পাগলী

@Paagli

আমি নিজের সম্পর্কে কিছু জানলে ত কমু?
business_center প্রফেশনাল তথ্য নেই
school এডুকেশনাল তথ্য নেই
location_on লোকেশন পাওয়া যায়নি
1375546955000  থেকে আমাদের সাথে আছে
ছবি

পাগলী: ফটো পোস্ট করেছে

৫/৫

*শুভসকাল*

*শুভসকাল* *শুভসকাল*

পাগলী বেশব্লগটি শেয়ার করেছে
"কার নামটা গোপন রাখলে জানতে বড় ইচ্ছে করছে! "

হুম ! দেরিই করলাম পোষ্টা দিতে দেরিই করলাম কারণ টা হলো আমি এমন কয়েকজনের  কাছে থেকে শুভেচ্ছা আশা করছিলাম যাদের এই পোষ্টে না রাখলে আমার ভাললাগার কথা না .যাই হোক জন্মদিন নিয়ে কোন রকম বাড়াবাড়ি অথবা কেক কেটে পালন করা হয়না আমার তবুও গতবছর বেশতোর কিছু বন্ধুরা মিলে সেই কাজটি করেছিলো আর সেটাই  ছিলো অামার জীবনে সবচেয়ে আনন্দের একটা দিন ,দেখতে দেখতে সেটা একবছর পার করে গেল বেশতোর বন্ধুদের সাথে কখন একটা বছরা পার হয়ে গেছে টেরই পাইনি ,,। এই জন্মদিন নিয়ে আমার কোন নিদিষ্টি প্লান ছিলো না তবে ছিলো কিছু এলোমেলা প্রতাশা কিছু আপন মানুষ কিছু বন্ধুর কাছে সারপ্রাইজ পাওয়ার ।
২০শে ফ্রেবুয়ারি সন্ধ্যার পর প্রথম সারপ্রাইজটা পেলাম @Dukhomia  সুখ-ভাইয়ার কাছে ..ও হয়ত ঠিক করেই লিখেছিলো আমার পছন্দের সবকিছু ও সেদিন দিয়ে যাবে এর ভাষায়
আপনি ঝাল পছন্দ করেন তাই ঝাল দিয়েছি( খিচুড়ি)
রজনীগন্ধা  ফুল দিয়েছি
চকলেট পছন্দ সেটাও দিয়েছি !!
ভাবটা এমন এই জন্মদিনের পর আর কোন জন্মদিনে ও সারপ্রাইজ দিতে পারবে না তাই সব একসাথে দিয়ে দিলো । ( সত্যিটা হচ্ছে হয়ত এমনই হতে যাচ্ছে যেটা ও এখনও জানেনা  ) আমি কতটা সারপ্রইজড হয়েছি সেটা এখনও ওকে বলা হয়নি .যদিও আমার বন্ধু ভাগ্য অনেক ভালো তবুও ও আমার সব বন্ধুর থেকে ব্যাতিক্রম একজন যে আমার সব কথা চুপ করে শুধু শুনেই যায় ।
এরপর রাতে আমি ইচ্ছা করেই বেশতোতে থাকিনি ইচ্ছা করেই অনেকটা অভিমানে আমি রাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম ,সকালে বেশতোতে এসে প্রথমে চোখে পড়লো @Paagli  আপুর শুভকামনা ..সাতে অন্যসবার পোষ্ট একটা একটা করে খুজে নিলাম @SAMARITAN  @ASKRAH @Naheenbd @orgho777 @TufayelBD
@chowdhurykabir   @Saadiia  @ShimulHD @Faheema  @Rubel25 @chonrolok @mustafijulmunna @Razunir (আমার দেবর) @NafisaAnjumRafa (বেশতোর একমাএ ছোটবোন ) যে আমকে নিয়ে অনেক সুন্দর করে কবিতা লিখেছে . @isratnahar আপু @CaressShohag  @shetal @Frankenstein @farahim02 @Bijoya4ever   @ronepa যে ফাকি দিয়েছে অন্যকারো পোষ্টে শুভেচ্ছা জানিয়ে ( ফাইন না দিলে খবর আছে ) @riktaparvin  আরো একটা সারপ্রাইজ @chenaPATHIK ভাইয়ার কাছে থেকে !
আর যারা এখনও পর্যন্ত মনে করে শুভেচ্ছা জানাতে পারেনি তাদের বলছি ( পরে দেখে নিবো ) যদিও রাগ করে বলছি তবু্ও কষ্ট পেলাম ।

আরো একজনের কথা তো বলাই হয়নি তার কথা তো নাম লিখে বলতে পারবো না তবে সে আমার এমন একজন বন্ধু যে আমার সুখের জন্য সব করতে পারে ,,আর আমার সব স্বপ্ন পুরণ করার দায়িত্ব নিয়েছে ( যদিও নিজের দায়িত্বে) তাই একটা একটা করে সে গুলো পূরণ করে যাচ্ছে ।আমি অনেক অনেক খুশি তোমাদের সবার শুভ কামনা আর দোয়া পেয়ে ....
সুখভাইয়া খোলাচিঠি পড়েতো কিছ সময় আমি সময়ের হিসাব ভুলে গিয়েছিলাম আর রাফার লেখা পড়ে তো আমার চোখে জল এসে গিয়েছিলো যদিও ও বলেছিলো

""কান্না তো তোমার কাছে গ্যালন ভর্তি আছে...তবে আজকে কেদোনা...দাত কেলিয়ে হাসো...""
সবশেষে সবার কাছে আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ আমার পাশে থাকার জন্য ,বেশতোকে আমি কতটা ভালবাসি জানিনা তবে বেশতোর মানুষগুলো আমার অনেক আপন ,এখানে না এলে আমার জানাই হতো না হয়ত যে এখনও পৃথিবী থেকে বিশ্বাস উঠে যায়নি ,এখন কিছু মানুষ আছে যারা অন্যদের নিয়ে ভাবে ,সবাই স্বার্থপর না । বেশতো আমার আর একটা পরিবারের মত .কতদিন এখানে থাকতে পারবো জানিনা তবে কোনদির যদি সেই সময় আছে যে আমাকে চলে যেতে হচ্ছে তবুও ভুলবোনা বেশতোর সবাইকে !!!

পাগলী বেশব্লগটি শেয়ার করেছে
"সম্পর্কে জড়ানোর আগে ভাল করে ভাবা উচিত। ভালবেসে সম্পর্কে জড়ানো উচিত। "

আমাদের দোষ- আমরা কাউকে দেখে প্রথমে বিমোহিত হয়ে যাই, এরপর মোহে হাবুডুবু খাই। তারপর তাকে এক প্রকারে জোর করে ভালবাসতে চেষ্টা করি।

ব্যাপারটা এখন প্রচলিত হয়ে গেছে। আমরা প্রথম কাউকে দেখে তার বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট হই। তার ভিতরে যে একজন মানুষ আছে, তার সাথে আমাদের খাপ খেতেও পারে, নাও পারে- এই ব্যাপারটি তখন মাথায় থাকে না। ‘একে আমার লাগবেই’ ক্রমশ এই দুর্নিবার মাধ্যাকর্ষণ শক্তিতে তার দিকে যেতে থাকি।

ধীরে ধীরে খোলস খুলতে থাকে মানুষ নামের মলাস্কা প্রাণীটির। ভিতরের রূপ চেনা যায়। মোহ কেটে গেলে সেই মানুষটিরও ভুল ভাঙতে থাকে। যারে দেখতে নারি, তার চলন বাঁকা। আর যারে দেখতে পারি, তার দোষও সুগন্ধ। আস্তে আস্তে সেই সুগন্ধ দুর্গন্ধে রূপ নিতে বেশি সময় লাগেনা। তার সাথে মানিয়ে চলা কঠিন হতে থাকে। এর মাঝে সম্পর্ক হয়ে গেলে তো, জীবন পুরাই দো্যখ। আর না হলে, পিছনে সরে আসে দুজনই। কিন্তু পিছনে সরে আসা কী এতই সহজ? সমস্যা হল, আমরা প্রথমেই সম্পর্ক তৈরি করে ফেলি। এরপর সেই সম্পর্কে যখন মানাতে পারিনা, তখন চিটে গুড়ে আটকানো পিঁপড়ের মতন চ্যাপ্টে থাকি, লেপ্টে যাই সেই ভালবাসাহীন সম্পর্কের চোরাবালিতে।

সমাজ ও ধর্মীয় কারণে বর্তমান বাংলাদেশের মানুষেরা ঠিক প্রচলিত অর্থে বহুগামী নয়। মধ্যপ্রাচ্যের মত এখানে যেমন এক পুরুষের ডজন ডজন স্ত্রী থাকে না। তেমনি, দূর পাশ্চাত্যের মত বিবাহপুর্ব গমনও ঠিক বহুল প্রচলিত নয়। এজন্য, জীবনে মানুষ মূলত একজনের সাথেই ঘর-সংসার করে। প্রেমের অ্যাটেম্পট হয়তো হয় কয়েকজনের সাথে হল। কিন্তু, বিবাহ তো একজনকেই। ঠিক এজন্যই, একটি খাঁটি সম্পর্কের মুল্য আমাদের কাছে বেশি। যেই একজনের সাথে জীবনটা কাটিয়ে দিব, সে যদি নিজের মন মত না হয়, তাহলে সেই সম্পর্কের কী লাভ? আমরা যেমন, আরব দের মত এক বউয়ের সাথে বনিবনা না হলে, মুহুর্তেই মাঝরাতে আরেক বউয়ের কাছে পালিয়ে যেতে পারিনা, তেমনি, মার্কিন বারে গিয়ে সম্পূর্ণ অপরিচিত কারো সাথে বুটি কলে সাড়া দিতে পারিনা। আমাদের সেই নিরর্থক প্রেমহীন সম্পর্কে বেঁচে থাকতে হয়।

জীবন একটাই। সবারই এই একমাত্র জীবনে ভালবাসা পাওয়ার, ভালবাসতে পারার অধিকার আছে সবারই। ভালবাসাহীন সম্পর্ক এই জীবনে নিষ্প্রয়োজন। সম্পর্কে জড়ানোর আগে ভাল করে ভাবা উচিত। ভালবেসে সম্পর্কে জড়ানো উচিত।

আমাদের দোষ- আমরা প্রথমে বিমোহিত হয়ে যাই, এরপর মোহে হাবুডূবু খাই। তারপর তাকে ভালবাসতে চেষ্টা করি।
আমাদের দোষ- আমরা একদমই ভাবি না। না ভালবেসে তাকে জোর করে ভালবাসতে চেষ্টা করি।
*সম্পর্ক* *ভালোবাসা*

পাগলী: একটি বেশব্লগ লিখেছে

.
এক শ্বাশুড়ি আম্মা তার তিন জামাইয়ের
ভালবাসা পরিক্ষার সিদ্ধান্ত নিলো...
প্রথম দিনঃ
শ্বাশুড়ি পুকুরে ঝাপ দিল...
প্রথম জামাই আমাদের মাসুম (@dukhomia ) বাঁচানোর জন্য পুকুরে লাফ
দিলো...
শ্বাশুড়ি খুশি হয়ে তাকে একটা গাড়ি দিলো...

দ্বিতীয় দিনঃ
আবার পুকুরে ঝাপ দিল...
দ্বিতীয় জামাই  আমাদের সবার পরিচিত মেঘবালক ( @ronepa ) ও ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে বাঁচাল।
আর শ্বাশুড়ি তাকেও একটা বাইক গিফট করল।

এবার তৃতীয় দিনঃ
আবার পুকুরে ঝাপ দিল...
তিন নম্বর জামাই মানে আমাদের প্যাঁচা  ( @TheOwl00 ) মনে করলো আমার ত বাইক আছেই আর
ভাগ্যে তো সাইকেল ছাড়া কিছু নাই। তা দিয়া আমি কি করুম?
তাই সে আর ঝাপ দিলো না।
 আর,
শ্বাশুড়ি বেচারীও  মারা গেলো !!!!

পরের দিন জামাই  প্যাঁচা   একটা BMW
পাইলো !
কিন্তু ক্যামনে??
.
.
.
.
.
.
.
শ্বশুর আব্বায় দিছে ! (শয়তানিহাসি)
*জোকস* *শ্বশুর* *বেশম্ভব* *রসিকতা* *বেশফান*
জোকস

পাগলী: একটি জোকস পোস্ট করেছে

৫/৫
আপনি কোন বিভাগ প্রাপ্ত? (শয়তানিহাসি)
*জোকস* *আন্ডারওয়ার্ল্ড* *ব্যবসা* *চাকরী* *বেশফান* *বেশম্ভব*

পাগলী: একটি বেশব্লগ লিখেছে

যখন আমার সঙ্গে নেই তুমি,
আমার সঙ্গে তুমি তখন সবচেয়ে বেশি থাকো।
আমি হাঁটি, পাশাপাশি মনে হয় তুমিও হাঁটছো,
তোমাকে সঙ্গে নিয়ে বাজারে যাই,
যা যা খেতে পছন্দ করো, কিনি, তুমি নেই জেনেও কিনি।
রাঁধি যখন, দরজায় যেন হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছো,
মনে মনে কথা বলি।
খেতে বসি, ভাবি তুমিও বসেছো।
যা কিছুই দেখি, পাশে দাঁড়িয়ে তুমিও দেখছো,
শুনি, শুনছো।
তত্ত্বে তর্কে, গানে গপ্পে পাশে রাখি তোমাকে।
তুমি সারাদিন সঙ্গে থাকো,
যতক্ষণ জেগে থাকি, থাকো,
ঘুমোলে স্বপ্নের মধ্যে থাকো।
তুমি নেই, অথচ কি ভীষণভাবে তুমি আছো।
তুমি যখন সত্যিকার সঙ্গে থাকো, তখন কিন্তু এত বেশি সঙ্গে থাকো না।(হার্ট)    (সংগৃহীত)
*কবিতা*

পাগলী বেশব্লগটি শেয়ার করেছে

অনেকেই আমাদের বাবা-মা এবং নানী-নানা, দাদী-দাদা’দের সম্পর্কের মধ্যকারভালবাসার কথা বলেন; কীভাবে বুড়া হয়ে যাওয়ার পরও নানী নানার জন্য এক কাপ চা বানিয়ে আনেন, অথবা বাবা বাইরে যাওয়ার সময় মা এখনো চশমা-মানিব্যাগ ইত্যাদি খুঁজে এনে এগিয়ে দেন। বাবা-মা বা তাদের আগের জেনারেশনের জামাই-বউ’র মধ্যকার সম্পর্ককে এভাবে রোমান্টিসাইজ করাটা শুনতে ভালই লাগে, মনের ভিতর কেমন ‘সত্যিকার’ ভালবাসা-ভালবাসা অনুভূতি জেগে উঠে, নিজেদের সময়ের ‘ভালবাসা’কে অনেক কৃত্রিম মনে হয়।

(আতশবাজি)(হার্ট)(আতশবাজি)
কিন্তু আমি বিষয়টাকে ভাবি অন্যরকম করে।

দাদী-দাদা, নানী-নানা তো অনেক দূরের জেনারেশন, আমাদের বাবা-মা’দের জেনারেশনের সাথে কথা বললেই দেখবেন, উনারা এই “ভালবাসা” “প্রেম” এসব শব্দের/কনসেপ্টের সাথে কখনোই সোশালাইজড হননি। যে ছেলে কোথাও চুরি করে ববিতার বাঁকা চোখের ধাক্কা খেয়ে পরিচিত কোন মেয়েকে মনে মনে ববিতা বানিয়ে একটু আধটু চিঠি দিতো, বা দূর থেকে রাজ্জাক স্টাইলে উদাস হয়ে তাকিয়ে থাকতো আর বিড় বিড় করে বেসুরে গান গাইতে চেষ্টা করতো, অথবা যে মেয়ে শাবানা স্টাইলে পুকুর পারে বসে বসে পানিতে ঢিল ছুঁড়তো মন খারাপ করে, একটু ধরা খেলেই হতো, কানের নীচে মুরুব্বীদের সটান চটকানা খেয়ে একদম সিঁধে হয়ে যেতো জন্মের মত!

‘প্রেম’/ ‘ভালবাসা’ এসবের বদলে উনারা সোশালাইজড হয়েছিলেন বিয়েকে এবং বিয়ের পরে নিজের জামাই অথবা বউ’র দায়িত্ব-কর্তব্যকে জীবনের আর দশটা বাস্তবতার মত জেনে। অনেকের তো বিয়েই হয়েছে- স্কুল/কলেজ থেকে বাসায় ফিরেছেন, বাসায় বেশ হৈ চৈ, মেহমান আসছে, কী ঘটনা? এই মেয়ে এদিকে আয়, তোকে দেখতে আসছে! মেয়ে তখন কান্না-কাটি, না, আমি এখন বিয়ে করবোনা! না! না! -মেয়ের এই ‘না!’ ‘না!’ কান্নাকাটিও স্বাভাবিক। সব মিলিয়ে হঠাৎ বৃষ্টির মত হঠাৎ বিয়ে! আর ছেলেরাও যে জেনে শুনে বিয়ে করতো এমনটা না। হঠাৎ টেলিগ্রাম আসতো, ‘ফাদার সিক, কাম সুন’। ছেলে নিজেও জানতো, এই ‘সিক’ মানে ফাদার তাকে বিয়ে দিতে চান। সে লাজুক লাজুক মুখে পরের ট্রেন/নৌকা ধরেই বাড়ি ফিরে আসতো। ফিরে এসে দেখতো পুরো বাড়ি ছোট ছোট করে কাটা লাল-নীল-সবুজ-হলুদ-বেগুনী কাগজ দিয়ে সাজানো। ঘটনা কী? ঘটনা-বিয়ে হবে, বাড়িতে ছেলের বউ আসবে! ‘সিক’ ফাদার কীসের সিক? রীতিমত হর্স-পাওয়ারে বিয়ের সরঞ্জাম আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন! ছেলে-মেয়ে কেউ কাউকে দেখেনই নি, মুরুব্বীরা এই বিয়ে ভাল মনে করেছেন, ব্যাস, আর কি চাই!

এবং জ্বী না, এই যে ত্রিশ বছর/চল্লিশ বছর/পঞ্জাশ বছর উনারা একসাথে ঘর-সংসার করে যাচ্ছেন, বা উনাদেরও আগে আমাদের দাদী-দাদা-নানী-নানা’রা ষাট/সত্তুর/আশি বছর, কবরে যাওয়া পর্যন্ত একসাথে ঘর-সংসার করে গিয়েছেন, কোনো ভালবাসার জোড়ে না, বরং এটাই তাদের জীবনের আর দশ/বিশটা স্বাভাবিক বিষয়ের মত জীবনের অংশ ছিলো। মেয়ে’র জামাই’র সাথে বনিবনা হচ্ছেনা? মুরুব্বীরা ঘাড় ধরে সটান আবার ফেরত পাঠিয়ে দিতেন, বলতেন, কোন বউটার জামাই’র সাথে বনিবনা হচ্ছে শুনি? তারা ঘর করেনা? মা আবার মেয়ের সাথে করে ফেরত পাঠানোর সময় পিঠাও বানিয়ে দিতেন, নতুন চাল দিয়ে দিতেন। তাছাড়া পুরো লাইফ-স্টাইলটাই ছিলো তখন ভিন্নরকম। জামাই-বউ একজন আরেকজনের সাথে দেখা হওয়ারইবা সময় কোথায় যে তারা ঝগড়া করবে? রাগারাগি করবে? ভালবাসা আছে কি নাই তা নিয়ে চিন্তা করবে?? দাদী-দাদা, নানী-নানা’দের সময়ে সবই তো ছিলো যৌথ পরিবার, এমনকি যৌথ না হলেও যৌথ, কারন দেখা যেতো কয়েকটা বাড়ি মিলে থাকতো একটা কম্যুনাল বড় উঠান, এতকিছুর মাঝখানে নতুন জামাই-বউ-ই দেখা পেতোনা একজন আরেকজনের, আর পুরানদের তো পুরাই বেইল নাই।

আমাদের বাবা-মাদের জেনারেশনেই তো বাবা-মা’রা নিরিবিলিতে একটু একলা সময় পেতেন হয়তো মধ্যরাতে, যদিও তখন তারা গ্রাম ছেড়ে শহরে এসেছেন, নিজেদেরই সংসার। কিন্তু তখনও সংসার মানে ছিলো আত্মীয়রা ক্যাজুয়ালি, পার্ট-টাইম বা অনেকে তো পারমানেন্টলি বাসায় থাকা। আত্মীয়-স্বজন, বাচ্চা-কাচ্চা, সারাদিনের সংসার সংসার যুদ্ধ শেষে ভালবাসা নিয়ে গুঁতাগুঁতি করার মত সময়/পরিবেশ/এনার্জি কিছুই থাকতো না বাবা-মা’দের। মা’রা অনেক সময়ই রাগ করতেন/অভিমান করতেন/নাকের পানি চোখের পানি এক করে শাড়ীর আঁচল ভিজিয়ে ফেলতেন, কিন্তু তাই নিয়ে বসে থাকার সময় কই? মা-বাবা দুইজনেই এক/দুই দিন গম্ভীর, কথা কম বলেন, কারণে অকারনে সামনে যাকে পান তাকে ধমক মারেন। ব্যাস, আবার ব্যাক টু দ্য প্যাভিলিয়ন। যেই লাউ সেই কদু।

আর বছরের পর বছর একসাথে থাকতে থাকতে, একজনের প্রতি আরেকজনের স্পন্টেনিয়াস কেয়ারিং-টা আসে প্রথম দিকে দায়িত্ববোধ থেকে, যেটা তারা ছোটবেলা থেকে দেখে এবং শিখে এসেছেন, সেইসাথে অবশ্যই বিয়ের প্রথম দিককার তরল মনের সরল প্রকাশ থেকে, তারপর আস্তে আস্তে এটাই হয়ে যায় অভ্যস্থতা, জীবন এবং জীবনের নিয়ম। দু’জনে মিললোনা তাই ধুর যাইগা- এই কনসেপ্ট উনারা দেখেনও নি, শুনেনও নি, জানেনও না। জামাই-বউ মানে হলো উনাদের কাছে না মিললেও মিলে ঝিলে থাকা। এজন্যেই দেখবেন একজন হয়তো আরেকজনকে সহ্যই করতে পারেন না, এবং সত্যি সত্যিই সহ্য করতে পারেন না (কাঁহাতক আসলে সহ্য করা যায়!), তারপরও একজনের সামান্য অসুখেও আরেকজন খুব মুষড়ে পড়া, বা সময়ে-অসময়ে চা বানিয়ে দেয়া (সাথে দুইটা ঝাড়িও দেয়া “বুড়ার জন্য খাটতে খাটতে আমার জীবন গেলো”!), বা বাইরে যাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় জিনিষ আগিয়ে দেয়া- এসবই তাদের জীবনের স্বাভাবিক জীবনের অংশ হয়ে উঠে।

কিন্তু সবকিছু হঠাৎ করেই বদলে গেছে আমাদের সময়ে এসে। আমরা ভালবাসা/প্রেম এসব কনসেপ্টের সাথে টিভি-মিডিয়া-ইন্টারনেট ইত্যাদির মাধ্যমে এতটাই ওভার-সোশালাইজড যে বিয়ে/সংসার/সম্পর্ক এসব আমাদের বেসিক ইমাজিনেশানে চরম রোমান্টিসাইজড কিছু কনসেপ্টস। আমাদের সম্পর্কের মধ্যে এক্সপেক্টেশান্স থাকে তাই আকাশ-ছোঁয়া। আর লাইফ স্টাইল যেহেতু ধারনারও বাইরে দ্রুত চেইঞ্জ হচ্ছে, ছোট থেকে ছোট হতে হতে একদম দুইজনে এসে দাঁড়াচ্ছে, সেই সাথে আমাদের আভ্যন্তরীন জীবনে মুরুব্বীরা-সমাজও ক্ষমতা হারাচ্ছে, যেক্ষমতা আবার দখল করে নিচ্ছে মিডিয়া আর গ্লোবালাইজেশান, এইসব মিলিয়ে আমাদের জেনারেশন আর আমাদের বাবা-মা’দের জেনারেশনের মাঝখানের গ্যাপ হয়ে গেছে হাজার বছরের গ্যাপের সমান। মানুষ মাত্রেই তার জামাই বা বউ’র প্রতি যে স্বাভাবিক ভালবাসা, তা ঠিকই আছে, কিন্তু সংজ্ঞাটা বদলে গেছে চরম ভাবে। আমাদের সময়ে এসে ভালবাসার সংজ্ঞা হয়ে গেছে ভীষণ রকম সেনসিটিভ আর ইমোশনাল, হাম্বড়া এবং ইন্ডিভিজুয়ালিষ্টিক। এসবের ধাক্কায় আমরা তাই ভালবাসা নিয়ে, জামাই-বউ সম্পর্ক নিয়ে বারংবার খালি হোঁচট খাই আর খেঁই হারাই। আর আগের জেনারেশনের উদাহরন দিয়ে আফসোস করি।

আমার কাছে মনে হয়, আগের আর এখনের ভালবাসা’র মধ্যে পার্থক্য দু’টা- expectations আর expressions. এই দুই “e”-তেই যত সমস্যা।
এক্সপেক্টেশান্সের কথাই ধরি। আগের পর্বেই বলেছি, বাবা-মা’দের জেনারেশনের সাথে কথা বলে আমার মনে হয়েছে, উনাদের কাছে ভালবাসার অর্থ অনেক অনেক রিয়েলিষ্টিক। ছোট্ট একটা কথোপকথন এখানে কোট করি।

-আন্টি, আপনি কি আংকল-কে ভালবাসেন?

-ছি! ছি! এটা কী ধরনের কথা! (প্রশ্নটা শোনার সাথে সাথে পাঁচ বাচ্চার মা ভদ্রমহিলার চেহারা পুরা লাল!)

-আমি আসলে বিষয়টা বুঝতে চেষ্টা করতেছি আন্টি। দেখেন না এখন নাটক-সিনেমায় খালি ভালবাসার কথা বলে।

-হ্যা তাতো ঠিক।

-আচ্ছা, আপনাকে মুখে বলতে হবেনা। কিন্তু আপনিতো নিশ্চয়ই আংকল কে ভালবাসেন। নাহলে এত বছর ধরে সংসার করছেন! বলেন তো, আপনার কাছে ভালবাসার মানে কী?

-ভালবাসার আবার কী মানে? এইতো একসাথে সংসার করা, বাচ্চা-কাচ্চা দেখাশোনা করা, এইগুলাইতো।

আপনি আমাদের বাবা-মা’র জেনারেশনের মানুষদের সাথে কথা বলে দেখুন, আমি নিশ্চিত, এই আন্টির মত প্রায় একই রকম উত্তর শুনবেন। উনাদের কাছে ভালবাসা মানে সংসার, একসাথে টিকে থাকা। এতটুকুই কিন্তু উনাদের এক্সপেক্টেশান্স একজন আরেকজনের কাছ থেকে।

আর আমাদের কাছে?

নাটক-সিনেমা-মিউজিক ভিডিউ এখন আমাদেরকে শিখিয়ে দেয় ‘ভালবাসা’ কী ও কেমন, যার কারনে আমাদের ‘ফিল্মী’ এক্সপেক্টেশান্সেরও কোনো শেষ নেই। বিভিন্ন এনিভার্সারি মনে রাখা, মনে রেখে সেই অনুযায়ী গিফট দেয়া, বাইরে ডেটিং এ নিয়ে যাওয়া, ক্যান্ডল লাইট ডিনার, হেন-তেন-কত কাহিনী। আর সেই এক্সপেক্টেশান্স অনুযায়ী একটু কম-বেশী হলেই, ‘তুমি আজকাল আমাকে আর ভালবাসোনা, ঠিক না?’

এহহেম!

ভালবাসা থেকে এক্সপেক্টেশান্স এখন যেমন আকাশ ছোঁয়া, এক্সপ্রেশানেও কমতি নেই। আমার সবচে’ হাসি পায় যখন বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ড বা জামাই-বউ একজন আরেকজনকে ‘বেবস’/’বেবী’ ইত্যাদি ডাকে। এটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যপার অবশ্যই, আপনার জামাই বা বউকে বেশী আদর লাগলে তাকে আপনার কাছে ছোটবাবু ছোটবাবু লাগতেই পারে, কিন্তু অন্যদের সামনে তাকে আ তু তু ছোট্টো বাবু উ লা লা তু তু এমন আদুরে ডাক আমার কাছে চরম অরুচিকর লাগে। গ্লোবালাইজেশানের এটা একটা খারাপ দিক, আজকে ‘বেবস’/’বেবী’ ডাকা নরমাল হয়ে গেছে, কালকে সবার সামনে চুমাচুমি, কোলে উঠে যাওয়াও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

ভালবাসার এক্সপ্রেশান্সও এখন অনেক দামী। অনেকগুলো গোলাপ এনে দাও, আকাশে প্লেন দিয়ে কীভাবে যেনো ধোঁয়া দিয়ে নাম লিখে দাও, বা লিখো ‘প্লীজ ম্যারি মী, আই লাভ ইউ’, সবচে’ দামী ডায়মন্ডের আংটি দিয়ে প্রোপোজ করো, সবচে অভিজাত রেষ্টুরেন্টে নিয়ে যাও, ইত্যাদি ইত্যাদি কত রকমের যে অবস্থা!

এদিক থেকে আগের জেনারেশন অনেক আরামে ছিলো, তা বলাই বাহুল্য। একটু চোখের তাকানোতেই বুকটা ছেঁদা হয়ে যেতো একদম, কয়দিনের যে ঘুম হারাম হয়ে যেতো! আর একটু যদি হাসি দিতো, ওরে খোদা, বুকটা মনে হতো যেনো বুকের জায়গা থেকে উঠে এসে গলার কাছে আটকে যেতো, আত্মীয়-স্বজন টেনশানে পড়ে যেতো- ছেলেটার/মেয়েটার কোনো অসুখ হলো নাকি? এমন নাওয়া-খাওয়া ভুলে কেমন চুপচাপ হয়ে গেছে! আর সবচে’ দামী এক্সপ্রেশান্স ছিলো খুব সম্ভবতঃ একটা এক/দুই/তিন লাইনের চিঠি, কত কসরত করে, কত রিষ্ক নিয়ে তা পৌঁছে দেয়া হতো!

এসব কিন্তু বেশীদিন আগের কথা না। আমার মনে আছে, আমাদের এক আত্মীয়ার নতুন বিয়ে হয়েছিলো, আমি তখন ক্লাস সিক্সে না সেভেনে পড়ি। বাড়ি ভর্তি আত্মীয় স্বজন, নতুন জামাই-বউ একজন আরেকজনের সাথে যে একটু কথা বলবে, সে অবস্থাও নেই। আপু ইয়া লম্বা এক চিঠি লিখে আমার হাতে গুঁজে দিয়ে বলেছিলো, কেউ যেন না দেখে, তোমার ভাইয়াকে দিয়ে আসো!

মাত্র ষোল/সতের বছরেই সব কেমন বেমালুম চেইঞ্জ হয়ে গেছে। স্বীকার করতেই হবে, ভালবাসা থেকে এক্সপেক্টেশান্স আর এর এক্সপ্রেশান্স এখন অনেক কমার্শিয়াল। নাটক-সিনেমায়-মুভিতে-মিউজিক ভিডিউতে এখন দেখিয়ে দেয় কীভাবে ভালবাসতে হবে, আর ভালবাসলে কী করতে হবে। সবচে’ বড় কথা, পুরো ভালবাসা জিনিষটা একটা ফ্যাশনের মত হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের জি-এফ/বি-এফ নিয়ে কথা বলাটা এক ধরনের ক্রেডিট যেনো, যার জি-এফ/বি-এফ নাই সে আন-কালচার্ড।

দুঃখজনক হলেও সত্য, ভালবাসা বিষয়টাতে সামাজিকভাবে আমরা খুব দ্রুত, ভয়ানকরকম দ্রুত গতিতে ওয়েষ্টার্ন/ইউরোপীয়ান দেশগুলোর কালচারকে এডপ্ট করে নিচ্ছি, যেখানে ভালবাসা একটা বিলিয়ন-ট্রিলিয়ন ডলারের কমার্শিয়াল ব্যবসা, যার পরিণতিতে ভালবাসা অনেকটাই, বলতে গেলে পুরোটাই শরীর আর সেক্স কেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে।
বিষয়টা সত্যি দুঃখজনক।

(সংগৃহীত)

পাগলী: একটি বেশব্লগ লিখেছে



মকর (২২ ডিসেম্বর – ২০ জানুয়ারি)

উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং নেতৃত্ব দেবার মনোভাব মকর নারীকে নিয়ে যায় সাফল্যের চূড়ায়। এই সাফল্য অর্জন করার পথে কোনও বাধাই সহ্য করেন না তিনি। সুতরাং তার ইচ্ছেপূরণের বিরোধীতা করবেন না কখনোই। আপনাকেও ধুলোয় ফেলে যেতে তিনি দ্বিধা করবেন না। মকর নারী হয়ে থাকেন একগুঁয়ে। খুব সহজে নিজের মেজাজ খারাপ করেন না তিনি। মাথা ঠাণ্ডা রেখেই নিজের প্রতিযোগীকে পিষে ফেলেন পায়ের নিচে।

*রাশিচক্র*

পাগলী: একটি বেশব্লগ লিখেছে

কুম্ভ (২১ জানুয়ারি – ১৮ ফেব্রুয়ারি)

হাতের মুঠোয় বাতাস ধরে রাখতে পারবেন আপনি? পারবেন না। কুম্ভ নারীকে কোনও রকম শৃঙ্খলে আটকে রাখাটাও একই রকমের অসম্ভব। তার চরিত্র বোঝার চেষ্টা করাতাও একই রকমের অসম্ভব। কারন আপনার সব ধারনাকে ভুল প্রমাণিত করে তিনি পরিবর্তিত হয়ে যাবেন মুহূর্তের মাঝে। এই বাতাসের মতই তিনি পরিবর্তনশীল, কখনও মৃদুমন্দ আবার কখনও ঝড়ো বিধ্বংসী। কিন্তু এই ঝড়ের কেন্দ্রে রয়েছেন চমৎকার একজন নারী। জীবনের প্রতি ইতিবাচক তাদের মনোভাব। অনেক ক্ষেত্রেই সমাজসেবী হয়ে থাকেন তারা। নিজেরদের বুদ্ধি এবং সৃজনশীলতা দিয়ে চমৎকার সব আইডিয়া তৈরি করে ফেলতে পারেন তারা।

কুম্ভ নারী অন্যের অযাচিত উপদেশ শুনতে মোটেই পছন্দ করেন না। কিন্তু আপনার যে কোনও প্রয়োজনে তাদের সাহায্য পাবেন আপনি। তারা নিজেরা বেশ কার্যকরী উপদেশ দিতে পারেন। ভ্রমন করতে পছন্দ করেন তারা। 

*রাশিচক্র*

পাগলী: একটি বেশব্লগ লিখেছে

কন্যা (২৪ আগস্ট – ২৩ সেপ্টেম্বর)

কন্যা রাশির নারী যেমন একেবারে তুলতুলে নারী নয়, তেমনি এই রাশির পুরুষকে মেয়েলি ভাবলেও ভুল করবেন। তিনি হয়ে থাকেন কঠোর পরিশ্রমী এবং তার ওপরে দেওয়া কাজের শেষ দেখেই ছারেন তিনি। যে কোনও কাজ নিখুঁত করে করতেও তার তুলনা নেই। খুঁটিনাটি বিষয়েও তার পূর্ণ মনোযোগ থাকে। অন্যকে সাহায্য করতেও তিনি সিদ্ধহস্ত। কন্যা রাশির পুরুষ হয়ে থাকেন সুবিচারি এবং ন্যায়পরায়ন। ভদ্রতা এবং নিষ্পাপতার মতো দুর্লভ গুণ দেখা যায় তার মাঝে। তবে তিনি হয়ে থাকেন একটু ছটফটে। মাঝে মাঝে নিজের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন তিনি, কিন্তু তার কাজের মধ্য দিয়েই আবার সেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পান নতুন করে।



তুলা (২৪ সেপ্টেম্বর – ২৩ অক্টোবর)

শুধু নিজের জন্য নয়, বরং অন্য সবার জন্য সবসময় চিন্তা করে থাকেন তুলা রাশির পুরুষ। সবাইকেই খুশি রাখতে চান তিনি। তিনি হয়ে থাকেন শান্তিপ্রিয় এবং সবার মাঝে সম্প্রীতি বজায় রাখতে চেষ্টা করেন। সবদিক চিন্তা করার কারণে তিনি দ্রুত কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। কিন্তু যখন তিনি সিদ্ধাত নিয়ে ফেলেন তবে সেটা মেনে চলাই উত্তম। যে কোনও পরামর্শের জন্য তুলা রাশির বন্ধুটির সাহায্য নিতে পারেন আপনি। তিনি কোনও রকমের পক্ষপাতিত্ব দেখাবেন না। তুলা রাশির পুরুষের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। সুন্দর কোনও বস্তু, ঝকঝকে নতুন একটি গাড়ি বা নতুন মডেলের ফোন- এ সবই তার পছন্দ। সুন্দর মানুষও তিনি ভালবাসেন। আরও ভালবাসেন সাহিত্য। সভ্য ও রুচিশীল পুরুষের সব গুণই আপনি খুঁজে পাবেন তার মাঝে।



বৃশ্চিক (২৪ অক্টোবর – ২২ নভেম্বর)

বৃশ্চিক রাশির পুরুষকে তুচ্ছ করে দেখবেন না কখনোই। অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে সাধারণত মাথা ঘামান না তিনি। “সিরিয়াস” ধরণের এই মানুষের দৃষ্টিতে পৃথিবীতে রয়েছে শুধুই ভালো এবং শুধুই খারাপ, এই দুইয়ের মাঝামাঝি কিছু নেই। তিনি একা একা থাকতে পছন্দ করেন। সোজাসাপ্টা প্রশ্ন করতে তার জুড়ি নেই। আর এই প্রশ্নের উত্তর গ্রহণ করার ব্যাপারেও তিনি সতর্ক।

বৃশ্চিক পুরুষ নিজের ভাগ্য নিজে গড়ে নেওয়ায় বিশ্বাসী। তিনি নিজের জীবনটাও পরিচালনা করে চলেন নিজের নিয়মে। যুদ্ধে একবার হেরে গেলেও তিনি চেষ্টা করে যান বারবার। স্বাধীনচেতা, নির্ভীক, কঠোর পরিশ্রমী এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী এই পুরুষ সহজেই জীবনে এগিয়ে যেতে পারেন। নিজের জীবনের ব্যাপারে অন্য কাউকে জানাতে পছন্দ করেন না তিনি, পছন্দ করেন প্রাইভেসি। খুব দ্রুত তার কাছের মানুষ হয়ে যাবার আশা বা চেষ্টা কোনটাই করবেন না। তিনি এমন এক পুরুষ যাকে পোষ মানানো যায় না। বেশ মেজাজি হয়ে থাকেন তারা, কষ্ট পেলে তার স্মৃতি মনে রাখেন বহুদিন। কিন্তু সময় নিয়ে তাকে জানার চেষ্টা করলে দেখতে পাবেন, আপনার জীবনের সবচাইতে স্পর্শকাতর এবং জ্ঞানী মানুষটি সম্ভবত তিনিই।



ধনু (২৩ নভেম্বর – ২১ ডিসেম্বর)

জীবনের পথে কখনই স্থির হয়ে থাকে না ধনু পুরুষ, তারা সর্বদাই ভ্রমণরত। কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারা পথভোলা। সত্য, সৌন্দর্য এবং জ্ঞানের অন্বেষণেই তাদের এই ভ্রমন। এ কারণে ব্যক্তি হিসেবে তাদেরকে অনেকটা ছাড় দিতে হয়। সম্পর্কের শৃঙ্খলে বেঁধে রাখতে গেলে তারা নিজেদের বন্দি মনে করেন এবং শৃঙ্খল ভেঙে চলে যান। কিছুটা দার্শনিক মনোভাবের ধনু সবকিছু চিন্তা করে গভীরভাবে। তিনি অন্যের কথা মন দিয়ে শুনতে পছন্দ করেন। মাঝে মাঝে তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন খুব বেশি দ্রুত। কিন্তু যে কোনও পরিস্থিতিতে তারা থাকতে পারেন আশাবাদী।



মকর (২২ ডিসেম্বর – ২০ জানুয়ারি)

মকর পুরুষকে দেখে যতই শান্তশিষ্ট এবং চুপচাপ মনে হোক, এই বাহ্যিক রূপ দেখে ভুল করবেন না মোটেও। তার চিন্তাভাবনা চলছে ঝড়ের গতিতে। জীবনে যতই বাধা আসুক, ধীরস্থিরভাবে তা ভেঙে ফেলেন মকর পুরুষ। এ কারণে তাকে হতে দেখা যায় বদ্ধপরিকর এবং একই সাথে কঠোর পরিশ্রমী। অধ্যাবসায় হলো তার সবচাইতে বড় গুণ। বেশিরভাগ সময়ে সাফল্য অর্জনের দিকে মন থাকে এই পুরুষের। এ কারণে তার ব্যক্তিত্বে দেখা যায় প্রচ্ছন্ন পরিপক্কতা। তিনি ঝুঁকি নিতে পছন্দ করেন না, ঝামেলা থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেন।



কুম্ভ (২১ জানুয়ারি – ১৮ ফেব্রুয়ারি)

প্রথম দেখায় আন্তরিক মনে হবে কুম্ভ রাশির পুরুষকে। কিন্তু তাতে মনে করবেন না তিনি একেবারেই নরম-সরম। তার হাসিখুশি মুখের পেছনে কাজ করছে প্রখর বুদ্ধিমত্তা। নিজের পক্ষে যতটা সম্ভব, পৃথিবীতে ততটাই ভালো কজ করে রেখে যেতে চান তিনি, আর সেটা করেনও সৃজনশীলতার মধ্য দিয়ে। অদ্ভুত কিছু অভ্যাস থাকতে পারে তাদের। জলের মতোই পরিবর্তনশীল তাদের প্রকৃতি। কখনো হয়ে থাকেন অসম্ভব রকমের একগুঁয়ে। কুম্ভ পুরুষের অনেক বন্ধু থাকতে পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে তিনি খুব খোলামেলা। বেশিরভাগ সময়েই বন্ধুরা ঠিক জানেন না তিনি আসলে কেমন। তার অনুভূতি হতে পারে লুকানো, তার প্রতিক্রিয়া জটিল। তার একেবারে কাছের মানুষ হয়ে ওঠা খুবই কঠিন, এবং তা করতে পারলে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করে নেবেন।



মীন (১৯ ফেব্রুয়ারি – ২০ মার্চ)

মীন রাশির পুরুষের মাঝে অন্যান্য রাশির বৈশিষ্ট্যের মিশ্রণ দেখা যায়। পৃথিবীর দিকে খুব বেশি নজর থাকে না তার। তার মানে এই, যে তিনি সবকিছুর অন্তর্নিহিত দিকের প্রতি বেশি খেয়াল করেন। আত্মিক চিন্তাভাবনা করে থাকেন প্রায়শই। মীন পুরুষের সাথে কথা বলার সময় আপনার মনে হতে পারে আপনি দুইজন আলাদা মানুষের সাথে কথা বলছেন। অথব এমন একজন আছে আপনার সামনে যার মন পড়ে আছে দুইটি আলাদা জগতে। মুহূর্তেই গোল্ডফিশ আবার মুহূর্তেই হাঙ্গর হয়ে উঠতে পারেন তিনি! বাইরে থেকে তাকে শান্ত মনে হলেও ঠিক সেই মুহূর্তে হয়তো তার মাঝে চলছে তীব্র অনুভুতির খেলা। তাকে মনে হতে পারে রহস্যময়, কারণ তার মনে কি চলছে সেটা অনেক সময়েই অন্যদের জন্য, এমনকি তার নিজের জন্যেও দুর্বোধ্য। সাধারণত নিজেদের এই বিচিত্র সব অনুভূতি তারা প্রকাশ করে থাকেন শিল্প-সাহিত্যের মাধ্যমে এবং সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে অন্যান্য রাশির চাইতে মীন পুরুষ বেশি সফল হয়ে থাকেন।

*রাশিচক্র*

পাগলী: একটি বেশব্লগ লিখেছে

মীন (১৯ ফেব্রুয়ারি – ২০ মার্চ)

মীন রাশির পুরুষের মাঝে অন্যান্য রাশির বৈশিষ্ট্যের মিশ্রণ দেখা যায়। পৃথিবীর দিকে খুব বেশি নজর থাকে না তার। তার মানে এই, যে তিনি সবকিছুর অন্তর্নিহিত দিকের প্রতি বেশি খেয়াল করেন। আত্মিক চিন্তাভাবনা করে থাকেন প্রায়শই। মীন পুরুষের সাথে কথা বলার সময় আপনার মনে হতে পারে আপনি দুইজন আলাদা মানুষের সাথে কথা বলছেন। অথব এমন একজন আছে আপনার সামনে যার মন পড়ে আছে দুইটি আলাদা জগতে। মুহূর্তেই গোল্ডফিশ আবার মুহূর্তেই হাঙ্গর হয়ে উঠতে পারেন তিনি! বাইরে থেকে তাকে শান্ত মনে হলেও ঠিক সেই মুহূর্তে হয়তো তার মাঝে চলছে তীব্র অনুভুতির খেলা। তাকে মনে হতে পারে রহস্যময়, কারণ তার মনে কি চলছে সেটা অনেক সময়েই অন্যদের জন্য, এমনকি তার নিজের জন্যেও দুর্বোধ্য। সাধারণত নিজেদের এই বিচিত্র সব অনুভূতি তারা প্রকাশ করে থাকেন শিল্প-সাহিত্যের মাধ্যমে এবং সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে অন্যান্য রাশির চাইতে মীন পুরুষ বেশি সফল হয়ে থাকেন।

*রাশিচক্র*

পাগলী: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বৃশ্চিক (২৪ অক্টোবর – ২২ নভেম্বর)

বৃশ্চিক রাশির পুরুষকে তুচ্ছ করে দেখবেন না কখনোই। অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে সাধারণত মাথা ঘামান না তিনি। “সিরিয়াস” ধরণের এই মানুষের দৃষ্টিতে পৃথিবীতে রয়েছে শুধুই ভালো এবং শুধুই খারাপ, এই দুইয়ের মাঝামাঝি কিছু নেই। তিনি একা একা থাকতে পছন্দ করেন। সোজাসাপ্টা প্রশ্ন করতে তার জুড়ি নেই। আর এই প্রশ্নের উত্তর গ্রহণ করার ব্যাপারেও তিনি সতর্ক।

বৃশ্চিক পুরুষ নিজের ভাগ্য নিজে গড়ে নেওয়ায় বিশ্বাসী। তিনি নিজের জীবনটাও পরিচালনা করে চলেন নিজের নিয়মে। যুদ্ধে একবার হেরে গেলেও তিনি চেষ্টা করে যান বারবার। স্বাধীনচেতা, নির্ভীক, কঠোর পরিশ্রমী এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী এই পুরুষ সহজেই জীবনে এগিয়ে যেতে পারেন। নিজের জীবনের ব্যাপারে অন্য কাউকে জানাতে পছন্দ করেন না তিনি, পছন্দ করেন প্রাইভেসি। খুব দ্রুত তার কাছের মানুষ হয়ে যাবার আশা বা চেষ্টা কোনটাই করবেন না। তিনি এমন এক পুরুষ যাকে পোষ মানানো যায় না। বেশ মেজাজি হয়ে থাকেন তারা, কষ্ট পেলে তার স্মৃতি মনে রাখেন বহুদিন। কিন্তু সময় নিয়ে তাকে জানার চেষ্টা করলে দেখতে পাবেন, আপনার জীবনের সবচাইতে স্পর্শকাতর এবং জ্ঞানী মানুষটি সম্ভবত তিনিই।

*রাশিচক্র*

পাগলী: একটি বেশব্লগ লিখেছে

মিথুন (২২ মে – ২১ জুন)

চমৎকার কথার জাল বুনে আপনাকে তাক লাগিয়ে দেবেন মিথুন রাশির পুরুষ। আর এই কথা কিন্তু অযথা গালগপ্পো নয়। একটু মন দিয়ে শুনলেই তার মাঝে বুদ্ধির ঝিলিক দেখতে পাবেন আপনি। সে কখনোই আপনাকে বোর করবে না। তার মাঝে কখনো দেখতে পাবেন একেবারেই সহজ সরল মনের প্রকাশ, কখনো আবার তার মাঝে থেকে উকি দেবে খুব উঁচুদরের মানসিকতা। তিনি যে কোনও ভালো খারাপ উভয় দিক দেখতে পারদর্শী। তিনি অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন বটে। তবে মুদ্রার ওপিঠে রয়েছে একটু ভুলোমনা মানুষ, যে কিনা সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তার মেজাজও পরিবর্তন হয় খুব দ্রুতই। সামাজিক এবং বহুরূপী এই পুরুষের রয়েছে যে কোনও সমস্যা সমাধানের দুর্লভ বৈশিষ্ট্য।

*রাশিচক্র*

পাগলী: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ধনু (২৩ নভেম্বর – ২১ ডিসেম্বর)

ধনু রাশির নারীর মাঝে প্রচ্ছন্ন দার্শনিক বৈশিষ্ট্য দেখতে পাওয়া যায়। সব পরিস্থিতিতেই সত্যের খোঁজ করেন তিনি। অনেক বৈচিত্র্য দেখা যায় তার চরিত্রে এবং সব অভিজ্ঞতাকেই তিনি মুল্যবান বলে মনে করেন। নিজের জীবনের সার্থকতা খুঁজে বেড়ান তিনি। খুব স্বতঃস্ফূর্ত এবং স্বাধীনচেতা এই নারীর গভীর ব্যক্তিত্ব অনেকের কাছেই আকর্ষণীয়। কোনও বাঁধাধরা নিয়মের বেড়াজালে আটকাতে যাবেন না বৃশ্চিক নারীকে, সহসাই সেই জাল ছিঁড়ে চলে যাবেন তিনি।

*রাশিচক্র*

পাগলী: একটি বেশব্লগ লিখেছে

মকর (২২ ডিসেম্বর – ২০ জানুয়ারি)

উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং নেতৃত্ব দেবার মনোভাব মকর নারীকে নিয়ে যায় সাফল্যের চূড়ায়। এই সাফল্য অর্জন করার পথে কোনও বাধাই সহ্য করেন না তিনি। সুতরাং তার ইচ্ছেপূরণের বিরোধীতা করবেন না কখনোই। আপনাকেও ধুলোয় ফেলে যেতে তিনি দ্বিধা করবেন না। মকর নারী হয়ে থাকেন একগুঁয়ে। খুব সহজে নিজের মেজাজ খারাপ করেন না তিনি। মাথা ঠাণ্ডা রেখেই নিজের প্রতিযোগীকে পিষে ফেলেন পায়ের নিচে।

*রাশিচক্র*

পাগলী: একটি বেশব্লগ লিখেছে

মীন (১৯ ফেব্রুয়ারি – ২০ মার্চ)

মীন রাশির নারীর ভেতরে লুকিয়ে আছে অনেক অনেক রহস্য। প্রাণবন্ত এবং রোমান্টিক তিনি। বাইরে থেকে দেখে যেমনটা মনে হয়, তার থেকে একেবারেই অন্যরকম ব্যক্তিত্ব লুকিয়ে রাখেন তারা। হয়ে থাকেন স্পর্শকাতর, আবেগী, কিন্তু সেটা সহজে বুঝতে দেন না কাউকে। সত্যিকারের স্বপ্নচারী হয়ে থাকেন মীন নারী। গভীর আধ্যাত্মিক মানসিকতা রয়েছে তার মাঝে। খুব সাধারণ কোনও কিছুর মাঝেও অন্তর্নিহিত অর্থ খুঁজে বের করেন তিনি, যেটা অন্য কারও চোখে পড়বেই না।

তারা হয়ে থাকেন বেশ সৃজনশীল। পরিচিত-অপরিচিত সবার প্রতিই দয়ালু হয়ে থাকেন তারা। তার চরিত্রের অন্যতম একটা বৈশিষ্ট্য হলো, বাস্তবতা যখন কঠিন হয়ে যায়, তখন মীন নারী নিজের কল্পনার জগতে হারিয়ে যেতে পারেন সহজেই। এর মাধ্যমে নিজের দুঃখকে সবার থেকে আড়াল করে রাখতে পারেন মীন নারী।


*রাশিচক্র*

পাগলী বেশব্লগটি শেয়ার করেছে

আল-কোরআন নাযিলের উদ্দেশ্য কিঃ-

পবিত্র কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্যাবলি নিম্নরুপঃ-

১। সমস্যার সমাধানঃ মানবতার সকল সমস্যার সমাধান কল্পে আল-কুরআন অবতীর্ণ হয়।

২। হেদায়াতের আলোকবর্তিকাঃ বিশ্ববাসীর জন্য হেদায়াত, রহমত ও সুসংবাদের ঘোষনা এবং দিশেহারা মানুষকে সঠিক পথের সন্ধান দানের নিমিত্তে আল্লাহ তায়ালা আল-কুরআন অবতীর্ন করেন।

৩। তাযকিয়ায়ে নফসঃ আত্নার পরিশুদ্ধি সাধনের লক্ষে আল-কুরআন অবতীর্ন হয়।

৪। ভ্রান্ত বিশ্বাস অপনোধনঃ  তৎকালীন আরব সমাজের লোকেরা বিভিন্ন ভ্রান্ত আকীদা পোষণ করত। নিজেদের  মনমত বিধান তৈরী করে জীবন অতিবাহিত করত। তারা ছিল চরম কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। তাদের সে ভ্রান্ত আকীদাসমূহ খন্ডনের নিমিত্তে কুরআন অবতীর্ন হয়।

৫। ইসলামী সমাজের রুপরেখা প্রধানঃ ইসলামী সমাজের একটি বাস্তব রুপরেখা প্রধান করে মানব রচিত সকল মতাদর্শ উৎখাত করে আল-কুরআনের রাজ কায়েম করা। বস্তুত এটাই ছিল কুরআন নাযিলের মূল উদ্দেশ্য।

৬। সত্যায়নকারী রুপেঃ আল-কুরআন সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ আসমানী কিতাব। এর পুর্বে অনেক আসমানী কিতাব নিয়ে অগণিত নবী ও রাসূল আগমণ করেছেন।সর্বশেষ কুরআন এসে পূর্ববর্তী নবী রাসূল ও তাদেরকে প্রদত্ত আসমানী কিতাবের সত্যতা প্রমাণ করেছে।

৭। শিরক মুক্ত সমাজ বিনির্মাণঃ আল-কুরআন নাযিলের পুর্বে মানবতা ছিল জাহেলিয়াতের ঘোর অমানিশায় আচ্ছন্ন। শিরক, কুফর আর নিফাকীতে ছেয়ে গিয়েছিল মানব সমাজ। কুরআন এসে বিশ্ববাসীকে শিরক,কুফর ও নেফাকী থেকে মুক্ত করে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির পথ-নির্দেশ প্রদান করে।

৮। ইনসাফ কায়েমঃ বিশ্ব মানবতা শান্তি চায়। আর এ জন্য দরকার ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠিত হওয়া। কুরআন নাযিলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হল ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।

৯। প্রতিপালকের সাথে সম্পর্ক সৃষ্টিঃ প্রতিটি মুমিনেরই একান্ত কামনা থাকে তার মনিবের সাথে সাক্ষাত লাভ।আর আল-কুরআন এ কামনা পূরনে পথনির্দেশ হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে। এর অসংখ্য আয়াতে প্রতিপালকের সাথে সম্পর্ক সৃষ্টির প্রয়োজনীয় হেদায়াত ও উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।

১০। সতর্কতা  প্রদানের নিমিত্তেঃ পবিত্র কুরআন আল্লাহ প্রদত্ত সকল নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য অবতীর্ন হয়েছে। পাশাপাশি অতীতের হটকারী জাতিগুলোর শোচণীয় পরিণামসমুহ উল্লেখের মাধ্যমের মানবসমাজকে সতর্কতা প্রদানের নিমিত্তে আল-কুরআন অবতীর্ণ হয়।

আল-কোরআন নাযিলের ইতিহাসঃ-

কুরআনুল কারীম আল্লাহর সংরক্ষিত দপ্তর লাওহে মাহফুযে সংরক্ষিত ছিল এবং বর্তমানেও আছে। যেমন আল্লাহ ইরশাদ করেন "বরং এটা মহান কোরআন,লওহে মাহফুযে লিপিবদ্ধ।"(বুরুজ-২১,২২) এই কুরআন আমাদের নবী মুহাম্মদ (সঃ)-এর উপর প্রয়োজন অনুযায়ী নবুয়তের তেইশ বছর সময়ে অল্প অল্প করে অবতীর্ণ হয়। আলেমগণ যদিও এ ব্যাপারে একমত যে,পবিত্র কুরআন রমযান মাসের কদরের রাতে লাওহে মাহফুয থেকে অবতীর্ণ হয়েছে, কিন্তু অবতীর্ণ হওয়ার ইতিহাস নিয়ে তাঁরা মতবিরোধ করেছেন। আল্লামা সূয়ুতী (র) এ সম্পর্কে তিনটি অভিমত উল্লেখ করেছেন।

১। প্রথম অভিমতঃ  প্রথম অভিমত হল-পবিত্র কুরআন কদরের রাতে লাওহে মাহফুয থেকে দুনিয়ার আসমানে একত্রে অবতীর্ণ হয়। অতঃপর রাসূল (সঃ)-এর নবুয়তের সুদীর্ঘ তেইশ বছর জীবনে প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প অল্প করে নাযিল হয়। আর এই মতটিই সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ।

২। দ্বিতীয় অভিমতঃ আল্লামা ফখরুদ্দীন রাযী'র মতে পবিত্র কুরআন লাওহে-মাহফুয থেকে প্রথম আসমানে ক্বদরের রাতে নাযিল হয়। অর্থাৎ প্রত্যেক বছর ক্বদরের রাতে ততটুকু পরিমাণ কুরআন নাযিল হত যতটুকু ঐ পূর্ণ বছরে প্রয়োজন। অতঃপর সারা বছরে অল্প অল্প করে প্রয়োজনমত প্রথম আসমান থেকে রাসূল (সঃ)-এর নিকট অবতীর্ণ হত।

৩। তৃতীয় অভিমতঃ আল্লামা শাবী (র)-এর অভিমত হল-কুরআন নাযিলের সূচনা হয় লাইলাতুল ক্বদর বা ক্বদরের রাতে। অতঃপর বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনের আলোকে সুদীর্ঘ তেইশ বছরে অল্প অল্প করে অবতীর্ণ হয়।

এছাড়া  আল্লামা মাওয়ারিদির অভিমত হল-পবিত্র কুরআন লাওহে মাহফুয থেকে একত্রে নাযিল হয়েছে। আর সংরক্ষক ফেরেশতাগন ক্বদরের রাতে জিবরাইলের নিকট পেশ করেন।

আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী (র) বুখারীর তথা প্রথম মতটিকেই প্রকাশ করেছেন। আর এটা গ্রহনীয় মত।

আল-কোরআন  কখন নাযিল হয়ঃ

আল্লামা যরকানী (র) বলেন কুরআনুল কারীমকে দুইবার নাযিল করা হয়। দুইবার নাযিল করে মূলঃত এই সত্যের প্রতি ইংগিত করা হয়েছে যে, এই খোদায়ী গ্রন্থ সর্বপ্রকার সংশয়-সন্দেহের ঊর্ধ্বে; রাসুল (স)-এর স্মৃতিপট ছাড়াও তা' আরও দুই জায়গায় লাওহে মাহফুযে ও বাইতুল ইজ্জতে সংরক্ষিত রয়েছে।

কুরআন অবতীর্ণের সময় রাসূল (সঃ)-এর বয়স ছিল চল্লিশ বছর। নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় এ কথাও প্রকাশ যে, এই অবতীর্ণ আরম্ভ হয় লাইলাতুল ক্বদরে, অর্থাৎ রমজান মাসের সেই তারিখ যে তারিখে বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।

 কুরআন নাযিলের সূচনা সম্পর্কে স্বয়ং কুরআন থেকেও নিম্নের এই তথ্যাবলী প্রমাণিত হয়ঃ

১। কুরআন নাযিলের সূচনা রমজান মাসে হয়েছে।

২। যে রাত্রিতে কুরআন নাযিল আরম্ভ হয়, তা লাইলাতুল ক্বদর ছিল।

৩। যে তারিখে কুরআন নাযিল আরম্ভ হয়, এগার বছর পর সেই তারিখে বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

আল-কোরআন নাযিলের পদ্বতি সমুহ কি কিঃ-

মুফাসসির  এবং আলেমগন রাসূল (সঃ)-এর উপর কুরআন নাযিলের পদ্ধতির কয়েকটি প্রকার বর্ণনা করেছেন। নিম্নে তা আলোচনা করা হল-

১। ঘন্টার আওয়াজের ন্যায়ঃ রাসূল (সঃ)-এর নিকট জিব্রাইল (আঃ) যখন ওহী নিয়ে আসতেন তা শুনে রাসূলের (সঃ) মনে হত ঘন্টার আওয়াজের মত। তা বুখারী ও মুসনাদে আহমদে বর্ণিত হয়েছে। আর এ প্রকারটি ছিল ওহী নাযিল হওয়ার কঠিনতম পদ্ধতি। কেননা এতে বোধগম্য হওয়া খুব কঠিন।

২। মানস-পটে ফুঁকে দেওয়াঃ রাসূল (সঃ)-এর অন্তরে কালামকে ঢেলে দেয়া হত বা উদ্রেক করে দেয়া হত।

৩। মানব আকৃতিঃ জিবরাইল (আ) রাসূল (স)-এর নিকট মানুষের রুপ ধারণ করে আগমণ করত এবং সরাসরি কথোপকথন করত। অর্থাৎ সরাসরি মানুষের রুপ ধারণ করে ওহী নিয়ে আসত। আর এটাই ছিল অহীর সহজতর পদ্ধতি।

৪। নিজস্ব আকৃতিঃ কখনও জিবরাইল নিজস্ব আকৃতিতে ওহী নিয়ে আসতেন।

৫। নিদ্রাবস্থায়ঃ রাসূল (সঃ)-এর নিকট নিদ্রাবস্থায় ফেরেস্তা ওহী নিয়ে আগমন করত।

৬। আল্লাহর সাথে সরাসরি বাক্যালাপঃ  রাসুল (সঃ)-এর সাথে আল্লাহর সরাসরি কথোপকথন ও আলাপের মাধ্যমে। এটা আবার দুই প্রকার।

ক) জাগ্রত অবস্থায়ঃ মিরাজের রাতে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত ও কথাবার্তা হয়েছিল, তখন পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করা হয়।

খ) নিদ্রাবস্থায় কথোপকথনঃ নিদ্রাবস্থায় স্বপ্নযোগে আল্লাহর সাথে কথোপকথনের মাধ্যমে কিছু আয়াত নাযিল হয়। সূরা বাকারার শেষাংশ, এবং দুহার কিছু অংশ, ও আলামনাশরাকাকে এর অন্তর্ভূক্ত করা হয়। 

ওহী কাশফ ও ইলহামের মধ্যে পার্থক্যঃ

ওহী একমাত্র আম্বিয়া-কিরামেরই বৈশিষ্ট।যত বড় ওলী আর সাধকই হোক না কেন, আম্বিয়া-কিরাম ছাড়া অন্য কারোর প্রতি ওহী প্রেরণ করা হয় না। অবশ্য কোন কোন সময় আল্লাহ পাক স্বীয় রহমত ও অনুগ্রহে তার খাছ বান্দাদেরকে বিশেষ কোন বিষয় অবগত করিয়ে দেন। এটা ওহী নয় বরং এর নাম 'কাশফ বা ইলহাম'

কাশফ ও ইলহামের পার্থক্য বর্ণনা প্রসংগে মুজাদ্দেদে আলফেসানী (রহ) বলেন-

কাশফের সম্পর্ক মূলতঃ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়াদির সাথে। এর  মাধ্যমে কেবল দৃষ্টিশক্তির আয়ত্বাধীন বিষয়বস্তু বা ঘটনা পরিদৃষ্ট হয়ে থাকে।

পক্ষান্তরে ইলহামের সম্পর্ক উপলব্ধিজনিত বিষয়াধির সাথে। তাই এর মাধ্যমে কোন বস্তু পরদৃষ্ট না হয়ে কোন বিষয় বা কথা মানসপটে উদ্রিক্ত হয়।  এই কারণেই সাধারণতঃ ইলহাম কাশফের তুলনায় বিশ্বাসযোগ্য ও নিশ্চিত হয় বেশী। আল-কুরআন নাযিলের এই পদ্ধতিটা (মানস-পটে ফুঁকে দেওয়াঃ) বাহ্যতঃ অনেকটা ইলহামের নিকটবর্তী। কিন্তু কোন বিষয় অন্তর্লোকে নিক্ষেপ করার বিষয়টি ওহী ও ইলহামের মধ্যে বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও প্রকৃতিগত ভাবে এই দুইয়ের মধ্যে কিছু পার্থক্য বিদ্যমান। তা হল-ওহী প্রাপ্তির সাথে সাথে (আম্বিয়া-কিরাম) ওহী নাযিলকারী সত্তা(ফেরেশতা) নিশ্চিতভাবে নির্ণিত হয়।

সুতরাং আম্বিয়া-কিরামের ওহী সম্পুর্ণ সন্দেহমুক্ত,নিশ্চয়তা বিধানকারী ও অকাট্য হয়ে থাকে এবং সেই অনুযায়ী আমল করা ও আনুগত্য স্বীকার করাও সকলের উপর ফরয ও অবশ্য কর্তব্য হিসাবে পরিগণিত হয়।

পক্ষান্তরে আওলিয়া-কিরামের ইলহাম সর্বদিক থেকে সন্দেহমুক্ত ও অকাট্য হয় না। তাই দ্বীন ও শরীয়তের দৃষ্টিতে ইলহাম যেমন প্রামাণ্য পর্যায়ে উপনীত হতে পারেনা, তেমনি এর আনুগত্য স্বীকার করাও জরুরী হিসাবে পরিগণিত হয় না।

মুজাদ্দেদে আলফে সানী (রঃ) বলেন-'কাশফ ও ইলহাম (সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া) অপরের জন্য দলীল হিসেবে পরিগণিত নয়'। এমনকি কাশফ ও ইলহামের মাধ্যমে প্রাপ্ত কোন বিষয় যদি কুরআন-হাদীসের বিরোধী হয়, তবে সেই অনুযায়ী আমল করাও দুরস্ত হবে না।

আল্লামা হাজার আসকালানী (রঃ) বলেন-'এমনকি  যদি কোন ব্যক্তি কাশফ ও ইলহামের মাধ্যমে কোন বিষয় প্রাপ্ত হয়, তবুও কুরআনের মানদন্ডে তা যাচাই করে নেওয়া তার জন্য জরুরী, নিছক কাশফ বা ইলহামের উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া দুরস্ত হবে না'। (ফাতহুল বারী) (সংগৃহীত) 

পাগলী বেশব্লগটি শেয়ার করেছে

আল-কোরআনে বর্নিত কোরআনের নাম সমুহঃ-

 

পবিত্র কোরআনেই এর বিভিন্ন নাম উল্লেখ করা হয়েছে, আল্লামা সুয়ুতী(রঃ) তাঁর রচিত গ্রন্থ "আল-ইতকান ফি উলুমুল কুরআন"-এ ৫৫টি নাম বর্ণনা করেছেন, তা হলঃ 

১। আল-কোরআনঃ এটা উক্ত গ্রন্থের নির্দিষ্ট নাম। যেহেতু এটা অধিক পঠিত গ্রন্থ, বিধায় এটাকে 'কুরআন' নামকরন করা হয়েছে।(বুরুজ-২১,২২)

২। আল-কিতাবঃ যেহেতু এর মধ্যে সকল প্রকার জ্ঞান-বিজ্ঞান ও ঘটনাবলি এবং সঠিক সংবাদ উত্তমরুপে একত্রিত করা হয়েছে তাই একে 'কিতাব' বলা হয়।(বাকারা-০২)

৩। আল-মুবীনঃ মুবীন অর্থ স্পষ্ট, যা বাতিল থেকে হক এবং সত্যকে প্রকাশ করে।এ জন্য কুরআনকে 'মুবীন' বলা হয়।

৪। আল-কারীমঃ এটা আসমান এবং জমীনের মর্যাদাবান বা সম্মানিত গ্রন্থ, তাই একে 'কারীম' নামকরণ করা হয়েছে।

৫। আল-ফুরকানঃ কেননা কুরআন সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী। তাই 'ফুরকান' বলা হয়।

৬। আল-হাকীমঃ যেহেতু এটা গভীর অর্থদায়ক ও বিজ্ঞানময়,তাই 'হাকীম' বলা হয়।

৭। আল-কালামঃ  যেহেতু কুরআন আল্লাহর বানী তাই একে 'কালাম' বলা হয়।

৮। আল-মাওয়েঝাতুঃ যেহেতু এটা মানবজাতির জন্য নসীহত স্বরুপ, তাই 'মাওয়েঝাত' বলা হয়।

৯। আন-নূরঃ কেননা  এটা দ্বারা হালাল হারামের অন্ধকার দূর হয়, তাই 'আন্নুর' বলা হয়।

১০। আল-মুহাইমেনুঃ কেননা এটা পুর্ববর্তী কিতাব ও জাতির ঘটনাবলি সংরক্ষন করে,তাই 'মুহাইমেনু' বলা হয়।

১১। আত্ব-তাযকিরাতুঃ এটা বহুল উপদেশ সম্বলিত গ্রন্থ। তাই 'তাযকিরাত' বলা হয়।

১২। আশ্-শিফাঃ কারন এটা মানুষের শারীরিক ও আত্নিক রোগ উপশমকারী।

১৩। আল-হুদাঃ যেহেতু এটা মানবজাতির জন্য হেদায়াত স্বরুপ।

১৪। আর্-রাহমাতুঃ এটা মানবজাতির জন্য রহমত স্বরুপ।

১৫। আল-আজাবঃ কেননা এটা সার্বিক বিবেচনায় এক বিস্ময়কর গ্রন্থ।

১৬। আল-ওহীঃ কুরআন আল্লাহর প্রত্যাদেশ, তাই 'ওহী' বলা হয়।

১৭। আর-রুহুঃ কেননা কুরআন হৃদয় ও আত্নাকে পুনর্জীবিত করে।

১৮। আল-মাজীদঃ যেহেতু এটা অত্যন্ত মর্যাদাশীল বা সম্মাণিত কিতাব।

১৯। যিকরঃ কেননা এতে অনেক উপদেশ এবং পূর্ববর্তী উম্মতের ঘটনার আলোচনা বিদ্যমান।

২০। আল-মুবারাকঃ পবিত্র কুরআন মানবজাতির জন্য বরকতময় গ্রন্থ।

২১। আল-আ'লীইয়ুঃ কেননা এর মর্যাদা সুমহান।

২২। আল-হিকমাতঃ কেননা এটা অগাধ হেকমত বা প্রজ্ঞায় পরিপুর্ন।

২৩। সিরাতুল মুস্তাকীমঃ কারন এটা বেহেস্তের পথ প্রদর্শন করে যার মধ্যে কোন বক্রতা নেই।

২৪। হাবলুল্লাহঃ কেননা উক্ত কোরআন যে আঁকড়ে ধরবে সে জান্নাতে যাবে।

২৫। আল-আরাবীঃ কেননা এটা আরবি ভাষায় অবতীর্ন হয়েছে।

২৬। আল-ক্বাইয়েমুঃ যেহেতু এটা সুদৃঢ ও চিরস্থায়ী বাণী।

২৭। আল-ক্বাওলুঃ কেননা এটা  আল্লাহর বাণী।

২৮। আল-ফাসলুঃ এ কুরআন সত্য ও অসত্যের মাঝে পার্থক্যকারী বাণী।

২৯। আন-নাবাউলআযীমঃ যেহেতু এটা পুনরুত্থানের সংবাদ প্রদান করে।

৩০। আহসানুল হাদীছঃ কেননা কুরআন সর্বোত্তম বাণী।

৩১। আল মাছানীঃ যেহেতু এর মধ্যে বিভিন্ন ঘটনা ও উপদেশ বারবার আলোচিত হয়েছে, তাই 'মাছানী' বলা হয়।

৩২। আল-মুতাশাবিহাঃ যেহেতু তার এক আয়াত অপর আয়াতের সাদৃশ্য তাই 'মুতাশাবিহা' বলা হয়।

৩৩। আত্ব-তানযীলঃ কেননা কুরআন প্রয়োজনানুসারে ধীরে ধীরে অবতীর্ণ হয়েছে।

৩৪। আল-বাছায়েরঃ কারন রটা জ্ঞান ভান্ডারে পরিপুর্ণ।

৩৫। আল-বায়ানঃ যেহেতু কুরআনে সবকিছুর বর্ননা রয়েছে।

৩৬। আল-ঈলমুঃ কেননা এটা সকল জ্ঞানের উৎস।

৩৭। আল-হাক্কুঃ কেননা এটা সত্য ও ন্যায়ের বাহক।

৩৮। আল-হাদীঃ কারন এটা জান্নাতের পথ দেখায়।

৩৯। আল-মুসাদ্দেকুঃ কেননা এটা পূর্ববর্তী সকল কিতাবকে সত্যায়ন করে।

৪০। আল উরওয়াতুল উছক্বাঃ কেননা এটা মুক্তির একমাত্র অবলম্বন।

৪১। আস-সিদ্বক্বুঃ কারন কুরআন অকাট্য সত্য বাণী।

৪২। আল-আদলঃ কেননা এটা ন্যায়পরায়ণাতার কথা বলে।

৪৩। আল-আ'মরুঃ কেননা এটা আল্লাহর আদেশের পান্ডুলিপি।

৪৪। আল-মুনাদাঃ কারন এটা মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকে।

৪৫। বুশরাঃ কেননা এটা পরলৌকিক মুক্তির সুসংবাদ প্রদান করে।

৪৬। আয-যাবুরঃ কেননা তা অন্যান্য কিতাবের মত।

৪৭। আল-বাশীরঃ কারন এটা জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করে।

৪৮। আন-নাযীরঃ এ কুরআন জাহান্নামের দুঃসংবাদ প্রদান করে।

৪৯। আল-আযীযুঃ কেননা কুরআনের বিরোধীর জন্য এটা প্রবল পরাক্রমশালী।

৫০। আল-বালাগুঃ কেননা এটা তৌহিদের বানী মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়।

৫১। আহসানুল ক্বাসাসঃ কেননা কুরআনের বর্ণিত ঘটনাসমুহ সত্য, সুন্দর ও বিশুদ্ধ।

৫২। আল-মাছহাফঃ যেহেতু এ গ্রন্থ মাসহাফে লিখিত।

৫৩। আল-মুকাররামাতঃ কারন কুরআন অতি সম্মাণিত গ্রন্থ।

৫৪। আল-মারফুয়াতঃ কেননা এ গ্রন্থ উন্নত মর্যাদার অধিকারী।

৫৫। আল-মুত্বাহহারাতঃ এটা পুতঃপবিত্র কিতাব। তাই একে 'মুত্বাহহারাত' বলা হয়/ (সংগৃহীত) 


পাগলী বেশব্লগটি শেয়ার করেছে

বিজ্ঞানময় আল-কোরআন মানবজাতির মুক্তিরসনদ। এটা সর্বকালের ও সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ ঐশীগ্রন্থ। এতে মানবজীবনের মৌলিক সমস্যাগুলোর প্রকৃত সমাধান পেশ করা হয়েছে। তা ছাড়া জাগতিক সকল সৃষ্টির বিজ্ঞানভিত্তিক বর্ণনা রয়েছে এই কুরআনে ।আর উক্ত কুরআনকে সহজে উপলব্ধি করার জন্য এবং ক্রমান্বয়ে অধ্যয়ন করার সুবিধার্থে সুরা এবং আয়াতে বিভক্ত করে দিয়েছেন। যার ফলে মানুষ সহজে কোরআন অধ্যয়ন করে তা অনুধাবন করতে পারে। এবং বাস্তব জীবনে তার প্রতিফলন ঘটাতে পারে। এ সকল কারনেই এ পৃথিবীতে আল-কোরআন সর্বাধিক পঠিত ও গবেষণার উৎস। অন্যান্য আসমানী কিতাবের ন্যায় মহাগ্রন্থ পবিত্র আল-কোরআন একেবারেই নাযিল হয়নি,বরং মহানবী (সঃ) এর নবুয়তি জীবনের সুদীর্ঘ তেইশ বছরে প্রয়োজন অনুসারে অল্প অল্প করে জিব্রাইল আমীনের মারফতে ওহীর মাধ্যমে অবতীর্ন করেন। এ প্রক্রিয়ায় কোরআন অবতীর্ন হওয়ার মাঝে নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহর অপার হেকমত নিহিত ছিল। সুতরাং কুরআনের উপর আমলকারীদের এর সুরা বা আয়াত অবতীর্নের কারন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা প্রয়োজন,যা থেকে বহুবিধ উপকারীতা লাভ করা যায়। এই কুরআন যেহেতু আরবী ভাষা-ভাষীদের উপর নাযিল হয় তাই তাতে যবর যের ইত্যাদি ছিল না। পরবর্তীতে অনারবদের পড়ার ও বুঝার সুবিধার্থে যবর-যের ইত্যাদি সংযোগ করে আমাদের জন্য আরো নেয়ামতপুর্ণ করে তোলা হয়। নিন্মে আল-কুরআনের বিষয়ে বিস্তারীত আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।


আল-কোরআনের শাব্দিক পরিচয়ঃ- 


কোরআন-এর শাব্দিক বিশ্লেষণ নিয়ে আলেমদের মতবিরোধ রয়েছে। যেমনঃ-

১। ইমাম শাফেয়ী ও একদল আলেমের মতে-'কুরআন' হল নির্ধারিত নাম।এটা এসমে মুশতাক বা অনির্ধারিত নাম নয়। তাঁরা বলেন এটা কালামুল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট নাম। যেমন ইঞ্জিল, তাওরাত, যবুর বিশেষ কিতাবের নাম ছিল। অনুরুপ সর্বশেষ ঐশী গ্রন্থের নাম হল কুরআন; আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেছেন-"বরং এটা মহান কোরআন লওহে মাহফুযে লিপিবদ্ধ।"(বুরুজ ২১-২২)

২। আরেক দল আলেম বলেন,'কুরআন' শব্দটি অনির্দিষ্ট নাম। যার অর্থ মিলিত অর্থাৎ একটি অপরটির সাথে মিলিত। আর যেহেতু পবিত্র কুরআনের এক আয়াত অপর আয়াতের সাথে মিলিত তাই এটাকে 'কুরআন' বলা হয়।

৩। কিছু সংখ্যক আলেমের মতে, 'কুরআন' শব্দটি 'ক্বারউন' হতে নির্গত। এসমে মাফউল থেকে এর অর্থ হবে পঠিত। পবিত্র কুরআনকে এজন্যই কুরআন বলা হয় যেহেতু এটা পৃথিবীতে সর্বাধিক পঠিত গ্রন্থ।

৪। অনেকে বলেছেন, 'কুরআন' শব্দটির অর্থ অধিক নিকটতর। যেহেতু কুরআনের পাঠ, পঠন ও তদানুযায়ী আমলকারীকে আল্লাহর নিকট পৌঁছে দেয়। তাই কুরআনকে 'কুরআন' নামকরন করা হয়েছে।

৫। ইমাম রাগেব ইসফাহনী (রহঃ) বলেছেন 'কুরআন' এর অর্থ হল একত্র করা, জমা করা। কোন বিষয় অধ্যয়ন ও পাঠ করার জন্যে প্রচুর অক্ষর এবং শব্দসম্ভার একত্র করতে হয়; এই ন্যুনতম সামঞ্জস্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পর্যায়ে 'কুরআন' শব্দটি অধ্যয়ন করা , পাঠ করা'র অর্থেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।


আল-কুরআনের পারিভাষিক পরিচয়ঃ-


১। নুরুল আনোয়ার গ্রন্থকার বলেন-কুরআন হল রাসুল(সঃ)-এর উপর অবতারিত যা সহীফাসমুহে লিপিবদ্ধ আছে, যা রাসুল(সঃ) থেকে সন্দেহমুক্ত প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিকভাবে উদ্ধৃত হয়ে এসেছে।

২। মুজামুল ওয়াসীত গ্রন্থে বলা হয়েছে-কুরআন হল আল্লাহর কালাম বা কথা যা তিনি তাঁর রাসুল(সঃ) এর উপর অবতীর্ণ করেছেন, যা সহীফাসমুহে লিপিবদ্ধ আছে।

৩। আল্লামা মুফতী আমীমুল ইহসান(রঃ) বলেন-কুরআন হল এমন এক আসমানী কিতাব যা আমাদের মহান নেতা মুহাম্মদ (সঃ) এর উপর অবতীর্ণ, যার একটি সূরার মোকাবিলায় মানুষ অক্ষম।


আল-কোরআনের আলোচ্য বিষয় কিঃ-


আল-কোরআনের  মূল আলোচ্য  বিষয় মানব জাতি। কি তাদের কল্যাণ আর কিসে তাদের অকল্যাণ হয় পবিত্র কোরআনে তারই পরিচয় দান করা হয়েছে। বিষয়বস্তুর দিক হতে পুরো আল-কোরআনকে যে ভাবে ভাগ করা যায় তা নিন্মে দেয়া হলো-

ক) তাওহীদ বা আল্লাহর পরিচয়।

খ) রিসালাত বা নবী রাসূলদের পরচয়।

গ) আখিরাত বা তার পরিচয়।

ঘ) কিতাবুল্লাহর গুরুত্ব ও মর্যাদা ইত্যাদি।

হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ (রাঃ) তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ফওযুল কবিরে কোরআনের আলোচ্য বিষয়গুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেছেন।

১। ইলমুল আহকাম বা সাংবিধানিক জ্ঞানঃ ব্যক্তি জীবন থেকে রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত সকল প্রকার বিধি নিষেধ এবং ফরজ, ওয়াজিব, হালাল, হারামসহ যাবতীয় আদেশ-নিষেধ এর আওতাভুক্ত।

২। ইলমুল মুখাদামা বা ন্যায়শাস্ত্রঃ ইয়াহুদ, নাছারা, মুশরিক ও মুনাফিক এই চার দলের ভ্রান্ত মতবাদ সংক্রান্ত।

৩। ইলমুল তাযকীর বা স্রষ্টাতত্বঃ  তাওহীদ বা একত্ববাদের সকল প্রকার আলোচনা।

৪। সৃষ্টিতত্বঃ আল্লাহর সৃষ্ট বস্তুর অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা।

৫। পরকাল জ্ঞানঃ আখেরাত বা পরকাল সংক্রান্ত শাস্তি পুরস্কারসহ সকল আলোচনা।


আল-কুরআনকে কেন কোরআন নামকরন করা হয়েছেঃ-

 

কি তাৎপর্য ও সাদৃশ্যের ভিত্তিতে পবিত্র এই গ্রন্থের নাম "আল-কোরআন" হয়েছে; মূল  গ্রন্থের সাথে এ নামের সামঞ্জস্য কি; এ সম্পর্কে বিভিন্ন জনে বিভিন্ন তথ্য ও মত প্রকাশ করেছেন। তন্মধ্যে সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য অভিমত হচ্ছে কোরআন অবতীর্ন কালে মক্কার অধিবাসীরা পবিত্র গ্রন্থের বানীসমুহ শ্রবন করতোনা। কোরআন তেলাওয়াতের সময় নানারুপ গোলযোগ করে এতে বাঁধা সৃষ্টি করতো। আর এই হীন আচরনে অন্যদেরকেও উৎসাহিত করতো। হযরত আব্বাস (রাঃ) বলেন,স্বয়ং আবু জেহেল নিজেই লোকদেরকে এই কাজের জন্য প্রস্তুত করে নিয়েছিল। সে বলেছিল,'মুহাম্মদ যখন কোরআন তেলাওয়াত করেন তখন তোমরা তার সম্মুখে হট্রগোল, চিৎকার গোলযোগ করো, যাতে তিনি কি পাঠ করছেন লোকেরা তা বুঝতে না পারে।' ফলে সত্যি সত্যিই তারা এই অদ্ভুত আচরন করতো। এমনকি নানারুপ অশ্লীল সংগীত ও বিকৃত কবিতা আবৃত্তি করে কোরআন শ্রবণে বাঁধা সৃষ্টি করতো। বস্তুতঃ তদানীন্তন কাফেরদের এই হীন আচরন ও অশ্লীল ব্যবহারের জবাবে "আল-কোরআন" নাম রেখে এদিকে ইংগিত করা হচ্ছে যে, এসব কুৎসিৎ আচরণ দ্বারা কোরআনের সুমহান দাওয়াত ও বুলন্দ আওয়াজকে কিছুতেই রোধ করা যাবে না। পবিত্র এই গ্রন্থ পঠিত হওয়ার জন্যই নাযিল হয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত তা পঠিত হতেই থাকবে। সুতরাং এ কথা এখন কাফের মুসলিম নির্বিশেষে সর্বজন স্বীকৃত সত্য যে, সারা বিশ্বে একমাত্র কোরআনই সর্বাপেক্ষা অধিক পঠিত ও পাঠিতব্য গ্রন্থ। (সংগৃহীত)


পাগলী: একটি বেশব্লগ লিখেছে

https://www.youtube.com/watch?v=mT-PXfsmHAE

Love me, a little love ain't never hurt nobody
Make believe that you were never hurt before
And let me change your mind

Hold me, you don't have a reason to be lonely
We can break the dawn into a sea of light
And set the world on fire

'Cause when everything is frozen
And you cannot feel a thing
I'll be there with arms wide open
And I'm hoping you will see

If you really need it
You got to believe it
Just reach out and feel it
It's better to be loved
And once you come near it
You don't have to fear it
Just want you to give it
It's better to be loved
It's better to be loved
It's better to be loved

I'll show ya,
There is nothing wrong with starting over
Everything that's happen is a grain of sand
Just blowing in the wind
Let me move you, let me set your body into motion
We can ride the rhythm and we'll dance until
The darkness finds its end

Everybody needs affection,
Everybody has a heart
I'll point you in the right direction
I can give you a place to start

If you really need it
You got to believe it
Just reach out and feel it
It's better to be loved
And once you come near it
You don't have to fear it
Just want you to give it
It's better to be loved
It's better to be loved
It's better to be loved..



*প্রিয়গান* *ভালোবাসা*

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

আজকের
গড়
এযাবত
১৩,৫৪৭

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

+ আরও