আদিবাসী

আদিবাসী নিয়ে কি ভাবছো?

দীপ্তি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বাঙ্গালী জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠে-অস্ট্রিক গোষ্ঠী থেকে। জাতি হিসাবে আমরা এক জাতি, বাংলাদেশী, বাঙ্গালী। বাঙালি ও বাংলা ভাষাভাষীরাই বাংলাদেশের আদিবাসী। কারণ তারাই প্রোটো-অস্ট্রোলয়েড নামের আদি জনধারার অংশ। বাংলাদেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর তারাই একমাত্র আদিবাসী এবং ভূমিপুত্র বলে দাবি করতে পারে। এর পেছনে অনেক জাতিতাত্ত্বিক, নৃ-তাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক যুক্তি-প্রমাণও রয়েছে। 


প্রোটো-অস্ট্রোলয়েড ধারার বাঙালি নামের বাংলাদেশের এই আদিবাসীরা যদিও একটি মিশ্র বা শংকর জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত সেখানে ককেশীয়, মঙ্গোলীয়, অস্ট্রিক জাতিধারার সাথে ভেড্ডাইট, নিগ্রোয়েড, দ্রাবিড়ীয় এবং অন্যান্য বহু জানা-অজানা আদি জনধারার সংমিশ্রণ ও নৃ-তাত্ত্বিক মিথষ্ক্রিয়া সাধিত হয়েছে।


বাংলাদেশের আদিবাসী ভাষা সংখ্যা হচ্ছে ২৬টি। যদিও একটি ওয়েবসাইটে বাংলাসহ মোট ৩৭টি ভাষার নাম উলেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠির সংখ্যা ৮৯৭৮২৮ প্রায়; সমগ্র জনগোষ্ঠির এক শতাংশ মাত্র। বাংলাদেশের সবচেয়ে অগ্রসর আদিবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে তাই সহজেই বিশেষভাবে পরিচিত চাকমারা। প্রতিবছর ৯ আগস্ট ‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস’ পালিত হয়ে থাকে l 


বাংলাদেশের আদিবাসীদের কথা’ বইটিতে এ দেশের বসবাসরত ২০ টির অধিক জাতি ও নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারনা তুলে ধরা হয়েছে। সুদীর্ঘকাল থেকে অসংখ্যক জনগোষ্ঠীর পদচারণায় মুখর এই জনপদ। একমাত্র ইংরেজ ব্যতীত আর সকল মানব গোষ্ঠী এই দেশের রুপ-রস-গন্ধের সাথে মিশে গেছে। শেকড়ের সাথে তরলায়িত হয়ে তারা আজ গর্বিত বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ অংশ। এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির পাশাপাশি চাকমরা, মরমা, মণিপুরী, গারো, সাঁওতাল, রাখাইন, টিপরাসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠী অনিন্দ সুন্দর আবাস গড়ে তুলেছে । 

বঙ্গ, বাংলা, বঙ্গদেশ বা বাংলাদেশে তাদের আগমনকালও বিভিন্ন। প্রায় চার হাজার বছর পূর্বে আর্য জাতি ভারত বর্ষে আগমন করে । তারা অনেক চেষ্টা করেও বঙ্গদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। আদি বাঙালিদের প্রতিরোধের মুখে তাদের অগ্রযাত্র ব্যহত হয়। কালক্রমে বাঙ্গালী জাতি বাংলায় উন্নত কৃষ্টি-সংস্কৃতি-সভ্যতা গড়ে তোলে। পুন্ড্র, পাহাড়পুর ,ময়নামতি প্রভৃতি স্থানের সভ্যতা এখানে বাঙ্গালীর প্রাচীনত্ব প্রমাণ করে। ইদানিং উয়ারী বটেশ্বরে সভ্যতাকে প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার বাঙালী সভ্যতাকে পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতার সমকক্ষ আসনে উপনীত করেছে। 

বাঙালির অনেক পরে চাকমা, মারমা, রাখাইন, গারো, মণিপুরী, সাঁওতাল জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে আগমন করে। কালের বিচারে তারাও আজ এই দেশে প্রাচীন। কিন্তু কোন একটি দেশে বর্তমান বসবাসরত জনগোষ্ঠীর মধ্যে যারা অপেক্ষাকৃত আদি বা প্রথম থেকে বাস করছে তারাই আদিবাসী। ‘Ab origin es বা ‘Indigenous আভিধানিক অর্থ হচ্ছে ‘from the beginning' এই অর্থে বাংলাদেশে আদি বা প্রথম বসবাসকপালী হচ্ছে ‘বাঙালী’ জনগোষ্ঠী। 

সুতরাং যুক্তিসঙ্গত কারনেই, বাংলাদেশের আদিবাসী হচ্ছে বাঙালি। কেউ কেউ নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী চাকমা, মারমা, গারো, সাঁওতাল, প্রভৃতির যারা সাংস্কৃতিক দিক থেকে অনগ্রসর তাদেরকে বাংলাদেশের আদিবাসী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রকৃত সত্যকে আড়াল করা যায়না। তারা বিদ্যমান আমাদের মাঝেই, আদিবাসী মানেই কিন্তু পাহাড় উপতক্যার মাঝে থাকা মানুষ নয়, আমাদের মাঝেই তাদের বাস l


বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতেই বিভিন্ন নৃ-গোষ্টির উপস্থিতি দেখা যায় l চলুন জেনে নেই বিভিন্ন গোষ্ঠির আবাসস্থল সমন্ধে l 

গারো – ময়মনসিংহ
চাকমা – রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি
সাঁওতাল – রাজশাহী ও দিনাজপুর
রাখাইন – পটুয়াখালী
মারমা – কঙ বাজার, বান্দরবান ও পটুয়াখালী
হাজং – ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা
রাজবংশী – রংপুর
মুরং – বান্দরবানের গভীর অরণ্যে
কুকি – সাজেক ভেলী (রাঙ্গামাটি)
হুদি – নেত্রকোনা
পাংখো – বান্দরবান
খাসিয়া – সিলেট
ওরাও – বগুড়া, রংপুর
টিপরা – খাগড়াছড়ি, পার্বত্য চট্টগ্রাম
লুসাই – পার্বত্য চট্টগ্রাম
খুমি – বান্দরবান
মনিপুরী – সিলেট
তনচংগা – রাঙ্গামাটি
রনজোগী – বান্দরবানের গভীর অরণ্যে
*আদিবাসী* *নৃ-গোষ্ঠী* *বিসিএস*

সাইফ: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে হাজং সম্প্রদায় অন্যতম। বৃহত্তর ময়মনসিংহের উত্তরাংশে গারোপাহাড় ও এর পাদদেশের সমতল ভূমি এবং সুনামগঞ্জ জেলার সমতল ভূমিতে হাজং সম্প্রদায়ের বসবাস। বর্তমানে এদের জনসংখ্যা প্রায় ২০ হাজার।এ সম্প্রদাযের মাঝে শিক্ষার হার খুবই কম। এরপরও তারা সাহিত্য ও সংস্কৃতির দিক থেকে পিছিয়ে নেই। হাজংরা সাহিত্য ও সংস্কৃতি  সমৃদ্ধ জাতি। সাহিত্য সংস্কৃতির প্রতি তাদের প্রবল আগ্রহ রয়েছে।

হাজং সম্প্রদায়ের নিজস্ব কোন বর্ণমালা নেই। এরপরও তারা তাদের নিজস্ব সাহিত্যচর্চা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের ভাষায় ছড়া, কবিতা, গান, প্রবাদ, ধাঁধাঁ, উপকথার ব্যাপক সমাহার রয়েছে ।

হাজংদের  নৃত্য তাদের দৈনন্দিন জীবন ও সমাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাদের নৃত্য মাছধরা থেকে শুরু করে নর-নারীর প্রেম কাহিনী পর্যন্ত বি¯তৃত রয়েছে।

ছড়াকে হাজংরা হিংলা বলে। তাদের ছেলে ভুলানো ছড়া, মেয়েলী ছড়াসহ গীতে প্রেম-বিরহ, প্রকৃতি প্রভৃতি ফুটে উঠেছে।

যেমন:

জাখায় দুরা মাষ

বিড়ন কাতা বাত,

কুকরা বাতে পুড়া চেঙমাস

খাবাগে তানকে স্বাদ

বাংলা অর্থ:

জাখায় ধরা মাছ

বেড়ন ধানের ভাত,

পান্তা ভাতে রাওয়া পোড়া

খেতে বড়ই স্বাদ

এ সকল ছড়া ও কবিতায় ছন্দ-ঝঙ্কার ও সুদূর প্রসারী ইঙ্গিত রয়েছে। যুগযুগ ধরে এসব ছড়া ও গীতগুলো  মুখেমুখে বেঁচে আছে মাত্র।

হাজংরা গীত বা গানকে গায়েন বলে। উপমহাদেশের প্রসিদ্ধ বারোমাসী গীতের সন্ধান হাজংদের লোক সাহিত্যেও পাওয়া যায়। এ গীতকে হাজংরা রসিগান বলে। ক্ষেতে খামারে কিংবা ঘরে বসে হাজং নারীরা রসি গায়েন  গেয়ে মনের ভাব প্রকাশ করে।

এছাড়া হাজং নারীরা নদী, খাল, বিলে জাকা দিয়ে মাছ ধরতে ধরতে মনের সুখে গান করে । এ গানকে জাখামারা গান বলে।  গীতলুগান  নামে পুরুষদের এক ধরনের গান রয়েছে। পদ্মা-বেহুলা-লখীন্দর-চাদঁসওদাগর এর কাহিনী ভিত্তিক এই গান বিয়ের অনুষ্ঠানে  গাওয়া হয়।

এগুলো ছাড়াও নিকনীগান, বানাইগান, চরমাগা গান, রোয়ালাগা গান, টেংলা গান ,নৌকা ভাঙার গান প্রভৃতি গীত ও গানগুলো হাজংদের সাহিত্য-সংস্কৃতিতে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।

বুদ্ধিবৃত্তি বিকাশের চর্চা হাজং সংস্কৃতিতে দেখা যায়। তাদের ধাঁধা বানানো এবং ব্যবহারের মাধ্যমে এর প্রমাণ মেলে। ধাঁধাকে হাজংরা হিলুক বলে।

যেমন:

হুতুবুলা পাথিন পিনি

ডাঙর উলে কাপুড় না পিনি ।

বাংলা অর্থ:

ছোটবেলায় কাপড় পরে

বড় হয়ে কাপড় ছাড়ে।     উত্তর: বাঁশ।

হাজংদের সাহিত্য-সংস্কৃতিতে প্রবাদ বাক্যও প্রচলিত রয়েছে। ব্যক্তি ও সমাজজীবনের দীর্ঘ  অভিজ্ঞতা থেকে হাজংরা এসব প্রবাদবাক্য সৃষ্টি করেছে। এসকল প্রবাদবাক্যকে হাজংরা থাচি কথা বলে।

যেমন:

মাও বাখনায় জেও

গোয়াল বাখনায় ঘেও।

বাংলা অর্থ:

মায়ে গায় ঝিয়ের গুণ

গোয়াল গায় ঘিয়ের গুণ।

হাজং সম্প্রদায়ের কৌতুক সৃষ্টি ও নীতি প্রচাওর কোন কালেই কম ছিল না। ক্রমে তাদের  সাহিত্য ভান্ডারে জমা হয়েছে অসংখ্য উপকথা। সমাজ, প্রকৃতিক পরিবেশ ,পশু-পাখি সবই তাদের উপকথার মধ্যে উঠে এসেছে।

হাজংরা সাহিত্য- সংস্কৃতি সমৃদ্ধ জাতি।সাহিত্য সংস্কৃতিতে তাদের দৈনন্দিন জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, বিরহ, ফুটে উঠেছে। তবে তারা কালের স্রোতে অতীতের অনেক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছে। হাজংদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উপাদানগুলো সাহিত্য বিচারে বাংলাদেশের লোকসাহিত্যেও অমূল্য সম্পদ।

*আদিবাসী* *লোককথা*

★ছায়াবতী★: একটি বেশব্লগ লিখেছে

  প্রতিদিন আমার দেশে কত মানুষ খুন হয়, দুর্ঘটনায় নিহত হয়, কত নারী- শিশু ধর্ষিত হয়, কত মানুষ হাজার অন্যায়- অত্যাচার- দুর্নীতির শিকার হয়, হাজার মানুষ প্রতিদিন নিষ্পেষণ এর শিকার হয়- আমরা কি সব বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করি?
 সব 
বিষয়  নিয়ে কি কথা বলি? এসব বিষয় এর কারণ, উৎস মুখ জানতে চাই? আমরা কি আদিবাসী বাঙালির খবর রাখি? 
এসবের কিছুই করি না আমরা। তার কারণ টা কি? খবর ই তো রাখি না যে দেশের কোন কোণায় কি হচ্ছে। আমরা কিছু নির্দিষ্ট ইস্যু নিয়ে কথা বলি, দৌড়াই, বিক্ষোভ - প্রতিবাদ করি।

আসলে
 কি এসব আমরা করি নাকি নষ্ট রাজনীতি , নষ্ট স্বার্থ পেছন থেকে কলকাঠি নাড়িয়ে আমাদের কে দিয়ে ওসব করায়? তাহলে কি বাকী হত্যা- খুন- দুর্ঘটনা- মৃত্যু- ধর্ষণ- অন্যায়- অত্যাচার- নিষ্পেষণ- দুর্নীতি কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না? সেসব কি তাহলে খুব সাধারণ স্বাভাবিক ঘটনা?

সেসব 
কি আমাদের মেনে নেয়ার মত ই সব পরিস্থিতি? আমরা কি আসলেই আহাম্মক? হয়তো তাই ই... নইলে আমরা বারবার হাল ছেড়ে দিতাম না কিংবা ক্ষণে ক্ষণে মুহূর্তের জন্য ছুড়ে দেয়া বল টা ক্যাচ করেই ক্ষ্যান্ত দিতাম না। আমরা আসলেই কি কোন সু-পরিবর্তনের জন্য কিছু করছি নাকি অন্যের হাতের পুতুল হয়েই নেচে যাচ্ছি? কেউ কেউ নিজ স্বার্থেই নেচে চলে কিন্তু বাকীরা?

 দেশের তো হাজার টা সমস্যা তাহলে সেই সমস্যা গুলো সমাধানে আমরা কি নিজেদের গুছিয়ে তৈরী করছি? আমরা কি একেক টি টীম করে দায়িত্ব ভাগ করে দেশের সমস্যা টির সমাধান এর পথে এগুচ্ছি? আমরা কি আদৌ বিশ্বাস করি যে, আমরা পারবো/ আমরা সু- পরিবর্তন আনতে পারবো? যদি আত্মবিশ্বাস ই থেকে থাকে আমাদের তাহলে আমাদের সেই কর্ম কোথায়? কোথায় সেই অবদান?

ছোটবেলায় পড়ায় ফাঁকি দেয়ার সময় বুঝতেই পারতাম না যে, আসলে নিজেকেই ফাঁকি দিচ্ছি, নিজের ই ক্ষতি করছি। আজ ও আমরা সেই ছোট ই আছি! বড় হইনি একটু ও।

আজ ও আমরা নিজেকে ফাঁকি দিয়ে, পালিয়ে পালিয়ে নিজের ই ক্ষতি করছি এবং সমূহ ক্ষতির দিকে ধাবমান হচ্ছি কিন্তু কিছুই বুঝতে পারছি না!!! আমরা সেই ছোট টি ই রয়ে গেছি। আমরা পণ করেছি, আমরা আর কোনদিন বড় হবো না!!!!
*সুশীলসমাজ* *বাঙালি* *আদিবাসী* *নীতিকথা* *দুর্ঘটনা* *ছোটবেলা* *ফাঁকিবাজি* *সচেতনতা* *বিবেক* *বিচার* *সভ্যতা* *দৃষ্টিভঙ্গি*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★