জমি

উদয়: একটি বেশব্লগ লিখেছে

এক টুকরো জমি মানুষের বিপদের সম্বল। তবে জমি কেনার আগে দলিলগুলো সঠিক আছে কি না তা ভালো করে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। প্রায়ই দেখা যায়, জাল দলিল তৈরি করে প্রতারকচক্র জমি বিক্রির নামে প্রতারণা করছে। তাই জমিজমার দলিল দেখে সঠিক উপায়ে যাচাই-বাছাই করে দেখা উচিত কোনো জাল দলিল আছে কি না। একটু সতর্ক হয়ে দলিলটি পরীক্ষা করলেই জাল দলিলটি সহজেই চিনে নেওয়া যায়।

যেভাবে জাল দলিল হয় :

  • বণ্টননামার ক্ষেত্রে সহ-শরিকদের অজান্তে ভুয়া বণ্টননামা করে দলিল জাল
  • এজমালি সম্পত্তি অর্থাৎ ভাইবোন মিলে যে সম্পত্তি ভোগ করে থাকে, এ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভাইয়েরা বোনদের না জানিয়ে দলিল তাদের নামেই করিয়ে থাকে
  • মালিকানা ছাড়াই দলিলদাতা সেজে বা কাউকে মালিক সাজিয়ে জমি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে রেজিস্ট্রি করে নেয়া হয়
  • অনেক সময় অর্পিত সম্পত্তি বা মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি জীবিত দেখিয়ে জাল করা হয়।
  • সাধারণত যেসব ক্ষেত্রে আদালত থেকে বণ্টননামা সম্পন্ন করা হয় না, সে ক্ষেত্রে দলিল জালের সম্ভাবনা বেশি থাকে
  • মালিক বিদেশে থাকলে মূল দলিল থেকে জালিয়াতি করা হতে পারে

জালের রকমফের :
অনেক সময় ঘষামাজা করে এবং ওভাররাইটিং বা কাটাছেঁড়া করেও দলিল জাল করতে পারে। আবার মূল তারিখ ঠিক রেখে দলিলের বিষয়বস্তু জাল করতে পারে।

কি করে বুঝবেন আপনি যে জমিটি কিনছেন সেটার দলিল জাল কি-না :
১। কোনো দলিল নিয়ে সন্দেহ হলে রেজিস্ট্রি অফিসে সংরক্ষণ করা দলিলের সাথে সাল মিলিয়ে দেখতে হবে। এ জন্য নির্দিষ্টভাবে দরখাস্ত করতে হবে। এতে দলিলটির যাবতীয় তথ্য দিতে হবে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের প্রকৃতি অনুযায়ী চারটি রেজিস্ট্রার বা ভলিউমে সংরক্ষিত থাকে।

২। বিক্রেতার কাছ থেকে সব দলিল, বিশেষ করে ভায়া দলিল চেয়ে নিতে হবে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে জানতে হবে সব দলিলের ক্রমিক নম্বর, দলিল নম্বর ঠিক আছে কি না।

৩। সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস থেকে জমির মিউটেশন বা নামজারি সম্পর্কে খোঁজ নিতে হবে। নামজারিতে ধারাবাহিকতা ঠিক আছে কি না, পর্যবেক্ষণ করুন। যদি দেখা যায়, সিএস জরিপের সঙ্গে বিক্রেতার খতিয়ানের কোনো গরমিল থাকলে ধরে নিতে হতে সমস্যা আছে।

৪। দলিল সম্পাদনের সময় ব্যবহৃত স্ট্যাম্পের পেছনে কোন ভেন্ডার থেকে স্ট্যাম্প কেনা হয়েছে এবং কার নামে কেনা হয়েছে খেয়াল রাখুন। প্রতিটি স্ট্যাম্পের পেছনে একটি ক্রমিক নম্বর উল্লেখ থাকে। এ নম্বরটি ঠিক আছে কি না, প্রয়োজনে স্ট্যাম্প বিক্রেতার সঙ্গে দেখা করে যাচাই করে নিন।

৫। একাধিক মালিকের ক্ষেত্রে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে মূল মালিক কে, তা নির্ণয় করতে হবে।

৬। ভূমি অফিস থেকে বিভিন্ন সিল পরীক্ষা করেও জালিয়াতি নির্ণয় করা যায়।

৭। অনেক সময় স্বাক্ষর জালিয়াতি করে দলিলদাতা বা গ্রহীতার সাজা হয়। এ ক্ষেত্রে স্বাক্ষর বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই করিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

৮। ভালো করে তারিখ, কাগজ, সিল ইত্যাদি লক্ষ্য করুন। দেখুন কোন অসংলগ্ন চোখে পড়ে কিনা।

৯। জরিপ খতিয়ানে জমির পরিমাণ পরবর্তী সময়ে যতবার বিক্রি হয়েছে, তার সঙ্গে জমির পরিমাণ মিল আছে কি না, তা যাচাই করুন। দাগ নম্বর, ঠিকানা এসব ঠিক আছে কি না, পরীক্ষা করুন।

১০। সম্প্রতি কোনো আমমোক্তারনামা দলিল থাকলে তাতে উভয় পক্ষের ছবি ব্যবহার হয়েছে কি না যাচাই করতে হবে।

১১। কোনো দান করা জমি হলে দলিলে সম্পাদনের তারিখ দেখে কবে জমিতে গ্রহীতা দখলে গেছে তা যাচাই করতে হবে। দলিলটি রেজিস্ট্রি করা কি না এবং দলিলদাতার সঙ্গে গ্রহীতার সম্পর্ক কী, তা যাচাই করতে হবে।

১২। সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া কোনো বিক্রীত দলিলের দলিল লেখকের নাম ঠিকানা জেনে সরেজমিন কথা বলে নেওয়া দরকার।

যেভাবে নেবেন আইনের আশ্রয় :
দলিল নিয়ে জালিয়াতির শিকার হলে ফৌজদারি মামলা করার সুযোগ আছে। দণ্ডবিধির ৪৬৩ থেকে ৪৭৭ ধারা পর্যন্ত জালিয়াতি সম্পর্কে বিস্তারিত বলা আছে এবং দায়ী ব্যক্তর বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রয়েছে। আর যদি দলিলটি বাতিল এবং অকার্যকর হিসেবে ঘোষণা চান তাহলে দেওয়ানি আদালতে দলিল বাতিলের মোকদ্দমা করতে হবে।

সূত্র : ইন্টারনেট

*জমি* *জমিরদলিল* *জালদলিল* *টিপস*

ঈশান রাব্বি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানা। উপকূল এলাকায় প্রতি বছর গড়ে ২০ বর্গকিলোমিটার করে বাড়ছে বাংলাদেশের আয়তন। প্রধানত দেশের দক্ষিণ উপকূলের নদী মোহনা এবং বঙ্গোপসাগরের বুকে বাড়ছে এ জমি। জানা গেছে, গত ৫৩ বছরে উপকূলীয় এলাকার জমি বৃদ্ধির মোট পরিমাণ প্রায় ১ হাজার বর্গকিলোমিটার। অর্ধশতকের পুরনো ম্যাপ আর বিভিন্ন সময়ে উপগ্রহ থেকে তোলা চিত্র বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এ তথ্য পেয়েছেন। চলমান ভূ-সৃজনের হিসাবে ৫০ বছরে আরো অন্তত ১ হাজার বর্গকিলোমিটার বাড়তি জমি যোগ হবে বাংলাদেশের মানচিত্রে।

চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, বরিশাল, খুলনাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সাগরের বুক চিরে জেগে উঠছে নতুন নতুন ভূখণ্ড। এসব নতুন ভূখণ্ডের কোনোটিতে শুরু হয়েছে কৃষিজ পণ্যের উৎপাদন। কোনোটিতে আবার চলছে বনায়নের কাজ। আবার বাংলাদেশের সীমায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাওয়ায় কোনোটিতে ভূমিহীনরা শুরু করেছে বসতিও। ১৪৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সন্দ্বীপের তিন পাশে গড়ে ওঠা নতুন ভূমির পরিমাণ মূল সন্দ্বীপের প্রায় দ্বিগুণ!

আবার নোয়াখালী জেলার উপকূলে সৃষ্টি হয়েছে নিঝুম দ্বীপ, চরকবিরা, চরআলীম, সাগরিয়া, উচখালী, নিউ ডালচর, কেরিং চরসহ প্রায় পাঁচ হাজার বর্গকিলোমিটারের নতুন ভূমি। এ জেলার দক্ষিণ প্রান্তে জেগে ওঠা নতুন ভূমির মধ্যে প্রায় সাত হাজার হেক্টরে বনায়নও করেছে বন বিভাগ। একইভাবে নতুন ভূমি জেগে উঠেছে খুলনার সুন্দরবন এলাকা ঘিরেও।

নতুন এ ভূমি খুলে দিচ্ছে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। কারণ নতুন ভূখণ্ডে ভূমিহীনদের পুনর্বাসন করা, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো ও বেকারত্ব হ্রাসের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই এলজিইডি, জনস্বাস্থ্য, কৃষি, ভূমি, বন বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারের ছয়টি বিভাগের সমন্বয়ে কাজ করছে বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা। নেদারল্যান্ডস ও ইফাডের আর্থিক সহায়তায় ১৯৭০ সাল থেকেই এমন সমন্বিত কাজ করছে বাংলাদেশ। সমন্বিত এমন কার্যক্রমের সুফলও মিলছে। প্রতি বছর গড়ে অন্তত ২০ বর্গকিলোমিটার নতুন চরের দেখা মিলছে। তবে নদী ও সমুদ্র উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে ব্যাপক ভাঙনের কারণে গড়ে হারিয়ে যাচ্ছে এর আট বর্গকিলোমিটার।

সংশ্লিষ্ট সব সূত্রে আলাপ করে জানা গেছে, ভাঙাগড়ার এ খেলার মাধ্যমেই গত চার দশকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে যুক্ত হয়েছে অন্তত ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার বা ১০ লাখ হেক্টর নতুন ভূমি। ক্রসড্যাম ও বনায়নের চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে এর সঙ্গে আরও ২০ হাজার বর্গকিলোমিটার বা ২০ লাখ হেক্টর ভূমি যুক্ত হওয়ারও সম্ভাবনার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে জেগে ওঠা নতুন ভূমি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করতে কাজও শুরু করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। জেগে ওঠা নতুন ভূমির সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে ২০১৬ সালেই কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইন নামে নতুন একটি আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে এ মন্ত্রণালয়।

এ প্রসঙ্গে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ বলেন, ‘২০১৬ সালেই নতুন আইন চূড়ান্ত করব আমরা। এ আইনের খসড়ায় ভূমি ব্যবস্থাপনা, ভূমি উন্নয়ন, ভূমি ব্যবহার ও কৃষিজমি সুরক্ষাসহ ভূমি-সংক্রান্ত বিষয়াদি থাকবে। এ জন্য ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে নিয়ে বৈঠকও করেছি আমরা।’

একই প্রসঙ্গে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বললেন, ‘ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হাইকোর্টেরও নির্দেশনা আছে। এ জন্য ভূমি ব্যবহার বাস্তবায়ন নামক একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি ভূমি শ্রেণীকরণের কাজ করছে। ২০১৭ সালের জুন মাসের মধ্যে এই শ্রেণীকরণের কাজ শেষ হবে।’

জানা গেছে, বাংলাদেশের সমুদ্রতটে জেগে ওঠা নতুন ভূখণ্ড ব্যবহার উপযোগী করতে সরকারের সঙ্গে কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিস (সিআইজিএস), চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট (সিডিএসপি), অ্যাকুয়াচারি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইডিপি), ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংসহ (আইডব্লিউএস) এক ডজন সংস্থা। জেগে ওঠা নতুন ভূমির ফিসিবিলিটি স্টাডি করে এটি ব্যবহারের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করে সরকারকে অবহিতও করছে তারা।

 

যেভাবে টেকসই হয় নতুন ভূমি: নোয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আমির হোসেন জানান, সাগরের বুকে জেগে ওঠা নতুন ভূমিকে টেকসই করতে প্রথমে বনায়নের কাজ শুরু করে বন বিভাগ। ১৫ থেকে ২০ বছর বনায়ন করা হয়। নরম মাটিকে শক্ত করতে প্রথমে রোপণ করা হয় কেওড়া গাছ। এরপর পর্যায়ক্রমে রোপণ করা হয় বাইন, করমচা, পুনাইল ও কাঁকড়া গাছের চারা। এসব গাছ চরের নরম মাটিকে শক্ত করে। ১০ থেকে ১৫ বছর পর এসব গাছ বড় হয়ে মাটি আঁকড়ে রাখে। তখন নতুন ওই ভূখণ্ড মানুষের বসবাসযোগ্য হয়।

যেসব নতুন ভূমিতে বড় হবে মানচিত্র: সন্দ্বীপের উত্তরে বামনী নদী এবং পশ্চিমে মেঘনা নদী। এরও পশ্চিমে হাতিয়া দ্বীপ। পূর্বে সন্দ্বীপ চ্যানেল। এ চ্যানেলের পূর্ব প্রান্তে চট্টগ্রাম। আর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলের বর্তমান দূরত্ব ১০ মাইল। নোয়াখালী থেকে ১২ মাইল এবং হাতিয়া থেকে ২০ মাইল। কিন্তু বর্তমানে এ দূরত্ব ক্রমশই কমছে। কারণ সন্দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের আজিমপুর এলাকা থেকে উত্তর-পশ্চিম কোণের দীর্ঘাপাড় ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় জেগেছে নতুন ভূমি।

আবার উত্তর-পশ্চিম অংশে থাকা উড়িরচরের দক্ষিণে জেগে উঠেছে আরও প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ লক্ষ্মীচর ও ভবের চর। নতুন ভূমি জেগেছে সন্দ্বীপের পূর্ব প্রান্তেও। এ দ্বীপের উত্তরেও জেগে উঠেছে কয়েক হাজার হেক্টর নতুন ভূমি। এরই মধ্যে এ ভূমির একটি অংশকে দীর্ঘাপাড় ইউনিয়ন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ ইউনিয়নে বসবাস শুরু করা কয়েক হাজার ভূমিহীন পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ২০১১ সালের জুন মাসে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে প্রশাসক। ২০১২ সালে নতুন এ ইউনিয়নে নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিও নির্বাচন করা হয়েছে।

সন্দ্বীপের আশপাশে জেগে ওঠা নতুন ভূখণ্ডে এখন চলছে কৃষিকাজ। নতুন চরের বিস্তীর্ণ ঘাস ব্যবহার করে হাজার হাজার গরু, ছাগল ও মহিষ লালন-পালন করছে নিম্নবিত্তের মানুষ।

সন্দ্বীপের উপজেলা চেয়ারম্যান মাস্টার শাহজাহান বিএ বলেন, ‘জেগে ওঠা নতুন ভূমির পরিমাণ সন্দ্বীপের মূল ভূখণ্ডের প্রায় দ্বিগুণ। যথাযথভাবে ব্যবহার করা গেলে এ ভূখণ্ড খুলে দেবে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার।’ নতুন ভূমিতে গড়ে ওঠা দীর্ঘাপাড় ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘যে হারে চর জাগছে তাতে সন্দ্বীপের উত্তর সীমান্তের ভবানী নদী ভরাট হয়ে হয়তো লেগে যাবে উড়িরচরের সঙ্গে। তখন সন্দ্বীপের আয়তন আরও বাড়বে।’

নোয়াখালী জেলার হাতিয়া দ্বীপ সংলগ্ন নতুন ভূমি নিঝুম দ্বীপেও শুরু হয়েছে মানুষের বসবাস। বাংলাদেশের এই ঘন ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে চরছে হরিণ, বানরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী। নিঝুম দ্বীপের পাশে এখন নতুন করে জেগেছে চরকবিরা নামক একটি এলাকা। একটু দূরে গেলে দেখা মিলছে চরকালাম, চরআলীম, সাগরিয়া, উচখালী, নিউ ডালচর নামক নতুন নতুন ভূখণ্ডের। হাতিয়া দ্বীপের দক্ষিণ এবং উত্তর প্রান্তেও জেগে উঠেছে নতুন ভূমি। একই অবস্থা দেখা গেছে কেরিং চরের দক্ষিণ প্রান্তেও।

মানচিত্রে যোগ হলো ১০ লাখ হেক্টর নতুন ভূমি: উপকূলীয় এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করা বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার হিসাব মতে, গত চার দশকে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন পয়েন্টে ১০ লাখ হেক্টর নতুন ভূমি পেয়েছে বাংলাদেশ। জেগে ওঠা এসব ভূমির মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই হচ্ছে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও ভোলা জেলায়। ক্রসড্যামের মাধ্যমে নতুন ভূমি উদ্ধার প্রসঙ্গে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পরিচালিত একটি প্রকল্প প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, ১৯৫৭ সালে এ অঞ্চলে প্রথম ক্রসড্যাম দিয়ে ২১ হাজার হেক্টর নতুন ভূমি উদ্ধার করে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে নোয়াখালীর রামগতিকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। আবার ১৯৬৫ সালে ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ আরও একটি ক্রসড্যাম তৈরি করে সোনাপুর রেলস্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয় চরজব্বার এলাকাটিকে। এতে উদ্ধার করা হয় প্রায় ৭৯ হাজার হেক্টর নতুন ভূমি। এলাকাটিতে এখন হাজার হাজার লোকে বসবাস। যার নামকরণ করা হয়েছে সুবর্ণচর উপজেলা নামে। স্কুল-কলেজ, হাট-বাজারসহ কি নেই সেখানে।

সিডিএসপি প্রকল্পের এক কর্মকর্তা জানান, মেঘনা নদী, হাতিয়া ও সন্দ্বীপ চ্যানেলে পরিচালিত পৃথক তিনটি প্রজেক্টে তারা ২৫ হাজার ৮৯৯ একর ভূমিতে এরই মধ্যে ১৮ হাজার ৫১৬ পরিবারকে পুনর্বাসন করেছেন।

এদিকে ভোলার মনপুরা দ্বীপেও নতুন ভূখণ্ড পেয়েছে বাংলাদেশ। সুন্দরবন ও সাতক্ষীরা রেঞ্জের আশপাশে যুক্ত হওয়া নতুন ভূখণ্ডকে বিবেচনায় আনলে সব মিলিয়ে সীমানায় যুক্ত হওয়া নতুন ভূখণ্ডের পরিমাণ হবে অন্তত ১০ লাখ হেক্টর।


জেগে ওঠা নতুন ভূখণ্ডের সম্ভাবনা: জেগে ওঠা নতুন ভূখণ্ডের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে সন্দ্বীপের সাংসদ মাহফুজুর রহমান মিতা বলেন, ‘নতুন ভূমিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এ ভূমি কৃষিজ কাজে ব্যবহার করেও কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় করতে পারে সরকার।’

একই প্রসঙ্গে হাতিয়ার সাংসদ আয়েশা ফেরদাউস বলেন, ‘নতুন ভূখণ্ড সংরক্ষণ করা গেলে বদলে যাবে বাংলাদেশের মানচিত্র। বদলানো সম্ভব দেশের অর্থনীতিও। এ জন্য নতুন ভূমির সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আশার কথা যে, এ জন্য কাজও শুরু করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।’

ঢাকার এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসের গবেষণায় বলা হয়েছে, হিমালয় থেকে নেমে আসা নদ-নদীগুলোর বয়ে আনা পলির এক-তৃতীয়াংশ মিশছে সাগরের পানিতে। বাকি অংশ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশের জমির আয়তন। ৪০ দশকে নোয়াখালী, হাতিয়া এলাকায় জেগে ওঠা ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকার নিঝুম দ্বীপ থেকে শুরু করে সম্প্রতি সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটার সামনে যে বিশাল ডুবোচর জেগেছে তা এরই প্রমাণ। ১৯৭৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত উপগ্রহ থেকে তোলা বাংলাদেশের ছবি এবং এ সময়ে নতুন প্রকাশিত এলাকা মানচিত্র অনুযায়ী ৫০ বছরে দেশের আয়তন বেড়েছে প্রায় ১ হাজার বর্গকিলোমিটার।

গবেষণায় বলা হয়েছে, হিমালয় থেকে আসা নদীগুলো প্রতি বছর বয়ে আনে গড়ে ১ বিলিয়ন টনেরও বেশি পলি। আর এ পলি জমেই সৃষ্টি হচ্ছে নতুন চর। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানেই যা ব্যবহার করতে পারছে মানুষ। সেই সঙ্গে মানচিত্রে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। অবশ্য এসব চরের সবগুলোই যে টিকে থাকছে তা নয়। আলোচিত তালপট্টি দ্বীপের মতো অনেক জমিই আবার হারিয়ে যাচ্ছে সাগরে। তবে এ ঘটনা খুব একটা বেশি নয়। এলাকাভিত্তিক হিসেবে সর্বাধিক ভূমি সৃজন হচ্ছে দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায়। পটুয়াখালী, নোয়াখালী ভোলা এবং বরগুনার নদী মোহনা ও সাগরে জাগছে অসংখ্য চর। প্রতি বছরই বাড়ছে এসব চরের আয়তন।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপকূলীয় গবেষণা ও জরিপ বিভাগ বলেছে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ তলিয়ে যাবে এই আশঙ্কায় চুপচাপ বসে আছে জাতিসংঘের আইপিসি। তাদের উচিত ভূমি সৃৃজনের এ তথ্য নিয়ে নতুনভাবে গবেষণা করা। দেশ তলিয়ে যাবে নাকি টিকে থাকবে তা নিয়ে আরো গবেষণা হওয়া উচিত। সে ক্ষেত্রে হয়তো বড় ধরনের আতঙ্ক থেকে রেহাই পাবে মানুষ। তাছাড়া শত শত বছর ধরে প্রাকৃতিক নিয়মে চলছে নতুন ভূমি গঠন।

পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে উপকূলীয় এলাকায় নির্মিত বাঁধগুলোও ভূমিকা রাখছে এক্ষেত্রে। দেশের অভ্যন্তরভাগসহ উপকূলীয় এলাকায় নদী এবং সাগরভাঙনে জমি বিলীন হওয়ার কিছু ইতিহাস থাকলেও ভূমি সৃজনের তুলনায় তা খুব একটা বেশি নয়। তাছাড়া ভেঙে যাওয়া তীর আবার জাগছে চর হয়ে। বর্তমান পরিস্থিতিতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভূমি বৃদ্ধির এ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা উচিত বলে মনে করে এই বিভাগ। সেক্ষেত্রে দেশের আওতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাকৃতিক এবং পরিবেশগত অনেক দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাওয়া যাবে

*জমি* *জায়গা* *ফালতুপোস্ট* *ঈশানরাব্বী*
৫/৫

আড়াল থেকেই বলছি: [শেয়ালপণ্ডিত-ভয়পাইছি]৬০ বিঘার বেশি কৃষি জমি থাকলেই মালিকানা বাজেয়াপ্ত! নতুন সংস্কার করা ভূমি আইনের খসড়া অনুসারে ৬০ বিঘার বেশি কৃষি জমি থাকবে না কারো। যে সকল ব্যক্তি বা তার পরিবারের ৬০ বিঘা কৃষি জমি রয়েছে, তারা এর থেকে বেশি কৃষি জমি ক্রয়, দান বা কোন সূত্রই গ্রহণ করতে পারবেন না। অন্যদিকে ৬০ বিঘার বেশি কৃষি জমি রয়েছে যাদের, তাদের জমি সরকার বাজেয়াপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে।

*সতর্কতা* *জমি* *মালিকানা* *বাজেয়াপ্ত*
জোকস

হাফিজ উল্লাহ: একটি জোকস পোস্ট করেছে

গ্রাম্যলোক ও ব্যাংকার এর মধ্য আলোচনা: গ্রাম্যলোক :স্যার, ছয় মাসের জন্য আমার দশ হাজার টাকা দরকার ব্যাংকার :তা আপনার কয় বিঘা জমি আছে? গ্রাম্যলোক :পাঁচ বিঘা আছে স্যার। ব্যাংকার :তাতেই চলবে ।এই নিন টাকা । কয় দিন পর লোকটা লটারীতে বিশ লক্ষটাকা পেয়েছে। ব্যাংকার : স্বাগতম ! টাকাগুলো আমাদের ব্যাংকে রাখলে নিরাপদ। গ্রাম্যলোক (অন্য মনস্কভাবে) :কয় বিঘা জমি আছে আপনাদের? (শয়তানিহাসি)(হাসি২)(শয়তানিহাসি)
*জমি*
শপিং

শপাহলিক: কেনাকাটা সংক্রান্ত একটি তথ্য দিচ্ছে

http://www.orientalgroupbd.com/oriental_abasan/

মেলা কিন্তু কালই শেষ...

*স্বপ্নেরবাড়ি* *জমি* *আবাসনমেলা*
১৪১বার দেখা হয়েছে

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★