আমাদেরঢাকা

আমাদেরঢাকা নিয়ে কি ভাবছো?

জোবায়ের রহমান: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বেইলী রোড:
মগবাজার থেকে আরেকটু এগোলে আজকের নাটকপাড়া বেইলী রোড।
বেইলী রোডের নামকরণ নিয়ে বেশ বিতর্ক আছে। মহীশুরের টিপু সুলতানের সঙ্গে কর্ণেল বেইলী ও সুনাম অর্জন করেছিলেন। এজন্য তার নামানুসারে বেইলী রোডের নামকরণ করা হয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন। 
অন্য ধারণা টি এইচ বেইলীকে ঘিরে। ওহাবী আন্দোলন দমন কালে স্পেশাল বেঙ্গল পুলিশের ডি. আই. জি এইচ বেইলী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। তার নামানুসারে বেইলী রোডের নামকরণ হয়েছে বলে কেউ কেউ মনে করেন।

মতিঝিলঃ
ওদিকে মোঘল সাম্রাজ্যের সময়কাল হতেই মতিঝিল এলাকার নাম শোনা যায়।
এই এলাকাটি সেই সময় মির্জা মোহাম্মদের মহল হিসেবে গণ্য হতো, যার মধ্যে ছিল একটি পুকুর। শুরুতে সুকাকু মহলের পুকুর হিসেবে খ্যাত হলেও পরে এই পুকুরটি মতিঝিল নামে পরিচিত হয়ে উঠে এবং এর নামানুসারেই এলাকাটির নামকরণ করা হয়।

ওয়ারীঃ
পুরানো ঢাকার অভিজাত এলাকা ওয়ারী।
ওয়ারী বুড়িগঙ্গা নদীর ওপরে গড়ে ওঠা আদি ঢাকা শহরের প্রথম পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা। সে সময় ওয়ারীর ছয় ভাগের পাঁচ ভাগই ছিল জঙ্গলাকীর্ণ। ১৮৮৪ সালে ঢাকার রাজস্ব প্রশাসক বা ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টার ছিলেন ফ্রেড্রিক ওয়্যার। তিনি জনবসতি স্থাপনের লক্ষ্যে পুরো এলাকাটিকে তিন ভাগে বিভক্ত করে উন্নয়ন শুরু করেন। তাঁর উদ্যোগে জঙ্গল কেটে রাস্তা তৈরি করা হয়। এসব ছিল লাল সুড়কি বিছানো পথ। এছাড়া রাস্তার দু পাশে তৈরি করা হয় ড্রেন। তৈরি করা হয় পানি সরবরাহের জন্য ওভারজহেড পানির ট্যাংক বা রিজার্ভার। ঐতিহাসিকেরা মনে করেন যে ফ্রেড্রিক ওয়্যারের নামানুসারেই এ আবাসিক এলাকাটির নামকরণ হয়েছিল ওয়ারী।

নারিন্দাঃ
মধ্য যুগে মোঘল শাসনামল থেকেই এখানে জনবসতি রয়েছে। এই এলাকাটির নাম এসেছে নারায়ণদিয়া শব্দের অপভ্রংশ থেকে, যার অর্থ হলো নারায়ণের দ্বীপ। ১৬৪০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় আগমণকারী পর্তুগিজ পরিব্রাজক ও ভ্রমণকারী সেবাস্তিয়ান মানরিকের বর্ণনায় নারিন্দার উল্লেখ পাওয়া যায়। সে সময় এই এলাকাটি ছিল সুবা বাংলার রাজধানী ঢাকা শহরের পূর্ব সীমান্ত। পরবর্তীকালে, বিশেষ করে ইংরেজ শাসনামলে ঢাকা শহরের লোকসংখ্যা যখন কমে আসে, তখন নারিন্দা প্রায় জনশূণ্য হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে জনৈক নারায়ণ উক্ত এলাকায় একটি বিচ্ছিন্ন জনপদের গোড়াপত্তন করেন যা নারায়ণের দ্বীপ বলে পরিচিতি পায়; আর সেখান হতেই নারিন্দা নামকরণ।

শাঁখারিবাজারঃ
শাঁখারিবাজার ঢাকা শহরের পুরানো ঢাকার একটি ঐতিহাসিক এলাকা।
এই এলাকায় বসবাসকারী শাঁখারীদের নামানুসারেই এলাকাটির নামকরণ করা হয়েছে। একইভাবে তাঁতিবাজার। লক্ষ্মীবাজার এর নামকরণ হয়েছিল ঐ এলাকায় অবস্থিত প্রাচীন লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দিরের নামানুসারে।

যাত্রাবাড়িঃ
যাত্রাবাড়ি ১৯৫০ সালে ছিল একটি নিভৃত পল্লী।
যাত্রাবাড়ি এলাকাটি একসময় ব্রাক্ষ্মণচিরণ নামে পরিচিত ছিল। ব্রাক্ষ্মণচিরণ এলাকার একটি বাড়িতে যাত্রামন্ডপ ছিল। প্রায়ই সেখানে যাত্রাপালা হতো। একমাত্র যাত্রাই ছিল চিত্তবিনোদনের উৎস। তাই যাত্রার প্রতি লোকজনের আগ্রহ ছিল বেশী। যে বাড়িটিতে যাত্রামন্ডপটি অবস্থিত সেটিকে লোকজন তখন যাত্রাবাড়ি নামে ডাকতো। সেই থেকেই এলাকাটির নাম যাত্রাবাড়ি হিসেবে পরিচিত হয়।

আরমানিটোলাঃ
পুরাতন ঢাকার আরমানিটোলা। অনেক পূর্বে এখানে আর্মেনিয়ার অধিবাসী বা আর্মেনিয়ানরা থাকতেন, তাই এলাকাটির নামকরণ হয়ে যায় আরমানিটোলা।

চকবাজারঃ
ঢাকার চকবাজারের পত্তন হয় মুঘল আমলে।
মোঘল আমলে সেনাপতি মানসিংহ পূর্ববঙ্গে এসেছিলেন বিদ্রোহ দমন করতে। ১৬০২ সালে তিনি ভাওয়াল থেকে সদর দফতর স্থানান্তর করেছিলেন বর্তমান কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গায়। সেখানেই মোঘল দূর্গ স্থাপিত হয়েছিল। মোঘল দূর্গের পাশেই গড়ে উঠে চকবাজার। তবে এক্সময় এই চকবাজারকে বহুলোক চৌক বন্দর নামে ডাকতেন। সেখান থেকেই আজকের চকবাজার।

লালবাগঃ
চকবাজার এর পার্শ্ববর্তী এলাকা লালবাগ যা লালবাগের কেল্লার জন্য বিখ্যাত। এখনকার গোলাপবাগান হতে এরকম নামকরণের অসমর্থিত সূত্র পাওয়া যায়।

আজিমপুরঃ
লালবাগ এর পার্শ্ববর্তী এলাকা আজিমপুর এর নামকরণ নিয়ে বিতর্ক আছে।
অনেকে মনে করেন, সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র শাহজাদা আজমের নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছিল এ এলাকার। শাহজাদা আজম বাংলার সুবেদার ছিলেন ১৬৭৮ থে ১৬৭৯ সাল পর্যন্ত। তিনি তখন লালবাগ দুর্গের কাজ শুরু করেছিলেন। তার কর্মচারীরা বাস করতেন এই এলাকায়। তখন সেই এলাকাটি আজমপুরা নামে পরিচিত ছিল। অনেকে আবার মনে করেন, সম্রাট আওরঙ্গজেবের নাতি শাহজাদা আজিমুশশানের নামে নামকরণ করা হয়েছিল আজিমপুর। আজিমুশশান বাংলার সুবাদার ছিলেন ১৬৯৭ থেকে ১৭০৩ সাল পর্যন্ত। তার আমলে এখানে আমলাদের জন্য আবাসস্থল নির্মাণ শুরু হয় বলে ধারণা করা হয়।

নীলক্ষেতঃ
বৃটিশরা এদেশে আসার পর থেকেই ইউরোপিয়ানরা বিভিন্ন এলাকার নীল চাষ শুরু করে। সেই সময় ঢাকার নীলক্ষেত এলাকার বিরাট প্রান্তরজুড়ে নীল চাষ করা হতো। দীর্ঘকাল ধরে সেই নীল চাষ চলে। সেই এলাকাটিতে নীল উৎপন্ন হতো প্রচুর। প্রচুর নীল উৎপন্ন হতো বলেই আজও নীলক্ষেতের নামের সাথে নীল শব্দটি জড়িয়ে আছে। লোকজন এলাকাটিকেও চিনেছে এই নামে। নীলক্ষেত এলাকার নামকরণ করা হয় নীলচাষের স্থান থেকে। যে সব জমিতে চাষাবাদ করা হয় সেই জমিকে ক্ষেত নামে অবহিত করা হয়। এটা বেশ আগের রীতি। নীল এবং চাষাবাদের ক্ষেত এই দুয়ের মিশ্রণে নাম হয় নীলক্ষেত। 

*ঢাকা* *আমাদেরঢাকা* *ইতিহাস* *রাজধানী*

জোবায়ের রহমান: একটি বেশব্লগ লিখেছে

হাতিরপুলঃ
ফারসি ‘পিল’ শব্দের অর্থ হাতি আর ‘খানা’ শব্দের অর্থ জায়গা, দুটো মিলে পিলখানা। যার অর্থ হাতিশালা, এখানেটাকার বিনিময়ে হাতি পোষ মানানো হত। এই পিলখানা হতে ঢাকেশ্বরী জঙ্গলে (আজকের ঢাকেশ্বরী মন্দির সংলগ্ন এলাকা) হাতিদের নিয়ে যাওয়া হতো হাতি চরানোর জন্য। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের দক্ষিন পাশে বিরাট পুকুরের মত একটি ডিচ ছিল যেখানে নবাবদের এইসব হাতিকে গোসল করানো হত। পিলখানার এই হাতিগুলোকে ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত যে পথে নিয়ে যাওয়া হত সেই পথটাই আজকের এলিফ্যান্ট রোড। এই পথ দিয়ে শাহবাগের দিকে যেতে একটি পুল ছিল, যে পুলটি অনেক উঁচু হওয়ায় হাতিগুলো স্বচ্ছন্দে তার নীচ দিয়ে চলাচল করতে পারতো। সেই পুলটি ছিল যে এলাকাটিতে সেই এলাকাই আজকের হাতিরপুল।

শাহবাগঃ
পাশের শাহবাগ এলাকাটির নামকরণ হল কিভাবে?
১৬১০ খ্রিস্টাব্দের পরবর্তী সময়ে মুঘল সম্রাট ঢাকাকে প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন এবং শাহবাগের বাগান গড়ে তোলেন। মোঘল সম্রাটের অতি প্রিয় এই বাগানের নাম হয় ‘শাহবাগ’ যার অর্থ ‘রাজকীয় বাগান’। উল্লেখ্য কয়েকটি সূত্রমতে, পরীবাগ ছিল শাহবাগেরই একটি অংশ।

আবুল হাসনাত রোডঃ
বৃটিশ শাসন আমলে ঢা কা মিউনিসিপালটির সহ-সভাপতি আবুল হাসনাত সাহেবের নামকরণ করা হয় এই রাস্তাটির।

আসাদ গেটঃ
সাত মসজিদ রোড এর পাশেই আসাদ গেট এলাকা।
ঢাকা শহরের লালমাটিয়ায় অবস্থিত একটি তোরণ। এই তোরণের নাম অনুযায়ী ঐ জায়গার নাম আসাদগেট হয়ে গেছে।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইউব খান ঢাকা এসে মোহাম্মদপুর এলাকার প্রথম পনেরটি বাড়ি কিছু পরিবারের জন্য বরাদ্দ করেন। সেই কারণেই মোহাম্মদপুর এলাকার প্রধান রাস্তার প্রধান গেটটির নামকরণ করা হয়েছিল আইউব গেট। ১৯৬৯ সালের ১১ দফা দাবী আদায়ের গণ আন্দোলণে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ। আসাদের শহীদ হওয়া সেই সময়ের গণ আন্দোলনে আনে নতুন মাত্রা। তবে আসাদুজ্জামান আসাদ বর্তমান আসাদ গেটের কাছে শহীদ হন নি। সেই সময়ের আন্দোলনটি ছিল আইউব খানের বিরুদ্ধে। সেইজন্যই আসাদের স্মৃতি রক্ষার জন্য ঢাকাবাসী আইউব গেটের নাম পরিবর্তন করে আসাদ গেট রাখেন। এই পরিবর্তনটি পাকিস্তান আমলেই হয়েছিল। ৬৯ এর গণ অভ্যুত্থানের সাক্ষী আসাদ্গেট আজও আমাদের চেতনায় উজ্জ্বল।

মোহাম্মদপুরঃ
আসাদ্গেটের পাশেই মোহাম্মদপুর এলাকা।
দেশ বিভাগের পর পরই একটি বড় সংখ্যার অবাঙ্গালি মুসলমান ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠী এ এলাকায় বসবাস শুরু করেন। ১৯৫৮ সালে হাউজিং সেটেলমেন্ট দপ্তরের মাধ্যমে এসব লোক এ এলাকায় কিছু জমি স্থায়ীভাবে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)- এর নামানুসারে মডেল টাউনটির নামকরণ হয় মোহাম্মদপুর। এ এলাকার বেশ কিছু রাস্তা দিল্লির মস্নদে অধিষ্ঠিত মুসলিম রাজন্যবর্গ এবং বৃটিশ যুগের শেষ অধ্যায়ে ভারতীয় মুসলিম জাগরণ অগ্রদূতদের নামানুসারে রাখা হয়েছিল। যেমনঃ বাবর রোড, শাহজাহান রোড, হুমায়ুন রোড, শেরশাহ সুরী রোড, রিজিয়া সুলতানা রোড, খিলজি রোড, ইকবাল রোড, তাজমহল রোড ইত্যাদি। যা অন্যান্য এলাকার নামকরণ থেকে সম্পূর্ণই আলাদা।

মিরপুরঃ
মোঘল আমলে ঢাকার অনেক অভিজাত লোকের নামের আগে মীর শব্দটি ব্যবহৃত হতো। ধারণা করা হয় কোন মীরের ভূ সম্পত্তির অন্তর্গত ছিল এলাকাটি, যা পরে মীরপুর বা মিরপুর নামে পরিচিতি লাভ করে।

মগবাজারঃ
মগবাজার এলাকার নামকরণ করা হয়েছে মগ তথা বর্মী বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের নাম থেকে।
১৬২০ খ্রিস্টাব্দে মগ সাম্রাজ্য তদানিন্তন মোগল সুবা বাংলার কেন্দ্রস্থল ঢাকা শহরে আক্রমণ চালায়। মোগল সুবাদার ইসলাম খাঁ মগদের তখনকার ঘাঁটি চট্টগ্রাম এলাকা জয় করেন। সেখানকার মগ শাসক মুকুট রায় ও তাঁর অনুসারীরা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে, এবং ইসলাম খাঁ তাদেরকে ঢাকা শহরের এই এলাকায় বসবাস করার অনুমতি প্রদান করেন। অবশ্য ঐতিহাসিক মুনতাসির মামুনের মতে এই ধারণা সঠিক নয়, এবং এই নামকরণ অনেক পরে বৃটিশ শাসনামলে তদানিন্তন বাংলায় আশ্রয় গ্রহণকারী মগ সর্দার কিং ব্রিং ও তাঁর অনুসারীদের বসবাসের কারণেই হয়েছে। ঊনবিংশ শতাব্দির মধ্যভাগ পর্যন্তও এই এলাকাটি ঘন জঙ্গলে পূর্ণ ছিল।

*ঢাকা* *আমাদেরঢাকা* *ইতিহাস* *রাজধানী*

জোবায়ের রহমান: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ধানমন্ডিঃ
আজকের আবাসিক এলাকা ধানমন্ডিতে বৃটিশ আমলে চাষাবাদ হতো। তবে সেই সময়ে ধানমন্ডিতে কিছু কিছু বসতিও ছিল। সেই এলাকায় ধান উৎপন্ন হতো বলেই নামকরণ ধানমন্ডি হয় নি। এলাকাটিতে ধানের এবং অন্যান্য শস্যের বীজের হাট বসতো। হাটবাজারকে ফার্সী এবং উর্দু ভাষায় মন্ডি বলা হয়। সেখান থেকেই এলাকাটির নাম ধানমন্ডি হয়। 

পরীবাগঃ
হাতিরপুলের পাশের এলাকা পরীবাগ। পরীবাগ এলাকার নামকরণ নিয়ে কয়েকটি মতবাদ প্রচলিত আছে। অনেকের মতে পরীবাগ এলাকার নামকরণ হয়েছে নবাব আহসান উল্লাহর মেয়ে পরীবানুর নামানুসারে। পরীবানু ছিলেন নবাব সলিমুল্লাহর সৎ বোন। এটি ছিল ঢাকার নবাবদের বাগান বাড়ি। তার আগে এলাকাটি হিন্দু জমিদারদের ছিল। নবাব সলিমুল্লাহ হিন্দু জমিদারদের কাছ থেকে এলাকাটি কিনে নিয়েছিলেন। পরীবানুর আবাসস্থল হিসেবে বাগানবাড়িটি পরীবাগ নামে পরিচিতি লাভ করে। 
আরেকটি মত হলো নবাব সলিমুল্লাহ তার পিতাকে না জানিয়ে পাটনা বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে পরী বেগমকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। পরী বেগম পরীবাগেই বসবাস করতো বলে এলাকাটির নাম পরীবাগ হয়েছে।
আরেকটি মত হলো, পরীবানু নামে নবাব আহসান উল্লাহর এক মেয়ে ছিল। সম্ভবত পরীবানুর নামে এখানে একটি বড় বাগান করেছিলেন আহসানউল্লাহ।

পাগলাপুলঃ
১৭ শতকে এখানে একটি নদী ছিল, নাম- পাগলা। মীর জুমলা নদীর উপর সুন্দর একটি পুল তৈরি করেছিলেন। অনেকেই সেই দৃষ্টিনন্দন পুল দেখতে আসতো। সেখান থেকেই জায়গার নাম পাগলাপুল।

পানিটোলাঃ
যারা টিন-ফয়েল তৈরি করতেন তাদের বলা হত পান্নিঅলা। পান্নিঅলারা যেখানে বাস করতেন সে এলাকাকে বলা হত পান্নিটোলা। পান্নিটোলা থেকে পানিটোলা। 

ফার্মগেটঃ
কৃষি উন্নয়ন, কৃষি ও পশুপালন গবেষণার জন্য বৃটিশ সরকার এখানে একটি ফার্ম বা খামার তৈরি করেছিল। সেই ফার্মের প্রধান ফটক বা গেট থেকে এলাকার নাম ফার্মগেট।

শ্যামলীঃ
১৯৫৭ সালে সমাজকর্মী আব্দুল গণি হায়দারসহ বেশ কিছু ব্যক্তি এ এলাকায় বাড়ি করেন। এখানে যেহেতু প্রচুর গাছপালা ছিল তাই সবাই মিলে আলোচনা করে এ এলাকার নাম দেন শ্যামলী।

সূত্রাপুরঃ
কাঠের কাজ যারা করতেন তাদের বলা হত সূত্রধর। এ এলাকায় এককালে অনেক সূত্রধর পরিবারের বসবাস ছিল।

সুক্কাটুলিঃ
১৮৭৮ সালে ঢাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালূ হয়। এর আগে কিছু লোক টাকার বিনিময়ে চামড়ার ব্যাগে করে শহরের বাসায় বাস্য বিশুদ্ধ খাবার পানি পৌঁছে দিতেন। এ পেশাজীবিদেরকে বলা হত ‘ভিস্তি’ বা ‘সুক্কা’। ভিস্তি বা সুক্কারা যে এলাকায় বাস করতেন সেটাই কালক্রমে সিক্কাটুলি নামে পরিচিত হয়। 


স্বামীবাগঃ
ত্রিপুরালিংগ স্বামী নামে এক ধনী এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী এক ব্যক্তি এ এলাকায় বাস করতেন। তিনি সবার কাছে স্বামীজি নামে পরিচিত ছিলেন। তার নামেই এলাকার নাম হয় স্বামীবাগ।

মালিবাগঃ
ঢাকা একসময় ছিল বাগানের শহর। বাগানের মালিদের ছিল দারুণ কদর। বাড়িতে বাড়িতে তো বাগান ছিলই, বিত্তশালীরা এমনিতেও সৌন্দর্য্য পিপাসু হয়ে বিশাল বিশাল সব ফুলের বাগান করতেন। ঢাকার বিভিন্ন জায়গার নামের শেষে ‘বাগ’ শব্দ সেই চিহ্ন বহন করে। সেই সময় মালিরা তাদের পরিবার নিয়ে যে এলাকায় বাস করতেন সেটাই আজকের মালিবাগ।
*ঢাকা* *আমাদেরঢাকা* *ইতিহাস* *রাজধানী*

জোবায়ের রহমান: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ঢাকার বিভিন্ন স্থানের নামকরণের ইতিহাস



ইন্দিরা রোডঃ
বেশীর ভাগ মানুষের ধারণা ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নামে নামকরণ করা হয়েছে রাস্তাটির।
আসলে তা নয়। এককালে এ এলাকায় দ্বিজদাস বাবু নামে এক বিত্তশালী ব্যক্তি বসবাস করতেন। তার ছিল বিশাল বাড়ি। বাড়ির কাছের এই রাস্তাটি তার বড় মেয়ে ইন্দিরার নামে নামকরণ করা হয় ইন্দিরা রোড।

পিলখানাঃ
ইংরেজ শাসনামলে যাতায়াত, মালামাল পরিবহন ও যুদ্ধের কাজে প্রচুর হাতি ব্যবহার করা হত। বন্য হাতিকে পোষ মানানো হত যেসব জায়গায় তাকে বলা হত পিলখানা। সে সময় ঢাকায় একটি বড় সরকারী পিলখানা ছিল। সরকারী কাজের বাইরেও ধনাঢ্য ঢাকাবাসীরা নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিয়ে তাদের হাতিগুলোকে এখানে পোষ মানানোর জন্য পাঠাতে পারতেন।

এলিফ্যান্ট রোডঃ
সে সময় রমনা এলাকায় মানুষজন তেমন বাস করত না। ছিল বিস্তৃর্ণ ফাঁকা এলাকা। এখানে পিলখানার হাতিগুলোকে চরানো হত। আর আশে পাশের খালে হাতিগুলোকে গোসল করানো হত। যে রাস্তা দিয়ে পিলখানার হাতিগুলোকে রমনার মাঠে আনা নেয়া করা হত সে রাস্তাটাই আজকের এলিফ্যান্ট রোড।

কাকরাইলঃ
ঊনিশ শতকের শেষ দশকে ঢাকার কমিশনার ছিলেন মিঃ ককরেল। সম্ভবত তার নামে সে এলাকার কোন রাস্তা ছিল। সে সময় ইংরেজ কমিশনারদের নামে রাস্তার নামকরণ করার রেওয়াজ ছিল। সেই ককরেল রোড থেকে কালক্রমে এলাকার নাম হয়ে যায় কাকরাইল।

কাগজীটোলাঃ
ইংরেজ শাসনামলে ঢাকায় কাগজ তৈরি করা হত। যারা কাগজ তৈরি করতেন তাদের বলা হত ‘কাগজী’। কাগজীরা যে এলাকায় বাস করতেন আর যেখানে কাগজ উৎপাদন ও বিক্রি করতেন সে এলাকাই কাগজীটোলা নামে পরিচিতি লাভ করে।

গোপীবাগঃ
গোপীনাগ নামক এক ধনী ব্যবসায়ী এই এলাকার মালিক ছিলেন। তিনি স্থাপন করেছিলেন ‘গোপীনাথ জিউর মন্দির’। তখন থেকেই এই এলাকার নাম গোপীবাগ।

চাঁদনী ঘাটঃ
সুবাদার ইসলাম খাঁর একটা বিলাশবহুল প্রমোদতরী ছিল। প্রমোদতরীর নাম ছিল- চাঁদনী। ‘চাঁদনী’ ঘাটে বাধা থাকত। অন্য কোন নৌকা এই ঘাটে আসতে পারত না। সেখান থেকেই এই এলাকার নাম চাঁদনী ঘাট।

টিকাটুলীঃ
একসময় হুক্কা টানার বেশ চল ছিল বাংলা মুল্লুকে। আর ঢাকার এই এলাকা ছিল হুক্কার ‘টিকা’ তৈরির জন্য বিখ্যাত। ‘টিকা’ তৈরিকারকরা এই এলাকায় বাস করতেন ও ব্যবসা করতেন।

তোপখানাঃ
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গোলন্দাজ বাহিনীর অবস্থান ছিল এইখানে।

পুরানা পল্টন, নয়া পল্টনঃ
এ এলাকা ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঢাকাস্থ সেনানিবাস।



*ঢাকা* *আমাদেরঢাকা* *ইতিহাস* *রাজধানী*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★