খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়ি নিয়ে কি ভাবছো?

দীপ্তি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

সাজেক ভ্যালী ঘুরে ফেরার পথে স্নিগ্ধ হওয়ার মত এক জায়গা হাজাছড়া ঝর্ণা । এটা রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট এলাকায় অবস্থিত। বাঘাইছড়ি উপজেলার ১০ নম্বর রাস্তার পাশে এই ঝরনা পযর্টকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। রাস্তা থেকে ১৫ মিনিট ঝিরিপথ ধরে হেঁটে পৌঁছানো যায় ঝর্ণার পাদদেশে। অপূর্ব অসাধারন আর নয়নাভিরাম এ ঝর্না। ঝর্ণার নীচে দাড়িয়ে অনায়েসেই ক্লান্তি দূর করা যায়, পায়ের নিচের ঠান্ডা জল ও ঝর্ণার ছিটেফোঁটা জলের স্পর্শে। দীর্ঘ ক্লান্তিকর হাটার কষ্ট মুহুর্তেই ধুয়ে গিয়েছিলো ঝর্ণার জলে, আসলে আমি যাত্রাটি এতটাই উপভোগ করেছিলাম যে, আমার মোটেও ক্লান্ত লাগে নি। আর তাছাড়া ঝর্ণার জলের শীতল পরশ আপনাকে ক্ষনিকের জন্য হলেও ভুলিয়ে দেবে আবার কতটা পথ আবার হাটতে হবে ফেরার জন্য। সম্মোহনী কলকল শব্দ দূর থেকেই ঘোরের সৃ্ষ্টি করে।

অবস্থানগত ভাবে হাজাছড়া ঝর্ণা রাঙামাটির অন্তর্গত হলেও এটি ভ্রমণ করার জন্যে খাগড়াছড়ি হয়ে যাওয়াটাই উত্তম। এটি শুকনাছড়া ঝর্ণা নামেও পরিচিত। এই ঝর্ণাটির স্থানীয় পাহাড়ীদের দেয়া নাম হল চিত জুরানি থাংঝাং ঝর্ণা (মন প্রশান্তি ঝর্ণা)। খাগড়াছড়ির দিঘীনালা থেকে হাজাছড়া রওনা দিতেই আপনার চোখে পড়বে প্রকৃতির নিজের হাতে আঁকা দৃশ্যপট। তীর ছুঁয়ে যাওয়া মাইনী নদীর জলের স্রোত। পাহাড়ি ঢলে নদীর দুতীর জুড়ে উপচে পড়া জলের স্রোত। রাস্তার দুপাশ জুড়ে আদিবাসীদের বসবাস। পথের ধারেই নানান শস্যের জুমের ক্ষেত। সবুজে ঘেরা ঝিরি পথ পেরোলেই স্বাগতম জানাবে হাজাছড়া বিশালকায় ঝর্ণা। আমি গিয়েছি শীতে তবে শুনেছি পুরো বর্ষায় হাজাছড়ার রূপের তুলনা সে নিজেই। এখানে সারা বছরই পানি থাকে। তবে শীতে জল প্রবাহ কমে যায়। আর বর্ষার হয়ে উঠে পূর্ণ যৌবনা। তবে শীতের আগে ও বর্ষার শেষে এখানে ঘুরতে যাওয়া উত্তম সময় বলে আমার মনে হয়েছে কারণ ভরা বর্ষার সময় কিছুটা ঝুঁকি তো থেকেই । ঝর্নার আশে পাশে কেবল যেন সবুজেরই সমারোহ।  ঘন জঙ্গলের ভিতর দিয়ে ঝর্ণায় চোখে পড়তেই আটকে যেতে হয়। এমন বিশালাকৃতির ঝরনা! তীব্রগতিতে বয়ে পড়ছে জলের ধারা। কাছে যেতেই জল নিংড়ানো হালকা হালকা শিশির ভিজিয়ে দিল সবাইকে। ঝরনার সামনে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ আমরা কিছু তরুণ অভিযাত্রীর দল। ঝর্ণাটির মায়াময় সৌন্দর্য দেখে আপনারও মন চাইতে পারে এর পানিতে নিজেকে ভিজিয়ে দিতে।

কিভাবে যাবেনঃ

হাজাছড়া ঝর্ণায় যেতে হলে অপনাকে প্রথমে খাগড়াছড়ি যেতে হবে। খাগড়াছড়ি নেমে বাস, মাহেন্দ্র জীপ , মোটরসাইকেল বা চান্দের গাড়িতে প্রথমে যেতে হবে দিঘীনালা। অথবা ঢাকা থেকে শান্তি পরিবহনে করে সরাসরি আপনি দীঘিনালা পৌছে যেতে পারেন। আপনার যদি কখনো সাজেক যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, সময় করে যাত্রাপথেই ঘুরে আসতে পারেন হাজাছড়া ঝর্ণা থেকে কারণ আপনার সাজেক যাত্রাপথেই বাঘাইহাট পড়বে। বাঘাইহাট নেমে আপনাকে আরো ২০ মিনিটের মতো হেঁটে যেতে হবে ঝরনাটি দেখতে। বেশি দূরে নয়, তবে এখনো চলাচলের কোনো রাস্তা তৈরি না হওয়ায় উঁচু-নিচু স্থান পার হয়ে যেতে হয় বলে একটু সময় লাগে। হাঁটার সুবিধার জন্য চাইলে পাঁচ টাকা মূল্য দিয়ে বাঁশের লাঠি কিনে নিতে পারেন। এরপর সবুজ ঘাসের ওপর দিয়ে ঝরনা থেকে নেমে আসা শীতল পানিতে পা ডুবিয়ে এগিয়ে যেতে হবে আপনাকে। চারদিকে শুধু সবুজের সমারোহ। শহরের কোলাহলমুক্ত এমন সবুজ সুন্দর পরিবেশ আপনার মনে এনে দিতে পারে প্রশান্তির ছোঁয়া।

কোথায় খাবেনঃ

হাজাছড়া ঝর্ণার আশেপাশে থাকা বা খাওয়া কোন ব্যবস্থা নেই। ঝর্ণায় যাওয়ার সময় সাথে কিছু শুকনো খাবার ও পর্যাপ্ত পানি নিয়ে যেতে পারেন। অথবা খাগড়াছড়ি শহরের কাছেই পানখাই পাড়ায় ঐতিহ্যবাহী সিস্টেম রেস্তোরার (System Restaurant) অবস্থান। এখানে খাগড়াছড়ির ঐতিহ্যবাহী খাবার খেতে পারবেন। খাং ময় রেস্টুরেন্টে আমরা খেয়েছিলাম। পর্যটকদের জন্য খাগড়াছড়িতে রয়েছে অনেক আবাসিক হোটেল । রয়েছে জেলা সদরের মিলনপুরে হোটেল গাইরিং ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় হোটেল ইকোছড়ি ইন। সেখানে থাকা-খাওয়ার সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। খাগড়াছড়ি বাজার এলাকার হোটেল আল-মাসুদ, হোটেল লবিয়ত, হোটেল ফোর স্টারসহ অনেকগুলো হোটেলে থাকতে পারবেন সুলভে। হোটেল গাইরিং বেশ উন্নত, আমাদের বেশ ভালো লেগেছে। 

যা মনে রাখবেন

একটা অনুরোধ আছে, ঝর্ণা দেখতে গিয়ে এর আশপাশে কোনো প্ল্যাস্টিক, বোতল, প্যাকেট ফেলে ঝর্ণাকে নোংরা করবেন না। প্রকৃতিকে তার নিজের মতো করে থাকতে দিন। শুধু তার কাছে গিয়ে উপভোগ করুন তার অনাবিল সৌন্দর্য্য।

 কিছু কিছু জায়গা খুব পিচ্ছিল থাকে, তাই সাবধানে হাঁটবেন।

•কোনো কোনো জায়গায় কাঁটাজাতীয় একধরনের উদ্ভিদ দেখা যায়, তাই দেখে দেখে হাঁটবেন।

• হাঁটার রাস্তাটি উঁচু-নিচু এবং বেশ সুবিধাজনক নয়, তাই সঙ্গে কোনো ভারী বস্তু নেওয়া উচিত নয়। এতে আপনারই কষ্ট হবে।

• এখানকার আনারস, আখ, পেঁপে ও কলা বেশ মিষ্টি। অবশ্যই খেয়ে দেখবেন, নইলে কিন্তু পস্তাবেন।

 

*ঝর্ণা* *হাজাছড়াঝর্ণা* *রাঙামাটি* *খাগড়াছড়ি* *দীঘিনালা* *বাঘাইহাট* *শীতেভ্রমণ*

দীপ্তি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

খুব ভোরে রাঙামাটি থেকে রওয়ানা দিয়েচুলাম সাজেকের উদ্দেশ্যে।  ডিসেম্বরের শুরুতে কুয়াশার দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। সকালের ঘন কুয়াশায় নিজেকে ঢেকে রওনা হলাম পাহাড়ের পথ ধরে। কেবল আমরা নই, পুরোটা পথ জুড়ে সবুজ পাহাড়, তারা যেন নিজেকে আবৃত করেছিল কুয়াশার নরম চাদরে। পথিমধ্যে ক্রমেই শীতের কুয়াশা কেটে বেরিয়ে এল সূর্য। সাজেক রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত হলেও এর যাতায়াত সুবিধা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে। তবে, রাঙামাটি থেকে নৌপথে কাপ্তাই হয়ে এসে অনেক পথ হেঁটে সাজেক আসা যায়। তাই সকালবেলা খাগড়াছড়িতে পৌঁছে প্রাতরাশ সেরে আবারোও যাত্রা শুরু করলাম মাহেন্দ্র খোলা জিপে।ঝলমলে রোদেলা আবহাওয়ায় কখন জানি দীঘিনালা, বাঘাইহাট, মাসালাং বাজার, কাসালাং নদীকে পেছনে ফেলে পৌঁছে গেলাম সাজেকের রুই লুই পাড়ায়।  

জানিয়ে রাখি, সাজেক ভ্যালি রাঙ্গামাটি জেলার সর্বউত্তরের মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত। সাজেক হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন । যার আয়তন ৭০২ বর্গমাইল । সাজেকের উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা , দক্ষিনে রাঙামাটির লংগদু , পূর্বে ভারতের মিজোরাম , পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা। খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে সাজেকের দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার । আর দীঘিনালা থেকে ৪৯ কিলোমিটার । বাঘাইহাট থেকে ৩৪ কিলোমিটার। খাগড়াছড়ি থেকে মোটামোটি সাড়ে চারঘন্টা সময় লেগে যাই। আর্মি স্কটের জন্য প্রায় ১ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় দীঘিনালাতে। দুটা স্কট আছে, সকাল সাড়ে দশটা আর বিকেল সাড়ে তিনটা। আমরা সকালের স্কটটা ধরেছিলাম। পরেরদিন ফেরার সময়ও ওই একই স্কট ধরেছিলাম।

দীঘিনালা, আমাদের যাত্রা বিরতির দ্বিতীয় স্থল। অসাধারণ স্বাদ এখানকার পাকা পেঁপের। সুস্বাদু কলাও পাওয়া যায় এখানে। খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা আর্মি ক্যাম্প হয়ে সাজেক যেতে হয়। পরে পরবে ১০ নং বাঘাইহাট পুলিশ ও আর্মি ক্যাম্প। যেখান থেকে আপনাকে সাজেক যাবার মূল অনুমতি নিতে হবে। তারপর কাসালং ব্রিজ, ২টি নদী মিলে কাসালং নদী হয়েছে। পরে টাইগার টিলা আর্মি পোস্ট ও মাসালং বাজার। বাজার পার হলে পরবে সাজেকের প্রথম গ্রাম রুইলুই পাড়া যার উচ্চতা ১৮০০ ফুট। এর প্রবীণ জনগোষ্ঠী লুসাই। এছাড়া পাংকুয়া ও ত্রিপুরারাও বাস করে। 

যাত্রাপথে আমাদের তৃতীয়  বিরতি বাঘাইহাট বাজারে। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে এই পাহাড়ি বাজারের পাশ দিয়ে চলে গেছে কাসালং নদী। বাজারে নেমেই এককাপ গরম চায়ে চুমুক, কুয়াশা আর শীতের সকালে কিছুটা উষ্ণতা। কিছুক্ষণের বিরতি শেষ করে আবার চলা শুরু। রাস্তার দুপাশের বিচ্ছিন্ন পাহাড়ি ঘর, বিস্তীর্ণ পাহাড় আর এঁকে বেঁকে চলা পাহাড়ি রাস্তা। পাহাড়ের বুক চিড়ে বয়ে যাওয়া সর্পিল নদী চলে গেছে দূরের পথ ধরে। মুক্ত আকাশের নিচে বিশাল সমৃদ্ধ বনভূমির সন্ধান পাবেন কেবল সাজেক ভ্যালির পথে। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে জুম চাষ, এই মৌসুমে আনারসের জুম চাষে ভরপুর পাহাড়। পাশের সীমান্ত ঘেঁষা ভারত থেকে আসা মাসালং নদীর অববাহিকায় গড়ে উঠেছে ছোটখাট বাজার। এই এলাকা সাজেক ইউনিয়নের প্রধান কেন্দ্রস্থল। আদিবাসী আর বাঙালি— মিলেমিশে এই বাজারে ব্যবসা করে। জুমের ফসল বিক্রি করার আর্দশ স্থান এই মাসালং বাজার।

বন্ধুর পথ— দুপাশেই আকাশচুম্বী পাহাড়ের বুকে উদ্ধত শিখর তুলে দাঁড়িয়ে আছে বৃক্ষরাজি। দীর্ঘজীবি বৃক্ষের দেখা মেলে এই পথে, মাঝে মাঝে বিচ্ছিন্ন বসতি। দূরের পাহাড়ে মেঘের গড়াগড়ি দেখতে না দেখতেই আমরা পৌঁছে যাই সেই মেঘের রাজ্যে। এক সময় উঁচু পথের সমাপ্তি হয়, পা রাখি রুইলুই পাড়ায়। এটা সাজেক উপত্যকার মূল কেন্দ্র। সাজেকের মূল ফটকে ঢুকেই আমরা পুরো বিস্মিত ! এখানে এসে বিস্ময়ের মাত্রা খালি বেড়েই চলছিল। প্রায় দুই হাজার ফুট পাহাড়ের ওপর ঝকমকে প্রশস্ত পথ। শহরের আদলে তৈরি ফুটপাত একেবারে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি। পথের পাশে পাহাড়িদের বাড়িঘর নান্দনিকভাবে সাজানো। মনে হলো, বিদেশি কোনো উপত্যকায় পাহাড়ের বুকে সাজানো-গোছানো আদিবাসী-অধ্যুষিত ছোট্ট কোনো শহরে এসে উপস্থিত হলাম।

প্রায় মূল ফটকের পাশেই পাহাড়ের কোল-ঘেঁষে বেশ কিছু কটেজ প্রস্তুত যেখানে আমাদের রাত যাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, বেশ অল্পই খরচ। থাকার ব্যবস্থা হলো হাপাং টং  রিসোর্টে। কাঠের তৈরি ছোট অথচ পরিপাটি একটা রিসোর্ট। পর্যটন উন্নয়নের বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে দুর্গম সাজেকের উঁচু পাহাড়ের বুক চিরে। সাজেকে গড়ে উঠেছে রুনময় ও সাজেক নামে দুটো আকর্ষণীয় রিসোর্ট। তবে আদিবাসীদের তৈরী কাঠের কটেজই আমার কাছে প্রকৃতি উপভোগ করার জন্য দারুন ব্যবস্থা বলে মনে হয়েছে।  রুইলুই পাড়ায় লুসাই, পাংখোয়া, ত্রিপুরা— জনগোষ্ঠীর বসবাস। পাড়ার সবগুলো বাড়ির রং লাল–সবুজ। রুইলুই পাড়ার নিচ থেকে প্রধান উপত্যকার অংশ শুরু। দীর্ঘ পথ শেষ করে বহুদূরে দাঁড়িয়ে আছে মিজোরামের প্রাচীন সুউচ্চ পাহাড়ের শ্রেণি। 

সাজেক এর রুইলুই পাড়া থেকে দুই থেকে আড়াই ঘন্টার ট্রেকিং করে দেখে আসতে পারেন সুন্দর কমলক ঝর্ণাটি। কমলক ঝর্ণাটি অনেকের কাছে পিদাম তৈসা ঝর্ণা অথবা সিকাম তৈসা ঝর্ণা নামে পরিচিত। সাজেকের শেষ গ্রাম কংলক পাড়া। রুইলুই পাড়া থেকে ২০ মিনিটের হাঁটা পথ কংলাক পাড়া। পাংখোয়াদের বসবাস এখানে। সব মিলিয়ে ১৫ পরিবারের বসবাস হবে। বিশাল পাথরখণ্ডের পাদদেশেই কংলাক পাড়ার অবস্থান।কংলাকের পাথরচূড়ায় দাঁড়িয়ে পুরো সাজেক উপত্যকা চমৎকারভাবে এক নজরে দেখা যায়। প্রথমে উঠতে মনে মনে একটু ভয় পেলেও, উঠার পর পুরো সাজেকের সৌন্দর্য্য ভয়কে জয় করে দিয়েছিলো।  

পাহাড়ের গায়ে হেলান দিয়ে এখানে আকাশ ঘুমায়, পাহাড়ের বন্ধনহীন মিলন দেখা যায়। কোথাও কোথাও তুলার মতো দলছুট মেঘের স্তুপ ভেসে বেড়ায় পাহাড়ের চূড়ায়, যেন স্বপ্নরাজ্য। রুই রুই পাড়ার শেষ প্রান্তে হেলিপ্যাড। তার পাশেই পাহাড়ের কোলজুড়ে নির্মাণ করা হচ্ছে অবকাশ কেন্দ্র। এখানে বসলে মিজোরামের পাহাড়গুলো চোখের সামনে উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে অন্যরকম এক রূপ নিয়ে। সাজেক পাহাড় আর ভারতের পাহাড়ের মাঝখানে বিশাল এক উপত্যকাঞ্চল। এটাকে মেঘপুরীর উপত্যকাও বলা যেতে পারে। বর্ষাকালে এখানে থাকে মেঘমালার অবাধ বিচরণ। সূর্যাস্ত দেখে, কংলাক পাড়া থেকে রওনা হলাম সাজেক ভ্যালির পথে, রাতযাপন হবে রুইলুই পাড়ায় ওই রিসোর্টে। 

পূর্ণিমায় আলোয় আলোকিত  ছিল সেদিনের রুই লুই পাড়া। সহস্র নক্ষত্রে ঢাকা সাজেকের বিস্তৃত আকাশ আর নক্ষত্রের আলোয় নিচের পৃথিবী, ধবধবে জোছনার আলোয় আলোকিত উপত্যকা সাজেকের রাজ্য। অদ্ভুদ যে, জ্যোৎস্না রাতের আলোয় কাছে দূরের পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে জেগে উঠছে ঘন সাদা কুয়াশা। এমনই ঘন যে, কুয়াশাকে মনে হয় মেঘের ভেলা, মনে হয় সমুদ্রে বরফ জমেছে। এরকমই মেঘের ভেলায় ডুবে যাওয়া পাহাড়ের চূড়াকে মনে হচ্ছিল সমুদ্রের পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। হেড ম্যানের বাড়ির সামনে গোল বৈঠক আর গরম কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে আমার মনে শুধু বিভ্রম জাগে, এ কি আমার চেনা পৃথিবী, এই কি আমার দেশ, আমার দেশ এত্ত সুন্দর ! মনে পরে রবি ঠাকুরের সেই কবিতার লাইন 

"দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া একটি ধানের শিষের উপরে একটি শিশিরবিন্দু।"

আমাদের সারাদিনের খাবারের ব্যবস্থা হয়েছিল সারা লুসাইয়ের অর্ডার হোটেলে। হালকা তেল, মশলায় রান্না করা আদিবাসী খাবার খেয়ে আমি মুগ্ধ। এর মালিক রুইলুই পাড়ার কারবারী মনা দাদা। অনেক রাত অব্দি জেগে ছিলেন সেদিন, চোখে যেন নেশা ধরেছিলো। ঘোরলাগা রাত এক সময় ভোর হয়, মেঘ পায়ের কাছে হেসে লুটোপুটি খায়- নতুন দিনের অভিবাদন জানায়। আবারো খুব ভোরে উঠে আমরা হেলিপ্যাডের উপর চলে যাই সূর্যোদয় দেখতে। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে পুরো তাজ্জব ! একি সবুজ বন, গেরুয়া পাহাড় সবটুকু অদৃশ্য হয়ে আছে সাদা মেঘের আড়ালে। পাহাড়জুড়ে ছড়িয়ে আছে সাদা মেঘ আবার কোথাও কোথাও মেঘের বুকে জেগে আছে পাহাড়ের চূড়া, যেন মেঘের সমুদ্রের বুকে জেগে থাকা সবুজ দ্বীপ।

নীলচে পাহাড়ে বুকে মেঘের সমুদ্র। যতটুকু চোখ যায় কেবল দুধ সাদা ঘন মেঘ। দিগন্তব্যাপী আকাশ ছোঁয়া পাহাড়গুলো যেন ডুবে আছে মেঘের সমুদ্রে। মেঘের রং বদলায় সকালের সূর্যের আলোয়। পাহাড় আর মেঘ যেন অবিচ্ছিন বন্ধনী, সময়ে সময়ে বদলে পাহাড়ের রূপ। পাহাড়ের প্রশস্ত বুক, আদিবাসীদের ঘর-বসতি ও নির্জন প্রকৃতির সঙ্গে দারুণ এক সখ্যতা আর প্রেম আছে ভাসমান মেঘপুঞ্জের, আছে ঝগড়াও। তাই তো বেলা বাড়তে বাড়তে মেঘ কেটে কেটে যেতে লাগলো আর আমরা ফিরতে লাগলাম চেনা লোকালয়ের পথে, ফিরলাম রুইলুই পাড়ায়। সাজেক বহুরূপী, পাহাড়ের সাথে মেঘের রাগ অনুরাগ, মান অভিমানে ক্ষণে ক্ষণে পাল্টায় এর রূপ মাধুরী। ভোর একসময় সকাল হলো, আমাদেরও স্কট ধরবার সময় চলে এলো তাই পেছনে সাজেককে ফেলে রেখে আমাদের ফিরতেই হলো যান্ত্রিক জীবনে। ফেরার সময় হাজাছড়া ঝর্ণা, দীঘিনালা ঝুলন্ত ব্রিজ ও দীঘিনালা বনবিহার দেখে আসতে পারেন। যেকোনো মৌসুমে সাজেক ভ্রমণ অনন্য। বর্ষাকালে শুনেছি এর সৌন্দর্য অসাধারণ। তবে আমার মতে, শীতকালই ভ্রমণের উপযুক্ত সময়।

যেভাবে যাবেন : প্রথমে যেতে হবে খাগড়াছড়ি অথবা দীঘিনালা। ঢাকা থেকে শান্তি পরিবহন, বিআরটিসি (এসি বাস), সেন্ট মার্টিন (এসি বাস), শ্যামলী, সৌদিয়া, ঈগল, এস.আলম পরিবহনে খাগড়াছড়ি এবং দীঘিনালায় সরাসরি যাওয়া যায়। আমরা অবশ্য রাঙামাটি থেকে খাগড়াছড়ি এসে দীঘিনালা হয়ে গেছিলাম। দলবদ্ধ হয়ে যাওয়ায় ভালো, খাগড়াছড়ি বা দীঘিনালা থেকে মাহেন্দ্র জিপ বা চাঁদের গাড়ি ভাড়া করে যেতে হবে। সাজেক যাওয়ার পথে বাঘাইহাট জোনে আপনার নাম, ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর এট্রি করতে হবে। আপনার লাগেজ সার্চ করে হবে। 

যেখানে থাকবেন : সাজেক এলাকায় হুট্ করে গেলে কিন্তু থাকার জায়গা নাও পেতে পারেন। তাই রাতে থাকার জায়গা আগে থেকেই ঠিক করতে হবে। দল বড় হলে প্রস্তুতি নিতে হবে আগে থেকেই। থাকার জন্য আছে, রূনময় রির্সোট (বিজিবি পরিচালিত), সাজেক রির্সোট (সেনাবাহিনী পরিচালিত) আলোর রির্সোট এবং ক্লাব হাউস। রয়েছে আদিবাসীদের কটেজও। 

প্রয়োজনীয় তথ্য : সাজেক অনেক দুর্গম জায়গা। এখানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। যাও আছে তা মূলত সৌর বিদ্যুৎ নির্ভর। উঁচু জায়গা বলে পানীয় জলের সংকট আছে, তবে সেটা গ্রীষ্মে। খাওয়ার জল কিন্তু ঝর্ণার জল, বেশ ঠান্ডা। সাজেক  প্রকৃতির সৌন্দর্য্য, সৃষ্টির অপরূপ সৃষ্টি, তাই এই সৃষ্টি যাতে তার মতো করে সুন্দর থাকে সেই দায়িত্বটাও আমাদেরই হাতে। আপনার ব্যবহার কোন প্রকার পলিথিন, পানির বোতল, প্যাকেট, ময়লা ইত্যাদি নির্দিষ্ট স্থানে ফেলবেন। না হলে সঙ্গে করে নিয়ে আসবেন। আর আমাদের স্বভাব থাকে, আদিবাসীদের জীবন যাপন, তাদের চেহারা, তাদের খাবার দাবার নিয়ে টিপ্পনি কাটার, সেটা মোটেও করবেন না। তারা প্রকৃতির সন্তান, তারা অতন্ত্য সহজ, অতন্ত্য সরল, অতন্ত্য ভালো। তারাও কিন্তু বাংলাদেশী, এটা ভুলে যাবেন না। 

"মেঘ পাহাড়ের মিতালী যার আরেক নাম সাজেক ভ্যালি"

*সাজেক* *মেঘেররাজ্য* *সাজেকভ্যালি* *রাঙামাটি* *খাগড়াছড়ি* *ভ্রমণটিপস* *মেঘ* *পাহাড়*

Shuvojit Roy: একটি বেশব্লগ লিখেছে

আলুটিলা গুহা বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি জেলার একটি প্রাকৃতিক গুহা। পাহাড়ের পেটের মধ্যে লুকিয়ে থাকা গুহাটি আলুটিলা পর্যটন পার্কের অন্তর্গত। বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলায় মূল শহর হতে ৭ কিলোমিটার পশ্চিমে সমুদ্র সমতল হতে ৩০০০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট আলুটিলা বা আরবারী পাহাড়ে আলুটিলা গুহা অবস্থিত। স্থানীয়রা একে বলে মাতাই হাকড় বা দেবতার গুহা। এটি খাগড়াছড়ির একটি নামকরা পর্যটন কেন্দ্র। বিশাল দুটি বটবৃক্ষ শতবর্ষ ধরে প্রহরী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে গুহার দ্বারপ্রান্তে। প্রহরীর দু-দিকে দুটি রাস্তা। এক রাস্তায় আপনি চলে যাবেন রহস্যময় গুহায় আর আরেকটি যাবে সরু পাহাড়িপথ ধরে অপরূপ এক ঝর্না ধারায়। পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে দেখতে পারবেন দূরের খাগড়াছড়ি শহর।

 

গুহার মুখে একটি বিশ্রামাগার। সোজা একটি পথ গিয়ে মিলেছে গুহার মুখে। এই গুহাটি খুবই অন্ধকার ও শীতল। কোন প্রকার সূর্যের আলো প্রবেশ করে না বলে মশাল নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে হয়। সুড়ঙ্গের তলদেশ পিচ্ছিল এবং পাথুরে ও এর তলদেশে একটি ঝর্ণা প্রবাহমান। গুহাটি দেখতে অনেকটা ভূ-গর্ভস্থ টানেলের মত যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫০ ফুট। ধাপে ধাপে ৩৪০টি সিড়ি বেয়ে নিচে নামলে দেখা মিলবে এই রহস্যময় গুহার। গুহাটির এপাশ দিয়ে ঢুকে ওপাশ দিয়ে বের হতে আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে। গুহাটির উচ্চতা মাঝে মাঝে খুব কম হওয়ায় নতজানু হয়ে অর্থাৎ মাথা নিচু করে হেটে যেতে হয়। তবে, আমাদের দেশের পার্বত্য অঞ্চলের গভীরে অনেক গুহা রয়েছে। দুর্গম হওয়ায় সাধারণত পর্যটকদের পক্ষে তা দেখা সব সময় সম্ভব হয় না। 

 

পাঁচ টাকায় প্রবেশ টিকিট এবং দশ টাকায় খরিদ কিনতে হবে মশাল। কাঁচা সরু বাঁশের নলে সামান্য কেরোসিন তেল ভরা, তার মাথায় পাটের ছিপি আঁটানো, এই হলো গুহা দর্শনের মশাল। ওনারাই শিখিয়ে দেবে ব্যবহার বিধি। রেলিং বাধা দীর্ঘ সিঁড়ি ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে নেমে গেছে গুহা মুখে। ভেতরে ঢোকার পর যে কারোরই গায়ে কাটা দিতে বাধ্য। তাই ভীত না হয়ে ধীর পায়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। গুহার ভীতরে জায়গায় জায়গায় পানি জমে আছে, রয়েছে বড় বড় পাথর। জীবজন্তুর ভয় না থাকলেও ঝর্না প্রবাহিত হওয়ার কারণে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতেই হবে। গুহার এপাশ থেকে ওপাশে এঁকেবেঁকে যেতে সময় লাগে মোটামুটি ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মতো। কোথাও সরু কোথাও অল্প প্রশস্ত, আবার একাধিক জায়গায় প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে এগুতে হয়।

 

পায়ের নিচ দিয়ে অনবরত প্রবাহিত হচ্ছে হিমশীতল পানির সরু ধারা। এক ধরনের গা ছমছম করা পরিবেশ। গুহায় প্রবেশটা দলবদ্ধভাবে হলেই বেশ ভালো হয়। গুহার যত গভীরে যাবেন মনে হবে চারপাশে চাপা নীরবতা যেন ভেঙে যাচ্ছে পানি প্রবাহের মৃদু শব্দে। গুহায় একদিক দিয়ে ঢুকে অন্যপাশ দিয়ে বের হতে হয়। বাহির হওয়ার মুখ তুলনামূলক চওড়া এবং গভীর। গুহা থেকে বের হওয়ার মুখে চোখ মেলে তাকালে মনে হবে যেন কোনো অন্ধকূপে আবদ্ধ আছেন। কারণ ওপর থেকে অজস্র ডালপালা সুড়ঙ্গের মুখটা ঢেকে রেখেছে। ঠিক তার নিচ থেকে উঠে এসেছে ওপরে উঠে আসার সিঁড়ি। গা ছমছম করা অনুভূতি নিয়ে পাহাড়ী সুড়ঙ্গ পথ বেয়ে অন্ধকার পাতালে নেমে যাওয়া কল্পনার বিষয় হলেও আলুটিলার সুড়ঙ্গ পথ কল্পনার কিছু নয়।

 

আলুটিলার এই মাতাই হাকড় বা দেবতার গুহা সত্যিই প্রকৃতির অদ্ভুত সৃষ্টির একটি। সারা বছরই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত থাকে পর্যটনকেন্দ্র আলুটিলা। দৃষ্টিনন্দন ও রহস্যঘেরা দৃশ্যের কারণেই পর্যটকদের নিকট খুবই পছন্দনীয়। এ এডভেঞ্চার ভ্রমণকে উজ্জীবিত রাখতে আপনার যে কোন সহায়তায় রয়েছে সেনাবাহিনী। যাওয়া ও থাকাঃ খাগড়াছড়ি শহর হতে ৭ কিলোমিটার পশ্চিমে মাটিরাঙ্গা উপজেলার আলুটিলা পযর্টনকেন্দ্রের অবস্থান। ঢাকা থেকে আসার জন্য ফকিরা পুল , সায়দাবাদ , কলাবাগান থেকে বিআরটিসি, সেইন্ট মার্টিন, এস.আলম সার্ভিস, শ্যামলী পরিবহন, ঈগল পরিবহন, সৌদিয়া প্রভৃতি বাস রয়েছে। তারপর খাগড়াছড়ি শহর শহর থেকে লোকাল বাসে আলুটিলা। আলুটিলা মাটিরাঙ্গাতে থাকার জন্য পর্যটন মোটেল, হোটেল শৈল সুবর্ণা, হোটেল গাইরিং ছাড়াও আরও বেশ কিছু ভালো মানের আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে।

*আলুটিলা* *রহস্যময়গুহা* *সুড়ঙ্গ* *পর্যটন* *খাগড়াছড়ি*

দীপ্তি: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 খাগড়াছড়ির সাজেকে যাবার বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেন কেউ?

উত্তর দাও (২ টি উত্তর আছে )

.
*খাগড়াছড়ি* *সাজেক* *ভ্রমণ* *ভ্রমণটিপস*

Partha: *খাগড়াছড়ি* ঘোরাঘুরি যারা পছন্দ করেন তারা এই গ্রুপ এ join করতে পারেন !! share করতে পারেন বেড়ানো নিয়ে আপনার অনুভূতি ..ছড়িয়ে দিতে পারেন আপনার তোলা ছবি ... https://www.facebook.com/groups/ExploreBangladesh4tour/ join করেন এবং share করেন আপনার ভালো লাগা

আল ইমরান: একটি বেশব্লগ লিখেছে

(১)
সাজেক!! খাগড়াছড়ি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার পাহাড়ঘেরা অনিন্দ্য সুন্দর একটা যায়গা। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা আর দুর্গম রাস্তা হওয়া সত্তেও প্রচুর পর্যটক আসেন সাজেক ভ্যালীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে। ফেসবুকে ছবি দেখে দেখে সাজেক যাওয়ার ইচ্ছেটা মনের কোন জমে উঠেছিল অনেক আগেই। পরিবেশ, পরিস্থিতি, সময় সবমিলেয়ে ব্যাটে বলে হচ্ছিল না। সোনালী ব্যাংকার্স ফেসবুক গ্রুপ থেকে কিছুদিন আগে নৌবিহার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই আয়োজনের আয়োজক কমিটিতে আমার থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল। সফলভাবে সেই আয়োজন করতে গিয়ে আয়োজক কমিটিতে থাকা সহকর্মীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। আয়োজন চলাকালীন ফেসবুক গ্রুপ চ্যাটে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত কত কত প্ল্যানিং, আড্ডা, আলোচনা আমরা করেছি তার হিসেব নেই। সেই সফল আয়োজন শেষে আমরা উপলব্ধি করলাম, আয়োজন করতে গিয়ে নিজেরা উপভোগ করতে পারিনি। তাই শিমুল ভাইয়ের প্রস্তাব ছিল, নিজেরা একটু আনন্দ করতে এবং আমাদের মধ্যকার গড়ে উঠা এই সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করতে সাজেক ট্যুরের আয়োজন করলে কেমন হয়!! আমার মত অনেকের মনের কোনেই হয়ত এই সুপ্ত বাসনাটা লুকায়িত ছিল। তাই প্রস্তাবনার পর পরই বলা যায় সাথে সাথেই আমি, জসিম ভাই, মিজান ভাই মিলে একটা কবিতা লিখে ফেললাম।

শীতের শেষে পাহাড়ে, ঘুরতে যাব আহারে,
দেখবো আকাশ,দেখবো মেঘ,আনন্দ কই কাহারে!
মুগ্ধ হব ঝলমলে ঐ নীল আকাশের বাহারে,
গোমড়া মুখে যে জন থাকে আনন্দ দেই তাহারে।
পাহাড় বেয়ে রাস্তা ধরে চলছে চাঁদের গাড়ি,
রাখালিয়ার বাঁশি শুনি,কোথায় যে তার বাড়ি!
স্নিগ্ধ হাওয়ার স্নিগ্ধ ছোয়ায় মন মজেছে আজ।
গোধূলিতে দেখবো যে আজ সাজেক বধূর সাজ।
ধিতাং ধিতাং মাদল বাজে,সাথে বাঁশির সুর,
দুচোখ ভরা স্বপ্ন শুধু আনন্দে ভরপুর।
পাহাড় তোমার ছোঁব আজি,তুমি কতদুর?
এই যে দেখ এনেছি আজ সোনালী রোদ্দুর।
আজি জ্যোৎস্না শুধুই মোদের তরে,আমরা দামাল দল।
ঘুম হবে না,জাগবো রাতি,জ্যোৎস্না বিহার চল।
হাটবো পথে দেখবো চাঁদ,হোকনা আরো গভীর রাত,
ঝি ঝি পোঁকার গান শুনবো,দূর পাহাড়ে বাঁশির সুর
পড়বে গলে আকাশ থেকে সাতরঙা রঙ রংধনুর
চাঁদের আলোয় করব স্নান,কে কে যাবি সাজেক ট্যুর!!

লিখে ফেলা এই কবিতা যেন সবাইকে সাজেকের পথে আরেক ধাপ স্বপ্নাতুর করে ফেলল। আযম ভাই, শিমুল ভাই, কাউসার ভাই তো রীতিমত প্ল্যান করা শুরু করে দিল। আস্তে আস্তে সেখানে যুক্ত হল ইমদাদ ভাই, মাসুদ ভাই, বন্ধু সাজ্জাদ, সজীব ভাই, আহাদ ভাই। আমাদের এই সাজেক আলোচনার জন্য “সাজেক ট্যুরের পোলাপাইন” নামে ম্যাসেঞ্জারে রীতিমত একটা চ্যাট রুম খোলা হল।  কামরুল ভাই এই সুযোগে ইচ্ছে আরো চাগিয়ে দিয়ে তার সাজেক স্মৃতিচারন করতে লাগলো। আমাদের তখন চোখে ভাসছে শুধু পাহাড় আর আকাশের মাঝে মেঘের রাজ্য সাজেক।

(চলবে)
*ভ্রমন* *সাজেক* *খাগড়াছড়ি* *পাহাড়*

লুই: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 খাগড়াছড়িতে বেড়াতে গেলে থাকার জন্য নিরাপদ জায়গা কি কি আছে?

উত্তর দাও (১ টি উত্তর আছে )

*ভ্রমন* *ট্রাভেল* *ভ্রমনটিপস* *ছুটিতেভ্রমন* *খাগড়াছড়ি*

সামি আহমাদ: একটি বেশব্লগ লিখেছে

সাজেক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন। রাঙামাটির একেবারে উত্তরে এর অবস্থান। ভৌগলিক অবস্থান রাঙামাটিতে হলেও যাতায়াতের সহজ পথ খাগড়াছড়ি হয়ে। সাজাকের কাছাকাছি পাহাড়ী আদিবাসীদের দু'টি পাড়া আছে... রুই লুই এবং কংলাক। সাজেক পয়েন্টে যাবার একটু আগেই পরবে রুই লুই পাড়া। এই পাড়াটির উচ্চতা ১৭২০ ফুট। এটি ক্ষুদ্র জাতীগোষ্ঠী পাংখোয়া-দের বসতি। রাস্তার দু'ধারেই ঘর রয়েছে। চা খাওয়ার ছোট্ট দোকান রয়েছে। পাহাড়ী মেয়েরা হাতে টানা তাঁতে কাপড় বুনাচ্ছে অথবা কেউবা মোটা বাঁশের পাইপে তামুক খাচ্ছে। পাহাড়ী জনপদের জীবন-যাত্রা দেখতে আপনার ভাল লাগবে।



মুক্ত আকাশের নিচে বিশাল সমৃদ্ধ বনভূমির সন্ধান পাবেন কেবল সাজেক ভ্যালির পথে। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে জুম চাষ, কয়েকরকমের জুম চাষে ভরপুর পাহাড়।

উড়োবাজার, গঙ্গারামমুথ, নন্দরাম এসব পাহাড়ি পাড়া পেরিয়ে আমাদের দ্বিতীয় যাত্রা বিরতি মাচালং বাজার। পাশের সীমান্ত ঘেঁষা ভারত থেকে আসা মাচালং নদীর অববাহিকায় গড়ে উঠেছে ছোটখাট বাজার। এই এলাকা সাজেক ইউনিয়নের প্রধান কেন্দ্রস্থল। আদিবাসী আর বাঙালি— মিলেমিশে এই বাজারে ব্যবসা করে। দূরদূরান্তের পাহাড়িরা একদিন আগেই বাজারে আসতে শুরু করেন।



মাচালং বাজার থেকে সাজেকের পথের দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার। বন্ধুর পথ— দুপাশেই আকাশচুম্বী পাহাড়ের বুকে উদ্ধত শিখর তুলে দাঁড়িয়ে আছে বৃক্ষরাজি। দীর্ঘজীবি বৃক্ষের দেখা মেলে এই পথে, মাঝে মাঝে বিচ্ছিন্ন বসতি। দূরের পাহাড়ে মেঘের গড়াগড়ি দেখতে না দেখতেই আমরা পৌঁছে যাই সেই মেঘের রাজ্যে।



এক সময় উঁচু পথের সমাপ্তি হয়, পা রাখি রুইলুই পাড়ায়। এটা সাজেক উপত্যকার মূল কেন্দ্র। রুইলুই পাড়ায় লুসাই, পাংখোয়া, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বসবাস। পাড়ার সবগুলো বাড়ির রং লাল-সবুজ।

সাজেক ভ্রমণের বিস্তারিত জানতে আজই কল করুন ০১৮৪৭১৩৭২২৭, ০১৮৪৭১৩৭২৩৭
অথবা চলে আসুন আমাদের এই ঠিকানায় বাড়ি নং-১৩৯, রোড নং-৩, নিকেতন,গুলশান ১, ঢাকা


*খাগড়াছড়ি*

দীপ্তি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলায় সবুজ পাহাড় আর বুনো জঙ্গলের মাঝে অবস্থিত নয়নাভিরাম ঝর্না দুটির নাম তৈদুছড়া ঝর্না। ত্রিপুরা ভাষায় “তৈদু” মানে হল “পানির দরজা” আর ছড়া মানে ঝর্না। অসাধারণ সৌন্দর্য আর প্রাকৃতিক বৈচিত্রতা এই ঝর্নাকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। খাগড়াছড়িতে যে কয়টি দর্শনীয় স্থান রয়েছে তৈদুছড়া তাদের মধ্যে অন্যতম। এখানে পাহাড় আর সবুজ বুনো জঙ্গেলর মাঝে আঁকা বাঁকা পাহাড়ের ভাঁজ দিয়ে বয়ে চলে ঝর্নার জল। ৩০০ ফুট উচু পাহাড় হতে গড়িয়ে পড়া পানি এসে পরছে পাথুরে ভূমিতে। অন্য সকল ঝর্নার মত এর পানি সরাসরি উপর হতে নিচে পরছে না। পাহাড়ের গায়ে সিড়ির মত তৈরি হওয়া পাথুরে ধাপ গুলো অতিক্রম করে নিচে পরছে।

 

ঢাকা কিংবা খাগড়াছড়ি হতে গাড়ী নিয়ে সরাসরি যাওয়া যায় দীঘিনালায়। তৈদুছড়া ভ্রমনের জন্য খাগড়াছড়িতে রাত্রি যাপন না করে দীঘনালায় থাকাই উত্তম। এখানে থাকার জন্য একটি ভাল মানের রেষ্টহাউজ আছে। গাড়ী নিয়ে দীঘিনালা হতে সামনে এগিয়ে চাপ্পাপাড়া পর্যন্ত যাওয়া যায়। এর পর আর গাড়ী চলার কোন পথ না থাকায় বাকী পথটুকু হেঁটেই যেতে হবে। দীঘিনালা হতে সব মিলিয়ে তৈদুছড়ি পর্যন্ত পৌছতে প্রায় ৪ ঘন্টা সময় লাগে। নির্ভর করে হাঁটার গতির উপর। সুতরাং সকালে রওয়ানা দিলে অনায়েসেই সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসা সম্ভব। এই আসা যাওয়ার পথটি মোটেও বিরক্তিকর নয়। হাঁটতে হাঁটতে যতটা না ক্লান্তি আপনাকে গ্রাস করবে তার চাইতেও বেশী গ্রাস করবে এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নেশা। চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যায় যে আপনি আসক্ত হবেনই।
 
চাপ্পাপাড়া কিংবা পোমাংপাড়া হতে দুর্গম পথ, অনেক গুলো ঝিরি, উচু নিচু পাহাড়, কোথাও হাটু সমান আবার কোথাও বুক সমান পানি আর বুনো জঙ্গল পাড়ি দিয়ে অবশেষে প্রায় ৩ ঘন্টা হাঁটার পর আপনি পৌছবেন ১ম ঝর্নাটিতে। এটি প্রায় ৬০ ফুট উচু। ঝর্নামুখ হতে পানি পাহাড়ের গাঁয়ে পরে তা পাহাড় বেয়ে নিচে এসে ছোট একটি হ্রদের মিলিত হয়েছে।


প্রথম ঝর্ণার ডানপাশ দিয়ে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে উঠলে খুব কাছাকাছি পেয়ে যাবেন ২য় ঝর্নাটি। এখানে প্রায় ৮০-৮৫ ডিগ্রী এঙ্গেলের ঢাল বেয়ে প্রায় ১০০ ফুট উপরে উঠতে হবে। উপরে উঠলে প্রথমেই চোখে পড়বে ঝর্না মুখ যেখান হতে ১ম ঝর্নার পানি পড়ছে। ২য় ঝর্না হতে ঝিরি পথে পানি আসছে এখানে। ঝিরি পথ ধরে প্রায় ঘন্টা খানেক হাটলে পরে পৌছানো যায় ২য় ঝর্নাটিতে। এই চলার পথটি যেমন কষ্টকর তেমনি রোমাঞ্চকর আর আহামরি সুন্দর। উপর থেকে প্রচন্ড বেগে পানি নেমে আসছে। এই বেগ ঠেলে পানি বরাবরই হাঁটতে হয়। ডানে বায়ে যেখানে পানির স্রোত কম সেখানে শ্যাওলা জমেছে। একটুতেই পা পিছলে যায়। মাঝে মাঝে এখানে পানির স্রোত খুব বেশী যে ধাক্কা দিয়ে নিচে নিয়ে যেতে চায়। তাই এখানে পা টিপে টিপে অনেক সাবধানে হাঁটতে হবে। একবার পিছলে গেলে কয়েকশ হাত দূরে নিক্ষিপ্ত হতে হবে। এখান হতে আরো উপরে উঠতে হবে। চলার পথে পারি দিতে হবে বড় বড় পাথর আর কোমর সমান পানি। অতপর পেয়ে যাবেন দ্বিতীয় তৈদু ঝর্ণা।

অপূর্ব নয়নাভিরাম সে ঝর্না। এটি এতই দৃষ্টিনন্দন আর ব্যতিক্রম যে কারো আর তড় সইবে না। ঝর্নার নিচে ঝাপিয়ে পরতে মন চাইবে। ঝর্ণাটি প্রায় ৮০ ফুট উচু। ঝর্নার পানি এসে সরাসরি যেখানে পড়ছে সেখানে সিড়ির মত অনেকগুলো পাথুরে ধাপ রয়েছে। ধাপগুলো বেয়ে পানি নিচে গড়িয়ে পড়ছে। ধাপগুলোতে দাড়িয়ে অনায়েসেই গোসলের কাজটি সেরে নেয়া যায়। দীর্ঘ ক্লান্তিকর হাটার কষ্ট মুহুর্তেই ধুয়ে যাবে ঝর্নার জলে।
 
এখানে সারা বছরই পানি থাকে। শীতে জল প্রবাহ কমে যায়। আর বর্ষার হয়ে উঠে পূর্ণ যৌবনা। তবে শীতের আগে ও বর্ষার শেষে এখানে ঘুরতে যাওয়া উত্তম সিদ্ধান্ত।
 
যেভাবে যেতে হবে: খাগড়াছড়ি হতে বাসে করে আসতে হবে দীঘিনালায়। দীঘিনালায় রাত্রি যাপন, সাথে তৈদুছড়া আসার জন্য প্রশাসনের অনুমতি গ্রহন ও গাইড নির্বাচন করে পরেরদিন ভোরে দীঘিনালা হতে গাড়ীতে/মোটরসাইকেলে করে চাপ্পাপাড়া। চাপ্পাপাড়া হতে পায়ে হেঁটে তৈদুছড়া। (সূত্র: ইন্টারনেট) 
*তৈদুছড়া* *ভ্রমন* *ছুটিতেভ্রমন* *ভ্রমনটিপস* *খাগড়াছড়ি*

আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী: সাজেক খাগরাছরী থেকে ৬৭ km দুরে অসাধারণ সুন্দর একটা জায়গা. নতুন একটা টুরিস্ট স্পট . পুরোটাই আর্মি দের তত্ত্বাবধানে করা . যেতে হলে রক রিসোর্ট সাজেক এ অনলাইন ( www.rock-sajek.com )এ বুকিং দিয়ে যে কেউ যেতে পারবেন. তবে বেশ expensive . পাহাড়ি রাস্তা , জঙ্গল ও পাহাড় , সেই সাথে নির্জনতা . এখনো খুব একটা কেউ যায়না তাই খালি থাকে . ঝরনা আছে তবে যেতে পারিনি.

*খাগড়াছড়ি*
ছবি

আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী: ফটো পোস্ট করেছে

সাজেক

*খাগড়াছড়ি*
ছবি

আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী: ফটো পোস্ট করেছে

সাজেক

*খাগড়াছড়ি*
ছবি

আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী: ফটো পোস্ট করেছে

সাজেক , khagrachori

*খাগড়াছড়ি*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★