জন্মদিন

জন্মদিন নিয়ে কি ভাবছো?

রনি রহমান: [বসন্ত-একতোড়াফুল] বেশতোর আজ ষষ্ঠ বর্ষপূর্তি, সপ্তম বর্ষে পদার্পন উপলক্ষে বেশতো কে অনেক অভিনন্দন. (আতশবাজি) *শুভজন্মদিন* বেশতো (আতশবাজি) ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা *বেশতোটিম* এর প্রাক্তন ও বর্তমান সবাইকে যাদের কারণে আজ আমরা সবাই মিলে এখনো একই ছায়াতলে আছি। বেশতোর আগামীর জন্য রইলো অনেক শুভকামনা ।

*জন্মদিন* *শুভজন্মদিন* *বেশতোটিম* *বেশতো* *বেশতোবর্ষপূর্তি* *বর্ষপূর্তি* *বেশতোটিম* *শুভজন্মদিন* *বেশতোটিম*

আমানুল্লাহ সরকার: (আতশবাজি)(আতশবাজি)(আতশবাজি)(আতশবাজি)(আতশবাজি)(আতশবাজি)(আতশবাজি) (কেক)(কেক)শুভ জন্মদিন দীপ্তি @Dipty আপু(কেক)(কেক) আগামীর পথচলা সুদীর্ঘ হোক। শুভ কামনা থাকল... (চরকি)(চরকি)(চরকি)(চরকি)(চরকি)(চরকি)(চরকি)

*শুভজন্মদিন* *জন্মদিন*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: শুভ জন্মদিন রাফা @NafisaAnjumRafa (কেক)(কেক) zযদিও আপনাকে ওইভাবে চিনি না তারপর ও দেখলাম আপনার জন্মদিন তাই শুভেচ্ছা জানালাম ।। অপরিচিত হিসেবে যেহেতু উইশ করেছি ট্রিট কিন্তু পাওনা ।। ইউনিভার্সাল ট্রথ এর মতো খাবার পাওনা রইলাম ।। ভূলে যাইয়েন না ।। শুভ হোক আপনার আগামীর পথচলা ।।

*শুভ* *জন্মদিন* *রাফা* *ট্রিট*

রনি রহমান: [বসন্ত-একতোড়াফুল] দেখতে দেখতে ৫ বছর কেটে গেলো, সময় সত্যিই অনেক দ্রুত চলে যায়। এই পাঁচটি বছরে বেশতো দিয়েছে একটি পরিবার , অনেক কাছের মানুষ। প্রিয় বেশতোর আজ পঞ্চম বর্ষপূর্তি,(আতশবাজি) *শুভজন্মদিন* বেশতো (আতশবাজি) ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা *বেশতোটিম* এর প্রাক্তন ও বর্তমান সবাইকে যাদের কারণে আজ আমরা সবাই মিলে একই ছায়াতলে আছি। বেশতোর আগামীর জন্য রইলো অনেক শুভকামনা ।

*জন্মদিন* *শুভজন্মদিন* *বেশতোটিম* *বেশতো* *বেশতোবর্ষপূর্তি* *বর্ষপূর্তি* *শুভজন্মদিন* *বেশতোটিম*
ছবি

অনি ফটোটি শেয়ার করেছে
"শুভ জন্মদিন বেশতো"

বেশতো-র ২য় বর্ষ পূর্তিতে (২৮.০২.২০১৫)

*বেশতো* *বর্ষপূর্তি* *জন্মদিন*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: শুভ শুভ জন্মদিন বেশতো ভালো লাগার, ভালোবাসার নাম বেশতো হয়তো তুমি না থাকলে এতোগুলো শুভাকাঙ্ক্ষী পাওয়া যেত না তুমি না থাকলে হয়তো পন্ডিত শেয়াল হতে পারতাম না তুমি আছ বলেই ভালো লাগে সব ভালো লাগে ভালোবাসতে প্রিয় বেশতো, সুদীর্ঘ পথ পাড়ি জামাও এই প্রত্যাশা আর ভালোবাসা রইলো শুভেচ্ছা বেশতো এর সকল ইউজারদেত ও মডারেটরদের।।

*জন্মদিন* *বেশতো* *শুভেচ্ছা*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

প্রিয় ইভা,
পত্রের শুরুতে জানাচ্ছি আপনাকে  ‘……’ ফুলের শুভেচ্ছা।

কিন্তু শুরুতেই হোঁচট খেয়ে গেলাম! কি ফুলের শুভেচ্ছা জানাবো  আপনাকে । আমি তো জানিনা কি ফুল পছন্দ আপনার । আচ্ছা যদি বলি গোলাপ ফুলের শুভেচ্ছা রইল, ভাল লাগবে কি আপনার ? এখানেও দ্বিধা। গোলাপ ফুল আদৌ পছন্দ করেন কি না আপনি?? 
যদিওবা পছন্দ করে থাকেন তুবুও দ্বিধা ছাড়ছে না। কোন রঙের গোলাপ পছন্দ করেন আপনি ? বাজারে তো লাল সাদা থেকে শুরু করে হরেক রঙের গোলাপ পাওয়া যায়। তাই গোলাপের শুভেচ্ছাও জানাতে পারলাম না। আচ্ছা যদি বলি ‘ঘাস’ ফুলের শুভেচ্ছা রইল আপনি  খুশী হবেন তো? ঘাস ফুলের তো গন্ধ নেই। দেখতে ভাল লাগলেও নাকে কোন সুখ দেয় না। তাই ভাবছি একটা ‘গন্ধরাজ’ ফুলের শুভেচ্ছা দিব আপনাকে। এখানেও বিপত্তি। অনেকে আবার তীব্র গন্ধ পছন্দ করে না। আচ্ছা বেলি ফুল দিলে ক্যামন হয়? কিংবা জুঁই, কামেনী, রজনীগন্ধা? ধুর, ঘুরে ফিরে সব ফুল তো সাদা হয়ে যাচ্ছে! আপনি আবার  মাইন্ড করবেন নাতো? ভাবছেন , ফুলেই যখন দিবে তখন একটু রঙ চঙ ওয়ালা ফুল কেন নয়? আচ্ছা নইভা , আপনি  কি পুকুরে ফুটে থাকা কচুরিপানার ফুলটা দেখেছেন কখনো ? বেগুনী-নীলের কি অপরূপ সৌন্দর্য, তাই না? যান তবে ঐ শুন্য স্থানে লিখে দিলাম ‘কচুরিপানা’ ফুলের শুভেচ্ছা রইল। ভাবছি এতে আবার আপনি  খিলখিলিয়ে হাসছেন  নাতো? ভাবছেন এতো ফুল থাকতে শেষ পর্যন্ত কচুরিপানা! তবে কি জংলী ফুলের শুভেচ্ছা দিব? এখানেও বিশাল সমস্যা ! কত ধরণের জংলী ফুল আছে ! এর মধ্যে কোনটা যে আপনা  পছন্দ ! তবে কি আপনাকে  কোন ফুলের শুভেচ্ছা জানাতে পারব না? আমার যে বড় শখ আপনাকে  প্রথম পত্রেই আপনার পছন্দের ফুলের শুভেচ্ছা দেই। কি যে করি বলেন তো । কেন যে কখনো জানা হয় নি কি ফুল পছন্দ আপনার ! সরি ইভা , আপনার দিগন্ত  রেখাটা আপনার  পছন্দের ফুলের রঙ্গে রাঙ্গিয়ে দেয়া হলো না।
পেয়েছিইইইইইইইইই! একটা না একটা ফুল তো আপনি পছন্দ  করেন ই । তাই শুন্যস্থান পুরণ করে এবার প্রথম বাক্যটা শেষ করার উপায় পেয়ে গেছি আমি !!! দেখেনতো  বাক্যটা নির্ভুল হয়েছি কিনা… ‘পত্রের শুরুতে জানাচ্ছি আপনাকে  ফুলেল শুভেচ্ছা’। ব্যাস, এবার খুশী তো…ফুলেল শব্দটা দিলেই তো সব ফুল এর মধ্যে পড়ে যায়, তাই না !! ইভা, আপনি। কি খেয়াল করেছেন… ‘ফুলেল’ শব্দটি দিলে মাত্র এক লাইনে চিঠিটা শেষ করা যেত…অথচ সহজ এ বিষয়টাকে টেনে টেনে কত বড় করে ফেলেছি…
আমি জানি ছোট্ট একটা ব্যর্থতায় অনেক দুঃখ পেয়েছেন আপনি …আপনি চাইলে এ পত্রের মত করে টেনে টেনে সে দুঃখটা বড় করতে পারেন  …অথবা শেষ করে দিতে পারেন এক নিমিষেই। এবার ভাবেন আপনি কি করবেন?
ইতি
…………….

-বসন্তের ফুল সবচেয়ে বেশি গন্ধ ছড়ায়…কিন্তু আপনি চাইলেই সে সৌরভ টেনে নিয়ে যাতে পারেন বছরের প্রতিটা দিনে।।

শুভ জন্মদিন।।  বেচে থাকুন দীর্ঘকাল এই মনের মন্দিরে।।  ধন্যবাদ আপনার আম্মু-আব্বুকে এতো সুন্দর দিনে সুন্দর একটা উপহার পৃথিবীতে আনার জন্য।। আর সেই উপহারটা হচ্ছেন আপনি।।। @Jannatuleva

*জন্মদিন* *বাস্তবতা* *ভালোবাসা*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

অসাধারণ রসবোধ সম্পন্ন মানুষ ছিলেন হুমায়ুন আহমেদ। উনার জীবনেও ঘটেছে নানা রসময় ঘটনা।

নিজের জবানীতে ও অন্যের লিখনিতে তাঁর জীবনের কিছু মজার ঘটনা নিন্মে উদৃত হল।

১। আমার প্রথম স্কুলে যাওয়া উপলক্ষে একটা নতুন খাকি প্যান্ট কিনে দেয়া হল। সেই প্যান্টের কোন জিপার নেই, সারাক্ষণ হাঁ হয়ে থাকে। অবশ্যি তা নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন হলাম না। নতুন প্যান্ট পরছি, এই আনন্দেই আমি আত্মহারা। মেজো চাচা আমাকে কিশোরীমোহন পাঠশালায় ভর্তি করিয়ে দিয়ে এলেন এবং হেডমাস্টার সাহেবকে বললেন, চোখে চোখে রাখতে হবে। বড়ই দুষ্ট। আমি অতি সুবোধ বালকের মত ক্লাসে গিয়ে বসলাম। মেঝেতে পাটি পাতা। সেই পাটির উপর বসে পড়াশোনা। মেয়েরা বসে প্রথম দিকে, পেছনে ছেলেরা।

আমি খানিকক্ষণ বিচার বিবেচনা করে সবচেয়ে রূপবতী বালিকার পাশে ঠেলেঠুলে জায়গা করে বসে পড়লাম। রূপবতী বালিকা অত্যন্ত হৃদয়হীন ভঙ্গিতে সিলেটি ভাষায় বলল, এই তোর প্যান্টের ভেতরের সবকিছু দেখা যায়। ক্লাসের সব ক’টা ছেলেমেয়ে একসঙ্গে হেসে উঠল। সবচেয়ে উচ্চস্বরে যে ছেলেটি হেসেছে, তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম। হাতের কনুইয়ের প্রবল আঘাতে রক্তারক্তি ঘটে গেল। দেখা গেল ছেলেটির সামনের একটি দাঁত ভেঙ্গে গেছে। হেডমাস্টার সাহেব আমাকে কান ধরে সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার নির্দেশ দিলেন।

ছাত্রছাত্রীদের উপদেশ দিলেন, এ মহাগুণ্ডা, তোমরা সাবধানে থাকবে। খুব সাবধান। পুলিশের ছেলে গুণ্ডা হওয়াই স্বাভাবিক। ক্লাস ওয়ান বারোটার মধ্যে ছুটি হয়ে যায়। এ দুই ঘণ্টা আমি কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকলাম। আমার সময়টা যে খুব খারাপ কাটল তা নয়। স্কুলের পাশেই আনসার ট্রেনিং ক্যাম্প। তাদের ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে। লেফট রাইট। লেফট রাইট। দেখতে বড়ই ভাল লাগছে। মনে মনে ঠিক করে ফেললাম বড় হয়ে আনসার হবো।

২। ক্লাস টুতে উঠে আমি আরেকটি অপকর্ম করি। যে রূপবতী বালিকা আমার হৃদয় হরণ করেছিল, তাকে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ফেলি। প্রকৃতির কোন এক অদ্ভুত নিয়মে রূপবতীরা শুধু যে হৃদয়হীন হয় তাই না, খানিকটা হিংস্র স্বভাবেরও হয়। সে আমার প্রস্তাবে খুশী হবার বদলে বাঘিনীর মত আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। খামচি দিয়ে হাতের দুতিন জায়গার চামড়া তুলে ফেলে। সে-ই স্যারের কাছে নালিশ করে। শাস্তি হিসেবে দুই হাতে দুটি ইট নিয়ে আমাকে দু’ঘণ্টা নিলডাউন হয়ে বসে থাকতে হয়।

৩। থ্রি থেকে ফোরে উঠব। বার্ষিক পরীক্ষা এসে গেছে। বাড়িতে বাড়িতে পড়াশোনার ধুম। আমি নির্বিকার। বই নিয়ে বসতে ভাল লাগে না। যদিও পড়তে বসতে হয়। সেই বসাটা পুরোপুরি ভান। সবাই দেখল আমি বই নিয়ে বসে আছি এই পর্যন্তই। এমন এক সুখের সময়ে ক্লাসের বন্ধু ‘মাথা মোটা’ শংকর খুব উত্তেজিত ভঙ্গিতে জানাল, তার মা তাকে বলেছেন সে যদি ক্লাস থ্রি থেকে পাশ করে ফোর-এ উঠতে পারে তাহলে তাকে ফুটবল কিনে দেবেন। সে আমার কাছে এসেছে সাহায্যের জন্যে। কি করে এক ধাক্কায় পরের ক্লাশে ওঠা যায়। একটা চামড়ার ফুটবলের আমাদের খুবই শখ।

সেই দিনই পরম উৎসাহে শংকরকে পড়াতে বসলাম। যে করেই হোক তাকে পাশ করাতে হবে। দু’জন একই ক্লাসে পড়ি। এখন সে ছাত্র, আমি শিক্ষক। ওকে পড়ানোর জন্যে নিজেকে প্রথম পড়তে হয়, বুঝতে হয়। যা পড়াই কিছুই শংকরের মাথায় ঢোকে না। যাই হোক প্রাণপণ পরিশ্রমে ছাত্র তৈরি হল। দু’জন পরীক্ষা দিলাম। ফল বের হলে দেখা গেল আমার ছাত্র ফেল করেছে এবং আমি স্কুলের সমস্ত শিক্ষকদের স্তম্ভিত করে প্রথম হয়ে গেছি। ফুটবল পাওয়া যাবে না এই দুঃখে রিপোর্ট কার্ড হাতে কাঁদতে কাঁদতে বাসায় ফিরলাম।

৪। পঁচাগড় থেকে বাবা বদলি হলেন রাঙামাটিতে। রাঙামাটিতে আমরা ছিলাম পাঁচ মাসের মতো। বাবা আবার বদলি হলেন বান্দরবান। বান্দরবানের সবই ভালো, শুধু মন্দ দিকটা হলো এখানে একটা স্কুল আছে। স্কুলে আমার একমাত্র আনন্দের ব্যাপার হলো মুরং রাজার এক মেয়ে পড়ে আমাদের সঙ্গে। গায়ের রং শঙ্খের মতো সাদা। চুল হাঁটু ছাড়িয়েও অনেক দূর নেমে গেছে। আমরা ক্লাস সিক্সে পড়ি, কিন্তু তাকে দেখায় তরুণীর মতো। তার চোখ দুটি ছোট ছোট, গালের হনু খানিকটা উঁচু। আমার মনে হলো চোখ দুটি আরেকটু বড় হলে তাকে মানাত না। গালের হনু উঁচু হওয়ায় যেন তার রূপ আরো খুলেছে।

ক্লাসে আমি স্যারদের দিকেও তাকাই না। বোর্ডে কী লেখা হচ্ছে তাও পড়তে চেষ্টা করি না। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি রাজকন্যার দিকে। সত্যিকার রাজকন্যা। আমার এই অস্বাভাবিক আচরণ রাজকন্যার চোখে পড়ল কি না জানি না, তবে একজন স্যারের চোখে পড়ল। তিনি আমাকে বিষদৃষ্টিতে দেখতে লাগলেন। প্রতিটি ক্লাসেই তিনি আমাকে প্রশ্নে প্রশ্নে জর্জরিত করেন, কিন্তু আটকাতে পারেন না; কারণ ইতিমধ্যে আমি একটা জিনিস বুঝে ফেলেছি, আমার স্মৃতিশক্তি অসম্ভব ভালো। যেকোনো পড়া একবার পড়লেই মনে থাকে। সব পড়াই একবার অন্তত পড়ে আসি।

স্যার ঠিকই একদিন আমাকে আটকে ফেললেন। সমকোণ কাকে বলে জিজ্ঞেস করলেন, আমি বলতে পারলাম না। শাস্তির ব্যবস্থা হলো। বিচিত্র শাস্তি। বড় একটা কাগজে লেখা ‘আমি পড়া পারি নাই। আমি গাধা’ সেই কাগজ গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হলো। স্যার একজন দপ্তরিকে ডেকে আনলেন এবং কঠিন গলায় বললেন, ‘এই ছেলেকে সব কটা ক্লাসে নিয়ে যাও। ছাত্ররা দেখুক।’ আমি অপমানে নীল হয়ে গেলাম। টান দিয়ে গলার কাগজ ছিঁড়ে স্যারের দিকে তাকিয়ে তীব্র গলায় বললাম, ‘আপনি গাধা।’ তারপর এক দৌড় দিয়ে স্কুল থেকে বের হয়ে গেলাম। সন্ধ্যাবেলা লোক পাঠিয়ে শঙ্খ নদীর তীর থেকে বাবা আমাকে ধরিয়ে আনলেন। আমি আতঙ্কে কাঁপছি। না জানি কী শাস্তি অপেক্ষা করছে আমার জন্য। বাবা শান্ত গলায় বললেন, ‘স্যাররা তোমাকে পড়ান। শাস্তি দেওয়ার অধিকার তাঁদের আছে। তুমি আমার সঙ্গে চলো। স্যারের কাছে ক্ষমা চাইবে।'

বাবার সঙ্গে কাঁদতে কাঁদতে রওনা হলাম। স্যারের কাছে ক্ষমা চাইলাম। এর পর বাবা বললেন, ‘মাস্টার সাহেব, আমার এই ছেলেটা খুব অভিমানী। সে বড় ধরনের কষ্ট পেয়েছে। অপমানিত বোধ করেছে। তাকে আমি কোনো দিন এই স্কুলে পাঠাব না। সে বাসায় থাকবে।’

বাবা আমাকে কোলে নিয়ে বাসায় ফিরলেন। পরদিনই স্কুলের সব শিক্ষক বাসায় উপস্থিত। তাঁরা বাবাকে রাজি করাতে এসেছেন, যাতে আমি আবার স্কুলে যাই। বাবা রাজি হলেন না।

৫। হুমায়ূন আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিচ্ছেন। হঠাৎ এক ছাত্র প্রশ্ন করলো, ‘স্যার, আপনি নাকি গরুর কথাও বুঝতে পারেন?’ হুমায়ুন আহমেদের ‘ছেলেবেলা’ বইটি পড়ে হয়তো এমন ধারণা হয়েছিলো ছাত্রটির। ক্লাসের মাঝখানে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় চলে আসায় হুমায়ুন আহমেদ বিরক্ত হলেন। বললেন, ‘হ্যাঁ, পারি। নইলে তোমাদের ক্লাস নিচ্ছি কীভাবে?’

৬। এক সাংবাদিক টেলিফোনে হুমায়ূন আহমেদের কাছে তার অবসর সময় কীভাবে কাটে জানতে চাইলেন। উত্তরে হুমায়ুন আহমেদ বললেন, ‘অবসর সময়ে আমি একটা কাঁচি নিয়ে বসি। কাঁচি দিয়ে কেটে সময় কাটাই!’

৭।গভীর রাতে হুমায়ূন আহমেদকে এক বিখ্যাত অভিনেতা ফোন করল। এত রাতে ফোন পেয়ে তিনি কিছুটা বিরক্ত।

অভিনেতা ফোন দিয়ে বললেন, হুমায়ূন ভাই আমার অবস্থা খুব খারাপ।

হুমায়ুন আহমেদ বললেন, কেন কী হয়েছে?

অভিনেতা বললেন, পেটে প্রচুর গ্যাস হয়েছে।

হুমায়ূন আহমেদ আরও বিরক্ত হয়ে বললেন, পেটে গ্যাস হয়েছে তো আমাকে কেন? তিতাস গ্যাসকে ফোন দেন।

৮।হুমায়ূন আহমেদ প্লেনে করে দেশের বাইরে যাচ্ছেন। ওনার সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস সম্পর্কে তো কম বেশি সবারই জানা আছে। প্লেনের মধ্যে হঠাৎ তাঁর সিগারেট খাওয়ার নেশা চেপে বসলো।

হুমায়ূন আহমেদ এয়ার হোস্টেসকে ডেকে বললেন, ‘সিগারেট খাওয়া যাবে?’

এয়ার হোস্টেজ উত্তরে বললেন, ‘না। প্লেনের ভিতর ধুমপান করলে দুইশত ডলার ফাইন।'

হুমায়ূন আহমেদ চারশো ডলার দিয়ে বললেন, ‘আমি এখন দুইটা সিগারেট খাব।'

এয়ার হোস্টেস ছুটে গেল পাইলটের কাছে। পরে পাইলট হুমায়ূন আহমেদকে ডেকে পাঠালেন ককপিটে। তারপর বললেন, ‘ডলার দিতে হবে না। তুমি এখানে বসে সিগারেট খাও।’

৯। হুমায়ূন আহমেদের ৫২তম জন্মদিনের কথা। শাহবাগ থেকে তাজা দেখে ৫২টা গোলাপ নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের বাড়ি গেলেন একজন। গিয়ে দেখলেন বগুড়া থেকে এক লোক এসেছেন। উনি হুমায়ূন আহমেদকে বলছেন, 'স্যার, আপনি চাইলে আমি আমার জান দিয়ে দিবো! আপনি আপনার নাটকে আমাকে একটা চান্স দেন।' হুমায়ূন আহমেদ তার সহকারীকে ডেকে বললেন, 'তুমি এর নাম, ঠিকানা, ফোন নাম্বার লিখে রাখো তো। এ আমার জন্য জীবন দিতেও রাজি।' সহকারী সব টুকে নিলে চলে গেল।

এরপর হুমায়ূন আহমেদ ওই লোককে বললেন, 'তুমি বাড়ি ফিরে যাও। যদি কখনো কিডনি লাগে তো তোমাকে ফোন দিবো। চলে এসো।’

১০। হুমায়ূন আহমেদ চলচ্চিত্র বানাবেন। আগুনের পরশমণির প্রধান চরিত্র বদিউল আলমকে খুঁজছেন। একদিন শিল্পী ধ্রুব এষকে দেখে তিনি সেই চরিত্রের জন্য পছন্দ করে ফেললেন। কারণ, বদিউল আলমের নির্লিপ্ত ভঙ্গি ধ্রুব এষের মধ্যে পুরোপুরিই আছে। প্রস্তাব শুনে ধ্রুব এষ বললেন, ‘অসম্ভব! আমি জীবনে অভিনয় করিনি’। হুমায়ূন আহমেদ মুচকি হেসে বললেন, ‘তাতে কী? আমিও তো জীবনে সিনেমা বানাই নি!’

১১। ভীষণ গান ভালবাসতেন হুমায়ূন আহমেদ। বিভিন্ন সময় চমৎকার কিছু গান লিখেছেন। এর মধ্যে ‘যদি মন কাঁদে’ গানটি নিয়ে একটি মজার ঘটনা রয়েছে। নিউইয়র্কে একবার এই গানটি গেয়েছিলেন শাওন। সেখানে কয়েকজন দর্শক-শ্রোতা মন্তব্য করলেন ‘এই রবীন্দ্রসঙ্গীতটা তো আগে শুনিনি। এটা তো চমৎকার।’

এরপর হুমায়ূন আহমেদ মঞ্চে বক্তব্যের সময় বললেন, ‘যাক, এবার তবে রবীন্দ্রসঙ্গীতও লিখলাম।’

১২। একবার এক ব্যক্তি হুমায়ূন আহমেদকে বললেন, অমুক তো আপনাকে একেবারে ধুয়ে দিয়েছে। আপনার লেখায় নাকি শিক্ষামূলক কিছু নাই। শুনে হুমায়ূন আহমেদ বললেন, ‘ঠিকই তো বলেছে, আমি তো পাঠ্যবই লেখি না!’

১৩। সিনেমা তৈরির প্রয়োজনে হুমায়ূন আহমেদ একবার সেনাবাহিনীর প্রধানের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর অফিসে গেছেন। কথা শেষ করে চলে আসার সময় হুমায়ূন আহমেদ হঠাৎ জানতে চাইলেন, ‘আপনাদের কোনো পুরোনো ট্যাংক আছে?’

: কেন বলুন তো?

: আমার একটা কেনার ইচ্ছা।

: ট্যাংক দিয়ে কী করবেন?

: ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস নিতে হয়। ট্যাংকে করে গেলে অনেক সুবিধা, তাই...।

---আজ এই কিংবদন্তী লিখকের জন্ম দিন। এই দিনে তাঁর পারলৌকিক মঙ্গল কামনা করছি।

সুত্র-

http://www.earki.com/humor/article/

*হুমায়নআহমেদ* *রসিকতা* *রসবোধ* *জন্মদিন* *প্রেম* *ভালোবাসা*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

১৩ নভেম্বর ২০১৭ বাংলা সাহিত্যের নক্ষত্রপুরুষ হুমায়ূন আহমেদের ৬৯তম জন্মদিন। বেঁচে থাকলে তিনি আজ ৬৯তম বর্ষে পা দিতেন। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে তাঁকে চলে যেতে হয়েছে। কিন্তু তিনি কি সত্যিই চলে গেছেন? না, চলে যান নি। তিনি তাঁর লেখার মাধ্যমে আমাদের মাঝে জীবিত আছেন। অবশ্য এই লেখার মাধ্যমে বেঁচে থাকা নিয়ে তাঁর মনোভাব ভিন্ন ছিলো। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, আমি মারা গেলে আমার লেখা মানুষ পড়লো কি পড়লো না তা দিয়ে আমার কী যাবে আসবে? আমিই তো নেই!

হুমায়ূন আহমেদ রসিক মানুষ ছিলেন। তাই তাঁর এই মন্তব্যকে আমরা তাঁর রসিকতা হিসেবে ধরে নিতে পারি। কিন্তু এই কথাকে রসিকতা মনে করলেও এর ভেতর যে কঠিন বাস্তবতা আছে তাকে অস্বীকার করতে পারি না। লেখক হুমায়ূন আহমেদের লেখা থেকে বাংলা ভাষাভাষী মানুষ নিঃসন্দেহে উপকৃত হচ্ছে কিন্তু তা দিয়ে ব্যক্তি হুমায়ূন আহমেদের সত্যিই কিছু যাচ্ছে আসছে কিনা তা চিন্তার দাবি রাখে। কেউ কেউ হয়তো বলবেন, তাঁর লেখায় ধর্মের কোনো উপকার হয়নি, কাজেই মৃত্যুর পর তাঁর এই লেখা তাঁর কোনো কাজে আসছে না। আমি এই কথার সঙ্গে দুইটি কারণে একমত না। প্রথম কারণ হচ্ছে, কোনো শিল্পকেই ধর্ম দিয়ে বিচার করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আর দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, হুমায়ূন আহমেদ তাঁর লেখার মাধ্যমে ব্যাপাকভাবে ধর্মপ্রচার না করলেও তাঁর লেখা পড়ে লাখ লাখ পাঠক মনের খোরাক পেয়েছেন। অসংখ্য মানুষ তাঁর লেখা পড়ে ব্যক্তিজীবনেও উপকৃত হয়েছেন এবং অনেক মানুষ তাঁর লেখা পড়ে বেঁচে থাকার প্রেরণা পেয়েছেন। এক কথায় তিনি তাঁর লেখনীর মাধ্যমে ব্যাপকভাবে মানবতার কথা প্রচার করেছেন। কাজেই আমার বিশ্বাস, পরকাল বলে কিছু থাকলে নিশ্চয়ই তিনি এর জন্যে পুরস্কৃত হয়েছেন।

আরেকটা কথা এখানে বলে রাখি। আমাদের মধ্যে একটা ভুল ধারণার প্রচলন হচ্ছে, আমরা মনে করি ধর্মকে রক্ষা করার দায়িত্ব ঈশ্বর মওলানাদেরকে দিয়েছেন। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ধর্ম অনেক বড় ব্যাপার। এতোই বড় ব্যাপার যে তাকে রক্ষা করার দায়িত্ব কোনো মানুষের পক্ষে নেওয়া সম্ভব না। একমাত্র ঈশ্বরই তার রক্ষাকারী হতে পারেন। মওলানাদের সংকীর্ণ চিন্তা দিয়ে আর কিছু হোক বা না হোক— বিভ্রান্তি বাড়ে। মওলানাদের সংকীর্ণ চিন্তা দিয়ে বিভ্রান্তি বাড়ে তা এইজন্যে বললাম যে, তারা মনে করে ঈশ্বর তাদেরকে ইসলাম ধর্মকে রক্ষা করার দায়িত্ব দিয়েছেন। অথচ এর কোনো যৌক্তিকতা নেই। ইসলাম ধর্ম হচ্ছে ঈশ্বরের প্রেরিত বিধান। একজন সামান্য সৃষ্টি তার মহান স্রষ্টার বিধানকে পালন করতে পারে কিন্তু তাকে রক্ষা করার দায়িত্ব বা যোগ্যতা তার নেই। তাছাড়া ঈশ্বর নিজেই পবিত্র কুরানে বলেছেন, ‘ইন্না নাহনু নাযযালনায যিকরা ওয়া ইন্না লাহু লা হাফিযুন। অর্থাৎ আমিই ইসলাম ধর্মকে অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এই ধর্মের রক্ষাকারী।’ ঈশ্বর নিজে যেখানে ঘোষণা করেছেন যে তিনি ইসলাম ধর্মের রক্ষাকারী সেখানে মওলানারা এই ধর্মকে রক্ষা করার দায়িত্ব নেওয়ার কে? এই দায়িত্বই বা কে তাদেরকে দিলো?

এই কথাগুলো তেমনভাবে প্রাসঙ্গিক না হলেও বলার প্রয়োজন ছিলো তাই বললাম। এবার প্রিয় কথাসাহিত্যিকের প্রসঙ্গে আসি। আমার জীবনে হুমায়ুন আহমেদের প্রভাব অনেক বেশি। অবশ্য আমাদের বয়সের পাঠক যারা আছেন তাদের সবার জীবনেই হুমায়ূন আহমদের প্রভাব অনেক বেশি। কারণ, আমরা হুমায়ূন আহমেদের লেখা পড়েই বইপড়া শিখেছি। হুমায়ূন আহমেদের যুগ শুরু হওয়ার আগের সময়টায় বাংলাদেশের পাঠকসমাজে কলকাতার লেখকদের প্রভাব অনেক বেশি ছিলো। আর পাঠকদের একটা বড় অংশ তখন ফুটপাতের সস্তা লেখকদের দিকে ঝুঁকে গিয়েছিলো। হুমায়ূন আহমেদ এসে ইতিহাস বদলে দিলেন। তাঁর লেখনীর টানে পাঠকসমাজ আবার মৌলিক সাহিত্যের দিকে ফিরে আসলো। শুধু সাহিত্যের ইতিহাস নয়, তিনি আমাদের বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসও বদলে দিলেন। সিনেমা হল বিমুখ দর্শকরা আবার সিনেমা হল মুখী হলো। তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোর মতো মানসম্মত চলচ্চিত্র এখনো খুব একটা তৈরি হয় নি।

সাড়ে পাঁচ বছর আগে হুমায়ূন আহমেদ প্রয়াত হয়েছেন। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানের পরেও একুশের বইমেলায় হুমায়ূন-শূন্যতা এখনো প্রকট হয়ে ওঠে। একজন লেখক হিসেবে এটা হুমায়ূনের জন্যে অনেক বড় পাওয়া। বাংলা ভাষার লেখক হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে আজ পর্যন্ত যতোটা উচ্ছ্বাস পাঠকসমাজের মধ্যে দেখা গেছে তা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে বিরল। নাট্যকার হিসেবে দর্শকদের তিনি যতোটা নাড়া দিয়েছেন তার নজির কোথাও নেই। নন্দিত নরকে থেকে দেয়াল পর্যন্ত তাঁর প্রতিটি বই বিক্রির দিক থেকে রেকর্ড সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। কলকাতায় কোনো লেখকের বই বিশ হাজার কপি বিক্রি হলে যথেষ্ট মনে করা হয়। অথচ বাংলাদেশে তাঁর বই বিক্রি হয়েছে প্রায় কয়েক লাখ কপি।

হুমায়ূন আহমেদের লেখার প্রধান গুণ হচ্ছে তিনি সরল ভাষায় লিখেন। সরল সংলাপের কারণে মনে হয় গল্পের চরিত্ররা সামনে বসে কথা বলছে। আগে একটা উপন্যাস পড়তে গিয়ে অসংখ্যবার অভিধান খুলতে হতো। অথচ হুমায়ূনের লেখা পড়তে গেলে অভিধান কোলে নিয়ে বসতে হয় না। তাঁর লেখায় দুর্বোধ্য বৈচিত্র্য নেই আবার গল্পের গভীরতাও কম নয়। প্রতিটি বই পড়ার সময় পাঠক উপলব্ধি করে গল্পের কোনো জাদুকর যেন তার সামনে বসে গল্প করছে। একই বই কয়েকবার পড়ার পরেও মনের আশ মিটে না। অদ্ভুত এক জাদুময় ভাষার কারণে বারবার পড়তে ইচ্ছে করে। নিজের কাছে নিজের যে দূরত্ব এবং একাকীত্ব তা অনেকাংশে ঘুচে যায়। আমার মতে, হুমায়ূনের জনপ্রিয়তার কারণ শুধু তাঁর সাবলীল গদ্যভঙ্গিই না, সাবলীল গদ্যভঙ্গিতে খুবই দক্ষতার সঙ্গে তিনি জীবনের যেই গল্প বলতেন সেটাই সবচেয়ে বড় কারণ। হুমায়ূনের প্রতিটি গল্প পড়লে মনে হয় পৃথিবীর কোথাও না কোথাও নিশ্চয়ই এই ঘটনা ঘটেছে। হুমায়ূনের মতে, লেখককে সত্যের মতো করে মিথ্যা বলতে জানতে হয়। তিনি তাঁর কাল্পনিক গল্পগুলি সত্যের মতো করে লিখেছেন। এখানেই তিনি সার্বজনীন এবং সফল। এই বোধ তাঁকে জনপ্রিয়তার শিখরে নিয়ে গেছে। দুঃখজনক ব্যাপার হলো, হুমায়ূনের এই সাফল্য এবং জনপ্রিয়তায় বড় বড় অনেক লেখক আহত হলেন। আমরা যেটা পারিনি হুমায়ূন আহমেদ কেন সেটা পারলেন এই পীড়া তাঁরা প্রকাশ করলেন না কিন্তু হুমায়ূনকে সাহিত্যসমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন বলে ঘোষণা দিয়ে দিলেন। বললেন, হুমায়ূন আহমেদ সস্তা শ্রেণির লেখক। এই কথা বলে তাঁরা কিন্তু সাহিত্য এবং শিল্প সম্পর্কে নিজেদের অদূরদর্শিতা এবং অপরিণত ধারণার কথাই প্রকাশ করলেন। সাহিত্য এবং ভাষা যে নদীর স্রোতের মতো পরিবর্তনশীল এটা তাঁরা পরোক্ষভাবে অস্বীকার করলেন। কথাসাহিত্যিক, গবেষক এবং কবি হুমায়ূন আজাদ বললেন, হুমায়ূন আহমেদ উপন্যাসিকই না— তিনি অপন্যাসিক। কিছুদিন পরে তিনি হুমায়ূন আহমেদ এবং ইমদাদুল হক মিলনকে একটা বই উৎসর্গ করলেন। উৎসর্গপত্রে লিখলেন, সব নষ্টদের অধিকারে গেলো। হুমায়ূন আজাদ অনেক বড়মাপের মানুষ। আমি তাঁকে যথেষ্ট শ্রদ্ধা করি। কিন্তু তাঁর এহেন মন্তব্যের সঙ্গে একমত হতে পারি না। তিনি হুমায়ূনকে চিনতে ভুল করেছেন।

হুমায়ূন আহমেদ আসলে কী এবং তিনি আমদেরকে কী দিয়েছেন? হুমায়ূন আহমেদ সেই শ্রেণির লেখক যাঁরা কয়েক শতাব্দীর সাধনায় জন্ম নেন এবং কয়েক শতাব্দীকাল ধরে চলে আসা একঘেঁয়ে গদ্যরীতি ভেঙ্গে সহজবোধ্য নতুনত্বের জন্ম দেন। সাহিত্যকে নতুন এবং আধুনিক করার মাধ্যমে আরো মর্মস্পর্শী করে তোলেন। আমাদের অনেক শ্রদ্ধাভাজন লেখকই হুমায়ূনকে এভাবে বিচার করতে পারেন নি। হুমায়ূনের মৃত্যুর পর সৈয়দ শামসুল হক বললেন, হুমায়ূনের লেখা ছোটগল্প কালজয়ী হলেও উপন্যাস তা নয়। তিনি ভুলে গেলেন, হুমায়ূন আহমেদ উপন্যাসের মাধ্যমেই পাঠকদের মনোজয় করেছেন। যে লেখা বাধাহীনভাবে পাঠকের হৃদয় জয় করে সেই লেখা যদি কালজয়ী না হয় তাহলে আর কোন লেখা কালজয়ী? একবার তিনি হুমায়ূনকে বললেন, আপনি সাহিত্যের মানুষ, টিভিতে নাটক লিখে প্রতিভা নষ্ট করছেন কেন? হুমায়ূন আহমেদ তার উত্তরে এক লেখায় বললেন, সৈয়দ হক মঞ্চনাটক লিখেন। মঞ্চনাটক লিখলে সাহিত্য হয় আর টিভি নাটক লিখলে সাহিত্য হয় না এই অদ্ভুত ধারণা তিনি কোথায় পেলেন আমি জানি না। মঞ্চনাটক হোক, টিভিনাটক হোক কিংবা কোনো ফিল্মের গল্প হোক, সাহিত্যের বিচরণক্ষেত্র সর্বত্রই অবাধ। সাহিত্য সাহিত্যই। সেটা যেখানেই করা হোক এবং যেভাবেই করা হোক। শিল্প-সাহিত্যের নীল আকাশের নিচে কোনো সীমানা নেই। অনেকেই বলেন, হুমায়ূন আহমেদ এন্টারট্রেইনার লেখক ছিলেন। তারা ভুলে যান, হুমায়ূন আহমেদ প্রবীণ এবং তরুণ প্রজন্মকে একইসঙ্গে আনন্দ দিয়েছেন। এটা মোটেই সহজ কাজ না। যে লেখক একইসঙ্গে এই দুই প্রজন্মকে হাসাতে পারেন, কাঁদাতে পারেন এবং সর্বোপরি নিজের লেখায় মজাতে পারেন তিনি সত্যিকার অর্থেই বড়মাপের লেখক। তাছাড়া একজন লেখকের কাল্পনিক চরিত্র পড়ে পাঠকসমাজ সেই চরিত্র বাস্তব জীবনে ধারণ করে, এমন অসম্ভব ক্ষমতাধর লেখক বিশ্বসাহিত্যে বিরল। হুমায়ূন আহমেদ নিঃসন্দেহে সেই পর্যায়ের অসম্ভব ক্ষমতাধর এবং বিরল লেখক। সত্যি কথা বলতে কি, আমাদের দেশের অনেক বিখ্যাত লেখকের লেখাও আমাকে কষ্ট করে পড়তে হয়। তাঁদের লেখায় আর যাই থাক, গতিময়তা নেই, যেটা হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্যের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই গতিময়তার অভাবে আমি তাঁদের অনেক বিখ্যাত লেখাই পড়ি নি। শিল্প জিনিসটা দুর্বোধ্য হলে চলে না। শিল্প যখন সাবলীল এবং গতিময় হয় তখন তা কালোত্তীর্ণ হয়ে যায়। রবীন্দ্রনাথের যুগে বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন গুরু পর্যায়ের লেখক। তাঁর গদ্যভঙ্গি অত্যন্ত জটিল ছিলো। সেইযুগে রবীন্দ্রনাথ যে ভঙ্গিতে লিখেছেন তা এক কথায় সরল এবং সাবলীল গদ্য। ফলে রবীন্দ্রনাথ জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠে গেলেন। আজ পর্যন্ত বাংলাসাহিত্য তাঁকে অসীম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে এবং গুরু বলে স্বীকার করে। অবশ্য সময়ের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর গদ্যভাষাও এখন কিছুটা কঠিন হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো তাঁর আবেদন কোনো অংশেই কমে নি। হুমায়ূনও তাই করেছেন। কলকাতার দুর্বোধ্য ভাষা থেকে তিনি আমাদেরকে মুক্তি দিয়েছেন। লেখা হতে হবে এমন যেটা সমাজের উচ্চশ্রেণী থেকে নিম্নশ্রেণী পর্যন্ত সবাই অভিধান হাতে না নিয়ে পড়তে পারে এবং খুব সহজে বুঝতে পারে। যে লেখা পড়তে গিয়ে বারবার অভিধান হাতে নিতে হয় সেই লেখা সাহিত্য হলেও মহৎ এবং কালজয়ী সাহিত্য না। আবার যে লেখা পড়তে বসে অভিধান হাতে নিতে হয় না কিন্তু কিছু বোঝাও যায় না সেই লেখা সাহিত্যের কোনো পর্যায়েই পড়ে না। দুর্বোধ্যতা তৈরি করাও এক ধরনের নির্বুদ্ধিতা। রবীন্দ্রনাথ সবসময় সহজ করে লেখার পক্ষে ছিলেন। সহজ করে লেখা কিন্তু মোটেও সহজ নয়। বরং এটা জটিল করে লেখার চেয়েও অনেক কঠিন কাজ। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, সহজ করে লিখতে আমায় কহ যে/সহজ করে যায় না লেখা সহজে। হুমায়ূনকে অনেক রথী-মহারথী লেখক চিনতে পারেন নি তার কারণ, তিনি চেয়েছেন বাংলা সাহিত্য আরো সাবলীল, সহজবোধ্য এবং মর্মস্পর্শী হোক। এজন্যে অনেকেই তাঁকে সস্তাশ্রেণির লেখক আখ্যা দিয়েছেন। আবার অনেক দূরদর্শী এবং বড়মাপের লেখক তাঁকে কিংবদন্তির মর্যাদা দিয়েছেন। হুমায়ূনকে তারা চিনতে পেরেছেন এবং হিরেকে তাঁরা কাঁচ ভেবে ভুল করেন নি। সময়ই তা বলে দিয়েছে। স্বাধীনতার কবি শামসুর রাহমান বলেছেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ আমাদের সস্তা চতুর্থশ্রেণির লেখকদের হাত থেকে মুক্তি দিয়েছেন। এ কথা বলতে আমার বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই যে, তিনি আমাদের সাহিত্যের ইতিহাসে কিংবদন্তির মর্যাদা পাবেন’। প্রখ্যাত কবি ও সাহিত্যক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, ‘হুমায়ূনের লেখা অনেক সাবলীল। বাংলা ভাষাটার আদ্যোপান্ত জানা না থাকলে এতোটা সাবলীল করে লেখা যায় না। জনপ্রিয়তার দিক থেকে হুমায়ূন শরৎচন্দ্রকেও ছাড়িয়ে গেছেন।’

সাহিত্যে দুর্বোধ্যতার কারণে পাঠকসমাজ সাহিত্যবিমুখ হতে চলেছিলো। হুমায়ূন আহমেদ একক প্রচেষ্টায় তাদেরকে ফিরিয়ে এনেছেন। রবীন্দ্রনাথের মতো তিনি সহজের পথে চলেছেন। হুমায়ূনের ভাষায় তাঁর লেখা হচ্ছে ‘সহজিয়া ধাঁচের’ লেখা। তিনি লিখেছেন, দেখেছেন, দেখিয়েছেন, আপ্লুত করেছেন, সবাইকে জয় করেছেন এবং সর্বোপরি বাংলাসাহিত্যের রাজমুকুটটি নিজের যোগ্যতায় অর্জন করেছেন। তিনি আমাদের হুমায়ূন আহমেদ এবং আমরা তাঁর পাঠকসমাজ। এমন একদিন আসবে যেদিন আমরা গর্ব করে বলবো, আমরা হুমায়ূন আহমেদের যুগের পাঠক এবং আমরা তাঁকে দেখেছি। সেইদিন প্রায় সমাগত।

( কপি পেষ্ট )

*হুমায়নআহমেদ* *সাহিত্য* *জন্মদিন*

আমানুল্লাহ সরকার: (কেক)(কেক)শুভ জন্মদিন @dipty আপু(কেক)(কেক) (আতশবাজি)(আতশবাজি)(আতশবাজি)জন্মদিনের শুভেচ্ছা আর অনেক অনেক শুভকামনা(আতশবাজি)(আতশবাজি)(আতশবাজি) (কেক)(কেক)(কেক)(কেক)(কেক)(কেক)(কেক)(কেক)(কেক)(কেক)

*জন্মদিন*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

জাহিদ হাসান, বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় ও বহুমাত্রিক নাট্যাভিনেতা। ৯০-এর দশক থেকে বাংলাদেশের প্রথম সারির অভিনেতাদের একজন হিসেবে কাজ করছেন তিনি। তাঁর বিখ্যাত কৌতুক চরিত্র ছিল হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত ‘আজ রবিবার’ নাটকে ‘মফিজ’ নামক একটি পাগলের চরিত্র। টেলিভিশন ছাড়াও তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয়েও আসাধারন দক্ষতা দেখিয়েছেন। বিশেষ করে হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত "শ্রাবণ মেঘের দিন" তাঁর অভিনীত অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচিত্র । দর্শকরা অনেকই তাকে 'অভিনয়ের জাদুকর' বলে সম্বোধন করেন। জাহিদ হাসান টেলিভিশনে অভিনয় শুরুর আগে থেকেই মঞ্চ নাটকের সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৬ সালে আবদুল লতিফ বাচ্চুর পরিচালনায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার যৌথ প্রযোজনারবলবান ছায়াছবিতে অভিনয় করেন। ১৯৯০ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প সমাপ্তি অবলম্বনে নির্মিত সমাপ্তি টেলিফিল্মে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত টেলিফিল্ম নক্ষত্রের রাত, মন্ত্রী মহদয়ের আগমন, সমুদ্র বিলাস প্রাইভেট লিমিটেড, আজ রবিবার তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে আসে। এছাড়াও তিনি হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত শ্রাবণ মেঘের দিন চলচ্চিত্রে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। তিনি একাধিকবার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারও লাভ করেন। জাহিদ হাসান অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক পরিচালনা করে থাকেন। 'পুস্পিতা প্রডাকশন লিমিটেড' নামে তার একটি প্রযোজনা সংস্থা রয়েছে। আজ এ্ই নাট্যাভিনেতার ৫০তম জন্মবার্ষিকী। বিশিষ্ট অভিনেতা, নাট্য নিদের্শক, প্রযোজক জাহিদ হাসানের জন্মদিনে শুভেচ্ছা।


জাহিদ হাসান ১৯৬৭ সালের ৪ অক্টোবর সিরাজগঞ্জে তার নানার বাড়িতে জন্মগ্রহন করেন। তার বাবা ইলিয়াস উদ্দিন তালুকদার ছিলেন একজন কাস্টম কর্মকর্তা এবং মা হামিদা বেগম ছিলেন একজন গৃহিণী। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে জাহিদ হাসান সবার ছোট। প্রতিষ্ঠিত মডেল মৌ-এর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ জাহিদ হাসানের রয়েছে দুই সন্তান । মেয়ের নাম পুস্পিতা এবং ছেলের নাম পূর্ণ। মডেল, অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী সাদিয়া ইসলাম মৌ ও জাহিদ হাসান বাংলাদেশে দুজনেরই জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। দুজনের প্রথম পরিচয় হয়েছিল জনপ্রিয় উপস্থাপক হানিফ সংকেতের 'ইত্যাদি' ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে গিয়ে। সেই পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব; অতঃপর প্রেম। এরপর তারা ভালোবাসার ঘরও বেঁধেছেন। ক্যারিয়ার এবং প্রেমে চূড়ান্ত সাফল্যের পর এই জুটি দাম্পত্য জীবনেও দারুণ সুখী বাবা-মা। জাহিদ হাসান মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা অভিনেতা এবং নির্মাতা। অভিনেতা হিসেবে জাহিদ হাসান সব বয়সী দর্শকদের কাছ থেকেই বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন এবং পরিচালক হিসেবেও বেশ কিছু জনপ্রিয় নাটক নির্মাণ করেছেন। সেগুলোও দর্শক মহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। বলতে দ্বিধা নেই তিনি একজন আপাদমস্তক অভিনয় শিল্পী। আর তাই যদি না হয়, তাহলে কী করে বছরের পর বছর অভিনয় দিয়ে নিজেকে ধরে রেখেছেন জনপ্রিয়তার একই কক্ষপথে। জাহিদ হাসান খুব ভালো মনের একজন মানুষ। নির্মাতা হিসেবে সে আরও অনেক ভালো করুক জন্মদিনের শুভেচ্ছা এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

সম্পাদনাঃ নূর মোহাম্মদ নূরু

*জন্মদিন* *জাহিদহাসান* *অভিনেতা* *জনপ্রিয়*

Fahad Bin Ishaque: *জন্মদিন* *বউ

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★