আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

এলাকার মান্যগণ্য সকলের আলোচনার ভিত্তিতে সিমিনের নতুন নাম দেয়া হলো ধর্ষিতা। তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে এই নতুন নাম দেয়া হলো। নামটা যদিও নতুন নয়, এর আগেও অনেককে এমন নাম দেয়া হয়েছিলো। তাদের সবাই ছিলো নারী । ব্যাকরণ এবং মানব সমাজের ভাষায় এ নাম শুধুমাত্র স্ত্রীলিঙ্গের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য । এই ঘটনার উপর ভিত্তি করে হঠাৎ এলাকায় বুদ্ধিজীবীদের সংখ্যা বেড়ে গেলো । ধর্ষণের কারণ এবং ধর্ষণের পেছনে ধর্ষিতার কী কী উপসর্গ এবং অনুসর্গ ছিলো তা নিয়ে চলছে অলিতে গলিতে চুলচেরা আলোচনা । যাবতীয় জ্ঞানগর্ব উক্তি এবং উদাহরণ দিয়ে একে অপরকে বুঝাচ্ছে সিমিনের শারীরিক অঙ্গভঙ্গি, পোষাক পরিচ্ছদ এবং চারিত্রিকগতভাবে কতটুকু ইন্ধন জুগিয়েছিল এই ধর্ষণের পেছনে । এ সুবাদে সুরজের চায়ের ব্যবসা হয়ে গেল চাঙ্গা, সে চা বানাতে বানাতে বারবার একটা দ্বন্ধের মধ্যে পড়ে যায় সিমিন মেয়েটার দোষ কোথায় তা ভেবে । সে যতটুকু সিমিনকে দেখেছে বা জানে তাতে সিমিন ভদ্র পরিবারের একজন নম্র ভদ্র এবং শালীন পোশাক পরেই চলাফেরা করা একটা মেয়ে। সিমিনকে দেখে সিরাজও মাঝে মাঝে ভাবতো তার ছোট্ট মেয়েটাকে সিমিনের মত বানাবে।

এলাকার এই উত্তাপের মধ্যে হঠাৎ পানি ঢেলে দিলো কুদ্দুস পাগলা, সে বলে বেড়াচ্ছে এই ধর্ষণের পেঁছনে সিমিনের কোন দোষ নাই, তোরা যারা সিমিনের দোষ দিচ্ছিস সবাই নরকে পুড়বি । এ কথা শুনে সবাই একটু ঘাবড়ে গেলো। কারণ কুদ্দুস পাগলাও একসময়ের ধর্ষক ছিল । এরপর থেকেই সে পাগল । সেই রাতে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটলো । যারা যারা সিমিনের দোষ দিয়েছিলো তারা স্বপ্ন দেখলো, ফুলসজ্জার নরম বিছানায় তাদেরকে ধর্ষণ করছে একদল পুলিঙ্গধারী নারী। রক্তে লাল হয়ে যাচ্ছে বিছানা। আর সিমিন তা দেখে হো হো করে হাসছে। পরদিন সকালে পাগলের বেশে একদল পুরুষ ধর্ষিতা কুদ্দুস পাগলের পেঁছন পেঁছন এলাকা থেকে বের হয়ে গেল, সিরাজ তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।

*ধর্ষন* *সমাজ* *পাগল* *পাপ*

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

এক্ষনি একাউন্ট তৈরী কর

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত