দীপ্তি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

সাজেক ভ্যালী ঘুরে ফেরার পথে স্নিগ্ধ হওয়ার মত এক জায়গা হাজাছড়া ঝর্ণা । এটা রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট এলাকায় অবস্থিত। বাঘাইছড়ি উপজেলার ১০ নম্বর রাস্তার পাশে এই ঝরনা পযর্টকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। রাস্তা থেকে ১৫ মিনিট ঝিরিপথ ধরে হেঁটে পৌঁছানো যায় ঝর্ণার পাদদেশে। অপূর্ব অসাধারন আর নয়নাভিরাম এ ঝর্না। ঝর্ণার নীচে দাড়িয়ে অনায়েসেই ক্লান্তি দূর করা যায়, পায়ের নিচের ঠান্ডা জল ও ঝর্ণার ছিটেফোঁটা জলের স্পর্শে। দীর্ঘ ক্লান্তিকর হাটার কষ্ট মুহুর্তেই ধুয়ে গিয়েছিলো ঝর্ণার জলে, আসলে আমি যাত্রাটি এতটাই উপভোগ করেছিলাম যে, আমার মোটেও ক্লান্ত লাগে নি। আর তাছাড়া ঝর্ণার জলের শীতল পরশ আপনাকে ক্ষনিকের জন্য হলেও ভুলিয়ে দেবে আবার কতটা পথ আবার হাটতে হবে ফেরার জন্য। সম্মোহনী কলকল শব্দ দূর থেকেই ঘোরের সৃ্ষ্টি করে।

অবস্থানগত ভাবে হাজাছড়া ঝর্ণা রাঙামাটির অন্তর্গত হলেও এটি ভ্রমণ করার জন্যে খাগড়াছড়ি হয়ে যাওয়াটাই উত্তম। এটি শুকনাছড়া ঝর্ণা নামেও পরিচিত। এই ঝর্ণাটির স্থানীয় পাহাড়ীদের দেয়া নাম হল চিত জুরানি থাংঝাং ঝর্ণা (মন প্রশান্তি ঝর্ণা)। খাগড়াছড়ির দিঘীনালা থেকে হাজাছড়া রওনা দিতেই আপনার চোখে পড়বে প্রকৃতির নিজের হাতে আঁকা দৃশ্যপট। তীর ছুঁয়ে যাওয়া মাইনী নদীর জলের স্রোত। পাহাড়ি ঢলে নদীর দুতীর জুড়ে উপচে পড়া জলের স্রোত। রাস্তার দুপাশ জুড়ে আদিবাসীদের বসবাস। পথের ধারেই নানান শস্যের জুমের ক্ষেত। সবুজে ঘেরা ঝিরি পথ পেরোলেই স্বাগতম জানাবে হাজাছড়া বিশালকায় ঝর্ণা। আমি গিয়েছি শীতে তবে শুনেছি পুরো বর্ষায় হাজাছড়ার রূপের তুলনা সে নিজেই। এখানে সারা বছরই পানি থাকে। তবে শীতে জল প্রবাহ কমে যায়। আর বর্ষার হয়ে উঠে পূর্ণ যৌবনা। তবে শীতের আগে ও বর্ষার শেষে এখানে ঘুরতে যাওয়া উত্তম সময় বলে আমার মনে হয়েছে কারণ ভরা বর্ষার সময় কিছুটা ঝুঁকি তো থেকেই । ঝর্নার আশে পাশে কেবল যেন সবুজেরই সমারোহ।  ঘন জঙ্গলের ভিতর দিয়ে ঝর্ণায় চোখে পড়তেই আটকে যেতে হয়। এমন বিশালাকৃতির ঝরনা! তীব্রগতিতে বয়ে পড়ছে জলের ধারা। কাছে যেতেই জল নিংড়ানো হালকা হালকা শিশির ভিজিয়ে দিল সবাইকে। ঝরনার সামনে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ আমরা কিছু তরুণ অভিযাত্রীর দল। ঝর্ণাটির মায়াময় সৌন্দর্য দেখে আপনারও মন চাইতে পারে এর পানিতে নিজেকে ভিজিয়ে দিতে।

কিভাবে যাবেনঃ

হাজাছড়া ঝর্ণায় যেতে হলে অপনাকে প্রথমে খাগড়াছড়ি যেতে হবে। খাগড়াছড়ি নেমে বাস, মাহেন্দ্র জীপ , মোটরসাইকেল বা চান্দের গাড়িতে প্রথমে যেতে হবে দিঘীনালা। অথবা ঢাকা থেকে শান্তি পরিবহনে করে সরাসরি আপনি দীঘিনালা পৌছে যেতে পারেন। আপনার যদি কখনো সাজেক যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, সময় করে যাত্রাপথেই ঘুরে আসতে পারেন হাজাছড়া ঝর্ণা থেকে কারণ আপনার সাজেক যাত্রাপথেই বাঘাইহাট পড়বে। বাঘাইহাট নেমে আপনাকে আরো ২০ মিনিটের মতো হেঁটে যেতে হবে ঝরনাটি দেখতে। বেশি দূরে নয়, তবে এখনো চলাচলের কোনো রাস্তা তৈরি না হওয়ায় উঁচু-নিচু স্থান পার হয়ে যেতে হয় বলে একটু সময় লাগে। হাঁটার সুবিধার জন্য চাইলে পাঁচ টাকা মূল্য দিয়ে বাঁশের লাঠি কিনে নিতে পারেন। এরপর সবুজ ঘাসের ওপর দিয়ে ঝরনা থেকে নেমে আসা শীতল পানিতে পা ডুবিয়ে এগিয়ে যেতে হবে আপনাকে। চারদিকে শুধু সবুজের সমারোহ। শহরের কোলাহলমুক্ত এমন সবুজ সুন্দর পরিবেশ আপনার মনে এনে দিতে পারে প্রশান্তির ছোঁয়া।

কোথায় খাবেনঃ

হাজাছড়া ঝর্ণার আশেপাশে থাকা বা খাওয়া কোন ব্যবস্থা নেই। ঝর্ণায় যাওয়ার সময় সাথে কিছু শুকনো খাবার ও পর্যাপ্ত পানি নিয়ে যেতে পারেন। অথবা খাগড়াছড়ি শহরের কাছেই পানখাই পাড়ায় ঐতিহ্যবাহী সিস্টেম রেস্তোরার (System Restaurant) অবস্থান। এখানে খাগড়াছড়ির ঐতিহ্যবাহী খাবার খেতে পারবেন। খাং ময় রেস্টুরেন্টে আমরা খেয়েছিলাম। পর্যটকদের জন্য খাগড়াছড়িতে রয়েছে অনেক আবাসিক হোটেল । রয়েছে জেলা সদরের মিলনপুরে হোটেল গাইরিং ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় হোটেল ইকোছড়ি ইন। সেখানে থাকা-খাওয়ার সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। খাগড়াছড়ি বাজার এলাকার হোটেল আল-মাসুদ, হোটেল লবিয়ত, হোটেল ফোর স্টারসহ অনেকগুলো হোটেলে থাকতে পারবেন সুলভে। হোটেল গাইরিং বেশ উন্নত, আমাদের বেশ ভালো লেগেছে। 

যা মনে রাখবেন

একটা অনুরোধ আছে, ঝর্ণা দেখতে গিয়ে এর আশপাশে কোনো প্ল্যাস্টিক, বোতল, প্যাকেট ফেলে ঝর্ণাকে নোংরা করবেন না। প্রকৃতিকে তার নিজের মতো করে থাকতে দিন। শুধু তার কাছে গিয়ে উপভোগ করুন তার অনাবিল সৌন্দর্য্য।

 কিছু কিছু জায়গা খুব পিচ্ছিল থাকে, তাই সাবধানে হাঁটবেন।

•কোনো কোনো জায়গায় কাঁটাজাতীয় একধরনের উদ্ভিদ দেখা যায়, তাই দেখে দেখে হাঁটবেন।

• হাঁটার রাস্তাটি উঁচু-নিচু এবং বেশ সুবিধাজনক নয়, তাই সঙ্গে কোনো ভারী বস্তু নেওয়া উচিত নয়। এতে আপনারই কষ্ট হবে।

• এখানকার আনারস, আখ, পেঁপে ও কলা বেশ মিষ্টি। অবশ্যই খেয়ে দেখবেন, নইলে কিন্তু পস্তাবেন।

 

*ঝর্ণা* *হাজাছড়াঝর্ণা* *রাঙামাটি* *খাগড়াছড়ি* *দীঘিনালা* *বাঘাইহাট* *শীতেভ্রমণ*

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

এক্ষনি একাউন্ট তৈরী কর

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

বেশতো বিজ্ঞাপন