গল্প

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

কাকাকে একটু সাইড দিন

হ্যাঁ এরকম ভাবেই বলতো সুকুমার কাকা। মানে আমাদের খাঁচা গাড়ির চালক আর কি। খাঁচা গাড়ি শুনে ঘাবড়ে যাবেন না। মানে ইশকুল যাওয়া কচিকাঁচাগুলোকে যে টিনের গাড়ি করে আসা যাওয়া করানো হত, দুর থেকে দেখলে মনে হত এক বাক্স মুরগির ছানাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে খাঁচায় করে, এই সেই গাড়ি। খাঁচা গাড়ি। টিনের একটা গাড়ি, দুটো কাঠের তক্তা আড়াআড়ি। আর অনর্গল আমাদের দুষ্টুমি, চিৎকার, কাকার সাথে বিচিত্র বিষয়ে কথোপকথন এবং অতি অবশ্যই নানাপ্রকার খেলা। কাকা চালাত নিজের মেজাজে, আমাদের নানা গল্প শোনাত, এবং রাস্তায় ভিড় ভারের মধ্যে সেই হাঁক-‘ কাকাকে একটু সাইড দিন’। আমরা কখনো কুইজ খেলে, কখনো ট্র্যাম্প কার্ড খেলে ( আমাদের সময়ে এই খেলাটির সদ্য আগমন হয়েছে) সময়টা দিব্যি কাটিয়ে দিতাম। মাঝে মাঝে কাকাকে সাহায্য করতে পেছনের টিনের দরজা খুলে নেমে ঠেলতাম। কাকার কাছে আমরা সকলেই বুড়ো। মানে এই ছিল আমাদের ডাকনাম। একটু বেগ পেলেই গাড়ি কাকা বলতো বুড়ো এবার উঠে পড়ো। গাড়ির মধ্যে কাকাকে নকল করে আমরাও মাঝে মাঝে একসাথে বলে উঠতাম-‘কাকাকে একটু সাইড দিন’।

তখন আমার ছিল উদ্ভট মাথা। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমার বিচিত্র খেয়াল মাথায় চাপত। সবথেকে বেশি আগ্রহ ছিল রেল লাইনের পাথরের প্রতি। সেগুলোকে বাড়ি নিয়ে এসে এক প্লাস্টিকের ম্যাগ্নিফাইং গ্লাস দিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে কিসব পরীক্ষা করতাম ভগবান জানে। ছোট থেকেই আমার অলৌকিক সবকিছুর প্রতি এক অদ্ভুত বিশ্বাস ছিল, মনে হত কিছু একটা সবকিছুর আড়ালে হচ্ছে, সবাই ঠিক ধরতে পারছে না, আমি ঠিক আবিষ্কার করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেবো। বড় হয়েও সে অভ্যাস যে খুব বেশি গেছে এমনটা হলফ করে বলতে পারি না। যাক গে, যেটা বলছিলাম, একবার লাইন পার থেকে প্রচুর পাথর কুড়িয়ে কাকার গাড়িতে উঠেছি। কাকা ব্যাপারটা খেয়াল করেও একটা কথা আমাকে বলেনি, যদিও কাকা জানত আমি বাড়িতে কেবল একটাই পাথর নিয়ে যেতে পারবো, অতগুল নয়।সেগুলো গাড়ি থেকে কাকাকেই নামাতে হত। সেই প্রশ্রয়ে আমি কাকার ভেতরের পিতৃ সত্তাটাকে চিনে গিয়েছিলাম। এই সুকুমার কাকার বড় মনের পরিচয় আমি শুধু সেদিন পাইনি। একদিন বাড়ি ফেরার সময় বড় রাস্তার মোড়ে একটা দুর্ঘটনা ঘটে আমাদের খাঁচা গাড়ির ঠিক পাশেই। বাইক থেকে পড়ে গুরুতর চোট লাগে এক মহিলার। সবাই এগিয়ে এসে কি হয়েছে, কি হয়েছে বললেও কেউ কাজের কাজটা আর করে না। ‘কাকাকে একটু সাইড দিন’- ভিড়ের মধ্যে থেকে একটা মানুষ এসে বাইক সামলে, সেই মহিলাকে খাঁচা গাড়ি করেই নিয়ে যায় সামনের হাসপাতালে, সঙ্গে তার স্বামীও ছিল, আমরাও ছিলাম। সেইদিন রাস্তায় ‘কাকাকে একটু সাইড দিন’- যেন অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের মতো বাজছিল। ডাক্তার ডেকে পুরো ব্যবস্থা করে তারপর কাকা আমাদের সবাইকে দায়িত্ব নিয়ে নিজেদের বাড়ি পৌঁছে দিয়েছিল। কোনও কর্তব্যেই গাফিলতি করেনি।

সুকুমার কাকার সঙ্গে শেষ যে বার দেখা হল বুঝলাম সুকুমার কাকার খাঁচা গাড়ি একটাও আর নেই। খাঁচা গাড়ির চল উঠে গেছে আমাদের এখানে। সুকুমার কাকা এখন ভ্যান চালায়। ব্যাটারি ভ্যান। রোজ আমি যখন রাত করে বাড়ি ফিরি দেখি বড় রাস্তার মোড়ে সুকুমার কাকা ভ্যান নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একদিন উঠেছিলাম, তারপর থেকে মুখ লুকিয়ে কোনক্রমে অতিক্রম করে চলে আসি কারণ কাকা কিছুতেই পয়সা নেয় না। কিছুতেই না। প্রথম দিনই শুনেছিলাম কথাটা যে কাকার নাকি গভীর অসুখ। কোমরে কি একটা হয়েছে কাকা নাম বলতে পারলো না, গাড়ি চালানো বারণ। কিন্তু আমি বুঝলাম কাকার একটা গাড়িও আর নেই। মেয়ের বিয়ে অনেক আগে হয়ে গিয়েছিল, কথাবার্তায় বুঝলাম ছেলে নিতান্তই অমানুষ হয়েছে। যেটা বুঝলাম না যে কাকার সেই বিখ্যাত- ‘কাকাকে একটু সাইড দিন’ কথাটা বদলে ‘কাকাকে একটু জায়গা দিন’ কেন হয়ে গেছে? এই সংসারের কাছে সারাজীবন খেটে কাকা কি একটুখানি জায়গাই চেয়েছিল, পায়নি, তাই কাকার এই নিদারুণ আকুতি? সে আর সাইড চেয়ে অতিক্রম করতে চায় না, সে এবার বসতে চায়? জায়গা চায়? তাই এ বদল। কাকাকে দেখে ‘ভালো মানুষের সঙ্গে সবসময় ভালো হয়’ –এই উক্তিটাকে লাথি মারতে ইচ্ছে করে। এখনো বড় রাস্তার মোড়ে যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা কাকার চোখের দিকে তাকিয়ে মনে হয়- কাকা তোমার আর সাইড লাগবে না, সবাইকে ছাড়িয়ে তুমি সবার আগেই রয়ে গেলে, তোমার জায়গায়। আমরা পুঁথি-পত্র পড়ে, প্রতিদিন একে অপরকে লেঙ্গি মারার ছক কষে বরং এখন সাইড চেয়ে মরি।তারপর বাড়ি এসে অভ্যাস করি আয়নার সামনে রোজ এক বুলি…

‘আমাকে একটু সাইড দিন।’

কাকা আমাকে একটু তোমার বড় মনটা দেবে?

 

চুরি করা পোষ্টঃ https://bibornoaakash.blogspot.com/2018/06/blog-post_3.html

*কাকা* *আবেগ* *গল্প* *বাস্তবতা*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

অনেকদিন পর হঠাৎ করেই কি মনে করে ফেসবুকের ব্লক লিস্ট দেখলো নুপুর। বেশ কিছু বিরক্তিকর নাম আছে ব্লক লিস্টে যারা বিভিন্ন সময় তাকে নানাভাবে বিরক্ত করেছে। এমন মানুষের সংখ্যা ১০জন। অনেকের ছবি দেখে মনে মনে গালিও দিল। তবে এতসব খারাপ মানুষের ভিড়ে একটি প্রিয় নামও আছে এই লিস্টে। যার নাম সায়েম। সায়েম নুপুরের সাবেক সহকর্মী, খুবই ভাল ছেলে, যাকে নুপুর একসময় ভালবাসতো। নুপুরের মনে পড়ে যায় ৮ বছর আগেকার স্মৃতি।

নতুন অফিসে জয়েন করার পর আস্তে আস্তে সহকর্মীদের সাথে পরিচয় হয় নুপুরের। সায়েম নামের এক সহকর্মীর সাথেও তার পরিচয় হয়। সায়েম পরিচয় পর্ব শেষ হওয়ার পর তাকে বলে

- আপনার চাকরি পাওয়ার পিছনে আমারো কিছুটা অবদান আছে নুপুর ম্যাডাম।

-সেটা কিভাবে? জিজ্ঞাসা করলো নুপুর

-সায়েম বলে ৮০০সিভির মধ্যে শর্ট লিস্ট করার দায়িত্ব আমাকেই দেওয়া হয়েছিল। আমি লিস্টে ২০টি সিভি রেখেছিলাম, তারমধ্যে আপনার সিভিটিও ছিল।

-তাহলেতো আপনাকে ধন্যবাদ দিতেই হয়।

-শুধু ধন্যবাদ দিলেই হবে না একদিন কফিও খাওয়াতে হবে সায়েম বললো।

-অবশ্যয়ই কফিতো আপনার পাওনা হয়ে গেছে।

এভাবেই নতুন সহকর্মী সায়েমের সাথে নুপুরের বন্ধুত্ব বেশ ভালই জমে উঠলো। মাঝেমাঝেই কফি সপে যাওয়া হতো সায়েমের সাথে।

একদিন নুপুর অনুভব করে সে সায়েমকে ভালবেসে ফেলেছে। কিন্তু মেয়েরাতো কখনোই আগে ভালবাসার কথা বলে না। অবশ্য সায়েমের হাবভাব দেখেই নুপুর বুঝতে পারে সেও তাকে ভালবাসে।

একদিন স্বাভাবিকভাবে সায়েম ফোন দেয় নুপুরকে।

-হ্যালো ম্যাডাম আপনি ভাল আছেন বলে সায়েম।

-জি স্যার আমি ভাল ,আপনি? নুপুর বলে।

-আপনি আমাকে স্যার বলছেন কেন? বললো সায়েম।

-ঔই যে আপনি আমাকে ম্যাডাম বললেন তাই।

-তাহলে কি বলে ডাকবো আপনাকে?

-নাম ধরেই ডাকতে পারেন। নুপুর উওর করলো।

-ওকে মিস নুপুর আপনার বাসার সবাই কেমন আছে?

-জি ভাল, আপনার বাসার সবাই?

-জি, ভাল সায়েম বললো। এভাবে নানান কথা বলতে বলতে একসময় সায়েম জিজ্ঞাসা করলো

-আচ্ছা আপনার বয়ফ্রেন্ড কেমন আছে?

এইবার নুপুর কিছুক্ষণ চুপ করে রইল তারপর বললো,

-আচ্ছা আপনার উদ্দেশ্য কি মশাই? কায়দা করে জানতে চাচ্ছেন আমার বয়ফ্রেন্ড আছে কি না? আপনি কি কিছু বলতে চান?

এবার ইতস্তত করলো সায়েম, এমনটা আশা করেনি সে। সায়েম বললো

-বলতেতো চাই অনেক কিছুই সুযোগ দিলেন কই?

-বলে ফেলেন, নুপুর বললো।

-আজ নয়, কাল যদি অফিস শেষে কফি সপে আসেন তখন বলবো, সায়েম বললো।

পরদিন অফিসে শেষে কফি সপে যায় নুপুর। সায়েম আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল। ফোনে যতটা সহজ ছিল সায়েম বাস্তবে দেখা হওয়ার পর ইতস্তত করতে লাগলো।

-নুপুর বললো আপনি নাকি কি বলবেন? তাড়াতাড়ি বলে ফেলেন আমাকে বাসায় যেতে হবে।

-এরপর সায়েম ব্যাগ থেকে একগোছা ফুল, একবক্স চকলেট, একটি কার্ড বের করলো যাতে লেখা,' ভালবাসি, শুধু ভালবাসি নয়, বিয়েও করতে চাই '

এমন প্রস্তাবের কথা কোনদিন শোনেওনি নুপুর।

-ওরে বাবা প্রথম দিনই বিয়ের প্রস্তাব?নুপুর বললো।

-হুম জীবনে বহুত সময় পার করে ফেলেছি তাই ভনিতা করার সময় এখন আর নেই সায়েম বললো।

এরপর থেকেই নুপুর আর সায়েম দুজন দুজনার। তবে অফিসে সবসময় ফরমাল সম্পর্ক বজায় রাখতো। অফিস শেষ হলেই সায়েম নুপুরকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে তবেই নিজে বাসায় যেতো। এভাবেই বেশ ভালই সময় কেটে যাচ্ছিল তাদের।

একদিন নুপুর তার বাবাকে সায়েমের কথা জানালো। নুপুরের বাবা সায়েমের সিভি দেখে বললেন ছেলে পছন্দ হয়নি তার। ছেলের আর্থিক অবস্থা ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড কোনটাই আমাদের সাথে যায় না।নুপুর বার বার তার বাবাকে অনুরোধ করার পরও বাবা কিছুতেই রাজী হলনা। বাবাকে অগ্রাহ্য করে সায়েমের সাথে পালিয়ে যাওয়া নুপুরের পক্ষে সম্ভব ছিল না। একসময় বাবার সিদ্ধান্তের নুপুরের বিয়ে হয়ে যায়।

নুপুর আজ তিন সন্তানের মা, অনেকদিন পর ফেসবুকের ব্লক লিস্টে সায়েমকে দেখে নুপুর ভাবলো শুধু অপ্রিয় মানুষ নয়, সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিকেও অনেক সময় পরিস্থিতির কারণে ব্লক লিস্টে রাখতে হয়।

*ফেসবুক* *গল্প* *নুপুর* *ব্লক* *লিষ্ট*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

হঠাৎ একদিন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মেয়েটিকে দেখলাম। মেয়েটাকে দেখার পরই বুকের মধ্যে অন্যরকম একটা ঢেউ বয়ে গেল। প্রতিদিন কোচিং এ আসত। আর আমি ওর কোচিং এর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতাম ওকে দেখার জন্য। কিন্তু ওকে বলতে পারতাম না যে, ওকে ভালবাসি। এক বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারলাম, ওর নাম #নাফিসা। প্রায় ১ সপ্তাহ কেটে গেল। ধিরে ধিরে ও আমাকে লক্খ্য করল। তাই প্রতিদিন কোচিং এ ঢোকার আগে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি একটা হাসি দিয়ে যায়। এভাবেই কেটে গেল আরও তিনটি মাস। কিন্তু বলিনি আমার ভালবাসার কথা। একদিন আমার একটা বন্ধু আমার জন্য একটা চিঠি নিয়ে এল। চিঠিটা নাফিসার ছিল। অনেক আগ্রহের সাথে চিঠিটা নিলাম। কিন্তু চিঠিতে লেখা ছিল।- 'জানি তুমি আমাকে ভালবাস।আমিও বাসতাম। কিন্তু, তুমি আমাকে ভালবাসার কথা জানাতে পারনি। তাই আমি আর চাইনা যে, তুমি আমার কাছে আস। যে ছেলে মুখে কিছু বলতে পারেনা, সেই ছেলকে আমি চাইনা।'চিঠিটা পরে আমি কিছু করলামনা শুধু ওকে একটা চিঠি দিয়ে বল্লাম'হ্যা আমি বলতে পারিনি। কারন আমি নির্বাক। আমার কথা বলার ক্ষমতা নেই। সৃস্টিকর্তাই জন্মের সময় আমার মুখের ভাষা কেরে নিয়েছে। তাই এটাই মনে হয়, আমার ভালবাসার পরিনতী......

শুনেছিলাম পরে নাকি #নাফিসা খুব কঁদেছিল। কিন্তু আমি আর ওর দিকে ফিরে তাকাইনি। এভাবেই দিন যেতে লাগল। একদিন দেখি ও আমার বাসায় এসে হাজির। জানিনা কিভাবে আমার বাসা খুঁজে পেয়েছে। মা এসে বল্ল, ও নাকি আমার সাথে দেখা করতে চায়। কিন্তু আমি মাকে বল্লাম ওকে চলে যেতে বলতে। মা খুব অবাক হল। কিন্তু মা মানতে নারাজ। আম্মু আমাকে জোর করে নিয়ে গেল বসার ঘরে। দেখি ও বসে আছে। ও যখন আমার দিকে তাকাল, তখন আবারও আমার মনের মধ্যে একটা ঢেউ বয়ে গেল। অপলক ও আমার দিকে চেয়ে থাকল। ওর মায়াবি চোখ দুটি থেকে আমি আমার চোখ সরাতে পারছিলামনা। এক মুহূর্তের মধ্যে আমি এক অন্য জগৎ এ চলে গিয়েছিলাম। মা বল্ল তুমি বস, আমি আসছি। কিন্তু আমি আমার কল্পনা থেকে ফিরে আসলাম। আমার মধ্যে, আমার ক্খুব্ধতা আবার ফিরে এল। আমি আমার ছোট বোন ইলমিকে ডেকে আনলাম। ওকে বল্লাম নাফিসাকে চলে যেতে বলতে। ও প্রথমে রাজি হলনা কিন্তু পরে বলতে রাজি হল। ও যখন চলে যাচ্ছিল, তখন ওর দিকে একবার তাকিয়ে ছিলাম। ওর চোখ দিয়ে তখন পানি পরছিল। মেয়েটা একবার ও কথা বলতে পারেনি আমার সাথে। পরে মা এসে আমাকে অনেক বকা বকি করল কিন্তু আমি কথা কানে দেইনি। ওইদিন রাতে কিছুক্খন চুপ করে বসে ছিলাম। তারপর হঠাত্ নিজের উপরই রাগ হতে লাগল। কেন ওকে আজ এভাবে চলে যেতে বল্লাম? একটু কথা বল্লে কি হত? হ্যা ওর সাথে এরকম করাটা ঠিক হয়নি। তারপর নিজের অজান্তেই কাঁদতে শুরু করলাম।

সেদিন রাতে আমার এক ফোটাও ঘুম হল না,সারারাত ওর কথা চিন্তা করেই কেটে গেল।মন থেকে ওর কথা দূরে সরিয়ে রাখতে চাইলাম,কিন্তু পারলাম না।কোনোমতে শুধু রাত টা পার করে দিয়ে সকালে ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় গেলাম।রাস্তায় অনেক গোলাপ ফুল বিক্রি হচ্ছে।কিন্তু কেন? ও হ্যা।মনে পরেছে, আজকে তো ভ্যলেন্টাইন ডে।এটাকে হাস্যকর মনে করে উরিয়ে দিলাম।খেতে বসেছি,কেন যেন মনে হচ্ছিল আমি ওর জন্যেই জন্মেছি।কোনমতে খেয়ে বাইরে বের হলাম।রাস্তায় বের হয়ে দেখছি সব কাপলরা একজন আরেকজনের হাত ধরে হাটছে।ওইদিকে না তাকিয়ে,আমি আমার মত হাটতে লাগলাম।কিন্তু হঠাৎ আমার মন বদলে গেল।আমার মনে বারবার ওই সময় গুলোর কথা মনে পরতে লাগল। যখন আমি ওর কোচিং এর সামনে দাঁরিয়ে থাকতাম।আর ও যখন আমার দিকে মুচকি হেসে থাকত।যখন আমার বাসায় এসেছিল...আমি আর থাকতে পারলামনা।আমি খুঁছতে লাগলাম ওকে।কিন্তু ও নিজেই আমার কাছে এসে ধরা দিল।ওর এক বান্ধুবি আমাকে এসে বল্ল, ও আমার জন্যে***পার্কে অপেক্খা করছে।আমি প্রায় ছুটে গেলাম ওর কাছে।পাকর একটা বেঞ্চে বসে ছিল। আমি ওর সামনে দাড়াতেই, ও উঠে দাড়াল। আর আমি ওর মায়াবি চোখ দুটি আবার দেখতে পেলাম। আজকে ওকে আগের থেকেও সুন্দর লাগছে। ও ধিরে ধিরে আমার দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। আর আমি নির্বাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকলাম। "আমি তোমাকে চিনতাম না। তোমার নাম কি তাও জানতামনা। শুধু এতটুকু জানতাম তুমি আমাকে ভালবাস। বিশ্বাস কর আমিও তোমাকে এখন ভালবাসি। তুমি কথা বলতে পারনা কারন, কথা বলার ক্খমতা তোমার নেই। কথা দিয়ে ভালবাসা হয়না। ভালবাসা হয় মন দিয়ে। আমি আজকে তোমাকে আমার ভালবাসার কথা বলতে এসেছি। আর আমি শুধু তোমাকেই ভালবাসি" কারন, #তুমিই_আমার_ভ্যলেন্টাইন। আমি ওর চোখ দুটি আর সেই করুন মুখটার দিকে চেয়ে আমার হাত দুটো তুলো ধরলাম। আর ও এসে আমায় জরিয়ে ধরল। তারপর আমি নিজেকে বুঝতে পারলাম। হ্যা আমি আমার ভালবাসাকে খুজে পেয়েছি। ও আমার আর ওই আমার সব।

*গল্প* *আবেগ* *ভালোবাসা* *বোবা*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

প্রত্যেকটা মানুষের জীবনের গল্প তার আঙ্গুলের ছাপের মতই ভিন্ন। দূর থেকে এক মনে হলেও যতই তার গভীরে যাবে কেউ ততই বৈচিত্রময় বিভিন্নতা পাবে। নিজের জীবনের গল্পে চরে বেড়ানো মানুষগুলো সবাই’ই যার যার জগতে বন্ধী। সহস্র বছর বাঁচতে পারলে পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষের জীবনের গল্প আমি শুনতাম।নিজের দেখা জগৎ দেখা আদেখা মানুষদের জগতের সাথে গেঁথে নিতেই লিখি এবং আন্যের লিখা পড়ি। কেউ যদি মিথ্যুক বা ভন্ড না হয় তাহলে তার যে কোন ভিন্ন মতের কারন তার চার পাশের ভিন্ন জগৎ, ভিন্ন পরিবেশ, ভিন্ন শিক্ষা। তাই মানুষকে বুজতে হলে তার জগৎটাকে জানতে হবে, তার গল্পগুলো শুনতে হবে।

*গল্প* *মানুষ* *আবেগ* *জীবন*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ছেলেটি মস্ত এক ক্ষ্যাত ছিল। যেনতেন ক্ষ্যাত নয়, একেবারে জৈবসার সমৃদ্ধ উর্বর ক্ষ্যাত। কখন কোন পরিস্থিতিতে কি বলতে হবে, তা তার ক্ষ্যাত মস্তিষ্কে কস্মিনকালেও আসে না। ঠিকমতো গুঁছিয়ে কথা বলাটি সে তার জন্মেও শিখতে পারে নি। তবে কোন ঘটনা ঘটে যাবার পর, কিংব উল্টোপাল্টা কিছু বলে বা করে ফেলার পর হয়তো সে বুঝতে পারে যে কি বোকামীটাই না সে করে ফেলেছে। তখন রাগে-দুঃখে সে তার মাথার গুটিকয় চুল ছিড়তে থাকে। ভাবে- "ইশ, তখন কথাটি এভাবে না বলে ওভাবে বলতাম!" বা "কাজটি যদি ঠিকমতো করতে পারতাম!" এই বিবেচনায় তাকে একেবারে এঁদো ক্ষ্যাত হিসেবে আখ্যায়িত করা সুবিচারপ্রসূত হবে না। সে ক্ষ্যাত, তার মধ্যে রবি শস্যের আবাদ হয়তো করা যাবে না, কিন্তু উন্নত জাতের ফডার ঘাস দিয়ে এই ক্ষ্যাত নিশ্চিতভাবেই ভরিয়ে তোলা যাবে। ছেলেটিও দীর্ঘ ক্ষ্যাত জীবন যাপন করতে করতে একসময় উপলব্ধি করতে পারে যে, সে একটা বিশাল মাত্রায় ক্ষ্যাত। এই ক্ষ্যাত অবস্থা থেকে মুক্তি না পাওয়ায় ছেলেটি ভেতরে ভেতরে আরও গুঁটিয়ে যায়। আজকাল অনেক কথাই আর প্রকাশ করে না সে, পাছে আরো বড় কোন অঘটন ঘটিয়ে ফেলে!

যদিও ছেলেটি বিশাল মাত্রায় ক্ষ্যাত এবং কেউই এমন ক্ষ্যাত জীবন চালিয়ে নিতে চায় না, মাঝে মাঝে এই ক্ষ্যাত ছেলেটিরও স্মার্ট হয়ে তার ক্ষ্যাতাবস্থা থেকে পরিত্রাণ লাভ করতে চায়। সে-ও চায় একটু স্মার্ট হয়ে লোকজনের কাছে নিজেকে শো-অফ করবে। কিন্তু অতিমাত্রায় ক্ষ্যাত হলে যা হয় আরকি- সবকিছু ভজকট পাকিয়ে কিছু না কিছু গুবলেট করে ফেলে সে। সে তার আউটলুকের পরিবর্তন আনতে চায়, চায় স্মার্ট ছেলেদের মত করে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে। নতুন হেয়ার কাট, ট্রেন্ডি পোষাক-আশাক, ইত্যকার ফ্যাশন এক্সেসরিজ নাই যে ছেলেটি ট্রাই করে দেখে নি। কিন্তু ক্ষ্যাতের ভাগ্যের শিকে আর ছিঁড়ে না। দু'চারদিন পর সে তার পুরনো ক্ষ্যাত চেহারাতেই ফিরে যায়। হাল আমলের ক্রেজ আর তার বয়ে বেড়ানো হয় না। লোকজন তাকে আরও পচায়, সে-ও পচে। পচতে পচতে সে আরও উর্বর হয়। যে হারে সে পচতে থাকে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে তার মধ্যে ধানের বাম্পার ফলন সম্ভব বলে মোটামুটি নিশ্চিন্ত হওয়া যায়। এভাবে দিনকে দিন তার ক্ষ্যাত অবস্থার উন্নতি বৈ অবনতির কোন লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে সে-ও এই ক্ষ্যাত হওয়াটাকে নিয়তির অংশ হিসেবে মেনে নিত বাধ্য হয়।

ক্ষ্যাত হলেও মাঝে মাঝেই তার মানবজাতির সহজাত আকাঙ্খা-অনুকরণপ্রিয়তা জেগে ওঠে। আশেপাশের লোকজনের স্মার্ট লাইফস্টাইল দেখে সে-ও তাদের মত করে জীবন সাজাতে চায়। আজকাল সে স্মার্টনেসের নতুন একটা দিক খুঁজে পায়। অধিকাংশ স্মার্ট ছেলে এক বা একাধিক মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়ায়। নিজের লিমিট সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল না হলেও সে এটা বুঝতে পারে যে, কোন একটি মেয়েকে পটাতে পারলেই তার ক্ষ্যাত জীবন স্বার্থক হবে। তাকে আর সবাই ক্ষ্যাত বলে টিটকারী মারতে পারবে না। এমন আজাইরা ভাবনা থেকেই সে এর-ওর কাছে একটা মেয়ের সন্ধান চায়। তার সাথে কারো লাইন-ঘাট করে দেয়ার জন্য অনুনয় করে বেড়ায়। কিন্তু ক্ষ্যাত ছেলের ক্ষ্যাতমার্কা ভাগ্যে কিছু জোটে না।

তার এই ক্ষ্যাত জীবনে কয়েকজন দয়াশীল লোকজন তাকে বন্ধু হিসেবে স্বীকৃতি দেয়াটাও তার একটা বিশাল এক অর্জন বলে সে স্বীকার করে। এই বন্ধুমহলও অনেক চেষ্টা করে বেড়ায় যাতে তাদের এই ক্ষ্যাত বন্ধুটির কপালে কোন নারীর সংস্পর্শ এসে এর ক্ষ্যাতজীবনের খানিকটা উন্নতি ঘটুক। কিন্তু তাদের অনেক চেষ্টাগুলোও সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হতে থাকে। কোন সুস্থমস্তিষ্কের নারীই এমন ক্ষ্যাতের সাথে তাদের জীবন জড়াবে না। ফলে ক্ষ্যাত ছেলেটির সিঙ্গেল থেকে কাপল তকমা লাগিয়ে উদ্ভট উপায়ে স্মার্ট হওয়াও আর হয় না। বন্ধুদের পক্ষে আর অসাধ্য সাধন করা সম্ভব হয় না। ব্যর্থ হৃদয়ে ছেলেটি তার দীর্ঘ ক্লান্তিকর জীবন টানতে থাকে আর হা-হুতাশ করতে থাকে

ছেলেটিও অন্যদের দেখাদেখি ফেসবুক নামক উর্বর স্থানে তার ক্ষ্যাতমার্কা সময়গুলোর নিয়মিত সদ্ব্যবহার করে থাকে। তার ফেসবুকের বন্ধুলিস্টে সে নানা প্রকার বন্ধু খুঁজে পায়। এদের কেউ আল্ট্রা স্মার্ট, দু'-চারজন ওভার স্মার্ট, কয়েকজন শুধুই স্মার্ট। এইসব স্মার্ট বন্ধুরা তাদের পার্টনারদের নিয়ে কাপল সেল্ফি, চেক ইন, ডাইন ইন ফেসবুকে আপলোড দেয়। নিউজফিডে চোখ বুলায় আর এদের জীবন দেখে ছেলেটির হতাশা বারতে থাকে। তবে কয়েকজন ক্ষ্যাত বন্ধুও তার চোখে পড়ে। তাদেরকে সে কিছুটা স্বান্তনা খুঁজে পায়। প্রতিরাতে সে ফেসবুকে লগইন করে আর বন্ধুদের কার্যকলাপ দেখে। তবে ফেসবুকে তার সবচেয়ে ভালো সময় কাটে বিভিন্ন ফানপেইজের মজাদার ট্রল, মিম, ভিডিও দেখে। এসব দেখে সে প্রাণখুলে হাসে, কখনো কখনো হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খায়। কিছু সময়ের জন্য হলেও সে তার বিরক্তিকর জীবনের যন্ত্রণা ভুলে থাকে।

এমন করে হতাশা-ব্যর্থতার জীবনটাকে ছেলেটি প্রায় মেনে নিয়েছ। সে বুঝতে পারে যে তার আর এ জন্মে প্রেম করা হবে ন, আর স্মার্টনেসের ধারের কাছেও ঘেষা হবে না। নিত্যকার মতো সেরাতেও ক্ষ্যাত ছেলেটি ফেসবুক খুল বসে ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে ক্যাজুয়াল আলাপ চালিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ করে তার ফোনটি বেজে উঠল। ছেলেটি ঘড়ি দেখল, রাত প্রায় ১ টা। এত রাতে কে ফোন দিল ! সাধারণত ছেলেটির ফোনে খুব একটা কল আসে না। মাঝে মাঝে বাড়ির বাইরে আড্ডা দিতে দিতে দেরি করে ফেললে বাসা থেকে ফোন যায়। আর কিছু বন্ধু-বান্ধব অতি প্রয়োজনে কিছু কল দেয়। তাই বলে এত রাতে কেউ কল দেয় না। টেবিল থেকে মোবাইল ফোনটি হাতে নিয়ে স্ক্রিনে তাকালো সে, অচেনা নাম্বার! কে আবার এত রাতে কল দিল ! ছেলেটি কলটি রিসিভ করে বলল:

-হ্যালো।

-হ্যালো। আপনি ক্ষ্যাত ছেলেটি বলছেন?

-হ্যা, আমি ক্ষ্যাত ছেলেটি বলছি।

ছেলেটি অবাক হলো, অচেনা কণ্ঠস্বর-নারীর কণ্ঠ। চিনতে না পেরে সে তার পরিচয় জানতে চাইল। কিন্তু টেলিফোনের অপরপাশের মেয়েটি তার পরিচয় না দিয়ে উল্টো বলে:

-মাঝে মাঝে এই নাম্বারে কল দিবেন।

-দিলাম, কিন্তু কেন?

-দিতে বলেছি, দিবেন। না দিলে রিগ্রেট করবেন।

ছেলেটি তো আকাশ থেকে পড়লো! কি বলে এই মেয়ে ! এটা কি করে সম্ভব! ছেলেটি ভাবে। ক্ষ্যাত হলেও তার মাথায় এই বুদ্ধিটুকু আছে যে কোন মেয়ে তাকে অন্তত কল দিয়ে এভাবে বলবে না। ক্ষ্যাত ছেলেট পুরোপুরি বিস্ময়ে বিমূঢ়। কিছুটা ঘোর কাটিয়ে ছেলেটি জিজ্ঞেস করে:

-মানে!

-মানে কিচ্ছু না। মাঝে মাঝে কল দিবেন।

-আচ্ছা, তা না হয় দিলাম। কিন্তু আপনি কে বলছেন?

-আরে ধীরে ধীরে। যেদিন আমার মুড ভালো থাকবে, সেদিন বলব-আমি কে।

-এখন কি মুড ভালো নেই? এখন বলেন।

-না, এখন মুড ভালো নেই আমার। এখন তো বলতে ইচ্ছে করছে না।

-ওহ, তাই?

-হুম, তাই।

এ পর্যন্ত ছেলেটি মোটামুটি ঠিক ছিল। কিন্ত পরের কথা শুনে তার মাথা পুরো ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল। মেয়েটি হঠাৎ বলতে শুরু করলো:

-আচ্ছা, আপনি এত মুডি কেন?

-মুডি ! আমি মুডি ? মানে?

-হ্যা আপনার অনেক মুড।

মেয়েটি বলে চলে:

-আর হ্যা, আপনার গেটআপটায় একটু চেঞ্জ আনেন। বুঝছেন?

-মানে !

-মানে, নতুন হেয়ার কাট নেন। ট্রেন্ডি পোষাক-আশাক পরেন। ট্রাই সামথিং নিউ।

-ওকে।

ছেলেটি বুঝতে পারল না, আর কি বলবে। সে প্রশ্ন করে:

-আচ্ছা, আপনি কি আমাকে চেনেন?

-চিনতে পারি।

-আমি কি আপনাকে চিনি?

-চিনতে পারেন।

-তাহলে বলছেন না কেন, আপনি কে?

-ঐ যে বললাম আজকে মুড নাই।

-ওহ, তাই?

-হ্যা। আচ্ছা ভালো থাকবেন।

-হুম।

-আর হ্যা মাঝে মাঝে এই নাম্বারে কল দিবেন। শুভরাত্রি।

-শুভরাত্রি।

এরপর অপরপাশ থেকে লাইনটি কেটে গেল। ছেলেটি কিছু সময়ের জন্য অবাক হয়ে পুরোই তব্দা খেয়ে গেল। সে বুঝতে পারছে না, এইমাত্র তার সাথে কি ঘটে গেল। অবশেষে কি তার ক্ষ্যাত জীবনের মধুর পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে, নাকি সে কোন প্র্যাঙ্কের শিকার হলো! সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে সে মনে মনে ঠিক করলো- নাহ, স্মার্ট তাকে হতেই হবে। যদি সত্যিই কেউ এসে থাকে তবে তো আর ক্ষ্যাত থাকা সম্ভব না।

সেরাতে তার ক্ষ্যাত অবস্থার আশু উন্নতির স্বপ্ন দেখতে দেখতে ছেলেটি ঘুমাতে গেল। ছেলটির সেরাতের ঘুমটি অস্বস্তিকর সুন্দর হলো।

*ক্ষ্যাত* *ছেলে* *স্মার্ট* *মেয়ে* *ভালোবাসা* *আবেগ* *ফোন* *কল* *গল্প*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

"তুই কিন্তু আমাকে রোজ ফোন করবি ! রোজ । মনে থাকে যেন রোজ !"

"আচ্ছা মা ।"

"আচ্ছা না ! বল করবি ?"

"ঠিক আছে মা । রোজ ফোন করবো তোমাকে আমি ।"

"আর প্রতি শুক্রবার আসবি ঘরে । বিকেলে চলে এসে রাতে খেয়ে তারপর যাবি ।"

"ঠিক আছে মা ।"

"আর প্রতিদিন ফোন দিবি ঠিক সাড়ে দশটা-এগারোটার সময় ।"

"আচ্ছা ।"

"তোর বাবা দোকানে চলে যাবে । তারপর আমি রান্না করবো আর কথা বলবো তোর সাথে ।"

"ঠিক আছে ।"

"তখন কিন্তু ব্যস্ত বললে শুনবো না ।"

"বলবো না ব্যস্ত আছি ।"

''সত্যি তো ?"

"হ্যা সত্যি । এখন ওঠো তো ইনসুলিনটা পুশ করতে হবে এখন । তারপর আধ ঘন্টা পর রাতের খাবার খেতে হবে |"

"আজ কি রান্না করলি মা ?"

"নিরামিষ আর তোমার জন্য দুটো মোমো ।"

"বাহ্ ! তোর বাবা খেয়েছে ?"

"হ্যা ।"

আলিহা তার মাকে ইনসুলিন ইনজেকশন পুশ করে দিয়ে চলে গেল খাবার গরম করতে । রাহেলা চুপ করে বসে মেয়ের বিয়ের কথা ভাবতে লাগলেন । আচ্ছা হলুদের দিন কেমন শাড়ি কেনা উচিত ? সিল্ক না জামদানি ? জামদানি, টাঙ্গাইল খুব কমন হয়ে যায় ! কাতান একটা আর কতই নেবে ! বড়োজোর চার-পাঁচ হাজার । নাহঃ ! কাতানই কিনবেন । হলুদ কাতান লাল পাড় | আর হলুদ গাঁদার গহনা । কি সুন্দর হবে ! অপূর্ব লাগবে তার মেয়েকে !

আলিহা ট্রেতে করে তার মায়ের খাবার নিয়ে এলো । ল্যাপ টেবিলটা বিছানায় রেখে তাতে খাবার সাজালো । রাহেলা তাকিয়ে দেখলেন মেয়েকে । কি গোছানো স্বভাবের মেয়েটা । সব কাজ পরিপাটি । এই যে কি সুন্দর খাবার বাড়ছে । আসলেই তার মেয়েটা আলাদা ।

আলিহা তার মাকে ধরে বসাল । খাবার খাইয়ে দিতে দিতে বলল, "তুমি সারাদিন এতো কথা বলোনা মা বুয়ার সাথে ।"

"কেন গো মা ?"

"এমনি ।"

"ভালো লাগেনা মা এমনি এমনি ।"

"ডাক্তার তো মানা করেছে তোমাকে বেশি কথা বলতে । সেজন্য মা ।"

আলিহা সত্যি কথাটা বলতে পারলো না । তাদের বুয়া অভিযোগ করেছে, "খালাম্মা এত্ত কতা কয় মাতা ঘুরে আমার ! আমি যামুগা আফা । কাম না পাইলে নাই কিন্তু ইমুন করলে থাহা যায়না ।"

স্ট্রোক করার পর অতিরিক্তরকম কথা বলেন রাহেলা তা সত্যি । কিন্তু বুয়া এখন কাজ ছেড়ে চলে গেলে বড় বিপদ হবে আলিহার ।

"কি ভাবিস মা ?"

" কিছু না ।"

"তুই খেয়েছিস ?"

"খাবো মা । তোমার খাওয়া হলে ওষুধ খাইয়ে দিয়ে গিয়ে খাবো ।"

"তুই খাবি ঠিকমত মা ।"

"আচ্ছা ।"

রাহেলা স্ট্রোক করে তার শরীরের বামপাশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছে । তাকে খাওয়ানো, জামা পড়ানো, গোসল করানো সব তার মেয়ে করে । তিনি প্রায় অচল এখন শারীরিকভাবে ।

রাহেলা এক হাতে অনেক কসরত করে রুটি ছিঁড়ে নিয়ে সবজি দিয়ে আলিহাকে বললেন, "হা কর মা । খাইয়ে দেই তোকে ।"

"আমাকে খাওয়াতে হবে না । তুমি খাও ।"

"খা না মা । মার হাতে খেতে হয় ।"

আলিহা রুটির টুকরোটা গালে নিয়ে বলল, "তাড়াতাড়ি খাও মা |"

সব কাজ সেরে রাতে ঘুমাতে এলে রাহেলা বলল, "জানিস তোর বিয়েতে তোর জন্য একটা আলাদা দামি শাড়ি কিনবো ।"

"হুম ।"

এই গল্প প্রায় প্রতিদিন করেন রাহেলা । এইসব কথা আলিহার জন্য নতুন নয় ।

রাহেলা আবার বললেন, "খালি একটাই দুঃখ মা ।"

"কি ?"

"ছেলের বয়স বেশি অনেক ।"

"সব কি মেলে মা !"

"ঠিক গো মা । তবে দেখিস ছেলে ভালো ।"

"ভালো হলেই ভালো |"

"নাগো ভালো অনেক । আমি হাসপাতালে থাকতে কতবার এসেছে ।"

"হুম । এখন ঘুমাও মা ।"

"ঘুম আসবে একটু পর । লিহা ?"

"বলো মা । বাথরুম যাবে ?"

"না । একটা কথা শুনবি ?"

"কি ?"

"আমার বিয়ের বেনারসীটা পড়বি একবার এখন ? পড়না মা । দেখি কেমন লাগে তোকে ?"

"কি পাগলামো করছো মা ! ঘুমাও এখন ।"

"পড়না মা বেনারসীটা ।"

"এখন না মা ।"

"কেন গো ? পুরোনো তাই ? জানিস আমার বিয়ের সময় ঐটা ছিল বাজারের সবচেয়ে দামি শাড়ি । ওই যুগে দশ হাজার টাকা দাম ।

তখন অনেক টাকা ছিল তো তোর বাবার তাই এতো দামি শাড়ি কিনেছিল । সবাই বিয়ের দিন শাড়ি দেখে অবাক । এতো দামি শাড়ি !"

"ঘুমাও মা এখন । তোমার শাড়ির গল্প কাল শুনবো ।"

"পড় না শাড়িটা !"

"পড়বো মা । প্রমিজ আমার বিয়ের দিন পড়বো ।"

"এখন ?"

"এখন না ।"

"মাগো তুই প্রতিদিন ফোন দিস ।"

"দেব মা ।"

রাহেলা তার পুরোনো ছোট নকিয়ার ফোনটা হাতড়ে হাতড়ে বালিশের তোলা থেকে বের করে বললেন, "আমি ফোনটা সবসময় কাছে রেখে দেব । যাতে তুই ফোন দিলেই ধরতে পারি ।"

"আচ্ছা মা ।"

"আমি খাবার রান্না করে তোকে পাঠাবো রোজ । খাবি তো মা ? নাকি বড়োলোক শাশুড়ি পেয়ে মাকে ভুলে যাবি ?"

"কি যে বলো না মা ! মা ঘুমাও তো এখন ।"

সারাদিনের খাটুনির পর আলিহার চোখে ঘুম জড়িয়ে এসেছে । সে ঘুমিয়ে গেল । রাহেলা বকে যেতে লাগলেন তার মতো ।

আলিহার বিয়েটা হল না । বিয়ের নির্ধারিত তারিখের সতের দিন আগে আলিহার মা মারা যান ।

শাহেদ বেশ রাগ হয়ে বলল, "তোমাকে অনেকবার ফোন দিয়েছি আমি ।"

"আমার ফোনে চার্জ ছিল না ।"

"চার্জ ছিল না ? নতুন ফোনে চার্জ ছিল না ? তুমি চার্জ দাওনি ফোনে ?"

"ওটাতে ছিল । তুমি যেটাতে দিয়েছিলে সেটায় ছিল না ।"

"মানে ? আমি তোমার জিপি নম্বরে ফোন দিয়েছি । সেটা অফ ছিল ।''

আলিহা অপরাধ স্বীকার করে বলল, "হ্যা ওটার চার্জ ছিলোনা ।"

শাহেদ দেখলো ডেস্কের উপর পুরোনো জীর্ন একটা ছোট নকিয়ার ফোন চার্জে দেয়া । সে এগিয়ে এসে বলল, " এটা কার ?"

"আমার ।"

"এতেই কি ফোন দিয়েছিলাম ?"

"হ্যা ।"

"আর যেটা নতুন কিনে দিয়েছি সেই ফোনটা কই ?"

"ঐযে পাশে । ওটায় অন্য অপারেটরের সিম কার্ড । ওটায় ফোন দিলে পেতে ।"

শাহেদ বহু কষ্টে রাগ সামলে বলল, "আমি তোমাকে ব্র্যান্ড নিউ আইফোন সেভেন কিনে দিয়েছি এতগুলো টাকা খরচ করে আর তুমি এই মান্ধাতার আমলের নষ্ট ফোন নিয়ে পরে আছো । ফ্যালো এটা !"

আলিহা চমকে উঠে বলল, "না । ওটা চার্জ দিলেই ঠিক হয়ে যাবে ।''

"এটা দেখতে কেমন ! ছিঃ আলিহা !"

"থাক । যেমনি হোক । আমি ওটাই রাখবো ।"

শাহেদ রেগে গিয়ে ফোনটা টেনে চার্জার থেকে খুলে ফেলে বলল, "ফোন রাখা হয় যোগাযোগের জন্য ! আর এটা যদি সারাদিন এমন চার্জে সেঁক দিয়ে রাখতে হয় তো এর জায়গা ডাস্টবিন ।"

শাহেদ ফোনটা খুলে নিতেই দৌড়ে এগিয়ে এলো আলিহা । তার সাথে জোরাজুরি করতে লাগলো ফোনটা ফিরিয়ে নিতে । বারবার অনুনয় করে বলতে লাগলো, "শাহেদ প্লিজ দাও, ফিরিয়ে দাও ফোনটা । তুমি ওই নম্বরে ফোন করো । ওটা আমি সবসময় খোলা রাখবো । প্লিজ দাও ।"

কিছুক্ষন ধস্তাধস্তির পর এই মামুলি অকেজো একটা ফোন নিয়ে আলিহার এতো আগ্রহ দেখে শাহেদ ফোনটা ছুড়ে ফেলে দিল বারান্দায় ।

একটা চিৎকার করে আলিহা দৌড়ে গেল সেদিকে । এতো পুরোনো বহুব্যবহারে জীর্ন ফোন এতো চাপ নিতে পারেনি । ভেঙে খুলে ছড়িয়ে গেলো ।

আলিহা হতবাক চোখে ভেঙে ছড়ানো ফোনটার দিকে কিছুক্ষন চেয়ে থেকে মাটিতে বসে একটা একটা টুকরো টুকিয়ে জড়ো করলো ।

শাহেদ একটু সামনে এগিয়ে এসে বলল, "যাহ । এতো ভেঙে গুঁড়ো হয়ে গেল !"

আলিহা একবার মাথা তুলে চাইলো শুধু । শাহেদ দেখলো তার চোখে পানি টলটল করছে ।

নাহঃ ঠিক হয়নি কাজটা ! রাগের মাথায় একটু বেশিই হয়ে গিয়েছে ।

শাহেদ পাশে হাটুগেড়ে বসে বলল, "দেখি কি হল ?"

আলিহা তাকে দেখালো না । টুকরোগুলো সব শাড়ির আঁচলে বেঁধে নিয়ে চলে গেল ।

তাদের বিয়ে হয়েছে চার মাস । এখনো আনুষ্ঠানিকতা হয়নি । সেসবের প্রস্তুতি চলছে । তাই এখনো আলিহা এবাড়িতে নববধূ ।

আলিহার শাশুড়ি ছেলের ঘরে এসে বললেন, "কি বলেছিস তুই বৌমা কে ?"

"তেমন কিছুনা মা ।"

"যাক তুই অন্তত স্বীকার গেলি ! ওতো যতই জিজ্ঞাসা করি বলে তুই কিছুই বলিসনি এমনি ওর মন খারাপ ।"

"ইয়ে মা । মানে আমি একটু খারাপ ব্যবহার করে ফেলেছি ওর সাথে ।"

"সেতো বুঝতেই পারছি ! নতুন বৌ, মা মরা মেয়ে কাঁদাও তাকে !"

রাতে ঘুম ভেঙে শাহেদ দেখলো আলিহা বিছানায় বসে কাঁদছে । তার হাতে ফোনটা ।

শাহেদ উঠে বসে তার স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে বলল, "আই এম স্যরি আলিহা ! প্লিজ কেঁদোনা ।"

আলিহা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো । শাহেদ তার হাত থেকে ফোনটা নিল । দেখলো আলিহা জোড়া লাগিয়েছে ঠিক কিন্তু ফোনটা চালু হচ্ছে না । শাহেদ বলল, "আমি এটা কাল ঠিক করে এনে দেব । প্লিজ তুমি মন খারাপ করো না ।"

পরদিন সন্ধ্যায় শাহেদ ঘরে ফিরে আলিহার খোঁজে রান্নাঘরে গিয়ে দেখলো সেখানে সে আর তার মা কি যেন একটা রান্নার যোগাড় করছে ।

শাহেদ এগিয়ে গিয়ে বলল, "আলিহা এই দ্যাখো ঠিক হয়ে গেছে ।" বলে সে ফোনটা এগিয়ে দিল ।

আলিহা খুব খুশি হয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে বলল, "হ্যা তাইতো ! ওমা চার্জ প্রায় শেষ । যাই চার্জে দেই ।"

আলিহা চলে যেতে শাহেদের বোন বলল, "পাগল কেমন দেখলে ভাইয়া ! ঐরকম একটা ট্র্যাশ নিয়ে কি এক্সসাইমেন্ট ! ঘরে আইফোন পরে রয়েছে আর ওই একটা তিনইঞ্চি খেলনা নিয়ে ওর কি পাগলামো !"

শাহেদ বলল, "তাই তো দেখছি ।"

শাহেদের মা নিগার একটা ছোট নিঃস্বাস ফেলে বললেন, "ওটা ওর মার ফোন ।"

শাহেদ আর তানিকা চমকে তাকালো ।

নিগার বললেন, "ওর মা স্ট্রোক করার পর ওর এক জায়গায় সম্বন্ধ হয়েছিল বিয়ের । ওর মা ওকে সবসময় বলতেন শশুরবাড়ি গিয়ে রোজ ফোন দিবি । আমি আমার ফোনটা সবসময় কাছে রাখবো যাতে যখন তখন তোর সাথে যোগাযোগ করতে পারি ।"

শাহেদ রুদ্ধশ্বাসে বলল, "তারপর ?"

"তারপর আর কি ! ওর মা মারা গিয়েছে কিন্তু ফোনটা আছে । যোগাযোগের মানুষটা নেই কিন্তু মাধ্যমটা রয়ে গেছে ।"

এই পুরোনো অল্পপ্রাণ জীর্ন বস্তুটার প্রতি তার স্ত্রীর এতটা মায়ার কারণ তার কাছে স্পষ্ট হল । শাহেদ ঘরে গিয়ে দেখলো ফোনটা চার্জে দিয়ে ফোনটার উপর হাত রেখে আলিহা দাঁড়িয়ে আছে । তার দুচোখের কাজল অশ্রুতে লেপ্টে গেছে ।

আজ শাহেদ আর আলিহার বিয়ের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান । তাদের বাড়ির ছাদেই অনুষ্ঠান হবে আর নতুন বানানো চারতলার খালি ফ্লোরে খাবারের আয়োজন । হঠাৎ কিসের যেন শোরগোলে উঠে গেল শাহেদ । ভেতরে গিয়ে দেখলো তার বোন আর চাচাতো ভাইয়ের বৌ চিৎকার করে অস্থির ।

তানিকা বলছে, "এত্ত বললাম ! এত্ত বললাম শুনলেই না । কেমন পাগল !"

শাহেদ এগিয়ে গিয়ে বলল, "কি হয়েছে ?"

তার চাচাতো ভাইয়ের বৌ বলল, "কি আর ! তোমার বৌ ! পুরো পাগল !"

"কেন ?"

"আরে কি এক কাজ করেছে দেখ গিয়ে !"

"কি হয়েছে কি ?"

"আরে এমন একটা দিন আর আসবে জীবনে ? আর এই দিনে কিনা কোথেকে এক পুরোনো বেনারসী পরে বসে আছে । পার্লারে এতো বললাম নতুন বিয়ের শাড়িটা পড়ো । শুনলো না । কে জানে কোন নমুনা ! মানুষ সত্তর হাজার টাকা দামের নতুন জারদৌসি বেনারসী বাদ দিয়ে পুরোনো কাপড় পরে ! দুঃখ আছে ভাই তোমার !"

শাহেদ তার মায়ের ঘরের দিকে গেল । আজ আলিহা নিগারের ঘরেই বসেছে । বেশ রাগই লাগছে শাহেদের । এটা কেমন কথা কেউ বিয়ের শাড়ি পড়বে না !

নিগারের খাটের কোনে দেয়ালের জানালার দিকে মুখ ফিরিয়ে আলিহা বসে আছে । সে গলা খাকারি দিয়ে ঘরে ঢুকে বলল, "এসব কি কথা আলিহা ? তুমি কেন বিয়ের জন্য কেনা শাড়ি পড়োনি ?"

আলিহা ফিরে তাকালো শাহেদের দিকে । মাথা নিচু করে বসে রইলো । শেষ বিকেলের আলো তার মুখে পরে অপূর্ব দেখাচ্ছে ।

আলিহার পরনের বেনারসীটা লক্ষ করে শাহেদ মাথা নাড়ল বিশেষভাবে ।

শাহেদ একটু হাসলো, বলল, "এটাই ঠিক হয়েছে । আই এম প্রাউড অফ ইউ !"

তানিকা ঘরে এসে বলল, "দেখেছো ভাইয়া ?"

"হ্যা ।"

"বলো কিছু ।"

"আমিই তো বলেছি ওকে এই শাড়িটা পড়তে ।"

"কি ?"

"হ্যা ।"

"এত্ত সুন্দর দামি শাড়ি রেখে এটা ?"

"হ্যা । ও যত দামি শাড়িই পড়ুকনা কেন এই শাড়িটায় ওকে যত সুন্দর লাগছে আর কোনোটাতেই ততটা সুন্দর লাগতো না ।"

"সত্যি ? তুমিই বলেছো ?"

"হ্যা । আমিই বলেছি এই শাড়িটা পড়তে ।"

..........................

( রুবাইয়াৎ তৃণা )

*মা* *গল্প* *যোগাযোগ* *আবেগ* *কান্না* *ফোন* *শাড়ি*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বৌ,

আমাকে ভীষণ ভালোবাসতে হবে,আমাকে মাঝে মধ্যে খাইয়ে দিতে হবে,আচল দিয়ে আমার মুখের ঘাম মুছিয়ে দিতে হবে,তোমার চুল গুলো খোলা রাখতে হবে,তোমার হাত ধরতে দিতে হবে।আমি প্রচুর দুষ্টুমি করি,আমার সাথে তোমাকেও দুষ্টুমি করতে হবে,এক কাপ চা আমরা ভাগ করে খাবো।আমিও তোমাকে ভীষণ ভালোবাসবো,আমিও খাইয়ে দিবো,শাড়ি পরিয়ে দেবো,আমার ডান বাহুতে শুতে দিবো,প্রতিদিন জরিয়ে ধরে ঘুমাবো,রাতের বেলায় রাস্তায় হাটা আমার ভীষন ভালো লাগে,আমার সাথে তোমাকেও হাটতে হবে,পায়ে ব্যথা হলে কোলে নিতে পারবো,নাক ধরে জোরে টান দিবো,এক আইসক্রিম দুজনে খাবো,তুমি অসুস্থ থাকলে রান্না করে খাইয়ে দিবো,যথেষ্ট পরিমান লম্বা আছি-বুকের মধ্যে মাথা রাখা কোন ব্যাপার'ই না,সিরিয়ালল দেখা একদম'ই চলবে না,একসাথে বসে রোমান্টিক সিনেমা দেখতে পারি,বাচ্চাকাচ্চা হলে চড়-থাপ্পড় দেয়া যাবে না আদর করতে হবে,আর একটু একটু ঝগড়া করব তবে এর জন্য বাপের বাড়িতে যেতে পারবে না,অধিমান আমিই ভাঙ্গাবো শেষমেষ,

*বৌ* *ভালোবাসা* *গল্প*

Ritu: একটি বেশব্লগ লিখেছে

 

আগের অংশ

কিন্তু আমার স্ত্রী হঠাৎ করে কেন এই পরীকিয়ায় জড়ালো তার আমি কোনো সদ্যুত্তর খুঁজে পাচ্ছি না। দাম্পত্য জীবনে আমরা অসুখী নই। আমরা পরস্পরকে যথেষ্ট সময় দেই। সপ্তাহে একদিন বাহিরে ঘুরতে যাই। কখনো কখনো মুভিও দেখি। সব জায়গায় আমার স্ত্রীর সাবলীলতা কখনো আমাকে ভাবতেও দেয় নি এক দিন এমন হতে পারে।

আমার স্ত্রী যাই হোক যার নাম আফিয়া। আফিয়া আমাকে যথেষ্ট ভালোবাসে। এখনো  ভালোবাসে । তার আচার আচরণে কোথাও কোনো পরিবর্তন আমি এখনো খুঁজে পাই নি। তার দায়িত্বের ব্যাপারে সে যথেষ্ট সচেতন। কোথাও কোনো কিছু সে লক্ষ্য করছে না তা হবে না। এখনো সে আমার প্রিয় খাবারগুলো রান্না করে।

আমার সন্দেরহের শুর হওয়ার আগে যে কাজগুলো করতো তার কোনো ব্যাতায় এখনো হয় না। প্রতিদিন নিয়ম করে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেয়া, বের হওয়ার আগে একটি ছোট্ট করে চুমু দিয়ে মিষ্টি করে হেসে বলা, অফিসে পৌঁছে ফোন দিবে। দুপুরে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করা, খাবার ভালো ছিলো কি না? ঠিক মত খেয়েছি কি না? বাসায় ফেরার পর ফ্রেশ হওয়ার যাবতীয় আয়োজন করা। কোনো কিছুতেই তার কোনো ত্রুটি নাই। এমনি কি অফিস থেকে ফিরে এলে আমার ঘামা গায়ের সাথে তার লেপ্টে থাকাটা এক ধরনের অদ্ভুত সখ বলা চলে। সে কাজটিও সে করছে বিনা দ্বিধায়। বিকালে চা খাওয়া টুকটাক গল্প করা সব কিছুই চলছে আগের নিয়মে। কিন্তু আমার মনের ভিতর সেই সন্দেহের কাঁটা। অনবরত সেই খচখচানি।

আমি নিজেই নিজের শান্তি নষ্ট করছি। কিন্তু আফিয়া তো দিব্যি সুখেই আছে।

আমার সন্দেহের শুরু কেন হলো? কেনই বার আমার এত ভালবাসার স্ত্রীকে সন্দেহ করছি। শুরুটা হলো একটা ফেসবুক মেসেজ দেখে।

তিন চারদিন আগে ওর ল্যাপটপে আমি কাজ করছিলাম। ফেসবুক ও খোলাই রেখেছিলো। এমন সময় তার সেই কাজিনের মেসেজ আসলো। লেখা, সোনাপাখি কেমন আছো? বয়সে আমার স্ত্রীর চেয়ে তার কাজিন ছোট। এই মেসেজ দেখে আমার তাই খটকা লাগলো। তারপরেও আমি আমার কাজে মনোযোগ দিলাম। কিছুক্ষণ পর সে আবার মেসেজ দিলো, আমার তো রাতে ঘুম আসছে না।

খুবই নিরীহ মেসেজ। কিন্তু আমার মনে কুহু ডাকলো। আমি আমার কাজ বাদ দিয়ে তাদের আগের মেসেজ স্ক্রল করা শুরু করলাম। সবই ভালো-মন্দ খোজ খবর নেয়া টাইপ মেসেজ। নির্দোষ টাইপ। কিন্তু হঠাৎ একটা ছবির দিকে চেয়ে আমার মাথাটা ঘুরে যাবার উপক্রম হলো। ছবিটার উপরে আমার স্ত্রীর প্রশ্ন, এই বলতো ব্লো জবস কী? আর সে একটা ছবি পাঠিয়ে দিয়ে বলেছে এটাই ব্লো-জব।

আমি আর কাজে মনোযোগ দিতে পারলাম না। আমার হার্টবিট বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। ঘেমে গেছি। যদিও রুমে এসি চলছিলো পুরোদমে। হাজারো প্রশ্নের দৌঁড় ঝাপে আমি আর কিছুই স্বাভাবিক ভাবে ভাবতে পারছিলাম না। অবশ্য নিচে এনিয়ে তেমন আর কোনো আলোচনা নাই। তারপরে টানা কয়েকদিন আর তাদের কোনো মেসেজ কথা হয় নি।

আমি পিসি অফ করে দিলাম। থম হয়ে বসে থাকলাম। জানার আগ্রহ; আমাকে জিজ্ঞেস করলো না কেন? ওকে কেন জিজ্ঞেস করলো কেন। আর তখনই মনে হলো তাদের মধ্যে একটা অবৈধ সম্পর্ক আছে। এই কয় বছরের যৌন জীবনে তাকে কখনো অসুখী মনে হয় নি। তাহলে?

অফিয়া এসে জিজ্ঞেস করলো, কী হয়েছে? কী এত ভাবছো? রাতে খাবে এসো।

খাবার টেবিলে বসলাম। গলা দিয়ে খাবার নামছে না। শুধুই মনে হচ্ছে তাকে আমি বলি সে কেন আমার সাথে প্রতারণা করলো। কিন্তু আমি নির্দ্বিধায় বলতেও পারছি না।

আমার অমনোযোগ সে লক্ষ্য করেই হয়তো বললো, বলোতো কী হয়ছে? তুমি কিছুদিন ধরে খুবই অমনোযোগী। বাচ্চাকেও আদর করছো না।

আমি চমকে তার দিকে তাকালাম।

সে বললো, এত ভয় পাওয়ার কী আছে?

আমি বললাম, একটা কথা বলবো। যদি কিছু মনে না করো।

সে হেসে বললো, বলো, এত ভূমিকা করার কী আছে?

তোমার কি রাকিবের সাথে ফিজিক্যাল সম্পর্ক আছে?

সে অবাক চোখে আমার দিকে তাকালো। খাওয়া বন্ধ করে দিলো। হয়তো আশা করে নি; এমন প্রশ্ন। কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো। তারপর মাথা নিচু করে ছোট্ট করে বললো, হ্যা।

এক মুহুর্তে আমার কাছে মনে হলো, পৃথিবীর সবকিছু ভেঙ্গে পড়ছে। চারদিকে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়ছে। ২০১২ মুভিটার শেষ দৃশ্যের মত। আমার ভিতরটা কেউ যেন দুমড়ে মুচড়ে ফেলছে। ছুরি দিয়ে ফালা ফালা করে কাটা হচ্ছে জীবিত আমাকে। অনেক কষ্টে আমি বললাম, কেন?

তুমি চট্টগ্রাম ছিলে কিছুদিনের জন্য। সেই সময় সে পরীক্ষা দিতে আসছিলো। তারপর আমি জানিনা, কীভাবে কী হয়ে গেলো। শুধু জানি আমি ভুল করেছি, প্রচণ্ড ভুল করেছি। যে ভুলের মাশুল আমাকে আজীবন দিতে হবে।

আমি আর তোমাকে মেনে নিতে পারবো না; আমি বললাম।

সে জলভরা চোখে আমার দিকে তাকালো। এই চোখ আমি অনেকবার দেখেছি। বিদেশে যাবার সময়, বিমানবন্দরে এই চোখ আমি দেখে অভ্যাস্ত। যতক্ষণ বাহিরে থাকি এই চোখ আমাকে বাসায় ফেরার জন্য ডাকে। আমার ভেতরটা আবারো দুমড়ানো শুরু হলো। কিন্তু আমি আবারো বললাম, আমি তোমার সাথে আর থাকতে পারবো না।

সে কিছুই বললো না, কিন্তু তার নিরবতা আমাকে অনেক কিছু বললো। তারপরেও আমি একই কথা বললাম, আমি পারবো না।

সে কিছু না বলে উঠে বাথরুমে চলে গেলো। খুব জোড় ঝর্ণা শব্দ আসছে। কিন্তু সেই শব্দ ছাপিয়েও তার কান্নার শব্দ আসছে। আমার সবকিছু এলোমেলো করে দিচ্ছে। আমাকে বার বার কে যেনো ভেঙ্গে ফেলছে। প্রায় ত্রিশ মিনিট হয়ে গেলো। সে বাথরুম থেকে বের হচ্ছে না। আমি নির্বিকার বসে আছি।

আরো কতক্ষ্ণ কেটে গেছে আমি বলতে পারবো না। শুধু মনে হচ্ছে যুগ ক্ষ্ণ সব কিছু থেমে আছে। এমনকি আমার হার্টবিট বন্ধ হয়ে আছে।

ভেজা শরীরে সে আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললো, আমি কাল চলে যাবো।

আমি উঠে দাঁড়ালাম। জড়িয়ে ধরে বললাম, আমি তোমাকে ভালোবাসি। সে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। আমার চোখেও তখন সমুদ্রের ঢেউ। একে অপরকে শক্ত করে চেপে ধরছি। এতটাই শক্ত যেনো, আমাদের মাঝে কোনো ফাক না থাকে। আর কেউ আমাদের মাঝে ঢুকতে না পারে।

ঠাণ্ডা শরীরে উষ্ণ ঠোটের পরশ।

*অনুগল্প* *গল্প* *প্রেম*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

অবশেষে অনেক ভেবেচিন্তে সকল অলুক্ষুণে সম্ভাবনাকে পরোয়া না করে এক শেষরাতে আমি মিস জুলিয়াকে ফোন করলাম। শেষ রাতে যেহেতু কেউ মিথ্যে বলতে পারে না তাই আমিও কোন মিথ্যার আশ্রয় নিইনি। সে ফোন রিসিভ করতেই বলতে শুরু করলাম, আমি যে তোমায় পছন্দ করি এবং সেটি অনেকদিন আগে প্রেমে পরিণত হয়েছে তা কি তুমি বুঝতে পেরেছ মিস?

মিস জুলিয়া উত্তর দিল, হু।

এবার আমি কি বলবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। তাই জিজ্ঞেস করলাম, রাতে খেয়েছিলে?

কিছুক্ষণ চুপ থেকে তারপর বেশ নরম স্বরে মিস জুলিয়া বলল, না খাইনি। খিদায় পেট জ্বলছে। তুমি না আমায় ভালবাসো? এক্ষুণি খাবার এনে দিয়ে যাও।

 

এখন আমি সদ্য প্রেমিক। প্রেমিকা চাইলে সাগর থেকে ডুবে ডুবে মুক্তা এনে দিতে পারি অথবা বিষধর সাপের মাথা থেকে মনি… তাই এটা কোন ব্যাপার না ধরণের একটা ভাব করে বললাম, এটা কোন ব্যাপারই না। জানলা খোলা রেখো। আমি এই যাচ্ছি আর এই আসছি।

সেই রাতে আমি মিস জুলিয়ার জন্যে খাবার আনতে গিয়েছিলাম ঠিকই। কাঁচা ঘুম থেকে বিল্লাল ভাইকে উঠিয়ে বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যে বলেছি। অবশ্য প্রেমিকার খিদা মানে যেহেতু নিজেরই তাই বিল্লাল ভাইয়ের কাছে গিয়ে কাকুতি মিনতি করে বললাম, ও ভাই। আরে ও বিল্লাল ভাই ওঠো না। বাইরে কত সুন্দর চাঁদনী রাত আর বেরসিক তুমি কিনা দোকান লাগায়া ঘুমাইতাছ? ভাই খিদা লাগছে। খাবার কি
আছে তাড়াতাড়ি দাও।

রাত তিনটার সময় বিল্লাল ভাইয়ের টঙে যেহেতু এর চেয়ে ভাল আর কিছু পাওয়া সম্ভব না তাই কলা আর পাউরুটি নিয়েই প্রেমের প্রথম পরীক্ষায় পাশ হবার জন্য রওয়ানা হলাম।
খাবার নিয়ে মিস জুলিয়াদের বাসার সামনে গিয়ে আমি তাকে ফোন দিলাম। মিস জুলিয়ার রুমের জানালা খোলা। জানালাতে একটা পর্দা সাটানো। ঘরে মৃদু আলো জ্বলছে। বাইরে থেকে জানালার দিকে তাকালে মনে হয় পর্দার ওপাশে বুঝি কেউ দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমবার ফোন দেবার পরে মিস রিসিভ করলো না। ভাবলাম ফোন হয়ত সাইলেন্ট করে রেখেছে তাই দেখেনি। তাই রাত সাড়ে তিনটার সময় ভুঁইয়া কলোনির চার রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে কলা আর পাউরুটি হাতে আমি আবার মিস জুলিয়াকে ফোন দিলাম। এবারও মিস ফোনটি রিসিভ করলো না। এইসব বারেবারে ফোন দিয়ে আমার অভ্যেস আছে তাই মিস জুলিয়ার নাম্বারে আমি বারেবারে ফোন দিতেই থাকলাম। ১৩তম বার রিং বাজার সময় ওপাশ থেকে কে যেন রিংটি কেটে দিল। মনে মনে বললাম, রাত পৌনে ৪টার সময় মিথ্যা ক্ষুধার কথা বলে যেই প্রেমিকা নিজের ঘরের সামনে দাঁড় করিয়ে রেখে চিট করতে পারে ভবিষ্যতে সে আরো ভয়াবহ চিট করার ক্ষমতা রাখে। তাই ছলনাময়ী প্রেমিকার ঘরের সামনে থেকে এক্ষুণি চলে যাওয়া উচিত এই সিদ্ধান্ত নিয়ে যেইনা আমি পেছন দিকে ঘুরলাম অমনি দেখি মিস জুলিয়া।
না না, মিস জুলিয়ার ভূত পেছনে দাঁড়িয়ে নয়। সে ছাদের উপর দাঁড়িয়ে আমার দিকে চেয়ে অট্ট হাসছে। পৌনে চারটার সময়, ১৩ বার রিসিভ না করা ফোন কল, কলা আর পাউরুটি হাতে মিস জুলিয়াকে দেখে মুহুর্তেই আমার সব অভিমান শেষ হয়ে গেল। আমি ইশারা দিয়ে তাকে বললাম, নিচে নেমে এসো প্রিয়তমা মিস জুলিয়া। আমার ইশারা পেয়ে সে হাসতে হাসতে বলল, রেলিং বেয়ে ছাদে উঠে খাবার দিয়ে যাও।
আমি জীবনে কখনো কারোর বাসার রেলিঙয়ে চড়িনি অথচ কি আশ্চর্য সে রাতে মিস জুলিয়াদের বাসার রেলিং চড়ে আমি ছাদেও উঠে গেলাম। ছাদে উঠে মিস জুলিয়াকে আমি কলা আর পাউরুটি দিলাম। শেষরাতে ক্ষুধার্ত মিস জুলিয়া গপাগপ করে তা খেতে লাগল। তার খাওয়া দেখে আমারও খিদে পেয়ে গেল। আমি তাকে বললাম, তোমায় ভালবাসি মিস জুলিয়া। মিস জুলিয়া হাসতে লাগল আর আমায় এসে জড়িয়ে ধরলো। যেন মিস জুলিয়া নয় আমার বাহুডোরে আবদ্ধ কোন রাজকন্যা। আমি তাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম। মিস জুলিয়া আমার কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বললো, "ভীতু কোথাকার, শুধু স্বপ্নেই তোমার হিরোগীরি, বাস্তবে এসে ভালবাসি বলতে পারিস না?" এই বলে সে পেত্নীদের মত হাসতে লাগলো।

মিস জুলিয়ার এমন বিকট হাসি শুনে হঠাৎ আমার ঘুম ভাঙল। এতক্ষণ যে উষ্ণতা ছিল আমার প্রেমিকার, চেয়ে দেখি তা হতচ্ছাড়া কোলবালিশের! ফেসবুক চালাতে চালাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হাতে তখনো ফোনটা ধরে রেখেছি। ফোনের স্ক্রিন আনলক করে দেখি কত সুন্দর করে মিস জুলিয়া আমার দিকে চেয়ে হাসছে! তাড়াতাড়ি এক্ষুনি আবার ঘুমিয়ে পড়তে হবে দেখি!

*জুলিয়া* *প্রেম* *গল্প* *রসিকতা* *ছলনাময়ী*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

রেস্টুরেন্টের ভেতর খুব নরম আলো। মেয়েটা খুব শান্ত হয়ে বসে মোবাইলের দিকে তাকিয়ে আছে। আমান দূর থেকে মেয়েটাকে দেখে একটু থমকে গেলো। ছবির চেয়েও সামনা সামনি মেয়েটা অনেক বেশি সুন্দর। সে লম্বা একটা শ্বাস ফেলে মেয়েটার দিকে এগিয়ে গেলো।
.
- আপনার নাম নাদিয়া, রাইট?
- জ্বি, আপনি আমান?
- ইয়া... সরি, একটু লেট হয়ে গেলো
- সমস্যা নেই, আমিও বেশিক্ষণ আগে আসিনি
- অর্ডার করি কিছু?
.
মেয়েটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে আমানকে দেখে। নাহ, আসলেই কিউট আছে। কথায় আঞ্চলিক কোন টানই নেই! বেশ স্মার্ট লাগছে। শুধু শুধুই আগে থেকে নাক সিঁটকাচ্ছিলো সে। এ্যরেঞ্জড ম্যারিজে তার আপত্তি ছিলো না তবে তার বাপের পছন্দ করা একটা ছেলের সাথে প্রাইভেটলি কথাবার্তা বলার আইডিয়াটা খুব উইয়ার্ড লাগলেও এখন মনে হচ্ছে কথা বলে দেখাই যায়।
.
অর্ডার নিয়ে ওয়েটার চলে গেলো, আমান মেয়েটার দিকে তাকিয়ে একটা নার্ভাস হাসি দিলো। তারপর হঠাৎ সে মেয়েটার দু হাত ধরে ব্যাকুল ভাবে বলে উঠলো " আফা! আপনার দোহাই লাগে, আপনার যদি কোন বয়ফ্রেন্ড, প্রেমিক, নাগর, ক্রাশ... কিছু একটা যদি থাকে প্লিজ বলেন। আপনি এখন আমার বইন লাগেন। আমি আপনার পায়ে পড়ি- বিয়ের কথাবার্তা অনেক দূর আগাবার পর মাঝরাতে নক দিয়ে ফিচফিচ করে কেঁদে "ভাইয়া আমাকে বাঁচান" আর শুনতে চাইনা... আমি অতিষ্ঠ! আপনার কোন পছন্দের মানুষ থাকলে এক্ষুণি বলেন- দরকার হলে আমি উকিল বাপ হয়ে আপনাদের বিয়ে পড়ানোর ব্যবস্থা করবো- তাও বিয়ের পর কোন "এক্স" বয়ফ্রেন্ডের উৎপাত সহ্য করতে পারবোনা- মাফ চাই আফা!!"
.
.
প্রায় ঝাড়া কয়েক সেকেন্ড মেয়েটা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। তারপর খুব সাবধানে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বললো "বাসায় জানে আপনি যে পাগল?"
.
আমান খুব ক্লান্ত গলায় বললো "কি আসে যায়? এই জমানায় প্রেম না করে বিয়ে করতে গেলে যে কেউ পাগল হয়ে যাবে। ক্লাস সিক্সের মেয়ের পর্যন্ত ২ টা করে বিএফ থাকে!" তার মুখ কুচকে গেলো।
.
নাদিয়া মুখ টিপে হেসে বললো "প্রেম করেন নি কখনও?"
.
আমান হাত উলটে বললো "আট বছর আগেই ছ্যাকা খেয়ে ব্যাকা হয়ে গেছি, এরপর আর কাউকে মনে ধরে নি। এখন বিয়ে করতে এসে দেখি কিছু খালি নাই"
.
নাদিয়া শব্দ করে হাসলো এবার। প্রথমে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু এখন বুঝছে- ছেলেটা অন্যরকম হলেও খারাপ না। বেচারা বাস্তবতার আঘাতে ক্লান্ত।
.
"বললেন না তো, গোপন-প্রকাশ্য বয় ফ্রেন্ড আছে কিনা?" আমান আবার জিজ্ঞেস করে।

"থাকলে কি করবেন?"

"খেয়ে দিয়ে অর্ধেক বিল দিয়ে ভাগবো, দোয়া থাকবে আপনাদের জন্য, বিয়ের দাওয়াত চেয়ে নিবো পরে"

"অর্ধেক বিল দিবেন মানে- আচ্ছা কিপটা তো আপনি!"

আমান একটা চোখ টিপে বললো "ইউ হ্যাভ নো আইডিয়া"

"কিপটা জামাই অবশ্য সংসারের জন্য ভালো- যাস্ট আমার খরচ ঠিকঠাক দিলেই হলো"
.
আমানের বুকে ছ্যাঁত করে উঠলো। রংচঙে হিজাব পরা নম্র মত মেয়েটা তার দিকে তাকিয়ে মিটমিট করে হাসছে। সে হঠাৎ বুঝে গেলো- এই মেয়ের কোন অতীত নিয়ে তার ভাগ্যবান স্বামীকে কখনই দুশ্চিন্তিত হতে হবে না। এই টাইপের মেয়েরা নিজের সকল মুগ্ধতা সঠিক সময়ের অপেক্ষায় অচেনা কারো জন্য যত্ন করে রেখে দেয়- অপচয় করে না এদিক উদিক।
.
আমান খুব ধীরে ধীরে বলে "আজ বিলটা সম্ভবত ভাগাভাগি না করলেও চলবে"। মেয়েটার একটা ভ্রু উঁচু হয়ে গেলো। মুখে যদিও একটা দুষ্ট হাসি।

*বিয়ে* *মেয়ে* *বয়ফ্রেন্ড* *গার্লফ্রেন্ড* *গল্প* *আমি*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

মেয়ে মাঝে মাঝে তোমার জন্য বিলিয়ন ডলারের মালিক হতে হচ্ছে করে ! সত্যি ইচ্ছে করে !

তোমার জন্মদিনে পৃথিবীর সবচেয়ে গাড়ি Koenigsegg CCXR Trevita গিফট করে বলতে ইচ্ছে করে বড্ড ভালবাসি তোমায় এর চেয়ে বেশী ভালবাসা যায় না !
.
বৃটেনের নারী এলিজাবেথের মুকুট থেকে কোহিনূর নামক ১০৫ ক্যারেটের পৃথিবীর সবচেয়ে দামী হীরেটি আমি চাই তোমার মাথায় শোভা পাক !
.
আমি চাই তুমি আট মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ডায়মন্ড রোজ আইফোন ৪ দিয়ে আমার সাথে ফেসবুকে চ্যাট করবে প্রতিদিন !
.
পৃথিবীর সবচেয়ে দামী দুবাইয়ের ৭ তারা বুর্জ আল আরব হোটেলে আমিও তোমাকে নিয়ে অবকাশ যাপন করতে চাই সত্যি চাই !
.
লক্ষ টাকা দামের ডা হং পাও চা দিয়ে শুরু হবে তোমার সকাল আর দিন শেষ হবে ৪২০০ ডলারের হাতির বিষ্টা থেকে তৈরী আইভরি কফি পান করে ! ঘুমানোর আগে তিতা মুখে মিষ্টি করে রোজ ভালবাসি বলবে শুধু !
.
আপাতত বাড্ডা নতুন বাজার ১০০ ফিট এর ভুট্ট মামুর চায়ের দোকানে তোমার দাওয়াত রইলো এক কাপ রং চা খাবে বলে ! ওখানে কফি পাওয়া যায় না জানো তো ভুট্ট মামা   ভালো রং চা বনায় ! ভেবো না ভালবাসার ফন্দি আঁটছি ! শুধু তোমার চুমুক দেওয়া চায়ের কাপটিতে প্রতিদিন চুমু দিবো বলে লেমোনেটিং করে রাখবো !
.
ভেবো না লেখাটি তোমার জন্য এটি ভুট্ট মামার  দোকানের এক কাপ রং চায়ের বিজ্ঞাপন বৈকী আর কিছু নয় ! সে আমাকে একদিন এককাপ রং চা ফ্রি খাওয়াইছিলো ! তার প্রতিদান ! তোমাকে ভালবাসার প্রতিদান পাবো আশা করে লিখিনি !

*ভালোবাসা* *আবেগ* *চা* *চুমুক* *গল্প* *ভুট্ট* *মামু*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ভাইয়া তুমি এত্তগুলো কিউট বললে হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ভাইয়া খালাতো ভাইও হয় দেদারচ্ছে বিয়েও করা যায় !
.
কিন্তু যখনি কোন মেয়ে বলবে আপনি আমার আপন ভাইয়ের চেয়ে বেশী তাতেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই স্বামীকে অনেকে আপন ভাইয়ের চেয়ে বেশী ভালবাসে !
.
যদি বলে আপনি আমার আপন ভাই তাহলেও ধৈর্য হারাবেন না সোজা তার মায়ের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন আমি কি আপনার হারিয়ে যাওয়া ছেলে ? তাহলে সম্পত্তির ভাগ দিয়ে দিন এক্ষুণি দেখবেন কেল্লা খতম !
.
আসেন ভাইয়া নিয়ে গল্প বলি,
.
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের এক মেয়ের প্রেমে পড়েছিলাম ৷ ইনিয়ে বিনিয়ে রেনিয়ে কেনিয়ে তাকে বুঝাতে চাচ্ছিলাম তোমাকে পছন্দ করি ! সে কথায় কথায় ভাইয়া বলতো ! কি আজব ! যাকগে বহুদিন পর তার সাথে দেখা হলে জিজ্ঞেস করলাম বিয়ে করোনি বোন এখনো ? সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, শুনেছি সব মেয়েকে সৃষ্টিকর্তা কোমরের হাড় দিয়ে তৈরী করেছে, আমি যার হাড় দিয়ে তৈরী তাকে খুঁজছি ! কিন্তু পাচ্ছি না ৷
.
আমি বললাম, তুমি তাকে হয়তো ভাইয়া ডেকে ফেলেছো ! সে মনে হয় ভাইয়াদের ভীড়ে হারিয়ে গেছে ৷
.
ছেলেটি চৌদ্দ বছরের বড় ছিলো ৷ সর্বদা বোনের শেয়ারিং কেয়ারিং করতো ৷ একদিন ছেলেটি মেয়েটিকে নিয়ে বলছে আমি তো ফাইনালি মেয়ে দেখতে যাবো তুমি আমাকে নিয়ে কিছু ভাবছো ? সে থেকে এক ভাইয়ার অকাল মৃত্যু হয়েছে !
.
নিজের ভাই ছাড়া কেউ যদি সত্যি সত্যি কোন বেসম্ভব সুন্দরীর কাছে নিজেকে আপন ভাই দাবী করে শেয়ারিং কেয়ারিং করতে থাকে সে হয়তো সুযোগ সন্ধানী নয়তো দেবতা !
.
ভাইয়া ডেকে শুরু অতঃপর আজ তাদের বিয়ে এমন গল্পগুলো বলে সময় নষ্ট করবো না শুধু বলবো, ভাইয়া ডাকটিকে সংবিধান মনে করে পিছিয়ে গেছেন তো মরেছেন ! হেরেছেন !
.
এক অখ্যাত কবি অক্ষেপ করে লিখেছিলেন,

"কবির সমস্ত মেয়ে ভক্তকুল !!
তাকে 'ভাইয়া ভাইয়া' ডেকে করেছে ব্যাকুল !
ঠিক আছে, তোমাদের সাথেই আড্ডা দেবো !
হবে না কোন ভুল !
এই নাও গোলাপ ফুল !!"
.
সেই গোলাপ ফুল থেকে শুরু গুরু......!

*ভাইয়া* *গল্প* *আবেগ* *ভালোবাসা* *মেয়ে* *রসিকতা*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

মেয়েটা তার বান্ধুবিদের সাথে চ্যাটে ফাজলামি করছিলো । হঠাত্‍ তার এক বান্ধুবি তাকে নক দিয়ে বললো "একটা ছবি দেখবি?"
মেয়েটা ভাবলো হয়তো কোন ফানি পিক দেখাবে । তাই সে রিপ্লাই দিলো "আচ্ছা দেখা" :-D

তার বান্ধুবি তাকে ছবি পাঠালো । ছবিটা দেখে সে থমকে গেলো! তার জীবন থেকে চলে যাওয়া মানুষটার ছবি! পাশে একটা মেয়ে দাড়ানো । দুজন ই হাসি মুখে ছবি তুলেছে ।
মেয়েটা নিজেকে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করলো । তারপর কাঁপাকাঁপা হাতে রিপ্লাই দিলো "আর মানুষ পাইলি না তুই?? হাহাহা! এই ছবি আমাকে দিলি ক্যান? আমি তো তার মতোই সুখে আছি । যত্তোসব বালছাল এর ছবি দেখাস!" :-D

রিপ্লাই দিয়ে ছবিটা ডাউনলোড করে মেয়েটা অফলাইনে চলে গেলো ।

তারপর মনযোগ দিয়ে আবার ছবিটা দেখতে লাগলো আর ভাবতে লাগলো "এই 'বালছাল' টা কেই তো সে এখনো ভালোবাসে । এখনো হুটহাট করে মনে পড়ে । এখনো সে হুট করে মন খারাপের কারণ হয়ে যায় । মেয়েটা ছবিটা ভালো করে লক্ষ্য করছে । ছেলেটা কে মেয়েটার পাশে অনেক সুখী ই দেখাচ্ছে । তার হাসির মধ্যে কোন ভেজাল নেই । সে মেয়েটা কে নিয়ে সুখেই আছে!

ছবি দেখতে দেখতেই মেয়েটার সব অস্পষ্ট হয়ে পড়লো । চোখ ঘোলা হয়ে গেলো । নিজেকে সামলাতে না পেরে সে চোখ বন্ধ করে অতীতে চলে গেলো । সামনেই ভ্যালেন্টাইনস ডে আসছে । কোন একটা ভ্যালেন্টাইনস ডে তে ছেলেটা মেয়েটার হাত টা শক্ত করে ধরে রেখে বলেছিলো "এই হাত ছাড়বো না কখনো । সারাজীবন এভাবেই থাকবো আমরা ।"
পরের ভ্যালেন্টাইনস ডে'র আগেই ছেলেটা মেয়েটাকে ছেড়ে চলে যায় । একেবারের মতো । মেয়েটাকে দিয়ে যায় ভালোবাসার শাস্তি!

ছেলেটা মেয়েটা কে ব্লক করে দিয়েছিলো । তবুও মেয়েটা প্রতিদিন ছেলেটার আইডি তে ঘুরতো আর স্ট্যাটাস দেখে বুঝার চেষ্টা করতো মেয়েটার কথা ছেলেটার মনে পড়ে কিনা! মেয়েটা হতাশ হতো । তারপর আস্তে আস্তে আইডি চেক করা অফ করে দিলো ।

আজ অনেকদিন পর ছেলেটার ছবি দেখে মেয়েটার অতীতের কথা মনে পড়ে গেলো । সামনেই তো ভ্যালেন্টাইনস ডে আসছে । কই? ছেলেটা তো আর মেয়েটার হাত ধরে বলেনি 'এই হাত ছাড়বো না কখনো!' মেয়েটা নিজের হাতের দিকে চোখ বুলায়! পরমুহুর্তে অনুভব করে হাতে কোথথেকে যেনো পানি পড়ছে!

প্রিয়মানুষগুলো যাবার আগে বলে যায় 'ভালো থেকো!' কিন্তু তারা বুঝেই না তাদের ছাড়া ভালো থাকা অসম্ভব । চলে যাওয়ার সময় মনে প্রশ্ন জাগে 'চলে যাবে যদি তবে এসেছিলে কেনো?' সত্যি ই যদি আমার 'ভালো' চাও, তাহলে চলে যাচ্ছো ক্যানো? জানো না? তোমাকে ছাড়া ভালো থাকতে পারবো না

 

ঃ মুগ্ধ

*প্রেম* *মেয়ে* *ছেলে* *অভিমান* *গল্প* *ভালোবাসা* *আবেগ*

অর্ঘ্য কাব্যিক শূন্য: একটি বেশব্লগ লিখেছে

জিসানরা চলে যাওয়ার দু'দিন পর সিমি এলো ওদের পরিত্যাক্ত ফ্ল্যাটটি দেখতে। আসতে চায়নি সিমি। দেখার কি আছে ? যাকে দেখার জন্য আসতো, যার মুখের কথা শোনার জন্য, পাশে কিংবা মুখোমুখি বসে গল্প করার জন্য সিমি সপ্তাহে অন্তত একদিন উত্তরার এই ফ্ল্যাটে সেই বাসাবো থেকে ছুটে আসতো, সে তো আর নেই। এই ফ্ল্যাট সে ছেড়েছে দু'দিন আগে। কিন্তু সিমির সাথে ছাড়াছাড়ি হয়েছে ছ'মাসেরও বেশী। জিসান তিশাকে বিয়ে করার পর থেকে সিমির সাথে সম্পর্কটা কেবল বদলেই যায়নি, বলা যায় মৃত। অবশ্য বাইরে সেটা দেখায়নি সিমি। পরাজয়কে পরম ধৈর্যের সাথে মেনে নিয়েছে। কোন ছটফট করেনি এটা নিয়ে, সৃষ্টি করেনি কোন নাটক। অভিযোগ করেনি, অভিশাপ দেয়নি। বরং আরও বেশী ভদ্র ব্যবহার করেছে।

জিসানের বিয়ের পর থেকে ওদের সঙ্গ একেবারে ত্যাগ করা উচিৎ ছিল সিমির। কিন্তু তা পারেনি। আসা যাওয়া একেবারে বন্ধ করে দেয়নি। অবশ্য কমিয়ে দিয়েছে অনেক। যেখানে সপ্তাহে একবার আসতো এবং ছুটির দিনটা এখানেই কাটিয়ে যেতো, সেখানে জিসানের বিয়ের পর মাসে একদিন কি দু'দিন এসেছে। এসে একবেলার বেশী থাকেনি। কখনও খেয়েছে আবার কখনও না খেয়েই চলে গেছে। তবু না এসে পারেনি। নবদম্পতির কাছে তার আসাটা এখন আর উচিৎ নয়, এ কথা কি টের পায়নি সিমি ? নিশ্চয়ই পেয়েছে। তবু না এসে পারেনি।

নিজের মনের সাথে যুদ্ধ চলেছে সিমির। কেন সে আসতো ? সব শেষ হয়ে যাওয়ার পরও কেন না এসে থাকতে পারতো না ?কখনও মনে হতো, জিসানের ওপর থেকে তার আসক্তি যায়নি। কিন্তু এই ব্যাখা তার নিজের মন মতো হতো না। এ কথা স্বীকার করার মাঝে কেমন যেন একটা হীনতা আছে। জিসানকে তো আর ভালোবাসে না সিমি। যে তাকে গ্রহন করতে পারলো না, তাকে সে কেন ভালোবাসবে ? তবে কেন আসতো সে ? তিশার মনে ঈর্ষার জন্ম দিতে ? যেন তিশা বোঝে, সেই জিসানের জীবনে একমাত্র নয় ? তার আগেও অন্তত একজন এসেছিলো। সে টিকে থাকতে পারেনি, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হার মেনেছে কিন্তু একসময় এই ফ্ল্যাটের রুমগুলোতে, এই ফ্ল্যাটে থাকা ব্যক্তির মন জুড়ে তার রাজত্ব ছিল, এই কথাটুকু তিশাকে জানানোর জন্যই কি সে এখানে আসতো ? নিজেকেই নিজে জিজ্ঞেস করেছে সিমি। সদুত্তর পায়নি। নিজেকে অতোটা হীন ভাবতে তার মন রাজী হয়নি।

তবে কেন আসতো সে ? জিসানকে আড়ালে পেলে দু'একটি তীব্র কঠিন কথা শুনিয়ে দেবে বলে ? এই উত্তরও যথার্থ বলে স্বীকার করতে পারেনি সিমি। তেমন সুযোগ অনেকবার এসেছে। কই, একটা কথাও তো জিসানকে বলতে পারেনি সিমি।

চিন্তারা আজ নিজেদের খেয়ালে জট পাকাচ্ছে। বিস্তীর্ণ এক প্রান্তরে দাঁড়িয়ে আছে যেন সিমি। একা। কোথাও কেউ নেই। নিশ্চুপতা চারদিকে।

যেসব ভাবনার কোন অর্থ নেই, আজ একেবারেই মায়ামুক্তহীন সেইসব চিন্তায় জড়ানো মন নিয়ে সিমি জিসানের তিনতলার ফ্ল্যাটের সামনে এসে দাঁড়ালো। বাড়িওয়ালা পাশের ফ্ল্যাটে থাকেন। কোথায় যেন বের হচ্ছিলেন। সিমিকে দেখে থমকে দাঁড়ালেন। হেসে বললেন,

- কি খবর ? কেমন আছেন ?
- ভালো

জিসান তার এই বাড়িওয়ালার সাথে নিজের বন্ধু বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলো সিমির। সেই থেকে ভদ্রলোক তাকে চিনে রেখেছেন। দেখা হলে হেসে দু'টো কথা বলেন।
ভদ্রলোক বললেন,

- ওনারা তো চলে গেছেন। রাজশাহী বদলি হয়ে গেছেন।
- জানি।
- রাজশাহী বেতারে কাজ করবেন এখন, তাই না ?
- হ্যাঁ।
- বদলির চাকরীর এই এক সুবিধা। নানা জায়গায় ঘুরে বেড়ানো যায়।
- তা যায়।
- ওনাদের যাওয়ার দিন তো আপনি এলেন না। ওনার অনেক বন্ধু এসেছিলেন সেদিন।

সিমি বললো, " আসলে আমার শরীরটা ঠিক ভালো ছিল না। তাই আজ খবর নিতে এলাম। "

- ভালোই করেছেন। আপনার কিসব জিনিসপত্র যেন ছিল। প্যাকেট করে ওনারা আমার স্ত্রীর কাছে রেখে গেছেন। নিয়ে যাবেন। আমি একটু বেরোচ্ছি। আবার আসবেন। চলি।

কি জিনিসপত্র রেখে গেছে ? কোন জিনিসই তো তার ছিল না। একটু অবাক হল সিমি। জিসানের বিয়ের পর সে আর কোন স্মৃতিই তার ঘরে রাখেনি। তবে ? কৌতূহল হল সিমির। বাড়িওয়ালার ফ্ল্যাটের সামনে গিয়ে বেল টিপলো। দরজা খুলে সামনে এসে দাঁড়ালেন এক মধ্যবয়স্ক মহিলা। সিমি সালাম দিলো।

- আসুন। ভেতরে আসুন।
- না না, ভিতরে আর যাবো না। তাড়া আছে আজকে। আচ্ছা, ওরা কি আমার জন্য কোন জিনিস রেখে গেছেন ? আনিস সাহেব বলছিলেন।
- হ্যাঁ, হ্যাঁ। আপনি এসেছেন ভালোই হল। আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম।

ভদ্রমহিলা ভেতরে গেলেন। একটু পর ফিরে এলেন নীল রঙের কাগজে মোড়া ছোট একটি প্যাকেট হাতে। সিমিকে দিলেন।

বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় এসে প্যাকেটটা খুললো সিমি। তিনটি চুলের কাঁটা। এটা যে তারই চুলের কাঁটা, সেটা চিনতে কষ্ট হলো না সিমির।

একটা সময় এমনও ছিল, এই ফ্ল্যাটে সে ঘুমিয়েছে, অসংখ্য সময় কাটিয়েছে। কাঁটা তিনটি কোথায় পড়েছিল, কে জানে।

কে কুড়িয়ে রেখেছিল ? ফেরত-ই বা দিলো কে ?

সিমির সামনে সব পরিস্কার হয়ে গেল নিমেষেই। তিশার কাজ এটা। এতদিন ধরে তার আন্তরিকতার আড়ালে যে ঘৃণা সে পুষে রেখেছিলো, সেটারই প্রমাণ আজ তার হাতে।

সব শোধ দিয়ে গেছে সে। সব শোধ নিয়েও গেছে সে।

*গল্প*

একজন 'র': একটি বেশব্লগ লিখেছে

                                                                                                          

একবার এক যুবক এক জ্ঞানী সন্ন্যাসীর সাথে দেখা করতে গেল। সন্ন্যাসীর সাক্ষাত পেয়ে তাকে বলল-
'আমি আপনার পরামর্শের জন্যে এসেছি। এখন পর্যন্ত আমার অযোগ্যতার জন্যে আমি কোন কিছুই করতে পারি নি। পরিচিত, স্বল্প-পরিচিত আর স্বজনেরা আমার ব্যর্থতার জন্যে আমাকে ভৎর্সনা করে আর আমার বোকামির জন্যে আমাকে ঠাট্টার পাত্র বানিয়ে রেখেছে। আমার এই ব্যর্থ জীবনের নিয়ে আমি বড় কষ্টে রয়েছি। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে এ জীবনের মায়া ত্যাগ করতে। আপনি দয়া করে আমাকে একটু সাহায্য করুন। আমার ব্যর্থতাকে উৎরে যাবার উপায় বলে দিন।"

জ্ঞানী সন্ন্যাসী যুবকটিকে একটু ভালো করে দেখলেন, তারপর দ্রুত বললেন-
"আমাকে ক্ষমা কর, এই মুহূর্তে আমি এত ব্যস্ত সময় পার করছি যে তোমাকে কোনরূপ সহায়তা করার সুযোগ আমার নেই। আমাকে খুব জরুরী ভিত্তিতে কিছু কাজ করতে হবে..." এতটুকু বলে তিনি একটু থামলেন। তারপর এক মুহূর্ত চিন্তা করে আবার বললেন, "কিন্তু তুমি যদি আমাকে আমার কাজে একটু সহায়তা করতে রাজী থাকো তবে আমি খুব দ্রুতই তোমার সমস্যায় তোমাকে সাহায্য করতে পারব।"

"অবশ্যই...অবশ্যই আমি আপনার কাজে সহায়তা করতে পারব" দ্রুতই উত্তর দিল যুবকটি।

যুবকের কথা শুনে জ্ঞানী সন্ন্যাসী বললেন, 'ভালো'। তারপর তার আঙ্গুলে থাকা একটি পাথর খচিত আংটি খুলে নিয়ে যুবকের হাতে দিলেন। তারপর বললেন, "আমার কিছু ঋণ রয়েছে কারও কাছে, তাই আংটিটি বিক্রি করা খুবই জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে। তুমি আমার ঘোড়াটি নিয়ে দ্রুত বাজারে যাও, আর আমার হয়ে আংটিটি বিক্রি করে আসো। তবে অবশ্যই তোমাকে আংটিটি একটু ভালো মূল্যে বিক্রি করার চেষ্টা করতে হবে। কোন অবস্থাতেই একটি স্বর্ণমুদ্রার কমে আংটিটি বিক্রি করো না, আর বিক্রি করে খুব দ্রুতই আমার কাছে ফিরে এসো।"

যুবকটি আংটিটি নিয়ে দৌড়ে ঘোড়ায় চড়ল এবং খুব দ্রুত স্থানীয় বাজারে গিয়ে পৌঁছল। সেখানে তখন অনেক বনিক ক্রেতাই দ্রব্যাদি ক্রয় বিক্রয়ে ব্যস্ত ছিল। যুবক আংটিটি নিয়ে ঐ বনিকদের নিকট গেল এবং তাদের সেটা দেখিয়ে বিক্রি করার চেষ্টা চালাতে লাগল। সকল বনিকই প্রথমে খুব আগ্রহ নিয়ে আংটিটি দেখছিল, কেউ কেউ ক্রয় করার ইচ্ছেও প্রকাশ করছিল। কিন্তু যখনই যুবক তাদের বলল অন্তত একটি স্বর্ণমুদ্রা না হলে সে আংটিটি বিক্রি করবে না, তখনই তাদের সব আগ্রহ উবে যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত এক বুড়ো বনিক যুবকটিকে ডেকে বুঝিয়ে বলল যে, এটি অত্যন্ত নিম্নমানের ধাতুর তৈরি আংটি আর আংটিতে থাকা পাথরটিও অনেক পুরানো। কোন বনিকই আংটিটি স্বর্ণমুদ্রার বিনিময়ে ক্রয় করতে রাজী হবে না। আর এই আংটির জন্যে একটি স্বর্ণমুদ্রা অনেক অনেক বেশি। তবে বৃদ্ধ বনিক বলল, যুবক যদি রাজী থাকে তবে তিনি কিছু তাম্র-মুদ্রা কিংবা অল্প কিছু রৌপ্যমুদ্রার বিনিময়ে আংটিটি ক্রয় করতে ইচ্ছুক।

বৃদ্ধ বনিকের এমন কথা শুনে যুবক আবারও হতাশ হয়ে পড়ল। যেহেতু জ্ঞানী সন্ন্যাসী তাকে এক স্বর্ণমুদ্রার কমে আংটিটি বিক্রয় করতে মানা করেছে তাই সে ভদ্রভাবে বৃদ্ধ বনিককে ব্যাপারটি জানিয়ে বিক্রি করতে পারবে না বলে জানাল। ইতোমধ্যে বাজারের প্রায় সকল বনিকের কাছে আংটিটি দেখানো সম্পন্ন হয়ে গেছে। বৃদ্ধ বনিক ব্যতীত আর কেউই আংটিটি ক্রয় করতে চায় নি। স্বর্ণমুদ্রা ব্যতীত আংটি বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়ে যুবক আবারও নিজের ভাগ্যকে মনে মনে গালমন্দ করতে লাগল। ঘোড়া চড়ে ফিরে চলল জ্ঞানী সন্ন্যাসীর কাছে।

"জনাব, আমি আপনার কাজটি করতে ব্যর্থ হয়েছি", জ্ঞানী সন্ন্যাসীর কাছে ফিরে এসে যুবকটি বলল। আরও বলল, 'বাজারে যারাই আংটিটি ক্রয় করতে চেয়েছিল তাদের সকলেই কিছু তাম্র কিংবা রৌপ্য মুদ্রার বিনিময়ে তা ক্রয় করতে চেয়েছে, কিন্তু আপনি আমাকে অন্তত এক স্বর্ণমুদ্রার কমে তা বিক্রি করতে মানা করায় আমি আংটিটি বিক্রি করতে পারিনি। শেষে এক বনিক আমাকে বললেন স্বর্ণমুদ্রার তুলনায় আংটিটি প্রায় মূল্যহীন, তাই কেউ কিনতে রাজী হবে না। এ কারণেই আমি ব্যর্থ হয়ে আপনার কাছে ফিরে এসেছি।'

সব কথা শুনে জ্ঞানী সন্ন্যাসী বলল,
'তুমি যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে এসেছ, তা কি তুমি জানো?
আংটিটি বিক্রি করার আগে তার প্রকৃত মূল্য সম্বন্ধে জানা খুব জরুরী, আর তা যদি তোমার জানা না থাকে তবে তুমি কখনোই সঠিক মূল্যে আংটিটি বিক্রি করতে পারবে না। আর এমন একটি আংটির মূল্য নিশ্চই তুমি শুধুমাত্র বাজারের বনিকের কথায় নির্ধারণ করবে না!
এক কাজ কর, তুমি বরং আংটিটি একজন জহুরির কাছে নিয়ে যাও। তার কাছ থেকে এর প্রকৃত দাম জেনে আসো। তবে এইবারে তুমি তার কাছে আংটিটি এবারে বিক্রি করো না, শুধু আংটিটির প্রকৃত দাম জেনেই আমার কাছে ফিরে আসবে।"

জ্ঞানী সন্ন্যাসীর কথা শুনে যুবক আবারও দ্রুততার সাথে ঘোড়া ছুটাল জহুরির সন্ধানে। পরে এক জহুরির কাছে গিয়ে আংটিটি পরীক্ষা করতে দিল। জহুরি অনেক লম্বা সময় ধরে আতশি কাঁচের নিচে রেখে আংটিটি নিরীক্ষণ করলেন। তারপর খুব সাবধানে আংটিটি একটি তুলাদণ্ডে রেখে ওজন পরিমাপ করলেন। সবশেষে যুবকের নিকট আংটিটি ফেরত দিয়ে বললেনঃ

"তুমি আংটির মালিককে গিয়ে বল তিনি যদি এখনই জরুরী ভিত্তিতে আংটিটি বিক্রি করতে চান তবে আমি তাকে এখন সর্বাধিক ৫৮টি স্বর্ণমুদ্রা দিতে পারব। কিন্তু তিনি যদি আমাকে কিছু সময় দিতে রাজী হন, তবে আমার বিশ্বাস এই আংটিটি আমি অন্তত ৯০ টি স্বর্ণমুদ্রার বিনিময়ে বিক্রি করে দিতে পারব।"

"৯০ স্বর্ণমুদ্রা!" , বিস্ময় নিয়ে যুবকটি চিৎকার দিল!
তারপর আনন্দে হেসে জহুরিকে ধন্যবাদ দিয়ে সেখান থেকে বের হল এবং দ্রুত ঘোড়া ছুটিয়ে জ্ঞানী সন্ন্যাসীর কাছে ছুটল।

যুবক যখন ফিরে এসে জ্ঞানী সন্ন্যাসীকে জহুরির বলা কথাগুলো জানাল তখন সন্ন্যাসী তাকে বলল,
"ছেলে, মনে রেখো, তুমিও এই আংটিটির মত বহু-মূল্যবান এবং অনন্য একজন! বাজারের বোকা বনিকদের মত তুমিও যদি তোমার পরিচিত, অপরিচিত আর আত্মীয়দের কথায় নিজেকে মূল্যায়ন কর আর এভাবে ভেঙ্গে যাও তবে কখনোই নিজের প্রকৃত মূল্য আবিষ্কার করতে পারবে না। তারচেয়ে বড় তোমার মেধা, তোমার বুদ্ধি আর তোমার যোগ্যতাকে আরও নিবিষ্ট ভাবে কাজে লাগাও। আর তা যদি করতে পারো তবে জহুরির মত বিজ্ঞ লোকই তোমার মূল্য বুঝতে পারবে। তাদের কাছেই তোমার নিজের প্রকৃত মূল্যায়ন তুমি বুঝে পাবে।"

 

 

 

 

⚍⚌⚎⚍⚌⚎⚍⚌⚎⚍⚌⚎⚍⚌⚎⚍⚌⚎
অনুবাদ গল্পঃ আত্মমূল্যায়ন▐
লেখকঃ অজানা▐
সূত্রঃ আন্তজালিকা▐
⚍⚌⚎⚍⚌⚎⚍⚌⚎⚍⚌⚎⚍⚌⚎⚍⚌⚎

*গল্প* *অনুবাদ* *ডায়েরি* *এলোমেলো*

সাদাত সাদ: [বাঘমামা-হাহাহা] একটা মেয়ে স্কুলে যাচ্ছে তাঁকে দেখে কয়েকজন কিশোর নানান ভঙ্গিতে তাঁকে ডিস্টার্ব করছে আবার কেউ শিস ও দিচ্ছে জোরে জোরে, মেয়েটি নিচুমাথা করে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর আরেকটি মেয়ে আসলো এই রাস্তা দিয়ে বোরকা পরে, তাঁকে দেখেও বখাটে রা সেই আগের মতোই করলো। তবে মেয়েটি হল এক বখাটের ছোটবোন। মেয়েটি তাঁর ভাইকে দেখে মুখের কাপড় সরিয়ে বলল, ভাইয়া তোমার কাছ তোমার ছোটবোন টাও রেখায় পেলনা? ........ (একটা গল্পের কিছু অংশ মাত্র)

*গল্প*

একজন 'র': একটি বেশব্লগ লিখেছে

এক পাখির দম্পতিদের একজন ছিল অন্ধ। অন্য পাখিটা নিজের পাশাপাশি অন্ধ পাখিটার দেখাশোনা করত। তার খাবার জোগাড় করা, বাসা তৈরি করা, নষ্ট বাসা পুনরায় ঠিকঠাক করা। এই সবই করত চোখে দেখা পাখিটা। অন্ধ পাখিটা শুধু তার অনুগ্রহেই বেঁচে থাকত। আর অবসরে দুজন মিলে খোলা আকাশে উড়ে বেড়াত। সেখানেও অন্ধ পাখিটাকে তার সাথী পাখিটা সহায়তা করত। গাইড করে তাকে উড়ে যাবার নির্দেশনা দিত। আর সেই নির্দেশনা মতই অন্ধ পাখিটা উড়ে চলত।

অন্ধ পাখিটার এই নিয়ে অনেক আফসোস ছিল। আফসোস ছিল কারণ দম্পতি হয়েও তারা একত্রে কোন কাজই স্বাধীন ভাবে করতে পারে না। একজন তার জন্যে খেটে মরে, আর অন্যজন সেই খাটুনির উপর জীবন নির্বাহ করে। প্রায়ই এই নিয়ে বিলাপ করত অন্ধ পাখিটা। কিন্তু সাথী পাখিটা তার প্রতিটা বিলাপের বিপরীতে তাকে সান্ত্বনা দিতো, সাহস যোগাত। নিজের এত খাটা-খাটনির পরেও অন্ধ পাখিটাকে সে কখনোই ছেড়ে যাবার কথা চিন্তা করত না। বলতে গেলে প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসা দিয়ে তাকে আগলে রাখার চেষ্টায় সর্বদা সচেষ্ট থাকত।

একদিন কোন এক বিকেলে অন্ধ পাখিটা তার সাথী পাখিটাকে জিজ্ঞাস করল-
- মনে কর কোন একদিন কোন কারণে আমি হারিয়ে গেলাম, কিংবা হারালাম ভুবন থেকে। তখন তুমি কি করবে?

জবাবে সাথী পাখিটি বলল-
- যেদিন ঐরকম কোন সময় আসবে সেদিন চিন্তা করব।

অন্ধ পাখিটা আবার জিজ্ঞাস করল-
- যদি দেখো কাল বিকেলে নীড়ে ফিরে দেখো তোমার আশ্রিত এই অন্ধ বিহাগ আর নেই এই নীড়ে। কিংবা জমে আছে শক্ত হয়ে। পিপীলিকারা আনন্দে আত্মহারা! খুঁটে খুঁটে তুলে নিচ্ছে তার অন্ধ চোখের অংশ গুলি। তখন কি করবে?

সাথী পাখিটা এবারে বলল-
- সে সময়ের কথাও সময়ে তোলা থাক। সময় ঠিকই জানে আমি কি করব তখন।

অন্ধ পাখিটা মনে মনে হাসল। কি অদ্ভুতুড়ে ভালোবাসাতেই না ডুবে আছে সে। অথচ বিনিময়ে তাকে কিছুই ফিরিয়ে দিতে পারছে কই! দীর্ঘশ্বাস আপনা-আপনি বের হয়ে আসল অন্তর হতে।

কিছুদিন বাদে এক বিকেলে দুজনে দুয়ে দুয়ে চার পাখা মেলে উড়ছিল মুক্ত আকাশে মনের আনন্দে। অন্ধ পাখিটা তার সাথীর বলে দেয়া পথ অনুসরণ করে উড়ে যাচ্ছিল, আর সাথী পাখিটা উড়ছিল অন্ধ পাখিটার চারপাশে, বৃত্তাকার, উপবৃত্তাকারের নানা ভঙ্গিতে। এভাবে ছুটে চলাতেই তাদের যত আনন্দ।

কিন্তু আনন্দটা আর কিছুক্ষন বাদে আনন্দ থাকল না। বলা নেই, কওয়া নেই হঠাৎ করেই ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করল। ফিরে যাবার দিক নির্দেশনা দিতে দিতে সাথী পাখিটা প্রাণপণে ছুটোছুটি করতে আরম্ভ করল। আর ওদিকে ঝড়ো হাওয়ার সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হল ধুলো। চারিপাশ অন্ধকার করে ঘিরে ধরল ধুলোর এক আস্তরণ। বাতাসের ঝাপটা আর ধুলোর ধাক্কায় বার বার পথ হারাচ্ছিল তারা।

ব্যতিব্যস্ত হয়ে পথের দিশা খুঁজে বের করে জোরে জোরে চিৎকার করে যাচ্ছিল সাথী পাখিটা। ধুলোর সাথে যুদ্ধ করার সময় তার খেয়ালে কিছুটা ভাটা পড়েছিল অন্ধ পাখিটার উপর থেকে। আর সেই সুযোগেই দমকা হাওয়া অন্ধ পাখিটাকে টেনে নিলো আপন দিশায়। এভাবে একটু একটু করে দূরত্ব বাড়ছিল তাদের। আর এভাবেই একটু একটু করে ভিন দিশায় ছুটে বেড়াচ্ছিল পাখি দুটো।

সাথী পাখিটা যখন মোটামুটি বালির চাদর ভেদ করে পথ খুঁজে বের করল তখন পিছনে ফিরে দেখে অন্ধ পাখিটা তার পেছনে নেই। ভয় পেয়ে গেল সে, তেড়ে গেল আবারও ধুলো-ঝড়ের দিকে।
কিন্তু কই! ধুলো ঝড় তো বিদায় হয়েছে। দমকা হাওয়াও তার এমনতর দুষ্টুমিতে লজ্জা পেয়ে কোথায় লুকিয়েছে। এখন কেউ এখানে নেই। তাহলে কোথায় গেল সে!

নিজের সর্বোচ্চ শক্তিকে ব্যয় করে ছুটল সাথী পাখিটা। চিৎকার করে ডাকতে লাগল অন্ধ পাখিটার নাম ধরে।
নেই! সে কোথাও নেই। বালি আর হাওয়া যেন একদম মিশিয়ে নিয়েছে অন্ধপাখিটাকে তাদের মাঝে।

সাথী পাখিটার চিৎকার ততক্ষণে আর্তনাদে রূপ নিয়েছে। ছুটল, কেবলই ছুটে বেড়াল সেই সন্ধ্যা থেকে ভোর অবধি। শেষ পর্যন্ত সূর্যের আলোও যখন তাকে তার অন্ধ সাথীকে খুঁজে দিতে পারল না তখন বাতাস আর বালিদের প্রতি প্রচণ্ড অভিমান করে ফিরতে শুরু করল নীড়ে। অন্ধ পাখিটির পরিণতি ভেবেও বার বার নিজেকেই দোষারোপ করছিল। কেন যে আজ উড়তে বের হয়েছিল, সে নিয়ে আফসোস করতে করতে নোনা জল ঝরাচ্ছিল চোখ থেকে।

ওদিকে অন্ধ পাখিটা ধীরে ধীরে বাতাসের ঝাপটায় ভিন দিশাতে কখন যে ছুটে চলেছিল তা সে নিজেও বুঝতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত যখন বুঝল তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। কান পেতেও সাথী পাখিটার কোন কথাই সে শুনতে পারছিল না। তখন সেও পাগলের মত সাথী পাখিটার নাম ধরে চিৎকার জুড়ে দিল। ছুটতে ছুটতে ঝড় পিছু ছাড়ল, বালির আস্তরণ অনেক অনেক পিছনে পড়ে রইল, কিন্তু সাথী পাখিটার কোন খোঁজ সে করতে পারল না। তবুও চিৎকার করতে করতে শক্তি শেষ হবার আগ পর্যন্ত উড়ে বেড়াতে লাগল।

কিন্তু এভাবেই বা কতক্ষণ! দিশা হারিয়ে কত সময়ই বা আর উড়ে চলা যায়। শক্তি ফুরিয়ে আসলে ক্লান্ত হয়ে ধীরে ধীরে নেমে আসল ভূমির দিকে। নিয়তি আজ তার নিশ্চিন্ত গাছের ডালে যে বিশ্বাসের আশ্রয় ছিল, তাও কেড়ে নিলো। নিজের দুঃখ নিয়ে বিলাপ করবারও আগে দুশ্চিন্তায় ঘিরে ধরল তাকে। সে তো ভুল দিশায় হলেও অবশেষে নিস্তার পেয়েছে ঐ নিষ্ঠুর বালি-ঝড় হতে। কিন্তু তার সাথী পাখি? সে কি বের হতে পেরেছিল ঐ ঝড় থেকে?

মনে এমন দুশ্চিন্তা নিয়েই কাটাতে লাগল সময়। হঠাৎ হঠাৎ যখন দূর থেকে কোন শব্দ ভেসে আসে তখনই চিৎকার করে সাথী পাখিটার নাম ধরে ডেকে উঠে। তারপর আবারও অপেক্ষাতে থাকে, এই বুঝি সাথী পাখিটা উড়ে এসে বলবে- "এভাবে পথ হারালে কেন! জানো না কতটা দুশ্চিন্তায় দৌড়ে বেড়িয়েছি আমি।"

সেই আশা আর পূরণ হয় না। ধীরে ধীরে ভোর হতে শুরু করে। চারিদিকের ব্যস্ততার শব্দ ঠিকই ভেসে আসে তার কানে। মাঝে মাঝে দূর আকাশে পাখিদের আলাপ করতে করতে উড়ে যাওয়া বুঝতে পারলে চিৎকার দেয় সাথী পাখিটার নাম ধরে। নিজে উড়ে যায় না। যদি উড়তে গিয়ে ভিন দিশাতে আরও দূরে কোথাও হারিয়ে যায়, সেই ভয়ে।

হঠাৎ একদল পাখি তার পাশে এসে নামল। অন্ধ পাখিটা মনে করল হয়তো তার সাথী পাখিটাই এসেছে। আনন্দে চিৎকার করে উঠে সে সাথী পাখিটার নাম ধরে। কিন্তু তার সাথী তো সেখানে নেই। পাখির দলটা অন্ধ পাখিটার কাছ থেকে তার ঘটনাটা শোনে। তারপর মোটামুটি একটা ধারণা নিয়ে তাকে তাদের সাথে উড়িয়ে নিয়ে চলে অন্ধ পাখিটার নীড়ের খোঁজে।

অনেক ঘুরতে ঘুরতে শেষ পর্যন্ত নিজের নীড়ের ঠিকানা খুঁজে পায় অন্ধ পাখিটি। আনন্দে আত্মহারা হয়ে চিৎকার জুড়ে দেয় সাথী পাখিটার নাম জুড়ে। কিন্তু সেই চিৎকারের বিপরীতে কোন সাড়া নেই। পাখির দল ভাবে হয়তো অন্ধ পাখিটার খোঁজে সাথী পাখিটা বের হয়েছে। সেজন্যেই কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তাই তারা অন্ধ পাখিটাকে নীড়ে পৌঁছে দিয়ে উড়ে যেতে থাকে আপন ঠিকানায়।

অন্ধ পাখিটা আপন নীড়ে প্রবেশ করে। সেও ভেবে নিয়েছে, সাথী পাখিটা হয়তো তার খোঁজেই ঘুরে ফিরছে। এখনই হয়তো যে কোন সময়ে হুট করে ফিরে আসবে সে। তারপর তাকে এখানে আবিষ্কার করে আনন্দে চিৎকার জুড়ে দিবে। হয়তো কেঁদে কেটে একটা হুলস্থুল কাণ্ডও ঘটিয়ে বসতে পারে।

এসব সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে আপন মনে নীড় জুড়ে হেঁটে বেড়াচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎই থমকে যেতে হল। থমকাল সাথী পাখিটার গায়ের গন্ধ পেয়ে। তার সাথী তো এখানেই আছে, এই নীড়েই রয়েছে সে। তবুও কেন তাকে দেখছে না? নাকি ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে সাথীটি তার? মনে এমন প্রশ্ন নিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে যেতে থাকল সাথী পাখিটার ঘ্রাণ বরাবর। হাটতে হাটতেই আবার হোঁচট খেল। সাথী পাখিটার গায়ের সাথেই হোঁচট খেয়েছে সে। মুখটা নামিয়ে সাথী পাখিটার গায়ে আদুরে ভঙ্গিতে ঘসতে লাগল অন্ধ পাখিটা। মাঝে মাঝে এমন করে সে। সাথী পাখিটা এমন করলে মনে মনে বেশ আনন্দিত হয়। যদিও মুখে বলে ভিন্ন কথা। এমন করলে বার বার বলতে থাকে- "কেন যে এমন ছেলেমানুষি কর"। অথচ তার কণ্ঠই বলে সেও মনে মনে এমন আদর বেশ উপভোগ করছে।

কিন্তু আজ তেমন কিছুই হল না। নিশ্চুপই পড়ে রইল সাথী পাখিটা। অন্ধ পাখিটা মনে করল কাল ঐভাবে তার কথা খেয়াল না করে পথ হারানোতে মান করেছে তার সাথী। তাই সে বলতে শুরু করল-
আমি কি ইচ্ছে করে এমনটা করেছি নাকি?
বাতাসের ধাক্কায় দিক হারিয়ে ফেলেছিলাম যে! নয়তো কি আর এমন হয় নাকি?

কিন্তু তাতেও কোন পরিবর্তন নেই সাথী পাখির। ওভাবেই গো ধরে পড়ে আছে সে।
এবারে অন্ধ পাখিটি ঘুরে সাথী পাখিটার সামনে চলে এলো। কিন্তু মেঝেতে এমন কি ফেলেছে তার সাথী। কেমন চিটচিটে হয়ে আছে মেঝে। পায়ে ঐসব চিটচিটে জিনিষ লেগে একাকার অবস্থা। তারপরও এগিয়ে এসে বার কয়েক ধাক্কা দিল সাথী পাখিটার গায়ে। কিন্তু না, কোন নড়াচড়াই নেই তার।

হঠাৎই অন্ধ পাখিটা বুঝতে পারল কেন সাথী পাখিটা আর নড়ছে না, কেন অভিযোগ করছে না তার পথ হারানো নিয়ে। চিটচিটে বস্তুটাই বা কি তাও বুঝতে আর কোন সমস্যা হল না তার।

ভোরে সাথী পাখিটা তার ক্লান্ত শরীর নিয়ে ফিরে এসেছিল নীড়ে। নীড়টা তৈরির সময় ঘরের এক কোণে সে লুকিয়ে রেখেছিল ভাঙ্গা একটি সুঁই। সন্তর্পণে সেই সুঁই বের করে নিয়ে আসে সে। এরপর সেই সুঁইটাকেই নিজের চোখ বরাবর গেঁথে দেয়। রক্তের ধারার সাথে সকল গ্লানি আর অপরাধ-বোধ বের হয়ে আসে তাতে ভেতর থেকে। ধীরে ধীরে নিথর হয়ে আসে তার শরীর।

অন্ধ পাখিটা এবারে আর কোন চিৎকার করে না, বিলাপ করে না আর। সে তার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছে। সময়ের কাছে তার যে প্রশ্নের উত্তর সাথী পাখিটি লুকিয়ে রেখেছিল, আজ ঐ উত্তর সে জেনে গেছে। জেনে গেছে নিয়তি তাকে পথ হারা করে কী ছিনিয়ে নিয়েছে তার আপন খেয়ালে...

 

 

 

 

 

*গল্প* *ডায়েরি* *এলোমেলো*

Risingbd.com: ছোটগল্প || অন্তর্জ্বালা http://www.risingbd.com/%E0%A6%9B%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA--%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE/160319

*বিনোদন* *আড্ডা* *গল্প* *ছোটগল্প*

মোঃ হাবিবুর রহমান (হাবীব): মা দিবসে *মা* নিয়ে পৃথিবীর সেরা ছোট গল্প । - ''অনেকদিন আগে এক গ্রামে এক মা আর তাঁর ছেলে বাস করতো। সেই ছেলে জীবনের নিয়মেই বড় হল। খানিক দূরের একটি মেয়ের সঙ্গে তাঁর প্রেমও হল। দুজনই-দুজনকে বড় ভালোবাসতো। দিব্যি চলছিল প্রেম। কিন্তু শুধু প্রেম আর কতদিন হবে! বিয়েটাও তো করতে হবে। ছেলেটি বিয়ের প্রস্তাব দিয়েই বসলো মেয়েটিকে। আপত্তি ছিল না মেয়েরও। শুধু ভাবী স্বামীকে একটাবারের জন্য পরীক্ষা করে নিতে চাইলো সে। তাই মেয়েটি বলল তাঁর প্রেমিককে, তুমি তো আমায় বেশি ভালোবাসো না। তুমি তো তোমার মাকেই ভালোবাসো। ছেলেটি আকাশ থেকে পড়ে বলল, না গো। আমি মাকেও ভালোবাসি আবার তোমাকেও খুব ভালোবাসি। কিন্তু মেয়েটির শুধু এই কথাতে মন গলবে কীভাবে! তাই সে সরাসরি বলল, আমাকে তুমি বোঝাও যে, তুমি তোমার মায়ের থেকেও আমাকে বেশি ভালোবাসো। ছেলেটি পড়ল বেজায় ফাঁপড়ে। সে বলল, আচ্ছা বাবা, বলো তোমার জন্য কী করতে হবে? মেয়েটি তখন বলল, তুমি তোমার মায়ের হৃত্পিণ্ডটা কেটে নিয়ে এসে আমার হাতে দাও। তাহলেই বুঝবো যে, তুমি তোমার মাকে নয়, আমাকেই বেশি ভালোবাসো। ছেলেটি যে তখন প্রেমে পাগল। বলল, আচ্ছা, তুমি যখন চাইছো, তাহলে তাই হবে। তাই ছেলেটি চলল তাঁর বাড়িতে। আর ছুড়ি বসিয়ে দিল দিব্যি তাঁর মায়ের বুকে। মারা গেল ছেলেটির মা। ছেলেটি তখন মায়ের হৃত্পিণ্ডটা খুবলে নিয়ে বেরিয়ে আসতে গেল ঘর থেকে। যাতে তাঁর প্রেমিকাকে সে এবার বিয়ের করতে পারে। ঘর থেকে বেরিয়ে আসার সময় ছেলেটি দরজার চৌকাঠে হোঁচট খেল। আর তাঁর হাত থেকে মায়ের হৃত্পিণ্ডটা ছিটকে পড়ে গেল দূরে। ছেলেটি সামলে নিয়ে উঠতে উঠতে শুনতে পেল, ওই হৃদপিণ্ডটা বলছে, 'আহা রে খোকা তোর লাগেনি তো?' এই হল মা। বুঝলেন। আর কোনওদিন মাকে কষ্ট দেবেন না। কারণ, আমার-আপনার সেই ক্ষমতাই নেই, যা দিয়ে 'মা'কে কষ্ট দেওয়া যায়। *মা* *ছেলে* *প্রেমিকা* *গল্প*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★