দীপ্তি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

তীব্র গরমে আমাদের সকলের পরম বন্ধু হয়ে আছে বাসার রেফ্রিজেরেটরটা। এই সময় যদি হুট করে ফ্রিজটা নষ্ট হয় তবে আমাদের অবস্থা কতই না করুন হবে চিন্তা করুন। তাই আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন আপনার ফ্রিজটা ভালো থাকুক। তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন কাজগুলো করলে রেফ্রিজারেটরের কম শক্তি খরচ হবে মানে রেফ্রিজেরেটরের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

  • ফ্রিজের দরজা যত কম খুলবেন, ততই ফ্রিজের ভেতরকার পারিপার্শ্বিক অবস্থা ভালো থাকবে। কিছু রাখার জন্য বার বার ফ্রিজ না খুলে একসাথে গুছিয়ে সব একসাথে রাখুন বা বের করুন।
  • রেফ্রিজেরেটরের পেছনের দেওয়ালে কোন কিছু ঠেসে রাখা থেকে বিরত থাকুন। এটি ফ্রিজের শীতল চক্রের ক্ষতি করে ফলে ফ্রিজকে বেশী শক্তি খরচ করতে হয়। তাছাড়া আপনার রাখা সবজী বা মাছ মাংসের জন্যই এটি ভালো নয়।
  • সরাসরি গরম খাবার ফ্রিজে রাখা মোটেও উচিত নয়। কারন, সে খাবার ঠান্ডা করতে ফ্রিজকে খুব বেশি শক্তি অপচয় হয়। এছাড়াও সরাসরি গরম খাবার থেকে আপনার ফ্রিজে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ হতে পারে।
  • খুব তাড়াতাড়ি খাবার বা মাছ, মাংস ঠান্ডা করার জন্য যদি আপনি ফ্রিজের ঠান্ডা হবার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে থাকেন, তবে বোকামী করবেন। এতে ফ্রিজের খুব বেশি শক্তি খরচ করতে হয় যা থেকে আপনার ফ্রিজ নষ্টও হয়ে যেতে পারে। এর চেয়ে বরং জিনিস ঠান্ডা করার জন্য ফ্রিজকে পরিমিত সময় দিন।
  • ফ্রিজের পেছন দিকে যে কুলিং কয়েল থাকে সেখান থেকেই ফ্রিজে শক্তি পৌছায়। সেই কুলিং কয়েলে প্রচুর ধুলো জমলে শক্তির প্রবাহ কমে যায় আর তখন ফ্রিজের শক্তি বেশি ব্যয় হয়। তাই এই কুলিং কয়েল পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন। তবে একটু সাবধানে করবেন যেন কুলিং কয়েলের বক্ররেখাগুলোর কোন ক্ষতি না হয়। তাহলে সেগুলো কর্মদক্ষতা কমে যাবে।
  • অনেকে ভাবেন, ফ্রিজে যত বরফ থাকবে ততই ভালো। এই ধারনা কিন্তু একদম ভুল। অতিরিক্ত বরফ জমা হলে রেফ্রিজেরেটরের ঠান্ডা করার কর্মদক্ষতা কমে যায়। তাই ফ্রিজে অতিরিক্ত বরফ জমা হলে যত দ্রুত সম্ভব সেগুলো অপসারন করুন।
  • ফ্রিজে একটি এনার্জি বাল্ব সংযুক্ত করুন। এটি ফ্রিজে থাকা বাল্ব থেকে বেশি তাপ উৎপন্ন করবে যার ফলে আপনার রেফ্রিজেরেটরের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। এক্ষেত্রে লেড লাইট বেশ ভালো কাজ করে।
  • দেওয়ালের সাথে ফ্রিজকে ঠেসে না রেখে দেওয়াল থেকে দূরে রাখতে চেষ্টা করুন। অন্তত কিছুটা দূরে। এতে ফ্রিজ কম শক্তিতে বেশি ঠান্ডা করতে পারে।
  • ফ্রিজকে অবশ্যই এমন কিছু থেকে দূরে রাখুন যা তাপ উৎপন্ন করে। বিশেষ করে চুলা, স্টোভ, ওয়াটার হিটার এসব থেকে দূরে রাখুন।
  • বন্ধ ঘরে ফ্রিজ না রেখে যেখানে বাতাসের ঠিকমত প্রবাহ হয় তেমন জায়গায় ফ্রিজ রাখুন। ফ্রিজের পেছন দিক দিয়ে যে গরম বাতাস বের হয় তা সাধারন বাতাসের সাথে মিশে বাতাস অদল বদল করে।
  • আপনি যদি, এমন জায়গায় ফ্রিজ রাখেন যেখানে ফ্রিজের আশেপাশে ঠিকমত বাতাস পৌঁছোও না, তবে ফ্রিজকে খুব বেশি শক্তি অপচয় করতে হবে আর খুব দ্রুতই আপনার রেফ্রিজেরেটর নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
  • বাসা পরিবর্তনের সময় রেফ্রিজারেইটর ওপর-নিচে ওঠানামা করাতে হয়। এ ক্ষেত্রে রেফ্রিজারেইটর নাড়াচাড়া করার অন্তত তিন থেকে চার ঘণ্টা আগে বন্ধ করতে হবে। আর নতুন বাসায় সংস্থাপনের তিন থেকে চার ঘণ্টা পর তা চালু করতে হবে।কারণ, রেফ্রিজারেটর নাড়াচাড়া করলে কম্প্রেসারের গ্যাস ওপরে উঠে যায়। তাই কম্প্রেসারের গ্যাস স্থিতিশীল হওয়ার জন্য কিছুটা সময় দিয়ে এরপর ফ্রিজ চালু করা উচিত।

  •  

    ঘরে বিদ্যুতের সমস্যা দেখা দিলে, যেমন, বিদ্যুত বার বার আসা-যাওয়া করলে রেফ্রিজারেটর বন্ধ করে রাখা নিরাপদ।

  •  

    বছরে একবার বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ করে রেফ্রিজারেইটরের পেছনে বা নিচে থাকা কয়েল পরিষ্কার করা যেতে পারে। ভ্যাকুয়াম ক্লিনার বা নরম ঝাড়ু দিয়ে কয়েলে লেগে থাকা ধুলো-ময়লা পরিষ্কার করতে হবে।

  •  

    রেফ্রিজারেইটরের যে কোন সমস্যায় কারিগরের সাহায্য নেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠানের রেফ্রিজারেইটর সেখানে নিয়ে যাওয়াই ভালো।

জেনে নিলেন তো কোন কাজগুলো করলে, আপনার রেফ্রিজেরেটর কম শক্তি ব্যায়ে বেশি কাজ করতে পারবে? এবার তবে এইদিকগুলো খেয়াল রাখুন।

*ফ্রিজ* *রেফ্রিজারেটর* *গৃহস্থালিটিপস*

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

এক্ষনি একাউন্ট তৈরী কর

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

বেশতো বিজ্ঞাপন