ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

পাহাড়ি সবুজ বন, মেঘমালা, পাহাড়ি ঝরনা আর সাংগু নদীর একমুখী ছুটে চলার দৃশ্য আপনাকে হাতছানি দেবে বান্দরবানের পথে পথে। বান্দরবান থেকে থানচির পথে যেতে প্রায় ১০ কিলোমিটার পর শৈলপ্রপাত। পাহাড়ি ঝরনা। যদিও এটি এখন শুকিয়ে গেছে। এর কিছু দূর যাওয়ার পর মিলবে চিমবুক পাহাড়। বান্দরবান থেকে চিমবুকের দূরত্ব ২৪ কিলোমিটার। এ পাহাড়ের চূড়া থেকে আপনি বঙ্গোপসাগর, চট্টগ্রাম বন্দর দেখতে পাবেন। মেঘের আনাগোনার দিনে হাত বাড়ালেই শীতল ছোঁয়া পাবেন।

আকাশ আর মেঘ যেখানে ভ্রমন পিপাসু মানুষকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। অবারিত সবুজ প্রান্তর যেখানে মিশে যায় মেঘের ভেলায়। মেঘের সাথে পাহাড়ের যেখানে আজন্ম বন্ধুত্ব। বলছি নীলগিরি পর্যটনের কথা। এখানে পাহাড় ও মেঘের সাথেই বসবাস করে পাহাড়ি আদিবাসী ম্রো সম্প্রদায়ের অধিবাসীরা। সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে ২ হাজার ২ শত ফুট উচ্চতায় এই নীলগিরি পাহাড়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখানে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। চিমবুকের পর চলতে চলতে একটা জায়গায় এসে থমকে দাঁড়াতে হয়। একটি সাইনবোর্ড। তাতে লেখা_ 'বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সড়ক'। এবার সামান্য পথ যেতেই নীলগিরি। পর্যটন স্পট। বান্দরবান থেকে দূরত্ব ৪৮ কিলোমিটার। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩ হাজার ৬০০ ফুট উঁচু এ পাহাড়ে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন সাতটি বিশ্রামাগার। মেঘদূত, আকাশনীলাসহ নানা বাহারি নামের এসব বিশ্রামাগারে রাত কাটানোর জন্য ৩ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ পড়ে।


তবে এমনিতে ৫০ টাকার টিকিট কেটে নীলগিরির চূড়া থেকে পাহাড়ের চারদিকের সবুজ দৃশ্য অবলোকন করা যায়। নীলগিরিতে করা হয়েছে একটি হেলিপ্যাডও। এখানকার বিশ্রামাগার ভাড়া নিতে হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আগে যোগাযোগ করতে হয়। নীলগিরি থেকে যত দক্ষিণে যাবেন, ততই আস্তে আস্তে সর্বোচ্চ সড়ক থেকে নিচের দিকে নামতে থাকবেন। কখনো দুই পাহাড়ের মাঝ দিয়ে, কখনো বা পাহাড়ের পাশের সরু সড়ক ধরে চলে যাবে চাঁদের গাড়ি কিংবা নিজস্ব জিপ। পাহাড়ের ঢালে আদিবাসীদের ছোট ছোট ঘরবাড়ি থেকে মাঝেমধ্যে উঁকি দেবে কোনো নারীমুখ কিংবা ছোট্ট শিশু। জুম চাষও দেখতে পাবেন। বর্ষার এই সময়টাতে আদিবাসী নারী-পুরুষ ব্যস্ত থাকে জুমের মাঠে।


এ ছাড়া ঘুরে আসা যায় আদিবাসীদের বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের বাগানে। পাহাড়ি ঝরনা থেকে আদিবাসী নারীদের পানি সংগ্রহ করার দৃশ্য দেখতে ভুলবেন না যেন। এ ছাড়া দুই পাহাড়ের মাঝখানে উন্মত্ত বর্ষায় ছুটে চলা সাংগু নদীও টানবে আপনাকে। আদিবাসীপাড়ার কার্বারি কিংবা কারো সহযোগিতায় ডিঙি কিংবা নৌকায় চড়ে আপনিও চলে যেতে পারেন আশপাশের কোনো মারমা পাড়ায়। আদিবাসীদের জীবনযাত্রা আপনার প্রাণ ছুঁয়ে যাবে। ঈদের ছুটিটা উপভোগ্য না হয়ে পারেই না!


যেভাবে যাবেন
ঢাকা কিংবা চট্টগ্রাম থেকে বাসযোগে বান্দরবান। সেখানে রাতযাপনের জন্য বিভিন্ন হোটেল রয়েছে। এরপর কোনো এক সকালে বান্দরবান থেকে চাঁদের গাড়িযোগে আরো গহিন অরণ্যে যাত্রা করা যায়। এ জন্য ভাড়া পাওয়া যায় চাঁদের গাড়ি। বান্দরবান থেকে থানচি পর্যন্ত একটি গাড়ি আসা-যাওয়ায় ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়। নিজস্ব গাড়ি নিয়েও যাওয়া যায়। তবে পাহাড়ি পথ, বিশেষ করে বান্দরবানের অাঁকাবাঁকা দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা সম্পর্কে চালক অভিজ্ঞ হলে ভালো। শহর থেকে চাঁদের গাড়ীগুলো নীলগিরি পর্যন্ত ৩/৪ হাজার টাকা ভাড়া নিয়ে থাকে। এসব চাঁদের গাড়ীগুলো একসাথে ২০/২৫ জন পর্যন্ত যাত্রী পরিবহণ করে। 

কোথায় থাকবেন
বান্দরবানে এসেই আপনাকে কোন আবাসিক হোটেলে রুম নিয়ে বিশ্রাম নিতে হবে। শহরের মধ্যে বিভিন্ন বাজেটের মধ্যে এসি/ ননএসি হোটেল পাওয়া যায়। পর্যাপ্ত হোটেল থাকায় রুম পেতে কোন ঝামেলা পোহাতে হয় না। তবে পর্যটনের ভরা মৌসুমে আগেভাগে বুকিং দিয়ে আসা ভালো। এখন বেশির ভাগ আবাসিক হোটেলের সাথেই খাবারের রেস্তোরা রয়েছে। শহরের রুমা বাসষ্টেশন থেকে বিভিন্ন চাঁদের গাড়ী, জীপ ইত্যাদি নীলগিরী পর্যটন কেন্দ্রে চলাচল করে। আপনাকে এসব গাড়ী রিজার্ভ করেই যেতে হবে গন্তব্যে। কারণ রিজার্ভ গাড়ীতে না গেলে আপনাকে পথে অনেক ঝামেলা পোহাতে হতে পারে। যা আপনার ভ্রমনের আনন্দকে ম্লান করে দিতে পারে। গন্তব্যে পৌঁছাতে এসব গাড়ী ২-৩ ঘন্টা সময় নিতে পারে। নীলগিরি পৌঁছে আপনি সেখানে রাত যাপনও করতে পারবেন। এখানকার কটেজগুলো একটু ব্যয়বহুল। এখানকার প্রতিটি কটেজের ভাড়া রাতপ্রতি ৪/৫ হজার টাকার মধ্যে। আর থাকতে না চাইলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপনাকে আবার বান্দরবান শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে।

*ঈদেরছুটি* *ছুটিতেভ্রমন* *বান্দরবান* *নীলগিরি* *ভ্রমনটিপস*

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

এক্ষনি একাউন্ট তৈরী কর

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

বেশতো বিজ্ঞাপন