বিডি আইডল

@bdidol

সব মানুষের মাঝে রয়েছে সম্ভাবনা...তাই স্বপ্ন দেখি অহর্নিশ
business_center প্রফেশনাল তথ্য নেই
school এডুকেশনাল তথ্য নেই
location_on লোকেশন পাওয়া যায়নি
1410756838000  থেকে আমাদের সাথে আছে

বিডি আইডল: একটি বেশব্লগ লিখেছে

গরুর মাংস খাওয়ার ফলে একেকজনের একেকরকম অ্যালার্জি হয়ে থাকে।  কারও যদি আগে থেকেই জানা থাকে যে তার গরুর মাংসে অ্যালার্জি আছে তবে তার গরুর মাংস না খাওয়াই সবচাইতে ভালো সিদ্ধান্ত। খাসির মাংসে সাধারণত অ্যালার্জি হতে দেখা যায় না। সুতরাং গরুর বদলে খাসির মাংস খেতে পারেন।

কেউ যদি মনে করেন তিনি গরুর মাংস খাবেনই, তা যতই অ্যালার্জি হোক না কেন, সেক্ষেত্রেও একটি উপায় আছে। তবে এক সপ্তাহ বা ১৫ দিন আগে থেকেই তাকে প্রস্তুতি নিতে হবে। এই এক সপ্তাহ বা ১৫ দিন ধরে প্রতিদিন রাত্রে তাকে একটি করে অ্যান্টি-হিস্টামিন অসুধ খেতে হবে। ডাক্তারের পরিভাষা অনুযায়ী, এই সাবধানতা অবলম্বন করলে যাদের অ্যালার্জি কম তাদের লাভ হতে পারে। কিন্তু যাদের অ্যালার্জির সমস্যাটা বেশি তাদের ক্ষেত্রে এটা খুব একটা কার্যকর হবে না। তাদের ক্ষেত্রে গরুর মাংস এড়িয়ে চলাটাই ভালো।

কারও যদি ঈদের সময়ে গরুর মাংস খেয়ে দেখা যায় অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিয়েছে অথচ আগে কখনো এই সমস্যা ছিলো না, তবে প্রথমেই তাকে গরুর মাংস খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে। এরপর খেতে হবে অ্যান্টি-হিস্টামিন ওষুধ। অল্প অ্যালার্জি হয়ে থাকলে অবশ্য একটু বরফ দিলেও অনেক সময়ে কমে যায়। গরুর মাংস ছাড়া অন্য কোনো খাবারেও অ্যালার্জি হয়ে থাকতে পারে। সেই খাবারটি চিহ্নিত করে তা খাওয়া বন্ধ রাখতে হবে। আর কারও পরিস্থিতি যদি বেশি খারাপ হয়ে যায়, যেমন গরুর মাংস খাওয়া বন্ধ করে এবং ওষুধ খাওয়ার পরেও লাভ হচ্ছে না, অথবা এতোই অসুস্থ হয়ে গেছেন যে ওষুধ খেতে পারছেন না তবে অবশ্যই হাসপাতালে নেওয়া উচিত তাকে। সাধারণত ইনজেকশন দিয়ে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া কমানো হয়। 

*গরুরমাংস* *বিফ* *অ্যালার্জি* *হেলথটিপস*

বিডি আইডল: একটি বেশব্লগ লিখেছে

কয়েকদিন পর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঈদ। তাই প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পরিবার-পরিজন নিয়ে রাজধানী ছেড়ে ছুটে চলেন নিজ নিজ গন্তব্যের দিকে। তাই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ঈদে বাড়ি যাওয়ার আগে বেশকিছু সতর্কতা মেনে চলা উচিত। সামান্য সাবধানতা আপনার ঈদ আনন্দ বাড়িয়ে দেবে বহুগুন।

তাই ঈদে বাড়ি যাওয়ার আগে ১০টি প্রয়োজনীয় সতর্কতা দেয়া হল।

♦ বাসা থেকে বের হওয়ার সময় সব কিছু ঠিকমতো তালা দিয়েছেন কিনা, তা ভালো করে পরীক্ষা করুন।

♦ প্রথমেই বাস কাউন্টার বা ট্রেন স্টেশন পর্যন্ত যাত্রাটি সতর্কতার সঙ্গে করুন। রাস্তাঘাটে ঈদের আগে নানা ধরনের অরাজকতা বেড়ে যায়। বর্তমানের মূল যেই সমস্যাটি হয়ে থাকে তা হলো- রিকশা যাতায়াতের সময়ে ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনাটি। তাই রিকশা আরোহণ করার সময়ে এমনভাবে উঠুন যেন আপনার ব্যাগের কোনো অংশ বাহিরে ঝুলে না থাকে। শক্তভাবে ব্যাগটিকে আড়াল করে রাখুন। লক্ষ্য রাখুন আশেপাশের বিভিন্ন যানবাহনের দিকে।

♦ ঈদে বাড়িতে যাওয়ার সময় যে বিষয়টি সবার আগে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত সেটি হলো কোনো অবস্থাতেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস, ট্রেন বা লঞ্চে আরোহন না করা। সময়ের চাইতে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। 

♦ বাস কাউন্টারে বা ট্রেনের স্টেশনে গিয়ে মালামাল সাবধানে নিরাপদ কোনো জায়গায় রাখুন।

♦ সম্ভব হলে আপনার পাশের সিটে যে ব্যক্তি থাকবেন সেই ব্যক্তির সম্পর্কে জেনে নিন।

♦ ভ্রমণের সময় প্রয়োজনীয় কাপড়-চোপড় সঙ্গে নিতে হবে। বাস, ট্রেন ও লঞ্চের ভ্রমণে জানালার পাশে অতিরিক্ত বাতাসের ঝাপটা থেকেও সর্দিজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ধরনের ছোটখাটো বিষয়গুলোও মাথায় রাখা উচিত। বিশেষ করে শিশুরা জানালার ধারের সিটটি পছন্দ করে থাকে। এ কারণে হঠাৎ করেই শিশুরা অতিরিক্ত বাতাসের ঝাপটার মুখোমুখি হয়, যা অনেকেরই সহ্য ক্ষমতার বাইরে। এর ফলে শিশুরা অনেকেই ঠিক ভ্রমণের পর আক্রান্ত হয় সর্দিজ্বর কিংবা কাশিতে।

♦ ছিনতাই- চুরি রোধে মোবাইল, মানিব্যগ ও মালামাল সাবধানে রাখতে হবে।

♦ বাচ্চারা বসলে তাদের হাত যেন জানালার বাইরে না থাকে সেদিকটা খেয়াল রাখতে হবে।

♦ অবশ্যই বাইরের কেনা কোনো খাবার কিংবা পানীয় খাবেন না। এতে অজ্ঞান পার্টির খপ্পর থেকে বাঁচার সঙ্গে সঙ্গে আপনি থাকবেন সুস্থ। খাবারের প্রয়োজন হলে বাসা থেকে খাবার এবং পানীয় নিয়ে বের হোন।

♦ প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ সঙ্গে রাখুন। যা আপনার চলার পথে কাজে লাগতে পারে। এছাড়া আপনার ব্যবহারের নিত্যদিনের ওষুধ সঙ্গে নিয়ে যাবেন। কারণ গ্রামের ওষুধের দোকানে সব ওষুধ পাওয়া নাও যেতে পারে। ঈদের ভ্রমণে অধিকাংশ মানুষই গ্রামের বাড়িতে যান। যেখানে অনেক সাধারণ ওষুধও পাওয়া যায় না। তাই সম্ভাব্য অসুস্থতার কথা বিবেচনায় রেখে সাধারণ কিছু ওষুধপত্র সঙ্গে নিয়ে যাওয়া খুবই বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়া একটি ফার্স্টএইড বক্স নিজের মতো তৈরি করে নেওয়া যেতে পারে।

♦ ভ্রমণে খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধের ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হবে সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া অনেকেই আছেন বাসে চড়লে সঙ্গে সঙ্গে বমিভাব কিংবা বমি শুরু হয়। ভ্রমণজনিত বমি বা মোশন সিকনেস প্রতিরোধে স্টেমেটিল/ভার্টিনা ট্যাবলেট ভ্রমণের আধা ঘণ্টা আগে গ্রহণ করা যেতে পারে।

♦ যাত্রায় ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করার চেষ্টা করুন।

একটু সতর্কতা আপনার ঈদ আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। আর সামান্য একটু অসতর্কতা আপনাকে ঈদের দিন অসুস্থ হয়ে বিছানায় শুইয়ে রাখতে পারে কিংবা প্রিয়জনকে ডাক্তারের কাছে ছোটাছুটি করাতে পারে। ভ্রমণে যতটুকু পারা যায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

 

*ঈদেবেড়ানো* *ঈদভ্রমণ* *ভ্রমণটিপস* *ভ্রমণগাইড* *সতর্কতা*

বিডি আইডল: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ঈদ-উল-ফিতর মানে রোজা ভাঙ্গার উৎসব। একমাস ধরে সিয়াম সাধনার মধ্যে দিয়ে রোজাদার যে কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছে, তা থেকে উত্তীর্ণের সময় ঈদের আগের রাত। ঈদ-উল-ফিতরের অবারিত আনন্দধারার তুলনা চলে না। এ আনন্দ অতি পবিত্র ও নির্মল।

সহীহ হাদীস শরীফ সমূহে বছরের যে পাঁচটি রাতকে অতি মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এর মধ্যে ঈদ-উল-ফিতর পূর্ববর্তী রাত অন্যতম। হাদীস শরীফে এসেছে রমজানের ইফতারের সময় প্রত্যেক দিন আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা এক হাজার জাহান্নামীকে নরকমুক্ত করেছেন, তাদের প্রত্যেকের জন্য দোযখে যাওয়া অবধারিত ছিল। আর রমজান মাসের শেষ দিন যখন আসে আল্লাহ সেদিন রমজানের প্রথম থেকে ওই দিন পর্যন্ত যত পাপীতাপীকে ক্ষমা করেছেন তার সমসংখ্যক অপরাধীকে ক্ষমা করে দেন। (সুবহানাল্লাহ...)। তাই দেখা যায়, নেককার মানুষ শব-ই-কদরের ন্যায় ঈদপূর্ব রাতেও ইবাদতে মশগুল হয়।

সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদি) এক দীর্ঘ হাদীসে বর্ণনা করেন : যখন ঈদ-উল-ফিতরের রাতের আগমন হয় ওই রাতকে পুরস্কার দানের রজনী হিসেবে অভিহিত করা হয়। যখন ঈদের সকাল নামে তখন আল্লাহ প্রতিটি দেশে ফেরেস্তা প্রেরণ করেন। তারা পথের ধারে অবস্থান নেন এবং ডাকতে থাকেন। তাদের আহ্বান মানুষ ও জ্বীন ব্যতীত সব মাখলুকই শুনতে পায়। তারা বলেন : ওহে উম্মতে মুহাম্মদী (স)! বের হয়ে এসো মর্যাদাবান প্রতিপালকের পানে। তিনি অধিক পরিমাণে দান করে থাকেন, মারাত্মক অপরাধও ক্ষমা করে দেন।

বস্তুত ঈদ-উল-ফিতরের দিবস হচ্ছে পুরস্কারের দিন, আত্মোপলব্ধির দিন। সমাজ ও যুগের নানা অবক্ষয়ের ছোঁয়ায় ঈদের অনুষ্ঠানেও নানা অতিরঞ্জিত বিষয় ও বাড়াবাড়ি এসে পড়েছে। আমাদের এ ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যাতে মহানবী (স) এর প্রবর্তিত পবিত্র ঈদের শিক্ষা ও বরকত হতে আমরা বঞ্চিত না হই। আজকের লাগামহীন ঈদের আনন্দে আমাদের অনেকে ঈদের উপরিউক্ত ধর্মীয় গুরুত্ব ও মর্যাদার কথা বেমালুম ভুলে থাকে। যার কারণে আমরা লক্ষ্য করছি, মুসলমানদের ঈদ ক্রমশ হয়ে পড়েছে নিষ্প্রাণ উদ্দেশ্য লক্ষ্যহীন। বস্তুত রমজান যেমন সাধনার মাস এতে সিয়াম, কিয়ামসহ কঠিন ইবাদতসমূহের মাঝামাঝি রয়েছে ইফতার সাহরীর আনন্দদায়ক মুহূর্তগুলো, তেমনি ঈদ-আনন্দও কিছু বিধিনিষেধে পরিপূর্ণ যা অনিয়মতান্ত্রিকতাকে নিরুৎসাহিত করে এক সুশৃঙ্খল ও ধারাবাহিক দায়িত্ব কর্তব্য স্মরণ করিয়ে দেয়। যেমন :

ঈদের নামাজের প্রাক্কালে কিছু মুস্তাহাব কাজ করার বিধান রয়েছে। এর মধ্যে ১. ঈদগাহে গমনের পূর্বে ফজরের পর কোন মিষ্টি জাতীয় খাবার গ্রহণ, ২. গোসল করা, ৩. মিসওয়াক করা, ৪. খুশবু ব্যবহার করা, ৫. উত্তম কাপড়-চোপড় পরিধান করা, ৬. ঈদের নামাজে গমনের পূর্বে সাদকাতুল ফিতর আদায় করা, ৭. প্রত্যুষে বিছানা ত্যাগ করা, ৮. সকাল সকাল ঈদগাহে উপস্থিত হওয়া, ৯. হেঁটে হেঁটে ঈদগাহভিমুখে গমন করা, ১০. চলতে পথে নীচু কণ্ঠে তাকবীর বলে যাওয়া (তাকবীর ‘আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবর ওয়ালিল্লাহিল হামদ্)। ১১. এক পথে যাওয়া, ভিন্ন পথে আসা, ১২. সাজগোজ করা, ১৩. উন্মুক্ত আকাশের নিচে খোলা ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করা।

ঈদের আনন্দে যেন আমরা ঈদের পালনীয় আহকামগুলো ভুলে না যাই, সে দিকে আগে থেকে সতর্ক থাকতে হবে।

 

*ঈদ-উল-ফিতর* *ঈদ* *চাঁদরাত* *চাঁনরাত* *ফজিলত*

বিডি আইডল: একটি বেশব্লগ লিখেছে

২৬ রমজান। এ দিন শেষে যে রাত আসে, তা ২৭ রমজানের রাত। এটি 'শবেকদর' বা 'লাইলাতুল কদর' হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। তাই এই দিনটিকে এ দেশের মুসলমানরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালন করে।
এই রাতকে 'লাইলাতুল কদর' বা কদরের রজনী কেন বলা হয়, এ ব্যাপারে মুফাস্সিরে কেরাম বেশ কয়েকটি ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। 'কদর' শব্দের অর্থ পরিমাণ নির্ধারণ ও হুকুম। যেহেতু এ রাতে সৃষ্টিকুলের ভাগ্যলিপিতে নির্ধারিত অংশের যেটুকু এ রমজান থেকে পরবর্তী রমজান পর্যন্ত বাস্তবায়নযোগ্য, তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আদিষ্ট ফেরেশতাদের কাছে স্থানান্তর করা হয়। তাই এই রাতের নামকরণ করা হয় 'লাইলাতুল কদর'।


আবার কদর শব্দের আরেকটি অর্থ হলো- সম্মান, মাহাত্ম্য। আবু বকর ওয়াররাক (রহ.) বলেন, এই রাতের নাম 'কদরের রাত' এ জন্য বলা হয়েছে যে এ রাতের মর্যাদা ও মাহাত্ম্যপূর্ণ কিতাব আল কোরআন মর্যাদাবান ফেরেশতা জিবরাঈল (আ.) নিয়ে আসেন সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে।


শবে কদরের ফজিলত
লাইলাতুল কদরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো- এ গৌরবময় রজনীতে মানবজাতির পথপ্রদর্শক ও মুক্তির সনদ ঐশীগ্রন্থ 'আল কোরআন' অবতীর্ণ হয়েছে। শবেকদর সম্পর্কে কোরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, 'নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। আপনি কি জানেন লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। (সুরা কদর : ১-৩) এটি শ্রেষ্ঠতম রাত। এ রাতের ইবাদতে রয়েছে সবিশেষ গুরুত্ব। হাদিস শরিফে এসেছে, 'যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদত করবে তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।' (মুসলিম : ৭৬০; বুখারি : ২০১৪)


সাতাইশতম রজনী কি শবে কদর?
শবেকদর সম্পর্কে সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও বিতর্কমুক্ত অভিমত হলো, শবেকদর শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। একান্ত যদি এটা কারো জন্য সম্ভবপর হয়ে না ওঠে, তাহলে সাতাইশতম রাত্রিতে কিছুতেই গাফেল থাকা উচিত নয়। বিশেষ করে ওই দিন মাগরিব ও এশার নামাজ মসজিদে গিয়ে জামায়াতের সঙ্গে আদায় করলে হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী সেও শবেকদরের ফজিলত পেয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে কেউ কেউ বলে থাকেন, সাতাইশতম রজনীকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া অবৈধ কিংবা বেদআত! অথচ এর সপক্ষে হাদিস ও সাহাবায়ে কেরামদের আমল রয়েছে।
হজরত শুবা (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.) শবেকদরের রাত্রিতে বলেন, 'আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমি তা সম্পর্কে অবগত আছি। (আর তা হলো সাতাইশতম রাত্রি) কেননা রাসুল (সা.) এ রাতে আমাদের নামাজে দাঁড়াতে আদেশ করতেন। (মুসলিম, হা: ৭৬২) অনুরূপ ধারণা পোষণ করতেন হজরত মুয়াবিয়া (রা.), হজরত ইবনে আব্বাস (রা.), হজরত হাসান (রা.) ও আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা.)। (কুরতুবি)


শবে কদরের আমল
হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেন, 'আমি তোমাদের শবেকদর সম্পর্কে অবগত করানোর জন্য বের হয়ে এসেছিলাম। কিন্তু অমুক অমুক ব্যক্তির ঝগড়ার কারণে আমাকে তা ভুলিয়া দেওয়া হয়েছে।' (বুখারি) সুতরাং দুই ব্যক্তি বা পরিবারের মধ্যকার ঝগড়াবিবাদ মিটিয়ে দেওয়া এ রাতের অন্যতম ইবাদত।
তা ছাড়া হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! যদি আমি শবেকদর পেয়ে যাই, তবে আল্লাহর কাছে কী দোয়া করব? রাসুল (সা.) বলেন, এ দোয়া পড়বে- 'আল্লাহুম্মা ইন্নকা আফুয়্যুম তুহিব্বুল আফওয়া ফা'ফু আন্নি।' অর্থ : 'হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাকারী এবং আপনি ক্ষমাকে পছন্দ করেন। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন।'


এ ছাড়া পবিত্র এ রাতে যেকোনো নফল ইবাদত করা যেতে পারে।

 

*শবেকদর* *লাইলাতুলকদর* *রমজান*

বিডি আইডল: একটি নতুন উত্তর দিয়েছে

 মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে শবে কদর অত্যন্ত মহিমান্বিত একটি রাত। শবে কদরের তাত্পর্য কি ? কেন এই দিন মানুষ সারারাত জেগে নামাজ পরে ?
বিডি আইডল: লাইলাতুল কদর এমন মহিমান্বিত বরকতময় এ জন্য যে এ রাতের শ্রেষ্ঠত্ব, মাহাত্ম্য ও মর্যাদার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এ গৌরবময় রজনীতে মানবজাতির পথপ্রদর্শক ও মুক্তির সনদ মহাপবিত্র ঐশীগ্রন্থ ‘আল-কোরআন’ অবতী...বিস্তারিত

৫ টি উত্তর আছে

*ধর্মচিন্তা*

বিডি আইডল: একটি বেশব্লগ লিখেছে

আজ ২০ রমজান। শেষ হচ্ছে মাগফেরাতের দশক। কাল শুরু হবে নাজাতের দশক। মুমিনের হৃদয়ের অলিন্দে বিদায়ের সুর অনুরণিত এখন। ক্রমাগত প্রান্তসীমার দিকে ধাবমান মাহে রমজান। রমজানের সার্বিক বরকত হাসিলের উদ্দেশ্যে এলাকার মসজিদে মসজিদে ইতেকাফে বসেছেন বহু মুমিন বান্দা। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি, যার একমাত্র গন্তব্য পবিত্র জান্নাত। আটখানা জান্নাত সুসজ্জিত মুমিন, মুত্তাকিকে সাদর সম্ভাষণ জানাতে। আছে সদর দরোজায় দাঁড়িয়ে রিদওয়ান। এ কারণে এক পরম সৌভাগ্যের রজনী উপহার দেওয়া হয়েছে মুসলিম উম্মাহকে। যাকে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম বলা হয়েছে কোরআনে। এই রজনি তালাশ করতে হবে প্রত্যেককে ইবাদতের মাধ্যমে। এটা সকলে পরিজ্ঞাত, জ্বিন আর মানবমণ্ডলিকে একমাত্র সৃষ্টি করা হয়েছে রাব্বুল আলামিনের ইবাদতের জন্য। তাই আসুন ইবাদতে গুজরান হোক আমাদের বাকি কটা রমজান।

আজ মাগরিবের আগ থেকেই সুন্নত ইতিকাফ শুরু। তাই দেশের প্রায় সব মসজিদেই আজ সন্ধ্যার পর থেকে ১০ দিনের জন্য ইতিকাফের নিয়তে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল হবেন ধর্মপ্রাণ কিছু মুসলমান। হাদিস শরিফে রমজানের শেষ ১০ দিনে ইতিকাফের জোর তাগিদ এসেছে। আজ দিবাগত রাত থেকেই সম্ভাব্য শবেকদরের শেষ দশদিনের বেজোড় রাত শুরু হয়।


ইতিকাফ আরবি শব্দ ‘আকফ’ মূল ধাতু থেকে নির্গত। এর অর্থ হচ্ছে অবস্থান করা। যে মসজিদে জামাতের সঙ্গে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হয়, এমন মসজিদে আল্লাহর ইবাদতের নিয়তে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলে। ইতিকাফের নিয়ম হলো, পাক-পবিত্র হয়ে নির্দিষ্ট সময়ে নিয়ত করে মসজিদে বা নামাজের নির্ধারিত স্থানে অবস্থান করা। নিয়ত ছাড়া ইতিকাফ করলে সর্বসম্মতক্রমে তা গ্রহণযোগ্য নয়। পুরুষের ইতিকাফের জন্য এমন মসজিদ হতে হবে, যেখানে অন্তত নিয়মিত আজান ও ইকামতের সঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় করা হয়। ইতিকাফের জন্য সর্বোত্তম স্থান হলো মসজিদে হারাম বা বায়তুল্লাহ। এরপর মসজিদে নববী, অতঃপর বায়তুল মুকাদ্দাস, তারপর জামে মসজিদের মধ্যে যে মসজিদে মুসল্লি সংখ্যা বেশি। স্ত্রীলোকের ক্ষেত্রে ইতিকাফের জন্য সর্বোত্তম স্থান হলো নিজ নিজ ঘরের নামাজের নির্ধারিত স্থান। এ স্থানটি এমন হওয়া বাঞ্ছনীয়, যেখানে পর্দা ও সার্বিক নিরাপত্তার যাবতীয় শর্ত বিরাজমান।


রমজানের শেষ ১০ দিনের ইতিকাফের বিরাট একটি অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য রয়েছে। আর তা হচ্ছে উম্মতে মুহাম্মদির ওপর অর্পিত মহান আল্লাহ তায়ালার শ্রেষ্ঠ নেয়ামত লাইলাতুল কদরপ্রাপ্তির উদ্দেশ্য। এ মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে একবার স্বয়ং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে সারা রমজান ইতিকাফ করেছেন এবং উম্মতের জন্য নির্ধারিত করে গেছেন, রমজানের শেষ ১০ দিনই এ মহিমান্বিত রাত। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের প্রথম ১০ দিন ইতিকাফ করলেন, তারপর তিনি দ্বিতীয় ১০ দিনও ইতিকাফ করলেন। এসময় তিনি তুর্কি তাঁবুর নিচে অবস্থান করছিলেন। তাঁবু থেকে মাথা বের করে বললেন, ‘আমি এ রাতটি অর্থাত্ শবেকদরের সন্ধানে প্রথম ১০ দিনের ইতিকাফ করলাম, তারপর মধ্যের ১০ দিনও ইতিকাফ করলাম, তারপর জনৈক আগন্তুক (ফেরেশতা) মারফত আমাকে বলা হলো, রাতটি শেষ ১০ দিনেই নিহিত রয়েছে। সুতরাং আমার সঙ্গে যারা ইতিকাফ করেছে, তাদের শেষ ১০ দিনও ইতিকাফ করা উচিত।’ অপর এক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি রমজানের ১০ দিন ইতিকাফ করে, সে দুটি হজ ও দুটি ওমরার সওয়াব লাভ করে’ (কাশফুল গুম্মাহ)।


ইতিকাফ অবস্থায় বিনা ওজরে মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে না। মহিলাদের ক্ষেত্রেও একই হুকুম। তারাও ঘরের নির্ধারিত স্থান থেকে বের হতে পারবে না। পেশাব-পায়খানা, অজু ও জুমার নামাজ আদায় ইত্যাদি প্রয়োজন ছাড়া অপর কোনো প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হওয়া জায়েজ নেই। ইতিকাফকারী ইতিকাফের স্থানেই ঘুমাবেন ও খাওয়া-দাওয়া করবেন।


অসুস্থ ব্যক্তির সেবার জন্য মসজিদ থেকে বের হলে, কোনো মৃত ব্যক্তিকে দেখার উদ্দেশ্যে বা তার জানাজায় শরিক হওয়ার উদ্দেশ্যে, এমনকি পানিতে ডুবন্ত বা আগুনে নিমজ্জিত কোনো মানুষকে রক্ষা করার জন্য মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে না। অনুরূপভাবে অসুস্থতার কারণে সামান্য সময়ের জন্য মসজিদ থেকে বের হলেও ইতিকাফ ফাসেদ হবে। ইতিকাফ ফাসেদ হওয়ার একটি কারণ হলো সহবাস বা সহবাসের দিকে আকৃষ্টকারী কাজ করা, তা দিনেই হোক বা রাতেই হোক। তবে স্বপ্নদোষে ইতিকাফ ফাসেদ হয় না।
যাদের পক্ষে সম্ভব, তারা মর্যাদা ও সৌভাগ্যপূর্ণ ইবাদত ইতিকাফের জন্য আজই প্রস্তুত হয়ে মসজিদে চলে আসুন। রমজানের শিক্ষাকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে লাইলাতুল কদরপ্রাপ্তিতে সবার জীবন সমৃদ্ধ হোক—এটাই আমাদের কামনা।

*মাগফেরাত* *ইতিকাফ* *রমজান*

বিডি আইডল: একটি নতুন উত্তর দিয়েছে

 রমজান বা ঈদ শুরু হবার জন্য চাঁদ দেখার নিয়ম কি ?
বিডি আইডল: সূর্যের হিসাবে ০ দিন কিংবা ১ দিন কিংবা ২ দিনের মত পার্থক্যাও হতে পারে। কিন্তু চাঁদের হিসাবে কোন পার্থক্য নেই। ‘নতুন চাঁদ’ (هِلاَلٌ) না বলে ‘নতুন চাঁদ সমূহ’ (اَلْأَهِلَّةِ) বলার কারণ হ’ল এই যে, সদা সন্...বিস্তারিত

৪ টি উত্তর আছে

*রমজানমাস* *ঈদ* *ঈদেরচাদ*

বিডি আইডল: একটি নতুন উত্তর দিয়েছে

 রমজানের শেষের দশদিন নাজাতের তাৎপর্য সমন্ধে জানতে ইচ্ছুক l রমজান মাসের এই দশটি দিন একজন মুসলমানের কিভাবে পালন করা উচিত?
বিডি আইডল: রমজানের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দশদিনকে যথাক্রমে রহমত, মাগফেরাত ও নাজাত নামে ডাকা হয়। একদিক থেকে চিন্তা করলে তিন নামে ডাকা হলেও এর কেন্দ্রীয় ধারণা হলো আল্লাহর রহমত অর্জন। এ অর্জনই মুমিনকে মাগফেরাত ও না...বিস্তারিত

২ টি উত্তর আছে

*রমজান* *নাজাত* *ফযিলত*

বিডি আইডল: একটি নতুন উত্তর দিয়েছে

 ইতিকাফ কি? ইতিকাফ করার নিয়ম ও রমজান মাসের কোন সময়টাতে ইতিকাফ করতে হয় জানালে উপকৃত হব?
বিডি আইডল: রমজান মাসের শেষ দশক মসজিদে ইতিকাফ বা অবস্থান করা সুন্নতে মুয়াক্কাদায়ে কিফায়া। আরবি ‘ইতিকাফ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ অবস্থান করা, স্থির থাকা, কোনো স্থানে আটকে পড়া বা আবদ্ধ হয়ে থাকা। শরিয়তের পরিভাষায...বিস্তারিত

৩ টি উত্তর আছে

*রোজা* *রমজান* *রমজানমাস* *ইতিকাফ*

বিডি আইডল: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 রোজা রেখে কি মাউথওয়াশ করা যাবে?

উত্তর দাও (৩ টি উত্তর আছে )

.
*রোজা* *মাউথওয়াশ* *রমজান*

বিডি আইডল: একটি বেশব্লগ লিখেছে

মাহে রমজানের দ্বিতীয় দশক ক্ষমা প্রার্থনার ও ক্ষমাপ্রাপ্তির। আসলে একজন বান্দার জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, সবচেয়ে বড় অর্জন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার পক্ষ থেকে ক্ষমা ও মার্জনালাভ। এখন সে সুযোগ আমাদের দ্বারপ্রান্তে। ইবাদত, রিয়াযত ও তওবা ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে হবে। বস্তুত, বান্দার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমার সুসংবাদ প্রাপ্তির চেয়ে আর কোন বড় পাওনা নেই। রমজান মাসের মধ্য দশক যেহেতু মাগফিরাত বা ক্ষমার; সুতরাং এই ১০ দিন আমাদের করণীয় হবে আল্লাহ পাকের ক্ষমা-সংক্রান্ত নামগুলোর জ্ঞান হৃদয়ঙ্গম করে এর ভাব-প্রভাব ও বৈশিষ্ট্য অর্জন ও অধিকার করে নিজের মধ্যে আত্মস্থ করার চেষ্টা করা এবং আজীবন তার ধারক-বাহক হয়ে তা দান করা বা বিতরণ করা তথা আল্লাহর গুণাবলি নিজের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির কাছে পৌঁছে দেওয়া। আল্লাহ তাআলার ক্ষমাসুলভ নামগুলো হলো আল গফিরু (ক্ষমাশীল), আল গফুরু (ক্ষমাময়), আল গফফারু (সর্বাধিক ক্ষমাকারী), আল আফুউ (মার্জনাকারী), আল খফিদু (বিনয় পছন্দকারী); আশ শাকুরু (কৃতজ্ঞ), আল বাররু (সদাচারী), আল হালিমু (সহিষ্ণু), আস সবুরু (ধৈর্যশীল), আত তাউওয়াবু (তওবা কবুলকারী) ইত্যাদি।


হাদিস শরিফে আছে, অপরাধ স্বীকারকারী নিরপরাধ ব্যক্তির মতো। (বুখারি, মুসলিম ও তিরমিজি)। আপনি ক্ষমা লাভ করেছেন বা ক্ষমার অধিকারী হয়েছেন তা বোঝা যাবে আপনার আচরণে যদি ক্ষমা প্রকাশিত হয়; নয়তো নয়। এতএব রমজানের দ্বিতীয় দশক মাগফিরাতের ১০ দিন করণীয় হলো সর্বোচ্চ ক্ষমা প্রদর্শন করা। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে যে, ‘মাহে রমজানের প্রতি রাতেই একজন ফেরেশতা ঘোষণা করতে থাকেন: ‘হে পুণ্য অন্বেষণকারী! অগ্রসর হও। হে পাপাচারী! থামো, চোখ খোলো।’ তিনি আবার ঘোষণা করেন, ‘ক্ষমাপ্রার্থীকে ক্ষমা করা হবে। অনুতপ্তের অনুতাপ গ্রহণ করা হবে। প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা কবুল করা হবে।’


রমজান মাসে ইমানদার ব্যক্তির অন্তরে তাকওয়া বা খোদাভীতি ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত হয়। ফলে তিনি আল্লাহর দরবারে মাগফিরাত কামনা করেন। গরিব-দুঃখীদের প্রতি দান-সাদকার পরিমাণ বাড়িয়ে দেন। ন্যায়-অন্যায়ের তীব্র অনুভূতি তার মনে জেগে ওঠে। নিজে সকল প্রকার খারাপ কাজ পরিহার করেন, নেক কাজ করেন এবং অন্যকেও সৎ কাজে উৎসাহিত করেন ও মন্দ কাজে নিরুৎসাহিত করেন। রোজাদার ব্যক্তি ভালো কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। আল্লাহর অপার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া-ইস্তেগফার করেন। সারা বছরের অন্যায় অপরাধের জন্য অত্যন্ত বিনয়ী ও অশ্রুসিক্ত হয়ে পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। মাহে রমজানের মধ্যে জাগতিক কল্যাণ ও পারলৌকিক মুক্তির বার্তা রয়েছে। ইহকালীন কল্যাণ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই রোজাদার পারলৌকিক শান্তির পথ রচনা করবে। তাই সিয়াম-সাধনার মাধ্যমে আল্লাহর অপার অনুগ্রহ লাভ করে ক্ষমা, মুক্তি ও নিষ্কৃতিপ্রাপ্তদের মধ্যে নিজেদের অধিষ্ঠিত করা প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের একান্ত কাম্য হওয়া উচিত।

মহান আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের গুণ অর্জন ও আজীবন ধারণ করাই রমজানের মূল শিক্ষা। আল্লাহ পাক আমাদের প্রকৃত দয়া, ক্ষমা ও মুক্তিলাভের তাওফিক দিন। আমিন!

*রমজান* *মাগফেরাত* *দ্বিতীয়দশক* *রোজা*

বিডি আইডল: একটি বেশব্লগ লিখেছে

রমজান মাসে এশার নামাজের পরে বিশ রাকাত তারাবি নামাজ পড়া হয়। বর্ণিত আছে যে, সাহাবায়ে কেরাম রা. তারাবি নামাজে চার রাকাত পরপর বিভিন্ন দোয়া পাঠ করতেন। কোনো সাহাবারা এই দোয়াটিও পাঠ করতেন।

প্রস্তুতিমূলকভাবে রোজার মাসের জন্য নিচের ৫টি দোয়া এখনই মুখস্থ করে রাখা যেতে পারে।


প্রথম দোয়া : রোজার চাঁদ দেখার দোয়া
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমান, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম, রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।
তরজমা : হে আল্লাহ! এ চাঁদকে আমাদের ওপর উদিত করো শান্তি, ঈমান এবং নিরাপত্তার জন্য। ইসলামের সঙ্গে। হে চাঁদ! আমার ও তোমার প্রতিপালক আল্লাহ!
তালহা ইবনে ওবায়দুল্লাহ রা.-এর বর্ণনায় নবিজি সা. নতুন চাঁদ দেখে এই দোয়া পড়তেন। (সুনানে দারেমী, হাদীস নং ১৬৮৮)


দ্বিতীয় দোয়া : রোজার নিয়ত
উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন আসূমা গাদাম্ মিন্ শাহরি রমাদ্বা-নাল মুবা-রাকি ফারদ্বাল্লাকা ইয়া- আল্লাহু ফাতাক্বাব্বাল মিন্নী ইন্নাকা আনতাস্ সামিউল আলিম।
তরজমা : হে আল্লাহ! আগামীকাল পবিত্র রমজানের ফরজ রোজা রাখার জন্য আমি নিয়ত করছি। তুমি তা আমার পক্ষ থেকে কবুল করো। নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রেতা, সর্বজ্ঞানী। (জেনে রাখা ভালো, রোজা রাখার জন্য নিয়ত করা ফরজ। তবে মুখে আরবি উচ্চারণ করা জরুরি নয়। নিয়ত শব্দের অর্থ হলো অন্তরের ইচ্ছা। অন্তরের পরিকল্পনাই মূলত নিয়ত। কোনো ব্যক্তি রোজা রাখার নিয়তে যদি মনে মনে এই ভাবেন যে, আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আগামীকাল রোজা রাখব, তাহলে তার এই নিয়ত আদায় হয়ে যাবে।)


তৃতীয় দোয়া : ইফতারের দোয়া
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা- রিজক্বিকা আফত্বারতু বি-রাহমাতিকা ইয়া- আরহামার রাহিমিন।
তরজমা : হে আল্লাহ! তোমার জন্য আমি রোজা রেখেছি এবং তোমার দেওয়া রিজিক থেকে ইফতার করছি হে পরম দয়ালু, দাতা!


চতুর্থ দোয়া : তারাবির নামাজের দোয়া
রমজান মাসে এশার নামাজের পরে বিশ রাকাত তারাবি নামাজ পড়া হয়। বর্ণিত আছে যে, সাহাবায়ে কেরাম রা. তারাবি নামাজে চার রাকাত পরপর বিভিন্ন দোয়া পাঠ করতেন। কোনো সাহাবারা এই দোয়াটিও পাঠ করতেন।
উচ্চারণ : সুবহানা জিলমুলকি ওয়ালমালাকুতি সুবহানা জিল ইজ্জাতি ওয়াল আজমাতি ওয়ালহাইবাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়াল জাবারুত সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিলল্লাজি লা ইয়ানুমু ওয়া লা ইয়ামুতু আবাদান আবাদা। সুববুহুন কুদ্দুসুন রাববুনা ওয়া রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রূহ।
তরজমা : আল্লাহ পবিত্রময় সারাজ্য ও মহত্ত্বের মালিক। তিনি পবিত্রময় সম্মান মহত্ত্ব ও প্রতিপত্তিশালী সত্তা। ক্ষমতাবান, গৌরবময় ও প্রতাপশালী তিনি পবিত্রময় ও রাজাধিরাজ যিনি চিরঞ্জীব, কখনো ঘুমান না এবং চির মৃত্যুহীন সত্তা। তিনি পবিত্রময় ও বরকতময় আমাদের প্রতিপালক, ফেরেশতাকুল এবং জিবরাইল আ.-এর প্রতিপালক।


পঞ্চম দোয়া : ১টি দোয়ায় হাজার বছরের সওয়াব!
উচ্চারণ : জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মা-হুয়া আহলুহ।
তরজমা : নবি করীম সা. বলেন, যে ব্যক্তি ১ বার এই দোয়া পাঠ করবে, ৭০ জন ফেরেশতা এক হাজার দিন পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে তার সওয়াব লিখতে থাকবেন। (মাজমাউয জাওয়ায়েদ হাদীস নং-১৭৩০৫) এটা রমজান মাস সেহেতু সকল ইবাদতের সওয়াব হবে ৭০ গুণ।
লেখক: মুফতি হুমায়ুন আইয়ুব

*রোজা* *রোজারদোয়া*

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

আজকের
গড়
এযাবত
২,২২৭

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

+ আরও