তিমু চৌধুরী: একটি বেশব্লগ লিখেছে

এই ব্যাপারে কথা বলতে প্রথমেই একটা প্রশ্নের উত্তর ধরে নিতে হবে , ভূত কি আছে?

ধরে নিলাম , হ্যা ভুত আছে । ভুত ব্যাপাটি অনেক রোমাঞ্চকর । কারন যারা ভুত দেখেছে শুধু তারাই মানে যে ভূত আছে । যারা ভুত দেখে নি তাদের অনেকেই মেনে নেয় যে ভূত আছে আবার অনেকেই মনে করে যে ভূত বলে কিছু নেই। কিন্তু কেউই নিশ্চিত নয় ভুত আছে কি নেই । SO there is always a room for doubt.

 

বিজ্ঞান দ্বারা ভূতকে যাস্টিফাই করা অনেকটা হাস্যকর ব্যাপার বলেই মনে হয়। যারা বিজ্ঞান বুঝে তারা হয়ত ভুত ব্যাপারটা শোনার পর বলবে , “ have ya gone mad?? Or just  plain stupid ??” এখন আমি ভূতকে বিজ্ঞান দিয়ে প্রমাণ করব না। শুধু কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করব বাকিটা আপনার উপর । ভূত নিয়ে আলোচনার প্রতিটা ব্যাখ্যা অনেক বড় হয় তাই এই বিষয়কে কয়েকটা ভাগে ভাগ করে নিব। এই পোস্টে প্রথম সমস্যা নিয়ে আলোচনা করব।

 

প্রথম সমস্যাঃ ভূত দেখতে কেমন ? , ভুতের বাসস্থান এবং স্পেশালিটি ...।

 

আসলে ভুত কেমন হবে সেটা নির্ভর করে আপনার উপর। ভূত অনেক ধরনের হয়ে থাকে। ভুত আপনার উপর নির্ভর করে নিজের পোশাক বদলায় । আমি অনেক ভুতের গল্প শোনেছি তাদের মাঝে যেসব গল্প গ্রাম্য সাইডে হয়েছে সেসব গল্পের বেশিরভাগ গল্পে একটা কমন বিষয় রয়েছে সেটা হচ্ছে সাদা কাপড়।

 

ইয়াপ, বেশিরভাগ গল্পের ভূত সাদা কাপড় পরা থাকে। এখন প্রশ্ন জাগে গ্রামের ভুত শুধু সাদা কাপড়ই পরবে কেন ? এর একদম পার্ফেক্ট ব্যাখ্যা আমি দিতে পারব না। তবে কিছু একটা ধারণা আমি দাড় করিয়ে দিচ্ছি।

 

প্রথমত , গ্রামের বেশিরভাগ বৃদ্ধা সাদা শাড়ি পরে থাকেন বা বৃদ্ধ সাদা কাপড় পড়েন । ঠিক কারনটা জানি না । তবে হয়ত বয়স খুব বেশি হওয়ায় চকচকে কিছু তারা পছন্দ করেন না । আর বৃদ্ধ বয়স্ক মানুষেরাই কিন্তু কয়েক বছর কিংবা কয়েক মাসের মাঝে মারা যায়। অধিকাংশ সময়ই এসব বৃদ্ধ মানুষগুলোর কাছেই কিন্তু নতুন প্রজন্ম ভূতের কাহিনী শোনে থাকে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই নতুন প্রজন্মের সাব কন্সিয়াস মাইন্ডে একটি ভুতের চিত্র গড়ে ওঠে । সেটার অনেকাংশেই সাদা কাপড়ের একটা আঁচড় থাকে। অর্থাৎ তারা নিজের অজান্তেই সাদা রঙকে ভয়ের কারন হিসেবে ধরে নিয়েছে। এতে করে ভুত সাদা দেখারই কথা।

 

দ্বিতীয়ত , বলতে গেলে আসতে হবে পদার্থ বিজ্ঞানের আলোর মাঝে। আচ্ছা সাধারণ একটা প্রশ্ন , ঘরের দেয়ালে সাদা রঙ করা হয় কেন ??? উত্তর আশা করি একটাই , যে সাদা আলো সব আলোকে প্রতিফলিত করে তাই ঘর বেশি উজ্জ্বল রাখার জন্য সাদা কালার দেয়া হয়। হ্যা , ভুতের ব্যাপারটাও ঠিক তেমন। আপনি ইচ্ছে হল যে ,  ভুত দেখবেন ।  তো  আপনি কি করবেন ??? ঘরের সব বাতি জ্বালিয়ে প্ল্যান চ্যাটে বসবেন ???? অবশ্যই না , সব বাতি নিভিয়ে দিবেন, তাইত ??

 

হ্যা, সেটাই করবেন আশা করি। তাহলে ধরে নিতে হবে যে আপনার মস্তিষ্ক অন্ধকার ভয় পায়। আপনার মস্তিষ্ক অন্ধকার মানেই বুঝে যে একটি ভুতুরে পরিবেশ। তাহলে ভুত দেখতে হলে অন্ধকারে দেখতে হবে কিন্তু অন্ধকারের মাঝে কোন রঙ বেশি দেখা যায় ??? প্রথমে আসবে লাল আর দ্বিতীয়ত সাদা । কারন এই দুইটা ছাড়া অন্ধকারের মাঝে ভালোভাবে ফুটে ওঠে তেমন কোন রঙ কিন্তু নেই। তাই আশা করা যায় আপনার মস্তিষ্ক অন্ধকারে কিছু দেখাতে হলে প্রথমে চাইবে যে সাদা রঙ অথবা লাল রঙটাকে দেখাতে।

 

এখন যেহেতু গ্রাম্য সাইড গুলো বা রাতের বেলায় সবকিছু অন্ধকার থাকে তখন আপনার দর্শন ইন্দ্রিয় কাজ করে না। ফলে আপনার বাকি ইন্দ্রিয় গুলো বেশি সক্রিয় হয়ে যায়। তাহলে সক্রিয় হওয়ার ফলে আপনার মস্তিষ্ক আশে পাশের সকল শব্দ নড়াচড়া নিয়ে একটু বেশি চিন্তা করা শুরু করে। যেহেতু তার ফলে আপনি একটা অস্বস্তিকর মুহুর্তে পড়ছেন তাই আপনার মস্তিষ্কই আবার চায় ওই বিষয়টা দেখে ক্লিয়ার করতে। তাই অন্ধকারের মাঝেই দেখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যায় , এমন সময় যদি হালকা একটা আলো আপনার চোখের সামনে আসে তাহলে আপনার মস্তিষ্ক এত অন্ধকারের মাঝে নিজেকে ঐ আগের ভৌতিক পরিবেশে নিয়ে যায় আর ঐ আলোকে একটা শেইপ দেয়ার চেস্টা করে। এমন সময় অন্ধকারের মাঝে যেহেতু সাদা আর লাল আলোই বেশি দেখা সম্ভব তাই মস্তিষ্ক ধরে নেয় আপনি লাল আর সাদা কিছু দেখছেন। এখন জীবনে যে বিষয়টা আপনি বেশি ভয় পান ঐ বস্তুর আকারটা মস্তিষ্ক সেভাবেই গড়ে তুলবে। আর সেটা দেখেই আপনি ভয় পাচ্ছেন আর অন্যকিছু করতে হবেনা। বাকি যত কাহিনী হবে সব আপনার মস্তিষ্ক নিজ থেকেই সাজিয়ে নিবে।

 

সো সবকিছু যখন রাতের অন্ধকারের মাঝেই হবে তাই ভুতকে আপনি লাল অথবা সাদা রঙেই দেখবেন স্বাভাবিক। আর শহরে যেহেতু চারদিকে আলো আর আলো তাই দেখবেন শহরের ভুতের ক্ষেত্রে এই রঙের বেপারটা তেমন কোন ফেক্ট হয় না। তবে শহরে বিশাল বিশাল বিল্ডিং থাকে তাই এত বড় বড় বিল্ডিং ত ভুতের দ্বারা হেঁটে পার করা সম্ভব না। অর্থাৎ ভুতের একটি স্পেশাল পাওয়ার থাকতে হবে , সেটা হল শহরের ভুত উড়তে হবে। যারা শহরের বাড়ীতে ভুত দেখে তারা দেখবেন বেশিরভাগ দেখে যে ভুত উড়ছে । আবার অনেক সময় ভুত খাটের নিচে থাকে । কারনটা স্বাভাবিক , বেশিরভাগ শহুরে খাট বক্স খাট থাকে। কিন্তু যাদের থাকে না তারা মনে একটা বিষয় থাকে যে আমার ঘরে ভুত আসলে কোথায় থাকবে । সেটাই সবথেকে সেইফ জায়গা মানে খাটের নিচে।।।

 

এবার আপনি যদি একটা সদ্য জন্ম নেয়া বাচ্চাকে একা ঘরে রেখে যান সে ভয় পাবে না। কিন্তু আপনি যদি থাকেন তাহলে কিছুটা হলেও ভয় লাগবে।   তার মানে দাঁড়ায় যারা বিশ্বাস করে ভুত আছে তারাই ভুত দেখে আবার যারা খুব বেশি অবিশ্বাস করে তারাও দেখে। কারনটা হয়ত তেমন কিছু না। সারাদিন ভূত নেই ভূত নেই বলতে বলতে ভূত নাহয় একবার দেখা দিয়েই দেয় তাদের। (শয়তানিহাসি)

*ভুত* *বিশ্লেষণ*

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

এক্ষনি একাউন্ট তৈরী কর

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

বেশতো বিজ্ঞাপন