অটিস্টিক শিশু

অটিস্টিকশিশু নিয়ে কি ভাবছো?
ছবি

মারিয়া সারাহ: ফটো পোস্ট করেছে

অবশ্যই তাই .....................।

(খুকখুকহাসি)

*অটিস্টিকশিশু*

আমানুল্লাহ সরকার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিংবা অটিস্টিক শিশু কেন জন্ম নেয়! এর পিছনে অনেক কারণ রয়েছে। তবে অনেকের এ বিষয়ে ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকেই সৃষ্টিকর্তা ও ভাগ্যকে দোষারপ করেন। তবে এ ধারণা এক গবেষণায় একে বারে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশু জন্ম নেওয়ার কারণ গুলো।

বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশু জন্ম নেওয়ার কারণঃ
বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশু জন্ম নেওয়ার  পেছনে মূল কারণ হিসেবে গবেষণায় দেখা গেছে অন্তঃসত্ত্বা মা যদি সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় যথেষ্ট পরিমাণ থাইরয়েড হরমোন তৈরি করতে না পারে তবে ঐ মায়ের গর্ভে অটিজমে আক্রান্ত শিশু জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আমেরিকার হাউস্টন মেথডিস্ট  নেউরলোগিকাল  ইনস্টিটিউট এর গবেষকরা কেন অটিস্টিক শিশু জন্ম নেয় সেই বিষয়ে একটি বিস্তারিত গবেষণা চালান এই গবেষণায় গবেষকদল ৪,০০০ মা এবং তাঁদের সন্তানের উপর জরিপ চালান বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে।

গবেষকরা এই গবেষণায় দেখতে পান একটি শিশু জন্মের পর কেন অটিস্টিক হয়! তারা এর মূল কারণ হিসেবে আবিষ্কার করেন শিশু মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় যদি যথেষ্ট পরিমাণ থাইরয়েড হরমোন তৈরি না হয় তবে ঐ সব শিশু অটিস্টিক হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি, এর আগে একই ধরণের আরেক গবেষণায় দেখা গিয়েছিল গর্ভবতি মায়ের গর্ভে শিশু বৃদ্ধি হওয়ার সময় তার মস্তিষ্ক গঠনের মূল পর্যায়ে ভ্রূণ উন্নয়ন ত্রুটির কারণে একটি শিশু অটিজমে আক্রান্ত হতে পারে।

গবেষকরা জানিয়েছেন এতদিন অনেকের ধারণা ছিল বংশগত কারণেই একটি শিশু অটিজমে আক্রান্ত হয় কিন্তু এই গবেষণায় দেখা যাচ্ছে আসল ঘটনা তা নয়! অটিজম একটি গর্ভকালীন ত্রুটি এবং এটি সচেতনতার মাধ্যমে দূর করা সম্ভব!

গবেষণায় আরও দেখা গেছে অটিজম আক্রান্ত শিশু জন্ম নেয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি বেড়ে যায় যদি শিশুর জন্মের সময় মায়ের T4 যাকে thyroxine  বলা হয় এর উৎপাদন কম হয়। সুতরাং মায়ের গর্ভে থাইরয়েড হরমোন সঠিক উৎপাদন নিশ্চিত করতেT3,T4অত্যন্ত গুরুত্ব পর্ণ এই দুইটি যদি নিশ্চিত করা যায় তবে শিশু অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

Erasmus Medical সেন্টারের এর ডাক্তাররা ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চালানো একটি জরিপে দেখেন প্রতি ৪০৩৯ জন জনগণের মাঝে ৮০ জন শিশু অটিজমে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই জরিপে আরও দেখা যায় ১৫৯ জন মা তাঁদের শরীরে T4 এর স্বাভাবিক জটিলতায় ভুগছেন এবং ১৩৬ জন মা তাঁদের শরীরে মধ্যম আকারের T4 জটিলতায় ভুগছেন।যাই হোক সত্যি যদি এই গবেষণা অটিস্টিক শিশু জন্ম নেয়ার বিষয়ে সঠিক ধারণা দিয়ে থাকতে পারে এবং সেইঅনুযায়ী বিজ্ঞানীরা আরও গবেষণা চালান কি করে এই ধরণের শিশু জন্ম নেয়ার সম্ভাবনা কমানো যাবে তবে তা অত্যন্ত সুখবর বলেই ধারণা করা যায়।
বিঃ দ্রঃ গবেষণা সূত্র সংগৃহীত
*অটিস্টিকশিশু* *অটিজম*

আমানুল্লাহ সরকার: একটি বেশব্লগ লিখেছে


সাধারণত অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের ৪টি পর্যায়ে ভাগ করা হয়। বয়সের সাথে নয় বরং প্রতিটি শিশুর সামর্থের উপর তার পর্যায় নির্ভর করে। আজকে আমরা অটিস্টিক আক্রান্ত শিশুদের বিভিন্ন পর্যায় ও প্রশিক্ষণ প্রদানের উপায় সমূহ জেনে নেব।

পর্যায়গুলো সংক্ষেপে নিম্নরূপঃ

প্রথম পর্যায়ঃ

আত্মকেন্দ্রিক স্তরঃ এই পর্যায়ে শিশুরা আত্মকেন্দ্রিক থেকে এবং আপন মনে একাকী খেলতে পছন্দ করে। এরা সাধারণত কোন আদেশ-নিষেধ অথবা নির্দেশ বুঝতে পারে না ও পালন করে না।

দ্বিতীয় পর্যায়ঃ
অনুরোধকারী স্তরঃ এই পর্যায়ের শিশুরা শারীরিক অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে খুব কাছের লোকদের সাথে অল্প সময়ের জন্য যোগাযোগ স্থাপন করে এবং তাদের চাহিদা পূরণ করার জন্য অনুরোধ করে।

তৃতীয় পর্যায়ঃ
যোগাযোগ শুরুকারী স্তরঃ এই পর্যায়ের শিশুরা কিছু প্রচলিত শব্দ বুঝতে পারে এবং অতি পরিচিত মানুষের সাথে অল্প সময়ের জন্য যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। তারা ছোটখাট আদেশ-নির্দেশ পালন করতে পারে।

চতুর্থ পর্যায়ঃ
সহযোগী স্তরঃ এই পর্যায়ের শিশুরা পরিচিত সমবয়সী শিশুদের সাথে অল্প সময়ের জন্য খেলা করে। ভাষায় দক্ষতা একটু ভালো এবং অন্যদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়।

অটিস্টিক শিশুদের প্রশিক্ষণ প্রদানের উপায়ঃ
উন্নত এবং উন্নয়নশীল অনেক দেশে অটিস্টিক শিশুদের প্রশিক্ষণের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা আছে। বর্তমানে আমাদের দেশেও বেশকিছু প্রতিষ্ঠান এই ধরনের শিশুদের নিয়ে কাজ করছে। তবে মানসম্পন্ন তেমন কোন প্রতিষ্ঠান এখনও পর্যন্ত গড়ে উঠেনি একথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। পৃথিবীর অনেক দেশে এই শিশুদের জন্য পরিচালিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো সাধারণত এই ধরনের শিশুদের বাবা-মায়েরা পরিচালনা করে থাকেন। কাজেই এই ধরনের শিশুদের সময়ক্ষেপণ না করে সনাক্ত হবার সাথে সাথে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো অত্যন্ত জরুরী। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর উচিত কত দ্রুত শিশুটিকে এক পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে উন্নত করা যায় সেজন্য সচেষ্ট হওয়া। এছাড়া বাবা-মা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং পরিচর্যাকারীদের উচিত হবে শিশুর সাথে ভাল আচরণ করতে হবে, হাসি খুশি রাখতে হবে এবং তার মানসিকতার পরিবর্তনের জন্য নিয়মিত খেলাধুলা করতে হবে। (সূত্রঃ নিজ ও ইন্টারনেট)
*অটিস্টিকশিশু* *অটিজম* *শিশুরযত্ন*

বেশতো Buzz: বন্ধুরা আবারো নতুন কিছু স্টারড ওয়ার্ড নিয়ে হাজির হলাম। চলুন তাহলে লেখা শুরু করি *জন্মনিয়ন্ত্রণ* *নারীস্বাস্থ্য* *পিরিয়ড* *রক্তদান* *জরায়ুসমস্যা* *জরায়ুক্যান্সার* *বয়সন্ধি* *প্রেগন্যান্সি* *ডায়াবেটিকস* *প্রতারণা* *অটিস্টিকশিশু* ইত্যাদি স্টারড ওয়ার্ড দিয়ে। আপনারা এগুলো দিয়ে চটপোস্ট ছাড়াও বেশব্লগ, খবর, টিপস, ফটো দিতে পারেন।

*জন্মনিয়ন্ত্রণ* *নারীস্বাস্থ্য* *পিরিয়ড* *রক্তদান* *জরায়ুসমস্যা* *জরায়ুক্যান্সার* *বয়সন্ধি* *প্রেগন্যান্সি* *ডায়াবেটিকস* *প্রতারণা* *অটিস্টিকশিশু*

আমানুল্লাহ সরকার: একটি বেশব্লগ লিখেছে


আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ হোক সে প্রতিবন্ধী অথবা অটিস্টিক। যত্ন ও অনুপ্রেরণা পেলে অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী শিশুরাও একজন সুস্থ স্বাভাবিক শিশুর মত ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের কান্ডারী হয়ে বেড়ে উঠতে পারবে। আসুন আজকে আমরা অটিস্টিক শিশুদের বৈশিষ্ট ও আচার আচরণ সম্পর্কৃত তথ্য জেনে নিই।

অটিস্টিকদের বৈশিষ্টঃ
অতি চাঞ্চল্য, জেদী ও আক্রমণাত্মক আচরণ, অহেতুক ভয়ভীতি, খিচুনী ইত্যাদি বৈশিষ্ট একজন অটিস্টিকের থাকতে পারে। অটিজমে আক্রান্তদের আচার-ব্যবহার এবং সংবেদন পদ্ধতি অন্যদের চেয়ে অনেক আলাদা হয় এবং আক্রান্তদের মধ্যেও থাকে অনেক পার্থক্য। শব্দ, আলো, স্পর্শ ইত্যাদির প্রতি অটিস্টিকদের আচরণ সাধারণদের থেকে বেশ পৃথক ও অদ্ভুত। শারীরিক দিক দিয়ে অটিস্টিক সাথে সাধারণদের কোন পার্থক্য করা যায় না। অবশ্য মাঝে মাঝে শারীরিক বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সাথে অটিজম একসাথে আসে। অটিস্টিকদের মস্তিষ্কের আকৃতি সাধারণের চেয়ে বড় হয়ে থাকে, তবে এর প্রভাব সম্বন্ধে এখনও সঠিক কিছু জানা যায়নি।

অটিজম আক্রান্ত শিশুঃ
* অন্যদের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে না, অর্থাৎ কারোসাথে বন্ধুত্ব হয় না, একত্রে খেলে না, চুপচাপ থাকে, চোখে চোখ রাখে না, জড় বস্তুকে মানুষের মত মনে করে, ভালোবাসা বোঝে না
* বার বার একই কাজ করতে থাকে।
* যে কোন একটি খেলনা বা জিনিসের প্রতি প্রবল আকর্ষন থাকে এবং সেটি সব সময় সাথে রাখে।
* অনেক সময় স্বাভাবিক শব্দেই উত্তেজিত হয়ে যায়।
* নিজেকে নিয়েই সারাদিন ব্যস্ত থাকে, অন্যদের ব্যাপারে কোনোই আগ্রহ থাকে না, ইত্যাদি।

চিকিৎসাঃ

অটিজমে আক্রান্ত শিশুর প্রথম চিকিৎসাই হলো তার রোগ শনাক্ত করা। কোনো রকম ওষুধ দিয়ে অটিজমের শিশুকে সারিয়ে তোলা সম্ভব নয়। অটিজম যে ধরনের সমস্যা, সে ধরনের সমস্যা সমাধানের কোনো রাতারাতি চিকিৎসাপদ্ধতি নেই, রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার পরিকল্পনা। অটিস্টিক শিশুর বিশেষ শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। এই শিক্ষা ছাড়া তার চিকিৎসার আর কোনো বিকল্প নেই। এই শিক্ষার মাধ্যমে তাকে স্বাধীনভাবে চলার উপযোগী করা সম্ভব। তাই অটিজম আক্রান্ত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ করে দেয়া গেলে দেখা যাবে তারা সমাজের জন্য দায় হবে না বরং সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। কারন অটিজম শিশুদের প্রতিভা, তারা অনেক প্রতিভাবান হয়ে থাকে। তাদের প্রতিভা কাজে লাগাতে পারলে দেশে ও মানুষের অনেক কল্যান হবে। তাদের প্রতিভা কাজে লাগানোর জন্য অটিস্টিক শিশুদের বিশেষ ধরণের শিক্ষার একান্ত প্রয়োজন । আর এ কারণে অটিজমে আক্রান্ত শিশুকে বিশেষ প্রয়োজন সম্পন্ন শিশু বা বুদ্ধিবৃত্তিক চাহিদাসম্পন্ন বলা হয়। এ সব শিশুকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে তাদের অনেকেই স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারে।
*অটিস্টিকশিশু* *অটিজম* *শিশুরযত্ন*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★