অর্ঘ্য কাব্যিক শূন্য

@orgho777

আকাশটা আজও ছুঁয়ে দেখা হয়নি... তবে আকাশের মাঝেই মেঘ হয়ে ভেসে আছি... জেগে আছি... ! ! !
business_center প্রফেশনাল তথ্য নেই
school এডুকেশনাল তথ্য নেই
location_on লোকেশন পাওয়া যায়নি
1411393799000  থেকে আমাদের সাথে আছে

অর্ঘ্য কাব্যিক শূন্য: একটি বেশব্লগ লিখেছে

জিসানরা চলে যাওয়ার দু'দিন পর সিমি এলো ওদের পরিত্যাক্ত ফ্ল্যাটটি দেখতে। আসতে চায়নি সিমি। দেখার কি আছে ? যাকে দেখার জন্য আসতো, যার মুখের কথা শোনার জন্য, পাশে কিংবা মুখোমুখি বসে গল্প করার জন্য সিমি সপ্তাহে অন্তত একদিন উত্তরার এই ফ্ল্যাটে সেই বাসাবো থেকে ছুটে আসতো, সে তো আর নেই। এই ফ্ল্যাট সে ছেড়েছে দু'দিন আগে। কিন্তু সিমির সাথে ছাড়াছাড়ি হয়েছে ছ'মাসেরও বেশী। জিসান তিশাকে বিয়ে করার পর থেকে সিমির সাথে সম্পর্কটা কেবল বদলেই যায়নি, বলা যায় মৃত। অবশ্য বাইরে সেটা দেখায়নি সিমি। পরাজয়কে পরম ধৈর্যের সাথে মেনে নিয়েছে। কোন ছটফট করেনি এটা নিয়ে, সৃষ্টি করেনি কোন নাটক। অভিযোগ করেনি, অভিশাপ দেয়নি। বরং আরও বেশী ভদ্র ব্যবহার করেছে।

জিসানের বিয়ের পর থেকে ওদের সঙ্গ একেবারে ত্যাগ করা উচিৎ ছিল সিমির। কিন্তু তা পারেনি। আসা যাওয়া একেবারে বন্ধ করে দেয়নি। অবশ্য কমিয়ে দিয়েছে অনেক। যেখানে সপ্তাহে একবার আসতো এবং ছুটির দিনটা এখানেই কাটিয়ে যেতো, সেখানে জিসানের বিয়ের পর মাসে একদিন কি দু'দিন এসেছে। এসে একবেলার বেশী থাকেনি। কখনও খেয়েছে আবার কখনও না খেয়েই চলে গেছে। তবু না এসে পারেনি। নবদম্পতির কাছে তার আসাটা এখন আর উচিৎ নয়, এ কথা কি টের পায়নি সিমি ? নিশ্চয়ই পেয়েছে। তবু না এসে পারেনি।

নিজের মনের সাথে যুদ্ধ চলেছে সিমির। কেন সে আসতো ? সব শেষ হয়ে যাওয়ার পরও কেন না এসে থাকতে পারতো না ?কখনও মনে হতো, জিসানের ওপর থেকে তার আসক্তি যায়নি। কিন্তু এই ব্যাখা তার নিজের মন মতো হতো না। এ কথা স্বীকার করার মাঝে কেমন যেন একটা হীনতা আছে। জিসানকে তো আর ভালোবাসে না সিমি। যে তাকে গ্রহন করতে পারলো না, তাকে সে কেন ভালোবাসবে ? তবে কেন আসতো সে ? তিশার মনে ঈর্ষার জন্ম দিতে ? যেন তিশা বোঝে, সেই জিসানের জীবনে একমাত্র নয় ? তার আগেও অন্তত একজন এসেছিলো। সে টিকে থাকতে পারেনি, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হার মেনেছে কিন্তু একসময় এই ফ্ল্যাটের রুমগুলোতে, এই ফ্ল্যাটে থাকা ব্যক্তির মন জুড়ে তার রাজত্ব ছিল, এই কথাটুকু তিশাকে জানানোর জন্যই কি সে এখানে আসতো ? নিজেকেই নিজে জিজ্ঞেস করেছে সিমি। সদুত্তর পায়নি। নিজেকে অতোটা হীন ভাবতে তার মন রাজী হয়নি।

তবে কেন আসতো সে ? জিসানকে আড়ালে পেলে দু'একটি তীব্র কঠিন কথা শুনিয়ে দেবে বলে ? এই উত্তরও যথার্থ বলে স্বীকার করতে পারেনি সিমি। তেমন সুযোগ অনেকবার এসেছে। কই, একটা কথাও তো জিসানকে বলতে পারেনি সিমি।

চিন্তারা আজ নিজেদের খেয়ালে জট পাকাচ্ছে। বিস্তীর্ণ এক প্রান্তরে দাঁড়িয়ে আছে যেন সিমি। একা। কোথাও কেউ নেই। নিশ্চুপতা চারদিকে।

যেসব ভাবনার কোন অর্থ নেই, আজ একেবারেই মায়ামুক্তহীন সেইসব চিন্তায় জড়ানো মন নিয়ে সিমি জিসানের তিনতলার ফ্ল্যাটের সামনে এসে দাঁড়ালো। বাড়িওয়ালা পাশের ফ্ল্যাটে থাকেন। কোথায় যেন বের হচ্ছিলেন। সিমিকে দেখে থমকে দাঁড়ালেন। হেসে বললেন,

- কি খবর ? কেমন আছেন ?
- ভালো

জিসান তার এই বাড়িওয়ালার সাথে নিজের বন্ধু বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলো সিমির। সেই থেকে ভদ্রলোক তাকে চিনে রেখেছেন। দেখা হলে হেসে দু'টো কথা বলেন।
ভদ্রলোক বললেন,

- ওনারা তো চলে গেছেন। রাজশাহী বদলি হয়ে গেছেন।
- জানি।
- রাজশাহী বেতারে কাজ করবেন এখন, তাই না ?
- হ্যাঁ।
- বদলির চাকরীর এই এক সুবিধা। নানা জায়গায় ঘুরে বেড়ানো যায়।
- তা যায়।
- ওনাদের যাওয়ার দিন তো আপনি এলেন না। ওনার অনেক বন্ধু এসেছিলেন সেদিন।

সিমি বললো, " আসলে আমার শরীরটা ঠিক ভালো ছিল না। তাই আজ খবর নিতে এলাম। "

- ভালোই করেছেন। আপনার কিসব জিনিসপত্র যেন ছিল। প্যাকেট করে ওনারা আমার স্ত্রীর কাছে রেখে গেছেন। নিয়ে যাবেন। আমি একটু বেরোচ্ছি। আবার আসবেন। চলি।

কি জিনিসপত্র রেখে গেছে ? কোন জিনিসই তো তার ছিল না। একটু অবাক হল সিমি। জিসানের বিয়ের পর সে আর কোন স্মৃতিই তার ঘরে রাখেনি। তবে ? কৌতূহল হল সিমির। বাড়িওয়ালার ফ্ল্যাটের সামনে গিয়ে বেল টিপলো। দরজা খুলে সামনে এসে দাঁড়ালেন এক মধ্যবয়স্ক মহিলা। সিমি সালাম দিলো।

- আসুন। ভেতরে আসুন।
- না না, ভিতরে আর যাবো না। তাড়া আছে আজকে। আচ্ছা, ওরা কি আমার জন্য কোন জিনিস রেখে গেছেন ? আনিস সাহেব বলছিলেন।
- হ্যাঁ, হ্যাঁ। আপনি এসেছেন ভালোই হল। আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম।

ভদ্রমহিলা ভেতরে গেলেন। একটু পর ফিরে এলেন নীল রঙের কাগজে মোড়া ছোট একটি প্যাকেট হাতে। সিমিকে দিলেন।

বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় এসে প্যাকেটটা খুললো সিমি। তিনটি চুলের কাঁটা। এটা যে তারই চুলের কাঁটা, সেটা চিনতে কষ্ট হলো না সিমির।

একটা সময় এমনও ছিল, এই ফ্ল্যাটে সে ঘুমিয়েছে, অসংখ্য সময় কাটিয়েছে। কাঁটা তিনটি কোথায় পড়েছিল, কে জানে।

কে কুড়িয়ে রেখেছিল ? ফেরত-ই বা দিলো কে ?

সিমির সামনে সব পরিস্কার হয়ে গেল নিমেষেই। তিশার কাজ এটা। এতদিন ধরে তার আন্তরিকতার আড়ালে যে ঘৃণা সে পুষে রেখেছিলো, সেটারই প্রমাণ আজ তার হাতে।

সব শোধ দিয়ে গেছে সে। সব শোধ নিয়েও গেছে সে।

*গল্প*

অর্ঘ্য কাব্যিক শূন্য: কেমন আছেন সবাই ? (হ্যালো)

অর্ঘ্য কাব্যিক শূন্য: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বহু আগ থেকেই, যখন আমরা কোনো ছোটগল্পের চরিত্র হয়ে উঠি নি
নাটকের জনৈক ব্যাক্তিই যখন আমাদের একমাত্র উপাধি,
চিত্রকর তার নাগরদোলায় আমাদের রাখবে কী না ভাবেনি
বোধকরি তারও কিছু আগেকিছুদিনের জন্য,
আমাদের মধ্যে একটা সখ্যতা গড়ে উঠেছিল...

হয়তো এখনো, যখন তুমি জিতেছো শৃঙ্গবিজয়ীর খেতাব
জীবনের আসরে সর্বশ্রেষ্ঠ জুয়ারির সম্মান,
তুমি সে কথা অস্বীকার করতে পারবে না, পারবে কী?
তুমি ভাবছো সে দুদিনের সম্পর্ক'র জেরে কত কিছু চেয়ে বসি আমি
অবশ্য তোমাকেই দুষবো কি করে, মানুষের এটাই স্বভাব
না, চাইতে আসি নি আমি, যা চেয়েছি তা না পেয়ে পেয়ে
চাওয়ার অভ্যাসটাই বদলে গেছে...

শুধু বলতে এসেছি আরো ক'টা দিন, নিতান্তই কয়েকটা দিনের জন্য
মনের অজান্তে গড়ে ওঠা সেই সখ্যতাটাকে কি টিকিয়ে রাখা যেতো না ?
ততদিনে হয়তো তোমার শেষ সংলাপটি দেবার সময় আসবে
পাঠকের মনে শেষ কৌতুহল উদ্রেকের প্লট তৈরি হবে,
আর বৃষ্টিতে জলরং ধুয়ে মুছে যাবে...


যাই হোক,
চাইবো না বলেও হয়তো একটা দাবির উত্থাপন হলো
সেটা বরাবরের মতই আমার বলার ভুল
আমি কী বলতে চাই, ভালো করেই জানো তুমি
তবুও ওঁত পেতে থাকা শেয়ালের মতো কথার পাখিরা ভুল সুরে গাইলেই
গলা চেপে ধরো কেনো ? হয়তো একারণেই তুমি সফল,
এটাই সফলতার মূলমন্ত্র...

অপরের দুর্বলতার প্রকাশই নিজেকে ক্ষমতাধর করে তোলে
হয়তো সুউচ্চে তোলে না, কিন্তু সমভূমিকে লবণাক্ততায় ডুবিয়ে দিলে
সৌন্দর্য বলতে ওই বালুভূমিই থাকে...
অনূর্বর নিস্ফলা বালুময় মাঠেই তখন সূর্য ডোবে...
এসব তত্ত্বীয় কথা কখনো বোঝনি তুমি, হয়তো সময় দাওনি বলে
কেননা সময় তোমার কাছে সফলতা প্রসব করে...

তবুও বলবো... সময়ের সাথে এভাবে গণিকার মতো
ব্যবহার না করাটাই কি শ্রেয়তর নয় ? এটুকু পড়েই যদি আত্মসমর্পণ করো,
না আমাতে নয়, নিজের সামর্থের কাছে, তাহলে দোষ দেবো না...
কারণ, সাহিত্যে তোমার বড়ই অরুচি আর এক্ষেত্রে কাঁচা হবার সাহসেই
এখনও লিখে যাচ্ছি... শুনেছি তুমিও উপন্যাস পড়
কবিতা পড়তে দেখিনি কোনোদিনও...  আর এখন নাকমুখ বুজে
পড়ে থাকো পাঠ্যবইয়ের স্তুপজুড়ে...

কখনো তোমার,কখনো বা জীবিকার তরে পড়
তবু পাঠ্যবইয়ে তোমার ঝোঁক সত্যি বিস্ময়কর
আমি কী পড়ি না পড়ি সেকথা জেনে লাভ নেই...
জানি, জানতে চাওয়ার উৎসাহ বা কৌতুহলও নেই তোমার...
তবু উত্ত্যক্ত করার প্রতিদান হিসেবে বলি, আমিও মূর্খ ভীষণ
তাই মনের অজান্তে গড়ে ওঠা সেই সখ্যতাটাকে
এবার অকারণে টিকিয়ে রাখার আবেদন জানাচ্ছি...

অর্ঘ্য কাব্যিক শূন্য: একটি বেশব্লগ লিখেছে

মানুষরূপী পশুদের নোংরামী কতদূর পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে, দেখে নিন ! !  

গত ৮ বছরে বাংলাদেশে স্কুলের বাংলা বইগুলিতে কিভাবে ধর্মনিরপেক্ষতার 
নামে ইসলামকে বাদ এবং হিন্দুত্ববাদকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে দেখে নিন...

পাঠ্যপুস্তকে বাংলা বই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে :

** দ্বিতীয় শ্রেণী: ‘সবাই মিলে করি কাজ’ – শিরোনামে মুসলমানদের শেষ নবীর 
সংক্ষিপ্ত জীবন চরিত।

** তৃতীয় শ্রেণী: ‘খলিফা হযরত আবু বকর’ শিরোনামে একটি সংক্ষিপ্ত জীবন চরিত।

** চতুর্থ শ্রেণী: খলিফা হযরত ওমর এর সংক্ষিপ্ত জীবন চরিত।

** পঞ্চম শ্রেণী: ‘বিদায় হজ্জ’ নামক শেষ নবীর সংক্ষিপ্ত জীবন চরিত।

** পঞ্চম শ্রেণী: বাদ দেওয়া হয়েছে কাজী কাদের নেওয়াজের লিখিত‘শিক্ষা গুরুর 
মর্যাদা’ নামক একটি কবিতা। যা বাদশাহ আলমগীর মহত্ব বর্ণনা উঠে এসেছে। 
এবং শিক্ষক ও ছাত্রের মধ্যে আদব কেমন হওয়া উচিত তা বর্ণনা করা হয়েছিলো।

** পঞ্চম শ্রেণী: শহীদ তিতুমীর নামক একটি জীবন চরিত। এ প্রবন্ধটিতে শহীদ 
তিতুমীরের ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘটনা উল্লেখ ছিলো।

** ষষ্ঠ শ্রেণী: ড. মুহম্মদ শহীদু্ল্লাহ লিখিত ‘সততার পুরষ্কার’ নামক একটি ধর্মীয় 
শিক্ষনীয় ঘটনা।

** ষষ্ঠ শ্রেণী: মুসলিম দেশ ভ্রমণ কাহিনী- ‘নীলনদ আর পিরামিডের দেশ’।

** ষষ্ঠ শ্রেণী: মুসলিম সাহিত্যিক কায়কোবাদের লেখা ‘প্রার্থনা’ নামক কবিতাটি।

** সপ্তম শ্রেণী: বাদ দেয়া হয়েছে মরু ভাষ্কর নামক শেষ নবীর সংক্ষিপ্ত জীবন চরিত।

** অষ্টম শ্রেণী: বাদ দেওয়া হয়েছে‘বাবরের মহত্ত্ব’ নামক কবিতাটি।

** নবম-দশম শ্রেণী: সর্ব প্রথম বাদ দেওয়া হয়েছে মধ্যযুগের বাংলা কবি শাহ মুহম্মদ 
সগীরের লেখা ‘বন্দনা’ নামক ধর্মভিত্তিক কবিতাটি।

** নবম-দশম শ্রেণী: এরপর বাদ দেওয়া হয়েছে মধ্যযুগের মুসলিম কবি ‘আলাওল’ 
এর ধর্মভিত্তিক ‘হামদ’ নামক কবিতাটি।

** অষ্টম শ্রেণী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বেগম সুফিয়া কামালের লেখা “প্রার্থনা” 
কবিতা।

** নবম-দশম শ্রেণী: বাদ দেওয়া হয়েছে মধ্যযুগের মুসলিম কবি আব্দুল হাকিমের 
লেখা বঙ্গবাণী কবিতাটি।

** নবম-দশম শ্রেণী: গোলাম শিক্ষণীয় লেখা জীবন বিনিময় কবিতাটি। কবিতাটিতে 
মোঘল বাদশাহ বাবর ও তার পুত্র হুমায়ুনকে নিয়ে লেখা।

** নবম-দশম শ্রেণী: কাজী নজরুল ইসলামের লেখা বিখ্যাত ‘উমর ফারুক’কবিতা।

এর বদলে বাংলা বইয়ে প্রবেশ করেছে :

** পঞ্চম শ্রেণী: স্বঘোষিত নাস্তিক হুমায়ুন আজাদ লিখিত ‘বই’ নামক একটি কবিতা, 
যা মূলত মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআন বিরোধী কবিতা।

** ষষ্ঠ শ্রেণী: প্রবেশ করানো হয়েছে ‘বাংলাদেশের হৃদয়’ নামক একটি কবিতা। 
যেখানে রয়েছে হিন্দুদের দেবী দূর্গার প্রশংসা।

** ষষ্ঠ শ্রেণী: সংযুক্ত হয়েছে ‘লাল গরুটা’ নামক একটি ছোটগল্প। যা দিয়ে মুসলিম 
শিক্ষার্থীদের শেখানো হচ্ছে গরু হচ্ছে মায়ের মত, অর্থাৎ হিন্দুত্ববাদ।

** ষষ্ঠ শ্রেণী: অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ভারতের হিন্দুদের তীর্থস্থান রাঁচি’র ভ্রমণ কাহিনী।

** সপ্তম শ্রেণী: `লালু’ নামক গল্পে বাচ্চাদের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে পাঁঠাবলির নিয়ম 
কানুন।

** অষ্টম শ্রেণী: পড়ানো হচ্ছে হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ ‘রামায়ণ’ এর সংক্ষিপ্তরূপ।

** নবম-দশম শ্রেণী: প্রবেশে করেছে‘আমার সন্তান’ নামক একটি কবিতা। কবিতাটি 
হিন্দুদের ধর্ম সম্পর্কিত‘মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত, যা দেবী অন্নপূর্ণার প্রশংসা ও তার 
কাছে প্রার্থনাসূচক কবিতা।

** নবম-দশম শ্রেণী: অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ভারতের পর্যটন স্পট ‘পালমৌ’ এর ভ্রমণ 
কাহিনী।

** নবম-দশম শ্রেণী: পড়ানো হচ্ছে ‘সময় গেলে সাধন হবে না’ শিরোনামে বাউলদের 
বিকৃত যৌনাচার।

** নবম-দশম শ্রেণী: ‘সাকোটা দুলছে’ শিরোনামের কবিতা দিয়ে ৪৭ এর দেশভাগকে 
হেয় করা হচ্ছে, যা দিয়ে কৌশলে ‘দুই বাংলা এক করে দেওয়া’ অর্থাৎ বাংলাদেশকে 
ভারতের অন্তর্ভুক্ত হতে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

** প্রাথমিক ও উচ্চবিদ্যালয় গুলোতে দেওয়া হয়েছে (নিজেকে জানুন) নামক যৌন 
শিক্ষার বই। যেখানে ছেলে-মেয়েদের মধ্যকার বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ককে স্বাভাবিক 
বলা হয়েছে।

** নবম-দশম শ্রেণী: প্রবেশ করেছে ‘সুখের লাগিয়া’ নামক একটি কবিতা, যা হিন্দুদের 
রাধা-কৃষ্ণের লীলা-কীর্তন।

অর্ঘ্য কাব্যিক শূন্য: একটি বেশব্লগ লিখেছে

আমি কি চেয়েছিলাম, জানো ?
আমি শুধু চেয়েছিলাম তুমি আমায় দেখো, না ঘুমিয়ে - না স্বপ্নে.. 
আমি তো চেয়েছিলাম তোমায় বোঝাতে কতটা ব্যথা হয় বুকের পাশে, নাকের ফাঁকে...
শ্বাস নিতে গিয়ে টের পাই, বিশুদ্ধ বাতাস কবেই আমাকে ছেড়ে গেছে... !
.
আমি তো শুধু এটুকুই চেয়েছিলাম, তুমি আর আমি মিলে আমরা হই... ছোট্ট গাছ, 
অনেক ঘাস... আমাদের দোতলা বাড়ি... বাগানের ঘাসগুলো যে এখনই শুকিয়ে 
যাচ্ছে... ইচ্ছে ছিল, একবার খুব করে জড়িয়ে ধরে বলবো " তোমাকে চাই "... !
.
আমি জানি না ভেঙে যাওয়া মানুষগুলো কেন একে অপরকে টানে... ঠিক যেন 
নদী টেনে আনে তীরের ভাঙ্গনকে... বৃষ্টিতে মন্ত্রমুগ্ধ হয় কই মাছের ঝাঁক... 
আকাশের কান্না'র শেষ বিন্দুটি শুষে নেয় মাটির বিছানা...
.
আমি চাই তুমিও ঠিক সেভাবেই আমার হও..
ঠিক সেইভাবে...

অর্ঘ্য কাব্যিক শূন্য: - ভোরটা ভয়ংকর রকম সুন্দর না ? - হুম, ভয়ংকর সুন্দর ! - তাকাও, দেখো তো... - তাকিয়েই তো আছি ! - উফ, আমার দিকে না ! আকাশের দিকে তাকাও ! ভোরটা দেখো ! - ভোরই তো দেখছি ! তুমি তোমার ভোর দেখো, আমি আমার ভোর দেখছি... (হার্ট)

অর্ঘ্য কাব্যিক শূন্য: একটি বেশব্লগ লিখেছে

রাতের সময়টা কেন যেন খুব প্রিয় নিশাদের কাছে। নীরবতারও যে কি অদ্ভুত 
এক আকর্ষণ আছে, নিশ্চুপতারও যে কি মোহময় এক জাদু আছে, সেটা অনুভব 
করার উপযুক্ততা, নিশাদ রাত ছাড়া কখনও পায়নি। আর সেটা যদি হয় বৃষ্টির 
রাত, তাহলে তো কথাই নেই। এমনিতেও বৃষ্টিতে ভেজা নিশাদের কাছে নেশার 
মতো। দু’দুটো প্রিয় অনুভূতি আজ একসাথে ধরা দিয়েছে নিশাদের কাছে। 
.
রাত এখন একটা ত্রিশ। কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনের খোলা উঠানটাতে তুমুল বৃষ্টি 
নেমেছে। বড় বড় স্পটলাইটগুলো তাক করা। বৃষ্টির ফোঁটাগুলো মাটিতে আছড়ে 
পড়ে কুয়াশার মতো সৃষ্টি করছে মাটির একহাত পর্যন্ত। বারান্দাগুলোতে উকিল, 
পুলিশ, ডাক্তার, জেলার সহ আরও কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছেন। 
.
ম্যাজিস্ট্রেট আফসান আকন্দ মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছেন এক পাশে। তাঁর দৃষ্টি 
সোজাসুজি চলে গিয়েছে উঠোনের ঠিক মাঝখানে বসে থাকা ছেলেটার উপর। পরনে 
কয়েদিদের পোশাক। বৃষ্টিতে ভিজছে, পঁচিশ-ছাব্বিশ হবে বয়স। আফসান আকন্দের 
ছোট ছেলেটা যে লেখকের মহা ভক্ত, সেই লেখকের একটু পর ফাঁসি হতে যাচ্ছে। 
উঠোনে বসে ছেলেটাই সেই লেখক, নিশাদ খন্দকার।
.
এতো রাতে বৃষ্টিতে ভেজাটা অস্বাভাবিক মনে হলেও নিশাদ খন্দকার মৃত্যুর আগে 
শেষ ইচ্ছে হিসেবে এটাকেই বেছে নেয়। শেষবারের মতো প্রাণ ভরে বৃষ্টিতে ভেজা। 
হয়তো বা সম্ভব ছিলো না এটা, তবে কাকতালীয়ভাবে ঠিক এই সময়টাতেই বৃষ্টি 
শুরু হয়। স্ত্রী সানজানাকে হত্যার দায়ে তাকে ফাঁসি দেওয়া হবে একটু পর। নিশাদের 
এই পরিণতি মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে ম্যাজিস্ট্রেট আফসান আকন্দের। ঠিক মিল নেই 
কোথাও যেন। খাপছাড়া, বেমানান লাগছে পুরো ব্যাপারটাই। নিশাদ খন্দকারের পেছনে 
এসে দাঁড়ালেন। চোখ বন্ধ করে ভিজছে নিশাদ। 
.
- “ তোমার ফাঁসির সময় হয়ে গিয়েছে ” – ইতস্তত কণ্ঠ আফসান আকন্দের।  
.
চোখ খুলে তাকালো নিশাদ, “ হুম, জানি। ” – অদ্ভুতভাবে হাসলো সে।
.
- “ আমার ছোট ছেলেটা তোমার লেখা অনেক মিস করবে, নিশাদ ”  - নিশাদের 
দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিলেন আফসান আকন্দ। ওর চোখে এমন কিছু একটা আছে, 
বেশীক্ষণ তাকিয়ে থাকা যায় না।

- “ তাই নাকি ? ” – বিদ্রুপের হাসি ফুটলো নিশাদের মুখে।
- “ সানজানাকে খুন করার ব্যাপারটা আমার এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না। কেন করলে এটা ? ”
- “ ঐ যে, বেশী ভালোবাসতাম ” – হাসতে হাসতে উঠে এলো নিশাদ। 
.
দু’দিক থেকে দু’জন গার্ড এসে নিশাদের হাত পিছমোড়া করে বেঁধে ফেললো বৃষ্টির 
মাঝেই। আফসান আকন্দ কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে গেলেন। এখন কিছু 
বলেও আর লাভ নেই। 
.
ফাঁসির কাঠগড়ায় নিয়ে যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটা যেন চোখের পলকে ঘটে গেলো। 
ফাঁসির পূর্বে মাথায় কালো কাপড় লাগাতে দিলো না নিশাদ। 
.
- “ বৃষ্টির শেষ ফোঁটাটা মুখে এসে পড়ুক। ওভাবেই না হয় বিদায় নিলাম ” – হাসতে 
হাসতে বললো নিশাদ।
.
আফসান আকন্দ আর কিছু বললেন না। ছেলেটার স্নায়ুর জোর অস্বাভাবিক বলে মনে 
হলো তার।
.
রুমালটা হাত থেকে ফেলার আগ মুহূর্তে আফসান আকন্দ নিশাদের মুখের দিকে 
তাকালেন। নিশাদ আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। মুখে বিচিত্র এক তৃপ্তির হাসি। 
বিড়বিড় করে কি যেন বলছে। শোনা যাচ্ছে না ... ...
.
আফসান আকন্দ মুখ সরিয়ে নিলেন। রুমালটা ধীরে ধীরে বৃষ্টির মাঝে ভাসতে ভাসতে
মাটিতে এসে মুখ থুবড়ে পড়লো।     
.
বাসায় ফেরার জন্য গাড়িতে উঠতে যাবেন, এমন সময় জেলার সাহেব পেছন থেকে 
ডাকলেন আফসান আকন্দকে, “ স্যার ? ”
ফিরে তাকালেন, “ কিছু বলবেন ? ” 
হাতে একটা খাম নিয়ে ছাতা হাতে এসেছেন জেলার সাহেব। সেটা বাড়িয়ে দিয়ে 
বললেন,
.
- “ নিশাদ সাহেব আপনাকে দিয়েছিলো। বলেছিলো সে মারা যাওয়ার পর যেন এই চিঠি আপনাকে দেওয়া হয়। খুলে না পড়তে অনুরোধ করেছিলো আমাকে। ”
.
গাড়ির দরজাটা আবার বন্ধ করে ছাতা হাতে অবাক মুখে ঘুরলেন আফসান আকন্দ। 
হাত বাড়ালেন, “ দেখি ? ” 
জেলারের হাত থেকে চিঠিটা নিয়ে খোলা মাত্র জমে গেলেন আফসান আকন্দ।

" আকন্দ ভাই,

খুব অবাক হচ্ছেন ? মৃত্যুর আগে কেউ চিঠি লিখবে, তাও আবার জেলে বসে 
ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ? অবাক হওয়ারই কথা। বৃষ্টিতে ভিজে মরার খুব ইচ্ছে ছিলো।  
এখনও জানি না, সেটা পূরণ হবে কিনা, তবে মনে হচ্ছে বৃষ্টি আসবে।  

বৃষ্টি অনেক ভালোবাসতো সানজানা, পাগল ছিলো একরকম বৃষ্টিতে ভেজার জন্য।  
আমাকে নিয়ে জোর করে প্রায়ই ছাদে উঠে ভিজতো বৃষ্টিতে।  সানজানা যে রাতে 
মারা যায়, সে রাতেও অঝোরে বৃষ্টি হয়েছিলো। আমি রিডিং রুমে পড়ছিলাম।  হঠাৎ 
ছাদে সানজানার আর্তনাদ শুনতে পেলাম।  যতক্ষণে ছুটে গেলাম, ততক্ষণে ছুরিটা 
পেটে বিঁধিয়ে ফেলেছে। কিছুই করার ছিলো না।  ক্যান্সারে ধুঁকে ধুঁকে মরার চাইতে 
দ্রুত মারা যাওয়াটাই ভালো মনে করেছিলো।  আমি আসলে ওকে ছাড়া বেঁচে থাকার 
খুব একটা বড় যুক্তিও দাঁড় করাতে পারছিলাম না সে মুহূর্তে।  লেখক মানুষের 
মেরুদণ্ডের জোর একটু কম থাকে।  আমারও তাই। সানজানার মতো আত্মহত্যা করা 
আমার পক্ষে সম্ভব ছিলো না।  সবসময় যে কোনো কাজ করতে পেছন থেকে ধাক্কা 
প্রয়োজন ছিল আমার। ধাক্কাটা সানজানাই দিতো এতোদিন।  কিন্তু এখন ধাক্কা 
দেওয়ার জন্য কেউ আর অবশিষ্ট নেই। তাই ওকে খুন করেছি বলে দাবী করলাম।  
যাতে ওর সাথে আবার দেখা মেলে।  মরার আগে বোধহয় সাহিত্যিকদের সাহিত্যে 
ভাটা পরে।  দেখছেন না, কি যাচ্ছেতাই চিঠি লিখছি।  হাঃ হাঃ ... ...

তবে একটা ব্যাপার কি জানেন ? ভালোবাসায় বোধহয় যুক্তি থাকে না।  থাকলে 
সানজানা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতো।  আরেকটু বেশী সময় আমার পাশে 
থাকতো।  আরেকটু বেশী স্মৃতি দিয়ে যেতো আমায় এ সময়টা একাকী পার করার 
জন্য।  একজন লেখক অনেক সুন্দর সুন্দর কাহিনী সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু তার নিজের কাহিনীটা কখনও সুন্দর হয় না।  হয়তো আমার কাহিনীটাও তেমনই রয়ে গেল।  
শুধু তৃপ্তি এখানটায়, সানজানা আমাকে ফাঁকি দিতে পারে নি।  তাকে ক্ষয়ে ক্ষয়ে 
মরতে দেখলে আমি কষ্ট পাবো দেখে জীবনের সাথে যে ফাঁকির অংকটুকু সে 
কষেছিলো, আমি তার শেষ সমীকরণটাও মিলিয়ে দিলাম আজ।
.
" আমার ব্যাথার পূজা হয়নি সমর্পণ,
  আমার সকল দুঃখের প্রদীপ
  গেলে দিবস, জ্বেলে করবো নিবেদন ... " 

গানটা সানজানার খুব প্রিয় ছিল।  আজ কেন জানি এ গানটা কানে বাজছে 
অনেকক্ষণ ধরে।  বোধহয় ব্যাথার সব প্রদীপ বৃষ্টিতে ভিজিয়ে আজ নিভিয়ে দেওয়ার 
দিন, তাই ... ... 

নিশাদ খন্দকার "          

*প্রিয়লেখনী*

অর্ঘ্য কাব্যিক শূন্য: একটি বেশব্লগ লিখেছে

এলোমেলো মানুষদের কখনো গুছিয়ে ওঠা হয় না... পছন্দের সাদা শার্টটি তে 
শেষ পর্যন্ত একটি কালো দাগ থেকেই যায়, সুতো ওঠে... শার্টের মাঝ বরাবর 
বোতাম গায়েব... পালিশ করা জুতোর তলা ক্ষয়ে উঠে যায়...
.
এলোমেলোরা স্বপ্ন গুছাতে পারে না... স্বপ্নের দেয়াল থেকে চুন খসে পড়ে... 
স্বপ্নের উনুনে আগুন জ্বলে না বহুদিন... এলোমেলোদের হাত কেউ ধরে রাখে না 
দীর্ঘদিন... এলোমেলোদের যে দূর থেকে দেখতেই সুন্দর...
.
চারিদিকে রব ওঠে, ঠিক হও... গুছাও জীবনটা কে...
কিন্ত যে ছেলেটা স্কুল থেকে ঠিকমত রং পেন্সিল ফেরৎ আনতে পারে না সে পুরো 
আস্ত জীবন কিভাবে গুছাবে... যেই ছেলে ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন খুন করতে শিখে 
গেছে, সে কিভাবে গুছানো স্বপ্ন দেখবে... যে ছেলে সাধ আহ্লাদ গলা টিপে মেরেছে 
প্রচন্ড অভিমানে, সে সুখের পরোয়া আদৌ করে না...
.
খরস্রোতা নদীতে ছোট্ট হীরের টুকরো হারিয়ে যায়... টুপ করে পড়ে যায় একটি 
তারা... বিন্যাস অগোছালো হয়ে যায়... এক বুক কথা নিয়ে ভিড়ে সাথে মিশে যায় 
ছেলেটা... এলোমেলো কথা খেলা করে মনে... প্রচন্ড এলোমেলো...
.
কাউকে কাছে ঘেষতে দেয় না, কারো কাছে জীবনের অব্যক্ত কথা গুলো বলতে যায় 
না... কারন সে জানে, এলোমেলোদের দূর থেকে দেখতেই সুন্দর... 
*প্রিয়লেখনী*

অর্ঘ্য কাব্যিক শূন্য: একটি বেশব্লগ লিখেছে

প্রবাসী ছেলে জীবনে প্রথম মাসের বেতন তুলে তার বাবা কে ফোন করেছে...
.
- হ্যালো আব্বু ?
- হ্যাঁ, বাবু কেমন আছিস ?
- বাবা আমি ভাল আছি। তুমি ভাল আছো তো ?
- শরীর ভালো, তবে তোকে খুব মনে পড়ে। বাদ দে, তোর কি খবর বল ?
- আমিও ভাল আছি। একটা নাম্বার দিচ্ছি লেখ। (মানিগ্রাম)
- কিসের নাম্বার খোকা ?
- আমি সেলারী পেয়েছি বাবা। পুরা এক লাখ।
- আলহামদুলিল্লাহ।
- বাবা একটা কথা বলি ? ( কিছুটা দুষ্টামির ছলে )
- এতদিন পর ফোন করেছিস মাত্র একটা কথাই বলবি ?
- বাবা তুমি তো বলেছিলে পিতৃ ঋণ কোন দিন শোধ হয় না। তুমি ছাব্বিশ বছরে 
আমার পেছনে যত টাকা খরচ করেছো,  তুমি কি জানো আমি আগামী পাঁচ বছরে 
সে টাকা তোমায় ফিরিয়ে দিতে পারবো। আমার এখানে এক টাকা তোমার ওখানে 
একশ টাকা বাবা। 
.
বাবা : ( কিছুটা মুচকি হেসে) একটা গল্প শুনবি, বাবা ?
.
ছেলেটা কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেল। নিচু স্বরে বললো -
.
- বলো বাবা, শুনবো।
- তোর বয়স যখন চার আমার বেতন তখন তিন হাজার টাকা। ১,২০০ টাকা ঘর 
ভাড়া দিয়ে আঠারো'শ টাকায় চলে সংসার। আমি আমার সাধ্যের মধ্যে সব সময় 
চেষ্টা করেছি তোর 'মা'কে 'সুখী করতে। তোকে যেবার স্কুলে ভর্তি করলাম সেবার-ই 
প্রথম আমরা আমাদের ম্যারেজ ডে টা পালন করি নি। সে বছর তোর মাকে কিছুই 
দিতে পারিনি আমি।
.
তুই যখন কলেজে উঠলি আমাদের অবস্থা তখন মোটা মুটি ভাল। কিন্তু খুব কষ্ট হয়ে 
গিয়েছিল যখন আমার ট্রান্সফার নারায়ণগঞ্জ হয়। রোজ রোজ উত্তরা থেকে নারায়ণগঞ্জ 
বাসে করে পায়ে হেঁটে ঘামে ভিজে খুব দুর্বিষহ লাগছিল। একদিন শো রুম থেকে একটা 
বাইক দেখে আসলাম। সে রাতে আমি স্বপ্নেও দেখেছিলাম আমি বাইকে চড়ে অফিস 
যাচ্ছি। কিন্তু পরের দিন তুই বায়না ধরলি উত্তরা থেকে বনানী ভার্সিটি করতে তোর কষ্ট 
হয়। তোর কষ্টে আমার কষ্ট হয় বাবা। আমি তোকে বাইক টা কিনে দিয়েছিলাম।
.
আমার এক টাকা তোর ওখানে এখন এক পয়সা ! কিন্তু মনে করে দেখ এই এক টাকা 
দিয়ে তুই বন্ধুদের নিয়ে পার্টি করেছিস। ব্রান্ড নিউ মোবাইলে হেড ফোন কানে লাগিয়ে 
সারা রাত গান শুনেছিস। পিকনিক করেছিস, ট্যুর করেছিস, কন্সার্ট দেখেছিস। তোর 
প্রতিটা দিন ছিল স্বপ্নের মতন।
.
আর তোর একশ টাকা নিয়ে আমি এখন হার্টের বাইপাস করাই ডায়াবেটিক মাপাই। 
জানিস বাবা, আমার মাছ খাওয়া নিষেধ, মাংস খাওয়া নিষেধ, কি করে এত টাকা খরচ 
করি বল ! তোর টাকা নিয়ে তাই আমি কল্পনার হাট বসাই। সে হাটে আমি বাইক 
চালিয়ে সারা শহর ঘুরে বেড়াই। বন্ধুদের নিয়ে সিনেমা দেখতে যাই। তোর মায়ের 
হাত ধরে চাঁদনী পসরে সেন্ট মার্টিনের বালুচরে হেঁটে বেড়াই।
.
- বাবা, চুপ করো প্লীজ ! আমি তোমার কাছে চলে আসব। টাকা না তোমার ভালবাসা 
তোমায় ফিরিয়ে দিবো।
- হা হা হা বোকা ছেলে ! বাবাদের ভালোবাসা কখনো ফিরিয়ে দেওয়া যায় না।
তোকে একটা প্রশ্ন করি বাবা। ধর তুই আমি আর তোর খোকা তিন জন এক নৌকায় 
বসে আছি। হঠাৎ নৌকা টা ডুবতে শুরু করলো, যে কোন একজনকে বাঁচাতে পারবি 
তুই। কাকে বাঁচাবি বল ?
.
ছেলেটা হাজার চেষ্টা করেও এক চুল ঠোঁট নড়াতে পারছেনা !
.
- উত্তর দিতে হবে না। ছেলেরা বাবা হয়, বাবা কখনো ছেলে হতে পারে না। পৃথিবীতে 
সবচেয়ে ভারী জিনিস কি জানিস ? পিতার কাঁধে পুত্রের লাশ ! আমি শুধু জায়নামাজে 
বসে একটা জিনিস চাই। আমার কবরের ঘরটায় যেন আমি আমার ছেলের কাঁধে 
চড়ে যাই। তাহলেই তুই একটা ঋণ শোধ করতে পারবি। তোকে কোলে নেয়ার ঋণ। 
*প্রিয়লেখনী*

অর্ঘ্য কাব্যিক শূন্য: একটি বেশব্লগ লিখেছে

-- ভাই, চলেন শাহবাগ যাই। তনু হত্যার বিচার চাই। আর্মিরা খুব খারাপ। 
এদের গাড়ি আটকাইয়া দিবো ! আজকেও দিছি।
.
-- সে কী ! গাড়ি আটকাবেন মানে ? কে হত্যা করছে, জানতে পারছেন ? আর 
করলেও হয়তো একজন করছে। তাই বলে একটা দেশের সামরিক বাহিনীর 
গাড়ি আটকিয়ে দিবেন?
.
-- ক্যান্টনমেন্টে ঘটনা ঘটছে, কে আর আসবে, ওদেরই কেউ করছে। আর গাড়ি 
না আটকালে আন্দোলন সফল হবে না!
.
-- আচ্ছা, চলেন, সরকারের মন্ত্রীর গাড়িও আটকে দিবো !
.
-- কেন?
.
-- কদিন আগে ৮০০ কোটিসহ মোট ৩০০০০ কোটি টাকা পাচার করলো যে !
.
-- ধুর মিয়া, আমরা তো জানি না, কোন মন্ত্রী করছে, তাইলে সবার গাড়ি আটকানো 
কি ঠিক হবে ?
.
-- আন্দোলন সফল করতে সবার গাড়ি আটকানোই দরকার ! তাছাড়া আসেন 
সব শিল্পীদের গাড়িও আটকাইয়া দেই। কৃষ্ণকলি যে কাজের মেয়েরে মাইরা 
ফেললো। কুমিল্লা তে রোডমার্চ করার আগে আসেন বাংলাদেশ ব্যাংক অভিমুখেও 
একবার যাই, শিল্পীর বাসায় ও একবার যাই, মাত্র আধঘণ্টা টাইম লাগবো !
.
-- আরে ভাই, এত পেচাচ্ছেন কেন ? শাহবাগ যাবেন না, বললেই পারেন।
.
-- রেগে উঠছেন কেন ? আরেকটা কুয়েশ্চন আছে। বিশ্বকাপের টিকেটের লাইনে 
একটু বিশৃঙ্খলা হইলে পুলিশ লাঠি চার্জ করে, শিক্ষকদের অনশনের উপর পুলিশ 
কাঁদুনে গ্যাস মারে, আর আপনারা আর্মির গাড়ি আটকাইয়া দিলেন, পুলিশ কিছুই 
করলো না। ব্যাপারটা কী ?
.
-- ও, সন্দেহ করো ? বেশি সন্দেহ করা পাকিস্তানিদের কাজ ! পাকি দালাল কোথাকার !
*প্রিয়লেখনী*

অর্ঘ্য কাব্যিক শূন্য: বেশতো'তে যোগদানের ১৮তম মাসে এসে ১০০০তম পোস্ট লিখলাম... সবার প্রোফাইলে যেখানে কন্টেন্টের ট্রাফিক জ্যাম, সেখানে আমার এই অবস্থা... হুম ! আমি বহুৎ অলস... কোন সন্দেহ নেই... (হাইতুলি) (হাইতুলি)

অর্ঘ্য কাব্যিক শূন্য: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

সেই ব্যক্তিই সবচাইতে শক্তিশালী, যে ধোঁকা খাওয়ার পরও মানুষের উপকার করা বাদ দেয় না... (চিন্তাকরি)

অর্ঘ্য কাব্যিক শূন্য: (বৃষ্টি) (বৃষ্টি) (বৃষ্টি) (বৃষ্টি) (বৃষ্টি) (বৃষ্টি) (বৃষ্টি) (বৃষ্টি) (বৃষ্টি) (বৃষ্টি)

অর্ঘ্য কাব্যিক শূন্য: (সূর্য) (নতুনদিন) শুভ সকাল, বেশতো (নতুনদিন) (সূর্য)

অর্ঘ্য কাব্যিক শূন্য: যদি আপনি এমন কাউকে ভালোবাসেন যে আপনাকে ভালোবাসে না, তাহলে বুঝবেন, আপনি জাহাজের জন্য এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করছেন... (শয়তানিহাসি)

অর্ঘ্য কাব্যিক শূন্য: আড্ডা দেওয়া হয় না অনেকদিন... আসুন, কিছুটা সময় একসাথে কাটানো যাক... (এদিকেআসো) (এদিকেআসো)

অর্ঘ্য কাব্যিক শূন্য: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ঊনিশ বছর বয়সী একটি মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে গতকাল... 
ওর নাম সোহাগী... ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে খোদ সেনানিবাসে... 
সোহাগী জাহান তনু কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের স্নাতক 
দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন... অলিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী 
ইয়ার হোসেনের মেয়ে... আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে সোহাগী অলিপুরেই এক বাসায় 
টিউশনি করতেন...
.
কারো মুখে উচ্চবাচ্য নেই... বড় পত্রিকাতেও কিছু সংবাদ নেই... ক্যান্টনমেন্টের মত 
স্থানে আমাদের মেয়েরা নিরাপদ নয়, ধর্ষন করার পর হত্যা, এটি কি এতই সহজ 
একটি ব্যাপার ?
.
একটি সমাজ, একটি রাষ্ট্র ঠিক কোন পর্যায়ে গেলে এধরণের ভয়ংকর জঘন্য 
অপরাধগুলো ডাল ভাত হয়ে যায়, জানি না... একটি দেশ চেতনার ব্যারোমিটারে 
পারদের উচ্চতা কতটা হাই থাকলে এইসব অপরাধী নিয়ে কথা বলা নিষেধ ? 
নাকি এই মেয়ে হিজাবী দেখে কথা বলা যাবে না ? সংখ্যালঘু কেউ হলে এতক্ষণে 
ফেইসবুক আর নিউজপেপারগুলো প্রতিবাদের তুবড়ি ছুটিয়ে দিতো... সোহাগীকে নিয়ে 
কিছু নেই কেন ? এই কিশোরী মেয়েটির জীবন কি জীবন না ? তার স্বপ্ন ছিলো না ?
.
শাহবাগী জানোয়ারেরা আর সরকারের গোলামেরা জবাব দেবেন কি ? পতাকা দিয়ে 
অপরাধ ঢেকে রাখবার এই দেশপ্রেমের মুখে একদলা থুথু... ! ! ! 
*প্রিয়লেখনী*

অর্ঘ্য কাব্যিক শূন্য: একটি বেশব্লগ লিখেছে

১৯৪১-৪৩ সালে ব্রিটিশরাজ বাংলায় যেই ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ কৃত্রিম ভাবে তৈরি করে 
তাতে মারা যায় ৩০ লাখ লোক... IT WAS A MAN MADE HOLOCAUST... 
অথচ ব্রিটিশরা কখনই তাদের এই অমানবিক আর নৃশংস হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার 
করে নাই আর মাফও চায় নাই... তারপরেও আমরা ব্রিটিশদের তাবেদারী করি, 
ব্রিটেনে যাওয়ার জন্য একপায়ে দাঁড়িয়ে থাকি... ব্রিটিশ ছেলে বিয়ে করে জাতির 
নাতজামাই বানাই, জাতীয় নাতীর ব্রিটিশ নির্বাচনে বিজয়ে বুক ফুলাই... ঘটা করে 
প্লেন ভর্তি মানুষ নিয়ে ব্রিটিশ নাগরিকদের বিয়ে খেতে যাই...
.
এদিকে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে নিহত শহীদের প্রচলিত সংখ্যা ৩০ 
লাখ... পাকিস্তানও কোনদিন রাষ্ট্রীয় ভাবে মাফ চায়নি তাদের যুদ্ধাপরাধের জন্য... 
অথচ তাদের ক্ষমা করে দেন তাদের চোখে যিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি এবং 
জাতির পিতা... সেই পিতার শাসনামলে যেই আইন বানানো হয়েছিল বিদেশি 
(পাকিস্তানী) যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য, সেই আইনে আজ নিজ দেশের 
নাগরিকেদের যুদ্ধাপরাধের বিচার চলছে... তুলে নেয়া হয়েছে তাদের বেশ কিছু 
নাগরিক অধিকার...
.
দু'ক্ষেত্রেই নিহত হয়েছে ৩০ লাখ করে মানুষ... এক দেশ আমাদের কাছে স্বর্গ রাজ্য, 
আরেক দেশের নাম নেওয়া হয় অতি ঘৃণার সাথে... এক দেশ শাসন করেছে ১৯০ 
বছর, আরেক দেশ ২৩ বছর... ১৯০ বছরের অত্যাচার ভুলে গেছি, কিন্তু ২৩ বছরের 
অত্যাচার যেন কিছুতেই না ভুলি তার জন্য ৭১ এর চেতনার ক্রমাগত জাগরণ...
.
সারা জাতি আজ চেতনা মিশ্রিত ঘৃণার অমৃত পান করে নেশায় বুদ হয়ে আছে... 
সব দেশের নাম নিতে পারবে, কিন্তু পাকিস্তানের নাম পজিটিভলি যেন কেউ ভুলেও 
না বলে... নিলেই ' তুই রাজাকার '... উর্দু, অয়াক থু... কিন্তু ইংরেজি ইজ সো কুল... 
ইয়ো, হোয়াটস আপ ডুড ?
.
ওদিকে কিন্তু আওয়ামী সরকার জাতে মাতাল তালে ঠিক... ঠিকই পাকিস্তানের মতন 
সিম নিবন্ধনে আঙ্গুলের ছাপ নিচ্ছে, যা বিশ্বের আর কোন দেশ নেয় না... ২০০৬-
২০০৭ সালে, খালেদা জিয়ার আমলে যেখানে আমদানিঃরফতানি ছিল ১ঃ৩, সেখানে ২০১৩-২০১৪ সালে এই অনুপাত হয়েছে ১ঃ৯.৫... অর্থাৎ খালেদা জিয়ার আমলের 
চাইতে তিনগুণ বেশি... পকিস্তান থেকে আমদানি এখন সর্বকালের মধ্যে সর্বোচ্চ...
.
অথচ চোখে আঙ্গু্ল দিয়ে দেখানোর পরও এই জাতির ভুল ভাঙ্গে না, বুঝে না 
আওয়ামীদের ষড়যন্ত্র... তারা এই পাকিস্তানী বিরোধী চেতনা খাইয়ে, জাতীকে নেশায় 
বুদ করে রেখে নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধা লুটছে...
*প্রিয়লেখনী*

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

আজকের
গড়
এযাবত
১২,৭১৪

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

***

+ আরও