কবি

আমানুল্লাহ সরকার: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 কবি আল মাহমুদ এর জনপ্রিয় লেখা গুলোর তালিকা কেউ দিতে পারবেন?

উত্তর দাও (১ টি উত্তর আছে )

*আলমাহমুদ* *কবি* *প্রিয়কবি*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

আমি সদ্য যে বইটি পড়লাম সেটা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের । নাম " আমার জীবনানন্দ আবিষ্কার ও অন্যান্য " । বইটি লেখকের স্মৃতিচারণ মূলক বই ।এই বইয়ের একটা অধ্যায়ে তিনি লিখেছেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম কে নিয়ে । অধ্যায়টার নাম তিনি দিয়েছেন "যদি" । লেখাটি পড়ে আমিও বেশ আহত হলাম ।শুধু এই অধ্যায়টা লেখকের সত্যি কোন স্মৃতি নয় , লেখকের কল্পনা । তাই লেখক এর নাম দিয়েছেন যদি , অর্থাৎ যদি এমন হতো । লেখাটি ব্লগের সবার সাথে শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারলুম না । ।বাকশক্তি হারানোর পর কবি নজরুল অনেক বছর কোমায় ছিলেন ।লেখক কল্পনা করছেন অনেক বছর পর হাসপাতালের বেডে যখন কবি নজরুল জেগে উঠেন তখন ও তার সব কিছু স্মরণ ছিল ও কথা বলতে পারতেন । তখন অনেকের মত সুনিল ও ছিলেন তার বেডের কাছে । কিন্তু ততদিনে দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে , হিন্দু মুসলিমের জন্য আলাদা দেশ হয়ে গেছে ।কিন্তু বাংলা সাহিত্তের প্রানের কবি নজরুল এসবের কিছুই জানেন না , তিনি এখন রিপ ভ্যান উইংকেল ।সুনীল কল্পনা করছেন কবি নজরুলের সাথে তার কথা হচ্ছে। যাই হোক লেখাটা শেয়ার করছি -

দে গরুর গা ধুইয়ে ।

আমি একেবারে সর্বাঙ্গে চমকে উঠলাম ।প্রচণ্ড হুংকার দিয়ে কবি গা ঝাড়া দিয়ে সোজা হয়ে বসে স্বাভাবিক চোখ মেলে তাকালেন । তারপর বিরক্তি মেশানো গলায় বললেন, “ এ কি – এত মালা টালা দিয়ে এমন জবজরং করে সাজিয়েছ কেন আমায় ?কালীঘাটে নিয়ে গিয়ে আমায় বলি দিবে নাকি ? এত বেলা হল, চা – টাও দেয়নি, খিদে পেয়ে গেছে ।কালী কুল দে মা, নুন দিয়ে খাই ।ওরে , চা – টা দিবি নাকি ?

আমার তখন আনন্দবিস্ময়ে চুড়ান্ত অবস্থা ।


বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম এইমাত্র জ্ঞান ফিরে সুস্থ হয়ে উঠলেন, আমারই চোখের সামনে।তার চোখে মুখে আগেকার সেই বিখ্যাত তেজ ও উজ্জ্বলতা।সারা দেশের লোককে এ সুসংবাদ আমিই প্রথম জানাব, এই আনন্দে আমারই তখন উন্মাদ হয়ে যাবার মতন অবস্থা ।কবির জ্ঞান ফিরে আসবার পর প্রথম ইন্টারভিউ ছাপাবার কৃতিত্বও আমার ।

কবি এখন হাসিমুখে গলা থেকে ফুলের মালাগুলো খুলে ফেলছেন এবং গুনগুন করে গান করছেন – “বাগিচার বুলবুলি তুই ফুলশাখাতে দিসনে আজি দোল” । সেই ভরাট প্রাণবন্ত কণ্ঠশ্বর।আমি পকেট থেকে খাতা – পেন্সিল বার করছিলুম, তিনি আমাকে এই প্রথম লক্ষ করে ধমকে বললেন , “এই ছোঁড়া, তুমি এখানে কি করছ ? অ্যাঁ ?

আমি থতমত খেয়ে বললুম, “ কিছু না , মানে , আপনার একটা অটোগ্রাফ নিতে এসেছি , আর যদি দু” লাইন কবিতা লিখে দেন”।


“এখন হবে না , যাও ভাগো । অটোগ্রাফ দিতে দিতে হাত ব্যাথা হয়ে গেল, আবার কবিতা ...... হবে না, অটোগ্রাফ নেবে তো মেয়েরা, তোমার কি দরকার হে ? এখন সময় নেই” ।আমি তবু চুপ করে বসে রইলুম।নজরুল আপন মনেই বললেন, “ ইস , এত দেরি হয়ে গেল ।নেপেনকে নিয়ে পন্ডিচেরি যাবার কথা ছিল, শ্রী অরবিন্দের সাথে দেখা করব -

আমি ভয়ে ভয়ে বললুম, “নৃপেন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়ের কথা বলছেন ?


“হ্যাঁ । চেন নাকি” ?“ আজ্ঞে চিনি , তিনি আর বেঁচে নেই । শ্রীঅরবিন্দও -

“অ্যাঁ, নৃপেন বেঁচে নেই ? কি বলো? কবে মরল? আমি তখন কোথায় ছিলাম”?

কবির গলায় অসহায় আর্তনাদ ফুটে উঠলো ।মানুষকে দুঃখের খবর শুনাবার অভ্যাস আমারও নেই । আমিও খানিকটা অসহায় বোধ করতে লাগলুম ।তবু মৃদুস্বরে বললুম, “ আপনি একটানা অনেকদিন ঘুমিয়ে ছিলেন , অনেকদিন , এর মধ্যে অনেক কিছু বদলে গেছে, দেশ স্বাধীন হয়েছে –

“ হয়েছে? গেছে সাহেব ব্যাটারা? কারার ওই লৌহকপাট ভেঙ্গেছে? সত্যি ? তা হলে তো ফুর্তি করতে হয় একটু আজ ।পন্ডিচেরি থাক , তা হলে আজ অচিন্ত্য আর প্রেমেন কে ডেকে একবার ঢাকা ঘুরে আসি । ওখানে বুদ্ধদেব আছে -

আমি বললাম , “ বুদ্ধদেব ঢাকা ছেড়েছেন বহুদিন । তা ছাড়া পাকিস্তান -

“পাকিস্থান ? ইকবালের সেই পাকিস্থান ? হাঃ – হাঃ – হাঃ – হাঃ- ! জিন্না – গান্ধীজীর ঝগড়া আজও মেটেনি” ?


“ঝগড়া মিটেছে কিনা জানিনা , তবে ওঁরা কেউই আর ইহলোকে নেই” ।“নেই ? তবে পাকিস্তান কি জন্য ?

“পাকিস্তান ওঁরা বেঁচে থাকতেই হয়ে গেছে ।পূর্ব বাংলা পশ্চিমে পাঞ্জাব আর সিন্ধু নিয়ে পাকিস্তান হয়েছে অনেক দিন আগে । গত বছর ওদের সাথে আমাদের যুদ্ধও হয়ে গেল”।

“ যুদ্ধ হয়ে গেল মানে ? পূর্ব বাংলার সাথে পশ্চিম বাংলা যুদ্ধ করবে ? চালাকি পেয়েছ ? তুমি কে হে ছোকরা ? সত্যি করে বল তো, ব্রিটিশের স্পাই নও তো ?

আমি বিষণ্ণ হেসে বললুম , “ পূর্ব বাংলার সঙ্গে আমাদের হাতাহাতি যুদ্ধ হয়নি বটে , কিন্তু এটা এখন একটা আলাদা দেশ । ওখানকার সঙ্গে এখানকার যাতায়াত বন্ধ । এখানকার বই ওরা পড়তে পায়না , ওদের বই ও আমরা পাই না”।

“এরা আর ওরা ? তুমি এখান থেকে ভাগো তো । যত সব মিথ্যে কথা শোনাতে এসেছ । আমি আজকের ট্রেনেই ঢাকা যাব , দেখি কে আমায় আটকায় ! আমি , জসিমুদ্দিন, গোলাম মুস্তাফা , প্রেমেন , শৈলজাকে সঙ্গে নিয়ে যাব , ওখান থেকে অজিত , পরিমল , মোহিতলালকে সঙ্গে নিয়ে ফিরব , দেখি কে কি করে। তুমি এখন সরে পড়” । আমি বললুম, “ আপনি আমার উপর অকারণে রাগ করছেন , কিন্তু কথাগুলো সত্যি । আপনি যে ট্রেনে চাপবেন , সে – রকম সরাসরি কোনও ট্রেনই চলে না আজকাল আর। ওদেশের সঙ্গে আমাদের দেশের যোগাযোগ সত্যিই একেবারে বন্ধ । আর যাদের নাম করছেন , তাঁরা অনেকেই দেশ বদলেছেন । অবশ্য আপনি যদি যেতে চান তাহলে দুই সরকারের মধ্যে লেখালেখি করে আপনার জন্য একটা কোন বন্দোবস্ত ......” ।


কবি এবার খানিকটা হতাশ চোখে তাকালেন । দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললেন , “ এতদিন সত্যিই ঘুমিয়ে ছিলুম ।তুমি শুধু আমায় খারাপ খবর শোনাচ্ছ । ভালো খবর কিছু নেই” ?
আমি চিন্তিত ভাবে বললুম , “ ভালো খবর ? হ্যাঁ , মানে , এইতো দুর্গাপুরে বিরাট ইস্পাত কারখানা হয়েছে , কলকাতায় অনেক বড় বড় বাড়ি উঠেছে –
তাকিয়ে দেখি কবি আবার অবসন্নভাবে হেলান দিয়ে কিসব বিড়বিড় করতে – করতে হাত দিয়ে ফুলগুলো ছিঁড়ছেন ।  

পাদটীকাঃএই লেখাটি যখন সুনীল লেখেন (১৯৬৬) তখন তিনি ও জানতেন না (জানার কথা ও না) বেশ কিছু বছর পর যখন কবি পুরোপুরি নির্বাক তখন বাঙ্গালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মানুষটি কবিকে পূর্ব বাংলা তথা বাঙ্গালির একমাত্র স্বাধীন আবাসভূমি বাংলাদেশে নিয়ে আসবেন আর সেই দেশের জাতীয় কবি করবেন । বাংলা ও বাঙ্গালির জয় হোক ।

 

*কবি* *কাজীনজরুল* *ইসলাম* *লেখা* *সুনীলগঙ্গোপধ্যায়*

শাহানাজ সুলতানা: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 সাহিত্যিকরা ছদ্মনাম কেন ব্যবহার করে?

উত্তর দাও (১ টি উত্তর আছে )

.
*কবি* *সাহিত্যিক* *ছদ্মনাম*

খুশি: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 ঘনরাম চক্রবর্তী কে ছিলেন?

উত্তর দাও (১ টি উত্তর আছে )

*কবি* *বাংলাসাহিত্য* *সাহিত্য* *ঘনরাম*

দস্যু বনহুর: [বাঘমামা-চুপকরো] সমুদ্র কি সবাইকে নেয় ? এই ঘুম-গাঢ় প্রশ্ন আমি যতবার করি ময়দানে ঘুমাবার আগে সেইক্ষনে হজম না-হওয়া পাতাগুলি ওগড়ায় আমার মাথার কাছে এক নিঃসঙ্গ জিরাফ এসে।

*মজনুশাহ* *কবি* *কবিতা*
ছবি

আমানুল্লাহ সরকার: ফটো পোস্ট করেছে

Mahi Rudro: . “বিষন্ন এক ডালের নিচে তিনটে সবুজ পাতা বিপন্ন এক চালের নিচে ভুল সংসার পাতা আসন্ন এক ভাঙনোন্মুখ সম্পর্কের টান প্রসন্ন এক কবি তবু লিখছে প্রেমের গান”

*কবি*

ইমরান নাজির লিপু: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 সত্তরের দশকের কবি দাউদ হায়দার সম্পর্কে তথ্য জানতে চাই।

উত্তর দাও (৩ টি উত্তর আছে )

.
*দাউদ-হায়দার* *কবি* *সাহিত্য*

বিডি আইডল: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 ইংরেজি সাহিত্যের বিভিন্ন লেখক/সাহিত্যক/কবিদের কার কি উপাধি জানতে চাই।

উত্তর দাও (০ টি উত্তর আছে )

*ইংরেজি-সাহিত্য* *লেখক* *সাহিত্যিক* *কবি*

ইমরান নাজির লিপু: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 কবি সিকান্দার আবু জাফরের জীবন ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে জানতে চাই।

উত্তর দাও (১ টি উত্তর আছে )

.
*কবি* *সিকান্দার-আবু-জাফর* *লেখক* *জীবনী*

বিম্ববতী: একটি বেশব্লগ লিখেছে

জন কিটস, বিশ্বসাহিত্যের রূপকথার রাজপুত্র যিনি লিখেছিলেন -

“Beauti is truth, truth beauty,” that is all
Ye know on earth, and all ye need to know."
যার অর্থ দাঁড়ায়- 
‘সুন্দর সত্য, সত্যই সুন্দর, এটিই সব
তুমি জানো এবং তোমাদের সবারই জানা উচিত।’

আজকে তাঁর জীবন বা কবিতা নয়, চির সৌন্দর্যের এই কবির একটা পরিত্যক্ত মহাকাব্য নিয়ে বলতে ইচ্ছে করছে- কারণ তাঁর এই পরিত্যক্ত মহাকাব্যটি মিথ নিয়ে লেখা। আমার ভীষণ ব্যক্তিগত আগ্রহ ও কৌতহলের জায়গা হলো মিথ ! উপকথা বা মিথ এর একটি গ্রহনযোগ্য সংজ্ঞা হল: 

"A traditional story about heroes or supernatural beings, often attempting to explain the origins of natural phenomena or aspects of human behavior."
- বাক্যটির দ্বিতীয় অংশটিই গুরুত্বপূর্ন। মিথ মানুষের আচরণের ভিত্তিকে ব্যাখ্যা করতে চায়, এ কারণেই মিথ-এর প্রতি আমার এত আগ্রহ।এই একই কারণে রুপকথাও এত ভালবাসি,,,(বৃষ্টি),,

সে যা ই হোক "হাইপেরিয়ন" ইংরেজিতে "Hyperion", জন কিটস'র লেখা এই মহাকাব্যটি পরিত্যক্ত কারণ ১৮১৮ সালের শেষ ভাগ থেকে ১৮১৯ সালের বসন্তের মাঝে কিটস এই কবিতাটি লিখেছিলেন। কিন্তু তারপর এই কবিতার মধ্যে "অতিরিক্ত মিলটন-সুলভ স্তর" দেখে লেখা বন্ধ করে দেন তিনি। পরে দ্য ফল অফ হাইপেরিয়ন: এ ড্রিম কবিতায় কিটস আবার এই কবিতার বিষয়বস্তু গ্রহণ করেন। এই সময় তিনি সত্য অনুসন্ধান ও উপলব্ধির এক ব্যক্তিগত অভিযানের আদলে মহাকাব্যটি পুনরায় লেখার চেষ্টা করেছিলেন। কবিতার বিষয় বস্তুটাই হলো মিথ নিয়ে যেখানে গ্রিক পুরাণের টাইটান ও অলিম্পিয়ান দেবতাদের মধ্যে সংঘর্ষ ও অলিম্পিয়ানদের হাতে টাইটানদের পরাজয়ের বর্ণনা পাওয়া যায়। অলিম্পিয়ানদের উত্থানের আগে টাইটান নামে এক দেবমণ্ডলী (প্যানথেয়ন) রাজত্ব করতেন।  এখন এই টাইটানদের পতন আসন্ন। টাইটানদের মধ্যে ছিলেন স্যাটার্ন (দেবতাদের রাজা), ওপস (তাঁর স্ত্রী), থিয়া (স্যাটার্নের বোন), এনকেল্যাডাস (যুদ্ধের দেবতা), ওশেনাস (সমুদ্রের দেবতা), হাইপেরিয়ন (সূর্যের দেবতা) ও ক্লিমেন (এক তরুণী দেবী)। কবিতার শুরুতে দেখা যায়, জুপিটারের হাতে পরাজিত হয়ে স্যাটার্ন ক্ষমতা হারানোর দুঃখে বিলাপ করছেন। থিয়া তাঁকে নিয়ে যাচ্ছেন সেইখানে যেখানে অন্যান্য টাইটানরা বসে আছেন। তাঁরাও সবাই দুঃখে কাতর। তাঁরা আলোচনা করছেন নতুন দেবতাদের (অলিম্পিয়ান) বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা যায় কিনা তা নিয়ে। ওশেনাস বলছেন, তিনি নেপচুনের (নতুন সমুদ্র দেবতা) হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে চান, কারণ নেপচুন খুবই সুদর্শন (এখানে মনে রাখতে হবে, রোম্যান্টিক ধ্যানধারণায় সৌন্দর্যকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হত)। ক্লিমেন অ্যাপোলোর গানের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেই গান বেদনাময় সুন্দর (আরেক রোম্যান্টিক ধারণা)। শেষে এনকেল্যাডাস একটি বক্তৃতা দিয়ে টাইটানদের যুদ্ধ করতে উদ্বুদ্ধ করে তোলেন। এদিকে হাইপেরিয়নের বর্ণনার সময় আমরা দেখতে পাই, তিনিই একমাত্র টাইটান যিনি তখনও ক্ষমতাবান রয়েছেন। ইউরেনাস (আকাশের দেবতা, স্যাটার্নের পিতা) তাঁকে সম্বোধন করে স্যাটার্ন ও অন্যান্য টাইটানদের কাছে যেতে উদ্বুদ্ধ করেন। হাইপেরিয়নের আবির্ভাবের পর কবিতায় টাইটানদের বর্ণনা শেষ হয়। অ্যাপোলোর (সংগীত, সভ্যতা ও সংস্কৃতির নতুন দেবতা) বর্ণনা শুরু হয়। অ্যাপোলো সৈকতে বসে কাঁদছিলেন। এখানে নেমোসিনের (স্মৃতিশক্তির দেবী) তাঁর দেখা হয় এবং অ্যাপোলো তাঁর কাছে নিজের কান্নার কারণ ব্যাখ্যা করেন: তিনি তাঁর দৈবশক্তির আভাস পাচ্ছেন, কিন্তু তা পূর্ণ করে তুলতে পারছেন না। নেমোসিনের চোখের দিকে তাকিয়ে তিনি জ্ঞান অর্জন করেন এবং পূর্ণ দেবতায় পরিণত হন। এইখানে একটি পংক্তির মাঝপথে "celestial" (স্বর্গীয়) শব্দটির উল্লেখের পর কবিতাটি অসমাপ্ত রয়ে গেছে।(জন কিটস'র হাতের লেখাটা কি ভীষণ সুন্দর !)

হাইপেরিয়ন কবিতায় কিটসের অমিত্রাক্ষর ছন্দ (মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে যা প্রবর্তন করেন) নতুন মাত্রা পেয়েছে। থিয়া ও পরাজিত স্যাটার্নকে নিয়ে লেখা উদ্বোধনী পংক্তিগুলি এক্ষেত্রে বিশেষ উল্লেখযোগ্য: 

উপত্যকার অন্ধকার দুঃখের গভীরে
প্রভাতের সুবাতাস থেকে বহু দূরে
অগ্নিময় দ্বিপ্রহর থেকে বহু দূরে, সন্ধ্যাতারার থেকেও দূরে,
বসে আছেন পক্ককেশ স্যাটার্ন তাঁর আস্তানায়,
পাষাণের ন্যায় স্তব্ধ, নৈঃশব্দের মতো নিশ্চুপ,,,,,(মেঘ),,,,,
(অনুবাদ)

ছন্দ ও শৈলীর দিক থেকে এই কবিতাটি অনেকটাই জন মিলটনের কবিতার সঙ্গে তুলনীয়। যদিও তাঁর চরিত্রগুলি একটু আলাদা। অ্যাপোলো অনেকটা প্যারাডাইস লস্ট -এর পুত্র বা প্যারাডাইস রিগেইনড কাব্যের যিশুর মতো হলেও, হাইপেরিয়নের সঙ্গে স্যাটানের তুলনা করা চলে না। তাছাড়া এখানে চরিত্রগুলির ভূমিকাও অন্যরকম। অ্যাপোলো সিংহাসনের দাবিদার। তাঁর জয় হচ্ছে। তিনি আরও “সত্য” হচ্ছেন, আর তাই আরও “সুন্দর” হচ্ছেন।


কৃতজ্ঞতা ও তথ্যসূত্র:
https://bn.wikipedia.org/wiki/হাইপেরিয়ন_(কবিতা)
http://www.somewhereinblog.net/blog/benqt60/২৯২৬৪৫০২
http://www.bl.uk/works/hyperion
*কবি* *জন-কিটস* *সাহিত্য* *মিথ* *কবিতা*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

"At the touch of love, every man becomes a poet" ------plato
*ভালোবাসা* *প্রেম* *কবি*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অনেক কষ্টে ফেসবুকে লগইন করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন-
ষোল কোটি বাঙ্গালীর হে মুগ্ধ রমণী,
রেখেছো ফেসবুক বন্ধ করে-
স্ট্যাটাস না দেয়ার যন্ত্রণা বুঝোনি।

কবিগুরুর এই স্ট্যাটাস মিনিটেই কয়েক হাজার শেয়ার। প্রথম আলো পত্রিকার হেড লাইন। কবি জীবনানন্দ দাশের হাত তখন নিশিপিশ করছে। কেমনে লগইন করা যায়। ভাইবারে কবি নজরুলকে পাওয়া যাচ্ছেনা। অন্যদিকে কবি মাইকেল বিদেশ থেকে ছুটিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েই যাচ্ছেন। পকেটের অবস্থাও ভালো না। ইস!!। মাইকেলটা যদি একবার ফোন দিতো। এমন সময় ক্রিং ক্রিং।জীবনানন্দের বিরাগ মনের হাহাকার শুণে মাইকেল হাসতে হাসতে শেষ। আরে বেকবু ! ফেসবুক বন্ধ । তাইবলে কি স্ট্যাটাস দিবানা। পক্সি, ভিপিএন এগুলো দিয়ে কি আন্ডা পারবা? এখনো ডিজিটাল হতে পারলানা মিয়া, এনালগে পইড়া রইলা।

কবি জীবনানন্দের সাথে সাথেই স্ট্যাটাস--
"আবার আসিব ফিরে,নানা স্ট্যাটাসের ভীড়ে-এই ফেবুর নেশায়
হয়তো কমেন্ট নয়, হয়তোবা কবিগুরুর একখানা লাইকের আশে,
হয়তোবা জসীমউদ্দীন ,নজরুল অকারণে যাবে শুধু দূর থেকে হেসে-
নিরাশার শোক শেষে একদিন আসিবো এ ফেসবুকের পাতায়।"

সাথে সাথে বেশ কয়েকখানা লাইক। আর মাইকেলের কমেন্ট-
সতত , হে কবি তুমি পড় মোর মনে,
ভিপিএনে লিখছো স্ট্যাটাস রাখো গোপনে।

জাতীয় কবি নজরুল তখন সবেমাত্র দমদম বিমান বন্দরে নেমে পকেট থেকে আইফোন সিক্স বের করে একখান স্টাটাস দেয়ার কথা। কিন্তু দেখেন- কবি জীবনানন্দের স্ট্যাটাসে মাইকেলের কমেন্ট। সাথে সাথেই বিদ্রোহী কবির সেই জ্বালাময়ী স্ট্যাটাস-

"ফেসবুক ওপেন করবি কিনা বল,
না করিলে কিলের চোটে হাড় করিবো জল"

কবির স্ট্যাটাসে সাথে সাথেই কয়েক হাজার শেয়ার।শুধু তাইনা, অনেক পেজ লিখাটি চুরি করে নিজেদের নামে ঝেড়েও দিয়েছে।

অন্যদিকে, কবি আলমাহমুদের অবস্থা তখন আরো কাহিল। কোনো অবস্থাতেই লগইন করতে পারছেন না। আপনমনে হাঁটছেন আর বিড়বিড় করে বলছেন-
আমার প্রাণের স্ট্যাটাসগুলো হারিয়ে গেলো শেষে,
ফেসবুক হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলো সারা বাংলাদেশে।

কবি শামসুর রাহমান ঘুম থেকে ওঠে শীতের ঠান্ডা সকালে ধূমায়িত গরম চা নিয়ে বসেছেন। ফেসবুকে লগইন করেছেন কিন্তু কিছুই লিখতে পারছেন না। নিজের কভার ফটোতে লিখাটি পড়ছেন-
ফেসবুক তুমি
রবি ঠাকুরের হাজার হাজার লাইক আর লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার,
ফেসবুক তুমি
কাজী নজরুলের বিদ্রোহী সব পোস্টের চমকানো কথা,
ফেসবুক তুমি
যেমন ইচ্ছে লেখার আমার স্ট্যাটাসের খাতা।

অন্যদিকে - শত শত ফেসবুকারের দল এই প্রথম ফেসবুকিং করতে না পেরে বিকেলে ঘর থেকে বের হয়েছে। আহা! বাইরের এই বিকেলটাওতো কত সুন্দর।মনোরম বিকেলের চন্চল শরের সুগন্ধি বাতাস সব ক্লান্তি বিহ্বলতা যেন মুহুর্তেই দূর করে দিয়েছে ।
দূর থেকে কুদ্দুস বয়াতীর মন বাউল করা গান ভেসে আসছে-
এই ফেসবুক সব কিছু নয়- আরো কত কিছু আছে,
এই ফেসবুকেরে নিয়ে যাবো সেই হারানো দিনের কাছে...............

*রসিকতা* *জোকস* *কবি* *রবিন্দ্রনাথ* *নজ্রুল-ইসলাম* *জীবনান্দ-দাশ* *মধুসুধন-দত্ত* *ফেসবুক* *স্ট্যাটাস* *সংগৃহিত*
*জোকস* *কবি* *রবিন্দ্রনাথ* *নজ্রুল-ইসলাম* *জীবনান্দ-দাশ* *মধুসুধন-দত্ত* *ফেসবুক* *স্ট্যাটাস* *সংগৃহিত*
ছবি

আমানুল্লাহ সরকার: ফটো পোস্ট করেছে

আজ মহাকাব্য প্যারাডাইস লস্ট এর রচয়িতা জন মিল্টনের মৃত্যুবার্ষিকী

জন মিল্টন (ডিসেম্বর ৯, ১৬০৮ – নভেম্বর ৮, ১৬৭৪) সপ্তদশক শতাব্দীর ইংরেজ কবি, গদ্য লেখক এবং কমনওয়েলথ অব ইংল্যান্ডের একজন সরকারী কর্মচারী। তার প্রসিদ্ধ কাব্য প্যারাডাইস লস্ট এর কারণে তিনি সমধিক পরিচিত। কয়েক শতাব্দী শীর্ষ ইংরেজ কবির অবস্থানে থাকার পর বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি টি এস এলিয়ট ও এফ আর লেভিস এর জনপ্রিয়তার কাছে তার শীর্ষস্থান হুমকির মুখে ছিল। কিন্তু বিভিন্ন সামাজিক ও সাহিত্য জার্নালের কল্যাণে মিল্টনের অবদান একুশ শতাব্দীতেও অটুট রয়েছে। তার মৃত্যুর পর থেকে আজ পর্যন্ত মিল্টনের জীবন নিয়ে বিস্তর গবেষণা হচ্ছে।-উইকিপিডিয়া

*জনমিল্টন* *কবি*
ছবি

দীপ্তি: ফটো পোস্ট করেছে

অসহ্য দিন ! সুকান্ত ভট্টাচার্য্য

অসহ্য দিন ! স্নায়ু উদ্বেল ! শ্লথ পায়ে ঘুরি ইতস্তত অনেক দুঃখে রক্ত আমার অসংযত ! মাঝে মাঝে যেন জ্বালা করে এক বিরাট ক্ষত হৃদয়গত । ব্যর্থতা বুকে, অক্ষম দেহ, বহু অভিযোগ আমার ঘাড়ে দিন রাত শুধু চেতনা আমাকে নির্দয় হাতে চাবুক মারে । এখানে ওখানে, পথে চলতেও বিপদকে দেখি সমুদ্যত, মনে হয় যেন জীবনধারণ বুঝি খানিকটা অসঙ্গত ॥ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অসামান্য জনপ্রিয় এবং শক্তিমান কবি। পরাধীন দেশের দুঃখ দুর্দশাজনিত বেদনা এবং শোষণ মুক্ত স্বাধীন সমাজের স্বপ্ন, শোষিত মানুষের কর্ম জীবন এবং ভবিষ্যৎ পৃথিবীর জন্য সংগ্রাম তাঁর কবিতার মূল প্রেরণা। তিনি বলেছিলেন, "অবশেষে সব কাজ সেরে আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে করে যাব আশীর্বাদ, তারপর হবো ইতিহাস।" আজ, সত্যিই তিনি ইতিহাস। ‘তারপর হব ইতিহাস’- বলে যে কবি জীবদ্দশায় ঘোষণা দিয়েছিলেন আজ তিনি সত্যিকার অর্থেই ইতিহাস হয়ে আছেন মানুষের অন্তর্লোকে।

*সুকান্তভট্টাচার্য্য* *কবি* *প্রিয়কবি*
ছবি

নিউজ ফ্ল্যাশ: ফটো পোস্ট করেছে

শুভ জন্মদিন কবি আল মাহমুদ

কবি আল মাহমুদের ৮০তম জন্মদিন আজ। ১৯৩৬ সালের এই দিনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোড়াইল গ্রামের মোল্লাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মীর আবদুর রব। মা রওশন আরা মীর। বাংলা কবিতায় আধুনিকতার ছোঁয়া লাগানো এই কবির প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা চল্লিশের বেশি। উপন্যাস বিশের অধিক এবং গল্পগ্রন্থ ১০টির মতো। এ ছাড়া তিনি শিশুসাহিত্য, সম্পাদনা ও প্রবন্ধের বই লিখেছেন। বার্ধক্য ও দৃষ্টিশক্তির সীমাবদ্ধতা নিয়েও তিনি ডিকটেশনের মাধ্যমে নিয়মিত লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রিয় কবির জন্মদিনে বেশতোর পক্ষ থেকে জানাচ্ছি অনেক অনেক শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন।

*চটখবর* *জন্মদিন* *কবি* *কবিতা* *আল-মাহমুদ*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★