ছটিতে ভ্রমন

ছটিতেভ্রমন নিয়ে কি ভাবছো?

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

রূপের জাদু ছড়িয়ে আপনার মনযোগ কেড়ে নিতে বিন্দুমাত্র সময় লাগবেনা জাদুকাটার। মুহুর্তেই আপনি হারিয়ে যাবেন জাদুকরী সৌন্দর্যের আড়ালে। কিসের এই সৌন্দর্য্য? কেনই বা সে এতো সুন্দর? বন্ধুরা বলছি সুনামগঞ্জের জাদুকাটা নদীর কথা। চলুন তাহলে জেনে নেই জাদুকাটা নদী এবং তার আশেপাশের রহস্যময়ী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা...

জাদুকাটা নদীঃ
দুই পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে নেমে এসেছে নদী। যেমন অদ্ভূত তার সৌন্দর্য তেমন অদ্ভূত তার নাম। বিমুগ্ধ করার মতো। মায়াবী নদীটির নাম জাদুকাটা। জাদুকাটা নদীর জাদু সবাইকে কাবু করতে যথেষ্ট। জাদুকাটা নদীর গভীরতা কম। আর তার জল এতটাই স্বচ্ছ যে নিচের বালুকণা পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যায়। নদীর এক পাশে বিস্তীর্ণ বালুচর, অন্য পাশে সবুজ পাহাড়ের হাতছানি। কে না চায় এমন এক পরিবেশে নিজেকে কয়েকটা দিনের জন্য হারিয়ে ফেলতে!

জাদুকাটা নদীর অবস্থানঃ
সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে জাদুকাটার দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। কিন্তু বাসের রাস্তা নেই। যেতে হবে ভাড়া করা বাহনে অথবা নিজের মোটরবাইকে। এসব সমস্যা নিমেষেই হাওয়া হয়ে যাবে জাদুকাটার দর্শনে। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে চলে যেতে পারেন সুরমা নদীর সাহেববাড়ির ঘাটে। সেখান থেকে নৌকা যাত্রা। আধঘণ্টা পর দেখা মিলবে মণিপুরি ঘাটের। ঘাটে নেমে ভাড়ার মোটরবাইকে আবার যাত্রা শুরু। পলাশ বাজার, ধরপুর বাজার পেছনে ফেলে, চিনাকান্দি বাজার ছাড়িয়ে বাইক আপনাকে একেবারে নিয়ে যাবে পাহাড়ের কাছে। ডান দিকে চোখ দিলেই দেখা মিলবে মেঘালয়ের। এরপর বিজিবি ক্যাম্পের পাশ দিয়ে মোটরবাইক নিয়ে নেমে যেতে পারেন জাদুকাটার বালুচরে। মেঘ আর পাহাড়ের সমন্বয়ে এখানে নস্টালজিক হতে বাধ্য আপনি।

দৃশ্যমান জাদকাটাঃ
পায়ের নিচে জাদুকাটার ঠান্ডা জলের পরশ আর মাথার ওপরে পাহাড়। সেই পাহাড়ের পিঠ বেয়ে যেন বের হয়ে বাংলাদেশে এসেছে জাদুকাটা নদী। দেখে মনে হবে, নদীর উৎসমুখে দুই পাশ থেকে পাহাড় ঝুলে আছে। পেছনে আরও একটি পাহাড়ের দেখা মিলবে সেখানে। পশ্চিমে বারেকটিলা, পূর্বে শাহ আরেফিনের (রহ.) আস্তানা ও লাউড়েরগড় গ্রাম। সেই গ্রামের দক্ষিণ কোণের নদীতীরে রয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান। প্রতিবছর চৈত্র মাসে প্রায় একই সময়ে শাহ আরেফিনের আস্তানায় ওরস ও জাদুকাটা নদীতীরে পূণ্যস্নান হয়। দুই উৎসব ঘিরে সেসময় নদীতীরে বসে দুই ধর্মের মানুষের মিলনমেলা। হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে নদীর গা ঘেসে। একসময় এই জাদুকাটা নদীর তীরেই ছিল প্রাচীন রাজ্য লাউড়ের রাজধানী। সময়ের পরিক্রমায় সেখানে এখন রাজ্য নেই, নেই রাজধানীও। প্রাচীন সেই রাজ্যের নামের সাথে মিলিয়ে এখনও গ্রামটির নাম ‘লাউড়েরগড়’। গ্রামটিও ঘুরে দেখে আসতে পারেন।

বন্ধুরা, তাহলে আর দেরী কেন জাদুর টানে ঘুরে আসুন সুনামগঞ্জের জাদুকাটা নদী থেকে। আপনার ভ্রমন হোক নিরাপদ ও আনন্দময় এই শুভ কামনা রইল।


*ট্রাভেল* *ভ্রমন* *ভ্রমনটিপস* *ভ্রমনগাইড* *নদী* *সুনামগঞ্জ* *ছটিতেভ্রমন* *ঘুরেএলাম*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★