আত্মত্যাগ

আত্মত্যাগ নিয়ে কি ভাবছো?
ছবি

আড়াল থেকেই বলছি: ফটো পোস্ট করেছে

ঢাকা শহরের নতুন ভাস্কর্য “জননী ও গর্বিত বর্ণমালা”

*একুশে* *ফেব্রুয়ারী* *ভাষারমাস* *ভাষাদিবস* *আত্মত্যাগ*
ছবি

আড়াল থেকেই বলছি: ফটো পোস্ট করেছে

ছবি

আড়াল থেকেই বলছি: ফটো পোস্ট করেছে

আমার ভাইয়ের রক্তে রাগানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি [একুশে-অমরএকুশে]

সমুদ্র সীমায় অধিকার অর্জন সমাবেশ.. পিতা গড়েছে স্বাধীনতা কন্যা গড়েছে দেশ সাব্বাস বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে.. বাংলাদেশ ......[একুশে-আমারচেতনা]

*একুশে* *ফেব্রুয়ারী* *ভাষারমাস* *ভাষাদিবস* *আত্মত্যাগ*

সাদাত সাদ: একটি বেশব্লগ লিখেছে

 কখনো ভেবে দেখেছেন কী? --------
যে মেয়েটি তেলাপোকা দেখে ভয় পায় সে মেয়েটি সন্তানের জন্য হাঁসিমুখে অপারেশন থিয়েটারে যায়। যে মেয়েটি সামান্য একটা ইনজেকশন সুঁইকে ভয় পায়, সন্তানের মুখ দেখার আশায় সেই মেয়েটিই নিজেকে সার্জারি ব্লেডের নীচে সঁপে দেয়।
যে মেয়েটি নিজের কাপড় ধুতে নাক সিঁটকাতো সেই মেয়েটিই নিজ সন্তানের পায়খানা পরিস্কার করে।
যেই মেয়েটি গায়ে পস্রাব করে দিবে এই ভয়ে ছোট বাচ্চা কোলে নিতনা, সেই মেয়েটিই এখন সারাদিন নিজের সন্তানকে কোলে আগলে রাখে। যে মেয়েটি ঘর গোছানোর জন্য মুখ ভেংচাতো, সেই মেয়েটিই সন্তানের লাথিগুতোর কষ্ট সহ্য করে দীর্ঘ ১০ মাস সন্তানকে পেটের মধ্যে ধারণ রাখে।
যে মেয়েটি ফজরের নামাজ পড়েই আবার ঘুমিয়ে পড়তো সেই মেয়েটিই খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠে সন্তানের স্কুলের টিফিন তৈরি করে। যে মেয়েটি অলসতার কারনে না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তো সেই মেয়েটিই সারারাত জেগে জেগে সন্তান কে খাওয়াতে সাহায্য করে। আমার মা বলতেন সন্তানের মায়া অনেক বড় মায়া।  পিতামাতা তার সন্তানের জন্য শত কষ্টের বিনিময়েও পৃথিবীর সব সুখ ছাড়তে পারে,
নিজ সন্তান হলেই এ উপলব্ধি করা যায়।
আমরা বুঝে, না বুঝে বাবা মায়ের মনে অনেক কষ্ট দেই, অবহেলা করি কিন্তু কখনোই সেভাবে উপলব্ধি করতে পারিনা।
আল্লাহ আমাদের পিতা মাতার সেবা করার তাওফিক দান করুন..........আমিন 
*মাবাবা* *আদরেরসন্তান* *ত্যাগ* *মা* *আত্মত্যাগ*

লিজা : একটি বেশব্লগ লিখেছে

 বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অনেক কিশোর মুক্তিযোদ্ধা অংশ নিয়েছিল।সেই রকম একজন কিশোর শহীদ মুক্তিযোদ্ধার জীবন কাহিনী নিয়ে লিখছি-
ভালাইপুর গ্রাম।গ্রামের বাজার হতে একটু দুরে গেলেই দেখা যাবে একটি টিনের চাল দেওয়া মাটির বাড়ি।বাড়িটি হারুনদের।হারুনের বয়স ১১ বছর।বাবা, মা, ১৩ বছর বয়সী একটি বোন,কান্তা আর হারুন এই নিয়ে তাদের ছোট পরিবার।২৯শে মার্চ ১৯৭১। সকল বেলা,হারুন খেলতে গিয়েছে।বাড়িতে আছে মা,বাবা ও বোন কান্তা।হঠাত আক্রমণ।বাড়িতে যারা ছিল তাদের সবাইকে হত্যা করল পাকিস্তানী মিলিটারীরা।হারুন বাড়ি ফিরে সবাইকে মৃত দেখে স্তব্ধ হয়ে গেল।
হারুন বাবা,মা,আর বোন এর লাশ ছুঁইয়ে শপথ নিল যারা তার বাবা মা আর বোন কে হত্যা করল তাদের কে বাংলার মাটি হতে উতখাত করতে হবে।সে যোগ দিল মুক্তিযুদ্ধে।মুক্তিবাহিনীর আশরাফ ভাইয়ের সাথে সে প্রায়ই বিভিন্ন অপারেশনে যায়।একদিন তারা স্কুলের কাছে যে মিলিটারী ক্যাম্প আক্রমন করল।তুমুল গোলাবর্ষণ হচ্ছে।হঠাত পেছন দিক হতে অতর্কিত গুলি।একটা গুলি এসে লাগে হারুনের বুকে।তখন সে খুব ছটফট করছে।তার মনে হলো যেন দেহ হতে আত্মাটা বের হয়ে যাচ্ছে।হারুনের লাশটা ফেলে দেওয়া হলো ময়লার স্তুপে।তার লাশটাকে ভক্ষণ করছে শকুনেরা।ইতিহাসের পাতায় তাদের আত্মত্যাগের কথা কোনো দিন লেখা হবে না।কিন্তু তাদের এই আত্মত্যাগের সাক্ষী বাংলার আকাশ বাতাস এবং সাক্ষী বাংলার রক্তে ভেজা মাটি। সূত্রঃ ইন্টারনেট
*মুক্তিযুদ্ধ* *কিশোরমুক্তিযোদ্ধা* *ইতিহাস* *আত্মত্যাগ*

দস্যু বনহুর: একটি বেশব্লগ লিখেছে

কোরবানী ঈদ সামনেই। হঠাত মনে হল আমার গ্রামের কোরবানীর ঈদের বিষয়টা সবার সাথে শেয়ার করতে। দেশের অনেক জায়গায় আমি গিয়েছি, অনেক মানুষের সাথেই পরিচয় আছে কিন্তু যারাই আমার গ্রামের কোরবানী ঈদের কথা শুনেছে প্রত্যেকেই অবাক। ব্যাপারটা আসলেই অত্যন্ত বিষয়ভিত্তিক এবং দ্বায়িত্বশীল বলেই আমি মনে করি। আমার গ্রাম চকতৈল, টাংগাইল জেলা। প্রতি কোরবানীর ঈদের দিন সকালে যারা কোরবানী দিবে তারা তাদের গরু ছাগল বা খাসী গোসল করিয়ে আমাদের হাইস্কুলের বিশাল মাঠটাতে নিয়ে বেঁধে রাখবে। গ্রামের মানুষের ঈদ কিন্তু তথাকথিত শহড়ের ঈদের চাইতে অনেক বেশী আন্তরিক হয়ে থাকে। আমি বরাবরই গ্রামে ঈদ করতে পছন্দ করি, বিশেষত কোরবানীর ঈদ। ঈদের কিছুদিন আগে থেকেই গ্রামে মাইকিং করা হয় কেউ যদি তাদের কোরবানীর ষাড়ের লড়াই করাতে চায় তবে যোগাযোগ করার জন্য। সকালে সবাই চলে আসে নামাজ এবং কোরবানীর প্রস্তুতি নিয়ে সেই মাঠে। আগের সারারাত ধরে গ্রামের ক্লাবের তরুনরা মাঠটাকে দারুন সুন্দর করে সাজায়। সকাল বেলায় সেই মাঠ দেখলেই বোঝা যায় মানুষের আন্তরিকতা, আনন্দ করার উচ্ছ্বাস। এরপর আসে সেই বিশেষ ষাড়ের লড়াই পর্ব। উতসুক দর্শক অপেক্ষা করে। লড়াই শুরু হয়। সাধারনত ৩ থেকে ৪ টা লড়াই হয়। যে ষাড় বিজয়ী তাকে দারুন আকর্ষনীয় ভাবে ক্লাবের খরচে সাজানো হয়। সবাই দারুন উপভোগ করে এই ষাড়ের লড়াই। এরপর শুরু হয় নামাজ। সারা মাঠ আতরের গন্ধে ভরে উঠে, ইমাম সাহেব সুমিষ্ট কন্ঠে শুরু করেন নামাজ। নামাজের পর সবাই সবার সাথে কোলাকুলি করে কোরবানীর জন্য উদ্যত হয়। মাঠের চারপাশে ছোট ছোট গর্ত করে রাখা থাকে। গর্তের পাশে প্রাণী মালিকসহ অপেক্ষা করে কখন ইমাম সাহেব আসবেন কোরবানী করার জন্য। অনেকে নিজেই কোরবানী করেন। একপাশ থেকে গরু পড়তে থাকে ইমাম সাহেবও ছুরি চালাতে থাকেন। গর্তের সামনেই প্রানীর ঘাড় থাকে বলে সব রক্ত সেই গর্তেই পরে। এভাবে একে একে জবাই করা শেষ হয়। এর মধ্যেই সবাই চামড়া আলাদা করার কাজে লেগে যায়, এই কাজটা যে যার মতই করে থাকে। মাঠের মধ্যেখানে চাটাই বিছিয়ে একটা বড়সড় জায়গা তৈরী করা থাকে যেখানে ধীরে ধীরে প্রাণী দেহের অংশগুলি আসতে থাকে। সেখানে ক্লাবের তরুনরা গোল হয়ে বসে মাংশ কাটতে থাকে। কেউ কিন্তু মাংশ নিয়ে যায়না। ঐ জায়গাতেই মাংশের বিশাল একটা স্তুপ হতে থাকে। বেলা ২টার দিকে মাংশ কাটা শেষ হলে কোরবানী দাতার একটা লিষ্ট বের করে সবার উপস্থিতি নিশ্চিত করে। এরপর মাংশের সেই স্তুপটাকে দুই ভাগ করা হয়। একভাগ কোরবানী দাতার, একভাগ সমাজ তথা পুরো গ্রামবাসীর জন্য। ঈদের প্রায় ২ সপ্তাহ ধরে প্রত্যেকটি বাড়ী ঘুরে ঘুরে ক্লাবের তরুনরা মাথা গুনে নাম সহ একটা লিষ্ট তৈরী করে। লিষ্টে কোন শিশু কিংবা ঈদ উপলক্ষে বেড়াতে আসা মানুষও বাদ যায়না। যাইহোক প্রথমেই লিষ্ট ধরে ধরে কোরবানী দাতাদের মাংশ সমানভাবে ভাগ করে দেয়া হয়। অর্থ্যাত গরু যত বড় ছোট হোকনা কেন সবাই সমান পরিমানেই মাংশ পাবেন। যে যার মাংশ নিয়ে যায়। এরপর শুরু হয় সমাজের মাংশ ভাগ করা। সমাজের মধ্যে কিন্তু সেই কোরবানী দাতারাও আছেন। এই ভাগে গ্রামের কোন মানুষই বাদ যাবেনা। বিশাল মাঠ জুড়ে এবার শুরু হয় মাথাপিছু ভাগ করা। ধরা যাক সেই সমাজের মানুষের সংখ্যা সব মিলিয়ে দুই হাজার। মাঠ জুড়ে সমান ভাবে দুই হাজার ভাগ করা হয় মাংশের। এরপর পরিবার বা ঘর ভাগ করে মাংশ বিতরন করা শুরু হয়। মাংশ বিতরন করে ক্লাবের তরুনেরা। তারা বিভিন্ন অংশে ভাগ হয়ে এই কাজ সম্পন্ন করে। এসব করতে করতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে যায়। এবার প্রাপ্তির ব্যাপারটা বলি আমার পরিবারকে দিয়েই। আমরা পরিবারে বড় ছোট শিশু সবাই মিলে মানুষ ১২ জন আমাদের সাথে দুইজন কাজের মানুষও আছে এবং আমরা নিজেরা একটা গরু কোরবানী করেছি। প্রথমে নিজেদের কোরবানীর ভাগ পেলাম প্রায় ৩০ কেজী এবং সমাজের ভাগ পেলাম মাথাপিছু ২ কেজী করে মোট ২৮ কেজী মাংশ। গ্রামের আমাদের নির্দিষ্ট এই সমাজে কেউ, কোন একটা মানুষ এমনকি কোন শিশুও তার কোরবানীর অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়নি। এই ব্যবস্থাপনা সত্যি বিরল কারন আমাদের পাশের গ্রামেই এমন হয়না কিংবা অন্য কোন গ্রামে এমন সঠিক ভাবে মানুষের দ্বারে দ্বারে কোরবানীর মাংশ পৌছে যাবার কথাও আমি শুনিনাই। হয়ত থাকতে পারে আমার জানা নেই। আমার বুদ্ধি হবার পর থেকেই আমি এমন নিয়ম দেখছি আমার গ্রামের। এখন দেশের বাইরে থাকি, কি করবানী দিব, কে খাবে, কে পাবে তার কোনই ঠিক নেই, কোন নিয়ম নেই। এমনকি শহড়ে বা পুরো বাংলাদেশে এমন কোন আইন কেন হয়না যাতে কোরবানীর ঈদে কোন মানুষ এই অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়। আমরা তো অনেক কিছুই করে থাকি কিন্তু এমন করে কেন কিছু করতে পারিনা! আমি মন থেকে আমার গ্রামের তরুনদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব এমন অভিনব পদ্ধতি এখন পর্যন্ত ধরে রাখবার জন্য। সবাইকে আহবান করব যদি পারেন তবে সঠিক উপায়ে নিজেদের এই আত্মত্যাগের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেন। কোরবানী হচ্ছে আত্মত্যাগের সবচেয়ে বড় উদাহরন একজন মুসলমানের জন্য এবং আত্মত্যাগ সহজ না।
*কোরবানীঈদ* *আত্মত্যাগ*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★