মৃন্ময়ী সাবিহা

@Kolpokotha

লিখতে না জানলেও কোন একদিন বড় লেখিকা হওয়ার স্বপ্ন দেখি.......... :)
business_center শখের লেখক
school রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
location_on রাজশাহী
1368806785000  থেকে আমাদের সাথে আছে

মৃন্ময়ী সাবিহা: (কেক)(কেক) শুভ জন্মদিন প্রিয় বেশতো (কেক)(কেক) অনেক অনেক ভালবাসা(হার্ট)(হার্ট)

মৃন্ময়ী সাবিহা: একটি নতুন উত্তর দিয়েছে

 বইমেলা ও হুমায়ূন আহমেদ ওতপ্রোতভাবে জড়িত ৷ বইমেলার সময় কীভাবে তাঁকে স্মরণে রাখা যায়?
মৃন্ময়ী সাবিহা: যুদ্ধোত্তর বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ। আমাদের শৈশব, কৈশোর, তারুণ্যে মিশে আছেন তিনি। তিনি সর্বদায় আমাদের মনে আছেন। তবুও আমার মনে হয়, বইমেলা কর্তৃপক্ষ হুমায়ূন আহমেদের নামে একটি প্...বিস্তারিত

২৩ টি উত্তর আছে

*বইমেলা* *হুমায়ূনআহমেদ*

মৃন্ময়ী সাবিহা: একটি নতুন উত্তর দিয়েছে

 প্রিয় মানুষকে উপহার দেবার জন্য ভালো কিছু প্রেমের উপন্যাস কি কি হতে পারে?
মৃন্ময়ী সাবিহা: সবার আগে জানা প্রয়োজন আপনার প্রিয় মানুষটি কি ধরনের বই পছন্দ করে। তার প্রিয় জনরার বই উপহার দিলে সে অবশ্যয় খুশী হবে। তবে আপনি যদি তাকে প্রেমের উপন্যাস উপহার দিতে চান, তবে রবীন্দ্রনাথের "শেষের কবিতা" দিত...বিস্তারিত

৩০ টি উত্তর আছে

*প্রেমেরউপন্যাস* *উপহার*

মৃন্ময়ী সাবিহা: একটি নতুন উত্তর দিয়েছে

 আপনার প্রিয় লেখক কে এবং কেন? তাঁর কোন লেখা আপনার মন কেড়েছে?
মৃন্ময়ী সাবিহা: সবাই কাছের মানুষ হয় না, কেউ কেউ হয়। মানুষের মানবিক সম্পর্কের টানাপড়েনে জীবনের সমীকরণটা পাল্টে যায়। জীবন জটিল এবং জটিল থেকে জটিলতর, এ উপলব্ধি মানুষ মাত্রই বহুমাত্রিক আলোকে বুঝতে শেখে। সবাই কাছের মানুষ ...বিস্তারিত

৬৮ টি উত্তর আছে

*প্রিয়লেখক* *বইমেলা* *লেখক*

মৃন্ময়ী সাবিহা: একটি নতুন উত্তর দিয়েছে

 বাচ্চাদের মেধা বিকাশের জন্য কি ধরনের বই কেনা যেতে পারে?
মৃন্ময়ী সাবিহা: শিশুরা অনুকরণ প্রিয়। তাই তাদের বই নির্বাচন করার সময় সব দিক লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। তাদের এমন কোন বই দেয়া উচিৎ নয়, যা তাদের মানসিক বিকাশে বাধা দিতে পারে। ছোটদের বইয়ের প্রতি ছোট থেকেই আকৃষ্ট করা উচিৎ। সাম্...বিস্তারিত

৫৯ টি উত্তর আছে

*শিশুদেরবই* *বাচ্চাদেরবই* *বইমেলা* *বই*

মৃন্ময়ী সাবিহা: একটি নতুন উত্তর দিয়েছে

 বাংলাদেশ কোন দেশের সাথে শততম ওয়ানডে জয়লাভ করে ?
*বিসিএসপ্রস্তুতি* *চাকরিরপ্রস্তুতি* *সাধারণজ্ঞান* *বাংলাদেশবিষয়াবলি* *আন্তর্জাতিকবিষয়াবলি*

মৃন্ময়ী সাবিহা: হ্যাপি নিউ ইয়ার(তালি) নতুন বছর সবার আনন্দ আর সাফল্যে পূর্ন হোক(খুবকিউটলাগছে)

মৃন্ময়ী সাবিহা: [পিরিতি-তোমারজন্য] শুভ বড়দিন। ভাল কাটুক সকলের জীবন(খুবকিউটলাগছে)

মৃন্ময়ী সাবিহা: [পিরিতি-আরকরুমনা] আবছায়া চলে যায় হিজলের দিন অভিমান জমে জমে আমি ব্যথাহীন

মৃন্ময়ী সাবিহা: [ঈদ-সাজ] সকল কে জানাই ঈদের শুভেচ্ছা (তালি)

মৃন্ময়ী সাবিহা: [গ্রীষ্ম-ঝড়োহাওয়া] নোটিফিকেশন ঝড়ে উড়ে গেলাম (ব্যাপকটেনশনেআসি)(খিকখিক) @nafisaanjumrafa

মৃন্ময়ী সাবিহা: বেশতো তে এসেছি প্রায় চার বছর। অনেক দীর্ঘ সময়। বেশতো জীবনেও ঘটেছে উথান - পতন। তবুও সোনালী অতীত সবসময় টানে। আহা! বেশতো তে সেইদিনগুলো কি মধুরই না ছিল!! (মনখারাপ)

মৃন্ময়ী সাবিহা: একটি বেশব্লগ লিখেছে

পর্ব : ২

চৌধুরী ইসহাক সাহেব বড় বাড়ির ছেলে। রূপসাপুর গ্রামের চেয়ারম্যান ছিলেন বহুদিন। শফিক তখন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র। রুমা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। তাদের বাড়িটি গ্রামে চেয়ারম্যান বাড়ি হিসেবেই পরিচিত ছিল। সারাদিন নানান লোকের আনাগোনায় সরগরম থাকতো বাড়িটি।ইসহাক সাহেবের দুই পূর্বপুরুষও ছিল জমিদার। বংশ পরম্পরায় তারা ছিল গ্রামের ঐতিহ্যবাহী পরিবার।
সেসময় তাদের বাড়িতে থাকত শফিকের এক বন্ধু, জাহিদ। অনাথ, দরিদ্র এই ছেলেটিকে ইসহাক সাহেব দয়া দেখিয়ে নিজ বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন। গ্রামের সরকারী কলেজে অনার্স পড়ার পাশাপাশি ইসহাক সাহেবের বাড়ির নানান কাজে সাহায্য করা, আর সকাল - সন্ধ্যে দুই বেলা রুমাকে পড়াশুনো করানো, এইছিল তার কাজ। তবে রুমাকে পড়াতে গিয়েই বাঁধল বিপত্তি। চুপিচুপি দুটি মন কখন যে এক সূঁতো বাঁধা পড়ে গিয়েছিল, তা কেউ জানতে পারেনি।
হঠাত্‍ একদিন উধাও হয়ে গেল তারা দুইজন। এক সকালে রুমার খোঁজ না পেয়ে চমকে উঠলেন আশফাকুন নেসা। অজানা আশংকায় কাঁপুনি এলো তার শরীরে। তারও মাস কয়েক আগে থেকে রুমা আর জাহিদ কে নিয়ে কিছুটা সন্দেহ দানা বেঁধেছিল তার মনে। সেই সন্দেহ যে কোনদিন এইভাবে সত্যি হয়ে যাবে, তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি তিনি। কুকথা বাতাসেরও আগে চলে। এ ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটলো না। বেলা হতেই ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ল চারিদিকে। ইসহাক সাহেব সবদিকে লোক লাগালেন। তবে গ্রামের আঁনাচে কাঁনাচে কোথাও তাদের সন্ধান মিললো না। এই দুর্নাম আর কেলেঙ্কারীতে পুরোপুরি স্তম্ভিত হয়ে গেলেন তিনি। পাথরের মত শক্ত মানুষটি এক ঝটকায় কাঁচের মত হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল।
এইঘটনার মাস তিনেকের মধ্যে ইসহাক সাহেব রূপসাপুর ছাড়লেন। বহুদিনের পৈত্রিক ভিটেমাটি জলের দামে বিক্রি করে শহরে বসবাস শুরু করলেন। রুমা আর জাহিদের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল আরো পরে। তারা পালিয়ে গিয়ে সংসার পেতেছিল। তবে ইসহাক সাহেব আর কোনদিনও মেয়ের মুখ দর্শন করেননি। তিনি যতদিন বেঁচে ছিলেন, রুমার সাথে বাড়ির কারো কোন সম্পর্ক রাখতে দেননি। সেসব অনেকবছর আগের কথা।
ইসহাক সাহেব মারা যাওয়ার পরপরই রুমা তিনমাসের তুলতুলকে নিয়ে বাসায় এসে ওঠে। চৌধুরী আশফাকুন নেসা স্বামীর মত দৃঢ় হলেও, মাতৃত্ব তাকে টলিয়েছিল অনেকখানি। তিনি পারেননি মেয়ের থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখতে। তাই সব ভুলে বুকে টেনে নিয়েছিলেন তাকে ।

রান্নাঘরের টুকটাক কাজ গুলো করতে গিয়ে একটু একটু করে অতীতগুলো পাপড়ি মেলছিল রুমার মনের ভেতর। এবার তুলতুল ছয়- এ পড়ল। ঠিক ছয় বছর আগে তুলতুল যখন তার কোল জুড়ে এলো, তখনও তাদের সংসারের অবস্থা বিশেষ ভাল নয়। জাহিদ একটা প্রাইমারি স্কুলে চাকরি নিয়েছে। তাতে দুজনের দিনগুলো কেটে গেলেও বিশেষ কোন উপলক্ষ্য এলেই পড়তে হত টানাপোঁড়েনে। সারাজীবন আরাম-আয়েশে বড় হয়ে ওঠা রুমা, প্রতিনিয়ত সাধ আর সাধ্যের যাঁতাকলে পিষ্ট হতে গিয়ে ভেতরে ভেতরে হাঁপিয়ে উঠেছিল। তাই সুযোগ পেয়ে নিজের পুরোনো জীবনে ফিরে আসতে সে একমূহুর্ত দেরী করেনি। তবে বাঁধ সাঁধলো জাহিদ। তার এক কথা, ঘরজামাই হয়ে তার পক্ষে থাকা অসম্ভব। জাহিদের কথা মনে হতেই একটা পুরোনো রাগ এক ঝটকায় জেগে ওঠে তার মধ্যে। প্রথম যখন জাহিদের হাত ধরে ঘর ছেড়ে বেরিয়েছিল, তখন তার চোখে ছিল কেবলই রঙিন স্বপ্ন। সে কি কখনো জানত, জীবন তাকে এইভাবে আঁছড়ে ফেলবে? সে কি সারাজীবন প্রাইমারী স্কুলের মাস্টারের বউ হয়ে থাকার জন্য এত রূপ নিয়ে জন্মেছে? হেঁসেলে হাড়ি ঠ্যালা যে তার কর্ম নয়, তা জাহিদের আগেই বোঝা উচিত্‍ ছিল। এ নিয়ে তার সাথে রুমার কম ঝামেলা টা হয়নি। রুমা বাবার বাড়িতে আসার পরও জাহিদ, বহুবার তাকে বাসায় ফিরিয়ে নিতে চেয়েছে। কিন্তু সে ফেরেনি। ধীরে ধীরে বেড়েছে দূরত্ব। শেষ মাস আটেক আগে জাহিদকে একবার চোখের দেখা দেখেছিল রুমা। তাও কয়েক মূহুর্তের জন্য। এখন সম্পর্কটা শুধু কাগজেই আটকে আছে। সেটা থেকেও এখন রুমা মুক্তির অপেক্ষায় দিন গুনছে।

- আপামনি, আমারে কিছু করন লাগবো? হাতে হাতে কাজ গুলান কইরা দিই?

হঠাত্‍ লতিফার কথায় চমকে উঠল রুমা। কি সব ছাইপাশ কথা ভাবতে ভাবতে কতক্ষন যে এখানে ঠাঁই দাড়িয়ে আছে, ভুলেই গেছে সে।

রুমাকে চুপ থাকতে দেখে লতিফা আবার বলে উঠল,

- ভাবীজান, ক্যাইল রাতেই রান্নার সবকিসু জোগাড় দিয়া রাখসে। আমি ব্যাইর কইরা দিই? আপনি রান্ধেন।

লতিফার কথায় মেজাজটা ভয়ানক খারাপ হলো রুমার। লতিফাকে কড়া একটা ধমক লাগিয়ে বলল,

- তোকে আমার কাছে মাতবরী করতে পাঠিয়েছে কে? তোর ভাবী? আমি কি কাজকর্ম কিছুই পারিনা? যা ভাগ সামনে থেকে।

মুখ কাচুমাচু করে দ্রুত সরে পড়ল লতিফা। এই বাড়ির সব মানুষগুলোর মেজাজই সবসময় সপ্তমে উঠে থাকে। কারো সাথে দু দন্ড কথা বলার জোঁ নেই। শুধু ব্যতিক্রম হেমা। কনক্রিটের এ নগরীতে সে যেন সত্যিকার মাটির মানুষ।

রান্নাঘরে কিছুক্ষন ঘুরেফিরে কোনই সুবিধে করতে পারল না রুমা। রান্নাটা তার কোন কালেই শেখা হয়নি। আর এবাড়ির রান্নাঘরমুখো সে হয়নি কখনোই। ঘন্টাখানেক এ অসাধ্য সাধনের বৃথা চেষ্টা করে অবশেষে হাল ছেড়ে দিয়ে সে বেরিয়ে এলো। নিজের অকর্মন্যতার সব রাগ গিয়ে পড়ল হেমার উপর। তার মেয়ে, তার বাবার বাড়ি, আর এ সবকিছুর উপর কর্তৃত্ব চালাবে পরের বাড়ির মেয়ে, এটা কি সহ্য করার মত? মোটেই না। সে যতই রান্না না পারুক, তবুও তুলতুলের জন্মদিন নিয়ে তাকে কিছুতেই আদিখ্যেতা করতে দিবে না।
নিচের ঠোট কামড়ে কিছুক্ষন ভাবল রুমা। তারপরই ফোনটি হাতে নিয়ে শফিকের নম্বরে ডায়াল করল... ( চলবে )

*হিয়ারমাঝেতুমি*

মৃন্ময়ী সাবিহা: একটি বেশব্লগ লিখেছে

নিজের লেখা একটি ধারাবাহিক  গল্প। আজ প্রথম পর্ব দিলাম। কেউ পড়তে আগ্রহী হলে পরবর্তী পর্ব দেয়া হবে 

পর্ব : ১
হেমার যখন ঘুম ভাঙল, প্রকৃতি তখনও গভীর নীরবতায় আচ্ছন্ন। ফজরের ওয়াক্ত চলছে। হেমা প্রতিদিনই এইসময় ঘুম থেকে ওঠে। ওজু করে নামাজ পড়ে।তারপর রান্নাঘরে গিয়ে কড়া লিকারের চা বানায়। চায়ের কাপ হাতে নিয়েই সে ছাদে চলে আসে। নন্দন কাননে দোলনায় বসে দুলতে দুলতে চা খায় আর রবীন্দ্র সঙ্গীত শোনে। এই তার প্রতিদিনের রুটিন। ভোরের আবছা আকাশে লালিমা ছড়িয়ে টকটকে লাল সূর্যটা যখন উকিঁ দেয়, হেমা মুগ্ধ হয়ে দেখতে থাকে। শহরের উপকন্ঠে হেমাদের এই দেড় তলা বাড়িটি এলাকার অনেকেরই আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দু। এই বাড়ির গোড়াপত্তন করেছিলেন হেমার শ্বশুর চৌধুরী ইসহাক হক। ১০কাঠা জমির ৬কাঠার উপর তাদের বাড়ি। চারিদিকে মেহেগনি আর আমের গাছ।বাড়ির মূল গেট থেকে অন্দরমহল অবধি দশ কদমের রাস্তা। সে রাস্তার এক পাশে বিশাল কৃষ্ণচূড়া গাছ। গ্রীষ্মের শুরু থেকেই গাছে ফুটতে শুরু করে লাল রঙের ফুলগুলো। আর ঝরে যাওয়া ফুলগুলো লাল গালিচা বিছিয়ে দেয় রাস্তা জুড়ে। রাস্তার অপর পাশে ছোট একটা দিঘি। সেই দিঘি জুড়ে বড় বড় পদ্ম পাতার সমারোহ। হেমার নীল পদ্মের শখ বহুদিনের। অনেক পরিশ্রম করে বছর দুয়েক আগে নীল পদ্মের শেকড় পুঁতেছিল দিঘির অতলে। তবে এখন অব্দি ফুলের দেখা মেলেনি।
ইসহাক সাহেব প্রথম যখন এই বাড়ি করেছিলেন, তখন এটি একতলা ছিল। হেমার বিয়ের পর তার স্বামী শফিক বাড়িটি ভেঙে ডুপ্লেক্স বানিয়েছে। তবে দোতলায় অনেকটা অংশ খোলা রেখে দিয়েছে। হেমার বরাবরই বাগান করার নেশা। তাই সুযোগ পেয়ে সে আর এক মুহুর্ত দেরী করেনি। তার নিপুন হাতে একটু একটু করে গড়ে তুলেছে নন্দন কাননটি। পুরো বাগান গোলাপ আর রজনীগন্ধা দিয়ে সাজানো। আর মৌসুম অনুযায়ী ফুলের বাহার তো আছেই। সারাবছরই বিচিত্র সব ফুলে রঙিন হয়ে থাকে বাগানটি। ক্লান্ত পথচারীরা এই পথ দিয়ে যেতে গিয়ে, মুহুর্তের জন্য হলেও থমকে দাঁড়ায়। অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে এই নন্দন কাননের দিকে।
চা খাওয়া শেষ হওয়ার আগেই নিচতলা থেকে শোরগোল কানে আসে হেমার। দোতলার দুটো ঘরের একটি তে হেমা আর শফিক থাকে। হেমার শাশুড়ি চৌধুরী আশফাকুন নেসা বৃদ্ধ হয়েছেন। হাঁটা চলার অসুবিধার জন্য তিনি নিচতলার ঘরে থাকেন। তার পাশেই আরেক ঘরে থাকে হেমার ননদ রুমা। সিঁড়ি ভেঙে নিচে নামার সময় কথা গুলো কানে গেল হেমার,
- লতিফা, তোকে কতবার বলেছি, ভোর বেলা ওযুর জন্য আমি যেন গরম পানি পাই? এই বয়সে ঠান্ডা পানি সহ্য হয়না। কথা কি কানে যায় না তোর? এক ওয়াক্ত নামাজ পড়িস না। ভসভস করে ঘুমানো ছাড়া পারিস টা কি?
চৌধুরী আশফাকুন নেসা অনর্গল বলেই চলেছেন। হেমা কে দেখে কথায় কিছুটা খান্ত দিলেন তিনি।ইসহাক সাহেব মারা যাবার পর তিনিই এ বাড়ির সর্বময় কর্ত্রী। হেমা খোলা চুলগুলো কে আলগোছে হাত খোপায় বাধঁতে বাধঁতে বলল,
- মা, গরম পানি কাল রাতেই ফ্লাস্কে ভরে আপনার বিছানার পাশে রেখে এসেছিলাম। আপনাকে বারবার বলে দিয়েছিলাম । ভুলে গিয়েছিলেন মনে হয়। আসলে.,
হেমা আরো কিছু বলতে যাচ্ছিল। কিন্তু তার আগেই আশফাকুন নেসা বিড়বিড় করে কিছু একটা বলে ঘরের দিকে পা বাড়ালেন। বোঝা গেল, হেমার কথায় তিনি খুব একটা সন্তুষ্ট হননি। কোন এক অজ্ঞাত কারনে তিনি হেমাকে মোটেই পছন্দ করেন না। অথচ বিয়ের আগে তিনি নিজে গিয়ে হেমাকে পছন্দ করে এসেছিলেন। একটা সাতনরি হার গলায় পরিয়ে বলেছিলেন, অবশেষে আমার ঘরের লক্ষীর দেখা পেলাম। অথচ বছর পাঁচেক না পেরুতেই ঘরের লক্ষী তার চোখের বালি কেন হয়ে উঠল, তা হেমার অনেকটাই অজানা।
দোতলার ছোট্ট রান্নাঘরটি টুকটাক কাজে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বাড়ির নিত্যনৈমত্তিক কাজ সব নিচতলার রান্নাঘরেই সারা হয়। বাড়িতে মানুষ মোটে চারটে। হেমা, তার স্বামী ডাক্তার চৌধুরী শফিকুল হক, শ্বাশুড়ী, আর একমাত্র ননদ রুমা। আরো একজন অবশ্য আছে। বরাবরই সে সকলের গননার বাইরে। সে এই বাড়ির বিশেষ কেউ।
শফিক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। শহরের নাম করা ডাক্তারদের একজন। সকাল নটা নাগাদ সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে, যখন ফেরে তখন ঘড়িতে বারোটা ছুঁইছুঁই। কোনরকম মুখে কিছু দিয়েই ঘুমিয়ে পড়ে সে। রাতে ঘরের আলোটা নিভিয়ে বিছানায় অনেকক্ষন ছটপট করে হেমা। তার পাশেই ঘুমে বিভোর মানুষটি কাগজে কলমে তার সবচেয়ে আপনজন হলেও, মনের দিক থেকে তাদের যোজন যোজন দূরত্ব। হৃদয় নিয়ে যার কারবার, সবচেয়ে কাছের মানুষটির হৃদয়ের খোঁজ তার নেয়ার সময় হয়না বহুদিন।
হেমার প্রায়ই মনে হয়, ঠিক এই কারনেই শফিক হৃদয়হীন।সকাল - বিকেল যার কাজ হৃদয়ের কাটা- ছেঁড়া নিয়ে, হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার সে আর কিভাবে বুঝবে? একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে রাত গুলো অগোচরে আর অবহেলায় পেরিয়ে যায় তাদের।
রান্নাঘরে পা রাখার পরপরই ব্যস্ত হয়ে পড়ল হেমা। এইবাড়ির লোকসংখ্যার তুলনায় কাজ চারগুন বেশি। সকাল বেলা শফিক হাসপাতালে যাওয়ার আগে হালকা খাবার পছন্দ করে। তার জন্য স্যান্ড্রুইচ কিংবা হ্যামবার্গার তৈরী করে হেমা। আশফাকুন নেসার জন্য সেদ্ধ আটার নরম রুটি, সাথে মাংস ভুনা, ডাল আর রুমার জন্য ফলের জুস। রুমা বরাবরই স্বাস্থ্য সচেতন। তার আকর্ষনীয় চেহারা সহজেই সকলের দৃষ্টি কাড়ে।ঘুম থেকে উঠেই সে যোগব্যায়ামে বসে। তার পর নিয়মকরে সময় অনুযায়ী খাদ্য গ্রহন চলে তার। এই সকল ব্যবস্থা হেমা একা হাতে সামলায়। বাড়ির কাজের লোকদের রান্নার কাজে হাত দেয়ার অনুমতি নেই।
সকাল থেকে নাস্তার পার্ট টা মোটামুটি শেষ করেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে হেমা। আজ দুপুরে এ বাড়িতে বিশাল ভোজসভার আয়োজন। উপলক্ষ্য একটি বিশেষ দিন। গত রাতেই হেমা সবকিছু গুছিয়ে রেখেছিল। এখন রান্নাটা শুরু করার অপেক্ষা। ঠিক এমন সময়, রান্নাঘয়ের দরজায় এসে দাড়ায় রুমা। তারপর হেমা কে বলে,
- ভাবী, আজকের রান্নার ঘরের দায়িত্ব থেকে তুমি ছুটি নাও। আজকের সব দায়িত্ব আমার।
হেমা ভীষন অবাক হয়। যে কিনা ত্বকের ক্ষতি হওয়ার ভয়ে, রান্নাঘরের দশ হাত দূর দিয়ে চলে, সে করবে রান্না!
একটু হেসে হেমা বলে,
- তুমি আবার হঠাত্‍ কষ্ট করতে যাবে কেন রুমা? আমি তো আছিই।
রুমা কিছুক্ষন চুপ করে থাকে। তারপর বলে ওঠে,
- অন্তত আজকের দিনে তোমার হাতের খাবার তার মুখে যাক, সেটা আমি চাইনা।
রুমার কথা টা ছ্যাত করে বুকে গিয়ে বাঁধে হেমার।
- আমার হাতের খাবার মানে? কাঁপা কাঁপা কন্ঠে জিজ্ঞাসা করে সে। অজানা এক আশংকায় মনের মধ্যে তোলপাড় করে ওঠে তার।
রুমা মুখে যথেষ্ট বিরক্তি ফুটিয়ে বলে,
- মনে হচ্ছে তুমি কিছুই বুঝতে পারছো না? বছর খানেক আগেই নিজের বাচ্চার ক্ষেত্রে যা কান্ড টা ঘটালে, তারপর তুলতুলের জন্মদিনে ওকে তোমার হাতে ছাড়ি কিভাবে বলো তো? যদিও সবাই বলে এইসব কুসংস্কার, তবুও আমি কোন রকম রিস্ক নিতে চাইনা।
রুমার কথাগুলো তীরের মত হেমার বুকে গিয়ে বিঁধে। কাঁচের মত চুরমার হয়ে ভেঙে পড়ে সে। দুচোখ ছাপিয়ে বাঁধাহীন কান্না নেমে আসে গাল বেয়ে। তারপর এক ছুটে বেরিয়ে যায় রান্নাঘর থেকে।
(চলবে)


*হিয়ারমাঝেতুমি*

মৃন্ময়ী সাবিহা: অনেকক্ষন থেকে চেষ্টা করেও বেশব্লগে কোন লেখা কপি করে পেস্ট করতে পারলাম না(রাগী) ঘটনা কি? হেল্প প্লিজ... @fahim @dipty @amanullahsorkar(ঘৃণা)(ব্যাপকটেনশনেআসি৩)

মৃন্ময়ী সাবিহা: [রানী-যাদুষ্টু]শহর জুড়ে যেন প্রেমের মরসুম আলোতে মাখামাখি আমার এ গ্রীনরুম কখনও নেমে আসে অচেনা প্যারাসুট তোমাকে ভালোবেসে আমার এ চিরকুট (হার্ট)

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

আজকের
গড়
এযাবত
১৬,৫৭১

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

+ আরও