ট্রাভেলার

@Traveller

যে দিকে দু চোখ যায়
business_center প্রফেশনাল তথ্য নেই
school এডুকেশনাল তথ্য নেই
location_on Trekking, Travelling
1349805600000  থেকে আমাদের সাথে আছে

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

রূপবৈচিত্র-হ্রদের জল-পাহাড় আর অরণ্যের অপার সৌন্দর্যের কোল ঘেঁষে রয়েছে প্রকৃতির রূপসী কন্যা রাঙামাটি। চট্টগ্রাম বিভাগের পার্তব্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলার মধ্যে অন্যতম এই রাঙামাটি জেলা। আকা-বাকা পথ আর উঁচু-নিচু পাহাড় নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাঙামাটি। রাঙামাটিতে রয়েছে অনেকগুলো দর্শনীয় স্থান। এর মধ্যে কাপ্তাই লেক, পর্যটন মোটেল, ডিসি বাংলো, দেশের দীর্ঘতম ঝুলন্ত ব্রিজ, পেদা টিংটিং, সুবলং ঝর্ণা, রাজবাড়ি, রাজবন বিহার, উপজাতীয় জাদুঘর, কাপ্তাই হাইড্রো ইলেক্ট্রিক প্রজেক্ট, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান উল্লেখযোগ্য।

অপরূপ দৃশ্যে মন রাঙ্গাতে এবারের ঈদে ঘুরে আসতে পারেন রাঙামাটি থেকে। আপনার ঈদ হয়ে উঠবে আনন্দময়ী। একবার ঘুরে আসলেই যাত্রাপথ, কাপ্তাই, রাঙামাটি, রাজবন বিহার, জাফলং ঝরনা, কালিট্যাং-এর ছবি আঁকা হয়ে যাবে আপনার মানসপটে। বার বার স্মৃতি হয়ে খেলা করবে হৃদয় মাঝে।




কিভাবে যাবেন:

রাজধানীর সায়েদাবাদ থেকে বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির বেশ কয়েকটি গাড়ি প্রতিদিন রাঙামাটির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। চট্টগ্রামের বিআরটিসি, অক্সিজেন মোড় ও বিভিন্ন বাসস্টেশন থেকেও রাঙামাটির গাড়ি পাওয়া যায়। এছাড়া প্রাইভেট গাড়ি নিয়েও ঘুরে আসতে পারেন রাঙামাটি। সেক্ষেত্রে আপনার প্রয়োজন অভিজ্ঞ চালক।

হোটেল ও গেস্ট হাউজ:

রাঙামাটিতে রাত যাপনের জন্য সরকারি-বেসরকারি অনেকগুলো হোটেল ও গেস্ট হাউজ রয়েছে; রয়েছে বোডিংও। বোডিংয়ের খরচ কম হলেও খুব ভালো ব্যবস্থা নেই।

কয়েকটি হোটেলের বর্ণনা:

(১) পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স: ১২টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষসহ বেশ কয়েকটি সিঙ্গেল ও ডাবল রুম রয়েছে এই হোটেলে।

(২) হোটেল সুফিয়া: এতে রয়েছে ২৭টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম। এছাড়া ছোট-বড় সাধারণ কক্ষ রয়েছে আরও ৩৫টি।

(৩) হোটেল নিডস হিল ভিউ: ১৫টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও ১০টি সাদারণ রুম রয়েছে এতে।

(৩) হোটেল গ্রীন ক্যাসেল: এই হোটেলে রয়েছে ৭টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম। এছাড়া সিঙ্গেল ও ডাবল রুমতো রয়েছে।

এছাড়াও রয়েছে হোটেল জজ, হোটেল আল মোবা, হোটেল মাউন্টেন ভিউ, হোটেল ডিগনিটি, হোটেল সাফিয়া, হোটেল ড্রিমল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি মধ্যম মানের হোটেল।

এর সবকটি হোটেল-ই রাঙামাটি জেলা শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত। তাই এখানে অবস্থান করেই খুব সহজেই ঘুরে বেড়াতে পারেন জেলার সবকটি দর্শনীয় স্থানে।

*রাঙামাটি* *ঈদেবেড়ানো* *ছুটিতেভ্রমন* *ভ্রমনটিপস* *অল্পতেভ্রমন*

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

পাহাড়ি সবুজ বন, মেঘমালা, পাহাড়ি ঝরনা আর সাংগু নদীর একমুখী ছুটে চলার দৃশ্য আপনাকে হাতছানি দেবে বান্দরবানের পথে পথে। বান্দরবান থেকে থানচির পথে যেতে প্রায় ১০ কিলোমিটার পর শৈলপ্রপাত। পাহাড়ি ঝরনা। যদিও এটি এখন শুকিয়ে গেছে। এর কিছু দূর যাওয়ার পর মিলবে চিমবুক পাহাড়। বান্দরবান থেকে চিমবুকের দূরত্ব ২৪ কিলোমিটার। এ পাহাড়ের চূড়া থেকে আপনি বঙ্গোপসাগর, চট্টগ্রাম বন্দর দেখতে পাবেন। মেঘের আনাগোনার দিনে হাত বাড়ালেই শীতল ছোঁয়া পাবেন।

আকাশ আর মেঘ যেখানে ভ্রমন পিপাসু মানুষকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। অবারিত সবুজ প্রান্তর যেখানে মিশে যায় মেঘের ভেলায়। মেঘের সাথে পাহাড়ের যেখানে আজন্ম বন্ধুত্ব। বলছি নীলগিরি পর্যটনের কথা। এখানে পাহাড় ও মেঘের সাথেই বসবাস করে পাহাড়ি আদিবাসী ম্রো সম্প্রদায়ের অধিবাসীরা। সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে ২ হাজার ২ শত ফুট উচ্চতায় এই নীলগিরি পাহাড়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখানে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। চিমবুকের পর চলতে চলতে একটা জায়গায় এসে থমকে দাঁড়াতে হয়। একটি সাইনবোর্ড। তাতে লেখা_ 'বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সড়ক'। এবার সামান্য পথ যেতেই নীলগিরি। পর্যটন স্পট। বান্দরবান থেকে দূরত্ব ৪৮ কিলোমিটার। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩ হাজার ৬০০ ফুট উঁচু এ পাহাড়ে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন সাতটি বিশ্রামাগার। মেঘদূত, আকাশনীলাসহ নানা বাহারি নামের এসব বিশ্রামাগারে রাত কাটানোর জন্য ৩ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ পড়ে।


তবে এমনিতে ৫০ টাকার টিকিট কেটে নীলগিরির চূড়া থেকে পাহাড়ের চারদিকের সবুজ দৃশ্য অবলোকন করা যায়। নীলগিরিতে করা হয়েছে একটি হেলিপ্যাডও। এখানকার বিশ্রামাগার ভাড়া নিতে হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আগে যোগাযোগ করতে হয়। নীলগিরি থেকে যত দক্ষিণে যাবেন, ততই আস্তে আস্তে সর্বোচ্চ সড়ক থেকে নিচের দিকে নামতে থাকবেন। কখনো দুই পাহাড়ের মাঝ দিয়ে, কখনো বা পাহাড়ের পাশের সরু সড়ক ধরে চলে যাবে চাঁদের গাড়ি কিংবা নিজস্ব জিপ। পাহাড়ের ঢালে আদিবাসীদের ছোট ছোট ঘরবাড়ি থেকে মাঝেমধ্যে উঁকি দেবে কোনো নারীমুখ কিংবা ছোট্ট শিশু। জুম চাষও দেখতে পাবেন। বর্ষার এই সময়টাতে আদিবাসী নারী-পুরুষ ব্যস্ত থাকে জুমের মাঠে।


এ ছাড়া ঘুরে আসা যায় আদিবাসীদের বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের বাগানে। পাহাড়ি ঝরনা থেকে আদিবাসী নারীদের পানি সংগ্রহ করার দৃশ্য দেখতে ভুলবেন না যেন। এ ছাড়া দুই পাহাড়ের মাঝখানে উন্মত্ত বর্ষায় ছুটে চলা সাংগু নদীও টানবে আপনাকে। আদিবাসীপাড়ার কার্বারি কিংবা কারো সহযোগিতায় ডিঙি কিংবা নৌকায় চড়ে আপনিও চলে যেতে পারেন আশপাশের কোনো মারমা পাড়ায়। আদিবাসীদের জীবনযাত্রা আপনার প্রাণ ছুঁয়ে যাবে। ঈদের ছুটিটা উপভোগ্য না হয়ে পারেই না!


যেভাবে যাবেন
ঢাকা কিংবা চট্টগ্রাম থেকে বাসযোগে বান্দরবান। সেখানে রাতযাপনের জন্য বিভিন্ন হোটেল রয়েছে। এরপর কোনো এক সকালে বান্দরবান থেকে চাঁদের গাড়িযোগে আরো গহিন অরণ্যে যাত্রা করা যায়। এ জন্য ভাড়া পাওয়া যায় চাঁদের গাড়ি। বান্দরবান থেকে থানচি পর্যন্ত একটি গাড়ি আসা-যাওয়ায় ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়। নিজস্ব গাড়ি নিয়েও যাওয়া যায়। তবে পাহাড়ি পথ, বিশেষ করে বান্দরবানের অাঁকাবাঁকা দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা সম্পর্কে চালক অভিজ্ঞ হলে ভালো। শহর থেকে চাঁদের গাড়ীগুলো নীলগিরি পর্যন্ত ৩/৪ হাজার টাকা ভাড়া নিয়ে থাকে। এসব চাঁদের গাড়ীগুলো একসাথে ২০/২৫ জন পর্যন্ত যাত্রী পরিবহণ করে। 

কোথায় থাকবেন
বান্দরবানে এসেই আপনাকে কোন আবাসিক হোটেলে রুম নিয়ে বিশ্রাম নিতে হবে। শহরের মধ্যে বিভিন্ন বাজেটের মধ্যে এসি/ ননএসি হোটেল পাওয়া যায়। পর্যাপ্ত হোটেল থাকায় রুম পেতে কোন ঝামেলা পোহাতে হয় না। তবে পর্যটনের ভরা মৌসুমে আগেভাগে বুকিং দিয়ে আসা ভালো। এখন বেশির ভাগ আবাসিক হোটেলের সাথেই খাবারের রেস্তোরা রয়েছে। শহরের রুমা বাসষ্টেশন থেকে বিভিন্ন চাঁদের গাড়ী, জীপ ইত্যাদি নীলগিরী পর্যটন কেন্দ্রে চলাচল করে। আপনাকে এসব গাড়ী রিজার্ভ করেই যেতে হবে গন্তব্যে। কারণ রিজার্ভ গাড়ীতে না গেলে আপনাকে পথে অনেক ঝামেলা পোহাতে হতে পারে। যা আপনার ভ্রমনের আনন্দকে ম্লান করে দিতে পারে। গন্তব্যে পৌঁছাতে এসব গাড়ী ২-৩ ঘন্টা সময় নিতে পারে। নীলগিরি পৌঁছে আপনি সেখানে রাত যাপনও করতে পারবেন। এখানকার কটেজগুলো একটু ব্যয়বহুল। এখানকার প্রতিটি কটেজের ভাড়া রাতপ্রতি ৪/৫ হজার টাকার মধ্যে। আর থাকতে না চাইলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপনাকে আবার বান্দরবান শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে।

*ঈদেরছুটি* *ছুটিতেভ্রমন* *বান্দরবান* *নীলগিরি* *ভ্রমনটিপস*

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

দিনাজপুরের পূর্বনাম ছিল ঘোড়াঘাট। জানা যায় জনৈক দিনাজ বা দিনাজরাজ নামক ব্যক্তি দিনাজপুরে রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তাঁর নামানুসারে জেলার নামকরণ হয়েছে দিনাজপুর। প্রধান নদনদীর মধ্যে রয়েছে -যমুনা, আত্রাই, পুনর্ভবা, ঢেপা, কাঞ্চন, খরখরিয়া ইত্যাদি। খনিজ সম্পদের জন্য সমৃদ্ধ দিনাজপুর। দিনাজপুরের যে দুটি কীর্তির জন্য রাজা রামনাথ অবিস্মরণীয় হয়ে আছেন তার একটি কান্তজীর মন্দির অন্যটি রামসাগর। কথিত আছে, রাজা রামনাথের আমলে বৃষ্টিপাতের অভাবে একবার ক্ষেতের সব শষ্য নষ্ট হয়ে যায়। প্রকৃতি হয়ে ওঠে রুক্ষ ও ধূসর। অনাবৃষ্টির অভিশাপে জর্জরিত হয় সাধারণ প্রজা। প্রজাদের দুঃখদৈন্য মেটাতে মহাপ্রাণ রাজা খনন করান দীঘিটি। তারপর থেকে বহুকাল পর্যন্ত এটি রয়ে গেছে। রামসাগারকে ঘিরে যে সৌন্দর্যের পশরা বসেছে তা বর্ণনাতীত।

আছে কান্তজীর মন্দির, বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর মন্দির । শুধু বাংলাদেশ নয়, উপমহাদেশের প্রাচীন স্থাপত্য কীর্তির অসাধারণ এক নিদর্শন এই মন্দির। দিনাজপুরের টেপা নদীর ওপারে কান্তনগর গ্রামে এর অবস্থান।  দিনাজপুরে প্রবেশেই চোখে পরে সড়কের দুদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য লিচু গাছ। দিনাজপুর অঞ্চল তো লিচুর এক দেশই বটে। এখানে এসে লিচু খাওয়ার মজাই আলাদা।

লিচুর রাজ্য দিনাজপুরের মাশিমপুর লিচুবাগান
মধুমাসে ভ্রমন করতে যাওয়ায় সকলের লিচু খাওয়া। দিনাজপুর জেলার সবখানেই কম-বেশি লিচুর চাষ হয়। তবে মাশিমপুর লিচুর জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত। এখানকার বাড়িতে বাড়িতে দেখা গেল সবাই লিচু নিয়ে ব্যস্ত। সড়কের দুপাশে শুধুই লিচুগাছ। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ডাল ভারী হয়ে ঝুলছে লাল লাল লিচু।বাজার থেকে কিনে লিচু খাওয়া আর বাগানের গাছ থেকে নিজ হাতে পেড়ে লিচু খাওয়ার মধ্যে অনেক তফাৎ আছে।প্রধান সড়ক ছেড়ে ছোট একটি রাস্তায় ঢুকতেই পাওয়া যায় আরো শত শত লিচুবাগান। 


মাশিমপুরের লিচু বেশিরভাগই বাড়ি কেন্দ্রীক। ঘরের আঙিনা, আশপাশেই বেশিরভাগ লিচু গাছ। বাগানও আছে প্রচুর। ভ্রমণে গেলে এখানে তাই কমবেশি আতিথেয়তাও পাওয়া যায়। এই এলাকার যে কোনো বাড়ি কিংবা বাগানে ঢুকে পড়তে পারেন আপনিও দিনাজপুর ভ্রমনে গিয়ে। মাশিমপুরের বাগানে প্রতি শত লিচু জাতভেদে দাম ২শ’ থেকে ৮শ’ টাকা। দেশি ও মাদ্রাজি লিচুর দাম সবচেয়ে কম। আকারে বেশ বড় ও সুস্বাদু হওয়ায় বোম্বাই ও চায়না-থ্রি লিচুর দাম সবচেয়ে বেশি। বোম্বাই আর মাদ্রাজি লিচুর দাম কিছুটা কম, প্রতি ১০০ লিচু ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। বেদানা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আর চায়না-থ্রি জাতের লিচু ৮০০ টাকা থেকে শুরু। এছাড়া রয়েছে কালিতলা নিউমার্কেট, যেখানে লিচুর হাট বসে, সেখানে লিচু কিনে পার্সেল করে দিতে পারেন আপনার গন্তব্যে। দিনাজপুর থেকে লিচু আনার এটাই সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি, তবে পরিমাণে অল্প হলে হাতে করেই নিয়ে আসা যায়।


লিচুর রাজ্যে ঘুরে দেখে লিচুর স্বাদ নিয়ার এটাই উপযুক্ত সময়। তাই এখনই বেড়ানোর পরিকল্পনা করে ফেলতে পারেন যে কেউ।

কিভাবে যাবেন,কেমন খরচ?
ঢাকা থেকে বাস ও ট্রেন দুই পথেই যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে দিনাজপুরগামী (Dinajpur) বাসগুলো সাধারণত ছাড়ে গাবতলী ও কল্যাণপুর থেকে। এ পথে নাবিল পরিবহনের এসি বাস চলাচল করে। ভাড়া ৯০০ টাকা।
এ ছাড়া হানিফ এন্টারপ্রাইজ,এস আর ট্রাভেলস,কেয়া পরিবহন, এস এ পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, নাবিল পরিবহনের নন-এসি বাসও চলাচল করে এ পথে। ভাড়া ৫০০-৫৫০ টাকা। ঢাকা থেকে আসাদগেট, কলেজগেট, শ্যামলী, কল্যাণপুর, টেকনিক্যাল মোড় অথবা গাবতলী হতে নাবিল, বা বাবলু এন্টারপ্রাইজের চেয়ার কোচে করে সরাসরি দিনাজপুর । প্রায় সারাদিন ৩০ মিনিট বা ১ ঘণ্টা পরপর গাড়িগুলো ছেড়ে যায়। তা ছাড়া উত্তরা হতেও কিছু পরিবহন দিনাজপুর যায়।

ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্তঃনগর ট্রেন দ্রুতযান এক্সপ্রেস ছাড়ে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে। আর আন্তঃনগর একতা এক্সপ্রেস ছাড়ে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে। ঢাকা থেকে একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস বন্ধ থাকে যথাক্রমে মঙ্গল ও বুধবার। দিনাজপুর (Dinajpur) থেকে ঢাকার উদ্দেশে দ্রুতযান এক্সপ্রেস ছাড়ে সকাল ৮টা ১০ মিনিটে আর একতা এক্সপ্রেস ছাড়ে রাত ৯টা ৫০ মিনিটে। দিনাজপুর (Dinajpur) থেকে একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস বন্ধ থাকে যথাক্রমে সোমবার ও বুধবার।

কোথায় থাকবেন, কেমন খরচ?
দিনাজপুর শহরের কোন হোটেলে থাকতে পারেন। দিনাজপুর শহরে থাকার জন্য বাংলাদেশ পর্যটন কপোর্রেশন এর মোটেলসহ অনেকগুলো ব্যক্তি মালিকানাধীন হোটেল রয়েছে। আপনি চাইতে এখানে থাকতে পারেন। হোটেল ডায়মন্ড, পূর্নভবা, হোটেল আল রশিদ উল্লেখযোগ্য।দিনাজপুর (Dinajpur) শহরে থাকার জন্য ভালো মানের হোটেল হচ্ছে পর্যটন মোটেল (০৫৩১-৬৪৭১৮)। এ ছাড়া ঢাকায় পর্যটনের প্রধান কার্যালয় থেকেও এ মোটেলের বুকিং দিতে পারেন। দিনাজপুরের (Dinajpur) পর্যটন মোটেলে এসি টুইনবেড ১৫০০ টাকা এবং এসি টুইনবেড ডিলাক্স কক্ষ ১৮০০ টাকা। এ ছাড়া দিনাজপুরের (Dinajpur) অন্যান্য সাধারণ মানের হোটেলে ১০০-১২০০ টাকায় রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা আছে। কয়েকটি সাধারণ মানের হোটেল হলো—মালদহ পট্টিতে হোটেল ডায়মন্ড (০৫৩১-৬৪৬২৯),নিমতলায় হোটেল আল রশিদ (০৫৩১-৬৪২৫১), হোটেল নবীন (০৫৩১-৬৪১৭৮), হোটেল রেহানা (০৫৩১-৬৪৪১৪), নিউ হোটেল (০৫৩১-৬৮১২২)।

দিনাজপুরের বিশেষ খাবার গুলোঃ
দিনাজপুর (Dinajpur) এর বিখ্যাত এবং খুব জনপ্রিয় খাবার লিচু,চিড়া,পাপড় খেতে ভুলবেন না।

বিস্তারিত জানিয়ে দিলাম দিনাজপুরের লিচু রাজ্য সম্পর্কে। এবার তাহলে ভ্রমনের সরঞ্জামাদি নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। 

*লিচু* *লিচুবাগান* *মাশিমপুর* *লিচুররাজ্য* *দিনাজপুর*

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতকে বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন সৈকত বলা যায়। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এ জায়গা থেকেই সূর্যোদয় এবং সূর্যাচ্চের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। তবে সেটা সৈকতের দুই প্রান্ত থেকে। ভালোভাবে সূর্যোদয় দেখা যায় সৈকতের গঙ্গামতির বাঁক থেকে আর সূর্যাচ্চ দেখা যায় পশ্চিম সৈকত থেকে। এ সৈকতের দৈর্র্ঘ্য প্রায় আঠারো কিলোমিটার আর প্রস্থে প্রায় তিন কিলোমিটার। পুরো সৈকত ঘেঁষেই রয়েছে বিচ্চীর্ণ নারিকেল বাগান। সমুদ্র সৈকতের পূর্ব প্রান্তে রয়েছে গঙ্গামতির খাল। এর পরেই গঙ্গামতির সংরক্ষিত বণাঞ্চল। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের একেবারে পশ্চিম পাশে আছে জেলে পল্লী। মাছের শুটকি তৈরির বিশাল একটি এলাকাও আছে এখানে। এছাড়া পুরো সৈকতজুড়েই সারা বছর দেখা মিলবে মাছ শিকারীদের বিভিন্ন কৌশলে মাছ ধরার দৃশ্য। কুয়াকাটার পুরো সৈকতে বেড়ানোর জন্য রয়েছে মটর সাইকেলের ব্যবস্থা। একটি সাইকেলে দুইজন ভ্রমণ করা যায়। 

বাংলাদেশের দক্ষিনাঞ্চলে সাগরকন্যাক্ষ্যাত মনোরম একটি ভ্রমণ স্বর্গ কুয়াকাটা। পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার অন্তর্গত লতাচাপালী ইউনিয়নে অসাধারণ এ সমুদ্র সৈকতটির অবস্থান। কুয়াকাটার ঠিক পূর্বেই রয়েছে গঙ্গামতির বা গজমোতির সংরক্ষিত বনাঞ্চল, পশ্চিমে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল উত্তরে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মাছের বাণিজ্য কেন্দ্র আলীপুর। সাগরের বুকে এখান থেকেই সূর্যোদয় এবং সূর্যাচ্চের মনোরম দৃশ্য দেখা যায় বলে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের বিবেচনায় দেশের অন্যান্য সমুদ্র সৈকত থেকে এর গুরুত্ব অনেক বেশি।

কুয়াকাটার নামকরণ নিয়ে রয়েছে মজার ইতিহাস। ১৭৮৪ সালে বর্মী রাজা রাখাইনদের মাতৃভূমি আরাকান দখল করলে বহু রাখাইন আরাকান ছেড়ে নৌকাযোগে অজানার উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়ে। চলতে চলতে তারা বঙ্গোপসাগরের তীরের রাঙ্গবালি দ্বীপ খুঁজে পেয়ে সেখানে বসতি স্থাপন করে। সাগরের লোনা পানি ব্যবহারের অনুপযোগী বলে মিষ্টি পানির জন্য তারা এখানে একটি কূপ খনন করে এবং এ স্থানের নাম দেয় কুয়াকাটা। কুয়াকাটা ভ্রমণের আদ্যোপান্ত নিয়ে চলুন জেনে নেই।


কুয়াকাটার কুয়া
কুয়াকাটা নমকরণের উৎস প্রাচীন সেই কুয়াটি এখনো আছে। তবে অদূরদর্শী কুরুচিকর সংস্কারের ফলে এর সৌন্দর্য এবং প্রাচীন আদল নস্ট হয়ে গেছে। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের কাছেই রাখাইন আদিবাসীদের বাসস্থল কেরানিপাড়ার শুরুতেই বৌদ্ধ মন্দিরের সামনে রয়েছে এই কুয়াটি।


সীমা বৌদ্ধ মন্দির
কুয়াকাটার প্রাচীন কুয়াটির সামনেই রয়েছে প্রাচীন একটি বৌদ্ধ মন্দির, নাম সীমা বৌদ্ধ মন্দির। প্রাচীন এই মন্দিরে রয়েছে প্রায় সাঁইত্রিশ মন ওজনের অষ্ট ধাতুর তৈরি ধ্যানমগ্ন বুদ্ধের মূর্তি।


কেরানিপাড়া
সীমা বৌদ্ধ মন্দিরের সামনে থেকেই শুরু হয়েছে রাখাইন আদিবাসীদের পল্লী কেরানিপাড়া। এখানকার রাখাইন নারীদেও প্রধান কাজ কাপড় বুনন। এদের তৈরি শীতের চাদর বেশ আকর্ষণীয়।


আলীপুর বন্দর
কুয়াকাটা থেকে প্রায় চার কিলোমিটার উত্তরে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় একটি মাছ ব্যবসা কেন্দ্র আলীপুর। এ বন্দর থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রলার বঙ্গোপসাগরে যায় মাছ ধরতে। আলীপুর বন্দর ঘুরে দেখতে পারেন বিভিন্ন রকম সামুদ্রিক মাছের বিশাল আয়োজন।


মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ মন্দির
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে প্রায় আট কিলোমিটার পূর্বে রাখাইন আদিবাসীদের আকেটি বাসস্থল মিশ্রিপাড়ায় রয়েছে আরেকটি বৌদ্ধ মন্দির। এ মন্দিরেই রয়েছে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ মূর্তি। এখান থেকে কিছু দূরে আমখোলা পাড়ায় রয়েছে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় রাখাইন বসতি।


গঙ্গামতির জঙ্গল
কুয়াকাটা সুমুদ্র সৈকত পূব দিকে শেষ হয়েছে গঙ্গামতির খালে গিয়ে। আর এখানে শুরু হয়েছে গঙ্গামতির বা গজমতির জঙ্গল। বিভিন্ন রককম গাছপালা ছাড়াও এই জঙ্গলে দেখা মিলতে পারে বন মোরগ, বানর ও নানা রকম পাখির।


ফাতরার বন
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম প্রান্তে নদী পার হলেই সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। এরই নাম ফাতরার বন। এ জায়গাটি অবিকল সুন্দরবনের মতো হলেও হিংস্র কোন বন্যপ্রাণী নেই বললেই চলে। বন মোরগ, বানর আর বিভিন্ন রকম পাখিই এ বনে বেশি দেখা যায়। খুবই কম পরমিানে দেখা মিলে বন্য শুকরের। কুয়াকাটা থেকে ফাতরার বনে যেতে হলে লাগবে ইঞ্জিন বোট। সারা দিনের জন্য মাঝারি মানের একটি বোটের ভাড়া ১৫০০- ২০০০টাকা।


কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা হলো সদরঘাট থেকে লঞ্চে পটুয়াখালী। সেখান থেকে বাসে কুয়াকাটা। ঢাকা থেকে পটুয়াখালী রশুটে চলাচল করে এমভি দ্বীপরাজ, সৈকত ইত্যাদি লঞ্চ। এসব লঞ্চে প্রথম শ্রেনীর দ্বৈত কেবিনের ভাড়া ৮৫০-১০০০ টাকা। পুয়ায়াখালী বাস স্টেশন থেকে প্রতি ঘন্টায় কুয়াকাটার বাস ছাড়ে। ভাড়া ৬০-৭০ টাকা। এছাড়া ঢাকা থেকে লঞ্চে বরিশাল এসে সেখান থেকেও বাসে চড়ে কুয়াকাটা আসা যায়। ঢাকা থেকে বরিশাল ও পটুয়াখালীর লঞ্চগুলো ছাড়ে প্রতিদিন সন্ধ্যায়। ঢাকা থেকে সরসরি বাসও চলে কুয়াকাটার পথে। কমলাপুর বিআরটিসি বাস স্টেশন থেকে প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় ছাড়ে সরকারী পরিবহন সংস্থার বাস। আর গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে কুয়াকাটার পথে চলে সাকুরা, সুরভী, দ্রুতি ইত্যাদি পরিবহনের বাস। ভাড়া ৪৫০-৫০০ টাকা।


কোথায় থাকবেন
কুয়াকাটায় থাকার জন্য এখন বেশ কয়েকটি ভালো মানের হোটেল আছে। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পর্যটন করপোরেশনের পর্যটন হলিডে হোমস। হোটেল স্কাই প্যালেস,  হোটেল নীলঞ্জনা ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল গোল্ডেন প্যালেস, হোটেল সাগর কন্যা। 


প্রয়োজনীয় তথ্য
কুয়াকাটা ভ্রমণে যাওয়ার আগে একটি কথা জেনে যাওয়া ভালো। সুন্দর এ পর্যটন কেন্দ্রটি সরকারের কাছে বরাবরই উপেক্ষিত। তাই পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়কটির অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। সড়কের বেহাল দশার কারণে প্রায় আড়াই ঘন্টার এ পথটুকু পেরুতে কিছুটা দুর্ভোগের শিকার হন পর্যটকরা। তবে সাগরকন্যার সৌন্দর্য দেখার পরে সে কষ্ট অনেকের কাছেই সামান্য মনে হবে। কুয়াকাটার পাশ্ববর্তী দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত বাহন মোটর সাইকেল। 

*কুয়াকাটা* *ভ্রমনটিপস* *ছুটিতেভ্রমন* *সমুদ্রসৈকত*

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

পাহাড়ে ঘেরা সুন্দর ছোট্ট একটি দেশ সুইজারল্যান্ড, যার যে কোন প্রান্তে দাড়ালে আপনাকে দেখিয়ে দিবে এর ঐশ্বরিক সৌন্দর্য্য। সুইজারল্যান্ডের সবকিছু যেন সবুজে ঘেরা আল্পস পর্বতশ্রেনীর দিকে একই সমতলে হেলে পড়েছে। অবশ্য এই ভূখণ্ডের অনেকগুলো হ্রদ এর সৌন্দর্য্যকে আরও বিস্তীর্ণতা দিয়েছে। অনেক পর্যটকের আকর্ষণের মূল কেন্দ্র বিন্দু সুইজারল্যান্ড। 


ইন্তের্লাকেনঃ
ইন্তের্লাকেন বিশুদ্ধ বাতাস এবং এর স্পা ট্রিটমেন্ট জন্য পরিচিত একটি পর্যটন রিসোর্ট। এখানে তিনটি রাজকীয় সুইস পর্বত  ইজার, জাংফ্রাঊ এবং মঙ্কের বিস্তৃত দৃশ্য দেখতে পাবেন। এছাড়াও আপনি পনির থেকে তৈরী অতুলনীয় সুইস খাবার raclette চেষ্টা করে দেখতে পারেন। 
 

লুসানঃ
আরেকটি চমৎকার শহর লুসান, যা লেক জেনেভার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হিসাবে চিহ্নিত এবং এর প্রবেশপথ বিশ্বের সেরা স্কি ঢালের একটি। লুসান যেন একটি বাণিজ্যিক শহরে এবং রিসোর্টের নিখুঁত সংমিশ্রন। দেশি বিদেশি পর্যটকদের কাছে এ্ই শহরটি বেশ জনপ্রিয়।
 

জেনেভাঃ 
সাইকেলে চড়ে ভ্রমন বা নৌকায় ভ্রমনের জন্য আরেকটি বিশাল শহর জেনেভা।অনেক সৌন্দর্যে বিমোহিত এই নগরী বিশ্বকে এক করেছে এবং আপনি একটি মহানগরীর কাছ থেকে যা আশা করতে পারেন তার সম্বনয় করেছে।
 

জুরিখঃ
জুরিখ সুইজারল্যান্ডের বৃহত্তম শহর। এখানে ৫০টিরও বেশি মিউজিয়াম এবং ১০০টিরও বেশি আর্ট গ্যালারী আছে। আপনি যদি শিল্প ও সংস্কৃতি ভালবাসেন, তাহলে আপনার জন্য জুরিখ অবশ্যই ঘুরে দেখার মতও একটি জায়গা।

 
যারম্যাটঃ
সুইজারল্যান্ড এর সর্বোচ্চ পর্বত ম্যাটারহর্ন এক কাছাকাছি অবস্থিত   ছোট একটি শহর যারম্যাট যা স্কিইং এবং পর্বতারোহণ জন্য একটি আদর্শ স্থান।
 

জাংফ্রাউঃ
স্কি বা পর্বতারোহন করতে চাই যেসব দু: সাহসী  তাদের জন্য  আল্পসের মধ্যে অবস্থিত জাংফ্রাউ।
 

লেক জেনেভাঃ
লেক জেনেভা ইউরোপের বৃহত্তম হ্রদ হিসাবে পরিচিত। জুরা পর্বতমালার এবং আল্পস পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। 

*সুইজারল্যান্ড* *ভ্রমন* *বিদেশভ্রমন* *ভ্রমনটিপস* *ট্রাভেল*

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

‘মাধবকুণ্ড’ জলপ্রপাত কমবেশি সবারই চেনা। তবে এর কাছেই যে আরেকটি জলপ্রপাত আছে, সেটা কি দেখা হয়েছে? স্থানীয় মানুষের কাছে এর নাম  ‘পরিকুণ্ড’। সবুজ পাহাড়ে ঘেরা এই বুনো ঝর্ণাটি সবাইকে কাছে টানবে। মাধবকুণ্ডের চেয়ে পরিকুণ্ড কিছুটা নির্জন। বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালায় ছেয়ে আছে এর চারপাশ। প্রায় ১৫০ ফুট উঁচু থেকে পাথরের খাড়া পাহাড় বেয়ে শোঁ শোঁ শব্দ করে জলধারা নিচে আছড়ে পড়ছে। নিচে বিছানো ছোট-বড় পাথর গড়িয়ে স্রোতধারা একটি বড় ছড়ায় মিশে গেছে। বড় একটি পাথরে বসে আনমনে খুব কাছ থেকেই জলপ্রপাতের নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করা যেতে পারে। ইচ্ছা করলে স্বচ্ছ পানির ছড়ায় ভালোমতো গোসলও সেরে নেওয়া যায়।

কিভাবে পরিকুণ্ডতে পৌছাবেনঃ
আপনারা যাঁরা মাধবকুণ্ডে বেড়াতে যেতে চান, তাঁরা চাইলেই পরিকুণ্ড দেখে আসতে পারেন। টিকিট কেটে প্রধান ফটক পেরিয়ে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের রাস্তা। হাঁটতে হাঁটতে সামনে গিয়ে হাতের বাঁ পাশে টিলার ওপর শিবমন্দির। এর ঠিক বিপরীতে রাস্তার সঙ্গে একটি নতুন পাকা সিঁড়ি তৈরি হয়েছে। ওই সিঁড়ি দিয়ে নেমে মাধবকুণ্ডের মূল ছড়া। আর ওই ছড়াটির সোজাসুজি পাথর বিছানো ছড়া দিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটলেই পরিকুণ্ড। ভয়ের কারণ নেই। ছড়ায় শুধু পায়ের পাতাই ভিজবে। ভয়ের অবশ্য দু-একটা কারণ আছে। নিচে বিছানো পাথরগুলো কিন্তু বেশ পিচ্ছিল। শ্যাওলা জমে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাই পা ফেলতে হবে খুব সাবধানে। মাধবকুণ্ড ও পরিকুণ্ড বেড়াতে এসে কাছাকাছি রাত্রিযাপনের জন্য জেলা পরিষদের দুই কক্ষের একটি বিশ্রামাগার আছে। সেটি কমপক্ষে সাত দিন আগে বুকিং দিতে হয়।

ঢাকা থেকে যেতে যা যা করতে হবেঃ
মাধবকুণ্ডের পথ অনেকেরই চেনা। আন্তনগর ট্রেনে ঢাকা থেকে সরাসরি কুলাউড়া জংশন রেলস্টেশনে নামতে হবে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সরাসরি মাধবকুণ্ড পৌঁছাতে পারেন। ভাড়া নেবে তিন বা চার শ টাকা। কুলাউড়ায় নেমে বাসে করেও যেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আপনাকে কাঁঠালতলী বাজারে নামতে হবে। সেখান থেকে অটোরিকশায় মাধবকুণ্ড। দূরত্ব আট কিলোমিটার, ভাড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এ ছাড়া ঢাকা বা অন্য জায়গা থেকে সড়কপথে কাঁঠালতলী বাজার হয়ে মাধবকুণ্ডে পৌঁছানো যায়।
*ট্রাভেল* *ভ্রমন* *ছুটিতেভ্রমন* *ভ্রমনটিপস* *ভ্রমনগাইড* *জলপ্রপাত* *ঘুরেএলাম*

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

কিউবা বিশ্ববাসীর কাছে বিপ্লবের ভূমি হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনচেতা এই দেশটি খুবই শান্ত ও সুন্দর। ১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রো এবং চে গুয়েভারার নেতৃত্বে একদল বিপ্লবী হটিয়ে দিয়েছিল স্বৈরাচারী বাতিস্তা সরকারকে। তখন থেকেই তারুণ্যের প্রতীক, জীবনের প্রতীক কিউবা। ঐতিহ্যবাহী এই শহরটি শুধু বিপ্লবেরই স্বাক্ষী দেয় না বরং এখানে ঘুরে দেখার মত অনেক কিছু রয়েছে।  মূলত ৫টি  কারণে কিউবার রাজধানী হাভানায় ঘুরতে যায় মানুষ।

১. পুরনো আমলের গাড়ি  
হাভানায় গেলে আপনি বিনামূল্যে টাইম মেশিনে চড়ার সুযোগ পাবেন। রাস্তায় নামলে দেখবেন এখনো ১৯৫০-এর দশকের ট্যাক্সিক্যাবগুলো রীতিমতো রাস্তা কাঁপিয়ে চলছে। উঠে পড়ুন ট্যাক্সিক্যাবে, সেটাই টাইম মেশিন। ভুলেই যাবেন অর্ধশতাব্দী এগিয়ে আছেন আপনি।

২. কিউবান  
মানুষ দেখতে হলেও কিউবায় যাবেন। বন্ধুবৎসল হিসেবে খ্যাতি রয়েছে কিউবানদের। ছোট ছোট গলির ভেতরে দেখবেন দাদার বয়সীরা হাফপ্যান্ট পরে আরাম কেদারা বিছিয়ে দিব্যি বসে আছেন। রাস্তায় দেখবেন বাচ্চাদের সাথে পাল্লা দিয়ে বুড়োরা ফুটবল নিয়ে কাড়াকাড়ি করছেন। এই দৃশ্যগুলোই কিউবানদের প্রাণবন্ত জীবন-যাপনের উদাহরণ।

৩. বুড়ো শহর  
হাভানায় রয়েছে কয়েক শ বছরের পুরোনো বাড়িঘর। স্থাপত্যের দিক থেকে হাভানা ঐতিহ্যমণ্ডিত। পায়ে হেঁটে শহর ঘুরে দেখতে পারেন, সময় পেরিয়ে যাবে। এসব স্মৃতির কোনো তুলনা হয় না।

৪. নাচ এবং গান  
কিউবানদের শরীরজুড়ে রয়েছে গান এবং ছন্দ। ফুরসত পেলেই নাচে গানে আসর মাতিয়ে রাখতে ওস্তাদ কিউবানরা। হাভানায় রয়েছে অসংখ্য ড্যান্স ক্লাব। সেখানে যদি নাও যান, রাস্তায় দেখা পাবেন কোন বাঁশিওয়ালার যে একমনে বাজিয়ে চলছে ডাকাতিয়া বাঁশি। আর সালসা নাচ তো কিউবান সংস্কৃতিরই অংশ।

৫. চুরুট এবং রাম  
হাভানার নাম অনেকেই মনে রাখে হাভানা চুরুটের নামে। রাম এবং সিগারেটের বৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত হাভানা। অনেকেই কার্টুন ভর্তি করে সিগারেট নিয়ে আসেন হাভানা থেকে। এত সস্তায় এত ধরনের সিগারেট সহজে আর কোথাও মিলবে না। 

বন্ধুরা, বিশ্ব ভ্রমন যাদের ইচ্ছা তারা সহজেই  ঘুরে আসতে পারেন কিউবার রাজধানী হাভানা থেকে।


*ভ্রমন* *ট্রাভেল* *ভ্রমনটিপস* *ভ্রমনগাইড* *কিউবা* *হাভানা* *বিদেশভ্রমন*

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

লালবাগের কেল্লা বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত প্রাচীন দুর্গ। মোঘল আমলে স্থাপিত এই দুর্গটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি পুরনো ঢাকার লালবাগে অবস্থিত, আর সে কারণেই এর নাম হয়েছে লালবাগের কেল্লা। এটি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনস্থল। বর্তমানে ( প্রেক্ষিত ২০১২ ) বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ব বিভাগ এই কেল্লা এলাকার রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে।
*লালবাগদূর্গ* *ভ্রমন* *ট্রাভেল* *ভ্রমনগাইড*

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ফরিদপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন কীর্তি মথুরাপুরের দেউল। রহস্যঘেরা এ স্থাপনা কবে কে কখন নির্মাণ করেছিল তার সঠিক কোন তথ্য প্রমান আজও পাওয়া যায়নি। তবে রহস্য যাই থাকুক না কেন প্রাচীন ঐতিহ্য হিসেবে ভ্রমন প্রিয়সীদের কাছে মথুরাপুরের দেউল বেশ জনপ্রিয়। সময় পেলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন মথুরাপুর দেউল থেকে।

মাথুরাপুর দেউলঃ
ফরিদপুর জেলার মধুখালি উপজেলার গাজনা ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামে অবস্থিত এ প্রাচীন স্থাপত্য কীর্তিটি। মাথুরাপুর দেউলের নিমার্ণ নিয়ে প্রচলিত আছে নানা কথা । পাথরাকৃতির পোড়ামাটির তৈরি দেউলটি প্রায় ৭০ ফুট উঁচু । এর শিলাখন্ডগুলো সুগ্রথিত । কোথা থেকে এর গাঁথুনি শুরু হয়েছে তা বোঝা দুরুহ। একেবারে নিচ থেকে মোটা হয়ে ক্রমান্বয় উপরের দিকে অল্প সরু হয়ে চুড়ার দিকে মিশে গেছে । সম্পুর্ণভাবে ঢালাই করা এর ছাদ । নির্মাণকালে এ দেউলের সংখ্যা ছিল ৪টি । প্রত্নতত্ব ও জাতীয় জাদুঘর বিভাগের অধীনে নিয়ে আসার পর সংশ্লিষ্ট বিভাগ এর ২টি দরজা বন্ধ করে দেয়।

বর্তমানে এর ভেতরে গিয়ে উপরের দিকে তাকালে অন্ধকারে কিছুই দেখা যায়না । দেউলের গা জুড়েই আঁকা রয়েছে অসংখ্য ছাপচিত্র ও মাটির কলস । অঙ্কিত শিলাখন্ডে চোখ পড়লে দেখা যায় হরেক মুর্তি। কোনোটি আছে  নারীর , কোনোটি উৎসবের আনন্দযজ্ঞের । তীর ধনুক হাতে কোনো হনুমান দাঁড়িয়ে আছে । আবার দেখা যায়, কোনো প্রানীকেবহন করে নিয়ে যাচ্ছে হনুমান বা কিম্ভুত কোন প্রানী যার মুখ হিংস্রের মতো । কোথাও রয়েছে নৃত্যরত নগ্ন নর-নারী , গদা হাতে হনুমান , যুদ্ধের দৃশ্য, পেচা জাতীয় কোন প্রাণী , মুন্ডুহীন মানুষের আকৃতি বিশিষ্ট প্রাণী দেহ । আরও দেখা যায় ধাবমান ঘোড়া , মন্দিরে প্রার্থনারত  হনুমান ইত্যাদি । 

দেউল গাত্রের নির্মান সৌকর্যেও ফলক এবং যেসব মূর্তি রয়েছে সেগুলো দেখে বিমোহিত হন দর্শক ভ্রমন বিলাসীরা । দেউলটি কবে এবং কেন তৈরি করেছিলে সে ব্যাপারে কোন প্রামান্য তথ্য মেলেনি । এব্যাপারে নানা মত  প্রচলিত আছে । সেগুলোর মধ্যে ২-১টি জন শ্র“তি এ রকম  এ এলাকায় বহুকাল আগে রাজা মথুরা নামে এক শাসক ছিলেন । তার নামানুশারেই এগ্রামের নাম মথুরাপুর হয়েছে  ।  এই শাসকের অস্তিম ইচ্ছা ছিল মৃত্যুও পর সমাধিতে যেন একটি  স্মৃতিস্তম্ভ তৈরিকরা হয় । তবে তার অস্তিম ইচ্ছা  আদৌ পুরন হবে কি না  সে ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ায় জীবিত অবস্থায়ই তিনি একটি মঠতৈরি করেন । সেটিই মথুরাপুরের মঠ বা দেউল দেউল নামে পরিচিত । মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী এমঠের পাশেই তাকে সমাহিত করা হয় । অন্য আরেকটি জন শ্রুতি মেলে এ দেউল সর্ম্পকে।

আ.কা.মোঃ যাকারিয়া রচিত বাংলাদেশের প্রাচীন কীর্তিগ্রস্থর দ্বিতীয় খন্ডে মথুরাপুরের দেউল সম্পর্কে উল্লেখ আছে এটি কবে ও ও কেন তৈরি হয়েছিল  বা এর স্থপতি কে ছিলেন  এ বিয়ষ সঠিক কোনোতথ্য পাওয়া যায়নি । লোকমুখে প্রচলিত কাহিনী এ রকম যশোরের রাজা প্রতাপাদ্যিকে যুদ্ধে পরাজিত করার পর মোগল সম্রাট আকবরের সেনাপতি রাজা মান সিংহ এটি নির্মান করে ছিলেন । বিজয় স্তম্ভ হিসেবে মাথুরার দেউলটি নিয়ে নানাজনের নানা মত থাকলেও দেউলটি যে কোন মুসলমান শাসকের নির্মিত নয়  এব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়  । দেউলের গাজুড়ে পোড়া মাটির ফলক শিলাখন্ড, হনুমান ও নানা মুর্তি দেখে । তবে এর নির্মান শৈলি ও সংগে মোগল স্থাপত্যকলার ন্যয় । 

দেউলের নির্মাণ প্রকরণ দেখে পন্ডিতদেও অনুমান য়ে, এটি ১৭ শতকের নির্মিত হয়েছিল  এবংখুব সম্ভব কোন হিন্দু সামন্তরাজ এটি তৈরি করেছিলেন । মথুরাপুরের দেউল সম্পর্কে স্থানীয় জনসাধারনের কল্প কাহিনী বংশ পরম্পরায় প্রচলিত রয়েছে । এ কল্পকাহিনীটি এরকম ফেরেশতা বাজিন-পরিরা  অথবা হিন্দুমতে দেব- দেবীরা মাত্র এক রাতে এ দেউলটি তৈরি করেন । স্থানীয় জন সাধারনের ধারনা তৈরির সময় এটি ৭তলা বিশিষ্ট ছিল । কালক্রমে ৬তলা মাটির নিচে দেবে গেছে । ঐতিহাসিক স্থাপত্য কীর্তি মথুরাপুরের দেউলটি প্রত্নতত্ব ও জাতীয়জাদুঘর বিভাগের অধীনে নিয়ে আসা হয়েছে। এলাকাবাসী মনে করেন, ঐতিহাসিক এই দেউলকে ঘিরে গড়ে তোলা যেতে পারে একটি পর্যটন কেন্দ্র। 

*ভ্রমন* *ভ্রমনটিপস* *ট্রাভেল* *ভ্রমনগাইড* *ফরিদপুর*

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের তীরে অবস্থিত সবুজ সুন্দর শহর ময়মনসিংহের প্রাণকেন্দ্রে জমিদার আমলের এক অনন্য স্থাপনা রয়েছে। ‘শশী লজ’। হুমায়ূন আহমেদের অয়োময় নাটকটির প্রাণরূপ দিয়েছিল এই "শশী লজ" l  সেই যে জমিদার মীর্জা সাহেব আর তার দুই স্ত্রী এলাচী আর লবঙ্গ, মনে আছে নিশ্চয়ই আপনাদের l  সেই নাটকে যে জমিদার বাড়ি দেখানো হয়েছিলো সেটি এই ‘শশী লজ’। সেই থেকে স্থানীয়ভাবে ‘শশী লজ’ জমিদার বাড়ি হিসেবে পরিচিত হতে থাকে।

জনমুখে প্রচলিত, মুক্তাগাছার জমিদার মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য ময়মনসিংহ শহরের কেন্দ্রে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে নির্মান করেছিলেন এক মনোরম প্রাসাদ ‘ক্রিস্টাল প্যালেস’ যা ‘রংমহল’ নামেও পরিচিত ছিলো। কিন্তু ১৮৯৭ সালের ১২ জুন গ্রেট ইন্ডিয়ান ভূমিকম্পে বিখ্যাত ‘রংমহল’ ধ্বংস হয়ে গেলে সেই স্থানে নির্মান শুরু করেন বাইজেন্টাইন ধাঁচের বর্তমান ভবনটি। ভবনটির নির্মান সম্পন্ন হওয়ার আগেই সূর্যকান্ত আচার্য মত্যুবরণ করেন। নিঃসন্তান সূর্যকান্তের দত্তক পুত্র শশীকান্ত আচার্য চৌধুরী ভবনটির নির্মান শেষ করেন ১৯০৫ সালে এবং তাঁর নাম অনুসারে এর নামকরণ করেন ‘শশী লজ’

নয় একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত শশীলজের মূল ফটকে রয়েছে ১৬টি গম্বুজ। সাধারণ বাসভবন ছাড়াও বাড়িটিতে আছে হলঘর, বিশ্রামঘর, নাচঘর, স্নানঘর। সর্বমোট ২৪ টি কক্ষ রয়েছে এই ভবনটিতে। শশীলজের মূল ভবনের সামনে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন বাগান। বাগানের মাঝখানে আছে শ্বেতপাথরের ফোয়ারা, যার মাঝখানে রয়েছে গ্রিক দেবী ভেনাসের স্নানরতা মর্মর মূর্তি। লাল ইট আর হলুদ দেয়ালে নির্মিত শশীলজের পাশেই আছে পদ্মবাগান। শশী লজের ভেতরের বারান্দা অতিক্রম করে কয়েক ধাপ সিঁড়ি পেরোলেই রঙ্গশালা। সুদৃশ্য সেই রঙ্গশালার এক প্রান্তে বিশ্রামঘর। বিশ্রামঘরের পর কাঠের মেঝেযুক্ত হলঘর। হলঘরের পাশেই মার্বেল পাথরে নির্মিত আরেকটি জলফোয়ারা। 


মূল ভবনের পেছনভাগে রয়েছে একটি দোতলা স্নানঘর। কথিত আছে এই স্নানঘরে বসে রানী পাশের পুকুরে হাঁসের খেলা দেখতেন। পুকুরটির ঘাট মার্বেল পাথরে বাঁধানো। এছাড়াও অর্ধ গোলাকার খিলান এবং ডরিক স্তম্ভ সম্বলিত প্রধান প্রবেশ পথটি শশী লজের স্থাপত্যিক সৌন্দর্য বাড়তি শোভা যোগ করেছে । বাড়িটিতে বেশ কিছু স্নানঘর রয়েছে। এক স্নানঘরে রয়েছে একটি সুড়ঙ্গ। ধারণা করা হয় এই সুড়ঙ্গপথেই গোপনে মুক্তাগাছা যাওয়ার ব্যবস্থা ছিল। উল্লেখ্য, মুক্তাগাছার জমিদার বাড়িতেও এই রকম একটি সুড়ঙ্গপথ পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ প্রত্নতত্ব অধিদপ্তর ১৯৮৯ সালে ‘শশী লজ’কে সংরক্ষিত স্থাপনা হিসেবে ঘোষনা করে এবং এখানে একটি জাদুঘর নির্মানের প্রকল্প নেয়া হয়। তবে অদ্যাবধি শশী লজের অধিগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে এটি ‘মহিলা শিক্ষক প্রশিক্ষন কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
*শশীলজ* *ভ্রমণ* *ট্রাভেল* *ছুটিতেভ্রমণ* *ভ্রমণটিপস*

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর উপকূলীয় জীব বৈচিত্র্য, স্ফটিক স্বচ্ছ পানি, বহুরকমের প্রবাল আর সৈকত জুড়ে মুক্ত ছড়িয়ে থাকা অনন্য সুন্দর দ্বীপটির নাম ‘কীশ’। কীশ ইরানের একটি দ্বীপ। পারস্য উপসাগরে ইরানের যতোগুলো দ্বীপ রয়েছে তাদের মাঝে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ এটি। সমগ্র বিশ্বের সাথে ইরানের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এই দ্বীপটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। চমৎকার আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমণ্ডিত হওয়ায় দ্বীপটি সারা বছর দেশি বিদেশি পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত থাকে। আপনিও চাইলে ঘুরে আসতে পারেন ইরানের অনন্য সুন্দর দ্বীপ ‘কীশ’ থেকে।

কীশ দ্বীপটির অবস্থানঃ
ইরানের দক্ষিণ উপকূল হতে ২০ কিলোমিটার দূরে পারস্য উপসাগরের উত্তরাঞ্চলে ৯১ বর্গ কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে অনেকটা ডিম আকৃতির একটি দ্বীপ রয়েছে। দ্বীপটির নাম কীশ। পূর্ব-পশ্চিমে কীশ দ্বীপের দৈর্ঘ্য হলো ১৫ কিলোমিটার। আর উত্তর দক্ষিণে দ্বীপটির প্রস্থ প্রায় ৮ কিলোমিটারের মত।

কীশ দ্বীপের সৌন্দর্য্য কথনঃ
কীশ দ্বীপ নৌচালনা এবং মুক্তা কুড়ানোর জন্যে বিখ্যাত। এর চমৎকার আবহাওয়াও পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। শীতকালেও কীশের আবহাওয়ায় উষ্ণতার পরিমাণ ১৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের নীচে নামে না। বছরের ছয় মাস গরম থাকলেও বাকি ছয়মাসের আবহাওয়া বেশ উপভোগ্য।

এই দ্বীপে প্রচুর পরিমাণ প্রবাল রয়েছে। খ্রিষ্টপূর্ব দুই হাজার বছর আগে থেকে এখানে মানব বসতি গড়ে ওঠে। ফলে কীশের সংস্কৃতিতে রয়েছে প্রাচীনত্ব আর বেশ সমৃদ্ধও। তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবেও প্রাচীনকাল থেকেই কীশের খ্যাতি রয়েছে।

ইরানের কালজয়ী কবি সাদি সপ্তম শতকে তাঁর বিখ্যাত ‘গোলেস্তান’ কাব্যগ্রন্থে কীশ দ্বীপ প্রসঙ্গে লিখেছেন। তাঁর লেখায় উঠে এসেছে তৎকালীন কীশের মর্যাদা, বিস্তৃতি এবং বাণিজ্যিক লেনদেনের বিষয়গুলো।

কীশ দ্বীপ ইরানের সর্বপ্রথম ফ্রি ট্রেড জোন। কেবল বাণিজ্য নয় টুরিস্ট স্পট হিসেবেও কীশ দ্বীপটির খ্যাতি রয়েছে। সমগ্র দ্বীপের শতকরা প্রায় ৫৫ ভাগ এলাকা পর্যটনের জন্যে নির্দিষ্ট। পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্যে গড়ে উঠেছে নান্দনিক স্থাপনা, চমৎকার হোটেল। প্রকৃতির সৌন্দর্য আর স্থাপনার নান্দনিকতায় কীশ হয়ে উঠেছে দর্শনীয় একটি দ্বীপ।

কীশ দ্বীপে রয়েছে উপকূলীয় বৈচিত্র্য, রয়েছে স্ফটিক স্বচ্ছ পানি, বহুরকমের প্রবাল, বিচিত্র রঙের অ্যাকুরিয়ামের মাছ এবং সর্বোপরি কীশে রয়েছে মন কেড়ে নেওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এগুলো কীশ দ্বীপ দেখতে যাওয়া যে কোনো দর্শক বা পর্যটককেই কীশ দ্বীপের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হলো ‘হারিরা’ নামক পুরনো শহর। হারিরা শহরের প্রাচীন নিদর্শনগুলো দর্শকদের নিয়ে যায় সময়ের পর্দা ভেদ করে ইতিহাসের অনেক গভীরে। যেখানে এই চমৎকার প্রবাল দ্বীপের প্রাচীন বাসিন্দাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।

কীশের আরেকটি দর্শনীয় স্থাপনা হলো শেইখ আলে আলি ভবন। শেখ আলে আলি ছিলেন কীশ দ্বীপের সাবেক শাসক। সমুদ্রের পাড়ে যে সুরম্য প্রাসাদ তিনি গড়ে তুলেছেন তা অনন্য। যদিও অনেকের অভিমত স্থাপত্য কৌশলের দিক থেকে কাজারি রাজবংশের শাসনামলের স্থাপত্যের সাথে মিলে রয়েছে।

বন্ধুরা, তবে আর দেরি কেন ঘুরে আসুন ইরানের অনন্য সুন্দর  কীশ দ্বীপ থেকে। আর আপনার ভ্রমনের খুটিনাটি অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে শেয়ার করতে একদম ‍ভুল করবেন না।


*ভ্রমন* *ট্রাভেল* *ভ্রমনটিপস* *ভ্রমনগাইড* *বিদেশভ্রমন* *ইরান* *দ্বীপ* *কীশ*

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

পঞ্চনদের দেশ পাঞ্জাব। শতদ্রু,রাভি,চেনাব,বিয়াস ও ঝিলম নদীর সহবস্থান। ভারতের উত্তর-পশ্চিম কোলে এই রাজ্যের অবস্থান। পশ্চিমে পাকিস্তান, উত্তরে জম্মু-কাশ্মির, উত্তর-পূর্বে হিমাচল, দক্ষিণে রাজস্থান ও হরিয়ানা। ১৫০২ সালে লাহোর থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে জি টি রোডের ধারে এক প্রকান্ড জলাশয় দেখেন শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গুরু নানক। সেই জলাশয়ের পাড়ে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন এক পবিত্র শহরের। জলাশয়ের নাম রাখেন অমৃত সায়র। তার থেকেই শহরের নাম হয় অমৃতসর।

ইতিহাস ঐতিহ্যের অমৃতসরঃ
গুরু নানকের স্বপ্নকে সার্থক করেন চতুর্থ শিখগুরু রামদাস। সালটা ছিল ১৫৭৭। আধুনিক এই শহরকে পাঞ্জাবের ‘হার্ট অব দ্য সিটি’ বললে ভুল হয় না। ১৫৮৮ সালে শিখ গুরু অর্জুন সিং স্বর্ণ মন্দিরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।ষষ্ঠ গুরু হরগোবিন্দ সিং-এর সময় ৪০০ কেজি সোনার পাতে মুড়ে ফেলা হয় মন্দিরের উপরিভাগ। সরোবরের নামে হয় হরমন্দির সাহিব। এখানেই থাকে গ্রন্থসাহেব। সারাদিন এখানেই থাকে। সন্ধ্যেয় শোভাযাত্রা সহকারে নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত খোলা থাকে মন্দির। দিনরাত চলে নামগান। পা ধুয়ে খালি পায়ে মন্দির দর্শন সেরে নেওয়া যায়।মন্দিরে রয়েছে লঙ্গরখানা।মন্দির থেকে খুব কাছেই জালিয়ানওয়ালাবাগ। ১৯১৯ সালে ১৩ এপ্রিল রাওলাট আইনের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি চালনার অর্ডার দেন জেনারেল ও’ডায়ার। নির্বিচারে গুলি চালনায় প্রাণ দেন ৩৭৯ জন। আহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়। অনেকে ঝাঁপ দেন কুঁয়োতে। দেওয়ালে আজও রয়েছে সেই সব গুলির দাগ।

যা কিছু দেখার আছেঃ
অমৃতসরে জম্মুর বিখ্যাত বৈষ্ণোদেবীর আদলে তৈরী হয়েছে মাতা মন্দির। এখানেই রয়েছে লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির।রয়েছে ওয়াগা বর্ডার। শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে তরণতারণ সরোবরে স্নান করলে শরীরের নানান রোগমুক্তি হয় বলে জনশ্রুতি। অমৃতসরে এলে রামতীর্থের ঋষি বাল্মীকির আশ্রম ও লব কুশের জন্মস্থান দেখে নেওয়া যায়। দেশবিদেশ থেকে প্রায় সারা বছরই পর্যটকরা অমৃতসর বেড়াতে আসেন।রেলপথ ও সড়কপথে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেই এখানে আসা যায়।
(সংকলিত) 
*ভ্রমন* *ট্রাভেল* *বিদেশভ্রমন* *ভারত* *অমৃতসর* *ভ্রমনটিপস*

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

সাহারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় মরুভূমি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য আর উঁচু নিচু ছোট ছোট বালুকাময় পাহাড়ের সমন্বয়ে সাহারা মরুভূমি গড়ে উঠেছে। ভ্রমন পিপাসু পর্যটকদের ইচ্ছা এই মরুভূমিটি খুব কাছ থেকে ঘুরে দেখার কিন্তু  আগ্রহ থাকলেও অনেকের পক্ষেই তা সম্ভব হয়ে উঠে না। পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলে মরুভূমি ভ্রমন খুবই কষ্টকর। আর বিশেষ করে, অন্যান্য মরুভূমির চাইতে সাহারা মরুভূমিটি নিঃসন্দেহে দুর্গম। তাই নির্দিষ্ট শ্রেণীর পর্যটকরাই কেবল সাহারায় বেড়াতে আসেন।


সাহারা মরুভূমির সংক্ষিপ্ত তথ্যঃ
সাহারা মরুভূমি পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি। এই মরুভূমি আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত। এর আয়তন প্রায় ৯০ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার। এখানকার লোকসংখ্যা ২০ লক্ষের বেশী হবে না। পাহাড়, মালভূমি, বালি ও অনূর্বর ভূমি দ্বারা সাহারা মালভূমি গঠিত। বেশ কিছু মরূদ্যানও আছে। কূপ ও প্রস্রবণ থেকেই কিছু জল পাওয়া যায়। মিশর, মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, চাদ, সুদান, নাইজার, মালি প্রভৃতি দেশ পর্যন্ত সাহারা মরুভূমি বিস্তৃত। সাহারার লিবিয়া ও আলজেরিয়া অংশে প্রচুর তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া গেছে। তা ছাড়া এই মরুভূমিতে তামা, লোহা, ফসফেট ইত্যাদি অনেক খনিজ দ্রব্যও আছে। জায়গাটি অত্যন্ত গরম ও শুকনো। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ২০ সেমি-র বেশী হয় না। দিনে প্রচন্ড গরম ও রাতে ঠান্ডা। কখনো কখনো পাহাড়ের চূড়ায় বরফও জমে থাকতে দেখা যায়। শীতকাল থেকে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রী সে থেকে ৪৩ ডিগ্রী সে পর্যন্ত ওঠানামা করে।

সাহারা মরুভূমির জীবন প্রকৃতিঃ
এখানকার মানুষ অধিকাংশই যাযাবর। তারা ছাগল, ভেড়া, ও উট পালন করে এবং জলের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়। খেজুর, গম, বার্লি ইত্যাদি চাষ করে ।মরুভূমির কোনো কোনো জায়গায় ঘাস, গুল্ম ও ছোট গাছ জন্মে।জলের সন্ধানে গাছ গুলোর মূল মাটির খুব গভীরে পৌঁছায় এবং অনেক ক্ষেত্রেই বাতাস থেকে পাতার মাধ্যমে জল গ্রহণ করে।সাপ, গিরগিটি ও খেঁকশিয়ালের মত প্রাণী বাস করে। যাযাবর ও পণ্যবাহকেরা যাতায়াতের জন্য উট ব্যবহার করে। ১০,০০০ বছর আগে সাহারার আবহাওয়া অপেক্ষাকৃত আর্দ্র ও শীতল ছিল, বেশ কিছু হ্রদ ও ছোট নদীর অবস্থানের প্রমাণ পাওয়া যায়। বর্তমানে শুষ্ক মরুভূমি,এমন কিছু অঞ্চলের পাহাড়ের গুহায় আদিম মানুষের বসবাসের চিহ্ন (গুহাচিত্র ও পাথরের যন্ত্রপাতি)পাওয়া গেছে যা থেকে বোঝা যায় ঐ এলাকা থেকে এক সময়ে সহজে জলের নাগাল পাওয়া যেত। এই এলাকায় হাতি জিরাফ ও অন্যান্য প্রাণী বাস করত। জায়গাটি নিঃসন্দেহে দুর্গম। তাই নির্দিষ্ট শ্রেণীর পর্যটকরাই কেবল সাহারায় বেড়াতে আসেন।

বন্ধুরা, নতুন জায়গা ভ্রমন করা নিঃসন্দেহে খুবই আনন্দের। তবে নতুন জায়গা ও নতুন আবহাওয়ার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন কিনা? সে দিকে লক্ষ্য রেখেই ভ্রমনের জন্য জায়গা নির্ধারণ করতে হবে। মনে রাখবেন, মরুভূমি ভ্রমন খুব কষ্টকর তাই ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।
*ভ্রমন* *ট্রাভেল* *আফ্রিকা* *সাহারা-মরুভূমি* *মরুভূমি* *ভ্রমনটিপস*

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

অপরূপ সৌন্দর্য্য আর আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর অলংকারিক সাজে সজ্জিত নয়নাভিরাম নজরকাড়া একটি শহরের নাম দু্বাই। পৃথিবীর সবচেয়ে বিলাসী শহরসমূহের মধ্য দুবাই অন্যতম। দুবাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি রাজ্য। কিন্তু দুবাই আজ নিজ গুণে নিজ দেশ কেও ছাড়িয়ে গেছে। একটা দেশকে ছাপিয়ে গিয়ে কোন রাজ্যের অনেক বড় হয়ে ওঠার একমাত্র নিদর্শন হচ্ছে দুবাই। সৌন্দর্য্যগুনে দুবাই আজ সারা বিশ্বের পর্যটকদের কাছে ভ্রমনের জন্য জনপ্রিয় একটি শহর।


দুবাইঃ 
মধ্যপ্রাচ্যের প্রাণকেন্দ্র বলা হয় দুবাইকে। উষর মরুভুমি সিক্ত করে বানানো হয়েছে দুবাই শহর। দুবাই আরব আমিরাতের সাতটি প্রদেশের মধ্যে একটি প্রদেশ। এটি পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ তীরে আরব উপদ্বীপে অবস্হিত। ১৮৩৩ সাল থেকে দুবাই শাসন করে আসছে আল মাকতুম পারিবার। দুবাইয়ের বর্তমান শাসকের নাম মুহাম্মদ বিন রশীদ আল মাকতুম, পাশাপাশি তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী ও উপ-রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করছেন। দুবাইয়ের প্রধান রাজস্ব আয় হচ্ছে পর্যটন ,রিয়েল এস্টেট এবং অর্থনৈতিক সেবা। দুবাইয়ের ৩৭ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস হতে রাজস্ব আসে ৬% এর ও কম। প্রতি বছর প্রায় ৭.৬ মিলিয়ন পর্যটক ভ্রমন করে দুবাই।
*ভ্রমন* *ট্রাভেল* *বিদেশভ্রমন* *ভ্রমনটিপস*

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

সারা বিশ্বের পর্যটকদের ভোটে ভ্রমনের জন্য নির্বাচিত সেরা ১০টি শহরের অন্যতম একটি শহর হল ইস্তাম্বুল। আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেজে ওঠা প্রাচীন এই শহরটি সারা বিশ্বের পর্যটকদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। কামাল আতার্তুকের এই দেশটির ইস্তাম্বুল শহরে প্রতি বছর প্রায় ৭. ৫ মিলিয়ন পর্যটক  ভ্রমন করে। বিদেশ ভ্রমনের ইচ্ছে যাদের মনে তারা এক বারের জন্য হলেও ঘুরে আসতে পারেন সুন্দরতম এই নগর থেকে।





ইস্তাম্বুলঃ
তুরস্কের অন্যতম প্রধান শহর। এর পুরোনো নাম কন্সটান্টিনোপল। এছাড়া এটি বাইজান্টিয়াম নামে পরিচিত ছিল। এটি পূর্বে উস্‌মানীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল। ১৪৫৩ সালে এটি তৎকালীন উস্‌মানীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হয়। এটি তুরস্কের সংস্কৃতি এবং অর্থনীতির কেন্দ্রস্থল। ১৯২৩ সাল পর্যন্ত এখানেই ছিল তুরস্কের রাজধানী। এটি তুরস্কের বৃহত্তম শহর যার জনসংখ্যা ১২.৮ মিলিয়ন। অনেক ঐতিহ্যবাহী শহর। এই শহরটি দুটি মহাদেশকে বিভক্ত করেছে। মসজিদের নির্মাণশৈলী এবং গঠন আকর্ষনীয়।

*ভ্রমন* *ট্রাভেল* *তুরস্ক* *বিদেশভ্রমন* *ভ্রমনগাইড*

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি ২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ নিউজিল্যান্ড। এমনিতেই প্রতিবছর প্রায় ২০ লক্ষ পর্যটক নিউজিল্যান্ডে বেড়াতে আসে কিন্তু বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপলক্ষে এবছরের প্রথম দিকেই হাজার হাজার বিদেশী পর্যটক নিউজিল্যান্ডে ভিড় জমিয়েছেন। বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা দেখা এবং সেই সাথে নিউজিল্যান্ডের সৌন্দর্য্য উপভোগ করাই পর্যটকদের মূল উদ্দেশ্য।

স্বপ্নের দেশ নিউজিল্যান্ডঃ
নিউজিল্যান্ডকে সাধারণত একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ দেশ হিসেবে অাখ্যায়িত করা হয়। নিউজিল্যান্ডের মিলফোর্ড সাউন্ড এবং টোঙ্গারিরো আল্পীয় ক্রসিং-এর মত প্রাকৃতিক অঞ্চলগুলি সারা বিশ্বের পর্যটকদের নজর কাড়তে সক্ষম। বান্‌জি জাম্পিং ও সাগরে তিমি দেখা পর্যটকদের মধ্যে জনপ্রিয়। বেশিরভাগ পর্যটক অকল্যান্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডে প্রবেশ করে। এরপর অনেকে কোচ বা ভাড়া গাড়ির মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে বেড়ায়।

নিউজিল্যান্ডের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থানের ছবিঃ

মিলফোর্ড সাউন্ডের কাছে বরফাবৃত পর্বত










হোয়াংগানুই নদীর পাড়ে পাহাড়









প্রাণঘাতী গরম পানির ঝর্ণা


*ভ্রমন* *ট্রাভেল* *নিউজিল্যান্ড* *বিদেশভ্রমন*

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

আসন্ন বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপলক্ষে স্বপ্নের দেশ অস্ট্রেলিয়া সেজেছে নতুন সাজে। এমনিতেই রূপ রসের কমতি নেই তারপরে আবার ক্রিকেট বিশ্বকাপ। বুঝতেই পারছেন অস্ট্রেলিয়ার আসল সৌন্দর্য্য উপভোগ করার এটাই উপযুক্ত সময়। ভ্রমন পিপাসু পর্যটকদের বলছি,  বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সুবাদে অস্ট্রেলিয়া ভ্রমনের সুযোগ হাতছাড়া করা একদম ঠিক হবে না।



স্বপ্নের দেশ অস্ট্রেলিয়াঃ
অস্ট্রেলিয়া একটি দ্বীপ-মহাদেশ। এটি এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বে ওশেনিয়া অঞ্চলে অবস্থিত। কাছের তাসমানিয়া দ্বীপ নিয়ে এটি কমনওয়েল্‌থ অফ অস্ট্রেলিয়া গঠন করেছে। দেশটির উত্তরে তিমুর সাগর, আরাফুরা সাগর, ও টরেস প্রণালী; পূর্বে প্রবাল সাগর এবং তাসমান সাগর; দক্ষিণে ব্যাস প্রণালী ও ভারত মহাসাগর; পশ্চিমে ভারত মহাসাগর। দেশটি পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ৪০০০ কিমি এবং উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ৩৭০০ কিমি দীর্ঘ। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মহাদেশ, কিন্তু ৬ষ্ঠ বৃহত্তম দেশ। অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরা। সিডনী বৃহত্তম শহর। দুইটি শহরই দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত।

গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ বিশ্বের বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর। এটি অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব সীমান্ত ধরে প্রায় ২০১০ কিমি জুড়ে বিস্তৃত। এটি আসলে প্রায় ২৫০০ প্রাচীর ও অনেকগুলি ছোট ছোট দ্বীপের সমষ্টি। কুইন্সল্যান্ডের তীরের কাছে অবস্থিত ফেয়ারফ্যাক্স দ্বীপ গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের অংশ।

অস্ট্রেলিয়া ৬টি অঙ্গরাজ্য নিয়ে গঠিত নিউ সাউথ ওয়েল্স, কুইন্সল্যান্ড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, তাসমানিয়া, ভিক্টোরিয়া, ও পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া। এছাড়াও আছে দুইটি টেরিটরি অস্ট্রেলীয় রাজধানী টেরিটরি এবং উত্তর টেরিটরি। বহিঃস্থ নির্ভরশীল অঞ্চলের মধ্যে আছে অ্যাশমোর ও কার্টিয়ার দ্বীপপুঞ্জ, অস্ট্রেলীয় অ্যান্টার্কটিকা, ক্রিসমাস দ্বীপ, কোকোস দ্বীপপুঞ্জ, কোরাল সি দ্বীপপুঞ্জ, হার্ড দ্বীপ ও ম্যাকডনাল্ড দ্বীপপুঞ্জ, এবং নরফোক দ্বীপ।


সৌন্দর্য্যমণ্ডিত অস্ট্রেলিয়াঃ
বিশ্বের পর্যটকদের কাছে অস্ট্রেলিয়া কোয়ালা, ক্যাংগারুর দেশ হিসেবে পরিচিত। অস্ট্রেলিয়াতে রয়েছে মনকাড়া সুন্দর্য্যমণ্ডিত বড় বড় কয়েকটি শহর । অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম শহরগুলো হল: সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, এডেলেইড, তাসমানিয়া, ডার‌উইন, পার্থ, গোল্ডকোষ্ট।শ হর জুড়ে আছে নানা রকম সমু্দ্র, নদি, যেগুলির দিকে চোখ গেলে ফেরানো মুসকিল হয়ে পড়বে, ইচ্ছা হবে ঘন্টার পর ঘন্টা ঐ সমুদ্রের পাড়ে বসে সময় কাটিয়ে দিতে

কোয়ালা, অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ বিখ্যাত প্রাণী। প্রায়ই দেখা যায় জংগলে গাছের ভেতর চুপটি মেড়ে বসে আছে আর মাঝে মাঝে এক গাছ থেকে আর এক গাছে বেয়ে উঠছে। কোয়ালার লাফালাফি আর ছুটাছুটি দেখে আপনি মগ্ধ হয়ে যাবেন। ক্যাঙ্গারু অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পশু। যা অস্ট্রেলিয়ার সৌন্দর্যের প্রতীক।

অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরা। অস্ট্রেলিয়ার সাথে বাংলাদেশের অনেক ক্ষেত্রেই মিল পাওয়া যায়, যেমন, এখানে বলতে গেলে সবরকম দেশী ফুল, ফল, মাছ পাওয়া যায়। এখানকার আবহাওয়ার ধরনটাও অনেকটা বাংলাদেশের মত, এটা অবশ্য সব যায়গায় না, বিশেষ কিছু শহরে, যেমন ব্রিজবেনে।

অস্ট্রেলিয়ার ফুল এর কথা না বল্লেই নয়, শহরের বিভিন্ন যায়গা গুলি নানান রকম সুন্দর সুন্দর ফুল ও লতা পাতায় সাজানো, যেখানে বসে, হাটাহাটি করে চমৎকার সময় কাটাতে পারবেন।

অস্ট্রেলিয়ার মাটির নীচে পাওয়া গেছে মূল্যবান ধাতব ঐশ্বর্য্য। বনে গাছপালা ছাড়াও নানান রকম জীব জন্তু আর পানিতে মাছের প্রাচুর্য্য।

বর্ণনায় বলে দিচ্ছে 
অস্ট্রেলিয়া কতটা সৌন্দর্য্যমণ্ডিত দেশ। বন্ধুরা, অপরূপ সৌন্দর্যে ভরা এই দেশটিতে ভ্রমনের এখনি উপযুক্ত সময়। আর দেরী না করে ক্রিকেট বিশ্বকাপ উপলক্ষে ঘুরে আসুন স্বপ্নের দেশ অস্ট্রেলিয়া থেকে।

*ভ্রমন* *ট্রাভেল* *অস্ট্রেলিয়া* *বিদেশভ্রমন* *ভ্রমনগাইড*

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

রূপের জাদু ছড়িয়ে আপনার মনযোগ কেড়ে নিতে বিন্দুমাত্র সময় লাগবেনা জাদুকাটার। মুহুর্তেই আপনি হারিয়ে যাবেন জাদুকরী সৌন্দর্যের আড়ালে। কিসের এই সৌন্দর্য্য? কেনই বা সে এতো সুন্দর? বন্ধুরা বলছি সুনামগঞ্জের জাদুকাটা নদীর কথা। চলুন তাহলে জেনে নেই জাদুকাটা নদী এবং তার আশেপাশের রহস্যময়ী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা...

জাদুকাটা নদীঃ
দুই পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে নেমে এসেছে নদী। যেমন অদ্ভূত তার সৌন্দর্য তেমন অদ্ভূত তার নাম। বিমুগ্ধ করার মতো। মায়াবী নদীটির নাম জাদুকাটা। জাদুকাটা নদীর জাদু সবাইকে কাবু করতে যথেষ্ট। জাদুকাটা নদীর গভীরতা কম। আর তার জল এতটাই স্বচ্ছ যে নিচের বালুকণা পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যায়। নদীর এক পাশে বিস্তীর্ণ বালুচর, অন্য পাশে সবুজ পাহাড়ের হাতছানি। কে না চায় এমন এক পরিবেশে নিজেকে কয়েকটা দিনের জন্য হারিয়ে ফেলতে!

জাদুকাটা নদীর অবস্থানঃ
সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে জাদুকাটার দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। কিন্তু বাসের রাস্তা নেই। যেতে হবে ভাড়া করা বাহনে অথবা নিজের মোটরবাইকে। এসব সমস্যা নিমেষেই হাওয়া হয়ে যাবে জাদুকাটার দর্শনে। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে চলে যেতে পারেন সুরমা নদীর সাহেববাড়ির ঘাটে। সেখান থেকে নৌকা যাত্রা। আধঘণ্টা পর দেখা মিলবে মণিপুরি ঘাটের। ঘাটে নেমে ভাড়ার মোটরবাইকে আবার যাত্রা শুরু। পলাশ বাজার, ধরপুর বাজার পেছনে ফেলে, চিনাকান্দি বাজার ছাড়িয়ে বাইক আপনাকে একেবারে নিয়ে যাবে পাহাড়ের কাছে। ডান দিকে চোখ দিলেই দেখা মিলবে মেঘালয়ের। এরপর বিজিবি ক্যাম্পের পাশ দিয়ে মোটরবাইক নিয়ে নেমে যেতে পারেন জাদুকাটার বালুচরে। মেঘ আর পাহাড়ের সমন্বয়ে এখানে নস্টালজিক হতে বাধ্য আপনি।

দৃশ্যমান জাদকাটাঃ
পায়ের নিচে জাদুকাটার ঠান্ডা জলের পরশ আর মাথার ওপরে পাহাড়। সেই পাহাড়ের পিঠ বেয়ে যেন বের হয়ে বাংলাদেশে এসেছে জাদুকাটা নদী। দেখে মনে হবে, নদীর উৎসমুখে দুই পাশ থেকে পাহাড় ঝুলে আছে। পেছনে আরও একটি পাহাড়ের দেখা মিলবে সেখানে। পশ্চিমে বারেকটিলা, পূর্বে শাহ আরেফিনের (রহ.) আস্তানা ও লাউড়েরগড় গ্রাম। সেই গ্রামের দক্ষিণ কোণের নদীতীরে রয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান। প্রতিবছর চৈত্র মাসে প্রায় একই সময়ে শাহ আরেফিনের আস্তানায় ওরস ও জাদুকাটা নদীতীরে পূণ্যস্নান হয়। দুই উৎসব ঘিরে সেসময় নদীতীরে বসে দুই ধর্মের মানুষের মিলনমেলা। হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে নদীর গা ঘেসে। একসময় এই জাদুকাটা নদীর তীরেই ছিল প্রাচীন রাজ্য লাউড়ের রাজধানী। সময়ের পরিক্রমায় সেখানে এখন রাজ্য নেই, নেই রাজধানীও। প্রাচীন সেই রাজ্যের নামের সাথে মিলিয়ে এখনও গ্রামটির নাম ‘লাউড়েরগড়’। গ্রামটিও ঘুরে দেখে আসতে পারেন।

বন্ধুরা, তাহলে আর দেরী কেন জাদুর টানে ঘুরে আসুন সুনামগঞ্জের জাদুকাটা নদী থেকে। আপনার ভ্রমন হোক নিরাপদ ও আনন্দময় এই শুভ কামনা রইল।


*ট্রাভেল* *ভ্রমন* *ভ্রমনটিপস* *ভ্রমনগাইড* *নদী* *সুনামগঞ্জ* *ছটিতেভ্রমন* *ঘুরেএলাম*

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

আজকের
গড়
এযাবত
৯২৬

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

+ আরও