ইতিহাস

ইতিহাস নিয়ে কি ভাবছো?

ফিটকিরি: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 জিয়াউর রহমান হত্যার ইতিহাস জানতে চাই |

উত্তর দাও (১ টি উত্তর আছে )

*ইতিহাস* *রাজনীতি*

দীপ্তি: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ছোট কাটরা ও বড় কাটরা সমন্ধে বিস্তারিত জানাতে পারেন কি?

উত্তর দাও (১ টি উত্তর আছে )

*ছোটকাটরা* *বড়কাটরা* *স্থাপনা* *ইতিহাস* *পুরানঢাকা*

দীপ্তি: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 ডেনিম জিন্সের উৎপত্তি কিভাবে হয়েছিল?

উত্তর দাও (১ টি উত্তর আছে )

.
*ডেনিম* *জিন্স* *ডেনিমজিন্স* *ইতিহাস*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

স্কুল থেকে বেরিয়ে বাসের জন্য সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলো কয়েকজন শিক্ষার্থী ও তাদের গার্জিয়ানসহ আরও অনেকেই। জাবালে নূর দুই বাসের প্রতিযোগিতায় এক বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উঠে গেলো তাদের উপর। স্পটেই প্রাণ গেলো তিন শিক্ষার্থীর! ১০ জনের মতো আহত। রেডিসনের সামনে এখন স্থানীয় জনতা ও শিক্ষার্থীরা পথরোধ করে ভাঙচুড় করছে, চলছে প্রতিবাদ। ঢাকায় একের পর এক এমন ঘটনা ঘটেই চলেছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এখন প্রতিবাদের ঝড়।

কিন্তু আমরা এই প্রতিবাদ কার কাছে জানাচ্ছি? মন্ত্রী-মিনিস্টারদের কাছে? বড় বড় আমলাদের কাছে? কিন্তু তাদের সন্তান বা নাতি পুতিদের তো কখনই এভাবে রাস্তার পাশে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হয়নি, হবেও না। তাহলে তারা কি এই সমস্যাগুলো উপলব্ধি করতে পারবেন? বা পারেন কখনও?

জ্যামে পড়ে আমাদের কতোটা সময় নষ্ট হয়। কতোগুলো এম্বুল্যান্সের ভেতরে রোগীদের স্বজনরা আটকা পড়ে ছটফট করতে থাকেন, কতোগুলো গুরতর আহত মানুষ হসপিটাল যেতে যেতে পথেই মারা যান। যারা কোনোদিন জ্যামে পড়েননি এবং পড়বেও না, তারা কি সে যন্ত্রণাটা কিঞ্চিত উপলব্ধি করতে পেরেছেন কখনও?

তারা কখনও চিন্তিত হন এভাবে যে, আমার ছেলেটা বা নাতিটা স্কুল থেকে বাড়ি ফিরতে পারছে তো? রাস্তায় কোনো বাস চাপা দেয়নি তো? এভাবে কি তারা কোনোদিন ভেবেছেন? আমি জানি না। এসব বাস চাপা, দুর্ঘটনা, মৃত্যু, ধর্ষণ তাদেরকে কি আসলেই কখনও চিন্তিত করেছিলো? নাকি উপদেষ্টার শেখানো বয়ান মিডিয়ার সামনে দিয়ে তারা দায় ঝেরে ফেলেন?

আপনি পাঁচটা কাচামরিচ চিবিয়ে খেয়ে মুখ লাল করে ঘামে ভিজে আরেকজনকে যতোই লিখে আর চিৎকার করে ঝালের বিবরণ দেন না কেনো! মরিচে কামড় না দেয়া পর্যন্ত কেউ আসলে বুঝতে পারবে না, ঝাল ব্যাপারটা কেমন! বরং যে কখনও মরিচে কামড় দেয়নি, তারকাছে মনে হতে পারে, দু একটা মরিচে কামড় দিলে কী এমন হয়ে যায়!

আমরা তাই সারাজীবন ঝাল খেয়ে এভাবে প্রতিবাদই করে যাবো, ঝাল ঝাল বলে চিৎকার করে যাবো। কিন্তু যারা কখনও ঝাল খায়নি, তাদেরকে কখনও ঝালের ভয়াবহতা বুঝাতে পারবো না আমরা। তারাও কখনো ঝাল খেতে আসবেন না আমাদের সাথে। তাদের ঝাল খেতে হয় না। ঝালের পাশ দিয়েও যেতে হয় না তাদের..

*ছাত্র* *আন্দোলন* *ইতিহাস* *মৃত্যু*

দীপ্তি: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের পাশে অবস্থিত গুরুদুয়ারা নানকশাহী কিভাবে গড়ে উঠেছিল? এর ইতিহাস কি?

উত্তর দাও (১ টি উত্তর আছে )

.
*ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়* *কলাভবন* *গুরুদুয়ারানানকশাহী* *ইতিহাস*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ইন্টারনেট আর হলিউডি মুভির কল্যাণে ফ্রীম্যাসনারি, ইল্যুমিনাটির মত গুপ্তসংঘ বা কাল্ট সম্পর্কে অনেকেরই জানা আছে। অবাক ব্যপার ১৮ শতকে আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে এমনই এক গুপ্তসংঘের অস্তিত্ব ছিল।

'ঠগী', ইংরেজীতে 'Thugee', যে শব্দ থেকে এসেছে এখনকার বাংলায় 'ঠক', 'ঠকানো' শব্দগুলো; আভিধানিক অর্থ হচ্ছে 'প্রতারক'। ঠগী গুপ্তসংঘের সদস্যরা বিচরণ করত উপমহাদেশের পথে-প্রান্তরে; রিচুয়াল বা রীতিনীতি লক্ষ্য করলে এদেরকে আদর্শ কাল্টের উদাহরণ হিসেবে বলা যাবে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে ১৭ শতক থেকে ১৯ শতক পর্যন্ত প্রায় ৩০০ বছরে গড়ে প্রতি বছর ৪০,০০০ পথিকের মৃত্যুর কারণ ঠগীরা।

ঠগীদের নিজস্ব সাংকেতিক ভাষা ছিল যাকে বলা হয় রামসী (Ramasecane)। জমাদার বা দলপতির মুখে রামসীতে 'ঝিরণী উঠাও' (গলায় ফাঁস লাগানোর সংকেত) কিংবা 'তামাকু লাও' ডাকের সাথেই হতভাগ্য শিকারের গলায় চেপে বসতো ঠগীদের অদ্ভুত মারণাস্ত্র হলুদ একটি রুমাল যার এক প্রান্তে একটি আধুলী, কখনো দুইটি তামার টাকা বাঁধা। শুধু কি হত্যা, এমন শৈল্পিক উপায়ে মৃতদেহগুলো মাটিতে কবর দিত, যার নাম-নিশানা কোন ঠগী না দেখালে কখনোই উদ্ধার করা সম্ভব হত না। ঠগী থেকে কেন আধুনিক 'ঠক' বা 'ঠকানো' শব্দগুলো আসলো? তার কারণ ঠগীদের বিশেষত্ব ছিল পথিক কিংবা পথিকদলের সাথে তারা বন্ধুত্ব করত, পথ চলত একসাথে মাইলের পর মাইল, ক্রোশের পর ক্রোশ, সহযাত্রীরা একসাথে এক পাতেই খেত, তারপর নির্দিষ্ট স্থানে যেয়ে ঠিকই ঝিরনি উঠত, এতটুকু বুক কাঁপত না, পুরো পথিক দল যত বড়ই হোক না কেন ঠিকই হা-পিত্যেশ করে দিত। নিঁখুত প্রতারণার উদাহরণ, দেবী ভবানীর অন্ধভক্ত ঠগীরা নৃশংসতা আর লোমহর্ষক খুনে যাদের জুড়ি ছিল না।

উপমহাদেশে সে-সময় আরো এমন কাল্টের অস্তিত্ব ছিল; যেমন 'ধুতুরিয়া' (ধুতুরার বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করত), 'তুসমাবাজ ঠগ' (দড়ির খেলা দেখিয়ে বাজী ধরত, বাজী হারলে প্রতিপক্ষকে হত্যা করত), 'ম্যাকফানসা' (এরাও ফাঁস দিয়ে হত্যা করত), 'চন্ডাল' (নৌকা করে নদীতে-জলে যাত্রীদের হত্যা করত), 'ভাগিনা' (এরাও নদীতে বিচরণ করত, তবে রক্তপাত নিষিদ্ধ ছিল, রক্তপাতহীন হত্যা করত) - প্রতিটি কাল্টই নিজস্ব রীতিনীতিতে ইউনিক, তবে ঠগীর মত বৃহৎ ও চতুর গুপ্তসংঘ আর কেউই ছিলনা।

ঠগীরা দলবেঁধে বাস করত, কোন এক গ্রামে বসত গড়ে তুলত, সারা বছর সাধারণ গৃহস্থ, ঘরকন্না করত, ভিখারিকে ভিক্ষা দিত, জমিদারকে খাজনাও দিত, কিন্তু বর্ষা শেষে পথে নামলেই তারা ভিন্ন মানুষ, নির্দয়-নির্মম-নিখুঁত খুনী, পুরো দলই। ঠগীদের রিচুয়ালগুলো অদ্ভুত, তাদের সব কাজ দেবী ভবানীকে তুষ্ট করার জন্য; কোন পথিক দলের কাছে অর্থসম্পদ নেই, কিন্তু দেবীর সুলক্ষণ আছে, অতএব পুরো দলকেই খুন করা হবে, লুটের মাল থাকুক বা না থাকুক, নাহলে দেবী রুষ্ট হবেন যে! ঠগীদের মধ্যে মুসলমান ছিল, আবার হিন্দুও ছিল, ঠগী-ধর্ম এক অদ্ভুত সমন্বয়বাদ। এইযে শত শত বছরের কলঙ্কময় ইতিহাসের স্রষ্টা, নির্মম ঠগীরা নির্মূল হয় খুব অল্প সময়ের মাঝে, এক তরুণ কর্নেল উইলিয়াম হেনরী স্লীম্যানের অধ্যবসায়ে।

বাংলায় ঠগীদের নিয়ে কিছু তথ্যবহুল বই আছে। সবচেয়ে ভাল লেগেছে শ্রীপান্থের নন-ফিকশন 'ঠগী', কলকাতার দে'জ পাবলিশিং হতে ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত। এছাড়াও সংগ্রহে আছে নাজিমুদ্দীন আহমেদের 'মৃত্যুদূত-এক দুর্ধর্ষ ঠগের আত্মকাহিনী', ইউপিএল প্রকাশিত -কর্নেল টেলরের 'Confessions of a thug' অবলম্বনে রচিত হয়েছে, যে বইটি এক দুর্ধর্ষ ঠগী জমাদার আমীর আলীর ৭০০ হত্যার চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি নিয়ে লেখা হয়েছে। এমিলিও স্যালগারির 'থাগস অব হিন্দুস্তান' বইয়ের অনুবাদ সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত, এই উপন্যাসটিও বাংলায় সহজলভ্য।

(সূত্র: ঠগী - শ্রীপান্থ)

*ইতিহাস* *গুপ্তসংঘ* *বাংলা* *পথিক*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

স্টিভেন হকিংকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন মিডিয়ার লেখালেখি দেখে আমার কাছে মনে হয়েছে লেখাগুলো অতিরঞ্জন দোষে দুষ্ট ও হীনম্মন্যতাপূর্ণ। কারণ এর চেয়ে বড়ো বিজ্ঞানী আমাদের ছিল কিন্তু তাকে নিয়ে আমরা এমন করিনি। তাই হকিংকে নিয়ে লেখা আমার কাছে বাড়াবাড়ি মনে হয়। এই বাড়াবাড়ি দেখে বুঝতে কষ্ট হয় না, আসলে বাঙালির কোনো আত্মমর্যাদা নেই। নেই স্বকীয় ঐতিহ্য তুলে ধরার সামর্থ্য। তারা কেবল নিজেদের অবহেলা করে পরকে মাথায় নিয়ে নাচে। সে কারণে অনেক মেধাবী থাকা সত্যেও আমাদের অবস্থান পাতালের অতলে।

বলছিলাম, হকিংয়ের চেয়ে অনেক মেধাবী এবং বড়ো বিজ্ঞানী বাংলাদেশে ছিল। তিনি জামাল নজরুল ইসলাম। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। বলা হয়, আধুনিক বিশ্বের সাত জন শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীর নাম নিলেও জামাল নজরুল ইসলামের নাম চলে আসবে। তিনি সারা বিশ্বে জেএন ইসলাম নামে পরিচিত এবং বিজ্ঞানীদের কাছে বাংলাদেশ জেএন ইসলামের দেশ হিসেবে পরিচিত। জেএন ইসলাম ছিলেন ক্যাম্ব্রিজে হকিংয়ের রুমমেট, বন্ধু এবং সহকর্মী। প্রায় অর্ধডজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ বন্ধু জেএন ইসলামকে বলা হতো আধুনিক পৃথিবীর অন্যতম মেধাবী মানুষ। কেন এমন বলা হতো, তার দুটি উদাহরণ দিই। ক্যাম্ব্রিজের ট্রিনিটি থেকে গণিতে ট্রাইপস পাস করতে লাগে তিন বছর। জেএন ইসলাম তা দুই বছরে শেষ করে বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছিলেন। ২০০১ খ্রিস্টাব্দে পৃথিবীর তাবৎ বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সে সময় জামাল নজরুল ইসলাম গণিতের হিসাব কষে পৃথিবীর মানুষকে আস্বস্ত করে বলেছিলেন, সে রকম কোনো আশঙ্কা নেই। কারণ, প্রাকৃতিক নিয়মে সৌরজগতের সবগুলো গ্রহ একই সরলরেখা বরাবর চলে এলেও তার প্রভাবে পৃথিবী নামক গ্রহের কোনো ক্ষতি হবে না।

চট্টগ্রামের কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি পরীক্ষায় এত ভালো করেছিলেন যে, শিক্ষকৃবন্দ তাকে ডাবল প্রমোশন দিয়ে এক শ্রেণি উপরে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের শিক্ষক ফাদার সোরে জেএন ইসলামকে ডাকতেন জীবন্ত কম্পিউটার বলে। অন্যান্য বিজ্ঞানী যেখানে কম্পিউটার ও ক্যালকুলেটর নিয়ে কাজ করতেন সেখানে জেএন ইসলাম এগুলি ছাড়াই বড়ো বড়ো হিসাব মুহূর্তে করে দিতেন। তিনি বলতেন, কম্পিউটার আমার কাছে অপ্রয়োজনীয়। তবে তিনি কম্পিউটারের সাধারণ প্রয়োজনীয়তা কখনো অস্বীকার করেননি।
একাধারে পদার্থবিজ্ঞানী, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, বিশ্বতত্ত্ববিদ ও অর্থনীতিবিদ। জেএন ইসলাম সম্পর্কে বলতে গিয়ে হকিং বলেছিলেন, ‘জেএন ইসলাম আমার রুমমেট, বন্ধু এবং আমরা ছিলাম পরস্পর পরস্পরের শিক্ষক।’ ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত হকিং যেসব বিজ্ঞানীদের নিয়ে গবেষণা করেছেন, তন্মধ্যে জেএন ইসলাম ছিলেন অন্যতম। যেমন বাঙালি বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু প্রথম রেডিও আবিষ্কার করলেও কৃতিত্ব চলে গিয়ছিল মার্কনির কাছে। ঠিক তেমনটি ঘটেছে জেএন ইসলামের ক্ষেত্রেও। স্টিফেন হকিং যদি বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী হন, তাহলে জেএন ইসলাম ব্রহ্মান্ড খ্যাত।

বাংলাদেশের কোনো পত্রিকায় তাকে নিয়ে লেখা হয়নি, যেমনটি লেখা হয়েছে হকিংকে নিয়ে। নিজের ভাই মহাশয়, এই জ্বালা কি প্রাণে সয়? বাঙালিরা এই বোধ থেকে কখন বের হয়ে আসতে পারবে জানি না।
পদার্থবিদ্যার আবিষ্কার পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রমাণ করতে হয় কিন্তু হকিংয়ের কোনো বর্ণনা তিনি প্রমাণ করতে পারেননি। এজন্য তাকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়নি। তাই অনেকে মনে করেন, হকিং যত বড়ো না বিজ্ঞানী তার চেয়ে বেশি বিজ্ঞানকল্পকাহিনির লেখক। তিনি মেধাবী ছিলেন নিঃসন্দেহে, তবে বিশ্বব্যাপী যে প্রচার তিনি পেয়েছেন তা শুধু মেধার জন্য নয়, বরং তার অসুস্থতা, অমুসলিম এবং ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ার জন্য ঘটেছে। কিন্তু জামাল নজরুল ইসলাম নিজ দেশ থেকেও এমন মূল্যায়ন পাননি। প্রচার ছাড়া প্রসার কীভাবে হয়? বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত জামাল নজরুল ইসলামের লেখা ‘কৃষ্ণবিবর’ গ্রন্থটি হকিংয়ের ব্ল্যাকহোল থিউরির অনেক আগেই প্রাচ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠিত। কিন্তু আমরা কেউ তা জানি না। জানলেও তা কেউ প্রচার করিনি।
সারা বিশ্বে বিজ্ঞানী মহলে জেএন ইসলাম জিনিয়াস ইসলাম নামেও পরিচিত ছিলেন। জাপানি প্রফেসর মাসাহিতো বলেছেন, ‘ভারতের বিখ্যাত জ্যোতিপদার্থ বিজ্ঞানী জয়ন্ত নারলিকা জেএন ইসলামের সহপাঠী ছিলেন। ফ্রেডরিক হয়েল, নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী ব্রায়ান জোসেফসন, স্টিফেন হকিং, প্রফেসর আব্দুস সালাম, রিচার্ড ফাইনমেন, অমর্ত্য সেন প্রমুখ ছিলেন জামাল নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাদের মুখে আমি অনেক বার জেএন ইসলামের কথা শুনেছি।

জেএন ইসলামের ‘দি আল্টিমেট ফেইট অফ দি ইউনিভার্স’ লেখা হয়েছে ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে কিন্তু হকিংয়ের ‘অ্যা ব্রিফ হিস্টরি অব টাইম’ লেখা হয়েছে ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে। দুটি গ্রন্থ তুলনা করলে নিঃসন্দেহে জেএন ইসলামের বইটি যে কোনো বিবেচনায় শ্রেষ্ঠ। কিন্তু ব্রিফ হিস্টরি অব টাইম নিয়ে আমরা যে তোলপাড় করেছি, জেএন ইসলামের আল্টিমেট ফেইট নিয়ে তার এক সহশ্রাংসও করিনি।
হকিং তাঁর মূল্যবান গবেষণা সময়ের অধিকাংশই ব্যয় করতেন বাঙালি প্রফেসর জামাল নজরুল ইসলামের সঙ্গে। তাদের সম্পর্ক ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব থেকে পারিবারিক বন্ধুত্বে উন্নীত হয়েছিল। হকিংয়ের জ্যেষ্ঠ ছেলে রবার্ট, কন্যা লুসি এবং কনিষ্ঠ ছেলে থিমোতি জামাল নজরুল ইসলামের সঙ্গ খুব পছন্দ করতেন। জামাল নজরুল ইসলামের দুই মেয়ে সাদাফ যাস সিদ্দিকি ও নার্গিস ইসলাম ছিলেন তাদের খুব আদরের। সাদাফ যাসের আমন্ত্রণে লুসি ২০১৪ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে লিট ফিস্টে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ এসেছিলেন।
অর্থশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অমর্ত্য সেন ছিলেন জামাল নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশে এলে বন্ধু জামাল নজরুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করার জন্য চট্টগ্রাম চলে গিয়েছিলেন।
১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিজ্ঞানী আবদুস সালাম বাংলাদেশে এলে বিমান বন্দরে নেমে বলেছিলেন, জেএন ইসলামকে খবর দিন। ওই সফরে জেএন ইসলামকে একটা পদকও দিয়েছিলেন প্রফেসর আবদুস সালাম। উল্লেখ্য, বয়সে জামাল নজরুল ইসলাম ছিলেন হকিংয়ের সিনিয়র কিন্তু আবদুস সালাম এবং অমর্ত্য সেনের জুনিয়র।
কেম্ব্রিজের শিক্ষক প্রফেসর সুসানার ভাষায়, ‘বিজ্ঞানময়তা বিবেচনায় হকিংয়ের অ্যা ব্রিফ হিস্টরি অব টাইম-এর চেয়ে অনেক গুণ কার্যকর এবং বিজ্ঞানানুগ হচ্ছে জেএন ইসলামের দি আল্টিমেট ফেইট অফ দি ইউনিভার্স।’ বলা হয়, ব্রিফ হিস্টরি অব টাইম এক কোটি কপি বিক্রি হয়েছে। বিজ্ঞানগুরুত্বে যদি এটি হয়ে থাকে, তাহলে জেএন ইসলামের ‘দি আল্টিমেট ফেইট অফ দি ইউনিভার্স’ একশ কোটি কপি বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু হয়নি।
কেন? কারণ প্রচার হয়নি। আমরা করিনি। জেএন ইসলাম মুসলিম, জেএন ইসলাম তৃতীয় বিশ্বের লোক। তাই পাশ্চাত্যে যথাগুরুত্ব পাননি। জেএন ইসলামের দেশের লোকই তাকে তুলে ধরতে পারেনি, অন্যরা কেন করবে?
জেএন ইসলামের লেখা এবং ক্যাম্ব্রিজ থেকে প্রকাশিত ‘রোটেটিং ফিল্ডস ইন জেনারেল রিলেটিভিটি’ বইটাকে বলা হয় আধুনিক বিজ্ঞানের একটি অদ্বিতীয় বই। সেটা নিয়ে অধিকাংশ বাঙালি কিছুই জানে না। নিজের ঘরের মানুষের কৃতিত্বের খবর যদি ঘরের মানুষ না রাখে তাহলে বাইরের লোকে রাখবে কেন? জেএন ইসলামের ‘দি আল্টিমেট ফেইট অফ দি ইউনিভার্স’ ছাড়া আর কোনো বাঙালির বই হিব্রু ভাষায় অনূদিত হয়নি।
তার তিনটি বই এবং দুটি আর্টিক্যাল ক্যাম্ব্রিজ, অক্সফোর্ড, হার্ভার্ড, প্রিস্টনসহ পৃথিবীর শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়। অথচ বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয় কি না আমার জানা নেই। এ হিসেবেও জামাল নজরুল ইসলাম হকিংয়ের চেয়ে অনেক বড়ো বিজ্ঞানী।
জামাল নজরুল ইসলাম ছিলেন আপাদমস্তক দেশপ্রেমিক। নিজের আয় থেকে অর্থ জমিয়ে দরিদ্র ছাত্রদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছেন।
১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ বন্ধের উদ্যোগ নিতে বলেছিলেন। সর্বোপরি, বিদেশে সহস্র পাউন্ডের লোভনীয় চাকরি ছেড়ে দিয়ে জামাল নজরুল ইসলাম বাংলাদেশে চলে এসেছিলেন। শুধু তাই নয়, মুহম্মদ জাফর ইকবাল দেশে ফেরার আগে জামাল নজরুল ইসলামের পরামর্শ চাইলে তিনি, জাফর ইকবালকে দ্রুত দেশে ফেরার ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন দেশের জন্য কিছু করার সুযোগ পাবেন। দেশে ফিরে নিজের অধ্যয়নভূমি (জন্মস্থান ঝিনাইদহ) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ৩০০০ টাকার বৃত্তিতে কাজ শুরু করেন। ভেবেছিলেন দেশ তাঁকে মূল্যায়ন করতে পারবে, পারলেও করেনি। আমরা বাঙালিরা তাকে ওই তিন হাজার টাকা ছাড়া আর কিছুই দিতে পরিনি। তিনি যদি দেশে না আসতেন তাহলে পৃথিবী অনেক কিছু পেত। স্বার্থপর জেএন ইসলাম নিজের দেশের জন্য পৃথিবীকে বঞ্চিত করেছেন।
২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ১৬ মার্চ তিনি ইন্তেকাল করেন।
(সৌজন্যেঃ জুমবাংলা)

*বিজ্ঞানী* *স্টেফিং* *হকিং* *বাঙালী* *ইতিহাস* *সেরা* *নজরুল* *ইসলাম* *খান*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: এই জাফর ইকবাল স্যার কে নিয়ে এতো হই চই হচ্ছে যে কতিপয় মানুষ মৌলবাদীদের দোষ দিচ্ছে সাথে সরকার ও তার নেতৃবৃন্দ ও বাদ জাচ্ছেন না এই দোষ চাপাচপির খেলায় । অথছ ১ বছর পিছনে ফিরে তাকান এই স্যারকে আওয়ামীলীগ এর কর্মীবৃন্দের কাছে মাইর খেতে হয়েছে সাথে তার স্ত্রী ও মাইর থেকে রেহাই পান নি । তখন কেউ প্রতিবাদ করতে আসে নি সরকার ও কিছু বলেনি ।তিনি বৃষ্টির মাঝে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মৌন প্রতিবাদ করেছেন । এই হচ্ছে মাদের সমাজ সবকিছু ভুলে গিয়ে মৈলবাদীদের নিয়া পড়েছে ।

*বাস্তবতা* *ইতিহাস* *মৌলবাদী*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

মধ্যযুগের উল্লেখযোগ্য জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে ছিলেন মু’আয়াদ আল-দিন আল-‘উরদি, নাসির আল-দিন আল-তুসি , কুতুব আল-দিন আল শিরাজি , সাদর আল-শারিয়া আল-বুখারি, ইবনে আল-শাতির , এবং আলি আল-কুশজি ।পঞ্চদশ শতাব্দীতে, তিমুরিয় শাসক সমারকন্দের উলাঘ বেগ তার দরবারকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতার এক কেন্দ্রে পরিণত করেন। তিনি নিজে তার যৌবনে তা নিয়ে অধয়ন করেছিলেন, এবং ১৪২০ সালে একটি মানমন্দির প্রতিষ্ঠার আদেশ দেন, যা এক প্রস্থ নতুন জ্যোতির্বিজ্ঞানসংক্রান্ত সারণী তৈরি করে, সাথে সাথে অন্যান্য বৈজ্ঞানিক এবং গাণিতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।

 

বেইজিং প্রাচীন মানমন্দিরের একটা অংশ।চৈনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানে ইসলামি প্রভাব সর্বপ্রথম লিপিবদ্ধ হয় সং রাজবংশের সময়ে যখন মা ইজ নামের একজন হুই মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানী এক সপ্তাহে সাতদিনের ধারণা প্রবর্তন করেন এবং অন্যান্য অবদান রাখেন।মঙ্গোল সাম্রাজ্য এবং পরবর্তী ইউয়ান রাজবংশের সময় চীনে ইসলামি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নিয়ে আসা হয়েছিল বর্ষপঞ্জিকা তৈরিতে এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করতে। ১২১০ সালে চৈনিক পণ্ডিত ইয়েহ-লু চু’সাই চেঙ্গিস খানের সঙ্গী হন পারস্য গমনে এবং মঙ্গোল সাম্রাজ্যে ব্যবহারের জন্যে তাদের দিনপঞ্জিকা নিয়ে অধ্যয়ন করেন। কুবলা খান বেইজিংয়ে ইরানিদের নিয়ে আসেন একটি মানমন্দির এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান-সংক্রান্ত বিদ্যার্জনের জন্য একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার জন্যে।

মারাগেহ মানমন্দিরে বেশ কয়েকজন চৈনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী কাজ করেছিলেন, ১২৫৯ সালে পারস্যের হুলাগু খানের পৃষ্ঠপোষকতায় নাসির আল-দিন আল-তুসি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। এসব চৈনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একজন ছিলেন ফু মেংচি, অথবা ফু মেজহাই।১২৬৭সালে ফার্সি জ্যোতির্বিজ্ঞানী জামাল আদ-দিন, যিনি আগে মারাগা মানন্দিরে কাজ করতেন, কুবলাই খানকে সাতটি ফার্সি জ্যোতির্বিজ্ঞান-সংক্রান্ত যন্ত্রসমূহ উপহার দেন, যেগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল একটি ভূগোলক এবং একটি আরমিলেয়ারি গোলক, সেই সাথে একটি জ্যোতির্বিজ্ঞান-সংক্রান্ত পঞ্জিকা, যা পরবর্তীতে চীনে ওয়ানিয়ান লি নামে পরিচিত হয় (“দশ হাজার বছরের বর্ষপঞ্জি” অথবা “চিরকালের বর্ষপঞ্জি)। চায়নায় তিনি “ঝামালুদিং” নামে পরিচিত ছিলেন, যেখানে, ১২৭১ সালে, তিনি খান দ্বারা বেইজিং-এ ইসলামিক মানমন্দিরের প্রথম পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান,ইসলামিক জ্যোতির্বিজ্ঞান-সংক্রান্ত বিভাগ নামে পরিচিত, যা চার শতাব্দী ধরে চৈনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান-সংক্রান্ত বিভাগের পাশাপাশি কাজ করেছিল। ইসলামিক জ্যোতির্বিজ্ঞান চীনে ভাল সুখ্যাতি অর্জন করে তার গ্রহসংক্রান্ত অক্ষাংশের তত্ত্বের কারনে, সেই সময়ে চৈনিক জ্যোতির্বিদ্যায় যার অস্তিত্ব ছিল না, এবং গ্রহণ সম্পর্কে তার নির্ভুল গণনার কারনে।তার কিছুদিন পরেই বিখ্যাত চৈনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী গুয়ো শাউজিং কর্তৃক গঠিত কিছু জ্যোতির্বিজ্ঞান-সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি মারাগেহ’তে তৈরি যন্ত্রপাতির ধরণের অনুরূপ।বিশেষত, “সহজতর যন্ত্র” (জিয়ানি) এবং গাওচেং জ্যোতির্বিজ্ঞান মানমন্দিরের বিশাল গ্নমন ইসলামিক প্রভাবের সাক্ষ্য বহন করে।১৮২১ সালে শাউশি বর্ষপঞ্জি তৈরি করার সময়, গোলকাকার ত্রিকোণমিতি নিয়ে রচনায় সম্ভবত কিছুটা প্রভাবিত হয়েছিল ইসলামিক গণিত দ্বারা, যা কুবলার দরবারে সমাদরে গৃহীত হয়েছিল।এইসব সম্ভাব্য প্রভাব অন্তর্ভুক্ত করে নিরক্ষসংক্রান্ত এবং গ্রহণের স্থানাঙ্ক রুপান্তরের একটি ছদ্ম-জ্যামিতিক ব্যাবস্থা, মূলগত স্থিতিমাপে দশমিকের প্রণালীবদ্ধ ব্যবহার, এবং গ্রহসমূহের চলনের অনিয়মিত হিসেবে ঘনের ক্ষেপকের প্রয়োগ।

মিং রাজবংশের ১৩২৮ সাল থেকে ১৩৯৮ সাল নাগাদ সম্রাট হংয়ু (রাজত্ব ১৩৬৮ সাল থেকে ১৩৯৮সাল নাগাদ,তার শাসনের প্রথম বছরে ১৩৬৮ সালে সাবেক মঙ্গোলীয় ইয়ুয়ানদের বেইজিং-এর জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানসমূহের হান এবং ও-হান জ্যোতির্বিদ্যা বিশেষজ্ঞদের বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ করেন নানজিং সদ্য প্রতিষ্ঠিত জাতীয় মানমন্দিরের কর্মকর্তা হতে।

সেই বছরে মিং সরকার প্রথমবারের মত জ্যোতির্বিজ্ঞান কর্মকর্তাদের ঊর্ধ্ব রাজধানী ইয়ুয়ান থেকে দক্ষিণে আসার নির্দেশ জারি করে। তাদের সংখ্যা ছিল চৌদ্দ। পর্যবেক্ষণ এবং হিসেব পদ্ধতিতে নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে, হংয়ু সম্রাট সমান্তরাল বর্ষপঞ্জি ব্যাবস্থা, হান এবং হুই অবলম্বন জোরদার করলেন। পরবর্তী বছরগুলোতে, মিং দরবার সাম্রাজ্যিক মানমন্দিরে বেশ কয়েকজন হুই জ্যোতির্বিদদের উঁচু পদে নিয়োগ দিলেন। তারা ইসলামিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের উপর প্রচুর বই লিখলেন এবং ইসলামি ব্যবস্থার উপর ভিত্তি করে জ্যোতির্বিজ্ঞানের যন্ত্রপাতিও প্রস্তুত করলেন।দুটো গুরুত্মপূর্ণ রচনা চাইনিজ ভাষায় অনুবাদের কাজ সম্পন্ন হয় ১৩৮৩ সালে জিজ ১৩৬৬ সালে,এবং আল-মাদখাল ফি সিন’আত আহকাম আল-নুজুম, জ্যোতিষবিদ্যার পরিচিতি ১০০৪সালে।

১৩৮৪ সালে, বহু উদ্দেশ্যপূর্ণ ইসলামি যন্ত্র প্রস্তুতির নির্দেশাবলীর উপর ভিত্তি করে একটি চাইনিজ এস্টোলোব প্রস্তুত করা হল নক্ষত্র পর্যবেক্ষণের জন্য । ১৩৮৫ সালে উত্তরদিকের নানজিং-এ এক পাহাড়ে যন্ত্রটি স্থাপন করা হয়।১৩৮৪ সালের দিকে, মিং রাজবংশের সময়, সম্রাট হংয়ু আদেশ করলেন চাইনিজ অনুবাদ এবং ইসলামি জ্যোতির্বিজ্ঞান-সংক্রান্ত সারণীসমূহের সংকলন করার, একটি কাজ যা পণ্ডিতগণ মাশায়িহেই, একজন মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানী, এবং য়ু বোজং, একজন চাইনিজ বিদ্বান-কর্মকর্তা দ্বারা সম্পন্ন হয়েছিল। এইসব সারণী হুইহুই লিফা নামে পরিচিতি লাভ করল, যা চীনে ১৮শ শতক পর্যন্ত বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়, যদিও কিং রাজবংশ ১৬৫৯ সালে চৈনিক-মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রথা আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যাগ করে।মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইয়্যাং গুয়াংজিয়ান খ্রিস্টান ধর্মসঙ্ঘের সদস্যদের জ্যোতির্বিজ্ঞান-সংক্রান্ত বিজ্ঞানের প্রতি তার আক্রমণের জন্য পরিচিত ছিলেন।

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা।

*ইসলাম* *ইতিহাস* *মধ্যযুগ* *জ্যোতির্বিদ্যা* *বেশটেক* *বেশম্ভব*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

সিনেমাটিতে দিল্লির সম্রাট আলাউদ্দিন খিলজির চরিত্র, ইতিহাস ও অবদান বিকৃত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ভারতের অগ্রণী ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপার, ইরফান হাবিব, রুচিরা শর্মা প্রমুখ । ইতিহাসবিদ রুচিরা শর্মার দাবি, আলাউদ্দিন খিলজি ভিলেন তো নয়ই, বরং তাঁর কাছে ভারত ঋণী । তিনি ভারতের ঐক্য আনেন, পাঁচবার মোঙ্গল আক্রমন ঠেকিয়ে ভারতকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচায় । মোঙ্গলদের দখলে গেলে ভারতের পরিণতি হতো পারস্যের সতো : গণহত্যা ও নগর ধ্বংস ।

আলাউদ্দিন দিল্লি কেন্দ্রিক ছোট একটি রাজ্য থেকে বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্টা করেন । সেই ঐক্যবদ্ধ ভারতই মোগলদের হাত হয়ে ব্রিটিশ ও তারপর স্বাধীন ভারত হিসেবে টিকে আছে । খিলজি নিষ্ঠুর হতে পারেন, তাঁর রাজ স্পৃহা থাকলেও তাঁর নারী স্পৃহার কথা শোনা যায় না । খিলজির বাহিনীতে বেশ কজন দাস জেনারেল ছিলেন । তার প্রশাসনে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিম্ন শ্রেণির মানুষদের উঠিয়ে আনা হতো । এতে হিন্দু-মুসলিম অভিজাতেরা নাখোশ হয় ।

তাঁর চালু কর ব্যবস্থা বিশ শতক পর্যন্ত চালু ছিল । এই সংস্কারে মধ্যস্বত্ব ভোগীদের উচ্ছেদের ঘটনাটা রাজপুতদের খেপিয়ে তোলে । গঙ্গা-যমুনা মধ্যবর্তী দোয়াব অঞ্চলের অনেক সুফির করমুক্ত জমির অধিকারও তিনি বাতিল করেন ।সেই সুফিদেরই অনুসারী হিসেবে খিলজির উপর চটা ছিলেন পদ্মাবত-এর কবি জয়সী । আড়াইশ বছর পর পদ্মাবত কাব্যে তিনি খিলজিকে পদ্মাবত-এর প্রতি লোলুপু হিসেবে দেখান । কিন্তু খিলজির চিতোর অভিযানের সময় পদ্মাবতী বলে তো কোন রাজপুত রানি ছিলেন না ।

মেবার রাজ্যের দরবারি ইতিহাসবিদ শ্যামল দাস একবার পদ্মাবতীর কথা এনেছিলেন, তবে সেটা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রসঙ্গে । আলা্উদ্দিন খিলজির সঙ্গে পদ্মাবতীর কোন দিনই দেখাই হয়নি । এমন কি কবির লেখা কাহিনীন বাইরে গিয়ে খিলজির হাত থেকে বাঁচতে পদ্মাবতীকে স্বামীর চিতোই তুলছেন বলিউডি পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালী । মূল কাহিনীত পদ্মাবতী খিলজির ভয়ে নয়, প্রথা অনুযায়ী স্বামীর চিতোই সতীদাহ হন ।

*পদ্ধাবত* *আলাউদ্দিন-খিলজি* *মহান* *শাসক* *ইতিহাস* *সম্রাজ্য*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে মুসলিম দেশগুলো পেছনে পড়ে যাওয়ায় পাশ্চাত্য তাদের ভাগ্য নিয়ন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি কোনো মুসলমানের কাম্য হতে পারে না। আমরা এমন এক যুগে বসবাস করছি যেখানে একটি মুসলিম শিশু মুসলমানদের দুর্দিন ছাড়া আর কিছু দেখছে না। শুধু শিশু নয়, আবালবৃদ্ধবনিতা সবার মধ্যে এমন একটি ধারনা কাজ করছে যে, বিজ্ঞান মানেই ইউরোপ আর আমেরিকা। তাদের কাছ থেকে আমাদের জ্ঞান বিজ্ঞান শিখতে হবে। কিন্তু আমাদের অনেকেই জানে না যে, মুসলমানরাই আধুনিক বিজ্ঞানের জন্মদাতা। আজকের এ অধ:পতিত মুসলমানদের পূর্বপুরুষেরা কয়েক শতাব্দি পর্যন্ত বিশ্বে জ্ঞানের আলো জ্বালিয়ে গেছেন। আজকের আলোকিত বিশ্ব তাদের কাছে ঋনী। বর্তমান বিশ্ব সভ্যতা মুসলমানদের কাছে ঋনী। মুসলমানরাই বিশ্ব সভ্যতাকে রক্ষা করেছেন। এ ব্যাপারে মুসলিম ঐতিহাসিক মোহাইমিনি মোহাম্মাদের একটি উক্তি উল্লেখযোগ্য। তিনি তার 'গ্রেট মুসলিম ম্যাথমেটিশিয়ান' গ্রন্থের ৩ নম্বর পৃষ্ঠায় লিখেছেন, 'In the Byzantine and Persian empire were manifesly bent upon mutual destruction. Likewise, India was greatly divided. However, China was steadily expanding, the Turkish in central Asia were disposed to work in an accord with China. During this period, the world was saved by the rise of the Islamic civilization.'

অর্থাত, 'সপ্তম শতাব্দিতে পশ্চিম ইউরোপের পতন ঘটেছিল। অন্যদিকে বাইজাইন্টাইন ও পারস্য সাম্রাজ্য একে অন্যের ধ্বংস সাধনে ছিল সুস্পষ্টরূপে বদ্ধপরিকর। একইভাবে ভারত ছিল মারাত্মকভাবে দ্বিধাবিভক্ত। তবে দৃঢ়তার সঙ্গে চীনের সম্প্রসারন ঘটছিল। মধ্য এশিয়ায় তুর্কিরা চীনের সঙ্গে একটি সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী ছিল। এসময় ইসলামী সভ্যতার উত্থানে বিশ্ব রক্ষা পায়।'

পৃথিবীর জাতিসমূহের মধ্যে মুসলমানই একমাত্র জাতি যার রয়েছে সর্বাধিক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস-ঐতিহ্য। জাতি তাদের মহত ব্যক্তিদের কীর্তিসমূহ সম্পর্কে এমনি নিশ্চিতভাবে জানতে পারে যা সকল প্রকার সংশয় ও সন্দেহ থেকে মুক্ত। মুসলমানদের হোমারের এলিয়ড অথবা হিন্দুদের রামায়ন, মহাভারতের কল্পকাহিনীর প্রয়োজন নেই। কেননা এসব কল্পকাহিনীর চেয়ে অনেক বেশি বিস্ময়কর ও গৌরবোজ্জ্বল কাহিনীর বাস্তব উদাহরন তাদের ইতিহাসের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে রয়েছে, অথচ ঐসব কল্পকাহিনীর মিথ্যাচারিতা ও অবিশ্বস্ততার ছোঁয়াও তাতে লাগেনি। মুসলমানদের ফেরদৌসীর শাহনামা অথবা স্পার্টাবাসীদের কল্পকাহিনীরও কোন প্রয়োজন নেই। কেননা, তাদের ইতিহাসের পাতায় পাতায় রয়েছে রুস্তম ও স্পার্টার ছড়াছড়ি। মুসলমানদের ন্যায়পরায়ন নওশেরওয়া বাদশাহ বা হাতেম তাঈর গল্পেরও কোনই প্রয়োজন নেই। কেননা, তাদের সত্য ইতিহাসের পাতায় পাতায় অসংখ্য হাতেম ও নওশেরওয়া বিদ্যমান। মুসলমানদের এরিস্টটল, বেকন, টলেমী বা নিউটনেরও কোনই প্রয়োজন নেই। কেননা, তাদের পূর্বপুরুষদের মজলিসে এমনসব দার্শনিক ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী বিদ্যমান রয়েছেন- যাঁদের পাদুকাবহনকেও উল্লিখিত যশস্বীগন গৌরবের কারন জ্ঞান করতেন।

 

 

 

কতই আক্ষেপ ও বিস্ময়ের ব্যাপার, আজ যখন বিশ্বের তাবত জাতি নিজেদেরকে বিশ্ব দরবারে সমুন্নত করার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত, তখনও সর্বাধিক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস-ঐতিহ্যের অধিকারী মুসলমানগন নিজেদের ইতিহাস সম্পর্কে উদাসীন ও নির্বিকার। মুসলমানদের যে শ্রেনিটাকে অনেকটা শিক্ষিত ও সচেতন মনে করা হয়, তারাও তাদের বক্তৃতা-বিবৃতি ও প্রবন্ধাদিতে কোন মহত ঘটনার উদাহরন দিতে চান তখন মনের অজান্তেই তাঁদের মুখ ও কলম দিয়েও কোন ইউরোপিয়ান বা খ্রিষ্টান মনীষীর নামই নির্দ্বিধায় বেরিয়ে আসে। এক্ষেত্রে তার চেয়েও হাজার গুন উল্লেখযোগ্য কোন মুসলিম মনীষীর নাম তাঁদের জানা থাকে না। এ সত্যকে কে অস্বীকার করতে পারে যে, মুসলমানদের শিক্ষিত শ্রেনি বিশেষত নব্য শিক্ষিত শ্রেনির মুসলমানদের বক্তৃতা-বিবৃতি বা রচনাদিতে নেপোলিয়ান, হ্যানিবল, শেক্সপিয়ার, বেকন, নিউটন প্রমুখ ইউরোপীয় মনীষীর নাম যত নিতে দেখি, খালিদ ইবনে ওয়ালিদ, সালাহউদ্দিন আইয়্যুবী, হাসসান ইবনে ছাবিত, ফেরদৌসী, তূসী, ইবন রুশদ, বূ-আলী, ইবন সীনা প্রমুখ মুসলিম মনীষীর নাম ততো নিতে দেখা যায় না। এর একটি মাত্র কারন, আর তা হচ্ছে বর্তমান যুগে মুসলমানরা তাদের নিজ ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ ও নির্বিকার। মুসলমানদের এই অজ্ঞতা ও উদাসীনতার কারন হচ্ছে-

প্রথমত এমনিতেই অন্যান্য জাতির তুলনায় মুসলমানদের জ্ঞানস্পৃহা কম।

দ্বিতীয়ত, জ্ঞানান্বেষনের সুযোগ ও অবকাশও তাদের নেই।

তৃতীয়ত, সরকারি কলেজ ও মাদরাসাগুলো ইসলামী শিক্ষায়তনগুলোকে ভারতবর্ষে প্রায় অস্তিত্বহীন করে দিয়েছে।

চতুর্থত, মুসলমানদের যে শ্রেনিটিকে সাধারনত শিক্ষিত বলা হয়ে থাকে এবং মুসলমানদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় বলে গন্য করা হয় তাঁদের প্রায় সকলেই শিক্ষায়তনসমূহে লেখাপড়া করে এসেছেন - যেগুলোতে ইসলামের ইতিহাস পাঠ্যভূক্ত নয়, আর তা পাঠ্যভূক্ত থাকলেও ইসলামের ইতিহাস পদবাচ্য নয়-অন্য কিছু, অথচ তাকে ইসলামের ইতিহাস বলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে এবং সেগুলোকেই মুসলিম সন্তানদের গোগ্রাসে গলধকরনে বাধ্য করা হয়। কলেজ থেকে ডিপ্লোমা হাসিল করার পর না জ্ঞানার্জনের বয়স বাকি থাকে আর না তার তেমন কোন অবকাশ বা সুযোগ থাকে। মোটকথা, আমাদের শিক্ষিত মুসলমানদেরকে সেই ইসলামের ইতিহাসের উপরই নির্ভর করতে হয় যা ইসলামের প্রতিদ্বন্দী ও শত্রুরা বিকৃত করে তাদের ইংরেজি পুস্তকাদিতে লিখেছে।

 

 

 

মুসলমানদের পূর্বে পৃথিবীর অন্য কোন জাতির এ সৌভাগ্য হয়নি যে, ইতিহাসকে একটা সঠিক ভিত্তির উপর রীতিমত একটা শাস্ত্ররূপে দাড় করাবে। তাঁদের কেউই তাদের পূর্বপুরুষদের সঠিক ইতিহাস রচনায় সমর্থ হননি। ইসলামের পূর্বে ইতিহাস রচনার মান যে কেমন ছিল বাইবেলের পৃষ্ঠাসমূহ বা রামায়ন মহাভারতের কাহিনীগুলো পাঠই তা উপলব্ধি করার জন্য যথেষ্ট। মুসলমানরা মহনবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিস সংরক্ষন ও বর্ননায় যে কঠোর সতর্কতা ও নিয়মানুবর্তিতার স্বাক্ষর রেখেছেন পৃথিবীর ইতিহাসে তার কোন নযীর নেই। 'উসূলে হাদিস' ও 'আসমাউর রিজাল' এর মত শাস্ত্রগুলো কেবল হাদিসে নববীর হিফাযত ও খিদমতের উদ্দেশ্যে তাঁরা উদ্ভাবন করেছেন। রিওয়ায়াত বা বর্ননাসমূহের বাছ-বিচার ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য যে সুদৃঢ় নীতিমালা তাঁরা উদ্ভাবন করেছেন পৃথিবী তার সুদীর্ঘ আয়ুষ্কালে কোন দিন তা প্রত্যক্ষ করেনি।

মুসলমানদের ইতিহাস সংক্রান্ত সর্বপ্রথম কীর্তি হচ্ছে ইলম হাদিসের বিন্যাস ও সংকলন। ঠিক সেই নীতিমালার ভিত্তিতেই তাঁরা তাঁদের খলীফাগন, আমীর-উমরা ও সুলতানগন, বিদ্বজ্জন ও মনীষীগনের জীবন-চরিত লিপিবদ্ধ করেছেন। এসবের সমাহার হচ্ছে ইসলামের ইতিহাস। দু:খজনক যে, মুসলমানদের ইতিহাস হয় না পৃথিবীর জন্য এক অভাবিত, অভূতপূর্ব অথচ অপরিহার্য উপাদান। অন্যান্য জাতি যেখানে তাদের বাইবেল ও মহাভারত পৃভৃতিকেই তাদের গৌরবজনক 'ঐতিহাসিক' সম্পদ বলে বিবেচনা করতে অভ্যস্ত ছিল, তখন বিশ্বের মানুষ সবিস্ময়ে প্রত্যক্ষ করল যে, মুসলমানরা খতীবের 'তারীখ' বা ইতিহাস গ্রন্থকে তাদের নির্ভরযোগ্য ইতিহাস গ্রন্থের আলমারী থেকে বের করে সরিয়ে রাখছে।

 

 

 

আজ ইউরোপীয় ঐতিহাসিকদেরকে ইতিহাস শাস্ত্রের অনেক খুঁটিনাটি তত্ত্ব নিয়ে নাড়াচাড়া করতে দেখা যায়। মুসলমানরা তা দেখে অনেকটা হকচকিয়ে যান এবং পূর্ন আন্তরিকতার সাথে তাদের স্বীকৃতি দিয়ে থাকেন। কিন্তু তাদের একথাটিও জানা নেই যে, উত্তর আফ্রিকায় বসবাসকারী জনৈক স্পেনীয় আরব বংশোদ্ভূত মুসলমান ঐতিহাসিক ইবন খালদূনের ইতিহাসের ভূমিকা 'মুকাদ্দামায়ে তারীখ' -এর উচ্ছিষ্ট ভোগই গোটা ইউরোপ তথা গোটা বিশ্বকে ইতিহাস শাস্ত্র সম্পর্কে এমনি জ্ঞানদান করেছে যে,

ইউরোপীয় ঐতিহাসিকদের সমস্ত ঐতিহাসিক গবেষনাকর্মকে ইবন খালদূনের মাজারের ঝাড়ুদারকে অর্ঘ্য-স্বরূপ বিনীতভাবে পেশ করা চলে। কিন্তু মুসলিম ঐতিহাসিকদের ইতিহাসকর্ম যে কত উঁচুমানের ছিল তা এ থেকেই অনুমিত হয় যে, মুসলিম বিজ্ঞজনের মজলিসে ইবন খালদূনের অনন্যসাধারন 'মুকাদ্দামা' বাদ দিলে তাঁর আসল ইতিহাসের তেমন কোন মূল্য নির্বিবাদে স্বীকৃত হয়নি।

ইবন হিশাম, ইবনুল আছীর, তাবারী, মাসউদী প্রমুখ থেকে নিয়ে আহমদ ইবন খাওন্দশাহ এবং যিয়াউদ্দিন বারনী পর্যন্ত বরং মুহাম্মদ কাসিম ফিরিশতা এবং মোল্লা বদায়ূনী পর্যন্ত হাজার হাজার মুসলিম ঐতিহাসিকের বিপুল গবেষনা কর্ম যে বিশালায়তন ভলিউমসমূহে সংরক্ষিত রয়েছে, এদের প্রত্যেকটি মুসলমানদের বিস্ময়কর অতীত ইতিহাসের এক একটি খন্ডচিত্র এবং এদের প্রত্যেকের লিখিত ইসলামের ইতিহাস এমনি উল্লেখযোগ্য যে, মুসলমানরা তা অধ্যয়ন করে অনেক শিক্ষনীয় বিষয়ের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পারে। কিন্তু অত্যন্ত অাক্ষেপ ও পরিতাপের বিষয় যে, আজ শতকরা একজন মুসলমানও নিজেদের জাতীয় ইতিহাস জানার জন্য ঐসব মনীষীর রচনাবলী পাঠের এবং তার মর্ম উপলব্ধি করার সামর্থ্য রাখে না। অথচ সেই তুলনায় মিল, কার্লাইল, ইলিয়ট, গিবন প্রমুখের লিখিত ইতিহাস পাঠ করার এবং তার মর্ম উপলব্ধি করার মত যোগ্য মুসলমানের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়।

 

 

 

মুসলমানদের অবস্থা আজকের মতো এত শোচনীয় অতীতে ছিল না। তারা ছিলেন একসময় বিশ্বের প্রভূ। অতীত নিয়ে একটি মুসলিম শিশু গর্ব করতে পারে। ইউরোপ ও আমেরিকাকে লক্ষ্য করে বুক ফুলিয়ে সে বলতে পারে, আমরাও তোমাদের মতো ছিলাম। জ্ঞান-বিজ্ঞানে আমরা তোমাদের পেছনে নই। এমন কথা বলার পূর্বে তাকে জানতে হবে তার আত্মপরিচয়। নিজের জাতীয় পরিচয়। ইসলামের স্বর্নযুগের ইতিহাস প্রতিটি মুসলিমকে অহেতুক হীনমন্যতা থেকে রক্ষা করতে পারে। মহিমান্বিত সে যুগের আলোচনা সামনে সময়মত পর্যায়ক্রমে করার ইচ্ছে থাকলো। তার পূর্বে আসুন প্রাতস্মরনীয় ক'জন মুসলিমদের নামোচ্চরন করি। দেখি, যাচাই করি, এদের আমরা ইতিপূর্বে চিনতাম কি না-

রসায়নের জনক জাবির ইবনে হাইয়ান, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভূগোলবিদ আল বিরুনী, আধুনিক চিকিতসা বিজ্ঞানের জনক ইবনে সিনা, হৃদযন্ত্রে রক্ত চলাচল আবিষ্কারক ইবনুন নাফিস, বীজগনিতের জনক আল খাওয়ারিজমি, পদার্থ বিজ্ঞানে শুন্যের অবস্থান নির্নয়কারী আল ফারাবি, আলোক বিজ্ঞানের জনক ইবনে আল হাইছাম, এনালাইটিক্যাল জ্যামিতির জনক ওমর খৈয়াম, সাংকেতিক বার্তার পাঠোদ্ধারকারী আল কিন্দি, গুটিবসন্ত আবিষ্কারক আল-রাজি, টলেমির মতবাদ ভ্রান্ত প্রমানকারী আল-বাত্তানি, ত্রিকোনমিতির জনক আবুল ওয়াফা, স্ট্যাটিক্স এর প্রতিষ্ঠাতা ছাবিত ইবনে কোরা, পৃথিবীর আকার ও আয়তন নির্ধারনকারী বানু মূসা, মিল্কিওয়ের গঠন শনাক্তকারী নাসিরুদ্দিন তুসি, এলজাব্রায় প্রথম উচ্চতর পাওয়ার ব্যবহারকারী আবু কামিল, ল' অব মোশনের পথ প্রদর্শক ইবনে বাজাহ, এরিস্টোটলের দর্শন উদ্ধারকারী ইবনে রুশদ, ঘড়ির পেন্ডুলাম আবিষ্কারক ইবনে ইউনূস, পৃথিবীর ব্যাস নির্নয়কারী আল-ফারগানি, পৃথিবীর প্রথম নির্ভুল মানচিত্র অঙ্কনকারী আল-ইদ্রিসী, বিশ্বের প্রথম স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের আবিষ্কারক আল-জাজারি, সূর্যের সর্বোচ্চ উচ্চতার গতি প্রমানকারী আল-জারকালি, মানব জাতির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস প্রনেতা আবুল ফিদা, বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের অগ্রদূত ইবনে আল-শাতির, ভূগোল বিশ্বকোষ প্রনেতা আল-বাকরি, প্লানেটরি কম্পিউটার আবিষ্কারক আল-কাশি, বীজগনিতের প্রতীক উদ্ভাবক আল-কালাসাদি, প্রথম এশিয়া ও আফ্রিকা সফরকারী নাসির-ই-খসরু, অঙ্কনে ব্যবহৃত কম্পাসের উদ্ভাবক আল-কুহি, বিশ্ববিখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতাসহ এরকম হাজারও প্রাত:স্মরনীয় মুসলিম ব্যক্তিত্বদের এ পৃথিবী প্রত্যক্ষ করেছে যাদের অবদান বিশ্ব তার অন্তিম লগ্ন পর্যন্ত শ্রদ্ধাভরে স্মরন করে যাবে। বিশ্ব সভ্যতাকে এগিয়ে নিতে যাদের অবদান চিন্তা করলে বিধর্মী পন্ডিতগন পর্যন্ত শ্রদ্ধা-সম্মানে মস্তক অবনত করে দেন।

অধ্যাপক জি. সারটন তার বিখ্যাত গ্রন্থ 'ইন্ট্রোডাকশন টু দ্য হিস্টোরি অব সায়েন্স' -এ লিখেছেন, 'It will suffice here to evoke few glorious names without contemporary equivalents in the West: Jabir ibn Haiyan, Al-Kindi, Al-Khwarizmi, Al-Fargani, Al-Razi, Thabit ibn Qurra, Al-Battani, Hunain ibn Ishaq, Al-Farabi, Ibrahim ibn Sinam, Al-Masudi, Al-Tabari, Abul Wafa, Ali ibn Abbas, Abul Qasim, Ibn Al-Jazzari, Al-Biruni, Ibn Sina, Ibn Yunus, Al Kashi, Ibn Al-Haitham, Ali Ibn Al-Ghazali, Al-Zarqab, Omar Khayyam. A magnificent array of names which it would not be difficult to extend. If anyone tells you that the Middle Ages were scientifically sterile, just quote these name to him, all of whom flourished within a short period, 750 to 1100 A.d.'

অর্থাৎ 'এখানে মুষ্টিমেয় কিছু নাম উল্লেখ করাই যথেষ্ট হবে। সমসাময়িককালে পাশ্চাত্বে তাদের সমতুল্য কেউ ছিল না। তারা হলেন:

জাবির ইবনে হাইয়ান, আল-কিন্দি, আল-খাওয়ারিজমি, আল-ফারগানি, আল-রাজি, ছাবিত ইবনে কোরা, আল-বাত্তানি, হুনাইন ইবনে ইসহাক, আল-ফারাবি, ইবরাহীম ইবনে সিনান, আল-মাসউদি, আল-তাবারি, আবুল ওয়াফা, আলী ইবনে আব্বাস, আবুল কাসিম, ইবনে আল-জাজারি, আল-বিরুনি, ইবনে সিনা, ইবনে ইউনূস, আল-কাশি, ইবনে আল-হাইছাম, আলী ইবনে ঈসা আল গাজালি, আল-জারকাব, ওমর খৈয়াম। গৌরবোজ্জ্বল নামের তালিকা দীর্ঘ করা মোটেও কঠিন হবে না। যদি কেউ আপনার সামনে উচ্চারন করে যে, মধ্যযুগ ছিল বৈজ্ঞানিক দিক থেকে অনুর্বর তাহলে তার কাছে এসব নাম উল্লেখ করুন। তাদের সবাই ৭৫০ থেকে ১১০০ খৃস্ট সাল পর্যন্ত একটি সংক্ষিপ্ত সময়ে বিশ্বকে আলোকিত করেছিলেন।'

 

 

 

কিন্তু আফসোস, আজকের মুসলিম সন্তানরা বিশ্ব সভার আলোকিত মুকুটধারী এই মহা মনীষীদের অবদানকে তুচ্ছ জ্ঞান করে থাকেন। কিংবা ইতিহাস না জানার কারনে, মূর্খতার আস্ফালনে স্বজাতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সম্মন্ধে অজ্ঞই থেকে যান তারা। আর এ অজ্ঞতাই তাদের হীনমন্যতার কারন। ভুলে গেলে চলবে না, হীনমন্যতা এমনি দূরারোগ্য এক ব্যধি যে, একটি জাতিকে অকর্মন্য, অথর্ব আর আবর্জনাতুল্য হীন জাতিতে পরিনত করার জন্য এরচে' বড় কোন অস্ত্র নেই।

অফটপিক: এই পোস্টটি প্রিয় ব্লগার রাজীব নূরকে শুভেচ্ছাসহ। তার একটি পোস্টকে কেন্দ্র করেই এই বিষয়ে লেখার কথাটা মাথায় আসে। চেষ্টা থাকবে, ধারাবাহিকভাবে আরও কয়েকটি পর্বে এই পোস্টটিকে কন্টিনিউ করার। সকলের কল্যান হোক।

তথ্যসূত্র:

১। উইকিপিডিয়া।

২। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ অনূদিত ও প্রকাশিত ইসলামের ইতিহাস, মাওলানা আকবর খান নজিবাবাদী।

৩। Shornojuge Muslim Bigganider Abishkar - Shahdat Hossain Khan

৪। অন্যান্য।

*বিজ্ঞান* *মুসলমান* *ইতিহাস* *গৌরবউজ্জ্বল* *ইবনে-সিনা* *বেশটেক* *বেশম্ভব*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★