিল। আমলে নেই নি। এখন তার অসহায় কান্না শুরু হয়ে গেছে। জানালার রেলিং গড়িয়ে বৃষ্টির ছিটে ফোঁটা আমার টেবিলে ফোঁটা ফোঁটা হয়ে জমতে লাগলো। আজ আর আঙ্গুল দিয়ে পানি ছুঁতে ইচ্ছে হলো না।
বৃষ্টি নিয়ে অত কি ভাবছি? ...
আপনার তো আবার বৃষ্টি পছন্দ নয়।
মনযোগ দিলাম চিঠির পাতায়। দু আঙুলের ফাঁকে কলমটাকে ঘোরাচ্ছি আর ভাবছি কি দিয়ে শুরু করবো। অসহায় বোধ করলাম। প্রতিদিন পাহাড়সম প্রশ্ন নিয়ে ঘুরে বেড়াই আপনাকে করবো বলে। আর আজ কাগজ কলম নিয়ে বসতেই শব্দেরা বেমালুম পাখা মেলে উড়ে গেছে যেন শূণ্যের ঠিকানায়।
ভোর পাচটা। ঘড়ির কাঁটাটা টিক টিক করে ঘুরে চলেছে। বড্ড বেশী কানে লাগছে।
সিগারেট জ্বালালাম একটা। জানালার বাইরে তাকিয়ে ধোঁয়া ছাড়লাম। ধোঁয়ার কুন্ডলী মেঘ হয়ে ভেসে ভেসে গেল জানালার বাইরে।
বৃষ্টি থেমেছে অনেক আগেই। মৃদু শীতল বাতাস বইছে এখন।
সৌন্দর্য সৃষ্টির উদ্দেশ্য যার সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য আজ ও আমি কিছু লিখতে পারলাম না।
হলদে পাতায় গোটা গোটা হরফে লিখলাম,
“প্রিয়দর্শিনী,
কেমন আছেন আপনি?”
সত্যি করে উত্তর দিলে খুশি হতাম। ভাল আছেন? নাকি ভাল নেই?
নাকি করে আছেন মন খারাপ?
কলম বন্ধ করলাম।
ইতি টানার রীতিতে আর যেতে চাইলাম না। যার সূচনাই হয় নি তাহলে তার কোন উপসংহার নেই।
আলো ফোঁটে নি পুরো।
রাত্রি শেষ? নাকি প্রভাত শুরু?

*চিঠি-দিলাম*

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

এক্ষনি একাউন্ট তৈরী কর

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত