অণুগল্প

অণুগল্প নিয়ে কি ভাবছো?

জোবায়ের রহমান: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ইংরেজী এক শ শব্দে লিখিত গল্প তিনটি প্রকাশিত হয়েছে বিখ্যাত 'Reader’s digest' ম্যাগাজিনের অক্টোবর 2014 সংখ্যায়। মূল লেখায় আলাদা কোনো শিরোনাম নেই। কেবলই এক শ শব্দের গল্প।অনুবাদের ক্ষেত্রে অবশ্য শব্দ সংখ্যা ঠিক রাখা হয়নি। ইংরেজী অনুগল্প যতটুকু দেখা যায়, এতে কোনো একটা বিষয়ে আবছা ইঙ্গিত করা থাকে। বাকিটুকু পাঠককে ভেবে বের করতে হয়। এখানে তিনটি গল্প দেয়া হল।

অনুবাদঃ হামিদ


গল্প – ১

মূল লেখকঃ Tim Key 

দশ জন নারী প্রতি বৃহ:স্পতিবার সকালে নিজেদের কারো না কারো বাড়িতে কফি খেতে খেতে আড্ডা দিতেন। তাদের শহরটির নাম ছিল হানটিংডন। শহরের নামানুসারে হানটিংডনের নারী হিসেবে পরিচিত হয়।
একদিন ডায়ানা নামের 75 কেজির নারীটি পরামর্শ্ দিল, “আগামি সপ্তাহে আমরা কি তুরস্কের কোনো সমুদ্রতীরে মিলিত হতে পারি না।”
সবার মত সান্দ্রাও ভাবল ফালতু পেচাল।“আগামি সপ্তাহে আমার বাসায় আড্ডা হওয়ার কথা” – বলল সে।
ডায়ানা ভ্রূ কুঁচকে তাকাল তার দিকে।
পরের সপ্তাহে দেখা গেল তিন জন নারী ক্লুডেনিজএর কাছাকাছি একটা সৈকতে বসে আপেল চায়ে চুমুক দিচ্ছে, পাঁচজন সান্দ্রা’র
বাসায় গেল কফি খেয়ে আড্ডা দিতে আর দু’জন সকালবেলা কফিই খেল না।


গল্প  ২

মূল লেখকঃ Brian Staveley

মেয়েটির ইচ্ছে ছিল ট্রেনটিকে কেবল আমহার্স্ট পর্য্ন্তই নিয়ে যাবে। কিন্তু গাড়ির ঝমাঝম শব্দ আর জানালায় ক্রমশ বদলাতে থাকা দৃশ্যাবলী মেয়েটিকে সম্মোহিত করে ফেলল। গাড়িতেই বসে থাকল সে। দিন যায়। গ্রীষ্মের সবুজ পাতা শুকনো মচমচে হয়ে সোনালী রং ধরেছে। কিছু রাত যায় আকা্শ ভরা তারা। কিছু রাত কেবলই হিমশীতল।চলার পথে যখনই সে কোনো শহর অতিক্রম করত প্রতিটি শহর সম্পর্কেই বলত, “একদম না, একদম মনের মত না।”

ছয় ডলারে বিয়ার কিনতে গিয়ে পকেট ইতোমধ্যে খালি। পরিত্যক্ত বাদামী ব্যাগে হাতরে ফিরে ছাতাপড়া চিপস। মাঝে মাঝে আমহার্স্ট এর ভাবনাও মাথায় আসে তবে নাম মনে নেই। এক পর্যায়ে কোনো না কোনোভাবে ট্রেনটি একটি অজানা অচেনা লাইনের উপর দাঁড়াল। পেছনে যাবার উপায় নেই। সামনে কেবলই সামনের দিকে টেনে নেওয়া।


গল্প – ৩

মূল লেখকঃ Gemma Malley

বলিরেখাটি নতুন। আয়নায় যখন নারীটি নিজেকে কিছুটা কঠিন চোখে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছিল তখনই এটা চোখে পড়ে যা অসুখি হওয়ার নতুন আরেকটি অনুষঙ্গ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এখন সময়টা কেবল বিগত দিনের কথা মনে করে দুঃখ করা। সময়ের সাথে সাথে ক্ষয়ে যাচ্ছে যৌবন। বলিরেখাটির মধ্যে সে দেখতে পেল রৌদ্র-তাপে বাইরে কাটানো তার ছুটির দিনগুলো আর অনেক রাত্রি পর্য্ন্ত জেগে থাকা পার্টিগুলো। সে দেখতে পেল শিশুসুলভ ঘুমহারা রাতগুলো, দুশ্চিন্তা, অসুস্ততা, বাড়ির কাজ এবং পরীক্ষা। আরও দেখতে পেল তার কর্ম্জীবন – নানা সমস্যার সমাধান করা, সবার কথা শুনা, নেতৃত্ব দেওয়া এবং পৃষ্ঠ পোষকতা করার দিনগুলো। সে অনুভব করে এই বলিরেখা তার কর্ম্জীবনেরই প্রতিচ্ছবি, তার কঠোর পরিশ্রম আর নিষ্ঠারপ্র তীক, তার সারা জীবনের সত্যায়নকারী।
“তাহলে এটাকে মুছে ফেলার জন্য তৈরী আপনি?”
নারীটি শৈল্যচিকিৎসকের কথায় তার দিকে তাকাল, তার হাতে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ।
সে আবার বলিরেখাটির দিকে তাকাল এবং মাথা নেড়ে দৃঢ়ভাবে বলল, “অবশ্যই! লাগবেন বাজি?”
*অণুগল্প* *অণুবাদ* *ছোটগল্প* *ক্ষুদেগল্প*

জোবায়ের রহমান: একটি বেশব্লগ লিখেছে

হৃদয়ের গোপন কান্না

মস্তিস্ক হৃদয়কে সাহায্য করার চেষ্টা করে ।
হৃদয়ের ভবিষ্যত সম্পর্কে পুনরায় মস্তিস্ক বলে, ‘তুমি যাকে ভালোবাসো, তাকে হারাবে । একসময় সবাই চলে যাবে, এমনকি একদিন এই তামাম দুনিয়াটাও বিলীন হয়ে যাবে ।’
মস্তিস্কের মূল্যবাণ কথা শোনার পর হৃদয়ের মন ভালো হয়ে যায় ।
কিন্তু মস্তিস্কের কথাগুলো হৃদয়ের কানের ভেতর বেশিক্ষণ আটকে থাকেনি ।
এ রকম পরিস্থিতি হৃদয়ের কাছে আনকোরা, সম্পূর্ণ অপরিচিত ।
‘ওগুলো আমি ফিরে পেতে চাই,’ আকুলভাবে বললো হৃদয় ।
হৃদয়ের যা কিছু আছে, তার পুরোটাই মস্তিস্ক ।
‘সাহায্য করো মস্তিস্ক, সাহায্য করো হৃদয় ।’

[গল্পসূত্রঃ ‘ভেরাইটিজ অফ ডিস্টার্বেন্স’ গল্প সংকলনের ‘হার্ট উ্যঈপস্’ গল্পের অনুবাদ ।]


কোনটা চমকপ্রদ ঘটনা ছিল

সত্যি ঘটনা হলো যে, ওরা দু’জন প্রেমের গভীর সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে, যা নিঃসন্দেহে চমকপ্রদ । কেনোনা, নেই-সম্পর্কের চেয়ে যে কোনো ধরনের সম্পর্কই চমকপ্রদ, যেমন এই গল্পের দু’জন মানুষ একজন মানুষের চেয়ে চমকপ্রদ এবং জটিল আর কন্টকাকীর্ণ প্রেম সাদামাটা প্রেমের চেয়ে বেশি চমকপ্রদ । উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে কোনো রেস্তোঁরায় রাতের খাবার খেয়ে যখন একজন উচ্ছ্বল ও সুখী যুবতী তার প্রেমিকের হাত ধরে রাস্তা দিয়ে উল্লাসে হেঁটে যায় এবং যখন তারা ওপরের দিকে উঠতে থাকে, তখন যুবতী তার হাতের মুঠোয় উপভোগ করে যুবকের দীর্ঘ শরীরের মাথার কোমল চুলের আলতো পরশ । সেই সময় আগামী গ্রীষ্মের ছুটির পরিকল্পনা নিয়ে দু’জনে আলাপ করে, যেনো তারা তাদের যাত্রা সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত । এসব মুহূর্তগুলো তেমন চমকপ্রদ নয়, যেমন যখন তারা অন্তরঙ্গ এবং নির্লজ্জভাবে বসে একটা ট্যাক্সিতে চেপে ঘরে ফিরে কিংবা যখন চাবি হারিয়ে ফেলে, যুবতীটি যা পরে করেছে । অবশ্যই চাবি হারানোর বিষয়টি ট্যাক্সি করে ঘরে ফেরার ঘটনার চেয়ে বেশি চমকপ্রদ । যদিও যুবতীটি জানে না চাবি ঘরে ফেলে এসেছে, নাকি ট্যাক্সিতে হারিয়েছে, তবুও হারানো চাবি ঘরে কিংবা ট্যাক্সিতে আছে, সেটা জানার চেয়ে কিছু হারিয়ে যাওয়ার পর পুনরায় খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি বেশি চমকপ্রদ । তবে এটা সত্যি যে, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে যুবতীটি আসলে জানে না যুবকের সঙ্গে সে কোথায় ছিল, এমনকি যুবকটি তার কাছে কি আশা করেছিল এবং আগামীতে তাদের জীবনে কি ঘটনা ঘটবে ।

[গল্পসূত্রঃ ‘‘দ্য কালেক্টেড স্টোরিজ্ অফ লিডিয়া ডেভিস’ গল্প সংকলনের ‘হোয়াট ওয়াজ ইন্টারেস্টিং’ গল্পের অনুবাদ।]


আমার বাল্যবন্ধু

মাথায় উলের টুপি পড়া কঠোর দৃষ্টিতে তাকিয়ে কে এই বৃদ্ধ লোকটি হেঁটে যাচ্ছ ?
কিন্তু যখন আমি তাকে ডাকলাম, তখন বৃদ্ধ লোকটি ঘুরে দাঁড়ায় । হয় প্রথমে সে আমাকে চিনতে পারেনি, অথবা ভেবেছে শীতের ভারী কোট গায়ে বৃদ্ধা তার দিকে তাকিয়ে বোকার মতো হাসছে ।

[গল্পসূত্রঃ ‘দ্য প্যারিস রিভিউ’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ‘মাই চাইল্ডহুড ফ্রেন্ড’ গল্পের অনুবাদ ।]


মূলঃ লিডিয়া ডেভিস
অনুবাদঃ ফজল হাসান



লেখক পরিচিতি: সমকালীন আমেরিকান বিশিষ্ট ছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক এবং অনুবাদক লিডিয়া ডেভিস ১৯৪৭ সালে ম্যাসাচুসেটস্ রাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা একজন ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ও সমালোচক এবং মা একজন শিক্ষক ও ছোটগল্পকার। বিষয় এবং আঙ্গিকের দিক থেকে অসাধারণ এবং ব্যঙ্গকৌতুক গল্পের জন্য লিডিয়া ডেভিস সাহিত্য মহলে বিশেষভাবে পরিচিত। তার একমাত্র উপন্যাস ‘দি এন্ড অফ দি স্টোরি’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে। এ পর্যন্ত তার সাতটি গল্প সংকলন প্রকাশিত হয়েছে । এছাড়া তিনি বেশ কিছু ফরাসি সাহিত্যও অনুবাদ করেছেন। ফরাসি থেকে তার অনূদিত মার্শেল প্রাউস্টের ‘সোয়ানস্ ওয়ে’ এবং গুস্তাভ ফ্লবেয়ারের ‘মাদাম বোভারি’ ইংরেজি সাহিত্যের পাঠকের কাছে নন্দিত হয়েছে। সাহিত্য কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ‘ম্যান বুকার আন্তর্জাতিক পুরস্কার, ২০১৩’ লাভ করেন। এছাড়া ১৯৯৯ সালে তিনি ফরাসী সরকার কর্তৃক ‘শ্যাভেলিয়্যার অফ দ্য আর্টস্ এন্ড লেটার্স’-এর সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০৩ সালে ‘ম্যাকআর্থার ফেলোশিপ’ অর্জন করেন। বর্তমানে লিডিয়া ডেভিস নিউইয়র্কের আলবানি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সৃজনশীল লেখার’ অধ্যাপিকা। 

*অণুগল্প* *অণুবাদ* *ছোটগল্প* *ক্ষুদেগল্প*

জোবায়ের রহমান: একটি বেশব্লগ লিখেছে

মা

মেয়েটি একটি গল্প লিখেছে।
‘কিন্তু ব্যাপারটা কত বেশি ভালো হতো, তুমি যদি একটা উপন্যাস লিখতে।’ মেয়েটির মা বললো।
মেয়েটি পুতুলের জন্য একটা ঘর বানায়।
‘কিন্তু ব্যাপারটা কত বেশি ভালো হতো, তুমি যদি একটা আসল ঘর বানাতে।’ মেয়েটির মায়ের বক্তব্য।
মেয়েটি তার বাবার জন্য একটা ছোট্ট বালিশ তৈরি করে।
‘কিন্তু একটা লেপ বানালে কি ভালো হতো না?’ মেয়েটির মা বল্লেন।
মেয়েটি বাগানে ছোট্ট একটা গর্ত খোঁড়ে।
‘কিন্তু ব্যাপারটা কত বেশি ভালো হতো, তুমি যদি একটা বড় গর্ত খুঁড়তে।’ মেয়েটির মায়ের অভিমত।
সবশেষে মেয়েটি বাগানে একটা বড় গর্ত করে এবং ওটার ভেতরে ঘুমোতে গেল।
মেয়েটির মা বলেন-‘কিন্তু ব্যাপারটা কতটুকু ভালো হয়, তুমি যদি ওখানে চিরদিনের জন্য ঘুমাও।’

[গল্পসূত্রঃ ‘ব্রেক ইট ডাউন’ গল্প সংকলনের ‘দ্য মাদার’ গল্পের অনুবাদ।]


ভয়

প্রায় প্রতিদিন সাতসকালে আমাদের এলাকার একজন নির্দিষ্ট মহিলা ঘর থেকে দৌঁড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। তখন তার মুখ ফ্যাকাসে দেখায় এবং পরনের ওভারকোট বাতাসে উড়তে থাকে। এবং সেই সময় সে চিৎকার করে বলে, ‘খুব জরুরি বিষয়, খুবই জরুরি।’

মহিলার চিৎকার শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মাঝ থেকে এক মেয়ে তার কাছে ছুটে যায়। ভয় থেকে পুরোপুরি আশ্বস্ত হওয়া পর্য্যন্ত মেয়েটি মহিলাকে জড়িয়ে ধরে রাখে। আমরা জানি, মহিলা অভিনয় করে। তার এমন কিছুই ঘটে না। কিন্তু সহজেই আমরা তার ভণিতা বুঝতে পারি। কেননা আমাদের মাঝে কেউ না-কেউ নিদেন হলেও একবার মহিলার কাছে ছুটে গেছে। চুপ করে থাকার জন্য প্রতিবারের একই ঘটনায় আমাদের সবার শক্তি নিঃশেষ হয়েছে, এমনকি আমাদের পরিবার এবং বন্ধু-বান্ধবদেরও।

[গল্পসূত্রঃ ‘‘দ্য কালেক্টেড স্টোরিজ্ অফ লিডিয়া ডেভিস’ গল্প সংকলনের ‘ফিয়্যার’ গল্পের অনুবাদ।]


যুবক এবং গরিব

বাতির আলোয় ঘুমন্ত শিশুর পাশে আমি আমার ডেস্কে বসে কাজ করতে পছন্দ করি। মনে হয় আমি আবার যুবক এবং গরিব হয়ে গিয়েছি। 
কিন্তু এখনো আমি যুবক এবং গরিব।

[গল্পসূত্রঃ ‘দ্য কালেক্টেড স্টোরিজ্ অফ লিডিয়া ডেভিস’ গল্প সংকলনের ‘ইয়ং অ্যান্ড পুওর’ গল্পের অনুবাদ ।]



লেখক পরিচিতি: সমকালীন আমেরিকান বিশিষ্ট ছোটগল্পকার, উপন্যাসিক এবং অনুবাদক লিডিয়া ডেভিস ১৯৪৭ সালে ম্যাসাচুয়েটস্ রাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা একজন ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ও সমালোচক এবং মা একজন শিক্ষক ও ছোটগল্পকার। বিষয় এবং আঙ্গিকের দিক থেকে অসাধারণ এবং ব্যঙ্গকৌতুক গল্পের জন্য লিডিয়া ডেভিস সাহিত্য মহলে বিশেষভাবে পরিচিত। তার একমাত্র উপন্যাস ‘দি এন্ড অফ দি স্টোরি’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে। এ পর্যন্ত তার সাতটি গল্প সংকলন প্রকাশিত হয়েছে । এছাড়া তিনি বেশ কিছু ফরাসি সাহিত্যও অনুবাদ করেছেন। ফরাসি থেকে তার অনূদিত মার্শেল প্রাউস্টের ‘সোয়ানস্ ওয়ে’ এবং গুস্তাভ ফ্লবেয়ারের ‘মাদাম বোভারি’ ইংরেজি সাহিত্যের পাঠকের কাছে নন্দিত হয়েছে। সাহিত্য কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ‘ম্যান বুকার আন্তর্জাতিক পুরস্কার, ২০১৩’ লাভ করেন। এছাড়া ১৯৯৯ সালে তিনি ফরাসী সরকার কর্তৃক ‘শ্যাভেলিয়্যার অফ দ্য আর্টস্ এন্ড লেটার্স’-এর সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০৩ সালে ‘ম্যাকআর্থার ফেলোশিপ’ অর্জন করেন। বর্তমানে লিডিয়া ডেভিস নিউইয়র্কের আলবানি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সৃজনশীল লেখার’ অধ্যাপিকা। 
*অণুগল্প* *অণুবাদ* *ছোটগল্প* *ক্ষুদেগল্প*

অর্ঘ্য কাব্যিক শূন্য: একটি বেশব্লগ লিখেছে

মেয়েটিকে প্রায়ই দেখতাম... 

নীলিমা আমাদের বাসার মোড় থেকে বেরিয়েই সামনের বিল্ডিংয়ে থাকতো। প্রথম যেদিন তাকে 
দেখেছিলাম, সেদিনটার কথা আজও মনে পড়ে। আমি তখন এলাকায় নতুন এসেছি। বর্ষার দিন। 
ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। রাস্তায় জায়গায় জায়গায় পানি জমে আছে। ছেলেরা এর মাঝেই ক্রিকেট 
খেলছে। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি। একটা মেয়ে সামনে দিয়ে যাচ্ছে। বাসায় ঢুকতে যাবে ঠিক 
এমন সময়ে পাশের কাদাপানিতে পড়লো বলটা। দেখলাম, মেয়েটার ডান পায়ের পুরো একটা পাশ কাদায় মেখে লেপটে গিয়েছে। মেয়েটা পিছন ফিরে তাকিয়েও দেখলো না কে বলটা মেরেছে ! এই মেয়েটার জায়গায় যদি অত্যাধিক সুন্দরী বা এর চেয়ে কম সুন্দরী বা যে কোনো মেয়ে থাকতো, তবে 
ব্যাটসম্যানের গালে পাঁচ আঙুলের দাগ বসতে দু'সেকেন্ড সময় লাগতো না !

ধীরে ধীরে এই ছেলেগুলোর সাথে আমিও খেলাধূলা শুরু করলাম। কেন জানি না, রাস্তায় যখনই 
মেয়েটা আমাদের পাশ দিয়ে যেত, বলটা যেন মেয়েটার পায়েই লাগতো। কখনো আস্তে, কখনো 
জোরে। আমরা যে ইচ্ছে করে মারতাম, তা কিন্তু না। কখনো স্যরি বলার সময়টুকুও দেয়নি। 
লদি পায়ে বাসায় চলে গিয়েছে !

পরে জানতে পারি মেয়েটার নাম নীলিমা। খুব নম্র ও ভদ্র একটি মেয়ে। জাস্ট এটুকুই। অন্যরাও
এর চেয়ে বেশী কিছু জানে না !

এক বন্ধু হঠাৎ খুব পছন্দ করে ফেলে নীলিমাকে। মেয়েটার পিছনে অনেক ঘুরেও শেষ পর্যন্ত কিছুই
করে উঠতে পারেনি। ভালোই জ্বালাতন করেছে মেয়েটাকে। কিন্তু মুখ ফুটে একদিনও বলেনি, 
" আর ডিস্টার্ব করবেন না আমাকে। " ও যখন প্রথম কথা বলতে যায় নীলিমার সাথে, নীলিমার 
প্রথম কথা ছিল, " দেখুন, আমি খুব টায়ার্ড। বাসায় যাবো। " 

পরে নীলিমারা বাসা পাল্টে চলে যায় পাশের এলাকাতে। একটা সময় জানতে পারি, ওরা তিন বোন।
নীলিমা মেঝো। ফ্যামিলি খুব একটা সচ্ছল না। বড় বোনকে কষ্ট করে বিয়ে দিয়েছে আর ছোট জন
স্কুলে পড়ে। তিন তিনটি মেয়ে বলে বাবা কিছুটা আক্ষেপে ভোগেন। তার একারই সংসার টানতে হচ্ছে
বলে। পরিবারে কেউ নেই হাল ধরার। কেমন একটা মায়া দানা বাঁধতে লাগলো মেয়েটার প্রতি।

যখনই মেয়েটাকে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে দেখেছি, মনে হয়েছে, যেন খুব ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
হনহন করে হেঁটে যায়। রাগ-আহ্লাদ বলে যে পৃথিবীতে কিছু একটা আছে, সেটা মনে হয় জানে না
মেয়েটি। শুনেছি, মেয়েটির নাকি রিলেশন ছিল। ওটাই প্রথম, ওটাই শেষ। বেশীদিন টিকেনি প্রেমটা।

মাঝে মাঝে দেখা হয় বাসস্ট্যান্ডে। ক্লান্ত শরীরে বাস থেকে নামে। তারপর খুব ব্যস্ততার সাথে হাঁটা
ধরে। পুরো পরিবারের দায়িত্ব নেয়ার অবিরাম চেষ্টা করে যাচ্ছে সে। তাকে দেখলে সম্মানে মাথাটা অজান্তেই নুয়ে পড়ে মাঝে মাঝে।

কারও কারও জন্য জীবন কতোটাই না কঠিন ! আবার কারও কারও কাছে উপভোগের আরেক নাম
জীবন ! মাথার উপরে ' বাবা ' বিশাল একটা ছাদ আমায় আগলে রাখে সবসময়। তাই হয়তো বা 
বাস্তবতা নামক চাবুকের সুতীব্র কষাঘাত কখনো এতোটুকু আঁচড় কাটতে পারেনি নিয়মিত ছন্দের 
জীবনে। নিশ্চিন্ত নির্ভরতায় সুনির্দিষ্ট ছন্দে কেটে যাচ্ছে প্রতিটি মুহূর্ত। মোড়ের দোকানটায় বসে বসে 
বন্ধুরা যখন সুখটানে বিকেলটা ওড়াতে থাকে পরম শান্তিতে, আড্ডার ফাঁকে ধোঁয়া ওড়া চায়ে চুমুক
দিতে দিতে আমার চোখ চলে যায় মেয়েটির দিকে, বাজার হাতে ক্লান্তিমাখা দু'টি চোখ... 
যে চোখে জীবনের বর্ণিল অর্থ খুঁজে বের করার ইচ্ছে একদমই নেই ! ! 

একটা প্রার্থনা মন থেকে অজান্তেই চলে আসে মেয়েটার জন্য... মেয়েটা যেন তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য
একরাশ নীল চুড়ি হাতে ছুঁয়ে যেতে পারে... জীবন তার সকল পূর্ণতা দিয়ে ভরিয়ে দিক মেয়েটিকে...     
*অণুগল্প*

জোবায়ের রহমান: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ইনুইট উপকথা 

দাঁড়কাক আর পেঁচা দারুণ বন্ধু। একদিন কাক পেঁচার জন্যে একটা পোশাক বানালো, তার সারা গায়ে সাদা কালো ফুটকি। বদলে পেল একজোড়া জুতো।

এরপর একদিন পেঁচা কাকের জন্য একটা সাদা জামা বানাতে শুরু করল। কিন্তু জামাটা কাককে পরাতে গেলেই সে বড্ড লাফাত। এমনই একদিন কাককে জামাটা পরিয়ে দেখা হচ্চিল ফিট করেছে কিনা। যথারীতি কাক লাফাচ্ছিল। কাকের এই তিড়িং বিড়িং পেঁচার মোটেই পছন্দ ছিলনা। তাই সে চোখ পাকিয়ে বলল, "খবরদার! আমি কিন্তু লম্ফ হাতে উড়ছি। লাফাস না!"

কিন্তু কে শোনে কার কথা। কাক লাফিয়েই চলল। তখন রেগেমেগে পেঁচা তার সেই কুপির সমস্ত কালিঝুলি ঢেলে দিল কাকের জামায়। কাক খুউব কাঁদল। কিন্তু তখন যা হবার হয়ে গেছে। সেই থেকে কাক এমন কালো।
*অনুবাদ* *বিদেশীগল্প* *অণুগল্প* *ছোটগল্প* *উপকথা* *গল্প*

জোবায়ের রহমান: একটি বেশব্লগ লিখেছে

জাপানের আইনো সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত উপকথা

ঈশ্বর যখন পৃথিবী সৃষ্টি করলেন, তখন সবাইকে দিলেন জলে-স্থলে-আকাশে বিচরণের সমান ক্ষমতা। যে কেউ যেকোনো রূপ ধরতে পারত। সবাই মিলেমিশে বেশ শান্তিতেই ছিলো। সমস্ত জন্তুজানোয়ারের মধ্যে মানুষেরাই চটপট এগিয়ে যাচ্ছিলো উন্নতির সিঁড়ি বেয়ে। তারা দারুন সব খাবার বানাতে শিখে গেছে ততদিনে, তাদের রসদও প্রচুর। একবার হল কি, দুই ধূর্ত শেয়াল মিলে ফন্দি আঁটল, কি করে ফাঁকি দিয়ে মানুষের খাবার চুরি করা যায়। দুজন মিলে গাছের লতাপাতা দিয়ে কিছু গয়নাগাঁটি বানিয়ে, রবারের ভুয়ো কেক তৈরী করে, মানুষের রূপ ধরে রওনা দিলো। উদ্দেশ্য, পথে প্রথমেই যে গ্রাম পড়বে, সেখানকার লোকদের ঠকানো।

এখন, ঐ পাজী শেয়ালদের ওপর লুকিয়ে নজর রেখেছিলেন খোদ ঈশ্বর। তিনি করলেন কি, নিজে এক বৃদ্ধ বণিকের রূপ ধরে শেয়ালদের চলার পথে একটা নকল গ্রাম বানিয়ে অপেক্ষায় রইলেন। আসেপাশের যত পাখপাখালি, তাদের জড়ো করে সব্বাইকে মানুষের রূপ দিলেন তারপর ছদ্মবেশী সেই বণিক। রাতারাতি নকল গ্রাম লোকসমাগমে মুখর হল।

যথাসময় শেয়ালদ্বয় পৌঁছে গেল সেই গ্রামে। তারপর তাদের যা অভ্যর্থনাটাই হল। জিভে জল আনা ফল আর মিষ্টি দিয়ে তাদের পেট ভরে খাওয়ানো হল। তারপর রাতে আগুন ঘিরে মানুষের ছদ্মবেশী পাখিদের ছন্দময় নাচ দেখিয়ে তাদের মনোরঞ্জন করা হল। ঠগ দুজন তো দারুণ খুশি। পরেরদিন বিদায় নেওয়ার সময়েই ওরা ঠিক করে ফেলল, আবার আসতে হবে।

দুদিন পরেই আবার তারা ফিরে এল সেই গ্রামে। এবার তারা তৈরী হয়েই এসেছিলো, যাতে অনেক খাবার সাথে নিয়ে যেতে পারে। বুড়ো বণিকের বাড়িতে অনেক মূল্যবান রত্ন ছিলো, সেসবও তাদের চোখ এড়ায় নি। কিন্তু এবার গ্রামটা কেমন চুপচাপ, কোন লোকও দেখা যাচ্ছে না। আই হোক, ইতিউতি চেয়ে ওরা যেই না বাড়ির মধ্যে ঢুকেছে, অমনি দড়াম করে সদর দরজা বন্ধ হয়ে গেল।

তারপর সেই বৃদ্ধ দেখা দিলেন। শেয়ালেরা অবাক হয়ে দেখল, ধীরে ধীরে তাঁর রূপ পাল্টে যাচ্ছে। অবশেষে স্বমূর্তিতে ঈশ্বর দেখা দিলেন। তারপর চলল তিরস্কারের পালা। বেশ করে বকুনি দিয়ে ঈশ্বর বললেন,"" এই প্রথমবার বলে কোন কঠিন শাস্তি দিলাম না তোদের। কিন্তু এরপর আবার কাউকে ঠকানোর চেষ্টা করলে যথোচিত ফল ভোগ করতে হবে, বলে রাখলাম। আর, এখন থেকে সবার জাদুক্ষমতাও আমি কেড়ে নিলাম। যে যার নিজের রূপে, নিজের জায়গায় আবদ্ধ থাকবে।

শেয়ালদের এমনিতেই ভয়ে বুক শুকিয়ে গেছিলো। বারবার ঘাড় নেড়ে তারা গভীর জঙ্গলের দিকে দিলো দৌড়। আর কখনো তারা চালাকি করার চেষ্টা করেনি।
*অনুবাদ* *বিদেশীগল্প* *অণুগল্প* *ছোটগল্প* *উপকথা* *গল্প*

জোবায়ের রহমান: একটি বেশব্লগ লিখেছে

উত্তরে ছুটে দক্ষিণে যাওয়া

টাইহ্যাং পর্বতের নীচে লি জিয়াং নামের এক লোক দাঁড়িয়ে ছিলো। লি দেখলো এক লোক ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে উত্তর দিক বরাবর খুব দ্রুত ছুটে চলেছে। কৌতুহলবশত লি ঘোড়ার গাড়িচালককে ইশারায় থামিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি কোথায় যাচ্ছেন?"
ঘোড়ার যাত্রী উত্তর দিলেন, “আমি চু প্রদেশে যাচ্ছি।”
লি বললেন, “চু প্রদেশ তো দক্ষিণ দিকে, আপনি তো উত্তর দিকে যাচ্ছেন। এদিকে গেলে তো আপনি চু প্রদেশে পৌছাতে পারবেন না।”
যাত্রী তার কথা কানে না তুলে বললেন, “আমার ঘোড়া বেশ শক্তিশালী ও অনেক দ্রুত দৌড়াতে পারে। আমি অবশ্যই পৌছাতে পারবো।”
লি অবাক হয়ে বললেন, “আপনার ঘোড়া যত দ্রুত ছুটবে আপনি চু প্রদেশ থেকে তত দূরে সরে যাবেন।”
যাত্রী হেসে বলে উঠল, “এটা কোনো ব্যাপার না আমার গাড়ির চালক বেশ দক্ষ। সে খুব ভালো ঘোড়ার গাড়ি চালায়।”
এই বলে সে তার চালককে এগোনোর নির্দেশ দিলেন। চালকও তার মালিকের হুকুম পেয়ে চাবুক মেরে হৈ হৈ করে এগিয়ে গেলো দ্রুত বেগে।
পেছন থেকে লি চেচিয়ে বললো, “আপনার চালক যতই দক্ষ হোক না কেনো চু প্রদেশ দক্ষিণে ফেলে উত্তরে গিয়ে আপনি সঠিক জায়গায় পৌছাতে পারবেন না।”
কিন্তু কে শোনে কার কথা। গাড়ি ততক্ষণে চলে গেছে অনেক দূর।

নীতিকথাঃ ভুল পথে এগিয়ে কখনোই কেউ তার গন্তব্যে পৌছাতে পারে না।
*অনুবাদ* *বিদেশীগল্প* *অণুগল্প* *ছোটগল্প* *উপকথা* *গল্প*

জোবায়ের রহমান: একটি বেশব্লগ লিখেছে

⸗ গরুর উদ্দেশ্যে সঙ্গীতযন্ত্র বাজানো-

প্রাচীনকালে কুং মিং ই নামে একজন সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন। তার বাজানো সঙ্গীত অনেক সুমধুর। অনেকেই তার বাজানো সঙ্গীত শুনতে পছন্দ করতেন।
এক দিন, কুং মিং ই গ্রামাঞ্চলে যান। তিনি দেখতে পান, হাল্কা বাতাসে গাছের পাতা নড়ছে। একটি গরু মাঠে ঘাস খাচ্ছে। তিনি এমন সুন্দর দৃশ্য দেখে তার মনে সঙ্গীতযন্ত্র বাজানোর ইচ্ছে জগে। তাই তিনি তার গরুটির উদ্দেশ্যে বাজানো শুরু করেন। কিন্তু এতে গরুর মধ্যে কোন প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয় নি। গরুটি শান্তিভাবে আপন মনেই খাস খেয়ে যাচ্ছিল। ঘাস খাছে। কুং মিং ই ভাবলেন, হয়তো তার এ সঙ্গীত গরুটির কাছে দুর্বোধ্য বা ভালো লাগে নি, তাই তিনি তার যন্ত্রে আরো কয়েকটি সহজ সঙ্গীতের সুর বাজাতে থাকেন। তবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যন্ত্র সঙ্গীতের সুরে গরুটির কোন প্রতিক্রিয়াই দেখা গেলো না। কুং মিং ই এতে অনেক হতাশ হয়ে পড়েন।
ঘটনাস্থলে একজন তাকে এ অবস্থায় দেখে বলেন, আপনি মন খারাপ করবেন না। আপনার বাজানো সঙ্গীত খুবই ভালো, তবে গরু কী মানুষের বাজানো সঙ্গীত বুঝতে পারে?

⸗ সাত পদক্ষেপের সময় কবিতা রচনার কাহিনী-

চীনের ইতিহাসে একটি বিখ্যাত পরিবার ছিলো । এই পরিবারে বাবা ছাও ছাও একজন সমরবিদ ও কবি, তার দুটি ছেলে ছাও ফি ও ছাও জি সাহিত্যিক , ইতিহাসে তাদের তিনজনকে তিন ছাও বলা হয় । এদের মধ্যে ছাও ছাওয়ের মেজো ছেলে ছাও জির সাহিত্য রচনার দক্ষতা সবচেয়ে বেশী ।
ছাও ছাও হলেন খৃষ্ট দ্বিতিয় শতাব্দীর তিন রাজ্য আমলে উই রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা । তিনি একজন বিখ্যাত সমরবিদ , অবসর সময় তিনি প্রচুর কবিতাও লিখেছিলেন । তার মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে ছাও ফি রাজা হলেন । ছাও ফি একজন বিখ্যাত সাহিত্য সমালোচক ছিলেন , তার লেখা ‘ তিয়েন লুন—লুন ওয়েন ‘ চীনের সাহিত্য সমালোচনার ইতিহাসের এক যুগান্তরকারী রচনা । ছাও ছাওয়ের মেজো ছেলে ছাও জি একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি , তিনি তখনকার সবচেয়ে বিখ্যাত কবি ছিলেন ।
ছাও ফি রাজা হওয়ার পর ছোট ভাই ছাও জির ধী শক্তির ঈর্ষা করেন । একবার একটি ছোট ঘটনার জন্য ছাও ফি ছোট ভাই ছাও জিকে শাস্তি দিতে চেয়েছিলেন । তবে তিনি এ কথাও বলেছেন যে ছাও জি যদি সাত পদক্ষেপ হাটার সময়ে একটি ভালো কবিতা রচনা করতে পারেন , তাহলে তিনি শাস্তি থেকে মুক্তি পাবেন । ছাও জি জানেন বড় ভাই ইচ্ছা করে তাকে কষ্ট দিচ্ছেন , কিন্তু বড় ভাই হচ্ছেন রাজা , তার কথা অমান্য করা যায় না । নিজের আপন ভাইয়ের দেয়া কষ্ট ভোগ করার কথা ভেবে চাও জির মন খুব খারাপ হলো । তিনি সঙ্গে সঙ্গেই একটি কবিতা আবৃত্তি করলেন । তিনি তার কবিতায় এই বলে নিজের মনের কথা প্রকাশ করেছেন, আমরা আপন ভাই , বতর্মান সম্পর্কের জন্য কষ্ট বোধ করি । ভাই-ভাই সংঘাত অত্যন্ত দুঃখের ব্যাপার । রাজা ছাও ফি ভাইয়ের আবৃত্তিশুনে সংকোচ বোধ করেন ।তিনি নিজের ভাইয়ের উপর কষ্ট দেয়া বন্ধ করলেন।

⸗ গাছ মুড়ার কাছে খরগোশের অপেক্ষা করা-

চীনের বসন্ত ও শরত্ রাজবংশে সুং রাজ্যে একজন কৃষকের কৃষিভূমিতে একটি গাছের মুড়া আছে । এক দিন যখন তিনি কৃষিভূমিতে কাজ করছে , তখন একটি খরগোশ দৌড়ে দৌড়ে গাছের মুড়ার সঙ্গে ধাক্কা হয়ে মারা গেছে । এ কৃষক অনেক খুশি এবং ভাবছে , যদি প্রতিদিন একটি খরগোশ এভাই মারা যায় , তাহলে আমি খরগোশের মাংশ বিক্রি করতে পারবো এবং কৃষকের কাজ আর করতে হবে না । তাই তিনি কৃষিভূমির কাজ বন্ধ করে প্রতিদিন গাছের মুড়ার কাছে বসে এবং খরগোশের অপেক্ষা করেন । তবে সময় পার হয় , তবে আর কোনো খরগোশ তার আশার মত মারা যায় নি । কৃষক তখন আবার তার কৃষিভূমি দেখে আবিস্কার করেছেন যে , তার সব চাষ করা সব খাদ্যশস্যও মারা গেছে ।

⸗ ভুল বোঝা

নেক অনেক দিন আগে, চীনে এক বৃদ্ধ লোক বাস করত । তার স্ত্রী অনেক বছর আগে মারা গেছেন । সে তার একমাত্র ছেলে, পুত্রবধু আর এক নাতির সাথে গ্রামে বাস করত । নাতিটির কাছে তিনি ছিলেন শ্রেষ্ট দাদু,আর নাতিটি ছিল বৃদ্ধের প্রান । একবার গ্রামে র্দুভিক্ষে বৃদ্ধ লোকটির ছেলের ব্যাপক ক্ষতি হল ,তাদের কাছে খাবার ও তেমন ছিল না । তো ছেলেটি আর তার স্ত্রী চিন্তা করলো তারা যদি বৃদ্ধকে কোথাও ফেলে আসে তো খাবার চাহিদা কমে যাবে, যে ভাবা সে কাজ । লোকটি একটি বিরাট ঝুড়ি যোগাড় করলো, আর তাতে করে বৃদ্ধ লোকটিকে নিয়ে যাচ্ছিল । নাতিটি তার মায়ের সাথে দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখচ্ছিল । সে তার মাকে জিজ্ঞাসা করলো "মা বাবা দাদুকে কোথায় নিয়ে যায়?" 
তার মা উত্তর দিল, "তোমার দাদুকে এমন এক যায়গায় রেখে আসছে যেখানে ভাল খাবার পাবে,সবাই তার দেখাশোনা করবে,আর সেখানে সে সবচেয়ে ভাল থাকবে ।" 
তখন ছেলেটি চিৎকার করে তার বাবাকে বলে, "বাবা তুমি অবশ্যই দাদুকে ওখানে রেখে আসবে। কিন্তু আসার সময় ঝুড়িটি নিয়ে আসবে। কারন যখন তুমি বুড়ো হবে, আমিও তোমাকে এ ঝুড়িতে করে ওখানে রেখে আসবো। ওখানে তুমি ভাল থাকবে।" 
লোকটি তার ভুল বুঝতে পারলো,আর তার বাবাকে ফিরিয়ে আনলো।

*অনুবাদ* *বিদেশীগল্প* *অণুগল্প* *ছোটগল্প* *উপকথা* *গল্প*

জোবায়ের রহমান: একটি বেশব্লগ লিখেছে

⸗ তিনটি পাথরের গল্প

টি প্রাচীনকালের একটি গল্প। একবার একজন ব্যবসায়ী গভীর রাতে জনশূন্য পাহাড়ি অঞ্চল দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। এমন সময় একটি অপরিচিত কণ্ঠ ভেসে এলো: 'মাটি থেকে কয়েকটি পাথর তুলে নাও। আগামীকাল তুমি যেমন খুশি হবে, তেমনি হবে অতৃপ্ত।'ধনী লোক এই অপরিচিত লোকের উপদেশ গ্রহণ করলেন। তিনি মাটি থেকে তিনটি পাথর তুলে নিয়ে পকেটে রাখলেন। পরের দিন ভোরবেলায় তিনি গন্তব্যে পৌঁছুলেন। তখন তার মনে পড়ল পাথর তিনটির কথা। তিনি একে একে পকেট থেকে পাথর তিনটি বের করলেন এবং অবাক হয়ে দেখলেন যে, পাথর তিনটির একটি হীরা, একটি মুক্তা এবং অন্যটি পান্না। অবাক হবার পরক্ষণেই ব্যবসায়ী মূল্যবান তিনটি পাথরের মালিক বনে যাওযায় আনন্দে আত্মহারা হলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তিনি আফসোস করতে লাগলেন এবং আপন মনে বলতে লাগলেন, 'হায়! আমি যদি আরো বেশি পাথর তুলে নিতাম।' তার মনে ভীষণ অতৃপ্তিবোধ জন্ম নিল।


⸗ জীবনের জন্য ছয়টি শব্দই যথেষ্ট

৩০ বছর আগে এক যুবক নিজের ভবিষ্যত গড়তে নিজের জন্মস্থান ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিল। যাত্রা শুরুর আগে সে গ্রামের একজন জ্ঞানী ব্যক্তির কাছে গেল এবং তার পরামর্শ শুনতে চাইল। জ্ঞানী ব্যক্তি তখন লিখছিলেন। যুবক কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে দেখে তিনি তিনটি শব্দ লিখলেন। শব্দ তিনটি হল: 'ভয় কর না।'
তিনি যুবককে বললেন: 'মানুষের গোটা জীবনে ছ'টি শব্দ যথেষ্ট। এ তিনটি শব্দ তোমার অর্ধেক জীবনে ব্যবহার করা যাবে। আজকে শুধু তোমাকে তিনটি শব্দ দিলাম।'
৩০ বছর পর সেই যুবক তখন মধ্যবয়স্ক মানুষ। এই ৩০ বছরে তিনি কিছু সাফল্য অর্জন করার পাশাপাশি কিছু দুঃখও পেয়েছেন। তিনি জন্মস্থানে ফিরে আসলেন। পরের দিন তিনি এই জ্ঞানী মানুষের কাছে গেলেন। তার বাসায় গিয়ে তিনি জানতে পারলেন যে, এই প্রবীণ লোক কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। তার পরিবারের একজন লোক তাকে একটি খাম দিয়ে বললেন: 'তিনি মারা যাওয়ার আগে আপনার জন্য এই চিঠি লিখেছেন। তিনি জানতেন একদিন আপনি জন্মস্থানে ফিরে আসবেন।'
তিনি দ্রুত খামটি ছিড়ে ফেললেন। দেখলেন কাগজে তিনটি শব্দ লেখা আছে: 'অনুতাপ করো না।'


⸗ মানুষের মন বড় বা ছোট হয় না
ছোট-বড় হয় মানুষের চিন্তা

কদিন শিওলিন তার গুরুকে জিজ্ঞেস করলেন: 'গুরু, মানুষের মন কি ছোট-বড় হয়?'
'না, হয় না।' গুরু উত্তর দিলেন ।
"তাহলে কেন আমরা 'এর মন ছোট' 'ওর মন বড়' এমন ধরণের কথা বলি?" জিজ্ঞেস করলেন শিওলিন।
গুরু বললেন: 'তুমি একটি বড় হাতির কথা কল্পনা করো।'
'জি, আমি একটি বড় হাতির কথা কল্পনা করছি।' শিওলিন বললেন।
'যখন তুমি বড় হাতি নিয়ে কল্পনা করছিলে, তখন কি তোমার সম্পূর্ণ মন দিয়ে কল্পনা করছিলে?' জিজ্ঞেস করলেন গুরু।
'অবশ্যই।' বললেন শিওলিন।
'এখন তুমি একটি ছোট্ট সরিষার দানার কথা কল্পনা কর।' বললেন গুরু।
'জি, আমি এখন একটি ছোট্ট সরিষার দানার কথা কল্পনা করছি।' শিষ্য জবাব দিল।
'তুমি কি সমস্ত মন দিয়ে সরিষার দানার কথা ভাবছিলে?' জিজ্ঞেস করলেন গুরু।
'জি, আমি সমস্ত মন দিয়ে ভাবছিলাম।' উত্তর দিলেন শিওলিন।

বার গুরু বললেন: 'মন তো মাত্র একটি। তাহলে কীভাবে তুমি একই মন দিয়ে একটি বড় হাতি ও একটি ছোট্ট সরিষার দানার কথা কল্পনা করতে পারলে? আসলে, যখন তুমি কোনো বড় জিনিস নিয়ে ভাববে, তখন তোমার মন আপনা-আপনি বড় হয়ে যাবে; আবার যখন তুমি কোনো ছোট জিনিস নিয়ে ভাববে, তখন তোমার মন আপনা-আপনি ছোট হয়ে যাবে। তাই বলি, মানুষের মন ছোট-বড় হয় না, ছোট-বড় হয় তার চিন্তা।'


⸗ সুখ ও বিপদ

কদিন কয়েকটি পোকা একটি বড় গাছের গায়ে ছিদ্র করে বাসা বানালো। ক্ষুধা লাগলে এরা গাছের কাণ্ড খায়; পিপাসা লাগলে পান করে গাছের রস। বাইরের বাতাস বা বৃষ্টি এদের ক্ষতি করতে পারে না। কিছুদিন পর গাছ তাদের বলল: 'তোমরা কেন আমার গায়ে বাসা বানিয়েছ? আমার গায়ে অন্যদের বসবাস আমার একদম ভালো লাগে না। তা ছাড়া, তোমাদের এ-আচরণ সঙ্গতও নয়। তোমরা আমার শরীর থেকে সরে যাও।"
গাছের কথা শুনে একটি বড় পোকা বলল: 'তুমি এত নিষ্ঠুর কেন? আমাদের জন্য হাতের তালুর মতো সামান্য জায়গাও দিতে চাও না? তোমার শরীরে বাস করতে আমাদের আরাম লাগে। আমরা তোমার শরীরের অংশ খেতে পারি; রস পান করতে পারি। তা ছাড়া, রোদ-বৃষ্টি-ঝড় থেকেও আমরা নিরাপদে আছি। কী আনন্দের জীবন! আমরা এখান থেকে যাবো না।"
বড় গাছ মাথা নেড়ে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলল। ঠিক সে-সময় একটি কাঠঠোকরা সেখানে এলো এবং সব পোকা খেয়ে ফেললো। তারপর সে বড় গাছকে বলল: 'দুষ্টুদের কাছে যুক্তির কোনো মূল্য নেই। তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করাও অর্থহীন। সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো তাদের নির্মূল করা।'

*অনুবাদ* *বিদেশীগল্প* *অণুগল্প* *ছোটগল্প* *উপকথা* *গল্প*

জোবায়ের রহমান: একটি বেশব্লগ লিখেছে

প্রহরী

মি প্রথম প্রহরীকে অতিক্রম করে গেলাম। তখন আমি ভয় পেলাম, আবার দৌড়ে ফিরে এলাম এবং প্রহরীকে বললাম, ‘আপনি যখন অন্যদিকে খেয়াল রাখছিলেন আমি তখন এখান দিয়ে দৌড়ে গিয়েছিলাম।‘ প্রহরী তার সামনের দিকে তাকিয়ে থাকল এবং কিছুই বলল না। ‘আমার মনে হয় আসলে আমার এমনটি করা উচিত হয় নি’, আমি বললাম। প্রহরী তবুও কিছুই বলল না। ‘আপনার নিরবতা কি আপনাকে অতিক্রম করে যাওয়ার অনুমতির ইঙ্গিত দেয়?’

পরের গ্রাম

মার দাদা সবসময় বলতেন, ‘জীবন বিস্ময়কর রকমের ছোট
আমার কাছে, পেছন ফিরে তাকালে জীবন এতই ছোট মনে হয় যে আমি খুব সামান্যই এর অর্থ বুঝতে পারি। ধরা যাক, একজন তরুণ কীভাবে কোন দুঃশ্চিন্তা ছাড়া পাশের গ্রামে যাওয়ার কথা ভাবতে পারে- কোন দুর্ঘটনা ছাড়াই এমন কী স্বাভাবিক সুখের মুহূর্তে ওরকম একটি ভ্রমণের জন্য যে সময়ের প্রয়োজন সে বিবেচনা করলেও জীবন অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত মনে হবে।’

প্রস্থান

মি আমার ঘোড়াটিকে আস্তাবল থেকে নিয়ে আসার আদেশ দিলাম। ভৃত্য আমার আদেশ বুঝতে পারল না। তাই আমি নিজেই আস্তাবলে গেলাম, ঘোড়ায় চাপালাম এবং ঘোড়ায় চড়লাম। দূরে ট্রাম্পেট বাজানোর শব্দ শুনতে পেলাম এবং আমি ভৃত্যকে জিজ্ঞেস করলাম এর মানে কী। সে কিছুই জানত না এবং কিছু শোনেওনি। গেটে সে আমাকে থামাল এবং জিজ্ঞেস করলঃ ‘প্রভু কোথায় যাচ্ছেন?’ ‘আমি জানি না,’ বললাম, ‘শুধু এই এলাকার বাইরে, এর বাইরে, বাইরে, আর কিছু নয়, এটাই একমাত্র পথ যাতে আমি লক্ষ্যে পৌঁছতে পারি।‘ সে জিজ্ঞেস করল, ‘তাহলে আপনি আপনার লক্ষ্য জানেন?’ ‘হ্যাঁ’, ‘আমি জবাব দিলাম, ‘আমি এইমাত্র তোমাকে বলেছি। এর বাইরে- সেটাই আমার লক্ষ্য।

একটি ছোট্ট উপকথা

‘হায়,’ ইঁদুর বললো, ‘দুনিয়াটা প্রতিদিনই ছোট হয়ে আসছে। শুরুতে এটা এত বড় ছিল যে আমি চিন্তিত হয়ে গিয়েছিলাম, আমি দৌড়াতেই থাকি, দৌড়াতেই থাকি এবং অবশেষে আমি দূরে ডানে ও বাঁয়ে দেয়াল দেখে খুশি হই, কিন্তু এই দেয়াল দুটো ক্রমশ সরু হয়ে যেতে থাকে আর আমি ততক্ষণে কামরার শেষে এসে দাঁড়াই এবং ওইখানে এককোণায় ফাঁদ পাতা রয়েছে যা অবশ্যই অতিক্রম করে যেতে হবে আমাকে।‘
‘তোমার শুধু পথটা বদলানো দরকার ছিল’ বিড়াল বলল এবং ওটাকে খেয়ে ফেলল।

গাছ

মরা যেন তুষার আবৃত গাছের কান্ড। আপাতভাবে মনে হয় তারা খুব কোমলভাবে দাঁড়িয়ে আছে এবং একটু ধাক্কা তাদের ফেলে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। না, তেমনটি করা যাবে না, কেন না, তারা গভীরভাবে মাটির সঙ্গে একাত্ম। কিন্তু দেখো, এমন কী এটাও শুধুই আপাতভাবে মনে হয়।

অন্যমনস্কের জানালা-দর্শন

ক্রমশ এগিয়ে আসছে যে বসন্ত দিনগুলি তা নিয়ে আমরা কী করব? আজ খুব সকালেই আকাশ ছিল ধূসর, কিন্তু তুমি যদি এখন জানালার কাছে যেতে তাহলে বিস্মিত হতে এবং গরাদহীন জানালার পাল্লায় তোমার চিবুক রাখতে।
ইতিমধ্যে সূর্য ডুবে যাচ্ছে, কিন্তু তুমি  দেখবে সে নিচে অলসভাবে যে মেয়েটি হাঁটছে তার মুখে আলো ফেলছে এবং একইসময়ে সে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে, তাকে অতিক্রমরত একটি লোকের ছায়ার কারণে। তারপর লোকটি চলে গেছে এবং ছোট্ট মেয়েটির মুখ যথেষ্ট উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

প্রমিথিউস

প্রমিথিউসকে কেন্দ্র করে চারটি কিংবদন্তি আছেঃ
প্রথম কিংবদন্তি অনুযায়ী, তাকে ককেসাস পর্বতে পাথরের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল, দেবতাদের গোপনীয়তা মানুষের কাছে প্রকাশ করে প্রতারণা করার অভিযোগে এবং দেবতারা তার হৃদয় ছিঁড়ে খাওয়ার জন্যে ঈগল পাঠাতো আর অবিরাম সে হৃদয় পুননির্মিত হতো।
দ্বিতীয় কিংবদন্তি অনুযায়ী, প্রমিথিউস প্রতিনিয়ত বিদীর্ণ হওয়ার যন্ত্রণায় নিজেকে ক্রমশ পাথরের গভীরে ঠেলে দিয়েছিল যতক্ষণ না সে পাথরেরই অংশ হয়ে গেছে।
তৃতীয় কিংবদন্তি অনুযায়ী, হাজার বছরের সময় পরিক্রমায় প্রমিথিউসের প্রতারণার কথা ভুলে যাওয়া হয়, ভুলে যান দেবতারা, ভুলে যায় ঈগল এবং প্রমিথিউস নিজেও।
চতুর্থ কিংবদন্তি অনুযায়ী, প্রত্যেকেই এই অর্থহীন বিষয়ে ক্লান্ত-বিরক্ত হয়ে যায়। দেবতারা বিরক্ত হয়ে যায়, ঈগল ক্লান্ত হয়ে যায় এবং ক্লান্ত বিরক্ত হয়ে ক্ষতও সেরে যায়।
সেখানে ব্যাখ্যাতীত পরিমাণের পাথর ছিল। কিংবদন্তি এই ব্যাখ্যাতীতকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে। যখন এই সত্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে তখন ব্যাখ্যাতীতভাবে এর সমাপ্তি ঘটেছে।


মূলঃ ফ্রাঞ্জ কাফকা
মুম রহমান অনূদিত

*অনুবাদ* *বিদেশীগল্প* *প্রিয়লেখক* *অণুগল্প* *ছোটগল্প*

নাফিসা আনজুম রাফা: একটি বেশব্লগ লিখেছে

আজ ছুটির দিনে ঈদ অণুগল্প দিয়েছে মোট ১০ টি...তারা তাদের সেরা ৩ টি গল্প নির্বাচন করে তাদের পুরষ্কিত করেছে...আমার মতে
১ম সেরা-http://www.prothom-alo.com/pachmisheli/article/330982/%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B8-%E0%A6%95%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%B8-%E0%A6%87%E0%A6%A4%E0%A7%8D
২য় সেরা-http://www.prothom-alo.com/pachmisheli/article/331003/%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%AB%E0%A6%BF
৩য় সেরা-http://www.prothom-alo.com/pachmisheli/article/330997/%E0%A6%87%E0%A6%9F%E0%A6%9C-%E0%A6%95%E0%A6%AE%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%A1
এখন বেশতো বাসীর কাছে অনুরোধ,আপনারাও নিচের লিঙ্কের সব লেখা পড়ে লিখুন কমেন্টে যে আপনার মতে সেরা ৩টি গল্প কোনটি...(যদি পেপারে এখনো পড়ে না থাকেন)
http://www.prothom-alo.com/holyday

*অণুগল্প* *বেশতোবাসীরমতামত*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★