গরম পানীয়

গরমপানীয় নিয়ে কি ভাবছো?

দীপ্তি: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 চা না কফি। এ দুটি উষ্ণ পানীয়র মধ্যে কোনটি ভালো?

উত্তর দাও (১ টি উত্তর আছে )

.
*চা* *কফি* *গরমপানীয়* *উষ্ণপানীয়*

আমানুল্লাহ সরকার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

অফিসের কাজের চাপ কিংবা টেনশন৷ একের পর এক কাপে গরম গরম চা বা কফি খেয়েই চলেছেন? তবে এক্ষুনি বন্ধ করুন এসব৷ এখন থেকে আর নয় ৷ কারণ যেকোনও গরম পানীয়তে হতে পারে ক্যানসার! এতদিন চিকিৎসকরা বলেছেন বেশি কফি খেলে হতে পারে ক্যানসার৷ কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ অন ক্যানসার বা আইএআরসি-র নতুন গবেষণা অনুযায়ী, শুধু চা বা কফি নয়,  যেকোনও গরম পানীয় অতিরিক্ত খেলেই হতে পারে ক্যানসার !

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চা বা কফি খুব গরম করে পান করলে, কিংবা গরম স্যুপ, বা অন্য কোনও পানীয় খুব গরম করলে, তার মধ্যে বিশেষ ধরণের কেমিক্যাল তৈরি হয়, যা মানব শরীরের পক্ষে একেবারেই ভালো নয়৷ গরম পানীয়র মধ্যে তৈরি হওয়া এই কেমিক্যালই ক্যানসারের জন্ম দিতে পারে শরীরে ৷ অতিরিক্ত গরম পানীয় কোষের মধ্যে ‘থার্মাল ইনজিউরি’ ঘটায় ৷ আর যার ক্ষতিগ্রস্ত কোষেই ক্যানসার জন্ম নেয় ৷

গবেষণায় এসেছে, গরম কফির মধ্যে ক্যাফিনের মাত্রার তারতম্য ঘটে ৷ চায়ের ক্ষেত্রেও অনেকটা তাই হয় ৷ এমনকী, ডাক্তাররা জানিয়েছেন বার বার চা ফুটিয়ে পান করলেও, ক্যানসারের আশঙ্কা থেকে যায় ৷
 
যারা নিয়মিত চা বা কফি পান করেন, তা সাধারণত গরমই পছন্দ করেন ৷ সেক্ষেত্রে  খুব গরম নয়, বরং একটু ঠান্ডা করে পান করুন ৷ তাহলেই হবে বিপদ মুক্তি !

তথ্যসূত্র: কলকাতা২৪/৭

*ক্যান্সার* *গরমপানীয়* *গবেষণা*

খুশি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বছর জুড়েই আমরা চা খাই্। অনেকেরই প্রতিদিন অন্তত এক কাপ চা না হলে চলে না। আর শীতের দিনে তো গরম চায়ের যেন তুলনাই নেই। কিন্তু চায়ের উপকারিতার কথা কি আমরা জানি? বিশেষ করে শীতে আদা চা খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, চায়ের সঙ্গে যদি আদা যুক্ত হয়, তা হলে এর উপকারিতা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

কারণ আদায় রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। যা শরীরের রোগ-জীবাণু ধ্বংস করে। জ্বরজ্বর ভাব, গলা ব্যথা ও মাথাব্যথা দূর করতে সাহায্য করে আদা-চা। তবে রান্নার চেয়ে কাঁচা আদার পুষ্টিগুণ বেশি। শীতকালে আদা-চায়ের বেশকিছু উপকারিতা রয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। চলুন শীতে আদা চা খাওয়ার অনন্য ৬টি উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেই।
 
১। শ্বাসকষ্ট কমায়
শীতকালে অনেকেরই শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। শীতজনিত শ্বাসকষ্টের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে আদাযুক্ত চা। একই সঙ্গে ফুসফুসের সমস্যা দূরকরতেও এই চা বেশ কর্যকর।

২। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
শীতে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে আদা-চা। নিয়মিত ও পরিমিত আদা-চা শরীরে রক্ত সঞ্চালনের গতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। তাছাড়া আদা-চা শীতে হালকা জ্বর-কাশি দূর করে।

৩। ব্যাথা কমায়
যাদের বয়স একটু বেশি৷ শীতে তাদের কষ্ট হয় বেশি। শরীরের নানা জায়গায় তাদের ব্যাথা দেখা দেয়। আদা দেহের পেশী ও হাড়ের ব্যাথা নিরাময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এই কারণে ব্যাথা হলে চায়ের সঙ্গে সামান্য আদা খাওয়া ভালো।

৪। হজমে সহায়ক
আদা হজমেও সহায়ক। তাই কারও হজমে সমস্যা থাকলে আদা-চা তার জন্য উপকারী হতে পারে। পাকস্থলীর নানা সমস্যা দূর করে আদা চা। অনেকেই বেশি পরিমাণে খাওয়ার পর অস্বস্তিতে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে আদা-চা খুবই উপকারী। আদা-চা অল্প সময়ের মধ্যেই ওই অস্বস্তি দূর করে।

৫। বমি রোধে কার্যকরী
বাসে বা ট্রেনে উঠলে অনেকের বমির ভাব হয়।এই সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে আদা-চা। তাই যাত্রার আগে এক কাপ আদা-চা পান উপকারী।

৬। মানসিক চাপ কমায়
মানসিক চাপ দূর করেতে সহায়তা করে আদা-চা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, চা পাতা ও আদার ঘ্রান মানসিক চাপ দূর করতে সাহায্য করে।
(সংকলিত)
*চা* *গরমপানীয়* *আদা-চা*
ছবি

★ছায়াবতী★: ফটো পোস্ট করেছে

শীতে আদা চা কেন খাবেন?

আদা চা সব ধরনের মানসিক চাপ দূর করে। তাই মানসিক চাপ মুক্ত থাকতে হলে শীতকালে আদা চায়ের বিকল্প নেই। শীতকালে শ্বাসকষ্টের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে আদাযুক্ত চা। একই সঙ্গে ফুসফুসের সমস্যা দূরীকরণে এ চা অনন্য। রক্ত সঞ্চালনের স্বাভাবিক গতিকে সহায়তা করার পাশাপাশি হালকা জ্বর-কাশি দূর করতে আদা চায়ের জুড়ি নেই। একই সঙ্গে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে এ চা। পাকস্থলীর সমস্যা ও হজমের অসঙ্গতিও দূর করে আদা চা। তাই এ শীতে আর ১০টা খাবারের সঙ্গে আদা চাকে অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে রাখুন।

*আদাচা* *গরমপানীয়* *চা* *ছায়াবতী*

শপাহলিক: একটি বেশব্লগ লিখেছে

শীতে আরাম করে গরম খেতে কার না ভালো লাগে? হোক সেটা সকালের চা কিংবা বিকেলের কফিতে। কিন্তু শীতের এই সময়টাতে চা, কফি তো নিমেষেই ঠান্ডা হয়ে যায়। তাহলে উপায়? নো টেনশন,  প্রযুক্তির এই যুগে আপনার কফি আর ঠান্ডা হবে না। আপনার চাহিদার কথা বিবেচনা করেই স্যামসাং, নোভা, মাইকো, ওয়ালটন ও প্যানাসনিকের মত প্রতিষ্ঠান গুলো বাজারে নিয়ে এসেছে দারুন দারুন সব উইন্টার গ্যাজেট। তাই শীতে আরাম করে গরম খেতে চাইলে বাসা কিংবা অফিসে উইন্টার গ্যাজেট নিয়ে নিন। 

চলুন এই শীতের উইন্টার গ্যাজেট গুলো সম্পর্কে জেনে নেই।

USB কফি ওয়ার্মারঃ
১. অন/ অফ সুইচ রেড LED ইন্ডিকেটর বেভারেজ
২.50 – 60°C তাপমাত্রায় উষ্ণ রাখে 
৩. প্লাগ এন্ড প্লে লো পাওয়ার কনজাম্পশন, 2.5W, 5V DC 
৪. কোন ব্যাটারির প্রয়োজন নেই
৫. মেটাল প্লেটে রয়েছে কোয়ালিটি ইনসুলেশন ম্যাটেরিয়াল
৬. USB: 2.0 (৪ পোর্ট হাব) 
৭. উইন্ডোজ 98SE, NT, ME, 2000, XP, ম্যাক 8.6 সাপোর্ট করে
৮. ৬ মাসের ওয়্যারেন্টি
৯. দাম- ৮৭৫ টাকা 


ইলেকট্রিক ফ্লাস্কঃ
১. থ্রি-ওয়ে ওয়াটার ডিসপেনসার 
২.অটো ও ম্যানুয়াল রি-বয়েলিং 
৩.ডাবল ড্রাই বয়েলিং প্রোটেকশন 
৪.৩৬০° রোটেটিং বেস 
৫.স্টেইনলেস স্টীল ইনার পট 
৬.অটো পাম্প লক
৭. পাওয়ার: 650-800W  
৮. ১ বছরের ওয়্যারেন্টি
৯. দাম-৩৫০০ টাকা -দীর্ঘক্ষণ পানি গরম রাখতেও এই ইলেক্ট্রনিক্স ফ্লাস্ক খুব কার্যকর


কাপ ওয়ার্মার হাবঃ
১. USB কাপ ওয়ার্মার আপনার চা-কফি বা যেকোন গরম পানীয়কে গরম রাখে 
২. USB পোর্টগুলো Windows 98SE, NT, ME, 2000, XP, Mac 8.6 সাপোর্টেড
৩. LED ইন্ডিকেটর
৪.ভোল্টেজ- 2.5W, 5V দক 
৫. USB 2.0 4 Port হাব 
৬. দাম-১১৯০ টাকা


কফি ওয়ার্মারঃ 
১. তাৎক্ষনিক তরল পানীয় গরম করার মেশিন
২. কাজ করতে করতে চা ,কফি ঠাণ্ডা হয়ে যায় , গরম করে খাবার ইচ্ছা জাগে না? এই সমস্যা দূর করার জন্য এটার তুলনা নাই; ইচ্ছে করলে পানিও গরম করে খেতে পারবেন! ইউএসবি অপারেটেড তাই যেকোনো যায়গায় নিয়ে যেতে পারবেন।
৩. দাম-৬৫০ টাকা

 
*উইন্টারগ্যাজেট* *গ্যাজেট* *গরমপানীয়* *কেনাকাটা* *স্মার্টশপিং* *শপিং* *অনলাইনশপিং*
ছবি

★ছায়াবতী★: ফটো পোস্ট করেছে

(চাখাই) কিছুক্ষণ পরেই সকাল হবে, আজকের সকাল টা আদা চা দিয়ে শুরু করুন (চাখাই) আদা চা আমরা অনেকেই পান করি। কিন্তু এর গুণাগুণ জানি কজনে? আদা চা পানের কিছু সুফল উল্লেখ করা হলো

(চাখাই) ১. আদা চা আমাদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। শীতে এককাপ আদা চা আমাদের শরীরকে গরম করে আর ঠাণ্ডা লাগা এবং সর্দি কাশি থেকে দূরে রাখে। ২. সারাদিনের কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি দূর করতে এককাপ ধোঁয়া ওঠা আদা চা আপনার ক্লান্তিকে রাখবে দূরে আর করে তুলবে সতেজ। ৩. বমি বমি ভাব হচ্ছে? এক কাপ আদা চা হতে পারে ভালো সমাধান। কোথাও যাওয়ার আগে কয়েক চুমুক আদা চা খান। উপকার পাবেন। ৪. আদা চা হজমশক্তি বাড়ায়। এটি গ্যাষ্টিক সমস্যা দূর করে হজমে সাহায্য করে। ৫. এক কাপ আদা চা শরীরের রক্ত প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়। এতে করে শরীরের নানা অংশে রক্তপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ৬.শ্বাস নিতে কষ্ট দেখা দিলে এক কাপ আদা চা খেতে পারেন। বেশ উপকারী বন্ধু হিসেবেই কাজ করবে এটি।(চাখাই)

*চা* *আদা-চা* *জানা-অজানা* *হেলথটিপস* *গরমপানীয়*

গাজী আজিজ: একটি বেশব্লগ লিখেছে

দিনে এক কাপ কফি সারিয়ে দিতে পারে আপনার চোখের সমস্যা। খাদ্য-গবেষকদের দাবি অন্তত সেরকমই। কফির মধ্যে রয়েছে ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড। যার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে মধ্যে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকায় রেটিনার যে কোনো সমস্যা সমাধানে তা প্রায় অব্যর্থ বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এমনকি আংশিক অন্ধত্বর সমস্যাও সারিয়ে দিয়ে পারে দিনে এক কাপ কফি। দুধ ছাড়া কালো কফিতে মাত্র এক শতাংশ ক্যাফিন থাকে। আর ৭ থেকে ৯ শতাংশই থাকে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড। চোখের পেছনের অংশে অবস্থিত রেটিনা টিস্যু ও নার্ভ সেলের সমন্বয়ে তৈরি একটি মোটা দেওয়ালের মতো। যেখানে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। আর অক্সিজেনের অভাবে সৃষ্টি হয় ফ্রি র্যাডিকেলস। রেটিনার এই ফ্রি র্যাডিকেলসই চোখের প্রায় যাবতীয় সমস্যার জন্য দায়ী। কফিতে উপস্থিত ক্লোরোজেনিক অ্যাসিডে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকায় তা সহজেই ফ্রি র্যাডিকেলসকে প্রতিহত করতে পারে। শুধু চোখের জন্যই নয়। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যে আমাদের শরীরে ভীষণভাবে উপকারী, তা এখন প্রমাণিত। দিনে মাত্র এক কাপ কফি পূরণ করতে পারে আপনার সেই চাহিদা। তাই কাজ বা পড়াশোনার ফাঁকে ছোট্ট একটা কফি-ব্রেক হয়ে যাক। সূত্র: ইন্টারনেট
*কফি* *গরমপানীয়*

ঝিঁঝিপোকা: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ঘরের কোণে একটি তুলসি গাছ লাগানো এমন কোনো বড় ঝামেলার কাজ নয়। আর এই তুলসি গাছ আপনাকে রক্ষা করবে নানা ধরণের সমস্যা থেকে। যেমন ধরুন, ঘরের বিষাক্ত বাতাস শুষে নেবে, ঘরকে মশামুক্ত রাখবে, ঘরে এক ধরণের মিষ্টি সুবাস ছড়াবে। এগুলো তো গেল সাধারণ কিছু বিষয়। আপনি জানেন কি এই তুলসি গাছের পাতার তৈরি চা আপনাকে রক্ষা করতে পারে ৮ টি শারীরিক সমস্যার হাত থেকে? জানতে চান কী কী সমস্যা? চলুন জেনে নেয়া যাক।

১) শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা দূর করে:
সর্দি, কফের সমস্যা এবং সাইনোসাইটিসের সমস্যায় যারা রয়েছেন তারা নিয়মিত তুলসি চা পান করলে শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন দ্রুত।

২) জ্বর কমায়:
তুলসি চা জ্বরের ঔষধ হিসেবে পান করলে অনেক ভালো উপকার পাওয়া যায়। বিশেষ করে যদি চায়ে যোগ করা হয় দারুচিনি তাহলে দ্রুত ফল পাওয়া সম্ভব।

৩) পেটের গণ্ডগোল দূর করে:
হজমে সমস্যার কারণে অনেকে প্রায়ই পেটে গণ্ডগোলে ভুগে থাকেন। নিয়মিত তুলসি চা পানের অভ্যাস করুন সমস্যার সমাধান হবে।

৪) খারাপ কলেস্টোরল কমায়:
প্রতিদিন ১ কাপ তুলসি চা পানের অভ্যাস দেহের খারাপ কলেস্টোরল কমিয়ে দেয়। তুলসির ফাইটোকেমিক্যালস, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অর্গানিক কম্পাউন্ড দেহের খারাপ কলেস্টোরলের মাত্রা কমায়।

৫) দৃষ্টিশক্তির সমস্যা দূর করে:
তুলসির বেটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ চোখের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। এটি রাতকানা রোগ সহ নানা চোখের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।

৬) দাঁত ও মুখের সমস্যা দূর করে:
তুলসি পাতার ভিটামিন সি দাঁত ও মাড়ির নান সমস্যা সমাধানে বিশেষভাবে কার্যকরী। এছাড়াও তুলসি পাতার গুঁড়ো পানি দিয়ে মিশিয়ে পেস্টের মতো দাঁত ব্রাশের কাজে ব্যবহার করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।

৭) মানসিক চাপ দূর করে:
খুব বেশি মানসিক চাপের মধ্যে সময় কাটালে প্রতিদিন তুলসি চা খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত। কারণ তুলসি চায়ের মতো অ্যারোমেটিক বেভারেজ মানসিক চাপ দূর করতে বিশেষভাবে সহায়ক।

৮) অল্প বয়সে বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে:
তুলসি পাতার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইটোকেমিক্যালস ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে বাঁধা প্রদান করে। এছাড়াও এর ভিটামিন এবং মিনারেলস দেহের ইমিউন সিস্টেম উন্নত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ফলে অল্প বয়সে বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে।

* যেভাবে তৈরি করবেন তুলসি চা:
    - ২ কাপ পানিতে ১ মুঠো তুলসি পাতা ভালো করে ধুয়ে ছেঁচে দিয়ে জ্বাল দিন চুলায়।
    - পানি শুকিয়ে ১ কাপ হয়ে এলে কাপে ঢেলে নিন। চাইলে ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন।
* এছাড়াও তুলসি পাতা রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিয়ে চা পাতার মতো ব্যবহার করতে পারেন।




সূত্রঃ ইন্টারনেট



*চা* *হেলথটিপস* *তুলসীচা* *গরমপানীয়*

জাহিদ অভাজন বেশব্লগটি শেয়ার করেছে

চা (ইংরেজি: Tea) বলতে সচরাচর সুগন্ধযুক্ত ও স্বাদবিশিষ্ট এক ধরণের ঊষ্ণ পানীয়কে বোঝায় যা চা পাতা পানিতে ফুটিয়ে বা গরম পানিতে ভিজিয়ে তৈরী করা হয়। চা গাছ থেকে চা পাতা পাওয়া যায়। চা গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ক্যামেলিয়া সিনেনসিস। 'চা পাতা' কার্যত চা গাছের পাতা, পর্ব ও মুকুলের একটি কৃষিজাত পণ্য যা বিভিন্ন উপায়ে প্রস্তুত করা হয়।

ইংরজিতে চা-এর প্রতিশব্দ হলো টি। গ্রীকদেবী থিয়ার নামানুসারে এর নাম হয় টি। চীনে ‘টি’-এর উচ্চারণ ছিল ‘চি’। পরে হয়ে যায় ‘চা’।

পানির পরেই চা বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত পানীয়। এর একধরণের স্নিগ্ধ, প্রশান্তিদায়ক স্বাদ রয়েছে এবং অনেকেই এটি উপভোগ করে। প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া অনুসারে চা-কে পাঁচটি প্রধান শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। যেমন - কালো চা, সবুজ চা, ইষ্টক চা, উলং বা ওলোং চা এবং প্যারাগুয়ে চা। এছাড়াও, সাদা চা, হলুদ চা, পুয়ের চা-সহ আরো বিভিন্ন ধরণের চা রয়েছে। তবে সর্বাধিক পরিচিত ও ব্যবহৃত চা হল সাদা, সবুজ, উলং এবং কাল চা। প্রায় সবরকম চা-ই ক্যামেলিয়া সিনেনসিস থেকে তৈরি হলেও বিভিন্ন উপায়ে প্রস্তুতের কারণে এক এক ধরণের চা এক এক রকম স্বাদযুক্ত। কিছু কিছু চায়ে ক্যামেলিয়া সিনেনসিস থাকে না। ভেষজ চা হল একধরণের নিষিক্ত পাতা, ফুল, লতাউদ্ভিদের অন্যান্য অংশ যাতে কোন ক্যামেলিয়া সিনেনসিস নেই। লাল চা সাধারণত কাল চা (কোরিয়া, চীন ও জাপানে ব্যবহৃত হয়) অথবা দক্ষিণ আফ্রিকার রুইবস গাছ থেকে তৈরি হয় এবং এতেও কোন ক্যামেলিয়া সিনেনসিস নেই।

চা মৌসুমী অঞ্চলের পার্বত্য ও উচ্চভূমির ফসল। একপ্রকার চিরহরিৎ বৃক্ষের পাতা শুকিয়ে চা প্রস্তুত করা হয়। চীন দেশই চায়ের আদি জন্মভূমি। বর্তমানে এটি বিশ্বের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য পানীয়রূপে গণ্য করা হয়।



আবিস্কার


সৌভাগ্যবান এই পানীয় আবিষ্কার করেন ২৭৩৭ খ্রিষ্টপুর্বাব্দে মহান চৈনিক শাসক শেন নাং( উচ্চারণটা শেনাং হতে পারেশেন  তার সাম্রাজ্যে এই বলে ডিক্রি করেন যে তার প্রজাদের সবাইকে জলপানের পূর্বে অবশ্যই সেটা ফুটিয়ে নিতে হবে। তিনি নিজেই সবসময় ফোঁটানো পানি পান করতেন। একদিনের কথা, শেন তখন চীনের জুন্নান প্রদেশে অবস্থান  করছেন। যাত্রাপথে এক বনানীর নিচে যাত্রা বিরতি করা হলো। খোলা প্রান্তরে গাছের ছায়ায় বসে আছে সবাই। কেউ বিশ্রাম করছে, কেউ খাবারের ব্যবস্থা করছে। জলপাত্রে পানি ফুটানো হচ্ছে। রাজকীয় ফরমান সে তো আর বৃথা যেতে পারেনা। বাংলাদেশে সংসদে যারা আইন পাশ করেন তারাই কিন্তু আবার সেই আইনকে অশ্রদ্ধা করেন। শেনের রাজ্যে তা হবার জো নেই। তাই পানিকে ফুটতেই হবে। পানির স্ফূটনাংক ১০০ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড। মৃদুমন্দ বাতাস বইছে। মনটাও ফুরফুরে হয়ে গেলো। গলা ছেড়ে গান গাওয়ার জন্য পারফেক্ট সময়।
হঠাৎ বাতাস পাশের ঝোপ থেকে কিছু পাতা উড়িয়ে এনে ফুটন্ত পানির ভিতর ফেলল।  পাতাটাকে তুলে ফেলার চেষ্টা করার আগেই সেটা জলে দ্রবীভূত হয়ে গেছে। জলের রং বদলে গেলো। কৃষি এবং ভেষজ চিকিৎসায় শেনের ব্যাপক আগ্রহ ছিলো।

শেন কৌতূহলী হয়ে জলের ঘ্রাণ শুঁকে দেখেন অন্যরকম এক মাদকতা ছড়ানো গন্ধ। তিনি এটার স্বাদ নিলেন। প্রথম মানুষ চায়ের স্বাদ নিলো। তারপর তো রীতিমত চায়ের প্রেমে পড়ে গেলো। টি এর বাংলা হিসেবে আমরা চা ব্যবহার করি। চা কিন্তু বাংলা শব্দ না। চা চীনা শব্দ।
শাং শাসনামলে (১৫০০-১০৪৬ খ্রিষ্টপুর্বাব্দ) চা পাতার রস ঔষধি পানীয় হিসেবে সেবন করা হত। সিচুয়ান প্রদেশের লোকেরা প্রথম চা পাতা সিদ্ধ করে ঘন লিকার তৈরী করা শেখে।

১৬১০ সালের দিকে ইউরোপে চায়ের প্রবেশ ঘটে পর্তুগীজদের হাত ধরে । শীতের দেশে উষ্ণ চায়ের কাপ প্রাণে স্ফুর্তির জোয়ার নিয়ে এলো। আজ থেকে আনুমানিক আড়াইশো বছর পুর্বে এশিয়ার অনেক দেশে চা পাতার তৈরী ইট মুদ্রার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হত। এ থেকে সহজেই বোঝা যায় তৎকালীন সময়ে চায়ের কদর বোঝা যায়। ১৭০০ সালের দিকে ব্রিটেনে চা জনপ্রিয় হয়। ইংরেজদের হাত ধরে চা ভারতীয় উপমহাদেশে প্রবেশ করে। তারা ভারতের আসাম রাজ্যে চায়ের চাষ শুরু করে। চা উৎপাদনে চীনের একক আধিপত্যকে খর্ব করতে বিলাতিরা ভারতে চা চাষ শুরু করে। প্রথম দিকে এংলো ইন্ডিয়ানরাই চা ব্যবসা শুরু করে পরে ভারত স্বাধীনতা লাভ করার পর চা শিল্প দেশীয়দের হাতে বিকশিত হয়। আসাম থেকে ছড়িয়ে পড়ে দার্জিলিং, কেরালা, বাংলায়। ভারত পৃথিবীর এখন প্রধান চা উৎপাদনকারী দেশ। বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে আছে নয়নাভিরাম চা বাগান। পৃথিবীর অধিকাংশ বৃষ্টিবহুল দেশে এখন চা উৎপন্ন হয়। ইরানের নাম মনে আসলে আমাদের অবশ্যই চোখের সামনে মরু উদ্যানের কথা ভেসে উঠবে। সেই ইরানের গিলান প্রদেশে আছে শ্যামল চায়ের বাগান।

১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে চীনে বাণিজ্যিকভাবে চায়ের উৎপাদন শুরু হয়। আর ভারতবর্ষে এর চাষ শুরু হয় ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দে। ১৮৫৫ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশরা সিলেটে সর্বপ্রথম চায়ের গাছ খুঁজে পায়। এরপর ১৮৫৭ সালে সিলেটের মালনীছড়ায় শুরু হয় বাণিজ্যিক চা-চাষ।

চাষ পদ্ধতি

চা প্রধান কান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলের ফসল হলেও উপ-ক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চলেও এটি কিছু কিছু চাষ করা যায়। প্রথম অবস্থায় পাহাড়ের ঢালু জমি পরিষ্কার করা হয়। এর চারা আলাদা বীজতলায় তৈরী করা হয়।

চারাগুলো যখন ২০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ হয়, তখন সেগুলোকে চা-বাগানে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা হয়। সাধারণতঃ দেড় মিটার পরপর চারাগুলোকে রোপণ করা হয়ে থাকে। এরপর গাছগুলোকে বৃদ্ধির জন্য যথামাত্রায় সার প্রয়োগ ও পানি সেচের ব্যবস্থা করতে হয়। এভাবে দুই থেকে তিন বছর পরিচর্যার পর পাতা সংগ্রহের উপযোগী করে তোলা হয়। কিন্তু গাছগুলো পাঁচ বছর না হওয়া পর্যন্ত যথাযথভাবে পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারে না। একটি চা গাছ গড়পড়তা ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত উৎপাদনের উপযোগী থাকে। তারপর পুণরায় নতুন গাছ রোপণ করতে হয়।

প্রাকৃতিক উপাদান

প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এমন পাহাড়িয়া বা উচ্চ ঢালু জমি চা চাষের জন্য সবিশেষ উপযোগী। পানি নিষ্কাশনের বন্দোবস্ত থাকলে উচ্চ সমতল ভূমিতেও চা চাষ করা সম্ভবপর। হিউমাস সারযুক্ত এবং লৌহমিশ্রিত দো-আঁশ মাটি চা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু চা উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন। চা চাষের জন্য ১৭৫ - ২৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত আবশ্যক। এজন্য মৌসুমী ও নিরক্ষীয় অঞ্চলের দেশগুলোয় চা চাষের উৎপাদন বেশী হয়ে থাকে।

প্রকারভেদ

পৃথিবীতে আসাম এবং চীনজাতীয় - এ দুই প্রকারের চা গাছ দেখতে পাওয়া যায়। তন্মধ্যে -

আসামজাতীয় চা গাছ ভারতশ্রীলঙ্কায় অধিক চাষ করা হয়। এ ধরণের গাছ বেশ বড় এবং বহু পাতাযুক্ত হয়। বিধায়, এটি বাণিজ্যিকভিত্তিতে চাষ করার জন্যে বিশেষ উপযোগী। এ গাছ প্রায় ৬ মিটার বা ২০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। পাতার নাগাল পাওয়া এবং পাতা সংগ্রহের জন্য গাছগুলোকে ১.২ মিটার বা ৪ ফুটের অধিক বড় হতে দেয়া হয় না। ছেঁটে দেয়ার ফলে চা গাছগুলো ঘণঝোঁপে পরিণত হয়।

অন্যদিকে চীনজাতীয় গাছ আকারে বেশ ছোট হয়। এতে পাতার সংখ্যাও অনেক কম থাকে। এ গাছ না ছাঁটলেও পাতা তোলার মতো উচ্চতাসম্পন্ন হয়ে থাকে।

ব্যবস্থাপনা

চা গাছ রোপণ, আগাছা পরিস্কারকরণ, সার প্রয়োগ করা, গাছ ছাঁটা, কচি পাতা চয়ন করা, চা-পাতা শুকানো, সেঁকা, চা-প্যাকিং ইত্যাদি বহুবিধ ধরণের কর্মকাণ্ডে দক্ষ-অদক্ষ প্রচুর শ্রমিকের প্রয়োজন পড়ে। পাতা চয়নের কাজে দক্ষ মহিলা শ্রমিক নিয়োজিত থাকে।[৪] বিষয়টি বেশ ধৈর্য্যের বিধায়, বাগান কর্তৃপক্ষ মহিলা শ্রমিকদেরকেই পাতা চয়নের জন্য নিয়োগ দিয়ে থাকে। এছাড়াও, চা চাষাবাদের জন্য প্রচুর জৈব ও রাসায়নিক সারসহ প্রয়োজনীয় কীটনাশক সরবরাহ করা হয়।

গুণাগুন

চীনজাতীয় গাছের পাতা স্বাদগন্ধের জন্য সুখ্যাত। কিন্তু আসামজাতীয় গাছের পাতা রঙের জন্য বিখ্যাত। এই দুই ধরণের চা-পাতার উন্নত সংমিশ্রণের উপরই এর গুণাগুন নির্ভর করে। স্বভাবতঃই চা মিশ্রণ একটি নিপুণতা ও অত্যন্ত কঠিন কাজ। তাই এটি অভিজ্ঞ ব্যক্তির দ্বারা সম্পাদনা করতে হয়। এরূপভাবে চা মিশ্রণে নৈপুণ্যতা লাভের প্রেক্ষাপটে লিপটন, ব্রুকবণ্ড প্রভৃতি চা প্রস্তুতকারক কোম্পানীগুলো বিশ্ববাজার দখল ও খ্যাতি লাভ করেছে।

চা গাছ হতে পাতা সংগ্রহ করতে ব্যক্তিকে যথেষ্ট নৈপুণ্যতা ও দক্ষতা অর্জন করতে হয়। কারণ দু'টি পাতা ও একটি কুঁড়ি একসঙ্গে তুলতে না পারলে চায়ের উৎকর্ষতা ও আমেজ অনেকাংশেই নষ্ট হয়ে যায়। চীন ও জাপানে বছরে গড়পড়তা তিনবার চা-পাতা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় খুব ঘন ঘন পাতা সংগ্রহ করা যায়। এদেশগুলোতে বছরে গড়ে ষোল থেকে বিশ বার পর্যন্ত চা পাতা সংগ্রহ করতে দেখা যায়।

বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট

চা গাছের জন্য অধিক পরিমাণে বৃষ্টিপাত ও তাপের প্রয়োজন হয় বলে বাংলাদেশের বৃষ্টিবহুল পাহাড়িয়া অঞ্চলে ব্যাপকভাবে চায়ের চাষ করা হয়। চা শিল্প বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প। জাতীয় অর্থনীতিতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।


আজ থেকে ১৭৪ বছর আগে বাংলাদেশে প্রথম ১৮৪০ সালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ব্যক্তি উদ্যোগে চা চাষ শুরু হয়। কাস্টম কালেক্টর মি. স্কোনসের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে পাইনিয়র টি গার্ডেন নামে চা উৎপাদক প্রতিষ্ঠান। চীন ও আসাম বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে চা গাছের চারা সংগ্রহ করে এনেছিলেন। কিন্তু তার সে প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। এরপর খ্যাতনামা ব্রিটিশ চা শিল্প উদ্যোক্তা মি. জে হেগ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার কোদালিয়ায় চা উৎপাদন শুরু করেন। ১৯৪৩ সালে সেখান থেকে বাণিজ্যিকভাবে চা বাজারজাত করা হয়। এরপর সিলেটের অদূরে মালিনীছড়ায় ১৮৫৭ সালে বাণিজ্যিকভাবে চা উৎপাদন শুরু হয়।
সিলেট অঞ্চলে পাহাড়ি জমিতে চা আবাদের পর ক্রমেই চা বাগানের বিস্তার লাভ করে এবং ধীরে ধীরে দেশের মানুষ চা পানে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। বর্তমানে বাংলাদেশের ৭টি জেলায় মোট ১৬৪টি চা বাগান রয়েছে। মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৫৭ হেক্টর জমিতে এ বাগানগুলো চা উৎপাদন করছে। যেসব জেলায় চা বাগান রয়েছে সে জেলাগুলো হচ্ছে : মৌলভীবাজারে ৯৩টি, সিলেটে ২০টি, হবিগঞ্জে ২৩টি, চট্টগ্রামে ২১টি, রাঙ্গামাটিতে ১টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১টি এবং পঞ্চগড়ে ৮টি। ইতোমধ্যে পার্বত্য ৩ জেলায় ক্ষুদ্র পরিসরে চা চাষের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
স্মল হোল্ডিং টি, কাল্টিভেশন অ্যান্ড চিটাগাং হিলট্রাক্ট নামে বাংলাদেশ চা বোর্ড একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ক্ষুদ্র চাষিদের চা গাছের চারাসহ অন্য আনুষঙ্গিক সুবিধা দিয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় এরই মধ্যে রাঙ্গামাটিতে ২০টি, বান্দরবনে ৮৮টি এবং খাগড়াছড়িতে ৪৬টি প্রকল্পের রেজিস্ট্রেশন দেয়া হয়েছে। আগামীতে এর সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া দেশের উত্তরের শেষ সীমানায় পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় প্রায় দেড় যুগ থেকে চা চাষ শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রমে এস্টেট, ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্রায়তন পদ্ধতিতে ১৩টি চা বাগান ১ হাজার ৩৮৭.৬৪ একরের ওপর প্রতিষ্ঠিত। চা বোর্ডের সমীক্ষা থেকে জানা যায়, পঞ্চগড় জেলায় চা চাষের উপযোগী অন্তত ৪০ হাজার একর জমি হয়েছে। পঞ্চগড়ের চা বিশ্বখ্যাত দার্জিলিং ভ্যারাইটি মানের। একুশ শতকে বাংলাদেশ অরগ্যানিক টী পঞ্চগড়ে চা উৎপাদন করা শুরু করেছে। এর উৎপাদক কাজী এন্ড কাজী। এছাড়াও, পঞ্চগড়েময়নাগুড়ি টি এস্টেট, কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট, টিটিসিএল চা বাগান রয়েছে। বোর্ডের সমীক্ষা থেকে আরো জানা যায়, বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার পাহাড়ি অঞ্চলে চা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ি, ঝিনাইগাতী, গজনি ও ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট এবং নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুরে চা চাষ করে প্রচুর উৎপাদন বাড়ানো ও বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।

বাংলাদেশ চা বোর্ড

বাংলাদেশ চা বোর্ড চা চাষ এবং বিক্রয় সংক্রান্ত আইন প্রনয়ণ, চাষ নিয়ন্ত্রণ এবং চা চাষ উৎসাহিত করার লক্ষ্যে গঠিত একটি সংস্থা। ১৯৭৭ সালে চা অধ্যাদেশ অনুযায়ী বোর্ডটি গঠিত হয়। শুধু চা উৎপাদন এবং বিক্রয়ই নয় নতুন চা বাগানসমূহের উন্নয়ন, চা চাষীদের এবং চা বাগানের শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রভৃতিক্ষেত্রেও সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে থাকে। ব্রিটিশ আমলে উপমহাদেশীয় অঞ্চলে চা চাষ নিয়ন্ত্রণ হতো ইন্ডিয়ান টি স্টেট অ্যাক্ট ১৯০৩ অনুযায়ী। পাকিস্থান আমলে ১৯৫০ সালের চা আইন অনুসারে ১৯৫১ সালে ১১ সদস্যবিশিস্ট পাকিস্থান চা বোর্ড গঠিত হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৭ সালে চা অধ্যাদেশ জারির পরই গঠিত হয় বাংলাদেশ চা বোর্ড। শুরুতে বোর্ডটির তিনজন পূর্ণকালীন  সদস্য ও একটি উপদেষ্টা কমিটি ছিল। ১৯৮৬ সালে অধ্যাদেশ সংশোধনের মাধ্যমে চা বোর্ডের সদস্য সংখ্যা ১১ তে উন্নীত করা হয়। বোর্ডের চেয়ারম্যান, ২ জন পূর্ণকালীন সদস্য এবং একজন সচিব ও উপসচিবকে সরকারের পক্ষ থেকে  নিয়োগ দেয়া হয় এবং অন্যান্য সদস্য ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়োগ দেয় বোর্ড। ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত বোর্ডের সদরদপ্তর ছিল ঢাকায়। বর্তমানে কার্যালয়টি চট্টগ্রাম জেলার নাসিরাবাদ উপজেলায় অবস্থিত। বাংলাদেশ চা বোর্ডের অধীনস্থ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটটি চা শিল্পের সাথে সম্পর্কিত প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক গবেষণা প্রকল্পসমূহ পরিচালনা করে থাকে। এছাড়া PDU (Project Development Unit) নামে আরেকটি সংস্থা চা শিল্পের উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করছে।

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ চা বোর্ডের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর চা শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির প্রাপ্যতা ছিল অত্যন্ত সীমিত। চায়ের আবাদ ও উৎপাদনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এবং উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত এই শিল্পকে সঠিক বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে পরিচালনার জন্য তৎকালীন পাকিস্তান চা বোর্ড ১৯৫২ সালে সম্পূর্ণ নিজস্ব একটি চা গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে শ্রীমঙ্গলের বর্তমান অবস্থানে ১৯৫৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান চা গবেষণা স্টেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার পর গবেষণা স্টেশনটি ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট পর্যায়ে উন্নীত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশের ১০টি জাতীয় কৃষি গবেষণা ব্যবস্থা-র অন্যতম প্রতিষ্ঠান। এটি শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ৩.২ কিমি দূরে অবস্থিত এবং প্রতিষ্ঠানটির তিনটি সাবস্টেশনের একটি মৌলভীবাজারের কালিতিতে, একটি সিলেট শহরে এবং অন্যটি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অবস্থিত।

এই ইসস্টিটিউটের টেকনিক্যাল ও প্রশাসনিক প্রধান হলেন পরিচালক। প্রধান বা মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাগণ গবেষণা বিভাগগুলির প্রধান হিসেবে পরিচালককে গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নে এবং চা বাগানগুলি পরিচালনায় প্রয়োজনীয় পরামর্শসেবা প্রদান করেন।

প্রতিষ্ঠানের তিনটি প্রধান গবেষণা অনুষদে রয়েছে ৬টি বিভাগ। রসায়ন অনুষদে আছে মৃত্তিকা রসায়ন ও প্রাণরসায়ন বিভাগ; শস্য উৎপাদন অনুষদে আছে উদ্ভিদবিদ্যা ও কৃষিতত্ত্ব এবং কীটতত্ত্ব ব্যবস্থাপনা অনুষদে আছে কীটতত্ত্ব ও উদ্ভিদরোগতত্ত্ব বিভাগ। প্রতিষ্ঠানের আরও দুটি গবেষণা বিভাগ হলো চা-প্রযুক্তি ও পরিসংখ্যান-অর্থনীতি। বিভিন্ন শাখায় বর্তমানে ২১ জন (৩৫টি অনুমোদিত পদের মধ্যে) বিজ্ঞানী গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অন্যান্য কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও এই ইনস্টিটিউটের সহযোগিতামূলক কার্যক্রম চালু রয়েছে।

ইনস্টিটিউট চা উৎপাদন-সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত তথ্য ও উদ্ভাবন নিয়মিতভাবে নিজস্ব প্রকাশনা Tea Journal of Bangladesh, বার্ষিক প্রতিবেদন, বিজ্ঞপ্তি ও পুস্তিকার মাধ্যমে প্রচার করে। ব্যবস্থাপকমন্ডলীর জন্য বার্ষিক শিক্ষা কার্যক্রম, কর্মশালা, সেমিনার ও দলগতভাবে চা-পরীক্ষণ কার্যক্রম বছরের বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। ইনস্টিটিউটের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো চায়ের উচ্চফলনশীল ও উন্নতমানের ক্লোন উৎপাদন, দুই ও বহু ক্লোনাল Seedbank (বীজ সংগ্রহের জন্য চা গাছের সংগ্রহ) প্রতিষ্ঠা; এবং চায়ের জার্মপ্লাজম (germplasm) সংরক্ষণ, এবং বাণিজ্যিকভাবে সস্তা ও সহজলভ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে নার্সারিতে চায়ের কলম উৎপাদন।

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের উল্লেখযোগ্য অবদানের মধ্যে রয়েছে চায়ের ১৩টি উচ্চফলনশীল ও মানসম্পন্ন ক্লোন BT1, BT2, BT3, BT4, BT5, BT6, BT7, BT8, BT9, BT10, BT11, BT12, BT13 উদ্ভাবন; ৩টি বাইক্লোনাল এবং একটি পোলিক্লোনাল বীজভান্ডার তৈরি; অধিক উৎপাদনের জন্য প্রতি ইউনিটে গাছসংখ্যা প্রমিতকরণ; উন্নতমানের চা প্রসেসিং কৃৎকৌশল; চায়ের গুণগতমান অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য চা পরীক্ষার পরিসর প্রমিতকরণ।

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিলাসছড়ার পরীক্ষামূলক খামার (BEF) একটি আদর্শ চা বাগান হিসেবে দেশে প্রতি হেক্টরে সর্বোচ্চ পরিমাণ চা উৎপাদন করে। ১৯৯৮ সালে এই বাগানে হেক্টর প্রতি ২,৬৪৮ কেজি চা উৎপন্ন হয়েছে, যখন বাংলাদেশের গড় জাতীয় উৎপাদন ছিল প্রতি হেক্টরে ১,১৪৯ কেজি।

চা-ফুল

গাঢ় সবুজ পাতার চায়ের সুগন্ধযুক্ত সাদা ফুলের মাঝখানে রয়েছে স্বর্ণাভ হলুদ রঙা পরাগকেশর, যা চা ফুলকে করে তুলেছে অতি আকর্ষণীয়। চা গাছ চিরসবুজ ঝোপাল গুল্ম কিংবা ছোট আকারের বৃক্ষজাতীয় উদ্ভিদ। সাধারণত একটি চা গাছ তিন থেকে চার মিটার লম্বা হয়। তবে চা বাগানের চা গাছগুলো দু’ফুটের বেশি লম্বা হয় না। এর মূল খুব শক্তিশালী। চা আর ক্যামেলিয়া একই প্রজাতির গাছ।

বিখ্যাত ক্যামিলিয়া ফুল চা গাছের সহ-প্রজাতি। চা গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Camellia sinensis বা ক্যামেলিয়া সিনেনসিস। আর ক্যামেলিয়া ফুলের নাম ক্যামেলিয়া জাগানিকা। চায়ের ফুল দেখতে অনেকটা ক্যামেলিয়া ফুলের মতো। তবে ক্যামেলিয়ার মতো বিচিত্র বর্ণের নয়। হালকা সাদা রঙের এবং আকারে কিছুটা ছোট। চায়ের কচি পাতা ক্যাফেইনসমৃদ্ধ। তাই সহজেই চাঙা হয়ে ওঠার কার্যকারিতা রয়েছে এতে।



জাতিসংঘের এক তথ্য থেকে জানা যায়, প্রায় এক বিলিয়ন বা একশো কোটি মানুষ বর্তমানে প্রতিদিন কমপক্ষে দু’কাপ করে চা পান করেন।

নীলকন্ঠ কেবিনের সাত রঙা চা

শৈল্পিক ও আকর্ষণীয় এ চায়ের নামডাক অনেক আগেই বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে গেছে। শ্রীমঙ্গলে যারা বেড়াতে আসেন তারা সাত রঙা চায়ের স্বাদ নিতে ভুলেন না।

রমেশ রাম গৌড় (৪২) প্রায় ১২ বছর ধরে সপ্তবর্ণের এ চা বানিয়ে যাচ্ছেন। তার দুইটি দোকান রয়েছে- শ্রীমঙ্গলের মণিপুরী অধ্যুষিত রামনগর ও কালিঘাট রোডের ১৪ রাইফেল ব্যাটালিয়নের ক্যান্টিনে। তার দোকান দুটির নাম নীলকন্ঠ কেবিন।

তিনি নিজে সাত স্তরবিশিষ্ট চায়ের আবিষ্কারক দাবি করে জানান, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার আটানিবাজারে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর অংশীদার ছিলেন। কিন্তু অংশীদার পুরো টাকা আত্মসাৎ করে দেয়। ফলে ভাগ্য বদলের উদ্দেশে ২০০০ সালের মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই মেয়েকে নিয়ে শ্রীমঙ্গলে চলে আসেন। সঙ্গে ছিল মাত্র দেড় হাজার টাকা। রামনগর মণিপুরী পাড়ায় বাসা ভাড়া নিয়ে শহরের নতুন বাজারে একটি দোকানে চাকরি নেন।

ওই বছরের আগস্ট মাসে চাকরি ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন কাকিয়াছড়া চা বাগানে একটি চায়ের দোকান দেন। এরপর নিবিড়ভাবে চিন্তা ও পরিশ্রম করে ২০০২ সালে একই গ্লাসে দুইরঙা চা আবিষ্কার করে শ্রীমঙ্গলে তোলপাড় সৃষ্টি করেন। ধীরে ধীরে চায়ের স্তর বাড়াতে শুরু করেন। বর্তমানে এটি সাত স্তরে সাত রঙে এসে দাড়িয়েছে। ক্লোন টি ও বিভিন্ন ধরনের মসলার সংমিশ্রণে এ চা তৈরি করেন। বর্তমানে সাত স্তরের চা ৭০ টাকা, ছয় স্তরের ৬০ টাকা, পাঁচ স্তরের ৫০ টাকা, চার স্তরের ৪০ টাকা, তিন স্তরের ৩০ টাকা, দুই স্তরের চা ২০ টাকা, হাই স্পেশাল চা ২০ টাকা, স্পেশাল দুধ চা ১০ টাকা, গ্রিন চা ৫ টাকা, আদা চা ৫ টাকা, লাল চা ৫ টাকা এবং লেবু চা ৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে শ্রীমঙ্গলের সাত রঙের চায়ের প্রস্তুত প্রণালী অজানা।

[ তথ্য ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত ]

*চা* *গরমপানীয়*
ছবি

জোবায়ের রহমান: ফটো পোস্ট করেছে

৪/৫

কফি ?

*কফি* *গরমপানীয়*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★