শপাহলিক: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ঢাকা ভিত্তিক একটি অনলাইন ফ্যাশন হাউজ ফ্রেন্ডজ লাইফস্টাইল। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মেহেদী হাসান যিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ ও এমবিএ শেষ করেছেন। নর্থ সাউথ থেকে বিবিএ শেষ করার পর তিনি একটি কোম্পানিতে চাকরি করার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সান্ধকালীন এমবিএ শেষ করেছেন।

২০১৪ সালে অনলাইন ব্যবসা শহরে অপেক্ষাকৃত নতুন । কিন্তু হাসান বুঝতে পেরেছিলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে সারা পৃথিবী জুড়ে অনেক শিল্পই বেশ অগ্রসর হচ্ছে, সেদিক বিবেচনা করলে বাংলাদেশেও অনলাইন ব্যবসা দ্রুত গ্রো করবে। এই চিন্তা ভাবনা থেকেই তিনি এবং তাঁর দুই বন্ধু সহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লবিতে বসে ২০১৪ সালে একটি অফিসিয়াল ফেসবুক বিজনেস পেজ খোলার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ব্যবসা চালু করেন।

এর পরের, যাত্রা অবশ্য সহজ ছিল না। ব্যবসা শুরুর কয়েক মাস পর তার দুই অংশীদার ব্যবসা না করার সিদ্ধান্ত নেয়। তখন তিনি একটু চিন্তিত হয়ে পড়েন। তাছাড়া তাঁর পরিবারও চাচ্ছিলেন না দেশের শীর্ষ দুটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায়িক ডিগ্রী নেওয়ার পর তাদের সন্তান অনিশ্চিত কর্মজীবন চালিয়ে যাক। কিন্তু হাল ছাড়েননি মি. হাসান তিনি সাহস ও ধৈর্যের সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জগুলির সাথে সামঞ্জস্য রেখে, একটি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আজকের এই অবস্থানে এসেছেন। বর্তমানে তিনি-ফেসবুক, অফলাইন শপ ও দেশের সবচেয়ে বড় অনলাইন শপিংমল আজকেরডিলের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করছে। 

দেশের সবচেয়ে বড় অনলাইন শপিংমল আজকেরডিল ডটকম এধরনের নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও উদ্দ্যোক্তাদের উঠে আসার গল্প তুলে ধরার চেষ্টা করছে। লক্ষ্য একটাই নতুন উদ্দ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণা জোগানো। যার ধারাবাহিকতায় আজকের আয়োজন মিষ্টার হাসানের ‘ফ্রেন্ডজ লাইফস্টাইল’ নিয়ে।

কনটেন্টটি স্পন্সরড করেছে আজকেরডিল.কম

 

মি. মেহেদী হাসান নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স ও একাউন্টিং বিভাগে পড়াশুনা করেছে। তিনি ২০১২ সালে বিবিএ শেষ করার পর, সন্ধ্যাকালীন কোর্স ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং এ এমবিএ করেন এসময় তিনি কোম্পানিতে জব করছিলেন।


প্রথম থেকেই নিতের মত করে কিছু একটা করার চেষ্টা তার মধ্যে ছিল। এর পরিকল্পিত রূপ হিসেবেই তার নেতৃত্বে ফ্রেন্ডজ লাইফস্টাইল গড়ে ওঠে। ফ্রেন্ডজ লাইফস্টাইল একটি অনলাইন ভিত্তিক শপিং বিজনেস। ২০১৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের লবিতে বসে তিনি এবং তার দুই বন্ধু মিলে ব্যবসার জন্য অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ তৈরি করেছিলেন। তার পর থেকে পথ চলা শুরু। যদিও কিছুদিন পর তার দুই বন্ধু ব্যবসা না করার সিদ্ধান্ত নেন কিন্তু তিনি দমে যাননি, এই হাল ধরে প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে নিয়ে চলেন।


মি. মেহেদীর ব্যবসার ট্রেন্ড টা একটু ভিন্ন। তার মতে, যারা অনলাইন থেকে বেশিরভাগ পণ্য কেনা তারা যুবক সুতরাং তার টার্গেট অডিয়েন্স ইয়ং পিপল। এবং সেই লক্ষ্য নিয়ে তিনি পণ্য তৈরী করে আসছেন।


এই প্রজন্মের পথচলার শুরু থেকেই সঙ্গী হয়েছে ইন্টারনেট। মূলত ইন্টারনেটর দ্রুত অগ্রগতি অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পেছনে মি. মেহেদী হাসানকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। তিনি অনুধাবন করেছিলেন দ্রুতই মানুষ ইকমার্সে অভ্যস্থ হয়ে পড়বে কেউ আর মার্কেটে গিয়ে ঘাম ঝরিয়ে পণ্য কিনবে না তাই তিনি এই ধরনের ব্যবসা শুরু করার সিন্ধান্ত নেন। তার বাবার ঐতিহ্যবাহী বিটুবি বিজনেস ছিল সেখান থেকে তিনি অনুপ্রেরণা পান। তার অনুপ্রেরণার আরও একটি জায়গা আলিবাবা.কম। আলিবাবার সাইট দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। এছাড়াও বিডিজবস এর সিইও জনাব ফাহিম মাশরুরের কিছু কথা ও উপদেশ তাকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করেছিল।

 

ব্যবসার শুরুর প্রথম দিকে তার তিন বন্ধু প্রত্যেকে ২০ হাজার টাকা করে কন্ট্রিবিশন করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে একজন রাজি না হওয়ায় দুজনে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। মি. হাসান প্রথমে কিছু গার্মেন্টস ও বাইং হাউসের সরবারহ কৃত এক্সপোর্ট কোয়ালিটির পোলো টিশার্ট ফেসবুক পেজের মাধ্যমে বিক্রি শুরু করেন। শুরু দিকে তারা মোবাইলে পণ্যের ছবি তুলে অনলাইনে আপলোড করতেন।

ফ্রেন্ডজ লাইফ স্টাইল মূলত পোশাক ও গহণা বিক্রি করে। তারা গ্রাহদের কাছে কোয়ালিটি পণ্য তুলে দেন। তাদের কালেকশনে প্যান্ট, সালোয়ার কামিজ, শাড়ি, গহনা, কূর্তী, টি-শার্ট ও পোলো শার্ট রয়েছে। ছেলে মেয়ে উভয়ের জন্যই তারা তাদের পণ্য সরবারহ করে। পণ্যের গুণগত মান ভালো হওয়ায় তার ব্যবসা দ্রুত অগ্রসরমান হচ্ছে। গত এক বছর ধরে তার ব্যবসার ক্রমর্বমান উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। ফ্রেন্ডস লাইফস্টাইলের কিছু রেগুলার কাস্টমার তৈরী হয়েছে যারা প্রতিনিয়ত পণ্য কিনে। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে ৫ জন টিম মেম্বার রয়েছ যারা প্রতিয়িত কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়াও তাদের পণ্য কাস্টমারদের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য থার্ড-পার্টির ডেলিভারী সার্ভিসের সহায়তা নেন।

মি. মেহেদীর প্রতিষ্ঠান তার ব্যবসা থেকে প্রতিবছর প্রায় কয়েক মিলিয়ন টাকা আয় করেন। অনলাইনের পাশাপাশি তারা অফলাইনেও তাদের পণ্য বিক্রি করেন। তাদের মোট বিক্রির ৬০% হয় অনলাইনে বাঁকি ৪০% হয় অফলাইনে।

 

মি. হাসানের অনলাইন এই ব্যবসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ লজিস্টিক সাপোর্ট। সারাদেশে দ্রুত পণ্য ডেলিভারী দেবার মত কোন ভালো ডেলিভারী সার্ভিস এখনো গড়ে ওঠেনি। কুরিয়ারের মাধ্যমে পণ্য ডেলিভারীতে বহু রকমের সমস্যা ফেস করতে হয়। সরকারি পোস্ট অফিস যদি এগিয়ে আসত তাহলে এই ব্যবসা দ্রুত অগ্রসর হবে এবং সব জায়গায় পণ্য পৌঁছে দেওয়া যাবে বলে তিনি মনে করেন।

দেশের সবচেয়ে বড় অনলাইন শপিংমল আজকেরডিলের মাধ্যমে মি. হাসান ব্যবসা করছে। প্রায় ৪ বছর থেকে ফ্রেন্ডজ লাইফস্টাইল আজকেরডিলের মার্চেন্ট হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। তাছাড়াও আজকেরডিলের সিইও জনাব ফাহিম মাশরুরের সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক বেশ ভাল। শুরু থেকে কিভাবে একটি ব্যবসা বড় করতে হয় সে পরামর্শ তিনি ফাহিম মাশরুরের কাছ থেকেই পেয়েছেন। আজকেরডিলের মাধ্যমে ফ্রেন্ডজ লাইফস্টাইল প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০টির অধিক পণ্য বিক্রি করেন। তার মতে, পণ্য বিক্রির জন্য আজকেরডিল একটি বড় মাধ্যম।

নতুনদের জন্য মি. মেহেদী হাসানের পরামর্শঃ

প্রথমত, ব্যবসা শুরুর আগে সঠিক গবেষণা করুন, আপনার পণ্যের চাহিদা এবং বাজার বুঝে ব্যবসা শুর করা ভাল। সময় পরিবর্তিত হয়েছে, বাজার আরো প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে, আগে আমরা মোবাইল ফটোগ্রাফি করে পণ্য বিক্রি করেছি কিন্তু এখন আর মোবাইল ফটোগ্রাফি অনলাইনে আপলোড করার মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন না। এজন্য ভালো প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামতে হবে।

দ্বিতীয়ত, আপনার ব্যবসার জন্য সম্পূর্ণ সাপ্লাই চেইন সম্পর্কে জানুন এবং পরিকল্পনা করুন। আপনার পণ্য কোথায় থেকে আসবে কিভাবে ডেলিভারী দিবেন সেগুলো ঠিক করুন তারপর ব্যবসা শরু করুন। প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার চেষ্টা করুন। কোন ক্রমেই যেন, কাস্টমাররা প্রতারিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। মনে রাখবেন, যখন একজন গ্রাহকের সাথে আপনার খারাপ অভিজ্ঞতা হবে, সাধারণত তখন সেই গ্রাহক আপনার কাছে দ্বিতীয়বার আসবেনা।

অবশেষে এবং সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হলো, ব্যবসার এবং জীবনে অনেক উত্থান পতন থাকবে। সংগ্রাম ও চেষ্টার মাধ্যমে কঠিন সময়গুলো পার করতে হবে। একটি টেকসই ব্যবসা দাঁড় করারনোর জন্য দীর্ঘ সময় লাগবে। আপনি যদি সত্যিই একটি ব্যবসা দাঁড় করাতে চান, তাহলে আত্মসমর্পণ করলে চলবে না, স্বপ্ন সত্যি করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে এগিয়ে যেতে হবে।

*সফলতারগল্প* *স্পন্সরডকনটেন্ট* *আজকেরডিল* *স্মার্টশপিং* *ফ্রেন্ডজলাইফস্টাইল*

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

এক্ষনি একাউন্ট তৈরী কর

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত