চিম্বুক পাহাড়

চিম্বুকপাহাড় নিয়ে কি ভাবছো?

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বাংলার দার্জেলিং খ্যাত চিম্বুক পাহাড়। প্রকৃতির অপার এই লীলাভূমির সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে দেশি বিদেশি হাজারও পর্যটক প্রতিদিন বাংলার দার্জেলিং ভ্রমনে আসে। ‘‘বাংলার দার্জিলিং’’ খ্যাত চিম্বুকের (Chimbuk Hills) নাম দেশের গন্ডী পেরিয়ে আজ বিদেশেও পরিচিত। এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী পর্যটন স্পট যা জেলা শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সমুদ্র পৃষ্ট হতে এর উচ্চতা প্রায় ২৬০০ ফুট। বন্ধুরা এবার তাহেল আর দেরি নেই চল বেরিয়ে পড়ি এক্ষনি। কারন এবার ক্যাম্পিং হবে বাংলার দার্জেলিং খ্যাত চিম্বুক পাহাড়ে।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতাসম্পন্ন পাহাড়গুলোর অবস্থান  বান্দরবানে। এর মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে বিজয় (প্রায় ৫০০০ ফুট), তাজিংডন(৪৫০০ ফুট), কেওক্রাডাং, চিম্বুক (৩২০০ ফুট), ইত্যাদি। পার্বত্য জেলার ১৩টি আদিবাসীর প্রায় সবগুলোর অবস্থান এই বান্দরবানে। আদিবাসীগুলো হচ্ছে চাকমা, মারমা, টিপরা, ম্রো, খুমি, লুসাই, বোম, উসুই, পাংখো, তঞ্চ্যঙ্গা, খ্যাং, ওচাক। তবে মারমা সমপ্রদায়ের লোকসংখ্যাই বেশি বান্দরবানে।

কি আছে এখানে
পুরো বান্দারবান জেলাই প্রাকৃতিক দৃশ্যে ভরপুর। বান্দরবান থেকে পুরো রাস্তা আকাবাঁকা উচুনিচু। চারিপাশের সবুজ পাহাড় আর বনরাজি দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে। অবাক হয়ে শুধু বলতে হবে এত সুন্দর আমার বাংলাদেশ! পাহাড়ের পর পাহাড়। কোথাও সবুজ, কোথাও কালচে সবুজ আবার কোথাও কচি সবুজের ছড়াছড়ি। দীর্ঘকায় পাহাড়গুলো যেন মেঘের চাদরমুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে আকাশের কোলে। অসাধারন সে মিতালী। পাহাড়ের ফাঁকদিয়ে সূর্যের আলো গলে পড়ছে অন্য পাহাড়ে। মাঝে মাঝে পাহাড়ের ঢালে ছোট ছোট পাহাড়ী ঘর। নয়নাভিরাম সে দৃশ্য। দেখলেই মন চায় ছুটে গিয়ে এক রাত থেকে আসি। এ যেন এক প্রাকৃতিক ক্যানভাস। সবুজের মাঝে ভিন্ন সবুজ। জুম ক্ষেতগুলো পাহাড়ের গায়ে ছোপ ছোপ কলাপাতা সবুজ ছিটিয়ে দিয়েছে পুরোটা অঞ্চলজুড়ে। কিযে সে রং এর খেলা! না দেখলে বিশ্বাস করানো যাবে না। এভাবে অপলক তাকিয়ে থাকতে থাকতে এক সময় পৌছে চিম্বুক (Chimbuk Hills) ।

চিম্বুকে (Chimbuk Hills) যাওয়ার পথের পাশে রয়েছে অসংখ্য উপজাতির আবাসস্থল। ঘরগুলো মাচার মতো উঁচু করে তৈরি। চিম্বুকের (Chimbuk Hills) চূড়া থেকে যেদিকে তাকাবেন সেদিকেই শুধু পাহাড় আর পাহাড়। সবুজ-শ্যামল পাহাড়ের দৃশ্য চোখ জুড়ানোর অবস্থা। পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে প্রবাহমান সাংগু নদী যা আপনাকে নিয়ে যাবে অনেক দূরে। ভাগ্য যদি ভাল হয় আর আবহাওয়া যদি আপনার পক্ষে থাকেতেবে চিম্বুকের (Chimbuk Hills) চূড়ায় দাড়িয়ে ছুয়ে দেখতে পারেন মেঘের দলকে। সে এক অসাধারন অনুভূতি।

এখানে থাকার জন্য সড়ক বিভাগের একটি রেস্ট হাউস রয়েছে । ইহা ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের একটি অত্যাধুনিক রেষ্ট হাউজ এখানে নির্মিত হয়েছে। কতৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে এখানেও রাত্রি যাপন করতে পারেন। এই রেষ্টহাউজে রাত্রি যাপনের অনুভূমি সম্ভবত একেবারেই আলাদা। এমন নির্জন পাহাড়ের (Chimbuk Hills) চুড়ায় চাঁদের সাথে নিশি বন্ধত্বা আপনাকে নষ্টালজিয়া করে তুলবে। এটি এতটাই অপরূপ যে সারা জীবন যদি একটি ভ্রমনের কথা সবাইকে বলতে হয় তবে হয়তো আপনি চিম্বুকের রাত্রিযাপনের বনর্নাই দিবেন।

কীভাবে যাবেন,কেমন খরচ?
ইউনিক, এস.আলম সহ বেশ কয়েকটি বাসে করে ঢাকা থেকে সরাসরি বান্দবন যেতে পারেন। ঢাকা থেকে ট্রেনে বা বাসে প্রথমে চট্টগ্রাম তারপর চট্টগ্রাম থেকে সোজা বান্দরবান। চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট টার্মিনাল থেকে পূরবী এবং পূর্বাণী নামক দুটি ডাইরেক্ট নন এসি বাস আছে ৩০ মিঃ পর পর বান্দরবানের উদ্দ্যেশে ছেড়ে যায়। বান্দরবন শহর থেকে চান্দেরগাড়ী কিংবা জীপগাড়ী করে যাওয়া যায় চিম্বুকে (Chimbuk Hills)।

ভাড়া
    ট্রেনে ঢাকা হতে চট্টগ্রামঃ এসি- ৩৬৫-৪৮০ টাকা। নন এসি-১৫০-১৬৫ টাকা।
    বাসে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামঃ এসি- ৫৮০-৭৯০ টাকা। নন এসি-২০০-২৫০ টাকা।
    ঢাকা থেকে বাসে সরাসরি চট্টগ্রামঃ ৩৫০ টাকা
    চট্টগ্রাম হতে বান্দরবনঃ ৭০ টাকা।
    ঢাকা – বান্দরবন বাস ভাড়াঃ ৩৫০ টাকা
    চাঁদের গাড়ীতে চিম্বুক যেতে ১৫০০-২০০০ টাকা
    জীপ গাড়ীতে চিম্বুক যেতে ২০০০-২৫০০ টাকা লাগবে

 কোথায় থাকবেন?
এখানে থাকার জন্য সড়ক বিভাগের একটি রেস্ট হাউস রয়েছে । ইহা ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের একটি অত্যাধুনিক রেষ্ট হাউজ এখানে নির্মিত হয়েছে। কতৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে এখানেও রাত্রি যাপন করতে পারেন।

তাছাড়া বান্দরবন শহরে থাকার জন্য অনেকগুলো ভাল ও মাঝারি মানের হোটেল রয়েছে। সেখানেও থাকতে পারেন।
বান্দরবনে পর্যটন কর্পোরেশনের একটি হোটেল আছে মেঘলাতে। এখানে থাকতে পারেন। বুকিং এর জন্য ফোন করতে পারেনঃ ০৩৬১-৬২৭৪১ এবং ০৩৬১-৬২৭৪২
    
হোটেল ফোর স্টারঃ 
এটি বান্দরবান বাজারে অবস্থিত। বুকিং ফোন:-০৩৬১-৬৩৫৬৬, ০১৮১৩২৭৮৭৩১,০১৫৫৩৪২১০৮৯

হোটেল থ্রী স্টারঃ 
এটি বান্দরবান বাস স্টপের পাশে অবস্থিত। নীলগিরির গাড়ী এই হোটেলের সামনে থেকে ছাড়ে। এটি ৮/১০ জন থাকতে পারে ৪ বেডের এমন একটি ফ্ল্যাট। বুকিং ফোনঃ ০১৫৫৩৪২১০৮৯।

হোটেল প্লাজা বান্দরবান: 
এটি বাজারের কাছে অবস্থিত। বুকিং ফোন:- ০৩৬১-৬৩২৫২।

হোটেল ভাড়া
 পর্যটন মোটেলঃ ৭৫০ হইতে ২০০০টাকা পর্যন্ত।
 হোটেল ফোর স্টারঃ সিঙ্গেল-৩০০ টাকা, ডাবল- ৬০০, এসি-১২০০ টাকা।
 হোটেল থ্রী স্টার : নন এসি ফ্ল্যাট-২৫০০ টাকা, এসি-৩০০০ টাকা।
 হোটেল প্লাজা বান্দরবান: সিঙ্গেল-৪০০ টাকা, ডাবল- ৮৫০, এসি-১২০০ টাকা।

কী খাবেন? 
বান্দরবান শহরে খাবার হোটলের মান তেমন ভাল নয়। তবে যে হোটেলে আপনি থাকবেন সে গুলোতে রেষ্টুরেন্টের ব্যবস্থা আছে। বান্দরবানে সব হোটেলে খাবারের মানের চেয়ে দামটা বেশী। রান্নায় মসল্লা ব্যবহার এবং হলুদের আধিক্য বেশী। হিল জুস,  নীলাচল ইত্যাদি বান্দরবনের বিখ্যাত খাবার খেতে ভুলবেন না।

সঙ্গে রাখতে ভুল করবেন না...
ভ্রমণকালে সুপেয় পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। এছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স ও অভিজ্ঞ টুর অপারেটর। বন কর্মকর্তার অনুমতি প্রাপ্তির পর ভ্রমণকালে সময়ে সুদৰ ও সশস্ত্র বন প্রহরী।
    
প্রয়োজনীয় ব্যবহারের কাপড়
এক জোড়া কেডস্
শীতবস্ত্রের সঙ্গে একটি করে বস্নাঙ্কেট
রেডিও
ক্যামেরা।
সবকিছু তো জানা হয়ে গেল, তাহলে এবার শুধু বেরিয়ে পড়ার পালা। চলো যাই ঘুরে আসি চিম্বুক পাহাড় থেকে। (সংকলিত)

*ক্যাম্পিং* *ভ্রমন* *বান্দরবান* *চিম্বুকপাহাড়* *ভ্রমনটিপস*

আড়াল থেকেই বলছি: *ভ্রমণগাইড* যারা বাস এ করে যেতে ইচ্ছুক --- বান্দরবন সদর থেকে ২০ টাকা রিক্সা যোগে সকাল ৮:৩০ মিনিটের মধ্যেই অথবা ১০:৩০ মিনিটের মধ্যেই ৩ নং স্টেশন যাবেন I তারপর ৯০ টাকা ভাড়ায় *চিম্বুকপাহাড়* * ১৬০ টাকা ভাড়ায় *নীলগিরি* এবং ২৫০ টাকা ভাড়ায় *থানচি* এবং থানচি থেকে ইচ্ছা করলে সর্বশেষ পাহাড়ি সীমানা *কিন্তু* ঘুরে আসতে পারবেন I

*ভ্রমণগাইড* *চিম্বুকপাহাড়* *নীলগিরি* *থানচি* *কিন্তু*

আড়াল থেকেই বলছি: *নতুনভ্রমন* এর জন্য যারা এখনো *নীলগিরি* *নীলাচল* *চিম্বুকপাহাড়* যাননি তারা সামনে শীতের ছুটিতে এই সব জায়গা থেকে ঘুরে আসতে পারেন I নীলগিরিতে কালো মেঘের হাতছানি, নীলাচলে পাহাড়ি ফলের সমাহার এবং চিম্বুকে *জুমচাষ* এর জন্য মন ভুলানো দৃশ্য I

*নতুনভ্রমন* *নীলগিরি* *নীলাচল* *চিম্বুকপাহাড়* *জুমচাষ* *ভ্রমনগাইড* *ঘুরেএলাম*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★