জান্নাতুল ফিরদৌস

@Firdous

মানসিক বয়স আনুমানিক ৭০ এর কাছাকাছি | পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিমান মানুষদের একজন |
business_center প্রফেশনাল তথ্য নেই
school এডুকেশনাল তথ্য নেই
location_on লোকেশন পাওয়া যায়নি
1360763572000  থেকে আমাদের সাথে আছে

জান্নাতুল ফিরদৌস: [ঈদ-ঈদমুবারাক]মানুষের একটা বিষয় আমাকে অবাক করে তাহলো কোনো মানুষ যখন যুক্তিসিদ্ধভাবে কিছু মানুষের সমালোচনার পাত্র হয় তখন আরো কিছু মানুষ সবসময়ই থাকে যারা সমালোচনার বিষয়টা না বুঝেই শুধুমাত্র নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে তাদের পক্ষ হয়ে সমালোচনা করতে থাকে ! তবে,আশা করি কোনো বিশেষ দিনের শুভেচ্ছা মানুষ নিজ থেকেই করে থাকে | সবাইকে অগ্রিম ঈদ-উল-আজহা শুভেচ্ছা (কোলাকুলি)

*ঈদমোবারক* *ঈদ-উল-আজহা*

জান্নাতুল ফিরদৌস: আজকে মনটা খারাপ ছিল যেহেতু আজকে বড় একটা মৃত্যুর ঘটনা ঘটল | একজন ব্লগার নিলয় তাকে আল-কায়েদা তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যা করেছে | এখন বেশততে এসে প্রথমেই চোখে পড়ল লুটোপুটি অফার ,তারপরে সেই কপি-পেস্ট করা কিসব লিখা | আচ্ছা এখানে কি গনতন্ত্রের চর্চা হয়না ? অবস্য লিখেই বা কি হবে | কেন জানি বিরক্ত লাগছে | (মনখারাপ)

*নিলয়-হত্যা* *আল-কায়েদা*

জান্নাতুল ফিরদৌস: একটা জিনিস বুঝিনা এক শ্রেনীর মানুষ হটাত অসুস্থ বা বেশ অসুস্থ হলে হটাত করেই যোদ্ধা হয়ে যায় | সে নিজে মারা যাচ্ছে বা কারো সহযোগিতা লাগবেনা এরকম ভান করতে থাকে | আমারতো মনে হয় জীবনে টিকে থাকার জন্য যুদ্ধ করাটা অনেক বেশি সম্মানজনক ! (চিন্তাকরি)

জান্নাতুল ফিরদৌস: একটি বেশব্লগ লিখেছে

উপরের টাইটেল দেখেই বোঝা যাচ্ছে বিষয়টা তুলনামূলক আলোচনা হবে | আর যেহেতু তুলনামূলক কাজেই,দোষ সংক্রান্ত বিষয় নিয়েই নিশ্চয় হবে !!
একটা ছোট্ট প্রশ্ন দোষ বলতে আমরা আসলে কি বুঝি ? একটা উদাহরণ দেই - একটা লোক রাতে তার বাসার দরজা-জানলা খোলা রেখে ঘুমায় তো এক চোর এসে সব কিছু চুরি করে নিয়ে গেল | কাজেই, এই চুরি হওয়ার জন্য কে দায়ী ? বা কে দোষী ? সেই চোর ? নাকি যেই লোকটা ঘর খোলা রেখে ঘুমাচ্ছে ? কেউ হয়ত বলবে লোকটাই দায়ী কারণ,এরকম বোকার মত ঘর খোলা রেখে ঘুমাচ্ছে ,চোরতো চুরি করবেই ! আবার কেউ বলবে চোরটাই দায়ী কারণ,ঘর খোলা রেখে ঘুমালে চুরি করতে হবে নাকি ? আবার কেউ কেউ দুইজনকেই সমান সমর্থন দিতে পারে ,যদিও বিষয়টা কিভাবে সম্ভব আমি নিশ্চিত নই ! এখন আবার ও পুরনো সেই প্রশ্ন করছি দোষ বলতে আমরা আসলেই কি বুঝি ? আর অপরাধ জিনিসটাই বা কি ? আর সমাধান বলতে কি বুঝি ? বলছি কারণ এই ৩টা বিষয় ক্লিয়ার হয়ে নেয়া উচিত | এইখানে চুরি করা একটা অপরাধ ,তার মানে চোর হলো একজন দোষী | আর দরজা না খোলা রেখে ঘুমানোটা হলো সেই চুরি বন্ধের সমাধান ! (অনেকসময় এই সমাধান কাজ নাও করতে পারে !) কিন্তু,আমরা ভুলেও বলতে পারিনা দরজা খোলা রেখে ঘুমানোটা একইসাথে দোষ এবং সে একজন দোষী !! এগুলোর মাঝে সুক্ষ কিছু পার্থক্য আছে |

আমরা মানুষ হবার সাথেসাথে রাষ্ট্র কর্তৃক কিছু সুযোগ-সুবিধা লাভ করি ,এবং সেইসাথে কিছু নিয়ম-কানুনের সম্মুখীন হই | এই যেমন -অপরাধ কি ? কিংবা এর সাজা কি ? একজন মানুষ স্বাধীনভাবে সর্বোচ্চ কি করতে পারবে ? এরকম অনেক কিছুই সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞাইত করা হয়েছে | উপরের চুরির ঘটনার সাথে যদি তুলনা করি তাহলে কিন্তু এরকম কিছু পাওয়া যাবেনা যে ঘর খোলা রেখে ঘুমানো একটা অপরাধ এবং সে দোষী !! আমরা বড়জোর বলতে পারি ঘর খোলা না রেখে ঘুমানো চুরি বন্ধের একটা সমাধান !
এখন আলোচ্য বিষয়ে যাই ,ইভটিজিং কিংবা ধর্ষণ দুইটা আমার কাছে খুব সিমিলার | যারা উপরের বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে পরে আসছে তারা হয়ত বুঝতে পারবে কি বলতে চাচ্ছি ! আসলেই তাই ! ইভটিজিং করা (কিংবা ধর্ষণ) অপরাধ এবং খুব শালীন জামাকাপড় পরে বের হওয়া যাতে তাকে উত্যক্ত না করে তা হলো একটা সমাধান ! (যদিও যদ্দুর জানি শালীন পোশাকও এখন মুক্ত করতে পারেনা যার প্রমান পাওয়া যায় ছোট মেয়ে কিংবা বোরকা পরা মেয়েরা এসবের শিকার হয় | হয়তবা সে ততটা শালীন পোশাক পরেনি কে জানে !!!)এইখানে আমরা ভুলেও সেই মেয়েকে দোষী বলতে পারিনা ,কক্ষনো না !
সে যা ইচ্ছে জামা-কাপড় পরুক সেইটা সে অপরকে যৌন-উত্তেজনা সৃষ্টির জন্যই হোক কিংবা নিজের শখের জন্যই হোক ! (আমার দৃঢ় বিশ্বাস একটা মেয়ে নিজের শখের জন্যই উদ্ভট জামা কিংবা সাজগোজ করে থাকে ! আর আমার এই বিশ্বাসের পিছনে অনেক সুন্দর আর চমত্কার কারণ রয়েছে !) আমরা বড়জোর তার দিকে তাকিয়ে থাকতে পারি সেইটা ড্যাবড্যাব করেই হোক কিংবা সরু চোখেই হোক অসুবিধা নেই কিন্তু তাকে ধরে উত্যক্ত বা ধর্ষণ কিন্তু করতে পারিনা ! আমাদের বাউন্ডারী সেই তাকিয়ে থাকা পর্যন্তই | এর বাইরে যদি কিছু করি তাই হবে অপরাধ !
এখন কিছু হালকা কথা বলি কোথায় জানি শুনেছি যারা ধর্ষণ বা ইভটিজিং এর সাথে জড়িত তাদেরকে যখন কাঠগড়ায় জিজ্ঞেস করা হয় কেন তুমি এই কাজ করলা ? তার সোজা-সাপ্টা উত্তর -মেয়েরা যৌন উদ্দীপক জামা পরিহিত অবস্থায় ছিল তাই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি !! আর এতে আমার দোষ কিসে ? সম্ভবত এর থেকেই যৌন উদ্দীপক জামা পড়াটাকে এইসব অপরাধের জন্য দায়ী করা হয় ! কাজেই, যারা একে সমর্থন করে তারা অতি দ্রুত নিজের অবস্থান সেই ধর্ষকের কাতারে ফেলানোর জন্য প্রস্তুত হোক এবং একইসাথে সেই ধর্ষক যারা এই কাজগুলো করে টালবাহানা মার্কা উত্তর দেই তারা প্রস্তুত হোক এই উত্তর দেবার "কেন ছোট মেয়েকে কিংবা বোরকা পরা নারীকে কিংবা .........আপনারা ধর্ষণ বা ইভটিজিং করে থাকেন ?"

এখন শেষ করব একট ছোট প্রশ্নের উত্তর দিয়ে অনেকেই হয়ত আমার উপরের চোরের গল্প শুনে মহাবিরক্ত তাদের বলছি কেন এইটা করা | একবার এক ব্লগে এক মানুষ এই ঘটনার সাথে চোরের ঘটনার তুলনা করেন আর তার বক্তব্য মোটামুটি এরকম "ঘর খোলা রেখে ঘুমালেত চুরি হবেই ! এইখানে দোষটা হলো সেই লোকের চোরের না !!" কাজেই যারা এখনো এই বিচিত্র জিনিস বিশ্বাস করে তাদের প্রতি আমার বদদোয়া হলো আপনাদের বাসায় অনেক বেশি চুরি হোক এবং আরো বেশি চুরি হোক !!


*ইভটিজিং* *ধর্ষণ* *ধর্ষক*

জান্নাতুল ফিরদৌস: কদিন আগে আমার এক বন্ধু ফেইসবুকে আমি সহ তার বেশ কিছু বন্ধুকে ট্যাগ করে জানালো সে খুব মিস করছে আমিও কি তাই করি কিনা ! আমি কিছুটা চিন্তায় পরে যাই -আমি যা বলব তাই সে বিশ্বাস করবে কিনা ! করলেত বিষয়টা রীতিমত ভয়ংকর ! আমারতোতো মনে হয় না একটা সুন্দর সম্পর্কের জন্য কোনো চুক্তির প্রয়োজন হয় ! হয় কি ? কে জানে ........ !

*বন্ধুত্ব* *সম্পর্ক*

জান্নাতুল ফিরদৌস: একটি বেশব্লগ লিখেছে

কিরে ম্যাউ কেমন আছিস ? উত্তর আসলো "ম্যাউ" এর অর্থ ভালোও হতে পারে খারাপ ও হতে পারে ;আবার কে জানে হয়ত দুটোর মাঝামাঝি কোনো অবস্থান ও থাকতে পারে ! কিন্তু, আমি স্পষ্ট শুনলাম সে বলল "খামু" শুনে আমি মোটেও অবাক হলাম না কারণ আমি জানতাম এর বেশি কিছু সে বলবেনা ,সে খেতে খুব পছন্দ করে কিনা !

ম্যাউ নামটা আমার দেয়া | বিশেষ কোনো কারণ ছিলনা ,কারণ বলতে যা ছিল সে ম্যাউ বলে ডাকত দেখে আমি তাকে সেই শব্দেই ডাকতাম | একটা পর্যায়ে আবিষ্কার করলাম তার একটা নাম দেয়ার প্রয়োজন কিন্তু ততক্ষণে খুব দেরী হয়ে গেছে কারণ সে কিছুটা বড় হয়ে গেছে আর তাছাড়া সে এই নামেই দেখি স্বাচ্ছন্দবোধ করে

তার সম্পর্কে কি কিছু বলব ? সত্য না বানিয়ে বানিয়ে ? আচ্ছা সত্যই বরং বলি !! তার সাথে আমার পরিচয় আমাদের বাসার ছাদে | বেচারার খুব শুকনো ,টিঙটিন্গে ,একেবারে হাড্ডিসার অবস্থা | আমার ছোট ভাই কোথা থেকে জানি তাকে জোগার করে নিয়ে আসলো | আর তারপরেই তার অবস্থান বাসার ছাদে | নিয়মমাফিক আমি সকালে ছাদে গিয়ে ব্যায়াম করতে গিয়ে তার সাথে পরিচয় হয় | আমি নিয়মমত কিছুক্ষণ জগিং করতে লাগলাম ,কিছুক্ষণ পর হটাত খেয়াল করি সেও আমার পিছন পিছন দৌড়াচ্ছে ! আক্ষরিক অর্থে তাকে হয়তবা দৌড়ানো বলা যায়না কারণ সে কিছুক্ষণ পরেই ব্যালান্স হারিয়ে পরে যাচ্ছিল | হয়তবা মেঝেটা বেশ পিচ্ছল হতে পারে ! আমি তাকে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে পরের দিন আবার আসলাম এবং যথারীতি জগিং এবং তার একই কান্ড | কিন্তু একটা নতুন জিনিস আবিষ্কার করলাম তার পাতে দেয়া গতকালের রাখা সাদা ভাত আর আজকের মাঝের পরিমানের কোনো পার্থক্য নেই ! বুঝলাম ছোট ভাই তাকে সাদা ভাত দিয়েই আপাতত ক্ষান্ত ,কে জানে নতুন কোনো বিষয় নিয়ে এখন ব্যস্ত !কি মনে হলো সবকিছু বাদ দিয়ে তাকে কোলে নিয়ে মঝেতে বসে পড়লাম ,কিছুক্ষণ আদর করলাম ,মনে হলো সে পুরোটুকু উপভোগ করছে | মাকে জানলাম বিড়ালটাকে বাসায় আনতে পারি কিনা ? এর মাঝে আমার বড় এক আপু তা শুনে বলল "সে এমনিতেই ছোট,শুকনো আর তাছাড়া তার হয়তবা শ্বাসকষ্ট থাকতে পারে, সে এমনিতেই মারা পড়বে !" যাইহোক ,অবশেষে বুঝিয়ে তাকে ছাদ থেকে গ্যারাজে আনা হলো খাবার দেয়া হলো স্বাস্থ্য ঠিক হলো এবং তার ৫ মাস পর আমাদের বাসায় ভিতরে তার আসন স্থায়ী হলো |আমার সেই বড় আপুর প্রফেসি এই যাত্রা হয়ত বেচে গেল !!

আরো যখন দেড় কি দু বছর গেল আমি আবিষ্কার করলাম তাকে দেখতে একটু বয়স্ক লাগছে ,কিছুটা গাম্ভীর্য এসেছে |তবে,খাবার নিয়ে ছেলেমানুষী যথারীতি আছে ! গুগল করে দেখলাম তার বয়স এখন মানুষের হিসেবে প্রায় ২৮ বছরের মত হবে | বিষয়টা ঠাট্টা নাকি সিরিয়াস তা জানিনা তবে,আমি বুঝলাম সে অন্ততপক্ষে আমার থেকে বয়স্ক; কাজেই তাকে সম্মান করতে হবে ! তাকে ম্যাউ থেকে ডাকা শুরু করলাম "বুইড়া ম্যাউ" ! অনেকের আপত্তি থাকলে আমি দেখলাম সে বেশ ভালোভাবে মেনে নিয়েছে | মাথা ঘুরে আমার দিকে তাকিয়েই তার প্রতুত্যুর দিয়েই সে তার প্রমান দিয়েছে ,মাঝেমধ্যে একেবারে সামনে চলে এসে পা ঘসাঘসি করে; আমার কেন জানি তখন খুব অস্বস্তি বোধ করত যদিও এই বিষয়টার সাথে আমি আগেই পরিচিত ছিলাম |
আগে যেমন তাকে সাথে নিয়ে খাওয়া-দাওয়া ,ঘুমোনো কিংবা কোনো মজার মুভি দেখার মত কাজ করতাম তা যথারীতি চলল | কিন্তু,মুভি দেখার সময় মাঝেমধ্যে আসা অপ্রাসঙ্গিক ছবিগুলো আগে যেমন শুধু সে থাকলে কেটে দেবার প্রয়োজন অনুভব করতাম না এখন কেন জানি তা করছি | আমার দৃঢ় বিশ্বাস সে সব বুঝতে পারে |

একদিনের ঘটনা বিকেলে বাইরে থেকে এসে দেখি মায়ের মন খারাপ ,শুনলাম ম্যাউ নাকি অন্যরকম আচরণ করছে | ঘটনা শুনে যা জানলাম মা নাকি তাকে বাইরে বের করেছিল তারপরেই দুপুরের দিকে আমাদের বাসার দরজার সামনে তাকে ছোট ভাই আবিষ্কার করে | সে চিত হয়ে শুয়ে আছে সারা শরীর কাদা-মাখা ,আশেপাশে তার বমি আর মুত্র | তাকে ধরাধরি করে এরপর বাসায় নিয়ে আসে | আমি সব শুনে তারাতারি উপরে গিয়ে দেখি সে বিছানায় চিত হয়ে শুয়ে আছে, মুখ হা করে কিভাবে জানি নিশ্বাস নিচ্ছে ,সাথে মুখ দিয়ে গড়িয়ে রক্ত বের হচ্ছে | ডাকলাম "বুইড়া ম্যাউ" কোনো সারা নেই শুধু মুখ হা করে স্বাস নিচ্ছে | তারাতারি পশু হাসপাতালে নিয়ে গেলাম |সব খুলে বললাম | কিন্তু এর আগেও ঠান্ডা কিংবা জ্বর হলে যেসব পরীক্ষা করত তাই করা শুরু করলো একটা থার্মোমিটার দিয়ে মেপে বলল "তাপমাত্রা কম শরীর গরম করতে হবে !" আমি একটু বিরক্ত হয়েই বললাম এর জন্য মুখ দিয়ে রক্ত পরে কি ? আমার কথা শুনে স্টেথিস্কপ্ দিয়ে কি জানি শুনলো তারপর বলল "ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে ?" প্রত্যুত্যুর হ্যা শুনে বলল একটা টিকা দিয়ে হবে | তাও দিলাম | তারপরে ফী দেবার পর ডাক্তার হটাত করে বলল -"আল্লাহ-খোদার নাম নেন ,এরকম ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ মারা যায় ,এর আগেও হইসলো ওরটা আরো খারাপ !" এইটা বলে জটিল একটা বিদঘুটে নাম বলে বলল ওর ঐটা হইসে | আমি বললাম সে ফিসিক্যালি ব্যথা পেয়েছে সে সকালেও ঠিক ছিল | শুনে তার সেই আবারও পুরনো বক্তব্য "আল্লাহ-খোদার নাম নেন" আমি হটাত করে বুঝলাম আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছিনা একটা ছুরি দরকার ,হ্যা একটা খুন করার জন্য,একজন এবং সম্ভবত একমাত্র মানুষকে খুন করার জন্য !
সি.এনজি করে বাসায় আসছি হটাত আমার ম্যাউ খুব ছটফট করছিল ,আর কিছুক্ষণ পরেই খুব শান্ত | ,সম্ভাবনা রাখলাম সে এখন ক্লান্ত | বাসায় এনে তারাতারি বিছানায় শুয়ে দিলাম দেখি সারা-শব্দ নেই | তার সাথে একটা পুরনো খেলা খেলতাম তার চোখের মনিতে হাত দেবার চেষ্টা করতাম ,সে তখন সাথেসাথে চোখ বন্ধ করে ফেলত কিন্তু কই এখন তো করছেনা ? ডাকলাম "বুইড়া ম্যাউ" ......"বুইড়া ম্যাউ"......"বুইড়া ম্যাউ"

আচ্ছা বুইড়া ম্যাউ এর পরিচয় কি ছিল ? আমিতো একবার খেয়াল করলাম আমি আমার মাকে বলছিলাম "ছোট মানুষের উপর রাগ করতে নেই আমরাও ছোটবেলায় কত বাথরুম করতাম ,কিংবা জ্বালাতন করতাম |" আমি জানি তার মৃত্যুতে কারো কিছু যাবে আসবেনা কিংবা কিছু বুদ্ধিজীবিরা হয়ত সেই বিদঘুটে নামের রোগের কথা বলেই ক্ষান্ত হবে | কিন্তু আমি কি চেষ্টা করতে পারিনা ? আমি কি বলেছি সে কখনো আমাকে একটা আচর পর্যন্ত দেইনি ? আমি লক্ষ্য করতাম সে তার নখগুলো গুটিয়ে রাখত ,এমনকি ভুল করে হলেও দেয়নি ! কামর শব্দটা বরং দুরে থাক !বলেছিলাম কি সে কখনো আমাকে ছেড়ে চলে যায়নি ? বলেছি কি প্রতিটা মুহুর্তে আমার সাথে ছিল ? এমনকি তার বয়স আমার চেয়ে কম থাকতে বাথরুম পর্যন্ত আমি তার সাথে করেছি | তার আরো অনেকগুলো বিষয় আমাকে অভিভূত করত | সৃষ্টিকর্তার কাছে শুধু প্রার্থনা তাকে যেন খুব ভালো একটা বেহেশত দেয় | আচ্ছা সৃষ্টিকর্তা কি শুধু মানুষকেই বেহেশত পাঠায় ? যদি তাই হয় তাহলে তার কাছে মানুষের সংজ্ঞা কি ? যাকগে,আমি জানি অন্ততপক্ষে সৃষ্টিকর্তা আমাকে নিরাশ করবেনা ,আমার তার উপরে একটু অন্যরকম অগাধ বিশ্বাস কিনা !

*সাধাসিধেকথা* *আমারম্যাউ*
৫/৫

জান্নাতুল ফিরদৌস: এইটা তো বেশতই নাকি ? গুড ! নতুন টাইটেল ,নতুন হোম পেজ, নতুন বেষ্টুন ,আসলেই বেশতো ! (খুশী২) আর কিছু কি আছে যা আমি মিস করছি ? (চিন্তাকরি)

জান্নাতুল ফিরদৌস: অনেকদিন পর এসে খুব ভালো লাগছে যে নতুন অনেক ইউজার বেশততে এসেছে; এসেই যে আবার ভেগে যাচ্ছে বিষয়টা সেরকম না বরং পুরো বেশতো মাতিয়ে রাখছে | আমি ঠিক এরকম একটা মুহুর্তের জন্য অনেক আগে থেকে চেচামেচি করে আসছিলাম ,ঠিক এরকম একটা জিনিস চাচ্ছিলাম | বাকি হলো তাদেরকে বুঝে চলা ,তাদের সহযোগিতা করা আমি আশা করব সবাই অনুরোধটুকু রাখবে (হ্যান্ডশেক) জয় হোক বেশতর (হাসি)

*বেশতো*

জান্নাতুল ফিরদৌস: আজকে আমার এক বাজে অভ্যাসের কারণে বিচিত্র জিনিস আবিষ্কার করলাম ! তাহলো- "আমার বাসার সিড়ির কাছে রাখা টবের পাশে Alooz চিপস পরে যাবার পর তা উঠিয়ে খেলে অমৃতের মত মনে হয় "(ইয়েয়ে) সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নিজেই ইচ্ছাকৃতভাবে আরো দুটো চিপস ফেলে খেয়ে দেখলাম (ছেড়েদেশয়তান) নাহ ! বেশ ভালই কাজ করছে ! (কিলক্ষ্মী)

*চিপস* *এক্সপেরিমেন্ট*

জান্নাতুল ফিরদৌস: আমরা সারাজীবন একটা সুত্র শিখে এসেছি তাহলো-"কারো প্রতি ভালোবাসা বেশি থাকলে আশা-আকাংখা এবং অভিযোগ বেশি থাকে" আমার মনে হয় এখন এর উন্নত সংস্করণে যাওয়া উচিত সেইক্ষেত্রে নতুন যোগ হবে-"তার খারাপমুহুর্তে শুধু অভিযোগ না করে পাশে থেকে সাহস দেয়ার মানসিকতাও থাকা দরকার" যেহেতু শিখে ফেললাম তাহলে কেমন হবে যদি এই নতুন সুত্র আমরা কোথাও এপ্লাই করি ? এই যেমন *বেশতো* (খুকখুকহাসি)

*বেশতো*

জান্নাতুল ফিরদৌস: বেশততে লগইন করেই একটা ধাক্কার মত খেলাম ! একটা "massive energy" সেন্স করতে পারলাম ! না ! এইটা *বেশতো-মাফিয়া*র কারণে না ,আমার ধারণা অন্য কিছু !! (চিন্তাকরি) Is it because of you ...... রনি ভায়া ? [@RonyRahman] (চিন্তাকরি)

জান্নাতুল ফিরদৌস: Robin williams আমি জানি আপনি আমাকে মোটেও চিনেন না ! নাহলে,নিশ্চয় জানতে পারতেন আমি আপনাকে কতটা শ্রদ্ধা করি ! আপনি পৃথিবীর সেরা অভিনেতা এবং কমেডিয়ানদের একজন এবং আমি নিশ্চিত এতে কোনো ভুল নেই (খুকখুকহাসি) ভালো থাকবেন (শ্রদ্ধা-১)

জান্নাতুল ফিরদৌস: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ঘোরাঘুরি আমার বেশ পছন্দের ,আর আমার সব ঘোরাঘুরিগুলোই থাকে উশৃঙ্খল ! এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উশৃঙ্খল আমার কাছে যেইটা মনে হয়েছে তার গল্পই এখানে করা হলো !
ভ্রমনটা বাংলাদেশের মধ্যেই ,আর ঘোরাঘুরির জায়গাগুলো হলো যথাক্রমে আমার মায়ের গ্রামের বাড়ি (ফেনী), কক্সবাজার আর রাঙামাটি ! তবে,যেইটা বিস্ময়কর আর যার কারণে পুরো ভ্রমনটাকে আমি উশৃঙ্খল বলছি সেইটা হলো আসা যাওয়া এবং ঘোড়াঘুরি নিয়ে মোট সময় হলো মাত্র ৩ দিন !!

যাইহোক,বরাবরের মতই বিশাল এক "গ্যাং" ঠিক করলাম এই ঘোড়াঘুড়ির জন্য এর মধ্যে রয়েছে আমার মামার পুরো ফ্যামিলি এবং মামীর আপন বোন সহ তার আরেকটা ছোট "গ্যাং" , আমরা ,আমার এক খালার পুরো ফ্যামিলি ! ঠিক করলাম যে যার প্রাইভেট গাড়ি করে নির্দিষ্ট দিনে একেবারে সকালে রওনা দিব এবং প্রথম গন্তব্যস্থল হলো আমার মায়ের বাড়ি ফেনী ! বলাই বাহুল্য আমার মা অত্যন্ত খুশি ,মানুষটা ঘোড়াঘুরি এত বেশি পছন্দ করে যা আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয় ! মাঝেমধ্যে আমি চিন্তায় পরে যায় তার জিনোমে হয়ত কিছু ক্রুটি রয়েছে ,বিশেষ করে ভ্রমন সংক্রান্ত কোনো জ্বিন যদি আমাদের শরীরে থেকে থাকে !!
এইটাকে আমি একটা পারফেক্ট ভ্রমন বলব কারণ,বেশিরভাগ সময়টাই আমরা যানবাহনে কাটিয়েছি কোনখানে ধীরস্থিরভাবে ধৈর্য নিয়ে বলতে গেলে বসায় হয়নি | আর,ভ্রমনটাকে নতুন আরেক মাত্রা দেয় যখন ড্রাইভার হিসেবে আমার বড় ভাই থাকে যার ড্রাইভিং স্কিল নিয়ে তেমন কিছু বলার নেই (সম্ভবত আমর বাবর জ্বিন থেকে পেয়েছে !) তবে,আমার বিশ্বাস সে চাইলে হয়ত "ফর্মুলা ১" এর একজন পেশাদার রেসার হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারত !!
একেবারে সকালে রওনা দিয়ে দুপুরে গিয়ে পৌছলাম আমাদের ফেনীতে সেখানে দুপুরের খাবার খেয়ে , কিছু সময় জিরিয়ে সাথেসাথেই রওনা দিলাম কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ,যদ্দুর মনে পরে সেখানে গিয়ে পৌছলাম প্রায় রাত ২.৩০ অর্থাত মধ্যরাতে আর উঠলাম হোটেল মিডিয়াতে ! এরপর খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে বিচে গিয়ে কিছু দৌড়-ঝাপ (এই অংশটুকু আমিই একমাত্র মানুষ যে স্কিপ করেছি !) এরপরে দুপুর বারোটার পরেই হোটেল ছেড়ে রওনা দিলাম রাঙামাটির উদ্দেশ্যে ! বলতে বাধা নেই এই অংশটুকু আমার বেশ ভালো লেগেছে কারণ,পৌছতে গিয়ে একেতো রাত তারপরে উঠছি পুরো খাড়া পাহাড় বেয়ে ! কিছু কিছু জায়গায় উঠতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল ,দেখছিলাম সেসব জায়গায় আমার ভাই এসি বন্ধ করে দিচ্ছিল ,হয়ত ইঞ্জিন যেন বাড়তি শক্তি পায় এই কারণেই করা ! মাঝেমধ্যে মনে হচ্ছিল "যদি কোনভাবে পরে যাই তাহলে ?" সত্যি বলছি এরকম মনে হবার বেশ যুক্তিসঙ্গত কারণ ঘটেছিল ! যাইহোক,আমরা কেউই পাহাড় থেকে টুপ করে পরে গেলাম না | অবশেষে পৌছলাম ! এই জায়গাটাতে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল তা নিয়ে বিস্তারিত আর বলছিনা তবে,কারণ,হিসেবে মাত্রাতিরিক্ত গরমটাকেই দাবি করা যায় | সেখানে রাতে থেকে আবার খুব ভোরে রওনা দিলাম ,তবে,বাসার উদ্দেশ্যে ! তবে,যাওয়ার আগে থেমে থেমে কিছু জায়গায় ঘুরে আসছিলাম আর ছবি তুলছিলাম ,যেগুলোর কোনটারই কোনো বিশেষ নাম আছে কিনা জানিনা কিংবা কে জানে হয়ত শুধু আমিই জানিনা !
এই ছিল আমার সবচেয়ে উশৃঙ্খল ভ্রমন ! বিষয়টাকে লিখে হয়ত বোঝানো সম্ভব না অনুভূতিটা কিরকম ,আর আমার লেখার হাত আবার এই বিষয়েও তেমন ভালো না ! নাহলে আমি নিশ্চিত সবার এতক্ষণে বুঝে যাওয়া উচিত যে এভাবে ভ্রমন না করাই ভালো ! যারা অভ্যস্থ নয় তারা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে ! আমরা যেহেতু এভাবে অভ্যস্থ তাই হয়ত হয়নি কিন্তু বাইরে থেকে আসা মানুষগুলো কিন্তু ঠিকই হয়ে গেল ! তাই অনুরোধ করব ঘুরতে যাবার আগে বেশ কিছু সময় নিয়ে যাবার জন্য ! আর এসব জায়গায় ঘোরার মত অনেক কিছুই রয়েছে এত অল্প সময়ে আসলে হয়ত কারোই তেমন ভালো লাগবেনা !
*ভ্রমন* *রাঙামাটিভ্রমন*

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

আজকের
গড়
এযাবত
৩,১৬১

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

+ আরও