আষাঢ়েগল্প
আষাঢ়েগল্প নিয়ে কি ভাবছো?

সুমন (দুষ্ট পাখির বাবা): ভেবেছিলাম *বর্ষাকাল* শেষ হলে *বিছানাকান্দি* যেয়ে *আষাঢ়েগল্প* শুনবো আর *খিচুড়ি* খাব কিন্তু হায়রে কপাল আপুর *শখেরবাগান* *বৃষ্টি*র কারণে নষ্ট হলে বাসার *পরিস্থিতি**গরম* হয়ে উঠে তাই *গ্যাঞ্জাম* থেকে বাঁচতে *টঙের-দোকান* বসে আছি.....

*বর্ষাকাল* *বিছানাকান্দি* *আষাঢ়েগল্প* *খিচুড়ি* *শখেরবাগান* *পরিস্থিতি**গরম* *গ্যাঞ্জাম*

শাকিল: যদি আপনার এমন ধারণা যে- আপনি যে দল কে সমর্থন করেন বরাবরই তারাই হারবে, সব সময় যদি এমনটা ঘটে তাহলে আজকে ওই ব্রিটিশদের সাপোর্ট করেন মন থেকে ...উল্টা কিছু ঘটলে বুঝবেন আপনি সেই রকম ভাগ্যবান |

*আষাঢ়েগল্প* *বাংলাদেশ-না-ইংল্যান্ড*

প্যাঁচা : আর কত,গতরাতের আগের রাতে চুরি করে রাত ১টার দিকে বাসা থেকে বাইক নিয়ে বের হইছিলাম এবং অবাক করা ঘটনার মুখোমুখি হলাম। একপা খালি,একপায়ে জুতা,হাতে ব্যান্ডেজ দেখে রাস্তায় পুলিশ দাড় করাইলো।কাহিনী শুনে উলটা হাসাহাসি এবং পরে যতক্ষণ একই রাস্তা আমরা ছিলাম,আমাকে ওনাদের সামনে সামনে চলতে বললেন যেন অন্য গাড়ি ঝামেলা করতে না পারে।হাহাহা... আমি খুবই অবাক হইছি ওনাদের এই আচরণে।আমিতো ভাবছিলাম হেনস্থার সীমা থাকবেনা...হাহাহাহা..Almost too good to be true(ভেঙ্গানো)

*পুলিশ* *আষাঢ়েগল্প*

বিম্ববতী: বেশতো জন্মলগ্নে অতীব প্রানোচ্ছল ছিল! যাহা রান্নার রেসিপি আর রূপচর্চা ব্যাতিরেকেও দেশ-বিদেশের নানান সমস্যা লইয়া আলোচনায় ব্যস্ত থাকিত! একদিন বেশতোকে না দেখিলে বেশিরভাগ সদস্য'রই বদহজম হইতো বলিয়া শুনিয়াছিলাম! আজ এহেন বাক্যকে *আষাঢ়েগল্প* ভাবিয়া ঘুম দিন,,

*বেশতো* *স্যাটায়ার*

Robin: *আষাঢ়েগল্প* উজানের পানি ভাটি অঞ্চল বাংলাদেশের ওপর দিয়েই যাবে; কিন্তু ফারাক্কা না থাকলে পানি নিয়মিত বৃষ্টির সাথে নিয়মিত অল্প অল্প করে পানি আসতো; এভাবে ফারাক্কায় পানি আটকিয়ে অনেক পানি জমিয়ে একসাথে ছাড়লেতো দুকূল ছাপিয়ে পানি আসবেই নদীকুল ভাঙবেই।

প্যাঁচা : *আষাঢ়েগল্প* "আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি..."...(ভয়পাইসি)(ভাগোওওও)

সাদাত সাদ: [বাঘমামা-এইটাকিসুহইলো]একটু হাসি মুখ দেখার লোভে এতদূর বহুদূর শেষ পর্যন্ত আমি পরাজিত সেই হাসি মুখ দেখা হলো না।

*হাসিমুখ* *বাবা* *মুখ* *মনেরকথা* *আষাঢ়েগল্প*

সাদাত সাদ: হারানো দিন গুলো খুবই সুন্দর। কোন এক সময় মাত্র ১০০ টাকার একটা ব্যাট কেনার পয়সা আমার ছিলনা, আর এখন তো আর ব্যাট এর প্রয়োজন ই হয়না। গতবার দেশে গিয়ে ছোটদের কে হাজার টাকা দামের ৫ টা ব্যাট কিনে দিয়ে আসলাম, অথচ আমি সেই ব্যাট দিয়ে একদিন ও খেলিনি। আসলে মানুষের জীবন টাই যেন কেমন। দিন বদলে যায়, বদলে যায় শৈশবের ইচ্ছে গুলো ও। আমরা হারিয়ে যায় কর্মবস্ততায়।

*শৈশব* *স্মৃতি* *মনেরকথা* *আষাঢ়েগল্প*

মমিতা আফরিন: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

আবুল টিভির সকালের খবর
শ্বাস নেবার উপর ভ্যাট বসিয়েছে সরকার জনসাধারণকে জানানো যাচ্ছে যে সবাই দিনে সীমিত ভাবে শ্বাস নেবেন, অতিরিক্ত নিলে বাড়তি ভ্যাট প্রদান করতে হবে আবুল টিভির সকালের খবর এখানেই সমাপ্তি পরবর্তী সংবাদ দেখবেন, আমাদের প্রতিষ্টাতা আবুলের মৃত্যুর পর। ততদিন আপনারা ভাল থাকুন
*আষাঢ়েগল্প* *ভ্যাট*

নিপু সেন: ২০৮০ সালের কোন এক ভোরবেলা ! শুভ্র তার মাথায় এবং বুকে আলাদা আলাদা দুটি ডিভাইস লাগিয়ে তার সকাল বেলার জগিং করছে- ডিভাইস দুটি অনবরত শুভ্রর মনে এবং মস্তিষ্কে স্ক্যান করছে ! বাসায় ফিরে শুভ্র ডিভাইসটির এলসিডি মনিটরে দেখতে পেলো- গত কাল সে তার বসকে অভিশাপ দিয়েছিলো, ও একটু লজ্জা পেলো ! কিন্তু বেশ হালকা লাগছে সব দুশ্চিন্তা/খারাপ কিছু ডিভাইসটি মুছে ফেলেছে

*আষাঢ়েগল্প* *প্রতিযোগিতা*

হাফিজ উল্লাহ: একটি বেশব্লগ লিখেছে

খবর পরছি চেনা পথিক,
মেয়রের করা মানহানির মামলায় পলাতক রয়েছেন জনাব মারগুব সাহেব l আমাদের অনুসন্ধানী রিপোর্ট বলছে উনি ইতি মধ্যে বাংলাদেশ ছেড়ে গেছেন l পুলিশ বলছে তারা ইন্টারপুলের মাধ্যমে আসামিকে ধরার/গ্রেফতার করার  চেষ্টা করে চলছে l

গতকাল তুরাগ নদীর পাশে উড়ুক্ক গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নিতে গিয়ে বেশতোর ছেলে এবং মেয়ে দুপক্ষের মাঝে চরম হট্টগোল লাগে l আহত মেয়েদের নদীর উত্তর পার্শে আর ছেলেদের দক্ষিন পার্শে ভর্তি করা হয়েছে l ডাক্তার জানিয়েছেন আহতরা আশংকামুক্ত নয় l বেশতো মেম্বার্স এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এর চরম নিন্দা জানিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে l ঘটনা তদন্তে পুলিশ একজন সাবেক বিচার পতিকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে l 

এদিকে মেয়রের দেয়া সতর্ক নোটিস পেয়ে লড়ে-চড়ে বসেছেন আমাদের ট্যাগদাতা বেশতোবুজ l আমাদের প্রতিনিদিদের পাঠানো তথ্যে দেখা যাচ্ছে গত কয়েকদিন ধরে বেশতোবুজ পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করছে না l আমাদের হাতে খবর আছে মামলা ডিসমিস না হওয়া পর্যন্ত গা ঢাকা দিতে পারেন বেশতোবুজ l

আষাঢ়ে টিভির পরবর্তী খবর জানার জন্যে আমাদের আসে-পাশেই থাকুন, সব সময় l
ধন্যবাদ l
*আষাঢ়েগল্প* *প্রতিযোগিতা*

তিমু চৌধুরী: [বাঘমামা-সর্বনাশ] তাহলে কি ফটোকনটেস্ট আর আষাঢ়ে গল্প কনটেস্ট শেষ??? (মাইরালা)

*ফটোকনটেস্ট* *আষাঢ়েগল্প* *অনুতাপ* *মনেরকথা*

হাফিজ উল্লাহ: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

>| আষাঢ়ে টিভির এইমাত্র পাওয়া খবর |<
মেয়রকে নিয়ে আষাঢ়েপল্পের নামে কটুক্তি করে পোস্ট দেয়ায় জনাব মারগুব সাহেবের নামে ১.৫০ পয়সার মানহানির মামলা ঠুকেছেন মেয়র l সতর্ক নোটিস দিয়েছেন বেশতোবুজকে মারগুব সাহেবকে আষাঢ়েগল্পের নামে কনটেস্ট দিয়ে উত্সাহ দেয়ার জন্যে l
*আষাঢ়েগল্প* *প্রতিযোগিতা*

তিমু চৌধুরী: একটি বেশব্লগ লিখেছে

এতক্ষণ শোনছিলেন শিরোনাম এখন শোনবেন বিস্তারিত (হাইতুলি)ঃ 

আজ পাঁচই সেপ্টেম্বর দুই হাজার পনেরো ইং তারিখে দেশের সুনাম-ক্ষেত অতি মাত্রায় প্রতিভাধর এবং বেশতো সাইটের অতি জনপ্রিয়ো এক্টিভিস্ট , অল রাউন্ডার লেখক চৌধুরী সাহেব সকাল আটটা হতে রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত অনলাইনে না আশায় তুমুল তোলপাড় হয়ে যায় বেশতো ডট কমে। আমাদের অনলাইন সংবাদকর্মী জানিয়েছেন , চৌধুরী সাহেবের অনলাইনে না আসার কারনে এবং কোনো বেশব্লগ না লিখায় তার দুইজন ফলোয়ার ইতোমধ্যে পটল তুলতে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন তারই সাথে অন্যান্য ফলোয়ার এবং নন ফলোয়ার সবাই আমরণ অফলাইনের ডাক দিয়েছেন। 
এইদিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একদল ঝটিকা মিছিল নিয়ে তাদের দাবী জানাবার জন্য অনলাইন ইভেন্টেরও একটি প্রস্তাব দিয়েছে। অবস্থা যে বেগতিক তা বুঝার জন্য আর কিছু বলার প্রয়োজন নেই বললেই চলে। 
এইদিকে বেশতো ডট কমের , বিশিষ্ট প্রশ্নবাজ , পোস্ট মাস্টার , ফটোগ্রাফার , কমেডিয়ান , চিন্তক এবং বেশটুনিস্টরা নিজেদের অবস্থান হতে স্বেচ্ছায় পদ ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।  
কান্নার রোল উঠেছে সকল বেশতো আইডীর মাঝে এবং এই শোকে বেশতো বাজ যিনি বেশতো ডোট কমের বাইনোকোলার নামে পরিচিত তিনি নিজের আইডী ডিয়েক্টিভ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

সবার এই অসহনীয় অবস্থা দেখে আমাদের মাঠকর্মী যখন চৌধুরী সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ করেন তখন চৌধুরী সাহেব বজ্রকণ্ঠে তার অনলাইনে না আসার কারণ হিসেবে বলেন, " আম্মু বলেছে, পরীক্ষার আগে নো ইন্টারনেট নো বেশতোইং ।" (খিকখিক)   

আশা করি অতি শীঘ্রই অবস্থার উন্নতি হবে । বিদায় নিচ্ছি আষাঢ়ে নিউজ বুলেটিন থেকে । সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।  
*আষাঢ়েগল্প*

তিমু চৌধুরী: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বাংলাদেশের সাথে ইন্ডিয়ার তুমুল সাইবার যুদ্ধ চলছে । ছোট বড় সকল হ্যাকার দলগুলো ইন্ডিয়ার অফিশিয়াল সাইটগুলোতে এটাক করছে। প্রায় ৫০ হাজার সাইট ইতমধ্যে হ্যাক করেছে বাংলাদেশী হ্যাকাররা ।

 

ঠিক ঐ মুহুর্তে এক ক্ষুদে হ্যাকার টিম উঠে আসে সিলেট থেকে,  নাম “4 হ্যাকার্স”  । কারন টিমে মাত্র চারজন সদস্য ছিল ।  ট্রিকার, অস্ট্রিক, হ্যারি, ওস্টিন ।  তারা একাই ইন্ডিয়ায় ১০ হাজার সাইট নষ্ট করেছিল।  যদিও তাদের অনালাইন এক্টিভিটি এত বেশি ছিলনা ।

অন্যদিকে ট্রান্সপারেন্ট হ্যাট হ্যাকার্স নামের এক বিশাল হ্যাকিং নেটওয়ার্ক সহ আরো কিছু টিম বাকি ৪০ হাজার সাইটের বারোটা বাজিয়েছিল।

 

কিন্তু তখন ইন্ডিয়ান গভর্মেন্টের একটা সাইট, ইন্ডিয়া_গভট.কম সাইটটা হ্যাক করতে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশের হ্যাকাররা। সাইটটা হ্যাক করতে পারলেই ইন্ডীয়ার সরকারের টনক নড়ে যাবে । যা করার ১ রাতের মাঝে , নাহলে পরের দিন সকালেই বাংলাদেশ আর ইন্ডিয়ার মাঝে শান্তি চুক্তি হয়ে যাবে।  

 

অনেক হ্যাকার দল ব্যার্থ হয়েছে বারবার চেষ্টা করেও। একমাত্র ভরসা তখন “4 হ্যাকার্স”   তখনই ট্রান্সপারেন্ট হ্যাট হ্যাকার্স টিমের এক সদস্য “4 হ্যাকার্স” টিমের সাথে যোগাযোগ করে । 4 হ্যাকার্স তখন বলে যে চারটা ল্যাপটপ আর ব্ল্যাক হ্যাক ১৭.৫ সফট লাগবে । তখন ট্রান্সপারেন্ট হ্যাকার্স কথা দেয় যে,  যত সফটওয়্যার , কম্পিউটার লাগবে ট্রান্সপারেন্ট হ্যাট হ্যাকার্স টিম তার ব্যবস্থা করে দিবে 4 হ্যাকার্স টীমের কাজ শুধু ইন্ডিয়ার ওয়েব সাইটটা হ্যাক করে দেয়া।

যদিও  4 হ্যাকার্স  টিমের মেম্বাররা প্রথমে রাজি হয়ে যায় কিন্তু অনেক চিন্তা করার পর ট্রিকার বলে উঠে এই কাজে অনেক রিস্ক হবে । যেখানে শান্তি চুক্তি হবে তার আগের রাতে অযথা এইসব করে নতুন হাঙ্গামা করার ফায়দা নেই।  এত দ্রুত কাজ করতে গিয়ে ধরা খাবার চান্সও অনেক। আবার 4 হ্যাকার্স টিমের সবাই চিন্তাতে পরে । এইদিকে আরেকটা সমস্যা হচ্ছে অস্ট্রিক একটা কাজে অন্যকোথাও চলে গেছে। ৩ জন মিলে সিদ্ধান্ত নিতে এমনিতেও অনেক সমস্যা হচ্ছে । বারবার ট্রান্সপারেন্ট হ্যাট হ্যাকার্স টিম থেকে ফোন আসছে। সব মিলিয়ে এক মহা প্যাঁচানো অবস্থায় তিনজন হ্যাকার । একের পর এক সমস্যা বেড়ে চলেছে । আর বারবার অস্ট্রিক মেসেজ দিয়ে চলেছে , “কখন হ্যাক করব ???”  । রাগের মাথায় তখন ট্রিকার অস্ট্রিককে ম্যাসেজ দিয়ে বলে “হ্যাক ট্যাক করব না। তুই অফ যা। বারবার ম্যাসেজ না দিয়ে ভাগ এইখান থাইকা।”

এরপর ট্রিকার, হ্যারি, ওস্টিন তিনজন মিলে একসাথে বসে অনেক চিন্তা করে ফাইনাল ডিসিশন নিয়েই নেয় যে যাই হোক তারা হ্যাক করবে। তখন ওস্টিন বারবার অস্ট্রিক কে ফোন করে আসার জন্য । কিন্তু আজব হাতে মাত্র ৪ ঘন্টা আছে আর অস্ট্রিকের মোবাইল বন্ধ । একের পর এক ফোন দিয়েই চলেছি। অস্ট্রিকের গার্লফ্রেন্ডের নাম্বারও ট্রাই করা হল , কাজ হলনা। সবকটার সুইচ অফ।

এমন সময় আরেক সমস্যা এসে হাজির , ট্রান্সপারেন্ট হ্যাট হ্যাকার্স খবর দিলো যে ব্ল্যাক হ্যাক ১৭.৫ সফট নেই। সফটের অরিজিন কিনতে পারেনি তারা। এর মাঝে ল্যাপটপ পেয়েছে মাত্র ২ টা । এইগুলা দিয়েই কাজ করতে হবে। তখন আরেক সমস্যায় পরল। 4  হ্যাকার্স টিম । একেত মেম্বার মাত্র তিনজন আছে , আবার ল্যাপটপও মাত্র দুইটা পেয়েছে এর মাঝে ব্ল্যাক হ্যাক ১৭.৫ সফট নেই , সেটার বিকল্প  নিজেরাই তৈরি করে নিতে হবে। এত সমস্যার মাঝে হ্যাক করায় ৮০ ভাগ ধরা পরার সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু করার নেই , তার যেহেতু কথা দিয়েছে সেহেতু কাজ টা করতেই হবে কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অস্ট্রিক নেই। অস্ট্রিক থাকলে কাজটা আরো সহজ হত । অস্ট্রিক  কে কল করার জন্য ওস্টিন মোবাইল্টা হাতে নিয়েছে এমন সময় , ট্রিকার বলে উঠে , “ বাদ দে ওস্টিন। অস্ট্রিককে জানাবার দরকার নেই। অযথা অস্ট্রিককে বিপদে টেনে আনার দরকার নেই।”

ওস্টিনও কথাটা মেনে নেয় ।  তারপর তিনজন মিলেই নতুন করে ব্ল্যাক হ্যাক ১৭.৫ পাচ সফটওয়্যার টা বানাতে চেষ্টা করে। সফটওয়্যার টা বানিয়ে সাইটটা হ্যাক করার কাজে হাত দেয় , কিন্তু অনেক চেস্ট করেও করতে পারেনি। ব্ল্যাক হ্যাক সফটওয়্যারটা ঠিক ভাবে কাজ করছিল না । এইদিকে সময় কমতে কমতে , সময় শেষ হয়ে এলো । হ্যাক করা হল না। ব্যার্থ হল 4  হ্যাকার্স ।

 

ব্যার্থতার সাথে আরো একটি ব্যার্থতা নেমে এলো তাদের মাঝে। টিমটা আর আগের মত রইল না। কেমন যেন ভাঙা ভাঙা হয়ে গেল। অস্ট্রিক বদলে গেলো , হ্যারি আর ওস্টিনও যার যার ঠিকানায় চলে গেলো । আর আমি , ট্রিকার এখন ঘরে বসে পুরোনো স্মৃতিগুলো তাজা করে চলেছি  বেশতো ডট কমে
*আষাঢ়েগল্প*

দস্যু বনহুর: একটি বেশব্লগ লিখেছে

       তীব্র মাথা ব্যাথা এতক্ষন পর অনুভূত হচ্ছে। এতক্ষন এই ব্যাথার বোধ কাজ করছিল না। গত দুইদিন মস্তিষ্কের মধ্যে মনে হচ্ছিল রক্তক্ষরন হচ্ছিল। কোত্থেকে এক সুর পাতালপুরীর আনন্দকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। হঠাত অসম্ভব ভয় গ্রাস করতে চায় আমাকে! কেউ ভিতর থেকে বলছে সাড়া দিওনা, ঐ ফুল ছুঁয়োনা! তুমি যা আছ তাই, সবকিছু নিয়ে তোমার ভাবনার প্রয়োজন নেই। অনেককিছুই আমাদের জানার বাইরে, সবকিছু জানতে চাওয়াটা বোকামী। নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করছি, অনেককিছুই তো অজানা! তবু লুনাক কে দেখার আগ্রহ এবং সুরের প্রভাব, তরঙ্গায়িত সংখ্যা, লিথিয়ান আমাকে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে। আমি জানি একটা রহস্যময় জগতে আমি প্রবেশ করতে যাচ্ছি, কিন্তু এমনও তো হতে পারে সব ভুল, মনগড়া কিছু নিয়ে অনবরত আমার অবচেতন মন একটা গল্প তৈরি করেই যাচ্ছে! যাইহোক কোন দুঃচিন্তা নেই। অপার জগতের অন্তত রহস্যময় একটা জগত আমার জন্য অপেক্ষা করছে এই অনুভুতিটাই আমার জন্য যথেষ্ট। তবু নিজের আত্মরক্ষার জন্য কিছু পদ্ধতিগত দিক বিবেচনা করা উচিত বলেই ল্যাপটপ টা টেনে নিয়ে পড়াশোনায় মগ্ন হলাম। রাত বেড়েই চলেছে কিন্তু ঘুম আসছে না। এত্রো বলছিল আমায় ঘুম পাড়িয়ে দেবে, তবেকি ওরা আমাকে এই মুহুর্তে প্রভাবিত করতে পারছেনা! মাথা থেকে সব চেতনা বের করে দিয়ে, অবশ হবার চেষ্টা করলাম। ঘুমুতে হবে। জানিনা কাল সকাল থেকে আমার জন্য কি কি অপেক্ষা করে আছে। চোখে মুখে পানির ঝাপটা দিয়ে এসে বিছানায় বোসলাম। এখন মনে হচ্ছে কেউ আমাকে, বলছে তুমি ঘুমাও। আমি প্রভাবিত হবার চেষ্টা করছি। আর একটু অপেক্ষা কর রাজকন্যা! আমি আসছি।

                  আমার ঘুম ভেঙে যায় ভোরবেলাতে। চোখ মেলে দেখি জানালার পাশে দুটো পাখি বসে আছে। ওদের দিকে তাকিয়ে বললাম, তোমরাই সেই পাখি যারা আমাকে চিনিয়ে দিয়েছ লিথিয়ানের কাছে! পাখি দুটো কিচিরমিচির করে কি যেন বলে উড়ে গেল। আমি ফ্রেশ হয়ে নিলাম। একটা জিন্স প্যান্ট আর টি-শার্ট পড়ে নিলাম। পকেটে একটা কম্পাস আর আমার প্রিয় ছুড়ি আর দুইহাত লম্বা একটা তামার তার ঢুকিয়ে নিলাম প্যান্টের সাইড সুইং এ যাতে সবকিছু পেলেও এটা কেউ না পায়। আমি মোটামুটি নিশ্চিত যে আমি ফিরে আসছি না তাই বাসার দারোয়ানকে একটা চিঠি দিয়ে বললাম অফিসে গিয়ে দিয়ে আসতে, ফিরে এসে যদি আমাকে না পায় তাহলে যেন চিন্তা না করে। আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিরে আসার চেষ্টা করব। দারোয়ান আমাকে জিজ্ঞাসা করল কোন গাড়ীটা নিব আমি। আমি বললাম আমি গাড়ী নিচ্ছিনা, হেঁটেই যাব তুমি সব ঠিকমত দেখে শুনে রেখ। ও চলে গেল। আমি বাড়ীর লনে এসে দাড়ালাম, ফুলগুলিকে খুঁজছি। আমার এই বাড়ীর পেছনে বিশাল বড় একটা লন, বিভিন্ন ফুলের গাছে ভরে আছে, সুন্দর সাজানো লন। বিশাল একটা জাকারান্ডা গাছ আছে, সেদিকে এগিয়ে গেলাম। আশ্চর্য্য জাকারান্ডা ফুলের সময় এখন নয় অথচ গাছের নীচে পড়ে আছে অসংখ্য শিউলী ফুল! তুলে নিলাম একটা ফুল, এটাতো সত্যি শিউলী ফুল! আমি বুঝে গেলাম যাদুর প্রভাব শুরু হয়ে গেছে। ফুল ফেলে দিয়ে দৌড়ে বাসার ভিতরে গিয়ে আমার মোবাইল ফোনটা নিয়ে আসলাম। হঠাত কাজে আসতেও পারে। জাকারান্ডার নীচে দাঁড়িয়ে একটা ফুল কুড়িয়ে নিয়ে গন্ধ শুঁকলাম। সেই পরিচিত গন্ধ! ছোটবেলায় আমরা ভাইবোনেরা সবাই ভোর হলেই এই ফুল কুড়িয়ে এনে মা কে দিতাম। মা খুব পছন্দ করতেন এই ফুল। কিন্তু কোন মাদকতা তৈরি হচ্ছেনা কেন! আবার একটা ফুল নিলাম, নাহ! কিছুই হচ্ছেনা আমার! তবে কি এসব ভুল! কিংবা পরিকল্পনার পরিবর্তন হল? গাছের দিকে তাকিয়ে দেখলাম সেই পাখি দুটি খুব মন খারাপ করে বসে আছে। এবার দুহাত ভর্তি করে ফুল নিয়ে গন্ধ নিলাম। হঠাত মাথা ঝিমঝিম করে উঠল! কেউ যেন অজস্র পিন আমার মাথার মধ্যে বিঁধিয়ে দিল! আমি চিৎকার করছি অথচ কন্ঠ রুদ্ধ, শব্দ হচ্ছেনা। অবশ হয়ে আসছে শরীর, ধূসর হয়ে যাচ্ছে সামনের সব শিউলী ফুল। অজস্র সহস্র মানুষের চিৎকার ভেসে আসছে কোত্থেকে! দূর কোথা থেকে যেন মা বলছে, বাবা কোথায় তুই? এত দুষ্টুমি করিস কেন? আয় আমার কাছে আয় বাপ, একটু আদর করে দিই তোকে! আমি গুটি গুটি পায়ে লুকোনোর জায়গা থেকে বেরিয়ে মা এর চোখ ধরে খিলখিল করে হাসছি! মা’ও হাসছে! কি সুন্দর মায়ের হাসি, আমার সারা শরীর ভরে যাচ্ছে মায়ের হাসিতে, কোথায় অতলে তলিয়ে যাচ্ছি!! গগন ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠলাম…মা!!!! কাঁচ ভাঙা শব্দে ভরে গেল আমার শরীর। ঝনঝন করে ভেঙে পড়ল কিছু। চোখের সামনে ভেসে উঠলো অবারিত নীল…

          মনে হচ্ছে আমি এখন চোখ খুলতে পারব কিন্তু খুলছি না। আমি বুঝতে চাই আগে আমি কোথায়! আগের জায়গাতেই আছি নাকি অন্য কোথাও। নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছি, মনে হচ্ছে আমি দুলছি। শরীরের কোন ওজন বোধ হচ্ছে না। চোখ বন্ধ করেই আছি, হঠাত কিছু একটা ঘষে ঘষে আসার শব্দ পেলাম কাছেই। কেমন একটা আঁশটে গন্ধ পাচ্ছি। হঠাত এত্রোর কন্ঠ শুনতে পেলাম। মহামান্য আপনার ঘুম কি ভেঙেছে! আমি তেমনি পড়ে রইলাম। ভেতরে হাতুরী পেটাচ্ছে কেউ, চোখ খুললেই যা দেখব তা হয়ত সহজভাবে নিতে কষ্ট হবে। ঘষঘষ করে আরও কেউ কি যেন বলছে বুঝতে পারছিনা। এত্রো বলছে, আমিত চেষ্টা করছি ওর ভিতর ঢুকতে, কিছুতেই পারছিনা! এত জটিল লাগছে, মনযোগের খেই হারিয়ে ফেলছি। অদ্ভুত ধরনের মস্তিষ্ক! কোনভাবেই কোন তথ্য নিতে পারছিনা। এই মানুষটির মনযোগ যতই দেখছি ততই আশ্চর্য্য হচ্ছি! মানুষ এত ধৈর্য্য ধরে মনযোগ দিতে পারে এর ভিতরে না ঢুকলে সেটা সম্ভব নয়। ঘষঘষ করে একটা হাসির মত শব্দ হল। হাসির দমকে আমার মনযোগ একটু ভেঙে যেতেই চোখ খুললাম। চতুর্দিকে নীল, ঘোলাটে এক পরিবেশ! সব যেন দুলছে। আমার মাথার পেছন দিক থেকে কেউ একজন এগিয়ে আসছে, আমি মাথা তুলিনি এখনও! চোখের সামনে যখন আসলো, কি বিভতস একটা শরীর! আমি ওর পায়ের পাতা দেখেই বুঝতে পারছি। মাছের লেজের মত দুটো পা, ঘষে ঘষে এগিয়ে আসছে। শব্দ ভেসে এল। মহামান্য আপনার ঘুম ভেঙেছে! স্বাগতম আপনাকে আমাদের প্রিয় লিথিয়ান রাজ্যে। উঠুন, উঠে বসুন। আমাদের দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই! এখানে এখন আমি আর রীথালো আছি। বাইরে অসংখ্য লিথিয়ানরা আপনাকে এক নজর দেখার জন্য অপেক্ষা করছে। আমি ধিরে ধিরে উঠে বোসলাম। নিজেকে স্থির করে ফেললাম, এখন থেকে আমি যা কিছু দেখব সবই আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হবে। আমি কোনকিছু দেখেই আশ্চর্য্য হবনা কিংবা ভয় পাবোনা। উঠে বোসে দেখলাম এত্রো এবং রীথালো কে। এত্রোর মুখের দিকটা বোয়াল মাছে্র মত কিন্তু নাকটা গন্ডারের আকৃতির। শরীরটা ফার্স্ট ব্রাকেট এর মত একটু বাকানো ধনুকের মত সামনের দিকে, নীচের মাথার পর থেকে পুরো শরীর নেমে এসে নীচের দিকটায় সরু হয়ে দুটো মাছের লেজের মত বাকিয়ে আছে। ও দুটোই পা। আর রীথালো দেখতে অক্টোপাস। বিশাল তার শরীর, দেখেই বোঝা যাচ্ছে সে যথেষ্ট বৃদ্ধ। কিন্তু রীথালো চোখ দুটো দেখে খুব মায়াময় মনে হচ্ছে এবং সে যে অনেক বুদ্ধিমান প্রাণী সেটা তার চোখে প্রকাশিত। এত্রোর চোখ খুবই ছোট ছোট। এত্রো হেসে দিয়ে বলল, আপনি মনে হচ্ছে বেশ শক্ত! আমাদের দেখে ভয় হচ্ছে না আপনার? আমি বললাম, এত্রো আমি ভয় যে পাইনা তা নয় তবে সেই ভয় আমি প্রকাশ করিনা আর বিশ্ব ব্রক্ষান্ডে কোনকিছুই যুক্তিহীন নয় বলেই আমি যুক্তিটাকেই আগে গ্রহন করি তারপর স্থির করি কি প্রকাশ করব। একটু দূরে বসেছিল রীথালো। ওখান থেকেই একটা পা বাড়িয়ে ঠিক আমার কাছে রেখে চুম্বকের মত জায়গাটাকে আটকে নিয়ে শুরুত করে চলে এল। আমার চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, তোমার কাছ থেকে আমার অনেককিছু শেখার আছে। কেন জানি আমি এত্রোকে পছন্দ করতে পারছিনা কিন্তু রীথালো কে আমার বেশ পছন্দ হল! আমি বললাম, আমার খুবই ক্ষুদ্র জ্ঞান তারপরও যদি কোনকিছুর ব্যাখ্যা জানতে চান আমি চেষ্টা করব সঠিক ব্যাখ্যা দাড় করাতে। একেবারে কাছে এসে, রীথালো চুপ হয়ে চোখ বন্ধ করেছিল। চোখ খুলে বলল, তোমার দেহের অভ্যন্তরের প্রতিটি ধমনীর রক্ত চলাচলের একটা ছন্দ আছে তুমি বোঝো? আমি স্বিকার করলাম। ও আবার বলল তোমার শরীর ভর্তি সুর! আমি হেসে উঠলাম জোড়েসোড়েই! রীথালো একটু পিছিয়ে গিয়ে বলল, তোমার হাসির সাথে তোমার সুর মিলছে না কেন? আমি বললাম এটা আমার বুদ্ধিদ্বিপ্ততা! আমি মানুষ, আমার অভ্যন্তরের সবকিছুর প্রকাশ কে আমি মুহুর্তেই আলাদা করে ফেলতে পারি। মুহুর্তেই আমি যেকোন রহস্য তৈরি করতেও পারি আবার রহস্যের জটও খুলে ফেলতে পারি। রীথালোকে দেখে মনে হল সে আমার উত্তরে আস্বস্ত। উঠে দাড়ালাম আমি, এত্রোর উদ্যেশ্যে বললাম, চলুন একটু ঘুরিয়ে দেখান আমাকে আপনাদের লিথিয়ান সমুদ্র পাতালের ১৩ তম রাজ্য। এত্রো এগিয়ে এল। রীথালো কে বলল তুমি তো অনেক সাহায্য করেছ এবার তুমি বিশ্রাম নাও, আবার দেখা হবে। রীথালো মনে হয় একটু টথস্থ হল, চকিতে আমার দিকে একবার রহস্যজনক দৃষ্টি বিনিময় করল। এত্রোর সাথে আমি বেরিয়ে এলাম। এরই মধ্যে আমি দেখে নিয়েছি আমার পকেটে ফোন নেই, ছুড়ি নেই এমনকি কম্পাসটাও নেই, কিন্তু তামার সেই তারটা লুকিয়ে রাখার কারনে সেটা সেখানেই আছে। মনে মনে হাসলাম, যা ভয়ংকর হতে পারে সেটাই রয়ে গেছে। যাইহোক, বেরিয়ে এলাম বাইরে। উপরে চেয়ে দেখি নীল আকাশ, কিন্তু দুলছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম এত্রো উপরে কি এটা সমুদ্র? সে স্বিকার করল। আমি পায়ের নীচের ভূমি কে বোঝার চেষ্টা করছি। স্যাঁতস্যাতে পাথুরে রাস্তা কিন্তু সমান। রাস্তার দুধার কিংবা আশেপাশে সব ফুলই একই রকম। একই ফুল সবখানে! এত্রো বুঝতে পেরেই বলল এগুলি সব লুনাক এর সৃষ্টি জলপদ্ম। এতক্ষন আসলে ভুলেই গিয়েছিলাম উত্তেজনায় যে আমি এখানে এসেছি লুনাক এর জন্য। হঠাত অস্থির হয়ে গেলাম, এত্রোকে বললাম আমি লুনাক এর কাছে যেতে চাই আগে। এত্রো কঠোর চোখে আমার দিকে তাকালো, আমিও ঠিক তেমনি তাকিয়ে আছি ভাবলেষহীন ভাবে। ও বলল, সময় হলেই সব দেখবেন। আপনি আমাদের অতিথী, আমাদের কর্তব্য অনুযায়ী ব্যবহার করতে দিন মহামান্য। কথাগুলি খুব শক্ত মনে হল। আমি বুঝে নিলাম এরা সহজেই রেগে যায় এবং সহজেই থেমে যায়।

             হাটতে হাটতে একটা বড় উঁচু পাথরের উপর এসে আমরা দাড়ালাম। পাথরের উপর দাঁড়িয়ে নীচে দেখলাম অসংখ্য এত্রো দাঁড়িয়ে আছে। এত্রো এই সময়ে মাথা নীচু করে একটা সুর করে উঠল, নীচে অসংখ্য এত্রো সেই একই সুরে মিলে গেল, এরপর সব চুপ। সুরটা নিয়ে ভাবছিলাম আমি। একই সুর, নোটেশনের পরিবর্তন হচ্ছেনা কিন্তু একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে শেষে অনুরনন করছে। এই অনুরননটুকুই বেশ সময় ধরে সমগ্র এলাকায় ভেসে বেড়াচ্ছে। এত্রো আমার দিকে ফিরে বলল তোমাকে দেখে সবাই খুব খুশী। একটু পরেই আমরা রানীর কাছে যাব। উনি তোমার আগমনে একটা বিশেষ ভোজসভার আয়োজন করেছে। আমি আপ্লুত হয়ে বললাম, আমি নিজেকে বেশ সৌভাগবান মনে করছি। হঠাত কিছু মনে না করেই প্রশ্ন করলাম আচ্ছা এখান থেকে পৃথিবীর সময়ের দূরত্ব কতখানি। এত্রো হেসে দিয়ে বলল, মহামান্য, এখানে সময় বলে কিছু নেই। সব এখানে স্থির। আমাদের সময় হচ্ছে সমুদ্রের জোয়ার ভাটার সাথে নিয়ন্ত্রিত। পৃথিবীর সাথে মিল নেই। আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না তাহলে সময় কে কি করে বুঝব! সে প্রশ্ন অবান্তর বলে আর জিজ্ঞাসা করলাম না। এত্রো আমাকে নিয়ে সেই আগের ঘরে ফিরে আসল। রীথালো ঘুমুচ্ছে নাক ডেকে। মাঝে মাঝে কেঁপে উঠছে। এত্রো বলল, মহামান্য আপনি এখানে কিছুক্ষন অপেক্ষা করুন, আমি অনুষ্ঠানের পরিস্থিতি দেখে ফিরে আসব। এত্রো চলে যেতেই লাফ দিয়ে উঠলো রীথালো। ঘষে ঘষে একেবারে কাছে এসে বলল, তোমাকে আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। আমার অনেককিছু জানতে ইচ্ছে করছে আবার তোমাকেও আমার কিছু বলার আছে। শেষটুকু খুব ধিরে ধিরে বলাতে আমার মধ্যে একটা উতকন্ঠা বয়ে গেল কিন্তু ওকে বুঝতে না দিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম বলুন আপনি কি জানতে চান? উনি প্রথমেই জানতে চাইল, মানুষের আয়ু এত কম কেন? আমি উলটো জিজ্ঞাসা করলাম আপনার বয়স কত? উনি বললেন তোমাদের থেকে কয়েকহাজার গুন বেশী সময়। আমি আসলে তার সাথে উদ্যেশ্যমূলক কথা বলছি যাতে সে না বোঝে। আমি এমন ভাব করলাম যে আমি বুঝিনি। রীথালো বলে চলল। আমাদের এখানে সময় বলে কিছু নেই তবে সমুদ্রের তেজ কটাল এর উপর আমরা সময় নির্ধারন করি। প্রতি সহস্র কটাল মানে আমাদের এক জন্ম অর্থ্যাত প্রতি সহস্র কটালে আমরা নতুন করে পরিণত হই। সেই হিসেবে আমার এখন বয়স ১৪০০ জন্ম মানে তোমাদের ভাষায় ১৪ লক্ষ কটাল। হিসেবটা পরে দেখতে হবে ভেবে বললাম, আমাকে এখানে নিয়ে এসেছ কয়টা কটাল হয়েছে? রীথালো চমকে আমার দিকে তাকালো। কথা ঘুরিয়ে দিয়ে বলল, আজকে কিন্তু তোমার আগমনে রানী বিশাল ভোজ দিয়েছে, একটু কাছে এসে আস্তে আস্তে বলল, তোমাকে যাই খেতে দেয়না কেন তুমি কিন্তু কোন খাবারই শেষ করোনা! আমি আশ্চর্য্য হয়ে বললাম খাবার শেষ করব না মানে? কিছু বলার আগেই এত্রো এসে ঢুকলো। রীথালো তুমি না ঘুমুচ্ছিলে? কখন উঠলে! আমার দিকে ঘুরে বলল রীথালোর অনেক বয়স হয়ে গিয়েছে মাথামুন্ডু কি বলে কিছু মনে করবেন না মহামান্য। চলুন রানী আসছেন কিছুক্ষনের মধ্যেই, তার আগেই আমাদের পৌঁছুতে হবে সেখানে। বাইরে এসে দেখি বিশালকায় একটা ডানাযুক্ত ডায়নোসর অপেক্ষা করছে। আমি আশ্চর্য্য হয়ে লক্ষ করছি পাখিটাকে, একে আমি চিনি ঐতিহাসিক আর্কেয়াপ্টেরিক্স লিথোনিকা। বলা হত প্রথমদিকের ডায়নোসরের গায়ে পাখা ছিল এরা উড়তে পারত। যাহোক আমি কিছু না বলে চেহারায় বিশ্ময় ধরে রেখেই বললাম, আমাদের কি বহুদুর যেতে হবে? উত্তরে এত্রো বলল, না, প্রাসাদটা কাছেই কিন্তু সেটা একটা আগুন হ্রদের উপর দিয়ে যেতে হয়। রাজপ্রাসাদে আমি ছাড়া কারো প্রবেশ নিষিদ্ধ। তুমিই প্রথম মানব যে সেখানে প্রবেশ করতে যাচ্ছো। আগেই তোমাকে একটা কথা বলে রাখি। রানীমাতার কোন নির্দেশকেই না বলা যাবেনা। আমি জিজ্ঞাসা করলাম কেন? আমার পছন্দ না হলেও আমি না বলতে পারব না? না তুমি সেটা পারবে না। এমনিতেও তোমার নিজের পছন্দ অপছন্দ ওখানে কাজ করবে না কারন রানীমাতা মুহুর্তেই যেকোন কিছুকে সহজেই প্রভাবিত করে ফেলতে পারেন। আমি তেমন কিছু বললাম না। এত্রো আমাকে নিয়ে উঠে বসলো সেই আর্কেয়াপ্টেরিক্স লিথোনিকার উপরে। মুহুর্তে উপরে নীল সাগরের কাছে নিয়ে এসে লিথোনিকা ঝড়ের গতিতে ছুটে চলল এবং মুহুর্তেই ঈগল পাখির মত খাড়া নামতে থাকল। আমি জাপ্টে খামচে ধরে রেখেছি লিথোনিকার পিঠ। খাড়া নেমে এসে খুব সুন্দরভাবে ল্যান্ড করল। আমরা ওর পিঠ থেকে নামলাম।

               সামনেই চোখ জুড়ানো প্রাসাদ। নীচ থেকে সাপের মত পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে সাগরের নীল ছুঁয়েছে। একেবারের উঁচু স্থানটাকে দেখা যাচ্ছেনা মনে হচ্ছে সেটা সাগরের উপরিভাগে উঠে গেছে। আমাদের নামিয়ে দিয়েই লিথোনিকা উড়ে গেছে। এবার ভাল করে তাকালাম চারিদিক। পদ্মফুলে ভরে আছে সারা রাজপ্রাসাদের উঠোন! কত রংবেরঙ্গের পদ্মফুল। হঠাত করে আমার রীথালোর কথা মনে পরে গেল। ওর হিসেব অনুযায়ি ওর বয়স প্রায় ৩০ হাজার বছর! আচ্ছা আমি কত কটাল হল এখানে এসেছি, এটা আমাকে জানতেই হবে। আরেকটা কথা খুবই আশ্চর্য্য লাগছে কোন খাবারই কেন রীথালো শেষ করতে মানা করল!
আমাকে নিয়ে এত্রো প্রাসাদে প্রবেশ করল। প্রাসাদের ভেতরটা পুরো শ্বেতপাথরের তৈরি। আমি কিছু বলতে গিয়েই খেয়াল করলাম এত্রো মুখ নীচু করে চোখ বন্ধ করে আছে। অর্থাৎ সে ধ্যান করছে। একটু সামনে এগিয়ে গিয়েই লক্ষ করলাম আমার ভিতর থেকে কেউ একজন আমাকে সাবধান করে দিচ্ছে, কিছু স্পর্শ করোনা, সুর ভেঙে যাবে! আমি পিছিয়ে এলাম। মনের মধ্যে একটা চিন্তা হঠাত প্রবেশ করল, আমাকে অনেকগুলি চোখ, এই মুহুর্তে চোখে চোখে রাখছে। এত্রো ধ্যান শেষ করে আমার দিকে তাকালো। ওর চোখ ঠিকড়ে আগুন বের হচ্ছে! কঠিন কন্ঠে আমাকে বলল, আপনি এখানে অপেক্ষা করুন মহামান্য, কেউ এসে আপনাকে রানীর কাছে নিয়ে যাবে। আমি বাইরে অপেক্ষা করছি, আপনাকে নিয়ে ফিরে যাব। আমি অভিব্যাক্তিহীন হয়ে অনুমতি দিলাম।

             অপেক্ষা করছি। কিছুক্ষন পর হঠাত নূপূরের শব্দ শুনে চমকে উঠলাম! কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছে না! আমি সচকিত হয়ে অপেক্ষা করছি! কেউ নেই আশেপাশে! ধিরে ধিরে গাঢ় হল শব্দটা। এবার থেমে গেল। মনের ভিতর থেকে কেউ একজন বলে উঠল, শব্দে শব্দে এসো। আমি আবার শব্দটা শুনতে পেয়েই পা বাড়ালাম। ধিরে ধিরে হেটে এসে প্রাসাদের অভ্যন্তরের বাগানে প্রবেশ করলাম, নূপূরের শব্দ বেজেই চলছে। প্রাসাদের বাগানটা দারুন সুন্দর! কত ধরনের কত রঙের যে পাখিরা খেলছে সেখানে! মোহিত হয়ে আমি দেখছি এবং ঠিক সেই মুহুর্তেই চোখে পড়ল, একপাশে সেই বিশাল পদ্মফুলটি! মনে পড়ল এখানেই রাজকন্যা লুনাক লুটিয়ে পড়েছিল, নিথুনাল শৈবালের আক্রমনে। আমার ভেতর থেকে আবার সেই নির্দেশ, এসো! আমি আবার শব্দ অনুসরন করে একটা বড় হলঘরের মত জায়গায় আসলাম। এখন আর শব্দটি নেই। “চোখ বন্ধ কর” আমি চোখ বন্ধ করলাম। হঠাত মনে হল আমার বন্ধ চোখের বাইরে অদ্ভুত আলোয় ভরে গেছে ঘরটা! এবং আলোটা আমার সহ্য হচ্ছেনা। চোখ খুলে ফেললাম। সামনেই দাঁড়িয়ে আছে নীল রঙের একটা নীল শরীর, চেহারাটা নীল, এমনকি দীর্ঘ্য চুলগুলিও নীল শুধু চোখ দুটো সাদা পাথরের। অপরূপ মানবী। চোখ ঝলসে যাবার মত আলোকিত এক মায়াবীনি। নূপূরের রিনিনিনি শব্দে ভরে গেছে ঘরটা। আমি উন্মুক্ত চোখে তাকালাম। একেই বলে রানী! এমন সৌন্দর্য্য আর ব্যক্তিত্বের প্রতাপ নারীর অবয়বে আমি এই প্রথম দেখলাম কাউকে। আমি রিতিমত প্রভাবিত তার সৌন্দর্য্যে! এত রুপকে অবহেলা করার মত ক্ষমতা আমার নেই।
রানী খুব স্বাভাবিকভাবেই জিজ্ঞাসা করলেন, এ পর্যন্ত মহামান্যের নিশ্চয়ই কোন সমস্যা হয়নি! আমি এত্রোকে বলেছিলাম প্রথমেই যেন আপনাকে এখানেই নিয়ে আসা হয় কিন্তু সে কেন যে আপনাকে রীথালোর কাছে নিয়ে এসেছে! যাইহোক, আপনি কিছু মনে করবেন না! আমি খুবই লজ্জিত এজন্য। দয়া করে আসন গ্রহন করুন মহামান্য। আমি খুব বিনয়ের সঙ্গে বললাম রানী লিথুনা, আমি খুবই সম্মানীত বোধ করছি আপনার এই প্রাসাদে এসে এবং এত্রোর কাছে যা যা শুনেছি তাতে আমি বুঝতে পেরেছি যে এখানে আমার আগমন রাজকন্যাকে সারিয়ে তোলার চেষ্টা করা এবং সেই প্রসঙ্গেই আমি এখানে এসেছি। অযথাই আমার সময় নষ্ট যাতে না হয় সেদিকে রানী লিথুনা যাতে সহায় থাকেন। আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করে দেখতে চাই। হঠাত রানী যেন অস্থির হয়ে গেল! বলল, আমি এত্রোর কাছে শুনেছি আপনি সম্পুর্ন অন্যরকম একজন মানুষ এবং সত্যি আমি এখন বুঝতে পারছি আপনার ক্ষমতা কতখানি। আমার সামনে দাঁড়িয়ে আপনি নিজের মত করে নিজের কথা বলছেন যেটা কোনভাবেই সম্ভব নয়। আমি চোখে প্রশ্ন নিয়ে তাকালাম। রানী বললেন, আমি জানি আপনি কি জন্যে এখানে এসেছেন! বিশ্রাম নিন, ঘুরে ঘুরে পাতালপুরী দেখে নিন, আমাদের আতিথেয়তা গ্রহন করুন তারপর সব হবে। এখানে সময়ের কোন বাধা নিষেধ নেই। আপনাকে সঠিক সময়েই রাজকন্যার কাছে নিয়ে যাওয়া হবে। এখন চলুন, দেখবেন আপনার জন্য আরও কি কি অপেক্ষা করছে! আবার সেই নুপুরের রিনিনিনি! আমি অনুসরন করে নতুন আরেকটা ঘরে এসে দাড়ালাম। এই ঘরটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে এটাই রানীর দরবার ঘর। রানী তার আসনে বসে চোখ বন্ধ করে আছে। অন্তত এবার একটা রহস্যের কুল আমি পেলাম। লিথিয়ান রাজ্যের সবাই ধ্যানপটু। এরা একজন আরেকজনের সাথে টেলিপ্যাথিক যোগাযোগ করে এই ধ্যানের মাধ্যমে। এত সহজে মনযোগের এই পর্যায়ে মানুষ যেতে পারেনা কিন্তু লিথিয়ানরা খুব সহজেই দ্রুত মানসিক যোগাযোগ করতে পারে। যদিও এরা মানুষ নয় তবে এদেরো চিন্তাশক্তি এবং বুদ্ধিমাত্রা আছে সেটা কিছুটা হলেও বুঝে নিয়েছি। আমি অপেক্ষা করতে থাকলাম রানী লিথুনা’র পরবর্তী নির্দেশের জন্য।


চলবে...


*আষাঢ়েগল্প* *বাউন্ডুলে* *গল্প* *সিরিজগল্প* *শেষ_চুমুক*

মমিতা আফরিন: [বেশবচন-ছন্দাহয়েগেলাম]আমরা ৪ জনের একটা গ্রুপ আছে আমরা কোথাও গেলে এই ৪jon এক সাথেই যায়। কিছুদিন আমাদের রাস্তায় খুব বিরক্ত করছিল সুমন নামের একটা বখাটে একদিন আমরা চার জন মিলে ব্যাগের ভেতর একটা ম্যাচ আর একটা সব্জি কাটার চাকু নিয়ে রাস্তায় বের হলাম উদ্দেশ্য ঐ ব্যাটা কে একটা উচিৎ শিক্ষা দেব কিন্তু তা আর হলনা কারণ সেদিন ছেলেটা আসেনি আমরা ৪ জন তার অপেক্ষায় ছিলাম. (খুশী২)

*আষাঢ়েগল্প*

তিমু চৌধুরী: একটি বেশব্লগ লিখেছে

( প্রথমেই বলে নেই, ২০১৪ সালের hsc পরীক্ষার প্রশ্ন ফাসের উদ্দেশ্যে এটি লিখেছিলাম মজার জন্য শুধু। হুমায়ূন স্যারের প্রবন্ধের বিকৃতি করার কোনো উদ্দেশ্য এর মাঝে ছিল না বা নেই। )

প্রায় এক সপ্তাহ আগের কথা (২০১৪) ,সিলেটের ক্যান্টনমেন্ট মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য
একটা কাজ করতে হবে । কাজ হল প্রশ্নফাস । জন অবচেতনতামূলক কাজ। প্রশ্নফাসের দায়িত্ব পড়ল আমার ওপর । আমি গভীর জলে পড়লাম । প্রশ্নফাস বিষয়ে আমার জ্ঞান শূন্যের কাছাকাছি । শুধু জানি এটি একটি পরীক্ষাপূর্ব ব্যাধি । যে কারন থেকে এটা হয় তার নাম Student Immune Examency Cause Syndrome । সংক্ষেপে SECS । ঔষুধ আবিষ্কার হয় নি । প্রশ্নফাস হওয়া মানেই পরিক্ষা
স্থগিত ।

শূন্যজ্ঞান নিয়ে প্রশ্নফাসের কাজে হাত দেয়া যায় না । বিষয়টি ভালোমত জানা দরকার । একজন প্রশ্নফাস কর্তাকে খুব কাছ থেকে দেখা দরকার । অনেক খোজাখুজির পর সিলেটের বোর্ড অফিসে একজন
প্রশ্নফাস কর্তার সন্ধান পাওয়া গেল । তার নাম নাহিদ টাকলা । সে কাজ করত ঢাকার গুলিস্তানে । ঘাতক কৌশল সে গুলিস্তান থেকে নিয়ে এসেছে । তার সঙ্গে দেখা করতে গেলাম । তার আত্মীয়সজনরা বিরাট হৈ চৈ শুরু করল , নাহিদ টাকলা প্রশ্নফাস করেনি । সব বিরুধী দলের রটনা । নাহিদ টাকলা নেক ব্যক্তি ,আদর্শ জীবন যাপন করেন ইত্যাদি ।

আমার ছাত্র পরিচিতির কারণেই হয়ত টাকলার দেখা পাওয়া গেল । ছোট্ট একটা রুমে একজন মানুষ শীতলপাটিতে শুয়ে আছে । একটু পর পর সে হা করে আকিজ বিড়ির ধোয়া ছাড়ছে । তার চোখ দক্ষ চোরদের মত এদিক ওদিক করছে । সে প্রতীক্ষা করছে পরীক্ষার । বেচারাকে দেখে মনটা খুবই ভাল হয়ে গেল । নিজের অজান্তেই আমার মানিব্যাগে হাত রাখলাম । সে হাউমাউ করে কেদে উঠল । কাদতে কাদতেই বলল , সে প্রশ্নফাস করেছে এটা সত্যি । সে কিছুদিনের মাঝে আবার প্রশ্ন ফাস করবে এটাও সত্যি । তার একমাত্র দুঃখ পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যায় । তাই কেউ আর প্রশ্ন নিতে আসেনা । তাকে দেখলে ছাত্ররা আর সালাম জানায় না । মাঝে মাঝে তাকে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বকশিশ দিত , সেটাও এখন বন্ধ। অথচ সে ঐ ছাত্রদের জন্য কত কিছুই না করেছে। আমি তাকে বললাম , ভাই কৌশলটা
শিখলেন কিভাবে ? সে মাথা নিচু করে বলল , গুলিস্তান থেকে নিয়ে আসছি । খারাপ মানুষের সাথে যোগাযোগ ছিল । তাদের কাছ থেকেই কৌশলটা আয়ত্ত করেছি ।পৃথিবীতে অনেক কৌশলকেই খারাপ
বলে ধরা হয় । যেমন প্রেক্টিকেল খাতা চুরি তেমনি পরীক্ষার প্রশ্নফাস-এর কপালে খারাপের সিল ভালমতো পড়েছে , কারন সম্ভবত এ চুরির কৌশলের সঙ্গে অসংযত পড়ালেখার সরাসরি সম্পৃক্ততা । এ প্রশ্নফাস প্রথম ধরা পড়ে B.C.ASSপরীক্ষার্থীদের মধ্যে । শুরুতে
গবেষক এরশাদ ধারনা করেছিলেন ,
এ রোগের কারন শুধু B.C.ASS পরীক্ষার্থীরা । এ ধারনা এখন আর নেই । ২০১৩ সনে গবেষক তুলতুল মইনের তত্ত্বে ২০১৪ সনে বাংলাদেশের বিখ্যাত গবেষক ড.এরশাদ তার মতবাদ পাল্টান । এখন তার মতে , ফেইসবুকে ছেলেব্রেটি হওয়ার লক্ষ্যে পড়ালেখা বাদ দেয়া শিক্ষার্থীরা এই প্রশ্নফাসের কারন । ২০১৪ সালে H.ASS.C পরীক্ষায় এই প্রশ্নফাসের কৌশল টু বের করা হয় । প্রশ্নফাসের প্রধান কাজ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক লেখাপড়ার ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়া । টাইপ ওয়ান কাজটি করে দ্রুত আর টাইপ টু কাজটি করে ধীরে ।

প্রশ্নফাসের লক্ষণ জটিল কিছুনা-
ফটোকপির দোকানে ভীড় হওয়া , বেশি বেশি ফোন আসা , ফেইসবুকে পেইজগুলাতে ফটো আপলোডের
মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া ।

এই কালান্তর প্রশ্নফাসের কারণেই ঢাকা বোর্ডে গঠিত হয়েছে
প্রশ্নফাস বিষয়ক তিন সদস্যের কমিটি (3XSECS) । আটই এপ্রিলকে
জাতীয় প্রশ্নফাস দিবস ঘোষনা করেছে 3XSECS । এদিন সারা দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রশ্নফাস করা হয় । উদ্দেশ্য একটি - ছাত্রছাত্রীদের যত পারা যায় প্রশ্নমুখী করা । ২০০৫ সনের দিকে এই প্রশ্নফাসের সংখ্যা ছিল এক লক্ষ । বর্তমান ঢাকায় প্রতিদিন গড়ে দশজন করে শিক্ষার্থী এটির
শিকার । সেই তুলনায় আমরা এখনো ভালো আছি । প্রশ্নফাস এখনো লাগামছাড়া হয়নি । 3XSECS এর এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী ঢাকা এই প্রশ্নফাসের শিকার প্রায় ১০০০০ , ভূয়া প্রশ্ন পেয়েছে ৫০০ আর সঠিক পেয়েছে ৯৫০০ । এই পরিসংখ্যানে উল্লাসিত হবার কিছু নেই । এরি মধ্যে সিলেটের প্রশ্নফাসের আশায় বসে থাকা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০০ থেকে বেড়ে ১৬৬৯ জনে পরিনত হয়েছে । এরি মধ্যে সঠিক প্রশ্ন পেয়েছে ৫৪০ জন তাই পরীক্ষা যেকোন সময় স্থগিত হতে পারে ।।।।। কিভাবে প্রশ্ন ফাস হয় বলে নেই ,
ক. বোর্ডের কেরানী পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে ছাত্রদের নিরাপদ সম্পর্ক তৈরিতে ।
খ. টাকার আদান প্রদানে ।
গ. ফেইসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ এবং পেইজের মাধ্যমে ।

বড় ধরনের ঝুকির মাঝে আছে এ দেশের ছাত্রছাত্রীরা । তাদের পাঠপুস্তক জ্ঞান নেই বললেই চলে ।
মূল কারন ফেইল বিষয়টা এ দেশে ট্যাবু । সমাজে ছাত্রদের অবস্থান দুর্বল । স্কুল কলেজে শিক্ষক দ্বারা নির্যাতনে বাধা দেয়ার ক্ষমতা এদের নেই ।।।
এদেশের অসহায় কেরানীরা বেচে থাকে প্রশ্নপত্র বিক্রি করে । তাদেরই বিক্রিত প্রশ্ন পত্রের উপর
নির্ভর করে এদেশের কোমল মতি শিক্ষার্থীরা । যখন হাজার হাজার টাকা দিয়ে প্রশ্ন কিনে পরীক্ষা স্থগিত হয় তখন তাদের অবস্থাটা কি হতে পারে ?

সিলেটের এই প্রশ্ন ফাসকর্তার কাছে ফিরে যাই । আমি তার অত্মীয় স্বজনকে ডেকে বোঝালাম যে
প্রশ্নফাস অন্যান্য চুরির মত না । স্বাভাবিক রটনায় পুলিশ তাকে ধরতে পারবে না । আমার কথায়
তেমন কাজ হল বলে মনে হল না ।
পরীক্ষায় ফেল করলে ছাত্রকে কত নির্যাতনই না সহ্য করতে হয় আর এই লোকগুলা ফেলকরা ছাত্রদের A+
এনে দেয় । মানুষ তাদের দেখবে আদরে এবং মমতায় । কঠিন প্রশ্নকে ঘৃণা করবে প্রশ্নফাস কর্তাকে ঘৃণা
করবে কেন ?
আমি নাহিদ টাকলাকে (আসল নাম না , নকল নাম) বললাম . ভাই আমি
SECS নিয়ে কাজ করছি আর H.ASS.ক এর প্রশ্ন দরকার । আপনি কি প্রশ্ন জোগার করে দিতে পারবেন ?
নাহিদ টাকলা বলল , আমার লাভ কী ?
আমি বললাম , আপনার লাভ হল ,
প্রতি সেট প্রশ্নের জন্য আপনি ৫০০০ করে পাবেন । শিক্ষার্থীরা আপনার প্রশ্ন দেখে পরিক্ষায় টপ করবে ফলে আপনার আমদানি আরো বাড়বে ।
তবে শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন দিতে পারলেন না । আমি বাসায় ফিরে টিভিতে দেখলাম , 
পরীক্ষা স্থগিত। (বমি)

*আষাঢ়েগল্প*

মাইরালা: গভির রাত আমি একা একা হেঠে যাচ্ছি রাজপথে। হঠাৎ একটা ভিষণ জুরে কান্নার আওয়াজ পেয়ে ভয়ে শিহরিত হলাম।।কে এইভাবে কান্নার আওয়াজ করলো তা ভেবে আমি আতংকিত। এমন সজোরে কোন মানুষ চিতকার করতে পারেনা, তবে সেটা কি তাও ভাবার বিষয়। অবশেষে জানতে পারলাম এটা একটা

*আষাঢ়েগল্প* *আজব*

হাফিজ উল্লাহ: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ৪ তলা অব্দি পানি উঠে গেছে l বউকে ডাক দিয়ে বললাম হাফ কেজি মধু, এক ঠুঙ্গা বাতাস আরেক ঠুঙ্গায় জোনাকি পোকা ভরে দাও জলদি .... ঢাকার মধু ওয়াসার পোকা-মাকড় খুব ভয় পায় তাই মধু বেশ করে গায়ে মেখে চটপট রেডি হয়ে বাতাসের ঠুঙ্গা গলায় বাধলাম আর জোনাকি পোকার ঠুঙ্গা হাতে নিয়ে ট্যাবের কলের ভিতর ডুকে গেলাম l
তারপর ...... তারপর আর কি ... ওয়াসার পাইপ দিয়ে সোজা অফিসে চলে আসছি l
*আষাঢ়েগল্প*

আজি ঝর ঝর, মুখর বাদল দিনে

৫৭৭ টি পোস্ট আছে

এত্ত গরম, আবহাওয়া দেখে মনে হচ্ছে দেশটা মরুভূমি হয়ে যাবে নাকি!

২৭৭ টি পোস্ট আছে

উদ্ভট গল্পের সমাহার

১১৯ টি পোস্ট আছে

আয় বৃষ্টি ঝেঁপে, ধান দিবো মেপে

১০৬ টি পোস্ট আছে

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

৯৫ টি পোস্ট আছে

বৃষ্টির দিনে, শীতকালে কিংবা সারা বছর

৫১ টি পোস্ট আছে

ইট-পাথরে শখের বাগান!

৩১ টি পোস্ট আছে

গ্যাঞ্জাম ছাড়া আমাদের লাইফ- অসম্ভব!

২৬ টি পোস্ট আছে

সবসময় হিট

২৪ টি পোস্ট আছে

১৩ টি পোস্ট আছে