ছোটগল্প

ছোটগল্প নিয়ে কি ভাবছো?

Risingbd.com: ছোটগল্প || অন্তর্জ্বালা http://www.risingbd.com/%E0%A6%9B%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA--%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE/160319

*বিনোদন* *আড্ডা* *গল্প* *ছোটগল্প*

নিরাপদ নিউজ: সেলিনা জাহান প্রিয়ার ছোট গল্প: ‘​বৃষ্টির কদম ফুল ও নয়ন’ ১৯৮৩ সাল খুব বৃষ্টি সকাল থেকে কিন্তু তার স্কুলে যেতে হবে কারন সামনে ফাইনাল অংক আর ইংলিশ মিস করা যাবে না । তারা তিন বোন এক ভাই । দুই বোনের বিয়ে... বিস্তারিত পড়ুন- http://www.nirapadnews.com/2016/02/25/news-id:133401/

*ছোটগল্প* *আড্ডা* *সেলিনাজাহান* *সাহিত্য*

সাদাত সাদ: মেয়েটি যে রাস্তা দিয়ে স্কুলে যেতো ঠিক সেই রাস্তার পাশেই দাড়িয়ে থাকতো ছেলেটা। প্রতিদিনই দুজনের দেখা হতো কিন্তু কথা হতো না। এভাবে দির্ঘ কয়েক মাস অতিবাহিত হবার পর হঠাৎ একদিন ছেলেটা হারিয়ে গেল। এখন মেয়েটি প্রায়ই রাস্তার পাশে তাকিয়ে থাকে ছেলেটা কে দেখার জন্য।

*ছোটগল্প* *গল্পকথা* *স্মৃতিকথা* *গল্পমালা* *অবিশ্বাস্যভালবাসা* *নাবলাকথা*

জোবায়ের রহমান: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ইংরেজী এক শ শব্দে লিখিত গল্প তিনটি প্রকাশিত হয়েছে বিখ্যাত 'Reader’s digest' ম্যাগাজিনের অক্টোবর 2014 সংখ্যায়। মূল লেখায় আলাদা কোনো শিরোনাম নেই। কেবলই এক শ শব্দের গল্প।অনুবাদের ক্ষেত্রে অবশ্য শব্দ সংখ্যা ঠিক রাখা হয়নি। ইংরেজী অনুগল্প যতটুকু দেখা যায়, এতে কোনো একটা বিষয়ে আবছা ইঙ্গিত করা থাকে। বাকিটুকু পাঠককে ভেবে বের করতে হয়। এখানে তিনটি গল্প দেয়া হল।

অনুবাদঃ হামিদ


গল্প – ১

মূল লেখকঃ Tim Key 

দশ জন নারী প্রতি বৃহ:স্পতিবার সকালে নিজেদের কারো না কারো বাড়িতে কফি খেতে খেতে আড্ডা দিতেন। তাদের শহরটির নাম ছিল হানটিংডন। শহরের নামানুসারে হানটিংডনের নারী হিসেবে পরিচিত হয়।
একদিন ডায়ানা নামের 75 কেজির নারীটি পরামর্শ্ দিল, “আগামি সপ্তাহে আমরা কি তুরস্কের কোনো সমুদ্রতীরে মিলিত হতে পারি না।”
সবার মত সান্দ্রাও ভাবল ফালতু পেচাল।“আগামি সপ্তাহে আমার বাসায় আড্ডা হওয়ার কথা” – বলল সে।
ডায়ানা ভ্রূ কুঁচকে তাকাল তার দিকে।
পরের সপ্তাহে দেখা গেল তিন জন নারী ক্লুডেনিজএর কাছাকাছি একটা সৈকতে বসে আপেল চায়ে চুমুক দিচ্ছে, পাঁচজন সান্দ্রা’র
বাসায় গেল কফি খেয়ে আড্ডা দিতে আর দু’জন সকালবেলা কফিই খেল না।


গল্প  ২

মূল লেখকঃ Brian Staveley

মেয়েটির ইচ্ছে ছিল ট্রেনটিকে কেবল আমহার্স্ট পর্য্ন্তই নিয়ে যাবে। কিন্তু গাড়ির ঝমাঝম শব্দ আর জানালায় ক্রমশ বদলাতে থাকা দৃশ্যাবলী মেয়েটিকে সম্মোহিত করে ফেলল। গাড়িতেই বসে থাকল সে। দিন যায়। গ্রীষ্মের সবুজ পাতা শুকনো মচমচে হয়ে সোনালী রং ধরেছে। কিছু রাত যায় আকা্শ ভরা তারা। কিছু রাত কেবলই হিমশীতল।চলার পথে যখনই সে কোনো শহর অতিক্রম করত প্রতিটি শহর সম্পর্কেই বলত, “একদম না, একদম মনের মত না।”

ছয় ডলারে বিয়ার কিনতে গিয়ে পকেট ইতোমধ্যে খালি। পরিত্যক্ত বাদামী ব্যাগে হাতরে ফিরে ছাতাপড়া চিপস। মাঝে মাঝে আমহার্স্ট এর ভাবনাও মাথায় আসে তবে নাম মনে নেই। এক পর্যায়ে কোনো না কোনোভাবে ট্রেনটি একটি অজানা অচেনা লাইনের উপর দাঁড়াল। পেছনে যাবার উপায় নেই। সামনে কেবলই সামনের দিকে টেনে নেওয়া।


গল্প – ৩

মূল লেখকঃ Gemma Malley

বলিরেখাটি নতুন। আয়নায় যখন নারীটি নিজেকে কিছুটা কঠিন চোখে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছিল তখনই এটা চোখে পড়ে যা অসুখি হওয়ার নতুন আরেকটি অনুষঙ্গ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এখন সময়টা কেবল বিগত দিনের কথা মনে করে দুঃখ করা। সময়ের সাথে সাথে ক্ষয়ে যাচ্ছে যৌবন। বলিরেখাটির মধ্যে সে দেখতে পেল রৌদ্র-তাপে বাইরে কাটানো তার ছুটির দিনগুলো আর অনেক রাত্রি পর্য্ন্ত জেগে থাকা পার্টিগুলো। সে দেখতে পেল শিশুসুলভ ঘুমহারা রাতগুলো, দুশ্চিন্তা, অসুস্ততা, বাড়ির কাজ এবং পরীক্ষা। আরও দেখতে পেল তার কর্ম্জীবন – নানা সমস্যার সমাধান করা, সবার কথা শুনা, নেতৃত্ব দেওয়া এবং পৃষ্ঠ পোষকতা করার দিনগুলো। সে অনুভব করে এই বলিরেখা তার কর্ম্জীবনেরই প্রতিচ্ছবি, তার কঠোর পরিশ্রম আর নিষ্ঠারপ্র তীক, তার সারা জীবনের সত্যায়নকারী।
“তাহলে এটাকে মুছে ফেলার জন্য তৈরী আপনি?”
নারীটি শৈল্যচিকিৎসকের কথায় তার দিকে তাকাল, তার হাতে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ।
সে আবার বলিরেখাটির দিকে তাকাল এবং মাথা নেড়ে দৃঢ়ভাবে বলল, “অবশ্যই! লাগবেন বাজি?”
*অণুগল্প* *অণুবাদ* *ছোটগল্প* *ক্ষুদেগল্প*

জোবায়ের রহমান: একটি বেশব্লগ লিখেছে

হৃদয়ের গোপন কান্না

মস্তিস্ক হৃদয়কে সাহায্য করার চেষ্টা করে ।
হৃদয়ের ভবিষ্যত সম্পর্কে পুনরায় মস্তিস্ক বলে, ‘তুমি যাকে ভালোবাসো, তাকে হারাবে । একসময় সবাই চলে যাবে, এমনকি একদিন এই তামাম দুনিয়াটাও বিলীন হয়ে যাবে ।’
মস্তিস্কের মূল্যবাণ কথা শোনার পর হৃদয়ের মন ভালো হয়ে যায় ।
কিন্তু মস্তিস্কের কথাগুলো হৃদয়ের কানের ভেতর বেশিক্ষণ আটকে থাকেনি ।
এ রকম পরিস্থিতি হৃদয়ের কাছে আনকোরা, সম্পূর্ণ অপরিচিত ।
‘ওগুলো আমি ফিরে পেতে চাই,’ আকুলভাবে বললো হৃদয় ।
হৃদয়ের যা কিছু আছে, তার পুরোটাই মস্তিস্ক ।
‘সাহায্য করো মস্তিস্ক, সাহায্য করো হৃদয় ।’

[গল্পসূত্রঃ ‘ভেরাইটিজ অফ ডিস্টার্বেন্স’ গল্প সংকলনের ‘হার্ট উ্যঈপস্’ গল্পের অনুবাদ ।]


কোনটা চমকপ্রদ ঘটনা ছিল

সত্যি ঘটনা হলো যে, ওরা দু’জন প্রেমের গভীর সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে, যা নিঃসন্দেহে চমকপ্রদ । কেনোনা, নেই-সম্পর্কের চেয়ে যে কোনো ধরনের সম্পর্কই চমকপ্রদ, যেমন এই গল্পের দু’জন মানুষ একজন মানুষের চেয়ে চমকপ্রদ এবং জটিল আর কন্টকাকীর্ণ প্রেম সাদামাটা প্রেমের চেয়ে বেশি চমকপ্রদ । উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে কোনো রেস্তোঁরায় রাতের খাবার খেয়ে যখন একজন উচ্ছ্বল ও সুখী যুবতী তার প্রেমিকের হাত ধরে রাস্তা দিয়ে উল্লাসে হেঁটে যায় এবং যখন তারা ওপরের দিকে উঠতে থাকে, তখন যুবতী তার হাতের মুঠোয় উপভোগ করে যুবকের দীর্ঘ শরীরের মাথার কোমল চুলের আলতো পরশ । সেই সময় আগামী গ্রীষ্মের ছুটির পরিকল্পনা নিয়ে দু’জনে আলাপ করে, যেনো তারা তাদের যাত্রা সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত । এসব মুহূর্তগুলো তেমন চমকপ্রদ নয়, যেমন যখন তারা অন্তরঙ্গ এবং নির্লজ্জভাবে বসে একটা ট্যাক্সিতে চেপে ঘরে ফিরে কিংবা যখন চাবি হারিয়ে ফেলে, যুবতীটি যা পরে করেছে । অবশ্যই চাবি হারানোর বিষয়টি ট্যাক্সি করে ঘরে ফেরার ঘটনার চেয়ে বেশি চমকপ্রদ । যদিও যুবতীটি জানে না চাবি ঘরে ফেলে এসেছে, নাকি ট্যাক্সিতে হারিয়েছে, তবুও হারানো চাবি ঘরে কিংবা ট্যাক্সিতে আছে, সেটা জানার চেয়ে কিছু হারিয়ে যাওয়ার পর পুনরায় খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি বেশি চমকপ্রদ । তবে এটা সত্যি যে, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে যুবতীটি আসলে জানে না যুবকের সঙ্গে সে কোথায় ছিল, এমনকি যুবকটি তার কাছে কি আশা করেছিল এবং আগামীতে তাদের জীবনে কি ঘটনা ঘটবে ।

[গল্পসূত্রঃ ‘‘দ্য কালেক্টেড স্টোরিজ্ অফ লিডিয়া ডেভিস’ গল্প সংকলনের ‘হোয়াট ওয়াজ ইন্টারেস্টিং’ গল্পের অনুবাদ।]


আমার বাল্যবন্ধু

মাথায় উলের টুপি পড়া কঠোর দৃষ্টিতে তাকিয়ে কে এই বৃদ্ধ লোকটি হেঁটে যাচ্ছ ?
কিন্তু যখন আমি তাকে ডাকলাম, তখন বৃদ্ধ লোকটি ঘুরে দাঁড়ায় । হয় প্রথমে সে আমাকে চিনতে পারেনি, অথবা ভেবেছে শীতের ভারী কোট গায়ে বৃদ্ধা তার দিকে তাকিয়ে বোকার মতো হাসছে ।

[গল্পসূত্রঃ ‘দ্য প্যারিস রিভিউ’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ‘মাই চাইল্ডহুড ফ্রেন্ড’ গল্পের অনুবাদ ।]


মূলঃ লিডিয়া ডেভিস
অনুবাদঃ ফজল হাসান



লেখক পরিচিতি: সমকালীন আমেরিকান বিশিষ্ট ছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক এবং অনুবাদক লিডিয়া ডেভিস ১৯৪৭ সালে ম্যাসাচুসেটস্ রাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা একজন ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ও সমালোচক এবং মা একজন শিক্ষক ও ছোটগল্পকার। বিষয় এবং আঙ্গিকের দিক থেকে অসাধারণ এবং ব্যঙ্গকৌতুক গল্পের জন্য লিডিয়া ডেভিস সাহিত্য মহলে বিশেষভাবে পরিচিত। তার একমাত্র উপন্যাস ‘দি এন্ড অফ দি স্টোরি’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে। এ পর্যন্ত তার সাতটি গল্প সংকলন প্রকাশিত হয়েছে । এছাড়া তিনি বেশ কিছু ফরাসি সাহিত্যও অনুবাদ করেছেন। ফরাসি থেকে তার অনূদিত মার্শেল প্রাউস্টের ‘সোয়ানস্ ওয়ে’ এবং গুস্তাভ ফ্লবেয়ারের ‘মাদাম বোভারি’ ইংরেজি সাহিত্যের পাঠকের কাছে নন্দিত হয়েছে। সাহিত্য কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ‘ম্যান বুকার আন্তর্জাতিক পুরস্কার, ২০১৩’ লাভ করেন। এছাড়া ১৯৯৯ সালে তিনি ফরাসী সরকার কর্তৃক ‘শ্যাভেলিয়্যার অফ দ্য আর্টস্ এন্ড লেটার্স’-এর সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০৩ সালে ‘ম্যাকআর্থার ফেলোশিপ’ অর্জন করেন। বর্তমানে লিডিয়া ডেভিস নিউইয়র্কের আলবানি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সৃজনশীল লেখার’ অধ্যাপিকা। 

*অণুগল্প* *অণুবাদ* *ছোটগল্প* *ক্ষুদেগল্প*

জোবায়ের রহমান: একটি বেশব্লগ লিখেছে

মা

মেয়েটি একটি গল্প লিখেছে।
‘কিন্তু ব্যাপারটা কত বেশি ভালো হতো, তুমি যদি একটা উপন্যাস লিখতে।’ মেয়েটির মা বললো।
মেয়েটি পুতুলের জন্য একটা ঘর বানায়।
‘কিন্তু ব্যাপারটা কত বেশি ভালো হতো, তুমি যদি একটা আসল ঘর বানাতে।’ মেয়েটির মায়ের বক্তব্য।
মেয়েটি তার বাবার জন্য একটা ছোট্ট বালিশ তৈরি করে।
‘কিন্তু একটা লেপ বানালে কি ভালো হতো না?’ মেয়েটির মা বল্লেন।
মেয়েটি বাগানে ছোট্ট একটা গর্ত খোঁড়ে।
‘কিন্তু ব্যাপারটা কত বেশি ভালো হতো, তুমি যদি একটা বড় গর্ত খুঁড়তে।’ মেয়েটির মায়ের অভিমত।
সবশেষে মেয়েটি বাগানে একটা বড় গর্ত করে এবং ওটার ভেতরে ঘুমোতে গেল।
মেয়েটির মা বলেন-‘কিন্তু ব্যাপারটা কতটুকু ভালো হয়, তুমি যদি ওখানে চিরদিনের জন্য ঘুমাও।’

[গল্পসূত্রঃ ‘ব্রেক ইট ডাউন’ গল্প সংকলনের ‘দ্য মাদার’ গল্পের অনুবাদ।]


ভয়

প্রায় প্রতিদিন সাতসকালে আমাদের এলাকার একজন নির্দিষ্ট মহিলা ঘর থেকে দৌঁড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। তখন তার মুখ ফ্যাকাসে দেখায় এবং পরনের ওভারকোট বাতাসে উড়তে থাকে। এবং সেই সময় সে চিৎকার করে বলে, ‘খুব জরুরি বিষয়, খুবই জরুরি।’

মহিলার চিৎকার শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মাঝ থেকে এক মেয়ে তার কাছে ছুটে যায়। ভয় থেকে পুরোপুরি আশ্বস্ত হওয়া পর্য্যন্ত মেয়েটি মহিলাকে জড়িয়ে ধরে রাখে। আমরা জানি, মহিলা অভিনয় করে। তার এমন কিছুই ঘটে না। কিন্তু সহজেই আমরা তার ভণিতা বুঝতে পারি। কেননা আমাদের মাঝে কেউ না-কেউ নিদেন হলেও একবার মহিলার কাছে ছুটে গেছে। চুপ করে থাকার জন্য প্রতিবারের একই ঘটনায় আমাদের সবার শক্তি নিঃশেষ হয়েছে, এমনকি আমাদের পরিবার এবং বন্ধু-বান্ধবদেরও।

[গল্পসূত্রঃ ‘‘দ্য কালেক্টেড স্টোরিজ্ অফ লিডিয়া ডেভিস’ গল্প সংকলনের ‘ফিয়্যার’ গল্পের অনুবাদ।]


যুবক এবং গরিব

বাতির আলোয় ঘুমন্ত শিশুর পাশে আমি আমার ডেস্কে বসে কাজ করতে পছন্দ করি। মনে হয় আমি আবার যুবক এবং গরিব হয়ে গিয়েছি। 
কিন্তু এখনো আমি যুবক এবং গরিব।

[গল্পসূত্রঃ ‘দ্য কালেক্টেড স্টোরিজ্ অফ লিডিয়া ডেভিস’ গল্প সংকলনের ‘ইয়ং অ্যান্ড পুওর’ গল্পের অনুবাদ ।]



লেখক পরিচিতি: সমকালীন আমেরিকান বিশিষ্ট ছোটগল্পকার, উপন্যাসিক এবং অনুবাদক লিডিয়া ডেভিস ১৯৪৭ সালে ম্যাসাচুয়েটস্ রাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা একজন ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ও সমালোচক এবং মা একজন শিক্ষক ও ছোটগল্পকার। বিষয় এবং আঙ্গিকের দিক থেকে অসাধারণ এবং ব্যঙ্গকৌতুক গল্পের জন্য লিডিয়া ডেভিস সাহিত্য মহলে বিশেষভাবে পরিচিত। তার একমাত্র উপন্যাস ‘দি এন্ড অফ দি স্টোরি’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে। এ পর্যন্ত তার সাতটি গল্প সংকলন প্রকাশিত হয়েছে । এছাড়া তিনি বেশ কিছু ফরাসি সাহিত্যও অনুবাদ করেছেন। ফরাসি থেকে তার অনূদিত মার্শেল প্রাউস্টের ‘সোয়ানস্ ওয়ে’ এবং গুস্তাভ ফ্লবেয়ারের ‘মাদাম বোভারি’ ইংরেজি সাহিত্যের পাঠকের কাছে নন্দিত হয়েছে। সাহিত্য কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ‘ম্যান বুকার আন্তর্জাতিক পুরস্কার, ২০১৩’ লাভ করেন। এছাড়া ১৯৯৯ সালে তিনি ফরাসী সরকার কর্তৃক ‘শ্যাভেলিয়্যার অফ দ্য আর্টস্ এন্ড লেটার্স’-এর সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০৩ সালে ‘ম্যাকআর্থার ফেলোশিপ’ অর্জন করেন। বর্তমানে লিডিয়া ডেভিস নিউইয়র্কের আলবানি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সৃজনশীল লেখার’ অধ্যাপিকা। 
*অণুগল্প* *অণুবাদ* *ছোটগল্প* *ক্ষুদেগল্প*

গল্পের হাট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বাসাটিতে নতুন এসেছে উদয়। উপরের চিলেকোঠায় থাকে সে। অনেক কষ্টে উদয় এই বাসাটি ঠিক করতে পেরেছে। ভারাও তেমন একটা বেশি না। ওর নাগালের মধ্যেই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ওর রুমটি হচ্ছে ছাদের চিলেকোঠা। কিন্তু তবুও ও কষ্ট করে মানিয়ে নিবে। কারণ শহরে ব্যাচেলার দের বাসা ভারা দেয়না কেউ। এটাও দিতে চাচ্ছিলো না। একে উদয় ব্যাচেলার, আর দুই হচ্ছে এই বাড়িতে বাড়িওয়ালার উপযুক্ত মেয়ে আছে। তাই বাড়িওয়ালা ভারা দিচ্ছিল না। কিন্তু উদয় ওর এক বন্ধু মারফতে পায় বাসাটি। বন্ধুর চাচার বাসা। বন্ধু চাচার কাছে সুপারিশ করায় অবশেষে পাওয়া যায় বাসাটি।।তাছারা উদয় ও খুব ভদ্র ছেলে। উল্টা পাল্টা চলাচল নেই। কোন আড্ডা, নেশা, রাতে দেরি করে বাসায় ফিরা এসব কিছুই নেই উদয়ের মাঝে। উদয় যদিও ম্যাসেই থাকতে পারতো, কিন্তু ওর ম্যাস ভালো লাগে না। তাই এই বাসায় উঠা। এখানে থেকেই উদয় চাকরীর জন্য চেষ্টা চালাতে থাকে।


বেশ কিছুদিন হয়ে গেল উদয় এখানে থাকে। ভালো লাগছে বাসাটি ওর কাছে। প্রথমে ভেবেছিলো চিলেকোঠা তাই উঠবে না। কিন্তু উদয় এখন বুঝতে পারছে চিলেকোঠায় থাকার মজা। যখন খুশি ছাদে আসা যায়, ছাদে বসে বই পরা, দক্ষিণা বাতাস উপভোগ করা, রাতের আকাশ দেখা, চাঁদ মেঘের লুকুচুরি এই সব কিছু উদয় উপভোগ করতে পারছে এখন। যেটা হয়তো অন্য বাসায় পারতো না। তাই এই বাসাটা খুব ভালো লাগে ওর। মাঝে মাঝে ছাদে এসে কবিতাও আবৃত্বি করে উদয়। কিন্তু সেটা রাতের বেলা।

একদিন রাতে প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছিলো। উদয় রুমের দরজায় বসে বৃষ্টি দেখছিলো। এমন সময় উদয় দেখতে পায় ছাদে আরও কেউ আছে। একটা মেয়ে.. উদয় বুঝে যায় এটা বাড়িওয়ালার মেয়ে। বাড়িওয়ালার মেয়েকে আগে কখনো দেখেনি সে। আজ মেয়েটি কে প্রথম দেখছে সে। বৃষ্টি তে ভিজছে মেয়েটি। হাত দুটু দুপাশে ছরিয়ে দিয়েছে। মুখটা কে আকাশের দিকে উপুর করে রেখেছে।
চমকানো বিদ্যুতের আলোতে দেখা যাচ্ছে মেয়েটির মুখে বিন্দু বিন্দু পানি জমে আছে। আর সেই পানিতে অসম্ভব মায়াবতী লাগছে মেয়েটিকে। অনেক্ষন তাকিয়ে থাকে উদয়। তারপর নিজের অজানতেই। নিজেও ভিজতে শুরু করে বৃষ্টি তে। পাশে গিয়ে দাঁড়ায় মেয়েটির। মেয়েটি তখনও আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলো। হঠাৎ জোরে একটা বাজ পরে। বাজের শব্দে ভয় পেয়ে চিৎকার দিয়ে মেয়েটি উদয় কে জড়িয়ে ধরে। উদয় কিছু বুঝতে পারে না। একটু পর মেয়েটি উদয় কে ছেরে দিয়ে একপাশে দাঁড়িয়ে থাকে। সে বুঝতে পারে না কখন উদয় কে ধরলো। চুপ করে নিচে চলে যায় মেয়েটি। ছাদে দাঁড়িয়ে মেয়েটির চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে থাকে উদয়। তখনও বৃষ্টি হচ্ছিলো। উদয় অনেক্ষন ভিজে, তারপর বৃষ্টি থেমে যাওয়াতে উদয় চলে যায় ওর রুমে। মেয়েটির কথা ভাবতে থাকে উদয়। কত মায়া মেয়েটির মুখে। মেয়েটির কথা ভেবেই সারারাত ঘুম হয়নি ওর।


পরদিন সকাল। উদয় ছাদে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটির অপেক্ষায়। সে ভেবেছে হয়তো এখন মেয়েটি ছাদে আসবে। উদয়ের ভাবনা সত্যি করে একটু পরই মেয়েটি ছাদে আসে। মেয়েটি কে দেখে উদয় পানির ট্যাংক এর ওখানে লুকিয়ে থাকে। মেয়েটি ছাদে এসে উদয়ের ঘরের দিকে যায়। গিয়ে দরজায় উঁকি দিয়ে দেখে সে আছে কিনা। উদয়কে দেখতে না পেয়ে কি যেন একটা ছুরে দেয় ওর রুমের ভিতর। দিয়ে নিচে চলে যায় আবার। উদয় দ্রুত ফিরে আসে ওর রুমে। এসে দেখে বিছানার উপর একটুকরো নীল কাগজ পরে আছে। সেটাতে সুন্দর হাতে লেখা, "কাল রাতে হঠাৎ এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্য দুঃখিত"।
চিরকুট টি পড়ে মুচকি একটা হাসি দেই উদয়। তারপর একবার নিচে থেকে ঘুরে আসে। চেষ্টা করে মেয়েটিকে দেখার জন্য। উদয় এখনও মেয়েটির নাম জানে না। নিচে গিয়েও মেয়েটি কে দেখতে পায়নি। মন খারাপ হয়ে যায় উদয়ের। আবার চলে আসে উপরে। হঠাৎ মনে পরে আজ ওর একটা ইন্টার্ভিউ আছে। সে তৈরি হয়ে চলে যায় ইন্টার্ভিউ দিতে।


ইন্টার্ভিউ শেষে বিকেলে বাসায় ফিরে উদয়। রুমে ঢুকেই আবারও বিছানায় আরও একটি নীল কাগজ দেখতে পায়। হাতে নেয় কাগজটি। কাগজটি তে লিখা ছিলো "স্যরি বলেছি তো। আবার নিচে খুঁজতে এসেছেন কেন? নিচে আমাকে খুঁজতে আসবেন না।"
এবার উদয় বুঝতে পারে যে সে নিচে খুঁজার সময় মেয়েটি ওকে লুকিয়ে দেখেছে।
.
.
বিকেলে উদয় ছাদে দাঁড়িয়ে আছে। একটা কবিতা আবৃত্তির চেষ্টা করছিলো। এমন সময় উদয় বুঝতে পারে ওর পাশে কেউ এসে দাঁড়িয়েছে। পাশে ফিরে তাকায় উদয়। দেখতে পারে সেই মেয়েটি কে। মেয়েটি রাগি রাগি মুখে উদয় কে জিজ্ঞেস করে...
--সকালে নিচে খুঁজতে গিয়েছেন কেন?
.
--আমার রুমে কেউ কিছু দিয়ে যাবে। সেটা কি আর কেন তা জানবো না? জানার জন্যই খুঁজেছি। কিন্তু লুকিয়ে ছিলেন কেন।
.
--আমি তো লিখেই দিয়েছিলাম কেন? আর লুকিয়ে থাকবো না? আপনি আমায় লুকিয়ে দেখেছিলেন আমি পারবো না কেন? আর খবরদার আর নিচে জাবেন না।
.
--কেন দেখবেন? আর আমি নিচে না গেলে বাহিরে যাবো কি করে? আমার তো পাখা নেই যে উঁরে যাবো।
.
--তা আমি জানি না। কিন্তু আবার যদি আমাকে খুঁজতে দেখি তাহলে আব্বুর কাছে নালিশ করবো।
বলেই মেয়েটি হাটা ধরে। উদয় পেছন থেকে ডাক দিয়ে নাম জিজ্ঞেস করে। মেয়েটিও নাম বলে "নিধি"। তারপর মুখ বাকিয়ে চলে যেতে থাকে। সিড়ির রুমের দরজার কাছে গিয়ে আবার ফিরে দাঁড়ায়। তারপর মুচকি একটা হাসি দিয়ে বলে..
"নিচে যেতে পারেন, আমাকেও খুঁজতে পারেন। কিন্তু আব্বু দেখলে খবর আছে"
বলেই চলে যায় নিধি। উদয় বুঝতে পারে যে নিধি গ্রিন সিঙ্গন্যাল দিয়েছে। খুশিতে লাফিয়ে উঠে উদয়। হঠাৎ মনে পরে মেয়েটির নাম। নিধি। কি সুন্দর একটা নাম। মেয়েটির মত মেয়েটির সব কিছুই সুন্দর।


তারপর থেকে রোজ ছাদে দেখা করতো দুজন। অনেক কথা বলতো দুজনে মিলে। নিধি একদিন ছাদে না আসলে উদয় নিচে গিয়ে ওকে খুঁজতো। আর উদয় নিচে না গেলে নিধি ছাদে এসে অভিমান করে বসে থাকতো। এভাবেই দুজনের খুব ভালো চলছিলো। দুজনই বুঝতে পারে দুজন দুজন কে খুব ভালোবেসে ফেলেছে। কিন্তু কেউ মুখ ফুটে বলছে না। নিধিও আর সহ্য করতে পারছে না। কিন্তু নিজেও বলছে না। তাই সে প্ল্যানিং করে যে করেই হোক উদয় কে দিয়েই বলেতে হবে। প্ল্যান মত নিধি বিকেলে ফোন নিয়ে ছাদে যায়। যাওয়ার আগে নিধি ওর এক বান্ধবী কে বলে গিয়েছিল যেন ওকে ঐ টাইমে কল দেয়।
.
.
নিধি বসে উদয়ের সাথে আড্ডা দিচ্ছে। এমন সময় নিধির নাম্বারে বারবার ফোন আসতে থাকে। কিন্তু নিধি কেটে দেয়। একসময় উদয় জিজ্ঞেস করে যে কে কল দিচ্ছে? নিধি বলে যে ওর বয়ফ্রেন্ড। কথাটা শুনে স্তব্ধ হয়ে যায় উদয়। ওর যেন কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। বেশ কিছুক্ষন চুপ করে থাকে উদয়। তারপর আস্তে করে জিজ্ঞেস করে
.
--কবে হলো? আগে তো কখনও বলোনি?
.
--আগে তো ছিলো না। নতুন হয়েছে। তাই এখনও বলি নি।
.
--ও... আচ্ছা তোমরা কথা বলো।
বলেই উদয় নিজের রুমের দিকে যাওয়ার জন্য উঠে...। কিন্তু নিধি পেছন থেকে উদয়ের হাত ধরে ফেলে।
.
--কোথায় যাচ্ছো?
.
--রুমে, একটু কাজ আছে। তুমি এখন বয়ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলো।
.
--আরে তুমি চলে গেলে বয়ফ্রেন্ড পাবো কই?
.
--মানে?
.
--আরে বুদ্ধু.. আমার অন্য কোন বয়ফ্রেন্ড নেই। আমি তোমাকেই ভালোবাসি। আর জানি তুমিও আমাকে ভালোবাস। কিন্তু বলছো না। তাই তোমাকে দিয়ে আগে বলানোর জন্য এই প্ল্যানিং। আর যে কল আসছিলো ঐটা আমার বান্ধবী দিচ্ছিলো। কিন্তু আমাকেই আগে বলতে হলো। গাধা একটা।
.
--হা হা হা, আমি জানি তুমি এমন কিছু করবে। তোমার ফ্রেন্ড আমাকে আগেই ফোন করে সব বলে দিয়েছে। তাই তো আমি ভাব নিচ্ছিলাম তোমাকে দিয়ে বলানোর জন্য।
.
বলেই হাসতে থাকে উদয়। আর তা দেখে নিধি রেগে গিয়ে তেরে যায় উদয়ের দিকে। উদয়ও দৌড়াতে থাকে নিধির কিলের হাত থেকে বাঁচার জন্য। 
*ছোটগল্প*

গল্পের হাট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

অনেকক্ষণ ছাদে দাড়িয়ে নিচের দিকে মুখ করে ব্যাস্ত শহরের ব্যাস্ত রাস্তা ঘাট পর্যবেক্ষণ করছিলো ঐন্দ্রিলা। কি বিদঘুটে একটা শহর রে বাবা!!! সারাদিনে বাসার ছাদে এই এক দুই ঘন্টা সময় কাটানো ওকে অনেকটা শান্তি দেয়। সূর্য না ডোবা পর্যন্ত অপেক্ষা করে প্রতিদিন ঐন্দ্রিলা। এই সময়টাতে, সারাদিন এ ছাদে,ও ছাদে ঘুরতে থাকা ঝুটি ওয়ালা, নীল পেখম ওয়ালা, সাদা, কালো কবুতর আর পায়রাগুলো ছাদের রেলিং এ এসে ভীর জমায়। এর মধ্যে দুটো ঝুটি ওয়ালা সাদা কবুতর খুব দুষ্টু। দুইজন শুধু ঝগড়া করে আবার ওদের মধ্যে খুব ভাব। আর এই ব্যাপারটা শুধু অনুভব করতে পারে ঐন্দ্রিলা আর জুলেখা। জুলেখা পায়রা গুলোর দেখা-শুনা করে। পায়রাগুলোর খাবার দেওয়া, ঘর পরিষ্কার করা সব জুলেখা করে থাকে। প্রায় সাতাশটা পায়রার মধ্যে ঐন্দ্রিলার আর জুলেখার ঐ পায়রা দুটোকেই সবচাইতে বেশি ভালো লাগে।

জুলেখা হচ্ছে বাড়িওয়ালাদের গৃহপরিচালিকা। পায়রার দেখাশোনাকারী আর ঐন্দ্রিলার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। ঐন্দ্রিলা জুলেখাকে জুলি বলে ডাকে। দুজনের মধ্যে খুব ভাব। ঐন্দ্রিলার আম্মু অনেকবার বলেছে জুলেখার সাথে মিশবে না তুমি। এখনকার কাজের মেয়েদের বিশ্বাস নেই। কে শোনে কার কথা! তারপরেও ঐন্দ্রিলা জুলির সাথে মেশে। সারাবিকেল গল্প, হাসাহাসি আর খুনসুটিতে মেতে থাকে। কারণ ও জানে জুলি ওরকম টা নয়,যেরকম আম্মু ভাবছে। জুলি ঐন্দ্রিলাকে অনেক কথা বলে। ছোটোবেলার গল্প, গ্রামের গল্প,বৃষ্টির দিনে শাপলা তুলতে যাওয়ার গল্প। আরো বলেছিলো, একদিন নাকি জুলেখা কাদের বাগানে পেয়ারা চুরি করতে গিয়েছিলো। ধরা খেয়ে মায়ের হাতে নাকি খেয়েছিলো কান মলা!!! ঐন্দ্রিলা শুনে হেসে হেসে কুটিকুটি হয়েছিলো………।।
ঃ আমার এই দুঃখে আপনি হাসতেছেন!
ঃ আচ্ছা আচ্ছা! আর হাসবো না। বল, তারপরে কী হয়েছে???
ঃ না আমি আর কিছু বলবো না। আপনি মানুষ ভালা না!
ঃ হি হি হি! রাগ করলি???
ঃ নাহহ! হুহহ!!
ঃ তোর না কী একটা স্বপ্ন আছে! কালকে বলেছিলি আজকে বলবি। বল, কী সপ্ন।
ঃ (নড়েচড়ে বসল জুলেখা) সত্য আপনি শুনবেন? আমার সপ্নের কথা শুনবেন?
ঃ কেনো শুনবো না! বল শুনছি।
ঃ আমার সপ্ন আমি একদিন মস্ত বড় এক নায়িকা হমু। মৌসুমী আপার মতো। সবাই আমার সিনামা দেখার লাইগা ভিড় জমায়বো। সবাই কইবো ঐ দেখ, নায়িকা জুলেখা!!!
ঃ আআএ! কী!!! সব বাদ দিয়ে নায়িকা হবি কেনো!!! আর সিনামা না। ঐটাকে সিনেমা বলে। নায়িকা জুলেখা! নামটা কেমন বিশ্রী শুনায় রে!!!
ঃ তাই না আপা??? ঠিক আছে আপনার দেওয়া নামটায় কমু জুলি। এইবার ঠিক আছে??? আর নায়িকা হওয়ার শখ আমার ছোটবেলা থেইক্কা।
ঃ নায়িকা হলে তো নাচতে হয়। তুই নাচতে পারিস? একটু নেচে দেখা তো! হি হি হি!!!
ঃ আপনিও যে কি কন না আপা! ধুর!!!
লজ্জা পেয়ে দৌড়ে সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে যাই জুলি। আর ঐন্দ্রিলার হাসি থামছেই না। মনে মনে ভাবছে, জুলি মেয়েটা বড্ড সরল। ঐন্দ্রিলা পিছন ফিরতেই দেখতে পায়, সূর্যটা পশ্চিমের রক্তাভ দিগন্তে ঢলে পড়েছে। আলোটা ঠিকরে পড়েছে। ঐন্দ্রিলার উজ্জ্বল চোখদুটিতে। ঐ আলোটার মতোই হাল্কা জুলি, কিন্তু প্রানবন্ত। জুলির বাবা নেই। গ্রামে থাকে অসুস্থ মা আর একটা ভাই সে বাক-প্রতিবন্ধী। ও আমাকে যখন বলে প্রায় ওর মালিক, যাকে ঐন্দ্রিলা বাড়িওয়ালা আন্টি বলে জানে সে জুলি মার-ধর করে তখন খুব রাগ হয় ঐন্দ্রিলার। এর পর থেকে তাকে দেখলে আর কোনো কথায় বলে না ও। মানুষ এত্ত নিষ্ঠুর হয় কীভাবে। সত্যি এর উত্তর জানা নেই ঐন্দ্রিলার। জুলি ঐন্দ্রিলাকে আরো বলেছিলো, বাড়ীওয়ালাদের একমাত্র আদরের ছেলে রনিও নাকি খুব জ্বালাতন করে জুলিকে। ছেলেটা তেমন সুবিধার না! ঐন্দ্রিলা অনেকবার দেখেছে তাকে রাস্তায় মেয়েদের উত্যক্ত করতে। তাই ঐন্দ্রিলা জুলিকে সাবধান হতে বলেছিলো।

২ দিন পর…………………………………
ঐন্দ্রিলা ছাদে একটা টুলে আকাশের দিকে মুখ করে বসে আছে। সকালের আকাশটা অনেক পরিষ্কার। ভ্রমর কালো চোখদুটো জল আটকানোর চেষ্টায় ব্যর্থ। দু দিন ধরে জুলি ছাদে আসে নি। গত দুইদিন ধরে জুলি নিখোঁজ। কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না ওর। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে এর জন্য বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ নেই কারো। বাড়ীর মালিক বলে বেড়াচ্ছে,খারাপ মেয়েমানুষ ছিলো। মনে হয়, পালিয়ে গেছে কারো সাথে। সবাই বিশ্বাস করছে। কিন্তু ঐন্দ্রিলা প্রচণ্ড অপরাধবোধে ভুগছে। কারন ও সব জেনেও, কিছু করতে পারে নি। কিন্তু জুলি তো বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার আগে অবশ্যই ঐন্দ্রিলাকে বলে যেতো। তাহলে কেনো বলল না!!!! ভাবতে ভাবতেই ঐন্দ্রিলা চায়ের কাপে চুমুক দিলো। হঠাত আজকের পত্রিকার প্রথম পাতাটায় চোখ পড়লো ওর। বড় বড় করে গাঢ় কালো কালিতে লেখা, “এক কিশোরীর অজ্ঞাত লাশ পাওয়া গেছে। ধারনা করা হচ্ছে পতিতা বৃত্তি তার মৃত্যুর কারণ”। ইনসেটে একটা ছবি দেওয়া ছিলো। ছবিটা চিনতে ঐন্দ্রিলার এক মুহূর্তও দেরি হয় নি। ঐন্দ্রিলা বাসা থেকে বের হবে এমন সময় ওর মা বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
ঃ কোথায় যাচ্ছিস তুই???
ঃ জুলির কাছে। ওর খুব বিপদ মা। আমাকে যেতে দাও প্লিজ মা। ওর আমাকে খুব প্রয়োজন মা। প্লিজ যেতে দাও।
ঃ না। এখন আর সেটার কোনো প্রয়োজন নেয়। জুলেখা মরে গেছে। ও একটা নষ্ট মেয়ে ছিলো। তুই যাবি না।
ঃ ও কোনো নষ্ট মেয়ে ছিলো না। ওকে নষ্ট করা হয়েছে মা। সেটা তুমি খুব ভালো করেই জানো। আমাকে কিছুতেই আটকাতে পারবে না তুমি।
ঃ তাহলে আমাকে মেরে ফেলে চলে যা তুই। মা হয়ে চোখের জুলেখার মতো তোর সর্বনাশ দেখতে পারবো না আমি। তাই মরে যাওয়াই ভালো।
ঃ মা!!!
ঐন্দ্রিলা জড়িয়ে ধরে মাকে। সজোরে কাঁদতে থাকে, “ আমি সব জেনেও কিছু করতে পারলাম না মা। আমি কিচ্ছু করতে পারলাম না।”

আর কখনো ছাদে ওঠেনি ঐন্দ্রিলা। জুলি থাকাবস্থায় সেই মিষ্টি হাসিটা আর কখনো দেখা যায়নি ঐন্দ্রিলার মুখে। এখন আর ঐ পায়রা দুটোও দুষ্টুমি করে না। এখন আর কারো সরলতা দেখে মুগ্ধ হয় না ঐন্দ্রিলা। কেউ আর অদ্ভুত মিষ্টতা নিয়ে হেসে হেসে বলে না আমি নায়িকা হবো। ঐন্দ্রিলা পারে নি জুলি নিয়ে সুখের গল্প লিখতে, পারে নি সেই গল্পের নায়িকা বানাতে। লিখেছে এক নষ্ট গল্প। বানিয়েছে সেই নষ্ট গল্পের নষ্ট নায়িকা………। 
*ছোটগল্প*

গল্পের হাট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

মেঘা খুব অস্বস্তি বোধ করছে। অস্বস্তি এর আগেও সে অনেকবার বোধ করেছে, তবে এটা একেবারে অন্যরকম। পরিস্থিতিটাও আলাদা। মেঘার চারপাশে সবাই নানা বিষয় নিয়ে হাসি আনন্দে মশগুল, আলোচনায় মত্ত। কিন্তু ও এসবের কিছুতেই যোগ দিতে পারছেনা। আড়ষ্ট হয়ে সোফার এক কোণে বসে আছে। একজন নোংরা দৃষ্টি দিয়ে তাকে আপাদমস্তক চাটছে। ওর ওপর থেকে মানুষটার চোখদুটো একবারের জন্যও সরছেনা। অবশ্য ওটাকে যদি মানুষ বলা যায়! ওটা অর্ধমানব। বিকলাঙ্গ একজন মানুষ কারো দিকে নোংরা দৃষ্টিতে একভাবে তাকিয়ে থাকলে তাকে আর মানুষ বলার উপায় থাকেনা। হ্যাঁ, দৃষ্টিটা নোংরা। মেয়েরা এসব অনেক ছোটবেলা থেকেই বুঝতে পারে। মেঘাও বুঝতে পারছে।

মামাতো বোনের জন্মদিনের অনুষ্ঠান উপলক্ষে মামার বাড়িতে এসেছে মেঘা। মামাতো বোন আনিকা অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়লেও এখনো মামা-মামি তার জন্মদিন খুব জাঁকজমক করে পালন করেন। অনেকদিন মামাবাড়ি না এলেও, এবার ভার্সিটি ছুটি থাকায় চলে এসেছে।

কিছুক্ষণ আগে কেক কাটা হয়েছে। বাড়ির আশেপাশের বেশ কিছু মানুষ ড্রইংরুমে বসে রাজনৈতিক আলোচনা করছে। গৃহিণীরা যথারীতি চালিয়ে যাচ্ছে তাদের প্রিয় হিন্দী সিরিয়াল বিষয়ক গল্প। আনিকা ওর বান্ধবীদের সাথে নিচু স্বরে কথাবার্তা চালাচ্ছে আর মাঝে মাঝে নিচুস্বরে হাসছে। মেঘার ধারণা ছিলোনা এমন নিচুস্বরে ফিসফিস করেও হাসাহাসি করা যায়। নিশ্চয়ই নিষিদ্ধ কোন ব্যাপার নিয়ে আলোচনা চলছে। মেঘা ওদের সাথে ভালোভাবে মিশতে পারছেনা। পারার কথাও না। সে কোনকালেই মিশুক টাইপ মেয়ে ছিলোনা। আর এখানে তো ও নতুন।

ঘরের সবাই আড্ডায় মশগুল থাকলেও দুজন মানুষ একেবারে চুপচাপ বসে আছে দুই প্রান্তে। একজন হলো মেঘা, আর অন্যজন আনিকার বড় ভাই নকিব। নকিব মানসিক প্রতিবন্ধী। বছরের বেশিরভাগ সময় চুপচাপ থাকে, শুধু গরমকাল এলেই ওর মাথা গরম হয়ে যায়। নিজের ঘরে মেঝেতে গড়াগড়ি খেতে খেতে জান্তব শব্দ করতে থাকে তখন। সেই সময়গুলোতে নকিবকে তালাবন্ধ করে রাখতে হয়। সুখের ব্যাপার হলো, এখন শীতকাল। নকিবের ভেতরে উল্লেখযোগ্য কোন পাগলামি দেখা যাচ্ছেনা। তাই তাকেও অনুষ্ঠানের অংশ করে নেয়া হয়েছে। এমনিতে নকিব প্রায় কথা বলেইনা বলা চলে। যা-ও বা বলে ফিসফিস করে। যারা শোনে তাদের গায়ের রোম দাঁড়িয়ে যাবার মতো ফিসফিসানি।

প্রতিবেশীরা সবাই ওর ব্যাপারে ওয়াকিবহাল, তাই কেউ ওর দিকে কোন মনোযোগ দিচ্ছেনা। তবে ও মেঘার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। একটু বেশিই মনোযোগ দিচ্ছে। নকিব এক দৃষ্টিতে মেঘার দিকে তাকিয়ে আছে। মেঘা সেই দৃষ্টি অনুভব করে ক্ষণে ক্ষণে কুঁকড়ে যাচ্ছে।

নকিবের মন...
নকিব খুব অস্থির বোধ করছে। কি যে হয়েছে ওর! মেঘাকে দেখার পর থেকেই ওর এমন হচ্ছে। মেয়েটার দিকে যখনই ওর চোখ যাচ্ছে, তখনই ওর সারা শরীর গরম হয়ে উঠছে। শিরায় শিরায় যেন বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছে। মেঘার শরীরের ভাঁজে ভাঁজে ওর চোখ আটকে যাচ্ছে। মুখের ভেতরে লালার অস্তিত্ব টের পাচ্ছে সে।
কিশোর বয়সে চাচাতো মামাতো ভাইদেরকে নকিব একটা অদ্ভুত জিনিস করতে দেখতো। ওর ভাইরা ভিসিডিতে এক রকম সিনেমা দেখতো। সিনেমাগুলো ওরা কখনো ময়মুরুব্বিদের সামনে দেখতোনা। দরজা জানালা লাগিয়ে দেখতো। লুকিয়ে, জানালার ফাঁক দিয়ে নকিবও মাঝে মাঝে সিনেমাগুলো দেখতো। তখনও ওর এমনটাই অনুভূতি হতো, যা আজ হচ্ছে।
নকিব একবার ওর এক মামাতো ভাইকে ফিসফিস করে প্রশ্ন করেছিলো, সিনেমাগুলোতে নায়ক নায়িকারা কি করে ওসব? ওর মামাতো ভাই অনেকক্ষণ হায়নার মতো হেসে উত্তর দিয়েছিলো, ওরা 'ভালোবাসা' করে। নকিব ঠোঁট চাটতে চাটতে ভাবলো, ওরও 'ভালোবাসা'র অধিকার আছে। ও মেঘাকে ভালোবাসবে। মেঘা বাধা দিলেও ভালোবাসবে!
এবার একা...

এ বাড়িতে অনেকগুলো ঘর। বেশিরভাগই খালি পড়ে থাকে। মেঘাকে যে ঘরটা দেয়া হলো তার অবস্থান সর্বদক্ষিণে। একলা একটা ঘর পেয়ে মেঘা যারপরনাই খুশি। যাক, প্রাইভেসি থাকলো।
ঘরে ঢুকেই মেঘা দেখলো, সবকিছু মোটামুটি ঠিকঠাক থাকলেও, দরজার কোন ছিটকিনি নেই। সম্ভবত ভেঙ্গে গেছে, ভাবলো মেঘা। এটা নিয়ে ও তেমন মাথা ঘামালোনা। ফ্রেশ হতে এটাচড বাথরুমের দিকে এগিয়ে গেলো মেঘা।
ছিটকিনি বিহীন রাতের উপাখ্যান...

সারাদিন নানা ধকলে মেঘা খুব ক্লান্ত ছিলো। শোয়ামাত্র ঘুমিয়ে পড়েছিলো সে। হঠাৎ ওর খুব গরম লাগতে থাকে। ঘুমটা পাতলা হতে হতে একসময় ভেঙ্গে যায়। চোখ খুলতেই ডিমলাইটের আবছা নীলচে আলোয় মেঘা একটা ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পায়।
নকিব ঝুঁকে ওর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। একেবারে মেঘার মুখের সামান্য দূরেই ওর মুখ। ঠোঁটের কষ বেয়ে লালা গড়াচ্ছে কুকুরের মতো। ওর চোখদুটো যেন লালসায় চকচক করছে। অবশ্য নকিব এই দৃষ্টিকে সম্ভবত 'ভালোবাসা'র দৃষ্টি বলেই ভাবে। নীলচে আলোয় ওকে একটা ক্ষুধার্ত শ্বাপদের মতো দেখালো।
মেঘা চিৎকার দেবার জন্য মুখ খুললেও পারলোনা। নকিব ওর বামহাত দিয়ে মেঘার মুখ চেপে ধরেছে। মেঘা চিৎকার করে ওকে 'ভালোবাসা'র সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে চাইছে! এটা তো হতে দেয়া যায়না!

ভয়ার্ত চোখে মেঘা তাকিয়ে দেখলো, নকিবের মুখে একটা পৈশাচিক হাসি ফুটে উঠেছে। কিছু লুকিয়ে রাখার মতো করে পেছনে রাখা ডান হাতটা আস্তে আস্তে নকিব সামনে নিয়ে এলো। ডিমলাইটের নীলচে আলোয় ঝিক করে উঠলো একটা সুইস নাইফ। ছটফট করতে থাকা মেঘার বুকের ওপর চেপে বসে নকিব ছুরি ধরা হাতটা সামান্য উঁচু করলো। মেঘার বিস্ফারিত দুটো চোখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো সে। পৃথিবীর সবচেয়ে অসুস্থ হাসিটা হাসতে দেখলো মেঘা। ছুরিটা মেঘার গলায় নামিয়ে আনছে নকিব। এবার আর কেউ কোন বাধা দিতে পারবেনা। মেঘাও না। নকিব একমনে ফিসফিস করছে, 'ভালোবাসা... ভালোবাসা...'
*ছোটগল্প*

খোরশেদ আলম: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ছেলেটি মেয়েটি একই স্কুলে পড়ে। স্কুল ছুটি পর দুজনে গ্রামের মেঠো পথ ধরে পাশা পাশি হাটে। দুজনে চোখে চোখে কথা বলে। মেয়েটি মিষ্টি করে হাসে। মিষ্টি হাসির সুভাস ছিলেটির হৃদয়ে ভালোসার তীর আঘাত করে। হাসির সৌরভে চারিদিকে মৌনতা ভরে যায়। নাম না জানা এক অচেনা পাখি আনন্দে কুহু কুহু ডেকে ওঠে। মেয়েটা এক হাতে আকঁড়ি ধরে স্কুল বই এবং অন্য হাতে ছাতা। ছেলেটি ভাবে ইস...!যদি মানুষ না হয়ে বই হতাম কত ভাল হতো। সারাক্ষন ওর বুকে মাথা রেখে গুমিয়ে থাকতাম। হিংসে জ্বলে আর বইয়ের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করে। ছেলেটির বোকা বোকা চাউনি। মেয়েটির মনে অজানা এক ভাল লাগা সৃষ্টি হয়। মেয়েটি ইচ্ছে হয় ছেলেটির চোখে চোখ রেখে আজীবন ভালোবেসে ভালোবাসায় কাটিয়ে দিত। মনের না বলা কথা গুলো হরহর করে বলত। দুষ্টুমি করে চিমটি কাটত। আর বলত বোকা ছেলে কিছু বুজে না ...! ভালোবাসায় ভাবনায় ভাসতে ভাসতে চলছে দুজন। হঠ্যাৎ বৃষ্টির রিমঝিম শব্দে দুজনে বাস্তবে ফিরে আসে। ছেলেটি হতভম্ব হয়ে যায়। কি করবে বুজে উঠতে পারে না। কারন আশে পাশে কোন বাড়ি নেই গিয়ে দাড়াঁবে। মেয়েটি মিট মিট হেসে ছেলেটি কে চোখের ইশারায় ছাতা নিচে আসতে বলে। এ প্রথম মেয়েটার খুব কাছা কাছি আসে ছেলেটি। মেয়েটির টানা টানা মায়াবতী চোখে দিকে তাকিয়ে থাকে। মেয়েটি ও দৃষ্টি স্থির রাখতে পারেনা। কোন এক মায়া ছেলেটির চোখে তাকিয়ে থাকে। দুটি চোখ বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে এক হয়ে যায়। আর দমকা বাতাসে ছাতাটিকে অনেক দূরে নিয়ে যায়।
*ছোটগল্প*

সাইফ: একটি বেশব্লগ লিখেছে

আমার বন্ধু নিল ।
নীল কেন হল না ?
= ও তোর বোঝা লাগবে না ।
- না আমারই বোঝা লাগবে ।
আমার দিকে তাকিয়ে জিবে দিয়ে হাল্কা শব্দ করে করে,
= নারে তোর এন্টেনাতে ক্যাপচার করবে না ।
মাথার চুল ঘুরিয়ে এদিক ওদিক করে মুচড়িয়ে,
- এই নে ভাল মত টিউনিং করে নিছি, এখন বল ।
= ও তাই না?
- হ বলতো, ঢং করলে বাদাম ছিলে দেব না বলে রাখলাম ।
= আচ্ছা শোন ।
কান পাতলাম
= "ই" কার-এ একটা পজেটিভ ভাব আছে । আর "ঈ" কার-এ একটা নেগেটিভ নেগেটিভ গন্ধ করে ।
মাথার বিড়ে ( খোপা) সই করে এক থাপড়া লাগালাম ।
আমার বন্ধু নিল ।
আসলে নিল না, নীল ও না । ও হল নিলিমা । শান্ত, অবোধ, সরল, মিষ্টি...
= হইছে থাম ।
- না থামার কি আছে? তুই কি শান্ত না?
= মোটেও না । এই দেখ আমার কপালে কাটা দাগ, পিচ্চিকালে পেয়ারা গাছ থেকে পড়ে হইছে ।
- তাহলে তো তুই অবোধ না নির্বোধ । সরল না গাড়ল । মিষ্টি না, আস্ত একটা অনাসৃষ্টি ।
= ও তাই না ?
বলেই আমার মাথা বরাবর থাবা চালিয়ে দিল, শান্ত সুবোধ নিল ।
আমার বন্ধু নিল ।
গান গায় কিন্নর কন্ঠে । দারুণ রসিক বটে । হাসলে পাখ-পাখালি কিচির মিচির লাগিয়ে দেয় ।
= এই তুই থামত, পাস কই এসব ? ছাই পাশ হাবি জাবি ।
- তোকে দেখলে আমার মনে অঙ্কুরোদগম হয় ।
= কি ? গম ?
- অঙ্কুর উদিত হয়ে গাছ গজায় ।
= থাম তো ।
থেমে গেলাম । আদতে আমার বন্ধু নিল ।
ডানপিটে হাড়গিলে জটিল সুন্দর একজন মানুষ । বছরে হটাৎ হটাৎ উদয় হয়ে খানিক গল্প করে পরবর্তীর জন্য কিছু রহস্য রেখে যায় । রহস্যের কথা মনে হতে এইমাত্র স্মৃতিতে অঙ্কুরোদগম হল, আমার কয়েকখানা মাসুদ রানা মেরে রেখে দিয়েছে ।
আমার বন্ধু নিল ।
- এই আমার বইগুলো কই?
= কোন বই কিসের বই কেমন বই !
- মাসুদ রানা, স্পাই থ্রিলার, পেপারব্যাক ।
= নাই ।
- নাই মানে কি ?
হি হি হি করে বিটকেলে ভেসে এল ।
- দাত ফেলে দেব থাপড়ে । আমার বই পাঠাই দাও এখনি এখনি এখনি...
= ও তাই না ?
এই হল আমার বন্ধু নিল ।
*ছোটগল্প*

অসামাজিক কবি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

১.
এই নীল শোনো.. পেছন থেকে মেয়েলী কন্ঠে নিজের নাম ধরে কেউ ডাকছে শুনে একটু চমকে উঠার ভান করলেও নীল আসলে মোটেই চমকায়নি.. এই ডাকের প্রতিক্ষায়ই সে ছিল.. ও জানে নিলিমাই ওকে ডাকছে...

নীল: আরে নীলিমা তুমি?! বাসা কি এদিকেই?

নীলিমা: হুমম.. এই তো পাশেই বাট প্রশ্ন তো আমারো.. তুমি এই দিকে??

নীল: এই তো হাটতে হাটতে চলে এলাম.... ভালোই তো হলো... তোমার সাথে দেখা হয়ে গেলো..

নীলিমা: ও. আচ্ছা আমি যায় সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে..কাল কোচিং এ দেখা হবে...

নীল: ওকেই... সি ইউ.


পারিবারিক কারণে বছরের মাঝামাঝি শহর বদলাতে হয় নীলের. নতুন শহরে নীল একটা কোচিং এ ভর্তি হয়.. যেখানেই দুজনার পরিচয়.. তবে আগে হাই হ্যালো পর্যন্তই ছিল.. এটাই প্রথম ওদের কিছু কথা.. তবে এ সুচনাই বাড়িয়ে দেয় ওদের কথা বলার ব্যপ্তি, সেই সাথে বন্ধুত্ব...

মাস ছয় পর পড়াশোনার মান ভালো না হওয়ায় কোচিং বদলায় নীল. তাছাড়া পড়াশোনার চাপও বেড়ে যায়. ফলে নীলিমার সাথে আর আগের মতো তেমন নিয়মিত যোগাযোগ করা হয়ে ওঠে না.. মাঝেমাঝে চলতি পথে দেখা হলে যেটুকু সেই হাই হ্যালো... কিন্তু ব্যস্ততার মাঝে এটাও হারিয়ে যায়.. তবে নীল মিস করে ওর বন্ধুত্ব... নীলের কাছে যোগাযোগের কোন মাধ্যমও নেই... এভাবেই কেটে যেতে থাকে সময়..

২.
দিন, সপ্তাহ, মাস করতে করতে চলে যায় আটটি মাস..নীলিমা আশাই থাকে কোথাও না কোথাও নীলের সাথে ওর দেখা হবে... যোগাযোগের বিকল্প কিছু জানা ছিল না এতদিন... অনেক চেষ্টার পর নীলের নতুন মোবাইল নম্বরটা জোগাড় করে নীলিমা.. দোমনা নিয়েই কল দেই ওই নম্বরে..
রিং বাজছে..
সেই সাথে কেন জানি নীলিমার বুকের মধ্যেও যেন বিজয় দিবসের ড্রাম বাজছে, তবে কেন তা সে নিজেই জানে না....

-হ্যালো, আসসালামু আলায়কুম..

-ওয়ালাইকুম আসসালাম... কে নীল??

নীল: আপনি কে বলছেন প্লিজ??

-নামটা না হয় একটু পরেই বলি.. আপনার সাথে আমার কিছু কথা ছিল তার জন্য একটু দেখা করতে চাই....

নীল: দেখেন আপু এভাবে অপরিচিত কারো সাথে দেখা বা কথা বলা এগুলো আমি করি না.. সো আপনার পরিচয় না দিলে আমি সরি..
বলেই লাইন টা কেটে দেয়, ঐপাশ থেকে ভেসে আসে " নীল আমিতো তোমাকে ........"

পরক্ষনেই মনে হলো এভাবে ফোন টা রেখে দেওয়া ঠিক হলো না.. কি যেন বলতে চাইছিল মেয়েটি.. কন্ঠটিও ভিষন চেনা চেনা মনে হয়... এসব ভাবতে ভাবতে কল ব্যাক করে সেই নম্বরে...

বিকেল ৫টা...
বাসা থেকে বের হয়ে নীলিমাদের পাড়ার সেই পুকুর পাড়ের দিকে যাচ্ছে নীল. ফোনের মেয়েটার সাথে এমনটাই কথা হয়েছে.. কাছাকাছি এসেই যেন থমকে দাড়াই নীল. ঠিক বড়োই গাছটার নিচে দাড়িয়ে আছে সাদা থ্রি-পিস পরিহিত একটি মেয়ে, হয়তো ওরই অপেক্ষায়.. নীল আরও অবাক হলো যখন সে জানতে পারলো ফোনের ওপাশের সেই পরিচিত কন্ঠে অপরিচিতা মেয়ে টি নীলিমা..ওর বন্ধু......

নীল: দেরি করে ফেললাম নাকি? আর কি হলো এটা?

নীলিমা: নাহ..আমিই আগে আসছি.. কি হবে তোমাকে মিস করছিলাম তাই....

নীল: এভাবে!!

নীলিমা: বাদ দাও.. বাসায় যেয়ে কথা বলি চলো...

নীল দোমনা করতে থাকে.. কিন্তু নীলিমার জোরাজুরি তে শেষমেশ রাজি হয়.
এবার সে প্রথম নীলিমাদের বাসাই যাচ্ছে তা নই.. তবে কেমন যেন জড়তা কাজ করছে ওর মধ্যে, অনেক দিন পর তাই হয়তো.. তবুও অনেক দিন পর দুজনার দেখায় মেতে ওঠে আড্ডায়, পুরানো স্মৃতিকথা আর নতুনত্বের স্বপ্নকথায়..
সে দিনের মতো বিদায় নিয়ে আসলেও আগের থেকে বেড়ে যায় ওদের বন্ধুত্ব, ঘনিষ্ঠতা....


কেটে যায় মাস চার...

৩.
পার্ক ক্যান্টিনে বসে আছে ওরা দুজন.. হঠাৎ নীলের হাতটা চেপে ধরে নীলিমা..দুজনে চোখাচোখি...

নীল: কি হলো?

নীলিমা: আই লাভ ইউ...

নীল:মানে কি!!?? মাথা ঠিক আছে তোমার??

নীলিমা:হুমম.. সিরিয়াসলি..আমি তোমাকে ভালোবাসি.

নীলের ঠিক মনে পড়ছে না কোথায় যেন পড়েছিল "একটা ছেলে আর মেয়ের মধ্যে বন্ধুত্ব হয় না যা হয় তা হলো ভালোবাসা বা প্রেম "

নীল: দেখো নীলিমা আমরা বন্ধু.. অনেক ভালো বন্ধু... আর আমি চাই না এটা নষ্ট হোক.. বন্ধুত্বের মাঝে প্রেম বন্ধুত্ব নষ্ট করে..

নীলিমা: আমি কথা দিচ্ছি আমাদের সম্পর্ক নষ্ট হবে না.

নীল:তুমি ঠান্ডা মাথায় ভাবো নীলিমা..এটা কোনো ছেলে খেলা না..
নীলিমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই চলে যায় নীল..বসে থাকে নীলিমা হয়তো চোখের কোণে অশ্রুধারা গড়িয়ে নামতে চাইছে, তবে কেউ তা বুঝতে পারে না..

সত্যি কি নীলিমা আমাকে ভালবাসে? তা না হলে বলবেই বা কেন? আচ্ছা আমি কি ওকে ভালবাসি?
হ্যা.. কিন্তু তা বন্ধুত্বের বেশি ভাবতে পারছি না.. এসব ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পড়ে নীল...

দুচোখ বুজে ঘুমাতে পারছে না নীলিমা.. বারবার শুধু নীলের চেহারা ভেসে আসছে.. নীল কি সত্যিই আমাকে ভালবাসে না?? এমন করলো কেন আজ!!?


এখন ওরা বন্ধুত্বের আড়ালে একে অপরের সাথে শুধু অভিনয় করে যায়.. কেউ হয়তো ভালবেসেও বাসে না আবার কেউ বুঝেও বোঝে না...

এরই মাঝে নীলিমার বেশ কিছু বাজে বিষয়ে জানতে পারে নীল.. তবে নীলিমাকে ব্যক্তিগত ভাবে যতটুকু চেনে বা অন্য কোন কারনে এগুলো নিয়ে মাথাব্যথা করেনি.. তবে বুঝতে পারে ওদের দুরত্ব বেড়ে যাচ্ছে.. নীলিমা কেমন জানি ছন্নছাড়া হয়ে যাচ্ছে.. একপর্যায়ে মানুষের মুখে শোনা কথা গুলোর সত্যতা পেতে থাকে. তবুও নীল গা করেনি. কেননা নীলিমার পাশে থাকতে চেয়েছিল, ওর পাশে থাকতে এখন কেন জানি ভালো লাগে নীলের...তবে এই সবটুকু ভালো লাগা বা ভালবাসার সাথে সমপরিমান ঘৃণা যোগ হয় যখন সে নীলিমাকে এমন কারো সাথে এমন কোনো মুহুর্তে দেখতে পায়...

তারপর থেকে দুজন দুজনকে এড়িয়ে চলে.. যোগাযোগ বন্ধ.. এমনকি হঠাৎ দেখা হয়ে গেলেও অপরিচিতার মতোই চলতে থাকে.. ওদের এই আলাদা চলার কারনটা আজও কেউ জানতেও পারেনি..কেউ জানবেও না হয়তো.. কেউ কারো খোজও জানে নি এরপর...

৪.
ট্রেনের হুইসেলে বাস্তবে ফিরে আসে দুজন... দুজন!! হ্যা নীল আর নীলিমা..প্রায় চার বছর পর ঢাকা-চট্টগ্রাম যেতে রেলওয়ে ইস্টেশনে অনেকটা অপ্রত্যাশিত ভাবেই ওদের দেখা... অনিচ্ছাসর্থেও আজ দাড়িয়ে আছে নীল আর নীলিমা... দুজন দুজনার চোখাচোখি হয়ে যেন অতিত পাড়ি দিলো ক্ষণিকের জন্য ..
কারো মুখে কোনো কথা নেই.. কিছু বলার ভাষা ও হয়তো নেই. নীল শুধু মনে মনে বলতে চাইছে "আজ আমারে ডাকিস না তুুই, আমি যে আজ মহাকালের যাত্রী "
এতবছর পর আজ ওরা দুজন দুজনার মুখোমুখি নাকি ওদের বন্ধুত্ব হয়তো ভালবাসা........
০৬.১০.১৩ ইং..



কিছু কথা: আনাড়ি মনের লেখা.. কোনো আগা- মাথা নেই বিধায় ভালো নাও লাগতে পারে..
তবে কেউ বাস্তবিক কিছু খুজতে যাবেন না ... খুজে পেলেও পৃথিবীর কেউ দায়ী নয়...
ধন্যবাদ..
আহমেদ মুসা.
*ছোটগল্প*
জোকস

হাফিজ উল্লাহ: একটি জোকস পোস্ট করেছে

৪/৫
[পিরিতি-কলিজাখানখান] ব্রেকআপ হওয়ার সবচেয়ে ছোট গল্পঃ মেয়েঃ তোমাকে সত্যি অনেক ভালোবাসি। ছেলেঃ এতদিন বল নাই কেন ? মেয়েঃ ভাইয়া দুঃখিত । ভুল করে টেক্সট আপনার কাছে চলে গেছে! ছেলেঃ ইটস ওকে!
*ব্রেকআপ* *ছোটগল্প* *কমেডিয়ানহাফিজ*

রং নাম্বার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

গভীর রাত। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ছাড়া চারদিকে আর কোনো সাড়াশব্দ নেই। এ রকম পরিস্থিতিতে আবুল বেপারী হাজির হয়েছেন এক নারিকেল বাগানের সামনে। উদ্দেশ্য নারিকেল চুরি করা। ২০ বছর ধরে তিনি এ পেশায় আছেন। চুরি করে তিনি সংসার চালান।
অনেক নারিকেল ধরেছে এমন একটা গাছ দেখে তরতর করে ওপরে উঠে পড়লেন আবুল বেপারী। কোমর থেকে দা বের করে এক কাঁদি নারকেল কেটে নিচে নামিয়ে রেখে আবার ওপরে উঠলেন। পরের কাঁদি নারিকেল কাটতে গিয়েই ঘটল দুর্ঘটনা। পা পিছলে গেল। পতন ঠেকাতে হাতের দা ফেলে নারিকেলের কাঁদি জাপটে ধরলেন। ঝুলতে থাকলেন সেটা ধরেই।
বেশ কিছুক্ষণ ঝোলার পর আবুল বেপারী লক্ষ করলেন পাশের গ্রামের কালু চোরাও নারিকেল চুরি করতে এসেছেন। আবুল বেপারী তাকে ডাকলেন, ‘কালু...ও কালু’।
ডাক শুনে কালু চোরা প্রথমে ভাবলেন ভূত। দৌড় দিতে যাবেন এমন সময় আবুল বেপারী বললেন, ‘আরে ভয় পাইস না। আমি আবুল বেপারী।’
কালু : আরে আবুল ভাই, আপনে?
আবুল : হ ভাই। আমিও চুরি করতে আসছি। কিন্তু এখন ফাইসা গেছি। আমারে বাঁচা।
আবুলকে ঝুলতে দেখে কালু চোরা যা বোঝার বুঝে ফেললেন। মনে মনে ভাবলেন, ইনকাম করার এটা একটা দারুণ সুযোগ। তিনি বললেন, ‘বাঁচাতে পারি তবে এক শর্তে।’
আবুল : আমি যেকোনো শর্ত মানতে রাজি আছি। বল কী শর্ত?
কালু : আমারে নগদ ৫০০ টাকা দেওয়া লাগব।
আবুল : আচ্ছা দিব। তাড়াতাড়ি বাঁচা।
কালু চোরা দেরি করলেন না। আবুল যে গাছে ঝুলছেন সেই গাছ বেয়ে ওপরে উঠতে শুরু করলেন। জায়গামতো পৌঁছে যেই না আবুলের পা ধরে গাছের দিকে আনতে চেষ্টা করলেন, অমনি কালুর পা-ও পিছলে গেল। পতন ঠেকাতে তিনি আবুলের পা জাপটে ধরলেন। ঝুলতে থাকলেন সেটা ধরে।
আবুল : এটা কী হলো কালু? 
কালু : আমার পা-ও পিছলে গেছে। 
আবুল : হায় রে! এখন আমরা দুজনই নারিকেল ধরে ঝুলছি। কে বাঁচাবে আমাদের? আজকে চুরি করতে আসাই ঠিক হয়নি। দিনটাই কুফা।
দুজনই কাঁদতে শুরু করলেন। তাঁদের কান্না শুনে সেখানে হাজির হলেন গেদু। তিনিও চোর। তবে পেশায় নতুন। নারিকেল চুরি করতে অন্যদের মতো তিনিও সেখানে হাজির হয়েছিলেন। তিনি বললেন, ‘ভাইসাহেব, আপনারা ওপরে কী করবার লাগছেন?’
আবুল : আরে গেদু যে! তুই এইখানে? 
গেদু : হ, আসছিলাম চুরি করতে। তা আপনারা ওপরে কী করেন? ঝুলাঝুলি খেলবার লাগছেন না কি?
কালু : আবুল ভাইরে বাঁচাতে গিয়ে আমিও ফেসে গেছি ভাই। আমাদের জলদি বাঁচান।
গেদুও সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ছাড়লেন না। তিনি বললেন, ‘এক শর্তে বাঁচাব। আমাকে নগদ এক হাজার টাকা দেওয়া লাগবে।’
আবুল : কোনো ব্যাপার না। দেব এক হাজার টাকা। বেঁচে থাকলে অনেক টাকা ইনকাম করা যাবে। 
গেদু দেরি করলেন না। গাছ বেয়ে উঠতে শুরু করলেন। প্ল্যান করলেন, প্রথমে নিচে ঝুলতে থাকা কালুকে উদ্ধার করবেন। তারপর আবুলকে। প্ল্যান অনুযায়ী এক হাতে কালুর পা ধরলেন। সেটাকে টেনে যেই না গাছের দিকে আনতে যাবেন, অমনি তাঁর অপর হাত ফসকে গেল। পতন ঠেকাতে কালুর পা আঁকড়ে ধরলেন। তারপর ঝুলতে লাগলেন সেটা ধরে। 
অবস্থাটা এমন দাঁড়াল, নারিকেল ধরে ঝুলছেন আবুল। তাঁর পা ধরে ঝুলছেন কালু। আর কালুর পা ধরে ঝুলছেন গেদু।
এ রকম পরিস্থিতিতে আবুলের মাথায় বাড়তি আয়ের চিন্তা এলো। তিনি হাঁক দিলেন, ‘তোরা আমার কাছে কে কয় টাকা পাবি?’
কালু : আমি পামু ৫০০ টাকা।
গেদু : আমি এক হাজার টাকা।
আবুল : এবার বল তোরা দুজনে আমাকে দুই হাজার টাকা দিবি? নয়তো আমি হাত ছেড়ে দেব। রাজি?
(ঘটনাটাকি)(খিকখিক)(হাসি২)(ওইসর)
*ছোটগল্প* *মজারগল্প* *বেশম্ভব*

সম্প্রীতি হাসান: একটি বেশব্লগ লিখেছে

একদেশে ছিল এক
রাজা। তার ছিল ১০
রাণী,
২৫ উজির, ৩০ নাজির,
৪০ মন্ত্রী, ৫০
আমলা এবং ৬০
জোতিষী।
এই ৬০ জন
জ্যোতিষী একটা ভবিষ্যতবাণী করলো।
অতি ভয়াবহ সেই
ভবিষ্যত বাণী। এই
ঋতুতে যে বৃষ্টি হবে,
সেই বৃষ্টির
পানি যদি কেউ পান
করে, তাহলে সে পাগল
হয়ে যাবে।
রাজা সপারিষদ সতর্ক
হলেন।
যথা সময়ে বৃষ্টি হলো।
রাজা, রাণী,
রাজকণ্যা, রাজপুত্র,
মন্ত্রী, আমলা -
কেউইইই-
সেই বৃষ্টির
পানি খাওয়া দূরে থাক,
স্পর্শও
করলেন না।
রাজ্যের সব সাধারণ
মানুষ সেই পানি পান
কর্লো।
অতঃপর তারা পাগল
হয়ে গেল।
গোটা রাজ্য
জুড়ে সৃষ্টি হলো চরম
বিশৃঙ্খলা।
পুলিশ চুরি করে, চোর
পাহাড়া দেয়।
মায়েরা বাচ্চাদের
কোলে উঠে বসে থাকে,
চকলেট কিনে দেয়ার
জন্য
কান্নাকাটি করে।
... আর মেয়েদের
''অ্যাডাম টিজিং'' এর
ভয়ে,
ছেলেরা তো রাস্তায়
বের হতে পারে না।
পুরো বেড়াছেড়া অবস্থা।
রাজার মাথায় হাত!!!
একি অবস্থা।
কি করা যায়।
কেউ
রাজাকে বুদ্ধি দেয়,
আপনে কঠোর হোন।
কেউ বলে, কঠিন না,
আপনে নরম হোন।
কেউ কেউ বলে,
রাজ্যে ২৮৮ ধারা দেন,
অনির্দিষ্ট কালের
জন্য।
একজন
রাজাকে বুদ্ধি দিলেন,
রাজা মশাই, এক
কাজ করেন।
সারা রাজ্যর
পাগলকে তো ভালো করা সম্ভব
না।
তারচেয়ে আমরা যে অল্প
কয়জন ভালো আছি,
তারাও ওই ''বৃষ্টিপানি''
খাই, ওই
''পাগলাপানি'' খাই,
খেয়ে পাগল হয়ে যাই।
প্রস্তাবটা রাজার
মনে ধরলো।
রাজা সপারিষদে বৃষ্টির
পানি খেলেন, সবাই
মিলে পাগল হলেন।
সবাই একমত, এক পথ।
রাজ্যে শান্তি ফিরে আসলো।
অতঃপর,
তারা সুখে শান্তিতে বসবাস
করিতে লাগিলো।
মোরাল অব দ্য স্টোরি:
পাগলের গল্পের
কোনো মোরাল
থাকে নাকি? ধুর।
*অদ্ভুত* *ছোটগল্প*

নির্বাক রাজপূত্র : একটি বেশব্লগ লিখেছে

আপনি যে ইদানিং আমাকে লুকিয়ে লুকিয়ে ফলো করেন
এটা কিন্তু আমি জানি।
: কই, না তো! আমি তো ফলো করি না।
: করেন না?
: কেনো করবো?
: সেদিন আমার ছোট বোন এর হাতে একটা কিটক্যাট
ধরিয়ে দিয়ে বলেননি "তোমার আপুর নাম টা কি? কি
বলেন নাই?"
: কই না তো! আমি আবার কবে চকলেট দিলাম?
: থামেন মিয়া! আপনি জানেন, ও আব্বুর কাছে আপনার
কথা বলে দিছে। এ নিয়ে আমার বাসায় কত ঝামেলা হইছে
আমার বড় ভাই তো ঠিক করেছে আপনাকে রাস্তায়
দেখলেই পেটাবে!
: আসলে... আমি সরি! আচ্ছা, আমি যাই (বলেই হাটা)
: এই ছেলে, এই। দাঁড়াও!
: জি, বলেন। আমি তো স... সরি' বললাম...
: সরির খ্যাতা পুড়ি। আগে বলেন, কি চান? ফলো করেন
কেন এভাবে?
: ভা.. ভাল লাগে।
: ফলো করতে? না, আমাকে?
: দুটোই!
: ফোন আছে সাথে? ফোন বের করো...
: জি।
: ধরেন 017******12 সেভ করেন, আর খবরদার আমাকে
ফলো টলো করবেন না। আমার ছোট বোনকেও চকলেট
টকলেট দিয়ে নাম জানতে পাঠাবেন না।
: আ...আ.. আচ্ছা। কিন্তু, এটা কার নাম্বার?
: এটা ফায়ার সার্ভিসের নাম্বার। বাসায় আগুন লাগলে
ফোন দিয়েন।

(মেয়রটি রিকশা নিয়ে হনহন করে চলে যাবার কিছুক্ষণ
পর ছেলেটি নাম্বারটিতে ফোন দিলো...)
ভেসে আসলো আলতো মিষ্টি কন্ঠ...
: হ্যালো, ফায়ার সার্ভিস?
ওপাশ থেকে একটু হাসির আওয়াজ, তথাসহিত গম্ভীর
গলায় বললেন,
: জি, বলেন! কোথায় আগুন লেগেছে?
: বুকের বাম পাশে। আই লাভ ইউ, ফায়ার সার্ভিস!

*প্রেমেরগল্প* *ছোটগল্প*
৪/৫

এইচ,এম,মাসউদুল আলম ফয়সাল: - আমি আর তোমার সাথে থাকতে চাচ্ছিনা । - তুমি তার মানে ব্রেক আপ চাচ্ছ ? - হুম । - ডিসিশন ফাইনাল ? - হুম । - সত্যি কথা বলতে আমিও কয়েকদিন যাবত কথাটা তোমাকে বলতে চাচ্ছিলাম । যাক ভালই হলো কথাটা তুমি নিজেই বলে দিলে । মাঝখানের টেবিলে ওয়েটার চিকেন আর ফ্রেঞ্চ ফ্রাই রেখে গেছে । কিন্তু ততক্ষনে বিদায়ের শেষ ঘণ্টা বেজে গেছে । একজোড়া হাইহিল আর কেডসের বিপরীত দরজার দিকে যাত্রার আওয়াজ পাওয়া গেলো । বাইরে ততক্ষনে তুমুল বৃষ্টি । ছেলেটা এবং মেয়েটা দুজনেই বেরোবার দরজায় আটকে গেল । এরকম নাছোড়বান্দা বৃষ্টিতে বের হওয়া অসম্ভব । ছেলেটা কাঁচের দরজার দিকে তাকিয়ে পাঁচ মাস আগের এক সন্ধ্যা দেখতে পেলো। আজকের মতোই বর্ষণমুখর ছিল সেটা । আগের দিন ছিল ছেলেটার জন্মদিন । কিন্তু সপ্তাহব্যাপী জ্বরের কারনে সে মেয়েটার সাথে দেখা করতে পারেনি । মনটা খুবই খারাপ। রুমমেটও বাড়ি চলে গেছে । হঠাৎ বাইরে কলিং বেলের আওয়াজে তন্দ্রা কেটে গেলো তার । দরজা খুলেই ছেলেটা হতবাক । প্রচণ্ড বৃষ্টি মাথায় করে ফুল আর একটা প্যাকেট হাতে মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে । - কতক্ষন দাঁড় করিয়ে রাখবে ? তোমার গলির মাথায় পানি জমে গেছে দ্যাখো । একটাও রিক্সা পাইনি । হেঁটে এসেছি । ছেলেটা এই প্রথম অনুভব করল পৃথিবীটা সত্যিই মায়াময় । এরকম একটা মুহূর্তের জন্য বোধহয় সারাজীবন অপেক্ষা করা যায় । অন্যদিকে মেয়েটা জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছে রাস্তায় বৃষ্টিজমা পানির দিকে । সেখানে ভেসে উঠেছে চার মাস আগের এক বৃষ্টিস্নাত দুপুরের প্রতিবিম্ব । মেয়েটার ফাইনাল পরীক্ষার শেষ দিন । সারা ঢাকা শহর পানিতে ডুবে গেছে । পরীক্ষা শেষ করে রাজ্যের বইখাতা, রেফারেন্স বুক, প্র্যাকটিক্যাল খাতা হাতে নিয়ে বিপর্যস্ত মেয়েটা নিচে নেমে এক নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলো । পরীক্ষার হলের বাইরে একটা সিএনজি নিয়ে তার ভিতরে ছেলেটা বসে আছে । - তুমি এখানে ? মেয়েটার চোখে মুখে বিস্ময় । - তোমার পরীক্ষা শেষ ? - হুম। কিন্তু তুমি সিএনজি নিয়ে এখানে বসে আছ কেন ? এবার সিএনজিওয়ালা হলুদ হাসি দিয়ে উত্তর দিলো, - মামা ১ ঘণ্টা ধইরা আপনার পরীক্ষা শেষ হওনের অপেক্ষা করতাসে । এতো বৃষ্টিতে যদি সিএনজি না পান, হের লাইগা । মেয়েটার চোখে ততক্ষনে অঝোর শ্রাবণ । পৃথিবীটা এতো সুন্দর কেনো । * * * হাইহিল আর কেডস জোড়ার পুনরায় উভমুখী যাত্রা । - একটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম । - আমিও । - বেশ তুমি আগে বল । - নাহ তুমি আগে বল । - সরি মনে পড়ছে না এখন । - হুম আমিও ভুলে গেছি । দুজনের অট্টহাসি । টেবিলের উপর চিকেন আর ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তখনো ধোঁয়া ছাড়ছে......

*ছোটগল্প* *সম্পর্কেভাঙ্গন*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★