ঈশান রাব্বি

@Roshik

জ্যোৎস্না রাতের তারা কিংবা ভূরের ডাকা পাখি
business_center ছাত্র
school siyam sony science college
location_on খাগড়াছড়ি
1437260055000  থেকে আমাদের সাথে আছে

ঈশান রাব্বি: [বিজয়-বিজয়েরঘুড়ি]

ঈশান রাব্বি: [বিজয়-জিতছি]

ঈশান রাব্বি: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 বেশতো তে বিজ্ঞাপন কেন দেখায়?

উত্তর দাও (১ টি উত্তর আছে )

*বিরক্ত*

ঈশান রাব্বি: *শীতকাল* বউ আছে তাই গরমকাল মনে হয় এর সাথে জমজ দুই বদের হাড্ডি (জমজ ছেলে) আছেই কাকা শব্দে শীত নিজে থেকেই পালিয়ে যাচ্ছে

*শীতকাল*

ঈশান রাব্বি: আমার দুই জমজ ছেলের বয়স প্রায় ৮ বছর এখন সমস্যা হল দুজনই অসুস্থ সবাই ওদের জন্য দোয়া করবেন প্লিজ(কান্না)

*জমজ* *ছেলে* *সন্তান*

ঈশান রাব্বি: @faheema কেমন আছ এই কথা টা বলার জন্যেও বেশতো তে আসা হয়না। আসলে ব্যস্ততা একটু বেশি তাই কোনো সাইটে তেমন ঢুঁ মারা হয়না। তবুও বেশতোর অ্যাপ থাকলে নিয়মিত আসতাম, সেটা কেয়ামতের পরেই হবে... (রাগী)

ঈশান রাব্বি: জীবন টা ত্যানা ত্যানা হইয়া গেছে জমজ দুই ছেলেকে নিয়ে বিপাকে আছি দুইটা বদের হাড্ডি ঝগড়া করতেই থাকে

ঈশান রাব্বি: [এজে-ইউপমগানা] একমাত্র শীতকালেই বোঝা যায় ছেঁকা শুধু আগুনে না ঠান্ডাতেও লাগে

ঈশান রাব্বি: বারবার প্রেমে পড়ার মজাই আলাদা নতুন নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি হয় :)

ঈশান রাব্বি: জাতি জানতে চাই ফেসবুকে /beshtobangladesh ছাড়া আর কোন পেজ কি বেশতোর আছে? যদি না থেকে থাকে তবে বাকি পেজ গুলো কার????

*বেশতো* *ফালতুপোস্ট*

ঈশান রাব্বি: দেখ ভাই!! যাদের ঘনঘন ফেসবুক নষ্ট হয় I mean I'd খারাপ হয়ে যায় তাহারা বেশতো তে যোগদান কর, ১০০% গ্যারান্টি আইডি নষ্ট হবেনা (বিজয়)

*ফেসবুক* *বেশতো*

ঈশান রাব্বি: সখী গো তুরে ভালবাসি কত বলে কবে হবেনা কো শেষ তোর বিরহে তাইতো আমি হয়ে গেলাম নিরুদ্দেশ (খিকখিক)

ঈশান রাব্বি: বালিকা তোমার ভাব বিক্রি করলেই পারো বিয়ের পর আমরা একটু সুখে শান্তিতে থাকব (নাআআআ)

*ফালতুপোস্ট*

ঈশান রাব্বি: বালিকা তোমাকে ভালবাসি তোমার বাবাকে নয় ভয় পেলে তোমাকে পাব, তোমার বাবাকে নয় :)

ঈশান রাব্বি: মাঝেমাঝে ভাল থাকার *অভিনয়* করতে হয়

*অভিনয়*

ঈশান রাব্বি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

"বৃষ্টিময় সন্ধ্যা ও একটি ভালোবাসার গল্প"
.
লেখা: -ঈশান রাব্বি )।
.
"অবন্তি মেঘ হবে??
মন খারাপের দুপুর অথবা উদাসি সন্ধ্যাগুলোতে আমার ভীষণ বৃষ্টি ছুতে ইচ্ছে করে"
হুট করেই কথাটা বলে ফেললাম। মেয়েটাকে আমি প্রতিদিন কতকিছুই যে হতে বলি তার ঠিক নেই। কখনো মেঘ, কখনো বৃষ্টি, কখনো রদ্রু, কখনো পাখি আবার কখনো আকাশের নীল।
ফোনের এই প্রান্ত থেকে অবন্তির নিশ্বাস ছাড়া আর কিছুই শোনা যাচ্ছেনা। অনেকটা সময় পারকরে সে বলতে শুরু করলো "জানো আমার খুব মেঘ ভাললাগে, ঝুপ ঝুপ বৃষ্টিপড়া সন্ধ্যা ভাললাগে কিন্তু আমার না কখনো মেঘ-বৃষ্টি হতে ইচ্ছে করেনা।"
আমি একটু উদাসি হয়ে বলে ফেললাম "শত ইচ্ছে করলেও আমি কখনো তোমায় ছুতে পারিনি, সেজন্য আমি অনেকদিন হলো বৃষ্টি ছুইনি। আমি তুমিময় একটা সন্ধ্যার অপেক্ষায়, যে সন্ধ্যায় আমরা দুজন বৃষ্টির ফোটা হয়ে ঝরে পড়বো আমাদেরই হৃদয়ে"
একটু সময় নিয়ে অবন্তি বললো "একটা কবিতা শুনাবে??"
আমি ডায়রিটা খুলে গতরাতের লেখা কবিতাটা তাকে শুনাতে লাগলাম...
"বড্ডবেশী দুরত্ব হয়ে আছো,
তবুও অনুভব করি তোমার অস্তিত্ব এই হৃদয়ে।
আমার অনুভূতিগুলো তুমি ছুয়ে দেখো প্রিয়,
কী ভীষণ ভালোবাসায় জড়িয়ে আছো তাতে.."
.
তারপর অনেক্ষন কথা বললামনা আমরা
নিরাবতা ভেঙে অবন্তি বললো "তোমার অনুভূতি গুলো একদিন খামে করে পাঠিয়ে দিও আমার ঠিকানায়। আমার শখের টিপ, রঙিন চুড়িগুলোর মত যত্নকরে রেখে দেবো কাঁচের সোকেজে। রোজ নিয়মকরে তোমার অনুভূতিগুলো ছুয়ে ছুয়ে দেখবো সকাল সন্ধ্যা"
আমি মুখে হাসি নিয়ে বললাম "কোন একদিন তোমার দুচোখে চেয়ে আমি আমার সবগুলো অনুভূতি প্রকাশ করবো তুমি দেখে নিও"
.
টুপ করেই কেটেদিলো ফোনটা। আমার কেনো জানি মনেহচ্ছে অবন্তি এখন ভীষণ ভাববে। কল্পনায় আমার অনুভূতিভরা চোখগুলোতে চেয়ে কালরাতের লেখা অথবা একটুপরে যেটা লিখবো ভেবেছিলাম সবগুলো কবিতায় সে পড়ে নেবে।
.
পাঠকগন হয়তো আমার আর অবন্তির মাঝে যে বন্ধন সেটা কিছুটা বুঝতে পেরেছেন।
অবন্তি আমার নীলচে আকাশে উড়েচলা একমাত্র শঙ্খচিল, যার দু'টি ডানা চুয়ে গড়িয়ে পড়া ফোঁটা ফোটা শুভ্র জলকণায় আমি রংধনু এঁকেচলি। বিংশ শতাব্দীর সভ্যতাই একে হয়তো ভালোবাসা বলে। মাত্র এক বছরেই মেয়েটা আমার ভিতর বাহির চারপাশ পুরটাই জুড়ে আছে। তবে এখনো পর্যন্ত আমাদের সরাসরি দেখা হয়নি।
আমাদের পরিচয়টা হয়েছিলো ধুলো উড়া শহরে সিক্ততা আনতে হটাৎ মেঘকরে টুপ টুপ ঝরেপড়া বৃষ্টির মতো। তখন সবেমাত্র 'এইচ' 'এস' 'সি' পরিক্ষা শেষকরে রাতজাগার ছলে গুচ্ছ গুচ্ছ স্বপ্ন বুনছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে মাফস্বল শহর ছেড়ে স্বপ্নের ফানুস উড়াতে উড়াতে চলে এলাম ইটকাঠের এই ঢাকা শহরে।ধানমন্ডির ছোট্ট একটা বাসায় শুরুহলো আমার জীবনযাপন। প্রত্যেকদিন শতশত অপেক্ষামান মানুষদের ভীরে সবুজবাতির অপেক্ষা করতে করতে ফার্মগেটে উদ্ভাস কচিং এ পৌছানো আর সন্ধ্যায় উদাস হয়ে রুমে ফিরে আসা হয়ে উঠলো দৈনন্দিন রুটিন। তারপর গভীর রাত অবদি ক্লাসের বইগুলো নাড়াচাড়া করার পর যখন অবসাদ নামতো দু'চোখে, তখন আমার বাড়ির কথা মনেপড়তো খুব।
সেদিন সন্ধ্যা থেকেই গুড়ু গড়ু মেঘ ডাকছিলো আর ঝিরঝিরে বৃষ্টি শুরুহলো।আমি কপির মগ হাতে জানালার সামনে ভীষণ মনখারাপ করে বসেছিলাম। ঠিক তখনি একটা রং নাম্বার থেকে ফোন এলো। আমার কেনো জানি রিসিভ করতে ইচ্ছে করছিলো না। তবুও করলাম। অপরিচিত এক মানবির কণ্ঠ ভেসে এলো ফোনের স্পিকার থেকে।
যদিও আমার রুমে দক্ষিন মুখি কোনো জানালা নেই তবুও সেই মানবির কণ্ঠ মনভালোর বাতাস হয়ে কখন যে গরম কফি ঠান্ডা করে দিলো আমিতা খেয়াল করিনি।
তারপর থেকে খুব একাকিত্বময় অবসর গুলোতে সেই অপরিচিত নাম্বারটা আমাকে ভীষণ টানতো। দারুন মনখারাপের সন্ধ্যা গুলো ধোয়া ওঠা কপির মগ হাতে নিয়ে তারসাথে গল্পকরেই কাটাতাম। কিন্তু আমি কখনোই ভাবিনি এই অপরিচিত কণ্ঠটা একদিন আমার ভীষণ প্রিয় হবে, সেই সন্ধ্যার গুড়ু গুড়ু মেঘ-বৃষ্টি একদিন আমাকে এতোটা ভেজাবে।
.
আমাদের দুজনের মাঝে দূরত্বটা খুব বেশী। আমি থাকি ঢাকাই আর অবন্তির বাসা সূদুর যশোর জেলায়।এতো দূরে থাকার সত্বেও আমরা কখন যে আমাদের খুব কাছে চলে এসেছিলাম আমিতা খেয়াল করিনি, যখন খেয়াল করলাম তখন বুঝলাম এই মেয়েটিকে ছাড়া আমার আর একমুহত্বও চলবেনা। আমরা কখন কিভাবে ভালোবেসে ফেলেছিলাম তার ঠিকনেই তবে ভালোবাসি কথাটা প্রথমে আমিই বলেছিলাম।
অনেকগুলো বিনিদ্র রজনি দ্বিধাদন্ডে পার করার পর লাল হওয়া ক্লান্ত চোখ নিয়ে একদিন খুব ভোরবেলা তাকে বলেছিলাম........
"অবন্তি..
তোমার নিজস্ব ঘুমগ্রন্থে একমুঠো
রাত্রি হয়ে ডুবে যেতে চাই নিরন্তর....
প্রতিটি প্রভাতে তুমি আমার সূর্যদয় হবে??"
কথাটা বলার পর অবন্তি চুপ করে থাকলো কিছুক্ষন তারপর টুপ করে ফোনটা কেটে দিলো। সেই মুহত্বে কিছু একটা হারিয়ে ফেলার ভয়ে আমি ভীষণ অস্থির হয়ে উঠলাম। কিছুক্ষন পর অবন্তির নাম্বার থেকে একটা মেসেজ এলো।
"তোমাকে এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। তোমাকে এড়িয়ে আমার আকাশে কবে ফুল ঝরেছে বলো!!
জীবনের অনেকগুলো প্রহর তোমাকে আমার চুলের বেণীতে বাধতে চায়, তুমি সেঁওতি ফুলের খোপা হয়েই থেকো"
.
.
সমস্ত বিকেলটা ঘুমিয়েই কাটালাম। সন্ধ্যা নামার একটু আগে উদ্দেশ্যহীন ভাবে হাঁটতে বেরহলাম কবিতাময় ফুটপাত ধরে। গোধুলির নরম আলোই কেমন যেনো বিমর্ষরুপ ধারণ করেছে গোটা শহর। ধানমন্ডি লেকের রবিন্দ্র সরোবরে ঢুকতেই চায়ের ফ্লাক্স হাতে চৌদ্দ পনেরো বছরের একটা ছেলে সামনে এলো। দেখলাম সবেমাত্র গোঁফের রেখা ফুটে উঠেছে।
ধোঁয়া উঠা চায়ের কাপে প্রতিটা চুমুকে আমরা যখন একটু উষ্ণতা খুজি, একটু অবসাদ দূর করতে চায়, তখনো ফুটপাতের এই মানুষগুলো খুজে চলে একমুঠো ভাত, বেঁচে থাকার একমাত্র রোশনাই। এদের জীবনে হয়তো কোনো অবসাদ নেই, গোধুলির ডোরাকাটা রং হয়তো এদের মনকে কখনোই আনমনা করেনা। হয়তো এদের কোনোদিন ইচ্ছে হয়না পড়ন্ত বিকেলে কোনো এক মানবির চোখে সূর্যাস্ত দেখতে।
আমার খুব ইচ্ছে হয় দিনের শেষে এই মানুষগুলোর খুব সাদাকালো একটা জীবনের গল্প লিখতে।
.
বেঞ্চে বসে চা খেতে খেতে ফেসবুকে ঢুকলাম। দেখি অবন্তি চ্যাটে রয়েছে। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে একটা মেসেজ দিলাম..
"দু'কাপ ধোঁয়া ওঠা চায়ের সাথে একদিন একটা সন্ধ্যে নামাবো আমরা। দানা দানা প্রেম ডুবিয়ে আরো একটু লিকার ঢেলে দেবো। কুঁচি কুঁচি ঝাঝ মেশানো উষ্ণ চুমুকে আমাদের ভালোবাসা হবে। ভালোবাসাময় একটা চাঁদ উঠবে আকাশ জুড়ে। তুমি মুগ্ধ হয়ে চাঁদ দেখবে আর আমি তোমার দু'চোখে চন্দ্রবিন্দু খুজবো"
.
মেসেজটা সেন্ড হতেই দেখি অবন্তি লাইনে নেই।
মেয়েটা কেমন যেনো অদ্ভুত প্রকৃতির। আমার মনের উদাস উদাস কথাগুলো কেনো জানি এড়িয়ে যেতে চায় কিন্তু কথা গুলো ও ঠিকই বুঝে নেয়। পরিচয়ের অল্পদিনের মর্ধ্যে আমাদের ফেসবুকে যোগাযোগ শুরুহয়। ফেসবুকের বদৌলতে আমাকে ও আগেই দেখেছিলো।
একদিন খুব ইচ্ছে করছিলো অবন্তিকে দেখতে কিন্তু কিছুতেই বলতে পারছিলাম না। সমস্ত দ্বিধাদন্ডের অবসান ঘটিয়ে একসময় বলেই ফেললাম...
... "তন্দ্রার ভিতরে অথবা জাগ্রত চেতনায় এক মানবির প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠে বুকের দেয়াল জুড়ে। আমি তার অবয়ব কল্পনা করি খুব। বুকের দেয়ালজুড়ে কী তুমি থাকো!!! একদিন অবয়ব পাঠিও, আমি মিলিয়ে দেখবো"
.
অবন্তি হাসতে হাসতে বললো "তুমি কিসব বলো বুঝতে খুব কষ্টহয়। মনেহয় সংস্কৃত ভাষায় মন্ত্র পাঠ করছো আর আমি দিনের পর দিন তোমার মন্ত্রের জালে আটকে যাচ্ছি"।
.
অবন্তি সেদিন তার ছবি দিয়েছিলো। একটা শুভ্র অবয়বে কাজলে আঁকা দুটি চোখ, কপালের মর্ধ্যভাগে ছোট্ট একটা কালো টিপ আমার বুকে যেনো ঝড় তুলেছিলো সেদিন থেকে। রোজ অবন্তির ছবির দিকে তাকিয়ে থাকতাম অনেকক্ষন আর উন্মনমনে দিস্তা দিস্তা কবিতা লিখতাম।
কবিতা গুলো অবন্তিকে যখন আবৃতি করে শুনাতাম তখন কোনো কথাই বলতোনা। একদম চুপকরে থাকতো।
আমি যে সবসময় সুখ সুখ মন উদাসি কবিতা শুনাতাম তা কিন্তু নয়।
মাঝে মাঝে ভীষণ মন খারাপ হয় আমার। অকারণেই বিষন্নতায় ছেয়ে যায় মনের আকাশ। আমি তখন খুব মনখারাপের কবিতা লিখতে বসি।
ফাল্গুনের কোনো এক মনখারাপের বিকেলে বিষন্ন কন্ঠে অবন্তিকে বলেছিলাম..
"আমার হৃদয়ে এখন ফাগুন বেলা, উড়িছে কিছু প্রজাপতি মেঘ আকাশজুড়ে।
যখন শুকিয়েছে মাঘের শেষ শিশির বিন্দু আমাদের উঠন জুড়ে,
যখন ককিল অশ্বথ্বের ডালে ডাকিতেছে বেদনার কুহু কুহু ডাক।
তখন নীলাভ কিছু স্বপ্ন বুনেছি রোজ তোমার চোখের দীঘিতে চোখ ডুবিয়ে।
যদি কোনোদিন বেলাশেষে ঝড়ে যায় থোকা থোকা কৃষ্ণচূড়ার মতো বৈশাখি এক বিকেলে,
যদি মুছে যায় আমার শেষ স্মৃতী চিহ্নটুকু কোনো এক আষাঢ়ের নিবিড় বর্ষনে...
তবু কোনো এক শরৎ বেলায়, জানালায় হেলান দিয়ে যদি চেয়ে থাকো সূদুর জারুলবনে, দেখিবে দূরে ডাকিতেছে তৃষ্ণার্ত কাক কর্কশ সুরে।
তুমি ক্লান্ত চোখে তাহার মাঝে আমাকে ডাকিও, সেই ভাদ্রের তপ্ত দুপুরে বহুদিন পর আমাকে একটু ভাবিও"....
.
এটুকু বলার পর চুপকরে থাকলাম আমি। অবন্তি খুব আনমনা হয়ে গেছিল সেদিন। ধরা গলায় বললো "আমার মাঝে মাঝে কি মনেহয় জানো!!! তোমার এই উদাসি কবিতাগুলো কোন একদিন অথবা যদি কোনোদিন আর শোনা না হয় তাহলে আমি হয়তো মরেই যাবো"
আমি বলেছিলাম "এগুলো তোমাকে শুনাতে পারি বলেই হয়তো আমি বেঁচে আছি".
.
অবন্তির সাথে এই কয়দিন খুব বেশী কথা হয়না আমার। আমি আপাতত ব্যাস্ত আছি আগামি মাসে ফাস্ট সেমিস্টার পরিক্ষা নিয়ে। গভীর রাত পর্যন্ত বইয়ের ভীতর মুখ ডুবিয়ে বসে থাকি।মাঝে মাঝে তন্দ্রা আসে। পড়ার টেবিলে হুমড়ি খেয়ে পড়ি। তখন মনেহয় মা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর নাম ধরে ডাকছে। মাঝরাতে ভীষণ চমকে উঠি আমি তারপর সারারাত আর ঘুম আসেনা।
এই একবছরে জীবনের অনেক কিছুই বদলে গেছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পেয়ে ভর্তি হলাম বেসরকারি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে। যেদিন বাড়ি থেকে সবকিছু গুছিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম সেদিন চোখ ভর্তি জল নিয়ে চেয়ে থাকা মায়ের মুখের দিকে দ্বিতীয় বার আর তাকাতে পারিনি আমি। মাঝে মাঝে ঘুমের ভীতর মায়ের সেই কান্না জড়ানো মুখ ভেসে উঠে। এইসব নিঃশব্দের রাত্রে মায়ের কথা ভীষণ মনেপড়ে আমার।
.
.
পরিক্ষা শুরুহলো। অসস্তির দিন যেনো শেষ হতেই চায়না। হটাৎ একদিন অবন্তি ফোনদিয়ে বললো বোনের বাড়ি বেড়াতে আসছে ঢাকায়। ২৩শে জুন কমলাপুর রেলষ্টেশনে আমাদের দেখা হবে।
খবরটা শুনে আমার হৃদয় রক্ত পাম্প করা বন্ধ করে দিলো নাকি রক্ত পাম্পের গতি দ্বিগুন হলো বুঝতে পারলামনা। শুধু বুঝলাম সারারাত আমার ঘুমানো হয়নি। আগামি দিনের পরিক্ষা আর বই-খাতা সব বালিশ চাপা দিয়ে তার উপর মুখ লাগিয়ে চেয়ে থাকলাম মোবাইল স্কিনে জ্বলজ্বল করা অবন্তির ছবির দিকে।
.
২৩শে জুন দিনটা অন্যদিনের তুলনায় অনেক বড় মনেহলো।
বিকাল পাঁচটা নাগাত চলে এলাম স্টেশনে। স্টেশনের বেঞ্চে বসে ঝালমুড়ির সাথে চলতে থাকলো অপেক্ষার শেষ প্রহর। সবুজ বাতির অপেক্ষায় থাকা এই আমি কখন যে অবন্তির অপেক্ষায় পথচেয়ে বসে আছি তা হয়তো কখনো জানা হবেনা। এরই মাঝে খুব জোরে বৃষ্টি শুরুহলো। সন্ধ্যে সাতটার দিকে ঝুমঝুম বৃষ্টির মর্ধ্যে সাইরেন বাজিয়ে প্রতিক্ষার ট্রেন এসে থামলো আমার বুকের খুব কাছে। আমি অনেক ভীড়ের মাঝে অবন্তিকে খুজতে থাকলাম দিকভ্রান্তের মতো। যা আগে কখনোই খুজিনি, শুধুই অনুভব করেছি।
.
অবশেষে আমাদের দেখা হলো। মেঘ সন্ধ্যায় স্টেশনের চত্বরে ট্রেন থেকে নেমে আসা অবন্তিকে চিনতে একটুও কষ্ট হলোনা আমার। আমি ধিরে ধিরে অবন্তির সামনে যেয়ে দাড়ালাম। ক্যাবলার মতো জিজ্ঞাসা করলাম "ভালো আছো??"
অবন্তি কোন কথা বললোনা শুধু ঘাড় কাত করলো।
তারপর আমাদের আর কোনো কথা হলো না। মৃদু পায়ে হাঁটতে হাঁটতে যাত্রী ছাউনির শেষ প্রান্তে গিয়ে দাড়ালাম।
বাইরে তখনো তুমুল বৃষ্টি। ছাউনির চাল থেকে গড়িয়ে পড়ছে বৃষ্টির অঝর ধারা। আমি সেদিকে মুখ করে কাঁপাকাঁপা
কন্ঠে বলতে শুরু করলাম.....
"রিমঝিম বৃষ্টি আধার ভেজা সন্ধ্যা,
যেনো তুমি আর আমি পাশাপাশি দাড়িয়ে বহুকাল ধরে সাজিয়েছি এই প্রাচিন কল্পকথা।
আজ পৃথিবীর সবটুকু প্রেম, তোমার আমার দুজনার মনে
আকাশ ছড়িয়ে আছে
কালো কালো মেঘের ঘন স্তূপে।
অনুভবের এই সন্ধ্যা বেলায় অনুভূতিরা বলে যায় কত কথা,
চারিদিকে ঝুম বৃষ্টি আর তার সাথে ঝরে পড়ে সামান্য নীরবতা|"
.
আবৃতিরত অবস্থায় মনেহলো অবন্তি আমার মুখের দিকে অপলক চেয়ে আছে। এই প্রথম খুব কাছ থেকে আমি ওর চোঁখের দিকে তাকালাম। বেশ গভীর ভাবেই তাকালাম, তারপর অসম্ভব ভালোবাসা নিয়ে অবন্তির হাতটা ধরলাম।
আমি জানি, এই হাতটা ছেড়ে দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। অদ্ভুত এক মায়া নিয়ে মেয়েটার হাত ধরে দাড়িয়ে থাকলাম কিছুক্ষন।
.
এরপর হাতে হাত রেখে পা বাড়ালাম প্রবল বর্ষন সিক্ত জনমানবহীন রাস্তার দিকে।
বৃষ্টির জল যেনো আরো দ্বিগুন ভারি হয়ে ঝরে পড়ছে আমাদের ছুয়ে দিতে।
"কবিতার বই সবে খুলেছি..
সিক্ত আকাশ কেঁদে চলেছে....
থেমেছে হাঁসের জল কেলী
পথিকের পায়ে হাঁটা থেমেছে …।।
আজ কেন মন চায় হারাতে"
.
.
(লেখাটা অনেকদিন ধরে লিখবো লিখবো করেও লিখতে পারছিলাম না। অগোছালো কল্পনাগুলো একদমি সাজিয়ে লিখতে পারিনা আমি।)
.
'উৎসর্গ: রেহান আর অবন্তিকে। তোদের বাস্তবের সাথে আমার কল্পনাগুলো ভীষণ ভাবে মিশিয়ে দিলাম। শুভকামনা রইলো তোদের ভবিষ্যৎটাও যেনো একটা গল্প হয়।

*ফালতুপোস্ট* *ঈশানরাব্বী*

ঈশান রাব্বি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

নামাজী প্রেমিকা
.

নীল একজন ভালো ছাত্র। নীল এবার অনার্স ১ম বর্ষে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স হয়েছে নীলের। নীলের ভাগ্য অনেক ভালো যে ওর মনের আশা পূরণ হয়েছে। সবার কি আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ভাগ্য হয়। আজ পর্যন্ত নীল মন থেকে যে কাজ করতে চেয়েছে সবই পূরণ হয়েছে। নতুন নতুন একটু একটু সংকোচ লাগে নীলকে। তবে সময়ের সাথে সাথে সেটাও দূর হয়ে যায়। নীলের বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যায় কারণ নীলের মা ওকে ম্যাচে থাকতে দেয় না। আর নীল ও ম্যাচে থাকতে পছন্দ করে না। নীলের একটা মোটরবাইক আছে সেটা নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করে থাকে। নীর নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতো এবং পড়াশুনাতে অনেক মনোযোগী ছিল।
.
নীল অনেক ভালো ছাত্র তাই সকল অধ্যাপক নীলকে অনেক স্নেহ করে। নীলকে সবসময় সহযোগিতা করে থাকে লেখাপড়ায়। নীলকে এখন পর্যন্ত কেউ হারাতে পারে নি লেখাপড়াতে। সেই প্রথম শ্রেণী থেকে এখন পর্যন্ত নীলের অবস্থান প্রথম স্থানে। নীলের সকল বন্ধুগণ নীলকে দেখে বারবার আশ্চর্য হয়ে যায়। পড়াশুনার ব্যপারে সকল সহযোগিতা নীল করে থাকে ওর বন্ধুদের। নীলকে ওর বন্ধুরা অনেক ভালবাসতো। নীলের মতো বন্ধু পেয়ে নিজেদের অনেক গর্বিত মনে করে থাকে ওর বন্ধুরা। নীল ইসলামের নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করে থাকে কিন্তু কখনও কখনও কোনো বিষয়ে ভুল হয়ে যায়। তবুও নীলের চেষ্টার কোনো ত্রুটি থাকে না। নীলের পিতামাতা ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নীলকে পড়তে বলে। নীল পিতামাতার কথার খেলাপ করেনি। কিন্তু নীল ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে পারে না। ভোর বেলা ফজরের ওয়াক্তের নামাজ পড়তে পারে না কারণ নীল রাত্রি ৩ টা পর্যন্ত পড়াশুনা করে তাই ভোরে উঠতে পারে না। যোহরের ওয়াক্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসে থাকার জন্যে হয় না। এভাবে চলতে থাকে। প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজে নীল ২ ওয়াক্ত ভালো ভাবে পড়তে পারে।
.
একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে বসে আছে নীল ও তার বন্ধুরা মিলে। এদিকে নীল গল্প করা বাদ দিয়ে বই পড়ছে।
> নীল তুই কি এখানে বই পড়তে এসেছিস? বই পড়া বাদ দিয়ে আমাদের সাথে গল্প কর।
- না রে আমার ভালো লাগে না। তোরা গল্প কর।
> বই টা আমাকে দে আমরা সবাই গল্প করব আর তুই এখানে বসে পড়বি, তোকে আমাদের সাথে গল্প করতে হবে? প্লিজ নীল?
- আচ্ছা টিক আছে।
সবাই ভালবাসা নিয়ে গল্প করছে। কে কয় টা করে প্রেম করেছে। অনেকে অনেক কথা বলে এবার নীলের পালা।
- বন্ধুরা আমাকে রিকোয়েস্ট করে লাভ হবে না, আমি প্রেম/ভালবাসায় আমার কোনো ইন্টারেস্ট নাই।
> নীল কেনো সবাই তো প্রেম করে তুই কেনো করিস না।
- আকাশ, দেখ সবাই যে পথে চলবে আমাকেও সে পথে চলতে হবে এমন কোনো কথা নয়। ওসব আমার ভাল্লাগেনা।
> নীল যেদিন তুই সত্যিকারের ভালবাসা পাবি তখন বুঝবি এটা কি জিনিস?
- আকাশ সেটা পরের বিষয় টিক আছে।
.
নীলকে এখন পর্যন্ত অনেক মেয়ে প্রপোজ করেছে কিন্তু নীল কাউকে পাত্তা দেয় নি।
নীল ভাবতে থাকে ভালবাসা কি সত্যি মানুষকে পাল্টে দেয়। ভালবাসা কি আমার খারাপ দিক গুলো দূর করতে পারবে? এসব ভাবনা বাদ দিয়ে নীল ঘুম দেয়।
.
আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাড়াতাড়ি যেতে হবে আজকে পরিক্ষা আছে। তাড়াতাড়ি খাওয়াদাওয়া সেরে বািক নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। রাস্তা অনেক যানজট কোনো রকমে বের হয় নীল। বাইকে স্পিড এখন বাড়াবে তখনি পিছন থেকে কে যেনো সাহায্য চাচ্ছে। মাথা ঘুরিয়ে দেখে একটি পরীর মত মেয়ে। মেয়েটিকে দেখেই প্রথম বার নীল কারো উপর ক্রাশ খাইলো। মেয়ে নীলের কাছে এগিয়ে আসছে।
< আমাকে একটু সাহায্য করবেন, প্লিজ?
- বলুন কি সাহায্য করতে পারি। তাড়াতাড়ি বলুন আমাকে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হবে আজ আমার পরিক্ষা আছে।
< আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যাবেন? আজ আমার পরিক্ষা আছে। আমি কোনো গাড়ি পাচ্ছি না।
- টিক আছে উঠুন।
বাইকে উঠে বসে পড়ে মেয়েটি। তারপর চলতে থাকে বাইক এবং দুজনের গল্প।
- আপনার নাম কি?
< আমার নাম মিম, আপনার?
- আমার নাম নীল, আমি এবার প্রথম বর্ষে।
< আপনার নাম অনেক শুনেছি। কি আপনি প্রথম বর্ষে, আমিও তো।
- কি? আপনাকে এতো দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখি নি।
< আমি খুব অল্প ক্লাস করেছি তাই।
দুজনে মিলে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পৌঁছায়।
< আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
- এখানে ধন্যবাদ দেয়ার মত কিছুই নেয়। ভালো ভাবে পরিক্ষা দিন।
< আপনিও ভালো ভাবে পরিক্ষা দিন।
এদিকে নীলের বন্ধুগণ হা করে তাকিয়ে আছে নীলের দিকে। বন্ধুদের দিকে এগিয়ে যেতে অনেক প্রশ্নের মুখে পড়ে যায় নীল।
- তোরা যা ভাবছিস তা নয়।
.
তারপর কয়েক মাস যাবত দুজনে মিলে দেখা করে, আস্তে আস্তে বন্ধুত্বের সম্পর্ক টা ভালবাসার সম্পর্কে গিয়ে পৌঁছায়।
ভালবাসা চলতে থাকে কিন্তু নীল নিজের এখনও কোনো পরিবর্তন দেখতে পায় না।
.
একদিন ফোনে কথা হচ্ছে দুজনের
< আচ্ছা নীল তুমি নামাজ পড়?
- পড়ি কিন্তু ৫ ওয়াক্ত নামাজ হয় না।
< কেনো হয় না, তুমি কি খাস কাটো?
- নামাজ পড়ার সাথে আমাদের সম্পর্কের কি আসে যায়?
< যে ছেলে ইসলামের নিয়মনীতি মেনে চলতে পারে না,তার সাথে আমার চলা সম্ভব হবে না। আমি একজন খাঁটি ইমানদার ব্যক্তি চাই, যার সাধে সারাজীবন কাটাতে পারব।
- আমি তো নামাজ পড়ি কিন্তু ৫ ওয়াক্ত নামাজ হয় না।
< কেনো হবে না চেষ্টা করলে সবকিছু সম্ভব হয়। তোমাকে ইসলামের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে, তবে আমি তোমার হতে পারব।
- টিক আছে তোমার সব শর্ত আমি মেনে চলব কিন্তু আমারও একটা শর্ত আছে?
< কি শর্ত বল?
- শর্ত এটা হল তুমি প্রতি ওয়াক্তে, প্রতিক্ষণে আমাকে মনে করিয়ে দেবে আমাকে কি করতে হবে? এই টুকু কি করতে পারবে না?
< আচ্ছা টিক আছে, আমি রাজি।
.
এভাবে চলতে থাকে নীল ও মিমের ভালবাসা। মিমের শর্তের জন্যে আজ নীল একজন খাঁটি মুসলমান হতে পেরেছে। এদিকে ছেলের পরিবর্তন দেখে নীলের পিতামাতা বড়ই খুশি। তারা টিক করেছে যে মিমের সাথেই নীলের বিবাহ দিবে।।
.
[ মানুষ ভালবাসায় পড়লে মানুষের অনেক পরিবর্তন হয়ে থাকে। কেউ ভালবেসে খারাপ হয়ে যায় আর কেউ হয়ে যায় ভালো। তাই আপনার ভালবাসার মানুষটিকে সটিক পথে আনতে আপনি পারেন। চেষ্টা করলে সবকিছু সম্ভব হয়, আপনি চেষ্টা করে দেখুন পরিবর্তন আসবে। ইসলামের পথে আনার চেষ্টা বরুন, আল্লাহ সে তাওফিক সবাইকে দান করুক,, আমিন]
.

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

আজকের
গড়
এযাবত
১৬,৯১১

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

***

+ আরও