সাইফ

@sayfme

গড়পরতা থেকে কম জানা, প্রায় একজন মানুষ ।
business_center আই টি অফিসার
school বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ বিজনেস এন্ড টেকনোলজি (BUBT)
location_on ঢাকা
1367816796000  থেকে আমাদের সাথে আছে

সাইফ: আকাশ ফুড়ে দেখতে চাই তার উপরে কি, জিব্রিলের ডানায় চড়ে খোদ আরশের চৌকি ।

সাইফ: ফ্যাক্টরীর সামনে এক ড্যাশ ডট ইউনানী দাওয়াখানার ব্রান্ডের ইজিবাইক চর্ম/হাপানী/কাশি ইত্যাদি রোগের মার্কেটিং করতেছে, গত দু-তিন দিন । আজকে লাঞ্চের সময় খেয়াল করলাম চুপচাপ। গাড়িতে উকি মেরে দেখি মার্কেটিং ম্যানেজার পিছের ছিটে বসে লুঙ্গি হাটুর উপরে তুলে ঘুড়ুক ঘুড়ুক কাশে আর ঘষর ঘষর হাটু চুলকায় ! আমারই বোঝার ভুল, তারা রোগের মার্কেটিং করতেছে ঔষধের না!

সাইফ: ইন্টারভিউ বোর্ডের জনৈক প্রশ্ন কর্তা, = আপনার সবথেকে বড় দুর্বলতা কি? - সাত সকালে ঘুম থেকে ওঠা! বলা বাহুল্য চাকুরীটা আমি পাইনি, বেলাকেও ফোন দেওয়া হয় নি ।

সাইফ: [বাঘমামা-তোকেকেপাত্তাদেয়] আমি বুঝাইলাম - মিথ্যা বলা একটা আর্ট । সে না বুঝিয়া = নিজে নিজে হইল হার্ট ।

সাইফ: মশকলীগের শোষক নীতিতে ভরসন্ধ্যায় ঘুমিয়ে থাকা রুমমেট বিরক্ততে বহুরঙা ! - ভাইরে যেখানে কামড়ে দেয় এলাকা লাল লাল হয়ে যায় ! চুপ করে না থাকতে পেরে বলে ফেললুম = জ্বি ভাই সুন্দরী মশা বলা কথা ! ভ্যাবাচেকা খেয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করে ফেললেন, - কিভাবে বুঝলেন মেয়ে মশা, তাও আবার সুন্দরী? না হেসে পারলাম না, = ক্যান ভাই আপনিই তো বললেন কামড়ালে লাল লাল হয়ে যাচ্ছে, তার মানে ঠোঁটে লিপস্টিক আছে তাঁর । এহেন বসন্ত আগমনী সন্ধ্যায় উষ্ঠ রঞ্জিত করে সুন্দরী ছাড়া কে আসবে বলুন?

সাইফ: অতিরিক্ত মাত্রার আবেগী মানুষ আর আবেগী পোস্ট আমার জন্য বেপক বিরক্তিকর । বাস্তবেও আমি এদের ধারে পাশে ঘেশি না । কিন্তু অনলাইনে আবেগ বেচে খাওয়া জনতা দেখে বাস্তবের আমি হতাশ । I mean seriously? আর কোন বিষয় কি হারিয়ে গিয়েছে যা নিয়ে প্যান প্যান করা যেত না?

*আপনপচিন্তা*

সাইফ: [কাকতাড়ুয়া-খুশি] অতীতে এক পা আরেকখানি ভবিষ্যতে, বর্তমানের মাথা ভাসায় মন ভরে মুতে ।

*সাইফরঙ্গ*

সাইফ: [শীত-কেবলেশীতনাই] বেচে আছি এই বেশ, মাঝে মাঝে নাড়ি ল্যাজ হত ভাল বড্ড থাকলে বুকে সুখের ব্যাজ ।

সাইফ: [শীত-কেবলেশীতনাই] সাওতাল রঙ্গ আমরা কয়েকঘন্টা পরে এমনিতেই ভুলে যাব । আসুন ভ্যাসলিন মাখি, সব ধরনের ফাটাফুটা থেকে নিজেদের বাচিয়ে রাখি ।

সাইফ: [বাঘমামা-ব্যাপকমনখারাপ] বলেছিলিস বটে নষ্টদের দখলে যাবে সব, দ্রুত এত দ্রুত ফলে গেছে তা কেবল নষ্টরাই সরব ।

*আপনচিন্তা*

সাইফ: তাবত বড় বড় উতসাহের ঘাটে ভাটা পড়ে আছে, লিখতে গিয়ে রীতিমত আতকে উঠতেছি । সব হারিয়ে ফেলছিলাম প্রায় কেবল গানটা ছাড়া https://www.youtube.com/watch?v=JWpWfL2RlgI

সাইফ: একটি বেশব্লগ লিখেছে

“সেবার অবশ্য বেশ খাওয়া দাওয়া হয়েছিল, যাকে বলে পেটপুরে । আর আজকে খেলাম । বলতে পার পেট ভরে আর কি” – লাকীর বাসাতে তার জামাইয়ের ড্রয়িংরুমে বসে দই মুখে দিতে দিতে শুরু করলাম। বিয়ের পর যে জামাইয়ের দাবী ড্রয়িংরুমতক বজায় থাকে জানা আছে আমার । “আর আমি বলি কি, ভাল রাধুনির হাতের ছোয়াতে কাকের মাংশও কবুতরের বাচ্চার মত লাগবে ।”

তুমি খাওয়া দাওয়া শুরু করেছ, তা যা বলা শুরু বল তুমি , মাঝপথে রকি ফোড়ন কাটল ।

“এই দেখ রকি, জানতাম আমি তুমি বিশ্বাস করতে চাইবে না ।” বাকি দইটুকু গিলে ফেললাম । “আরে বাপু ভাল রান্নার ঠেলাতে সেবার তো মানুষের মাংশ খেয়ে ফেলছিলাম প্রায় ।”

জ্যোতি হইহই করে উঠল, ভাইয়া তো ঠিক বলেছে, আপনি যে খাওয়া দাওয়া করতে চান না আমরা জানি ।

শোন মেয়ের কথা , বাপু আমি কম খাই ঠিক তা বলে ভোজনরসিক আছি । ভাল রান্না চেখে দেখতে স্বয়ং শয়তানও লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে রাজি আর আমি তো কে ! শয়তান আর আদমের গন্ডগোলের মুলেও কিন্তু খাওয়া দাওয়া নিয়ে তা জান তোমরা?

রাসেল মানে লাকির জামাই টিভির থেকে আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বেশ হেসে দিল খানিক । লাকি মৃদু হেসে বলল আচ্ছা ঠিক আছে ভাইয়া গল্পটুকু শুনি আগে, পরে বাচ বিছার ।

ও হ্যা তা যা বলছিলাম। আমি গোড়া থেকে শুরু করলাম আবার, সেবার যাওয়া পড়েছিল বনের দিকে । রকি তো চিন আমার ফ্রেণ্ড রাজন, মাগুরা বাড়ি । ওর চাচা ফরেস্টার ছিলেন । ওনাকে বলে গেলাম সেবার বনে বাদাড়ে । ওখানকার ফরেস্ট অফিসার একসময় চাচাজির আন্ডারে চাকুরি করতেন নাম অরিজিত, বেশ ভাল খাতির যত্ন করে স্টেশন জিপ পাঠিয়ে আমাকে রিসিভ করে নিয়ে আসল । ওনার বাংলোতে কর্মী বলতে বাইরে দুজন গার্ড থাকে, আর ভেতরে এক গৃহকর্মি কাম ভৃত্য, সে বাপু মানুষ বটে একাতে একশজন । কেবল একটায় সমস্যা রাতে চোখে একটু কম দেখে, রাতকানা না, কম দেখে আর কি । তবে আমি যাওয়াতে পুন্নু মানে কেয়ারটেকার , বেশ খুশি । বন বাদাড়ে বাইরের মানুষ তেমন যায় না । আর তার অফিসার মানে সাহেব আর কি তখনও ব্যাচেলার । রান্না বান্না পুন্নু নিজেই করে । বেশ ভাল না চমৎকার রান্না করে পরেরবেলা খাবার মুখে দিয়ে বুঝে গেলাম । না না লাকি আর তোমার মা মিনু কাকিমার ধারেপাশেও না । তবে এক জায়গাতে মিল আছে তোমাদের সাথে, সে খাওয়াতে জানে বটে । মানে সাহেব আরেকটু দেই, আরেকটু দেই করে পুরো পাত ভরে এমন অবস্থা, মেহমান পুরো কাত ।

দম নিয়ে দইয়ের বাটি চামচ সামনের টিপয়ে নামিয়ে রাখলাম । লাকি ইশারা করল জ্যোতি কে আরো নিয়ে আসার জন্য । আমি মৃদু হাসলাম । এক দৌড়ে ও ফ্রিজ থেকে আরো খানিক দই কেটে নিয়ে আসল সে ।

আসলে খাওয়ানোর বহর দেখে মনে মনে ভয় পেয়েছিলাম । তবে যেটা ভাল লেগেছিল, রান্না করত হরেক পদের । আজিব আজিব ধরনের সব্জী, চচ্চড়ি, ভাজি । দুই বেলা মাছ তরিতরকারী দিয়ে খেলাম । পরেরদিন রাতে, মানে যেদিন পৌছেছিলাম তার পরের কথা বলতেছি । খেতে বসে অরিজিত আর আমি, পুন্নু ঢেকির মত ঢুকানো শুরু করেছে ততক্ষণে , বলেই ফেললাম আসলাম যখন শিকার টিকার করার উপায় নাই?

অরিজিত হেসেই ফেলল, না ভাই, আগের মত শিকার তো নাই, আর অনুমতিও পাওয়া যায় না ।

না না আমি বলে ঊঠলাম, বনমোরগ টোরগএগুলা…র কথা বলতেছি । আমি ভাই গাদা বন্দুক ভয় পাই ।

অরিজিত আশ্বস্ত করল কাল পুন্নু নিয়ে যাবে, আর ফরেস্ট অফিসারদের নিজস্ব এয়ারগান খানা দিবে সাথে । পুন্নু এ কথা শুনে দুখানা পাহাড়ি নদীর মাছের রুপালি পেটিভাজি তুলে দিল । বুঝে নিলাম তার খুশি প্রকাশের ভাষা এটা ।

সকাল সকাল পুন্নু কাধে এয়ারগান ঝুলিয়ে হাকডাক পেড়ে উঠিয়েই ছাড়ল । অরিজিত আমাদের বিদায় আদায় দিয়ে অফিসের দিকে ঢুকে গেল । আমরা বের হলাম শিকার অভিযানে । পুন্নু এমন সাজ সেজেছে পুরো মনে হচ্ছিল শোলে সিনেমার গাব্বার সিঙের চ্যালা । আমার এয়ারগানের দক্ষতার কথা তো বলি নাই । শুনলে হয়ত সাজগোজ চেঞ্জ হয়ে যাবে ভয়ে কিছু বলি নি । ভাবলাম সবারই বিনোদনের প্রয়োজন আছে আর কি । হেটে হেটে বনের ভেতরে ঢুকছি আমরা , তা আধ মাইল পর্যন্ত হেটেছি ততক্ষণে । বন বলে তেমন কিছু নাই এখানে, সিনেমাতে আর ডিসকভারিতে দেখা ভয়াবহ টাইপের কিচ্ছু নাই । শুকনো মাটির উপর দিয়ে হাটতে হাটতে কিঞ্চিত বিরক্ত আমি । পুন্নু বেশ সজীব ।

চুপচাপ না থেকে জিগ্যেস করলাম কি হে পুন্নু বনের মোরগ মুরগি সব কি তোমার চেহারা দেখে পালাল । পুন্নু গাল ভরে হাসল শুধু ।

না সাহেব আছে, সামনে চলেন ।

সামনে সামনে করতে করতে বোধহয় মেইল তিনেক ভেতরে এসেছি, ঝোপঝাড় টিলাটুলা দেখা যাচ্ছিল । মিনিট দশেক পর একটা আচমকা মোরগের ডাক শুনলাম । পুন্নু কাধ থেকে এয়ারগান নামিয়ে আমার হাতে ধরিয়ে দিল । কিন্তু আমি চোখের সামনে কিছুই দেখি না । এয়ারগান নাম হলেও তো কাউকে মারতে বাতাসে ফায়ার করা যায় না ।

আধা বেলার পর অনেক কসরত করে সেবার একখানা বনমোরগ মেরেছিলাম । আমার গুলি পায়ে লেগেছিল মোরগটার , যদিও টার্গেট ছিল মাথাতে । বাকিটা পুন্নু দৌড়িয়ে লাঠিপেটা করে সেরে ফেলে । রাতে বেশ ভোজন হবে তাতে পুন্নু বেজাই খুশি আর আমি জীবনের প্রথম শিকার করে, হোক না লাঠিপেটা করে, এতেই খুশি । খুশিমনে ফিরলাম বাংলোতে ।

জ্যোতি পানি খাওয়াওতো । বলে জ্যোতিকে ভেতরে পাঠালাম । রাসেলও আমাদের গল্প শুনছিল বেশ আগ্রহভরে । ওর আর লাকির বিয়ের পর আমার সাথে ওর দ্বিতীয় দেখা । সম্পর্কে শালা বোনাই হলেও লাকি আবার রকির থেকে ছোট, যার কারণে একটু কেমন কেমন হয়ে গেছে । রকি অবশ্য রাসেল নামেই ডাকে, কিন্তু আমি রকির বন্ধু মানুষ একটু বাধো বাধো অবস্থা । বাধো বাধো হতে হতে অবশ্য তাদের একখানা মেয়ে হয়ে গেছে ততদিনে । পানির গ্লাসে চুমুক দিলাম। ক্ষই ভাজতে বীন বাজিয়ে ফেললাম । গল্পে ফিরি,

সে রাতে আসলে, সন্ধ্যা থেকে লোডশেডিং । কারেন্ট আসে বটে থাকে না । আগের দিন ভাল দেখছি পরের দিন পুরো উলটা । সন্ধ্যা হতে হতে পাহাড়ি এলাকা, তাও আবার বনের মাঝে, দ্রুতই অন্ধকার হয়ে আসে । মোমবাতি জালান হল যেখান যেখানে লাগে আর কি । জেনারেটর ছিল, কিন্তু অরিজিত আবার হিসেবি মানুষ, মোমবাতি দিয়ে সাশ্রয় করছিল আর কি । আর তাতেই বিপত্তি ঘটে সে রাতে । ঘরে বসে না থেকে অরিজিত আর আমি বের হলাম বাইরে অন্ধকারে হাটতে । বাংলোতে কেবল একা পুন্নু, আর গার্ড থাকলেও বিপদ আপদ ছাড়া ভেতরে যেতে মানা । বের হয়ে টিলা খুজে তার মাথাতে দুজন গ্যাট বয়ে বসে পড়লাম ।

গল্পে গল্পে রাত আটটা তো বেজে গেছিল মনে হয় । বাংলোতে ফিরে রাতের খাবার দেখি সাজান । আমি বেশ উত্তেজিত , নিজের হাতের প্রথম শিকার রান্না খাব । এতকিছুর মধ্যে পুন্নুর হাতে যে ব্যাণ্ডেজ তা খেয়াল করি নি আমরা দুজনে, তারপরেও আলোর স্বল্পতা । খেয়াল করলেই ভাল ছিল । পুন্নু সযত্নে ভাত তরকারি বেড়ে দিতে শুরু করেছে ততক্ষণে। বেশ লাগছিল । মোমবাতির আলোতে বনের মধ্যে, বন মোরগের রান্নার সুগন্ধ । খেতে খেতে হটাত ছোট একটা হাড় আমার দাতে গেল বেধে ।বের করে হাতে নিয়ে সামনের মোমবাতির আলোতে ধরলাম । ভ্রু কুচকে কি জিনিস চেনার চেষ্টা করছি, মনে হল পাশে দাড়ান পুন্নুর দম আটকেছে । অরিজিতও টেবিলের ওপাশ থেকে খাওয়া থামিয়ে দিয়েছে । আমি বোঝার চেষ্টা করতেছি, কি ধরনের হাড় এটা । পুন্নু বলে উঠল,

বাবু আমি দেখি ? বলে হাত বাড়াল । আমরা দুজনে বেশ অবাক । পুন্নুর হাতে ওটা দিলাম । ভেতরে ঢুকে পুন্নু আরেকটা মোমবাতি বাম হাতে ধরে নিয়ে আসল, তখন খেয়াল করলাম ওর বাম হাতের কড়ে আঙ্গুলের মাথেতে ব্যাণ্ডেজ । ডানহাতে রাখা আমার দেয়া হাড়েরটুকরো দেখে পুন্নু চমকে গেল । অরিজিত এগিয়ে আসল সামনে । বুঝতে না পেরে জিগেস করেই বসল কি ওটা পুন্নু? পুন্নু যে চমকিত আর হতবম্ভ বোঝা যাচ্ছিল । এবার সে কম্পিত স্বরে উত্তর দিল সাহেব আমার আঙ্গুললের মাথা !

সামনে বসা সবগুলোর যে চোখ কপালে বলে দিতে হবে না । রকি আর রাসেল না পেরে একসাথেই বলে উঠল, কি ভাবে, কেমনে । আর মেয়েগুলো মনে হল বমি করে ফেলবে ।

আমি হাসলাম । আরে সিরিয়াস কিছু না । সে রাতে পুন্নু বেচারা বনমোরগের শক্ত হাড় কাটতে গিয়ে দা দিয়ে কোপাচ্ছিল । এমিনিতে কম দেখে সে রাতে । তার উপরে মোমবাতির আলোতে ভুল করে তার বাম হাতের কড়ে আঙ্গুলের মাথা, মানে নখের অংশটুকু কাটা পড়ে । পরে তার চিল্লাচিল্লি শুনে গার্ড দুজন এসে ব্যান্ডেজ করে দিয়ে যায় বটে কিন্তু কাটা পড়া আঙ্গুলের বাকি অংশ খুজে পায় নি। আসলে কাটা অংশ পড়ে গিয়েছিল মাংশের গামলাতে । একদিক দিয়ে ভাল হয়েছিল, পুন্নুর আর কোন্দিন বাম হাতের কড়ে আঙ্গুলের নখ কাটা লাগবে না ভবিষ্যতে । আর আমি মানুষের হাড় মাংশের স্বাদ পেলাম ফোকটে ।

মেয়েদুটোর চেহারাতে এতক্ষণে রঙ ফিরছে । লাকি শুধু জিজ্ঞেস করে ফেলল, ওটা খেয়ে আপনার কিছু হয় নি ভাইয়া?

আমি অট্টহাস্য দিলাম বেশ খানিকটা, হা তা হয়েছিল বৈকি ! নখ খেয়ে পেটের বারো বেজে গিয়েছিল । আর তারপর থেকে দেখছ অবস্থা, গায়ে গতরে লাগে না কিছু !

সাইফ: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বাসের মধ্যে ঝিমাইতেছিলাম ।
হুট করে পকেটে ঝাপাঝাপি । আননোন নাম্বার । রিসিভ করে ঘুমন্ত গলাতে হেড়ে স্বরে
- হ্যালো , কে বলছেন ...
= জ্বি আমি অমকের তমকের চাচাত ভাইয়ের তালতো ভাই ।
বিগলিত হয়ে ভাল মন্দ জেনে নিলাম ।
- আমাকে হটাত স্মরণ করলেন যে ...
= জ্বি ভাই একটু সমস্যাতে পড়েছি ।
জানতাম, আকাম্মা কিছু দোস্ত বর্গ মালমুল খেয়ে আয়তক্ষেত্র হবার পর আমাকে কল করে । তাছাড়া কেউ ভুল করে মনে টনে রাখে না ।
- জ্বি জ্বি বলে ভাই ...
= আপনি ব্যাস্ত নাত... আপনাকে বিরক্ত করলাম নাত?
- আরে না নাহ কি যে বলেন, ...
স্লা যে আমার বাসঘুমের মাকে আন্টি ডাকিয়ে ছাড়ল আমি মুখে স্বীকার করব কেন !
= আসলে হইছে কি ভাই, আমার একটা কম্পিউটার আছে ... তো তাতে একটু সমস্যা হইছে... তাই ।
- ওহ ! কি সমস্যা বলেন,
= আসলে কি হইছে ভাই...
-আপনার একটা কম্পিউটার একটা থেকে দুইটা হয়ে গেছে ...
হ্যা হ্যা করে হাসল অমুকের তমুকের ভাই ।
= আপনি ভাল রসিকতা করেন দেখি ।
- করি আর কই ! চেষ্টা করি ।
= হ্যা হ্যা হ্যা... না ভাই আমার একটাই কম্পিউটার ... অনেক অনেক ঝামেলা করে কিনছি তো ... শখের জিনিস...
- ওহ তাই ! শখের জিনিসের সমসস্যা বলে কথা । কি হইছে বলবেন কি?
কথা না কাটলে নির্ঘাত সিরিজ শুনিয়ে ছাড়বে ।
= জ্বি ভাই আসলে কম্পিউটার অন হচ্ছে না ।
- এ আর এমন কি বড় সমস্যা । কিভাবে কি হল বলেন ।
= চলছিল চলছিল , হটাত করে কারেন্ট চলে গেছে তার পর থেকে আর অন হচ্ছে না ।
- আচ্ছা । দেখেন তো মাল্টিপ্লাগে লাইট জলে কিনা ?
= আসলে কি ভাই কম্পিউটার দামিতা কিনতে গিয়ে মাল্টিপ্লাগ কিনছিলাম সস্তা, লাইট জ্বলে না ।
- তাহলে টেস্টার থাকলে মাল্টিপ্লাগের সকেটে ঢুকিয়ে দেখেন আলো জ্বলে কিনা ।
= ভাই টেস্টার তো নাই...
অতিরিক্ত রাগে আমার মাথা ঠান্ডা হয়ে গেল । এরপর
- তাহলে এক কাজ করেন
= জ্বি বলেন ভাই ।
- কম্পিউটারের পেছনে যে তার মাল্টিপ্লাগে ঢুকেছে ঐটা খুলে হাতে নেন ।
ওপাশের খচর মচর শুনে বুঝলাম পাওয়ার কেবল খুলতেছে । খানিক পর
= জ্বি ভাই খুলছি এবার কি করব?
- আপনার ওজন কত ?
= জ্বি, আমার ওজন !
- আজ্ঞে আপনার ।
= এইত ৪৬ কেজি সামথিং । কেন ভাই ?
- এমনি, এক কাজ করেন আপনার বাম হাতের ছোট আঙ্গুল ঐ কেবলের তিনটা ফুটা দেখতেছেন না?
= জ্বি ভাই তিনটে ফুটা, দুইটা সাইডে একটা উপরে ।
- ঠিক । এবার যা বলি মন দিয়ে শুনেন, দুইটা ফুটাতে আপনার ঐ আঙ্গুলখানা ঢুকিয়ে দেবেন । যদি আপনি এরপরে আমার কথা শুনতে না পান তাহলে কম্পিউটার নিয়ে কাছের কোন সার্ভিসিং সেন্টারে নিয়ে যাবেন, ফোনে ফোনে তো সম্ভব হয় না ভাই । আর শুনতে পেলে ঐ তার, মানে পাওয়ার কর্ড কিম্বা মাল্টিপ্লাগ চেঞ্জ করে ফেলেন । দেখেন কম্পিউটার অন হয়ে যাব ।
- জ্বি আচ্ছা ভা...
ওপাশে হাউমাউ শুনতে পাচ্ছি বেশ । লাইনটা কেটে আবার ঝিমুতে লাগলাম ।

(বিঃ দ্রঃ কাল্পনিক গল্প মাত্র । "শয়তানী" নাম দিয়ে আরো কিছু লেখব ভাবছি । এটা হবে নিতান্তই আমার ছেলেমানুষি মনের হাস্যকার চিন্তাভাবনার কথ্যরুপ ।)
*বেশগল্প*

সাইফ: ইন্টারনেট এসে, পুরো পৃথিবী একটা গ্লোবাল ভিলেজ । এখন এই গ্লোবটাই আমার কাছে ছোট লাগে । এরপর কি? মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি?

সাইফ: মাসের শেষ, টাকা নেই, পকেট ফাকা । কলিগরে অনুরোধ করতেছি, = ভাই ৫০০ টাকা দেন তো,... - দিমু না । = ৪০০ দেন... - দিমু না । = এট লিস্ট ২০০ টাকা দেন, বিড়ি খাবারও টাকা টুকা নাই... - দিতাম না কইলাম তো । = এমনে করেন ক্যান ভাই, ১০০ টাকা তো দিবেন... - এক টেকাও দিতাম না । = ভাই, রাগেন ক্যান, টাকা দিবেন না ভালো, অন্তত আশ্বাস তো দিবেন যে সামনে দিবেন !

*অফিসরঙ্গ*
ছবি

সাইফ: ফটো পোস্ট করেছে

বর্তমানে ফেসবুকিং !

সত্য কথা (খিকখিক) বিঃ দ্রঃ রাজিবদা'র ফেসবুক থেকে কপি করা ।

*ফেসবুকিং* *ভিপিএন* *বাংলাদেশ*

সাইফ: একটি বেশব্লগ লিখেছে

রাতে পড়তে পড়তে ক্লান্ত । চা কিংবা কফি পেলে মন্দ হত না । পাশ থেকে মোবাইল তুলে নিয়ে বউরে এস এম এস পাঠালাম,
"রাত বড্ড সুন্দর । চাঁদটা থাকলে আরও বেশি সুন্দর হত। কিন্তু কপাল খারাপ, চাঁদকেও তো দিনে অন্য কোথাও ডিউটি করে লাগে ।"
এবং ডেলিভারড ।
বেজে সাড়ে বার । বেচারি ঘুমাচ্ছে । ঐ যে কপাল খারাপ । আড়চোখে বেডরুমের দিকে একবার তাকালাম । যাকগে ।
বেজে বার পঞ্চাশ ।
ডুবে আছি ফারসি সাহিত্যের অনুবাদে । খটাং ! রিডিং টেবিলের আলোতে তাকে দেখে চমকে ওঠা স্বাভাবিক ।
-বুড়ো হইছ, ঢং তো কমে না । এক কাপ কফি নিজে বানিয়ে খাবার মুরোদ হল না আজতক । যত্তসব ।
হাতে ঢাউস সাইজের মগ, কফির ধোঁয়া আবছা অন্ধকারে মিলিয়ে যাচ্ছে। হাত বাড়িয়ে এক গাল হাসি দিলাম ।
এক চুমুকে তরল আগুন টেনে নিলাম ভেতরে ।
= একদম পারফেক্ট । চোখ বুঝে আরেক চুমুক দিলাম ।
মাঝরাতে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা তন্দ্রালু প্রিয়ার চোখে চোখ রাখার সাহস কবিদের হতে পারে, আমার মত পাঠকের সে রস গ্রহণের সাহস না করা ভাল । কফির গরম উত্তাপ আর তার পাক খেয়ে ওঠা মিষ্টি ধোয়ার মাঝে বউয়ের দিকে চোরাচোখে তাকান, আমার মত ভেত বাংগালীর এইই কত !
(কাল্পনিক এবং দ্রষ্টব্যঃ বাঙ্গালীর এরকম বউ জোটে বলে জানা নেই, যে ভররাতে হেংলা স্বোয়ামির জন্য কফি বানিয়ে খাওয়াবে !)

সাইফ: রাস্তার মাঝে স্পিডব্রেকার দেওয়া হয় যেন অনিয়ন্ত্রিত ড্রাইভিং না হয় । আমাদের স্বসম্মানিত ড্রাইভারগণ স্পিডব্রেকার পাইলে নিজেকে মনে করেন জিমের নতুন ছাত্র । মানি গাড়ি ঘোড়ারও মাঝে মধ্যে শারীরিক কসরতের প্রয়োজন হয়, তা বলে ভরপেটে কসরত কি ঠিক?!

*আপনচিন্তা* *স্পিডব্রেকার*

সাইফ: টাকার লোভে তুমি যদি বান্দরকে বিয়ে কর ভাল কথা, টাকা চলে যাবে, কিন্তু বান্দর রয়ে যাবে । - কথাটি বলে গেছেন জনৈক আফ্রিকান বাচাল । (খিকখিক)

*বেশবচন*

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?


অথবা,

আজকের
গড়
এযাবত
৪,৬৮৪

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

+ আরও