কফি মেকার

কফিমেকার নিয়ে কি ভাবছো?

শপাহলিক: একটি বেশব্লগ লিখেছে

শীত মানেই শীতল অনুভূতি। ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশ। শীতের দিনে বারবার খাবার কিংবা পানি গরম করতে কার ভালো লাগে। আবার এ সময় ঠাণ্ডা খাবারও খেতে ভালো লাগে না। এ সমস্যা সমাধানে বাজারে আছে খাবার ও পানি গরম রাখার নানা সরঞ্জাম। তবে মাত্র কয়েকটি উইন্টার গ্যাজেট দ্বারা আপনার এই শীতকাতুরে অনুভূতিটা হয়ে উঠতে পারে উষ্ণ।

চলুন জেনে নেই সেগুলো সমন্ধে: 

 

 

 

 

 

 

 

 

হটপট : শীতে খাবার গরম রাখতে হটপটের জুড়ি নেই। বারবার খাবার গরম করার ঝামেলা এড়াতে নিতে পারেন হটপট। খাবার দীর্ঘ সময় গরম থাকবে, স্বাদও থাকবে অটুট। আধা কেজি থেকে শুরু করে ১৪ কেজি পর্যন্ত খাবার রাখার হটপট আছে। এসব হটপটে আট থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত খাবার গরম থাকে। হটপটগুলো সাধারণত গোলাকৃতির হয়ে থাকে। ভেতরে সম্পূর্ণ স্টিলের এবং বাইরে প্লাস্টিকের আবরণ দেওয়া। হটপট সিঙ্গেল অথবা সেট হিসেবে কিনতে পারবেন। মিয়াকো, নোভা, মিলটন, প্যানাসনিকসহ বিভিন্ন ব্রান্ডের হটপট পাবেন বাজারে। সেট ছাড়াও এর ধারণক্ষমতার ওপরও নির্ভর করে দাম। ছোট হটপট সাধারণত ২৫০ থেকে ৭০০ টাকা। মাঝারিগুলোর দাম পড়বে ৭৫০ থেকে দুই হাজার টাকা। বড় কিনতে গেলে গুনতে হবে দুই হাজার থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। সেট পাবেন এক হাজার থেকে চার হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ফ্লাস্ক : পানি দীর্ঘক্ষণ গরম রাখে ফ্লাস্ক। সর্বনিম্ন ২৫০ গ্রাম থেকে দুই লিটার পর্যন্ত পানি রাখতে পারবেন গোলাকৃতির ফ্লাস্কগুলোতে। হটপটের মতো এটিও ভেতরে স্টিল ও বাইরে প্লাস্টিকের। তবে কিছু ফ্লাস্ক আছে সম্পূর্ণ স্টিলের। ফ্লাস্কের ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে রিগ্যাল, পমেট, নোভিনা বেশ জনপ্রিয়। মাত্র ৪৫০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকার মধ্যেই পাবেন পছন্দের ফ্লাস্কটি।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

কফি মেকার : বারবার কফি বানানোর ঝামেলা এড়াতে কিনে নিতে পারেন কফি মেকার। পরিমাণমতো কফি ও চিনি দিয়ে দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কফি বানিয়ে দেবে এই মেকারটি। বিভিন্ন ব্র্যান্ড, মডেল ও ধারণক্ষমতার ওপর নির্ভর করে এগুলোর দাম। ফিলিপস, নোভিয়ান, নোভা, মিয়াকোর কফি মেকারগুলো পাবেন দুই হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে। সঙ্গে থাকছে কম্পানিভেদে এক থেকে দুই বছরের ওয়ারেন্টি।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ওয়াটার হিটার : চা, কফি ও পানি গরম করার জন্য আছে ওয়াটার হিটার। স্টিলের হিটার ৫০০ থেকে এক হাজার ৫০০ ওয়াট তাপমাত্রার হয়ে থাকে। ওয়াটার হিটারের ব্র্যান্ড ও ওয়াটভেদে দামের তারতম্য হয়। ৫০০ ওয়াটের দাম পড়বে ১২০ থেকে ৪০০ টাকা। এক হাজার ওয়াটের দাম ৪৫০ থেকে ৭৫০ টাকা। দেড় হাজার ওয়াটের পাবেন এক থেকে দেড় হাজার টাকার মধ্যেই।

ওভেন : লাল, সাদা, কালো বিভিন্ন রং ও ব্র্যান্ডের ওভেন পাবেন। স্যামসাং ওভেন ৯ হাজার ৫০০ থেকে শুরু করে পাবেন ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। শুধু খাবার গরম করার ওভেনগুলোর দাম ৯ হাজার ৫০০ থেকে শুরু করে ১৩ হাজার পর্যন্ত। গ্রিল করার ওভেন পাবেন ১৪ হাজার থেকে ২১ হাজার টাকার মধ্যে। সঙ্গে এক বছরের ওয়ারেন্টি। তবে কিছু কিছু নির্দিষ্ট মডেলের ওভেনে শুধু এক বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি থাকে। ছয় হাজার ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে। এ ছাড়া প্যানাসনিকের ওভেন পাবেন ১০ হাজার থেকে ১৩ হাজার ৫০০ টাকায়। সঙ্গে পাবেন এক বছরের ওয়ারেন্টি। এলজি ও বাটারফ্লাইয়ের ওভেন পাবেন আট হাজার ৭০০ থেকে ১৬ হাজার টাকার মধ্যে। ওয়ালটনের ওভেন আট হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা। সঙ্গে এক বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি রয়েছে।

হট শাওয়ার : ঠান্ডায় কাপাকাপির দিন শেষ। শীতের সময় ঠান্ডার ভয়ে নিয়মিত গোসল করতে ভয় পান যারা তাদের জন্য এলো হট শাওয়ার। তাহলে আর শীতের সকালে গোসল করতে ভয় কেন ! ওয়াশরুমে আপনার শাওয়ারের সাথে সংযুক্ত করে নিমিষেই পেয়ে যাবেন ঈষদুষ্ণ গরম পানি, গোসলে পাবেন অনাবিল প্রশান্তি। ইলেকট্রিক হট শাওয়ার দিয়ে গরম পানি বের হবে খুব কম বিদ্যুৎ খরচে। ৯৫% থার্মাল কন্ট্রোল ও ৭৫% বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে।

যেখানে পাবেন : নিউ মার্কেট, গুলিস্তান স্টেডিয়াম মার্কেট, গুলশান ডিসিসি মার্কেট, ধানমণ্ডি, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, মিরপুরসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিকসের দোকানগুলোতে পেয়ে যাবেন খাবার গরম রাখার এসব পণ্য। আর আজকের ডিলের উইন্টার কালেকশনউইন্টার গ্যাজেট নিয়ে রয়েছে শীতের পণ্যের দারুন সব সংগ্রহ। 

শীতের পণ্য কিনতে এখানে ক্লিক করুন। 

*শীতেরপণ্য* *হটপট* *ওভেন* *হটশাওয়ার* *ওয়াটারহিটার* *কফিমেকার* *ফ্লাস্ক* *গৃহস্থালিসামগ্রী*

দীপ্তি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

এক কাপ কফি মানেই নিমিষে নিজেকে চাঙ্গা করে তোলার জাদুর পেয়ালা। সচরাচর বয়ামে থাকা কফি দিয়ে কিংবা ‘ইনস্ট্যান্ট কফি’ তৈরি করা হয় বাসায়। গরম পানির সঙ্গে কফির গুঁড়া ও দুধ মেশালেই কফি বানানো যায়। এটা একটা উপায় হতে পারে, তবে কফির আসল রেসিপি কিন্তু পুরোটাই এর বিপরীত। কফির রেসিপি রয়েছে হরেকরকম, নানান স্বাদের কফির প্রাচুর্য্য লক্ষ্য করা যায়,  বিশেষ করে, কফি দিয়ে প্রস্তুত করা এসপ্রেসো, কাপাচিনো এবং লাৎটে তো খুবই জনপ্রিয়। কফি পানের নানা রকম দোকান আজকাল আশপাশেই পাওয়া যায়। নানা নামে বিক্রি হচ্ছে নজরকাড়া কফি। বাইরে যেকোনো কফি শপে এসপ্রেসো যন্ত্র দিয়ে বানিয়ে দেবে ক্যাফে লাতে, ক্যাফে মোকা, কাপ্পুচিনোসহ নানা রকম কফি। চাইলে এসব কফি ঘরেই বানাতে পারেন। 
 
বাইরে যেকোনো কফি শপে এসপ্রেসো যন্ত্র দিয়ে বানিয়ে দেবে ক্যাফে লাতে, ক্যাফে মোকা, কাপ্পুচিনোসহ নানা রকম কফি। যদিও বাসায় হুবহু কফি শপের মতো কফি তৈরি করা যায় না বললেই চলে, কিন্তু কাছাকাছি তো যাওয়া যাবে। আর বাসায় যদি একটা কফি মেকার, কফি বিন গ্রাইন্ডার আর কফি বানানোর নিত্য নতুন গ্যাজেটগুলো থাকে, তাহলে তো কোনো কথাই নেই, কফি মেকার কফি বানানোর কাজটি করে দিবে খুব সহজে। আর কিচেন গ্যাজেটগুলো আপনি হাতের কাছের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরেই পেয়ে যাবেন, দামও এমন কিছু আহামরি নয়। আরো সহজ উপায় হলো, আজকের ডিল, অনলাইন শপিং সাইট ঘুরে সেখান থেকেই পছন্দমত অর্ডার দেয়া। কফি বানানোর জন্য সকল কিছুই সেখানে আপনি পেয়ে যাবেন।
 
বাসায় সত্যিকারের কফির স্বাদ পেতে ‘ফ্রেশ গ্রাউন্ড কফি’ ব্যবহার করতে হবে। এর জন্য রোস্টেড কফি বিন গুঁড়া করতে হবে। কফি বিন গুঁড়া করার জন্য লাগবে ‘কফি বিন গ্রাইন্ডার’। হাতে গুঁড়া করার জন্য কেনা যেতে পারে ম্যানুয়াল গ্রাইন্ডার। এর ব্যবহারে কোনো বিদ্যুতের দরকার হয় না। কফি বিন গ্রাইন্ডারের মধ্যে রোস্টেড কফি বিন দিয়ে হাতল ঘোরালেই পেয়ে যাবেন কফি বিনের গুঁড়া। কফি বিন গুঁড়া হয়ে গেলে আপনি নানাভাবেই বিভিন্ন রকমের কফি বানাতে পারবেন। চলুন বিশ্বজুড়ে বহুল প্রচলিত কিছু কফির রেসিপি জেনে নেই। 
 
 
 
ক্যাফে মোকা
ক্যাফে মোকা বানাতে হলে আপনাকে ৩০ মিলিলিটার এসপ্রেসো, ১৫ গ্রাম চকলেটের গুঁড়া এবং ২০০ মিলিলিটার ঘন ফুটানো দুধ মেশাতে হবে। আপনি যদি চকলেটের স্বাদ প্রবলভাবে চান, তবে পরিমাণমতো চকলেটের গুঁড়া মিশিয়ে নিতে হবে। ক্যাফে মোকাতেও ক্যাফে লাতের মতো ১ থেকে দেড় সেন্টিমিটার দুধের ফেনা থাকবে। যার ওপরে চকলেটের গুঁড়া দিয়ে মনমতো নকশা করে ফেলতে পারেন।
 
 
 
 
 
 
ব্ল্যাক কফি
গ্রাইন্ডার দিয়ে কফি গুঁড়া করে বাসায় একটি ‘কফি প্লানজার’ ব্যবহার করে ব্ল্যাক কফি তৈরি করতে পারবেন। কফি প্লানজার দিয়ে ৩ কাপ কফি বানাতে হলে লাগবে ৩৫০ মিলিলিটার ফুটানো পানি এবং ৫০ গ্রাম কফির গুঁড়া।
প্রথমে কফি প্লানজারের মধ্যে কফির গুঁড়া রেখে তাতে গরম পানি ঢেলে নাড়তে হবে। কফি প্লানজারে হাতলটা ওপরের দিকে টেনে ৪ থেকে ৫ মিনিট অপেক্ষা করে ধীরে ধীরে হাতলটা নিচের দিকে নামালেই তৈরি হয়ে যাবে ‘ব্ল্যাক কফি’।
 
 
ইতালিয়ান এসপ্রেসো
কফি শপের মতো যন্ত্র ছাড়া বাসায় এসপ্রেসো বানাতে হলে আপনার লাগবে একটি স্টোভ টপ যন্ত্র। প্রবল চাপের মাধ্যমে গরম পানি দিয়ে যখন কফি গুঁড়ার ভেতরের নির্যাস বের করে আনা হয়, সেটাকে বলা হয়ে ইতালিয়ান এসপ্রেসো। স্টোভ টপ যন্ত্রের নিচের অংশে বা চেম্বারে পানি ভরে এর ওপরের ফিল্টারে কফির গুঁড়া ভরতে হবে। তার ওপরের কাপটি নিরাপদভাবে আটকে দিয়ে স্টোভ টপ যন্ত্রটিকে চুলার ওপরে রেখে দিতে হবে। ১ কাপ এসপ্রেসো শটের জন্য ৮ গ্রাম কফির গুঁড়ার নিচে ৮০ মিলিলিটার পানি দিয়ে স্টোভ টপটি চুলার ওপরে ৪ থেকে ৫ মিনিট রেখে দিতে হাবে। ওপরের অংশে কিছুক্ষণের মধ্যেই জমে যাবে কফি গুঁড়ার খাঁটি নির্যাস। যার নাম ইতালিয়ান এসপ্রেসো।
 
 
ক্যাফে লাতে
ক্যাফে লাতে তৈরি করতে আপনাকে এসপ্রেসো বানাতে হবে আগে। ৩০ মিলিলিটার এসপ্রেসোর সঙ্গে ২২০ মিলিলিটার দুধ মেশাতে হবে। ক্যাফে লাতের ওপরে ১ থেকে দেড় সেন্টিমিটার দুধের ফেনা (মিল্ক ফোম) থাকতে হবে। কফি শপগুলোতে এই ফোম তৈরি করা হয় দুধের মধ্যে দিয়ে উচ্চ চাপের সঙ্গে বাষ্প প্রবাহিত করে। কিন্তু বাসায় ক্যাফে লাতে তৈরি করার সময় দুধের ফেনা বানানোর জন্য বাজার থেকে ক্যাফে লাতে ফোম তৈরির যন্ত্র কিনে নিতে হবে। ফোম ছাড়া এই কফি পান করলে মনে হবে যে কোনো সাধারণ দুধ কফি পান করছেন।
 
 
ক্যারামেল লাতে
ক্যাফে লাতের সঙ্গে ১৫ মিলিলিটার ক্যারামেল সিরাপ ব্যবহার করতে হবে। ক্যারামেল সিরাপ ১৫ মিলিলিটার থেকে পরিমাণমতো কম-বেশি ব্যবহার করে নিজের পছন্দমতো স্বাদ নিতে পারেন। ক্যারামেল লাতের ওপরেও ১ থেকেদেড় সেন্টিমিটার ফেনা থাকবে। যার ওপরে আপনি ক্যারামেল সস দিয়ে মনমতো নকশা করে নিতে পারবেন।
 
তো শিখিয়েই তো দিলাম নানান স্বাদের কফি সহজেই বানানোর কৌশল, এবার নিশ্চয়ই আপনাদের নিজের হাতে বানানো এক কাপ কফির দাওয়াত আমি পেতেই পারি :)
 
 
*কফি* *কফিশপ* *কফিমেকার* *ক্যাফেলাতে* *ইতালিয়ানএসপ্রেসো* *ব্ল্যাককফি* *ক্যাফেমোকা* *ক্যারামেললাতে* *কফিবিনগ্রাইন্ডার*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★