আমারমা

আমারমা নিয়ে কি ভাবছো?

সাদাত সাদ: ছোটবেলা ঔষধ খেতে চাইতাম না, মা অনেক জোর করে খাওয়াতো। টাকা না দিলে খেতাম না, তাই মা দশ টাকা দিত (খুশী২)... ১৯৯৯ সালে সেই রোজগার একটু দিগুণ হল (তালি) ২০০২ এ উচ্চবিদ্যালয়ে পা রাখার পরও আমার অবস্থার অবনতি হয়নি সেই আগের মতোই রয়ে গেলাম, অত:পর মা ক্লান্ত আর জোরাজুরি করতেন না। এইবার দেশে যাবার পর জ্বরে আক্রান্ত হলাম 'মা ঔষধের সাথে কিছু টাকা ও রাখল, ঔষধের সাথে টাকা দেখে একটু অবাক হয়ে বললামঃ মা টাকা কেন? " মা বললেন,, টাকা ছাড়া কোনদিন ঔষধ খেয়েছিস তুই?

*আমারমা* *মা* *আদর* *স্মৃতিচারণ* *শৈশব* *আমারশৈশব* *ছেলেবেলা*

দস্যু বনহুর: [পিরিতি-আমারকলিজা১] আপনার আমার এই জগত সংসা্র যা ঘামে ভেজা, রক্তে স্নাত অথচ কত আন্তরিক, নিগুঢ় মমতায় মুখ বুজে আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রবাহ কে এগিয়ে নিয়ে চলছে দুর্বিনীত! এত ঘনঘটার মাঝেও যখন নিভৃতে মনের কোণে আলোকপাত করে একটা মানচিত্র এঁকে নিই, যখন মননের ভাঁজ থেকে ইতিহাসকে স্মরন করি, যখন মা’ এর মুখটা ভেসে উঠে কল্পনার নকসিকাথায়, ভেসে উঠে পালতোলা নৌকা শিরা-উপশিরার মত আমার নদী মাতৃকায় তখনই চিৎকার করে বলে উঠি, আমি বাংলাদেশী!! বাংলাদেশ আমার!!

*আমারমা* *আমারদেশ*

মাসুম: একটি বেশব্লগ লিখেছে

আমি একটু বেশি সময়ই ফেসবুকে থাকি। তার কারণও আছে একটা। আমি এখনও বেকার। আর আমার দিনের অনেকটা সময়ই কোচিং আর টিউশনিতে চলে যায়। যেহেতু এখন বছরের শেষ সময় সেহেতু স্টুডেন্টদের প্রায় সিলেবাস কমপ্লিট হয়ে গেছে। সুতরাং এখন আমার অধিকাংশ সময় কাটে হাজিরা দিয়ে। গিয়ে স্টুডেন্টদের পড়া রিভাইস দিয়ে লিখতে বলি আর আমি বসে বসে ফেবু ঘাটি। সেজন্য ঘন্টা খানেক পরপর অফলাইন আর অনলাইনের পট পরিবর্তন হয়। আর এই সময় ব্যবধানটার কারণে অনেকের কাছে মনে হয় আমি সারাক্ষণ ফেসবুকে থাকি। তার মানে তাদের কাছে মনে হয় আমার ঘুম, টয়লেট কোনকিছুই করা লাগে না।
একদিন ফেবুতে কি একটা গল্প মনোযোগ দিয়ে পড়ছিলাম। দাদী ডাল পড়ে যাচ্ছে তোমার মনে হয় (সিদ্ধ ডাল উতলে পড়ছে) হঠাৎ স্টুডেন্ট এর চিল্লানীতে সোজা হয়ে বসি। সাথে সাথে বুঝিনি ঘটনার প্রবাহ। পরে খেয়াল হল। ষাটোর্দ্ধ একজন মহিলা (স্টুডেন্ট এর দাদী) গ্যাসের চুলায় ডাল সিদ্ধ করতে দিয়ে কিরণমালা দেখছিলেন। হয়ত উনার ইচ্ছে ছিল বিজ্ঞাপনের ফাকে ফাকে রান্নার কাজটা শেষ করবেন। কিন্তু সিরিয়ালে এতই মোহিত ছিলেন যে সেই পরিকল্পনা কাজে আসেনি। ফলশ্রুতিতে এই সমস্যা হল। তবে যাই হোক এর থেকেও বড় দুর্ঘটনার খবর কানে আসেই।
উনারে বেশ পরিশ্রম করতে দেখি। এখন যেহেতু শহুরে সমাজে এক ফ্লাটের পরিবারের সাথে অন্য ফ্লাটের মানুষের যোগাযোগই নাই বললেই চলে। সেহেতু একটু আধটু পরিশ্রম করে দিনশেষে বিনোদন হিসেবে সিরিয়ালের গুরত্বকে অস্বীকার করা যায় না। তবে টিভির সামনে বসে থাকা মানে চোখ আর মস্তিষ্কের কাজ বাড়িয়ে দেয়া। তাতে আর যাই হোক মনের প্রশান্তি আসে না। আমার মনে হয় খালেস দিলে নফল নামাজ পড়া, জিকির করা, কোরআন-হাদিস পড়াটা সর্বাপেক্ষা সেরা বিনোদন।
আমার মায়ের কথা একটু বলি। আমার আম্মা ও প্রায় ষাটের কাছাকাছি। সেকালের গ্রাম্য মহিলাগণের কাজের প্রতি আলাদা একটা নেশা আছে। এনারা কাজ ফেলে বসে থাকতে পারেন না। হাজার অসুস্থ হলেও নিজের কাজ নিজেই করেন। আমার আম্মাকে দেখেছি হাই প্রেসারে ঘাড় সোজা হয়ে গেলেও কাজ কর্ম ঠিক সুস্থ মানুষের মতই করতে। কত নিষেধ করেছি। উত্তর কমন। আমার কাজ কে করবে? তুই তো এখনও বউ আনিস নাই!! এরমাঝে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া বাদ যায় না। আর সন্ধ্যার পরে আমার ৪র্থ শ্রেণী পাশ করা আম্মা জায়নামাজে বসে হয় কোরআন পড়েন না হয় হাদিস পড়েন। খুব অসুস্থ থাকলে জায়নামাজে শুয়ে শুয়ে তসবিহ পড়েন। কখনো বা সারাদিনের পরিশ্রান্তে জায়নামাজেই ঘুমিয়ে পড়েন। এমন দৃশ্য দেখেও তৃপ্তি। আমার অভাবী মায়ের কখনো বিলাসীতার আক্ষেপ দেখিনি। যেটুকু পেয়েছেন সেটুকুতে খুশি থেকেছেন। আমি গর্বিত এমন মায়ের সন্তান হিসেবে।
মহান আল্লাহ!! আমার মায়ের বাকী সময়টুকু যেন সুস্থভাবে তার পথে কাটাতে পারেন সেই তাওফিক দান করেন।
*দুখোব্লগ* *আমারমা*

সাদাত সাদ: আমরা সবাই অভদ্র , দুষ্টু ছিলাম। সেকারণে আম্মু কে অনেক। দুঃখ কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। বেশি মানুষের ঘরে কারও না কারও অসুখ লেগেই থাকতো কিন্তু আমরা কেউই ঔষধ খেতে চাইতাম (না) আম্মু জোর করে ঔষধ খাওয়াতেন। এখন মনে হয় আম্মুর সেইদিনের সব কথা। এখন আর আম্মু আমাদের অসুখ হলে ঔষধ খাওয়াতে আসেনা। কারণ আমরা সবাই যে যার মত চলতে শিখেছি আম্মুকে আর ধরকার হয়(না)

*আম্মু* *আমারমা* *আমারকথা*

মাসুম: একটি বেশব্লগ লিখেছে

যেহেতু আমি নিম্নবিত্ত পরিবারের আর বাড়ির বাইরে থেকে পড়ছি সেহেতু ছুটিতে বাড়ি গেলে আমার মত বেকার আর ব্যাচেলারের জায়গা হয় বা পছন্দ করি পরিত্যক্ত ঘরে! সে ঘরে নেই কোন দরজা বা জানালা! আছে শুধু মাচা বা পাটাতন! আর মায়ের স্নেহভরা হাতের পরশে সেলাই করা কাথা, মায়ের কোমল হাতে বিছানো বেডসিট। যেহেতু দরজা জানালা নাই সেহেতু প্রাকৃতিক বাতাসে মুখরিত থাকে সারাক্ষণ! আর রাতে যখন ঘুমাই তখন ঘুমের আগে বা মাঝরাতে বা গভীর রাতে ঘুম ভাঙলে ঘরের মধ্যে এলোমেলো উড়তে থাকা জোনাকি দেখি! ক্ষণেক্ষণে রুপালী আলোর আঁচড় দিয়ে, এলোমেলো বা আকাবাকা রশ্মিজাল ছড়িয়ে উড়তে থাকে। কখনও পথের দিশা পেলে হারিয়ে যায় বাগানে উড়তে থাকা জোনাইয়ের ঝাকে! আর দিশা না মিললে এ কোণ ও কোণ উড়ে মশারির উপর এসে বসে! ইচ্ছে জাগে হাতের তালুতে রেখে ওর আলো জ্বালানো দেখি! মুগ্ধ হয়ে ছুয়ে দিতে চাই! কখনো ভাবি আমার পাশে শুয়ে থাকা কোন রুপসী কন্যার কপাল নতুবা গন্ডদেশে আলতো ছুয়ে দিই! অথবা সাদা আঁচলের নিচে আটকে দেই! সেসব ভাবনাগুলো গভীর রাতে দানা বাধে, জোনাকি হয়ে রুপালী আঁচড় কেটে উড়ে চলে দিগ্বিদিক!
আজ বাড়ি থেকে চলে আসলাম! এই গভীর রাতে সেই মায়ের স্নেহাশিস বিছানা মিছ করি, রান্নাকরা খাবার মিস করি, জোনাকির রুপালি আলো মিস করি!
শুধু পাশে ঘরঘর করা টেবিল ফ্যানের একঘেয়ে শব্দে সেই কল্পিত রুপসী এসে কোন লোভ দেখায় না! এই হল শহর! অকৃত্রিমতা বর্জিত শহর! শুধু মাঝেমধ্যে ঘুমকাতুরে এই আমারে নস্টালজিক করে দেয়!
*দুখোব্লগ* *নস্টালজিয়া* *জোনাকি* *আমারমা* *মায়েরস্নেহ*

মাসুম: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ইট পাথরের শহরে, তোমার স্নেহ-পরশ-মায়া ছাড়িয়ে

রয়েছি একাকী নিভৃতে, কৃত্রিমতার ডামাডোলে!!

সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে, শ্রান্তিতে এলিয়ে দিই এ দেহ

ঘুম এলো কি এলো না, খেয়াল করে না কেহ।

রজনী গভীর হল—

শহরের আবহে নিরন্তর ঝিঝির ডাক নেই,

দখিনা বাতাস পাবার ফাক ফোকরও নেই।

শুধু থেকে থেকে পুরনো টেবিল ফ্যানের শব্দ কানে লাগে ধেই ধেই।

শুধুই-নেই তোমার হাত পাখার অবিরত সাঁ সাঁ শব্দ,

পাইনে তোমার ঘামে ভেজা আচলের গন্ধ।

শুধু নিভৃতে তোমার অস্তিত্ব মাগি, খুজে ফিরি আমার চারিপাশ

ব্যস্ততা আর কৃত্রিমতা, দেয়না তবু অবকাশ।

 

মা! ওমা! মা!!

জানো-প্রকৃতিই সবথেকে বড় নিষ্ঠুর—

আর মহাকাল তার বিশ্বস্ত চেলা।

কেন তা জানো?

সময়ের পরিক্রমায়, তুমি-আমি ক্রমে, দুরে যাচ্ছি সরে,

একদিন এই পৃথিবী ফেলে, আমি-তুমি যাবো মরে!!

 

মরণ! আরেক নিষ্ঠুর জমের অবকাশ

গুড়িয়ে দেয় সব বাধন, না জানিয়ে আভাস।

সবই মনে থাকে তোমায়- মা!

যেদিন ভ্রুণে এসেছিলাম, জুড়েছিলাম অবিচ্ছিন্ন বাধনে,

ফিটাসে গাড়লাম বসবাস, অপরিসীম ব্যথা আর বেদনে।

ধীরে ধীরে ভ্রুণ থেকে বড় হলাম ক্রমে,

সময়ের পরিক্রমায় দুরত্ব তখনি বাড়তে থাকল,

সমানতা্লে বাড়ল নাভি রজ্জু।

ক্রমান্বয়ে বাড়িয়েছি ব্যথা বেদনা, ক্রমে সরেছি দুরে,

তুমি সহে গেছ অসহ্য যন্ত্রনা, বিনিময়ে আঘাত না দিয়ে।

এরপর এল সেই দিন, যতনা কেদেছি তার বেশি কাদিয়েছি,

হয়েছি নাড়ি ছেড়া ধন।

নাভিরজ্জুর আহার ছেড়ে, পিয়েছি তোমার স্তন।

পৃথিবীর সেরা খাবারের আধার, সেরা মূল্যবান।

সেই নাড়ি ছেড়েছি যেদিন, সরেছি ক্রমে ততই

কারণে অকারণে আকড়ে ধরেছ, তবু যন্ত্রণা দিয়েছি অথৈ।

মাগো! ও মা!!

আরো বড় হলাম।

প্রাইমারীতে পাঠিয়ে বাড়ায়ে দিলে দুরত্ব।

তারপর, দুরন্ত ডানপিঠে, শৈশবেই হারালাম তোমার শীতল আঁচল,

পড়া পড়া আর পড়া,

বিদ্যালয় নামক কারাগারে, ঠিক যেন খাঁচাতে পাখি আটকে পড়া।

এরপর মাধ্যমিকে- শৈশব কৈশোরের সন্ধিস্থলে,

ক্রোশ পথের কাদা মাড়িয়ে, অবিদ্যা আনতে যাওয়া।

মাগো খেয়াল করেছ?

দুরত্ব কিন্তু বাড়িয়েই চলেছি নিরন্তর।

খেয়ালে বা বেখেয়ালে, কারণে বা অকারণে

প্রকৃতির অবাধ্য কড়া শাসনে।

কৈশোরের মুর্ছনায়-

প্রেমে মজেছি, আবেগে ভেসেছি,

প্রকৃতির খেয়ালে, মহাকালের তাড়নায়।

যে প্রেমে মজেছিনু, সে প্রেম বোঝেনা কিছু,

অহেতুক তোমায় দুরে ঠেলেছি, ফেলেছি মায়া মমতা পিছু।

মাগো আরো দুরত্ব বাড়িয়ে, প্রবেশিকা শেষ করে,

এলাম হালের সভ্যতায়, প্রকৃতির স্বাধীনতাকে পিছে ফেলে।

জানো মা? চক্ষু খুলতে থাকল

কত অসভ্যতা, অসত্যতা, অসম্মানের ডামাডোলে

আমি গেয়োভুত জুটেছি শেষে

সভ্যতা নামক অসভ্যতার কোলে।

তোমার স্নেহ কোমল আঁচল ছেড়ে,

তোমার বন্ধন রজ্জুকে পিষে, মাড়িয়ে

তোমার মধুর শাসন কে ছাড়িয়ে,

অসুস্থতায় তোমার মলিন চাহনিকে এড়িয়ে,

পড়ে রয়েছি মা! দুর থেকে দুরান্তরে।

মাগো! মা? ওমা?

জানি, তোমার ছিন্ন নাভিরজ্জু-
পীড়া দেয় বারে বারে,
ঠিক যেন প্রাকৃতিক রিমোর্ট সেন্সর,
যদি আমি পড়ি কভু বিপদে

মা! তুমি এতই পাষানী?

দূরান্তরে, নিরন্তর সহেছ যাতনা

আপনাকে না ভাবী

জানো মা! আমার মাইওপিয়া--

ঝাপসা দেখায় দুরের সবকিছু

যদি বা দেখি চশমা খুলিয়া

 

আরও ঝাপসা হল এখন--

অ্যাকুয়াস হিউমার দানা বাধল আখিপটে,

ডায়েরীর পাতা, লেখন-লেখনি সবই ঝাপসা

কেমনে এলোমেলো বক্রে দ্যোদুল্যমান!

জানো মা! অশ্রুও আজকাল তোমায় খুজে,

চোখের কোণ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে,

ছুয়ে যায় সেসব চিবুক, গাল, গন্ডদেশ,

যেখানে তোমার কোমল ঠোটের, রয়েছে চুম্বনের লেশ

জানি মা, তোমারে কাঁদানোর টপিকস লাগে না,

নাড়ি ছেড়া ধনরে তুমি অদৃশ্যে দেখতে পাও

মানুষ করতে পারলে তবে হাসি আর কান্না,

মিলে মিশে এক করে দাও

সৃষ্টি কর এক অনাবিল আবহ

বারে বারে দেখি, অনুভব করি

তোমার সেই আনন্দাশ্রু

 

বুকের ভিতর হাহাকার করে,

কেঁপে কেঁপে উঠে ফুসফুস-হার্ট,

কান্নাতে যে বড় সুখ পাই

তরলিত করে বেদনার জট

মা!!
তুমি অনিন্দ্য, অতুলনীয়া
অসীম স্নেহের আধার।।
তোমার পদতলে স্থান নিব
এই তবে মোর চির অঙ্গীকার।।

*মা* *আমারমা* *দুখোব্লগ*

মাসুম: একটি বেশব্লগ লিখেছে

আমি ছোটবেলা থেকে পড়াশুনার জন্য বেশ স্বাধীনতা পেয়েছি। আম্মা কোনোসময় বলতেন না এই পড়তে বসিস না কেন? তার কতক কারন ছিল! এক, গ্রামের স্কুলে আমার অবস্থান বেশ ভালো ছিল। দুই, দরিদ্রতার কারণে কেরোসিন তেল কিনে নিয়মিত হারিকেন বা লন্ঠন জালিয়ে এশার আযানের পরেও গভীর রাত পর্যন্ত পড়ার ব্যবস্থা না করতে পারা! তাই যদি কখনো আম্মা বা ভাই বোন রাতের বেলা হাতে কলম দেখত তবে রাগ করত! বলতো, রাতে শুধু পড়বি, লেখার কাজ সব দিনের বেলা, কারণ হিসেবে বলত রাতে লিখলে চোখ নষ্ট হয়ে যায়! যদিও এই ব্যাখ্যার কারণ তখন না বুঝলেও এখন বুঝি!

যখন সন্ধ্যা হত তখন হাত পা ধুয়ে পড়তে বসলে আম্মা বা দাদু (দাদি) মাগরিব এর নামাজ পড়ে পাশে এসে বসতেন। আম্মা ছিলেন ক্লাস ফোর পাস। সুতরাং খুব বড় ক্লাশের বই পড়ানো উনার দু:সাধ্য ছিল। প্রাইমারি বাংলা বই পড়াতে গিয়ে উনি নিজে আগে বানান করে পড়তেন তারপর অন্য ভাইবোন দের পড়াতেন! মেজো বোনের ফোরে বাংলা বইতে দুখোমিয়ার জীবণ কাহিনী পড়ানোর কথা এখনো কানে বাজে! আমরা জানি কাজী নজরুল ইসলাম খুব কষ্টে শৈশব কৈশোর কাটিয়েছিলেন। সেই গল্পে একটা লাইনের কিছু শব্দ ছিল "অনেক খাটুনির পর " আম্মা যে কয়বার খাটুনি বলেছিলেন মেঝো আপা সেই কবার খানুটি বলেছিলেন! সিলেবল আকারে বলেও আপা খাটুনিকে খানুটির বাইরে খুব সহজে আনতে পারেন নি! আমরা কতক ভাইবোন একসাথে পড়তে বসতাম বলে সেই দিনের কথা আজও দুই সন্তানের জননী মেঝো আপাকে বলে খেপানো প্রায়শই মুখরোচক হয়। অনেকদিন এমন হয়েছে পড়তে পড়তে এশার আগেই তেল ফুরিয়ে যেত! তখন মায়ের পাশে জড়ো হয়ে নবীদের কাহিনী বা রুপকথার গল্প শুনতাম। মধুর ছিল সেই দিন গুলো। পড়ার সময় হোক আর পরবর্তি গল্প শোনার সময়ই হোক।

আব্বা সবসময় সংসার বা আমাদের প্রতি একটু বেশি উদাসীন ছিলেন। তাই আমরা কি খেলাম বা কে কোন ক্লাশে কি রেজাল্ট করলাম বা আদৌ কোন খাতা কলম লাগবে কি না সেসব নিয়ে এখনো মাথাব্যথা নেই! যৌথ পরিবারে মায়ের সারাদিনের খাটুনির পর সন্ধ্যাকাল সময়টাই আমরা আম্মার সান্নিধ্য পেতাম। কখনো আহামরি খাবার খাওয়ানোর সুযোগ হয়নি! অনেকদিন এমন হয়েছে সন্ধ্যা থেকেই ঘরে বাতি জ্বলেনি! আমরা সেদিন হয় বারান্দায় খেলতাম নতুবা চাঁদনী রাত হলে উঠোনে ফেলে রাখা ধানের গাদায় লাফালাফি বা লুকোচুরি খেলতাম। আর আম্মা হয় তসবিহ পড়তেন না হলে সুর করে গজল, ক্বীরাত বা হুলিয়ানামা পড়তেন। মহানবীর হুলিয়ানামা শুনতে খুবই ভালো লাগতো। অবাক হতাম মহান স্রষ্টা একজনমাত্র নবীজিকে কত বড় অবস্থান দিয়েছেন গোনাহগার বান্দাদের শুপারিশের জন্য। আম্মা বলতেন হুলিয়ানামা মুখস্থ থাকলে হাশর ময়দানে নবীজিকে চিনতে সুবিধা হবে! নবীজী তখন সহজে শুপারিশ করবেন। খুব খেয়াল করে শুনতাম সেই হুলিয়ানামা। এইটা ঠিক, কখনো পুরোপুরি মুখস্থ হয়নি তবে আম্মার কন্ঠের সেই আওয়াজ আজও কানে বাজে! অনেক সময়ে আম্মা কেঁদে দিতেন। আমার ধর্মের ভিত ঐখান থেকেই।

দাদুর কাছে প্রতিদিন সকালে আরবি পড়তাম। ফোর ফাইভে থাকতেই কোরআন খতম করেছিলাম। কোরআন পড়া শুরুর আগে অর্থাৎ আমপারা শেষ করে যেদিন কোরআন শরীফ দাদু পড়ানো শুরু করতেন সেদিন ছোট একটা মিলাদ পড়াতেন। গ্রামের অধিকাংশ ছেলেমেয়েরা দাদুর কাছে আরবি শিখতে আসতো। দাদু সম্পুর্ন ফ্রি পড়াতেন। আমাদের গ্রামে সে সময় কোন মক্তব ছিল না!

এক সময় দাদু প্যারালাইজড হন। দশ বছরভর অনেক কষ্টে কাটিয়েছেন! দাদুর বাম সাইড প্রথম প্যারালাইজড হয়! তখন দাদু লাঠি ভর দিয়ে চলতেন! নিজের কাজ নিজে করতেন। নামাজ কখনো ক্বাজা পড়তে দেখিনি! তখনো একটু আধটু স্বাভাবিক ছিলেন! তার কয়েকবছর পর আরেকদফা প্যারালাইজড হন! এরপরে তিনি বাকশক্তি হারান। প্রায় সময়ই আম্মা, ছোট চাচীমা বা আমি ও আমার ভাই বোনেরা অথবা ছোট চাচাতো ভাই বোনেরা দাদুর ওজু করিয়ে দিতাম! একসময় পানি ঢেলে দিতাম দাদু নিজে মুখ হাত পা ধুতেন! যখন আরো অচল হয়ে পড়লেন তখন হাত পা বিশেষ করে ডান হাত পা ধুয়ে দিতাম। সে সময় শিক্ষাগুরুর মর্যাদা কবিতা মনে পড়ত!

এরপরে আরো একদফা দাদু প্যারালাইজড হলেন। খুব বেশি হাটতে পারতেন না! একটু হাটতেই হাপিয়ে উঠতেন। শেষের দিকে দাদু অনেক কষ্টে কাটিয়েছেন! মৃত্যুর দুদিন আগে আম্মা বলেছিলেন ফোন করে দু চারদিন বেড়িয়ে যা তোর দাদু খুব অসুস্থ! আম্মার কথামত বাড়িতে গেছিলাম আর ঠিক তৃতীয় দিনের দিন দাদু শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। খুব কাছ থেকে দাদুর মৃত্যু দেখেছিলাম! আম্মাকে দাদু খুব ভালোবাসতেন। কারণ আম্মা নি:স্বার্থ ভাবে দাদুকে সেবা করতেন। যৌথ পরিবারে অনেক কাজ আম্মা করতেন। আর আম্মা পরহেজগার ছিলেন।

এখনো দাদুর মৃত্যু মনে পড়ে! আমি পাশে বসে সুরা ইয়াছিন পড়ছিলাম, সম্ভবত তিনবার শেষ করার আগেই দাদু শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেছিলেন। শেষের দিকে দাদু আম্মাকে খুব জোরে আঁকড়ে ধরেছিলেন! কোরআনের তেলোয়াতের সাথে ভিতর থেকে কান্নার আওয়াজ সহসা গলা কেঁপে কেঁপে উঠছিল আমার! এখন লিখতে গিয়ে চোখের কোনে পানি জমেছে। দাদুও আমাকে অনেক ভালোবাসতেন অন্যান্য ভাইবোন দের থেকেও! কারন আমি নামাজ পড়ার চেষ্টা করতাম, নিয়মিত কোরআন পড়তাম আর বাইরের খারাপ ছেলেদের সাথে কম মিশতাম।

মৃত্যুর আগে দাদু আমাকে কিছু দুয়া আর দুরুদ উনার কবরের পাশে পড়তে বলেছিলেন। শুধুমাত্র আমার উপর দাদু আস্থা রেখেই এই গুরু দায়িত্ব দিয়েছিলেন এবং আল্লাহর রহমতে আমি সেটা পালন করতে পেরেছি। দাদুর স্নেহের ঋণ অপরিশোধ যোগ্য। কোন সেবা বা উপযোগ কখনোই পরিশোধ যোগ্য নয়ই!

একটা কথা উল্লেখ্য যে আমার জন্মের পরপরই আম্মা কঠিন টাইফয়েড এ আক্রান্ত হন। উদভ্রান্ত আর মানসিক ভাবে অপ্রকৃতস্থ ছিলেন। তাই আমি মায়ের স্তন কম পান করেছি। অনেকদিন গিয়েছে আমি খাটের নিচে কখনো বা খেলতে খেলতে প্রসাব করে কাদামাটি করে ঘুমিয়ে গিয়েছি! আম্মা সেদিক ভ্রুক্ষেপ করতে পারতেন না। দাদু এসে আমাকে গোসল করিয়ে শোয়ায়ে দিতেন। আমার আর মায়ের এসব দুর্দশা দেখে দাদা আমাকে দুখোমিয়া বলে ডাকতেন!

এই হল আমার মানুষ হিসেবে পরিচিত হবার, গড়ে উঠার ভিত। ছোট থেকেই কোন এক নীতি আর আদর্শে আমি চলি! যে নীতির কারণে আমি আমার পরিচিতদের কাছে অনেক সময় পাগল আখ্যায়িত হই! তবুও আজন্ম এই নীতি আমি ধরেই রাখব। এ এক অন্য তৃপ্তি।

কতক দিন ধরে লেখাটা লিখব ভাবছিলাম! এই লেখার আসল উদ্দেশ্য ছিল আজকালকার মায়েদের নিয়ে লেখা! আমার আম্মা যতটুকু শিক্ষিতা ছিলেন তাতে হয়ত গর্ব বোধের জায়গা ছিল না। কিন্তু আশৈশব আমাদের যেটুকু সময় দিয়েছেন সেই সময়টুকু আমার তার ছেড়া মাথায় অনেক ইলেক্ট্রোপ্লেটিং এর যোগান দিয়েছেন। কিন্তু এখনকার মায়েরা শিক্ষিতা হউক আর নাই বা হউক তারা সারাদিন কাজ করুক বা না করুক , জব করুক আর না করুক সন্ধ্যা হোক আর বিকাল হোক হাতে তাসবিহ না নিয়ে রিমোর্ট নিয়ে বসে! এরপরে চলে গভীর রাত অবধি সিরিয়াল। কূটনামী শিখবে, শ্বাশুড়ীকে দেখবে না। প্রেম পরোকীয়া দেখবে, শিখবে মেয়েদের সাথে নিয়ে অথচ মেয়ে বাইরে কিছু করলে মেয়ের দোষের শেষ নেই।

বলবৃদ্ধিকরণ নীতিতে সামান্য বল প্রয়োগে বেশি বল পেয়ে অনেক যন্ত্রের উপযোগ আমরা নেই। কিন্তু সন্তানের কাছ থেকে ভালো উপযোগ নিতে হলে বল বৃদ্ধিকরণ নীতির উল্টো নীতি নিতে হবে! কারন এক্ষেত্রে ইনপুট এর সাথে আউট পুট পুরাই ব্যস্তানুপাতিক। এবং এই ব্যস্তানুপাতিক এর আবার একটা শর্ত আছে! সেটা হল ইনপুট খুব বেশি এবং নিখুঁত হতে হবে তাতে কিছুটা হলেও আউটপুট পাওয়া যাবে! কারন মানুষ স্বভাবগত ভাবে খারাপ কাজে বেশি আগ্রহী। একটা প্রচলিত কথা আছে আটা ভালো হলে রুটি ভালো হবে যদি রাঁধুনি দক্ষ হয়!

সবশেষে এটাই বলব, *আমার-মা-সেরা-মা‬* (ভালবাসি)(হার্ট)

*দুখোব্লগ* *মা* *আমারমা* *আম্মা* *আমার-শৈশব‬* *আমার-ছেলেবেলা*
৫/৫

আড়াল থেকেই বলছি: [বাঘমামা-আম্মু]একজনের কান্না সইতে না পেরে নিয়ে আসছিলাম এয়ারপোর্ট এর ভিতরে , আর যখন আমার ফ্লাইট ফ্লাই করলো তখন তার সাথে ফোন এ শেষ কথা হচ্ছিল, তখন আমাকে বলল তুই এই প্লেন করে আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছিস বাবা!!!!

*আমারমা*

হঠাৎ আমি: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 আপনার ' মা ' কে আপনি কি বলে সম্বোধ করেন? মা / আম্মু/ আম্মা/ .......

উত্তর দাও (৭৮ টি উত্তর আছে )

.
*আম্মা* *আম্মাজান* *আমারমা* *মা* *আম্মু*

মাসুম: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

মা তুমি কেমন আছ
যখন রাত্রি নিঝুম নেই চোখে ঘুম একলা শুন্য ঘরে তোমায় মনে পড়ে মাগো তোমায় মনে পড়ে,,,
তুমি সবই বুঝ।কিন্তু এখন হয়ত ঘুমের অবচেতনে হয়ত ভাবছ না, হয়তবা স্বপ্ন দেখছ। না হয় না দেখলে তবুও এই কালো আধারে তোমার ভালোবাসাকে নিদারুন মিস করছি। সত্যিই তোমায় অনেক ভালবাসি। দোয়া কর যেন এই ভালবাসা চিরন্তন হয়।
*আমারমা* *তোমায়ভালবাসিমা*

হাফিজ উল্লাহ: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

তুমি যদি বল শীতের রাতে থাকবো খালি গায়ে তুমি যদি বল দিবো চুমুক লবণ মেশানো চায়ে তুমি যদি বল খাবো ডিম খোসা না ছাড়িয়ে তুমি যদি বল বিয়ের পরও ডাকবো তোমায় মিস তুমি যদি বল বাবা-মাকে করে দিতে পর তখন তোমার গালে আমি কোষে লাগাবো চড়!
*আমারমা*

Mehedi hasan: *আমারমা* শুধুই মা(হার্ট) ভালো মা হওয়ার একটাই উপায়, মা হওয়া ---------আহসান হাবিব

*আমারমা*

নিমীলিত নীলা: -মা, আই লাভ ইউ! মাঃ কত লাগবে? দুই দিন আগে না একহাজার টাকা দিলাম? এবার টাকা লাগলে বাপের কাছে চাইবি, আমার কাছে টাকা নেই!! (রাগী) (রাগী) (রাগী) (হাইতুলি)

*আমারমা*

Md.Adnan Jamil Talukder: *আমারমা* সেত আমার দুনিয়া

ইমতিয়াজ পারভেজ: *আমারমা* তাঁকে খুঁজে পাই আমার সমস্ত শরীরে...

ঝিলিক মুখার্জি: *আমারমা* আমার কাছের এবং সবচেয়ে প্রিয় মানুষ হল -আমার "মা"(জোস)

শিল্পী আক্তার : *আমারমা* আমার কাছে পৃথিবীর সেরা "মা ",দুনিয়ার সবচেয়ে বড় নিয়ামত হচ্ছে মা ! মায়ের মত আপন এই দুনিয়ার কেউ নেই। আমি মায়ের রান্না-বান্নায় হেল্প করি যাতে মায়ের কিছুটা কষ্ট কম হয়।(হাসি)

মায়াবতীর ছায়াসঙ্গী: *পান* খাওয়া মানুষ যখন *পান* খায় তখন তাদের মন অনেক ভালো থাকে. এর কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ বলতে পারবনা. *আমারমা* *পান* খেতেন আমরা ভাই বোন সব সময় সেই সময়টাতে আমাদের সব আবদার করতাম. সেই মূহুর্ত গুলোতে করা আবদার কোনো দিন অপূর্ণ থাকত না. মা তোমাকে অনেক মিস করি

মায়াবতীর ছায়াসঙ্গী: *আমারমা* না ফিরার দেশে চলে গেছে মরণ ব্যধি কেন্সারে আক্রান্ত হয়ে. শেষ ৩ মাস খাবার খেতে পারত না.ওজন কমে এমন অবস্থায় চলে আসে যে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবার আমি কোলে তুলে গাড়িতে উঠাতাম.সেই অবস্থাতেও আমার কষ্ট হচ্ছে তা নিয়ে চিন্তিত হতেন. এরই নাম মা .......

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★