ডায়েরি

ডায়েরি নিয়ে কি ভাবছো?

একজন 'র': একটি বেশব্লগ লিখেছে

                                                                                                          

একবার এক যুবক এক জ্ঞানী সন্ন্যাসীর সাথে দেখা করতে গেল। সন্ন্যাসীর সাক্ষাত পেয়ে তাকে বলল-
'আমি আপনার পরামর্শের জন্যে এসেছি। এখন পর্যন্ত আমার অযোগ্যতার জন্যে আমি কোন কিছুই করতে পারি নি। পরিচিত, স্বল্প-পরিচিত আর স্বজনেরা আমার ব্যর্থতার জন্যে আমাকে ভৎর্সনা করে আর আমার বোকামির জন্যে আমাকে ঠাট্টার পাত্র বানিয়ে রেখেছে। আমার এই ব্যর্থ জীবনের নিয়ে আমি বড় কষ্টে রয়েছি। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে এ জীবনের মায়া ত্যাগ করতে। আপনি দয়া করে আমাকে একটু সাহায্য করুন। আমার ব্যর্থতাকে উৎরে যাবার উপায় বলে দিন।"

জ্ঞানী সন্ন্যাসী যুবকটিকে একটু ভালো করে দেখলেন, তারপর দ্রুত বললেন-
"আমাকে ক্ষমা কর, এই মুহূর্তে আমি এত ব্যস্ত সময় পার করছি যে তোমাকে কোনরূপ সহায়তা করার সুযোগ আমার নেই। আমাকে খুব জরুরী ভিত্তিতে কিছু কাজ করতে হবে..." এতটুকু বলে তিনি একটু থামলেন। তারপর এক মুহূর্ত চিন্তা করে আবার বললেন, "কিন্তু তুমি যদি আমাকে আমার কাজে একটু সহায়তা করতে রাজী থাকো তবে আমি খুব দ্রুতই তোমার সমস্যায় তোমাকে সাহায্য করতে পারব।"

"অবশ্যই...অবশ্যই আমি আপনার কাজে সহায়তা করতে পারব" দ্রুতই উত্তর দিল যুবকটি।

যুবকের কথা শুনে জ্ঞানী সন্ন্যাসী বললেন, 'ভালো'। তারপর তার আঙ্গুলে থাকা একটি পাথর খচিত আংটি খুলে নিয়ে যুবকের হাতে দিলেন। তারপর বললেন, "আমার কিছু ঋণ রয়েছে কারও কাছে, তাই আংটিটি বিক্রি করা খুবই জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে। তুমি আমার ঘোড়াটি নিয়ে দ্রুত বাজারে যাও, আর আমার হয়ে আংটিটি বিক্রি করে আসো। তবে অবশ্যই তোমাকে আংটিটি একটু ভালো মূল্যে বিক্রি করার চেষ্টা করতে হবে। কোন অবস্থাতেই একটি স্বর্ণমুদ্রার কমে আংটিটি বিক্রি করো না, আর বিক্রি করে খুব দ্রুতই আমার কাছে ফিরে এসো।"

যুবকটি আংটিটি নিয়ে দৌড়ে ঘোড়ায় চড়ল এবং খুব দ্রুত স্থানীয় বাজারে গিয়ে পৌঁছল। সেখানে তখন অনেক বনিক ক্রেতাই দ্রব্যাদি ক্রয় বিক্রয়ে ব্যস্ত ছিল। যুবক আংটিটি নিয়ে ঐ বনিকদের নিকট গেল এবং তাদের সেটা দেখিয়ে বিক্রি করার চেষ্টা চালাতে লাগল। সকল বনিকই প্রথমে খুব আগ্রহ নিয়ে আংটিটি দেখছিল, কেউ কেউ ক্রয় করার ইচ্ছেও প্রকাশ করছিল। কিন্তু যখনই যুবক তাদের বলল অন্তত একটি স্বর্ণমুদ্রা না হলে সে আংটিটি বিক্রি করবে না, তখনই তাদের সব আগ্রহ উবে যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত এক বুড়ো বনিক যুবকটিকে ডেকে বুঝিয়ে বলল যে, এটি অত্যন্ত নিম্নমানের ধাতুর তৈরি আংটি আর আংটিতে থাকা পাথরটিও অনেক পুরানো। কোন বনিকই আংটিটি স্বর্ণমুদ্রার বিনিময়ে ক্রয় করতে রাজী হবে না। আর এই আংটির জন্যে একটি স্বর্ণমুদ্রা অনেক অনেক বেশি। তবে বৃদ্ধ বনিক বলল, যুবক যদি রাজী থাকে তবে তিনি কিছু তাম্র-মুদ্রা কিংবা অল্প কিছু রৌপ্যমুদ্রার বিনিময়ে আংটিটি ক্রয় করতে ইচ্ছুক।

বৃদ্ধ বনিকের এমন কথা শুনে যুবক আবারও হতাশ হয়ে পড়ল। যেহেতু জ্ঞানী সন্ন্যাসী তাকে এক স্বর্ণমুদ্রার কমে আংটিটি বিক্রয় করতে মানা করেছে তাই সে ভদ্রভাবে বৃদ্ধ বনিককে ব্যাপারটি জানিয়ে বিক্রি করতে পারবে না বলে জানাল। ইতোমধ্যে বাজারের প্রায় সকল বনিকের কাছে আংটিটি দেখানো সম্পন্ন হয়ে গেছে। বৃদ্ধ বনিক ব্যতীত আর কেউই আংটিটি ক্রয় করতে চায় নি। স্বর্ণমুদ্রা ব্যতীত আংটি বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়ে যুবক আবারও নিজের ভাগ্যকে মনে মনে গালমন্দ করতে লাগল। ঘোড়া চড়ে ফিরে চলল জ্ঞানী সন্ন্যাসীর কাছে।

"জনাব, আমি আপনার কাজটি করতে ব্যর্থ হয়েছি", জ্ঞানী সন্ন্যাসীর কাছে ফিরে এসে যুবকটি বলল। আরও বলল, 'বাজারে যারাই আংটিটি ক্রয় করতে চেয়েছিল তাদের সকলেই কিছু তাম্র কিংবা রৌপ্য মুদ্রার বিনিময়ে তা ক্রয় করতে চেয়েছে, কিন্তু আপনি আমাকে অন্তত এক স্বর্ণমুদ্রার কমে তা বিক্রি করতে মানা করায় আমি আংটিটি বিক্রি করতে পারিনি। শেষে এক বনিক আমাকে বললেন স্বর্ণমুদ্রার তুলনায় আংটিটি প্রায় মূল্যহীন, তাই কেউ কিনতে রাজী হবে না। এ কারণেই আমি ব্যর্থ হয়ে আপনার কাছে ফিরে এসেছি।'

সব কথা শুনে জ্ঞানী সন্ন্যাসী বলল,
'তুমি যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে এসেছ, তা কি তুমি জানো?
আংটিটি বিক্রি করার আগে তার প্রকৃত মূল্য সম্বন্ধে জানা খুব জরুরী, আর তা যদি তোমার জানা না থাকে তবে তুমি কখনোই সঠিক মূল্যে আংটিটি বিক্রি করতে পারবে না। আর এমন একটি আংটির মূল্য নিশ্চই তুমি শুধুমাত্র বাজারের বনিকের কথায় নির্ধারণ করবে না!
এক কাজ কর, তুমি বরং আংটিটি একজন জহুরির কাছে নিয়ে যাও। তার কাছ থেকে এর প্রকৃত দাম জেনে আসো। তবে এইবারে তুমি তার কাছে আংটিটি এবারে বিক্রি করো না, শুধু আংটিটির প্রকৃত দাম জেনেই আমার কাছে ফিরে আসবে।"

জ্ঞানী সন্ন্যাসীর কথা শুনে যুবক আবারও দ্রুততার সাথে ঘোড়া ছুটাল জহুরির সন্ধানে। পরে এক জহুরির কাছে গিয়ে আংটিটি পরীক্ষা করতে দিল। জহুরি অনেক লম্বা সময় ধরে আতশি কাঁচের নিচে রেখে আংটিটি নিরীক্ষণ করলেন। তারপর খুব সাবধানে আংটিটি একটি তুলাদণ্ডে রেখে ওজন পরিমাপ করলেন। সবশেষে যুবকের নিকট আংটিটি ফেরত দিয়ে বললেনঃ

"তুমি আংটির মালিককে গিয়ে বল তিনি যদি এখনই জরুরী ভিত্তিতে আংটিটি বিক্রি করতে চান তবে আমি তাকে এখন সর্বাধিক ৫৮টি স্বর্ণমুদ্রা দিতে পারব। কিন্তু তিনি যদি আমাকে কিছু সময় দিতে রাজী হন, তবে আমার বিশ্বাস এই আংটিটি আমি অন্তত ৯০ টি স্বর্ণমুদ্রার বিনিময়ে বিক্রি করে দিতে পারব।"

"৯০ স্বর্ণমুদ্রা!" , বিস্ময় নিয়ে যুবকটি চিৎকার দিল!
তারপর আনন্দে হেসে জহুরিকে ধন্যবাদ দিয়ে সেখান থেকে বের হল এবং দ্রুত ঘোড়া ছুটিয়ে জ্ঞানী সন্ন্যাসীর কাছে ছুটল।

যুবক যখন ফিরে এসে জ্ঞানী সন্ন্যাসীকে জহুরির বলা কথাগুলো জানাল তখন সন্ন্যাসী তাকে বলল,
"ছেলে, মনে রেখো, তুমিও এই আংটিটির মত বহু-মূল্যবান এবং অনন্য একজন! বাজারের বোকা বনিকদের মত তুমিও যদি তোমার পরিচিত, অপরিচিত আর আত্মীয়দের কথায় নিজেকে মূল্যায়ন কর আর এভাবে ভেঙ্গে যাও তবে কখনোই নিজের প্রকৃত মূল্য আবিষ্কার করতে পারবে না। তারচেয়ে বড় তোমার মেধা, তোমার বুদ্ধি আর তোমার যোগ্যতাকে আরও নিবিষ্ট ভাবে কাজে লাগাও। আর তা যদি করতে পারো তবে জহুরির মত বিজ্ঞ লোকই তোমার মূল্য বুঝতে পারবে। তাদের কাছেই তোমার নিজের প্রকৃত মূল্যায়ন তুমি বুঝে পাবে।"

 

 

 

 

⚍⚌⚎⚍⚌⚎⚍⚌⚎⚍⚌⚎⚍⚌⚎⚍⚌⚎
অনুবাদ গল্পঃ আত্মমূল্যায়ন▐
লেখকঃ অজানা▐
সূত্রঃ আন্তজালিকা▐
⚍⚌⚎⚍⚌⚎⚍⚌⚎⚍⚌⚎⚍⚌⚎⚍⚌⚎

*গল্প* *অনুবাদ* *ডায়েরি* *এলোমেলো*

একজন 'র': [বাঘমামা-অত্যান্তখুশী] আপনার প্রতিটা ভুল পদচিহ্নের প্রমাণ রেখে যায় আপনার বিরামহীন চেষ্টা আর কাজের প্রতি একাগ্রতার...

*ডায়েরি* *এলোমেলো* *উক্তি*

একজন 'র': একটি বেশব্লগ লিখেছে

 

পথটা দু'দিকেই যায়, সামনে কিংবা পেছনে। আমি বহুদূর হতে এরই উপর ভর করে এসেছি, ভেসে এসেছি। দু'চাকার বাহন আমাকে উড়িয়ে নিয়ে এসেছে এই এখানে।

এখানে? এটা কোথায়?
জানি না! জানা নেই।
কিংবা উত্তরটা হতে পারে- এটাই ঐ স্থান যেখানে ঠিক এই মুহূর্তে আমার থাকবার কথা। ঠিক এই মুহূর্তটাতেই আমার ভাবার কথা কেন আমি এখানে -এই নিয়ে। কোন ঘটনাই বিচ্ছিন্ন নয়, উদ্দেশ্যহীন নয়। প্রতিটা কাজ আর ঘটনার পেছনেই রয়েছে যুক্তিপূর্ণ আর অর্থবহ কোন কারণ, কোন উদ্দেশ্য।

আমার কোথায় যাওয়া উচিৎ?
সামনের দিকে? যার সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই? নাকি পেছনের দিকে? যাকে ছেড়ে ছুড়ে ছুটে এসেছি এই এতদূর, এত ক্রোশ? আর যদি ফিরেই যাই, তবে কেন ফিরে যাবো? আছে কি কোন পিছুটান? ছিল কি কোন অপেক্ষা আমার জন্যে?

পিচ ঢালা পথ কি এক অদ্ভুত বিভ্রম তৈরি করে রেখেছে। দু'প্রান্ত হতেই হাত নেড়ে ডাকছে আমায়। আমি একাকী দুই বিভ্রমের মাঝে আটকে। এগিয়ে যাওয়া যায়, আবার যায় একই ভাবে পিছিয়ে আসা। একঘেয়ে জীবনকে বেঁছে নেয়া যায়, কিংবা যায় প্রতিযোগিতা করে বিপরীত স্রোতকে ঠেলে সামনে এগিয়ে যাওয়া।

ছুটতে আমাকে হবেই, এটাই নিয়তি।

দু'চাকায় ভর করা সহজ, সহজ ছুটিয়ে চলা।
যত সমস্যা তা কেবলই দিক নির্ণয়ে। তুমি কেবল একবারই তোমার দিক নির্দিষ্ট করতে পারবে, তারপর যতই চেষ্টা কর সেই নির্ণীত দিক হতে আর পিছু হটতে পারবে না....

 

 

 

*এলোমেলো* *ডায়েরি*

একজন 'র': জীবনে সমস্যাদেরও প্রয়োজন আছে। কিছু কিছু সময় একটা সমস্যা আপনাকে হয়তো আপনার ভেবে রাখা পথ থেকে বিচ্যুত করবে, কিন্তু এরাই পথ বিচ্যুত করে আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যায় ভিন্ন কোন পথের সফলতার দিকে (খুকখুকহাসি)

*এলোমেলো* *ডায়েরি*

একজন 'র': একটি বেশব্লগ লিখেছে

এক পাখির দম্পতিদের একজন ছিল অন্ধ। অন্য পাখিটা নিজের পাশাপাশি অন্ধ পাখিটার দেখাশোনা করত। তার খাবার জোগাড় করা, বাসা তৈরি করা, নষ্ট বাসা পুনরায় ঠিকঠাক করা। এই সবই করত চোখে দেখা পাখিটা। অন্ধ পাখিটা শুধু তার অনুগ্রহেই বেঁচে থাকত। আর অবসরে দুজন মিলে খোলা আকাশে উড়ে বেড়াত। সেখানেও অন্ধ পাখিটাকে তার সাথী পাখিটা সহায়তা করত। গাইড করে তাকে উড়ে যাবার নির্দেশনা দিত। আর সেই নির্দেশনা মতই অন্ধ পাখিটা উড়ে চলত।

অন্ধ পাখিটার এই নিয়ে অনেক আফসোস ছিল। আফসোস ছিল কারণ দম্পতি হয়েও তারা একত্রে কোন কাজই স্বাধীন ভাবে করতে পারে না। একজন তার জন্যে খেটে মরে, আর অন্যজন সেই খাটুনির উপর জীবন নির্বাহ করে। প্রায়ই এই নিয়ে বিলাপ করত অন্ধ পাখিটা। কিন্তু সাথী পাখিটা তার প্রতিটা বিলাপের বিপরীতে তাকে সান্ত্বনা দিতো, সাহস যোগাত। নিজের এত খাটা-খাটনির পরেও অন্ধ পাখিটাকে সে কখনোই ছেড়ে যাবার কথা চিন্তা করত না। বলতে গেলে প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসা দিয়ে তাকে আগলে রাখার চেষ্টায় সর্বদা সচেষ্ট থাকত।

একদিন কোন এক বিকেলে অন্ধ পাখিটা তার সাথী পাখিটাকে জিজ্ঞাস করল-
- মনে কর কোন একদিন কোন কারণে আমি হারিয়ে গেলাম, কিংবা হারালাম ভুবন থেকে। তখন তুমি কি করবে?

জবাবে সাথী পাখিটি বলল-
- যেদিন ঐরকম কোন সময় আসবে সেদিন চিন্তা করব।

অন্ধ পাখিটা আবার জিজ্ঞাস করল-
- যদি দেখো কাল বিকেলে নীড়ে ফিরে দেখো তোমার আশ্রিত এই অন্ধ বিহাগ আর নেই এই নীড়ে। কিংবা জমে আছে শক্ত হয়ে। পিপীলিকারা আনন্দে আত্মহারা! খুঁটে খুঁটে তুলে নিচ্ছে তার অন্ধ চোখের অংশ গুলি। তখন কি করবে?

সাথী পাখিটা এবারে বলল-
- সে সময়ের কথাও সময়ে তোলা থাক। সময় ঠিকই জানে আমি কি করব তখন।

অন্ধ পাখিটা মনে মনে হাসল। কি অদ্ভুতুড়ে ভালোবাসাতেই না ডুবে আছে সে। অথচ বিনিময়ে তাকে কিছুই ফিরিয়ে দিতে পারছে কই! দীর্ঘশ্বাস আপনা-আপনি বের হয়ে আসল অন্তর হতে।

কিছুদিন বাদে এক বিকেলে দুজনে দুয়ে দুয়ে চার পাখা মেলে উড়ছিল মুক্ত আকাশে মনের আনন্দে। অন্ধ পাখিটা তার সাথীর বলে দেয়া পথ অনুসরণ করে উড়ে যাচ্ছিল, আর সাথী পাখিটা উড়ছিল অন্ধ পাখিটার চারপাশে, বৃত্তাকার, উপবৃত্তাকারের নানা ভঙ্গিতে। এভাবে ছুটে চলাতেই তাদের যত আনন্দ।

কিন্তু আনন্দটা আর কিছুক্ষন বাদে আনন্দ থাকল না। বলা নেই, কওয়া নেই হঠাৎ করেই ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করল। ফিরে যাবার দিক নির্দেশনা দিতে দিতে সাথী পাখিটা প্রাণপণে ছুটোছুটি করতে আরম্ভ করল। আর ওদিকে ঝড়ো হাওয়ার সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হল ধুলো। চারিপাশ অন্ধকার করে ঘিরে ধরল ধুলোর এক আস্তরণ। বাতাসের ঝাপটা আর ধুলোর ধাক্কায় বার বার পথ হারাচ্ছিল তারা।

ব্যতিব্যস্ত হয়ে পথের দিশা খুঁজে বের করে জোরে জোরে চিৎকার করে যাচ্ছিল সাথী পাখিটা। ধুলোর সাথে যুদ্ধ করার সময় তার খেয়ালে কিছুটা ভাটা পড়েছিল অন্ধ পাখিটার উপর থেকে। আর সেই সুযোগেই দমকা হাওয়া অন্ধ পাখিটাকে টেনে নিলো আপন দিশায়। এভাবে একটু একটু করে দূরত্ব বাড়ছিল তাদের। আর এভাবেই একটু একটু করে ভিন দিশায় ছুটে বেড়াচ্ছিল পাখি দুটো।

সাথী পাখিটা যখন মোটামুটি বালির চাদর ভেদ করে পথ খুঁজে বের করল তখন পিছনে ফিরে দেখে অন্ধ পাখিটা তার পেছনে নেই। ভয় পেয়ে গেল সে, তেড়ে গেল আবারও ধুলো-ঝড়ের দিকে।
কিন্তু কই! ধুলো ঝড় তো বিদায় হয়েছে। দমকা হাওয়াও তার এমনতর দুষ্টুমিতে লজ্জা পেয়ে কোথায় লুকিয়েছে। এখন কেউ এখানে নেই। তাহলে কোথায় গেল সে!

নিজের সর্বোচ্চ শক্তিকে ব্যয় করে ছুটল সাথী পাখিটা। চিৎকার করে ডাকতে লাগল অন্ধ পাখিটার নাম ধরে।
নেই! সে কোথাও নেই। বালি আর হাওয়া যেন একদম মিশিয়ে নিয়েছে অন্ধপাখিটাকে তাদের মাঝে।

সাথী পাখিটার চিৎকার ততক্ষণে আর্তনাদে রূপ নিয়েছে। ছুটল, কেবলই ছুটে বেড়াল সেই সন্ধ্যা থেকে ভোর অবধি। শেষ পর্যন্ত সূর্যের আলোও যখন তাকে তার অন্ধ সাথীকে খুঁজে দিতে পারল না তখন বাতাস আর বালিদের প্রতি প্রচণ্ড অভিমান করে ফিরতে শুরু করল নীড়ে। অন্ধ পাখিটির পরিণতি ভেবেও বার বার নিজেকেই দোষারোপ করছিল। কেন যে আজ উড়তে বের হয়েছিল, সে নিয়ে আফসোস করতে করতে নোনা জল ঝরাচ্ছিল চোখ থেকে।

ওদিকে অন্ধ পাখিটা ধীরে ধীরে বাতাসের ঝাপটায় ভিন দিশাতে কখন যে ছুটে চলেছিল তা সে নিজেও বুঝতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত যখন বুঝল তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। কান পেতেও সাথী পাখিটার কোন কথাই সে শুনতে পারছিল না। তখন সেও পাগলের মত সাথী পাখিটার নাম ধরে চিৎকার জুড়ে দিল। ছুটতে ছুটতে ঝড় পিছু ছাড়ল, বালির আস্তরণ অনেক অনেক পিছনে পড়ে রইল, কিন্তু সাথী পাখিটার কোন খোঁজ সে করতে পারল না। তবুও চিৎকার করতে করতে শক্তি শেষ হবার আগ পর্যন্ত উড়ে বেড়াতে লাগল।

কিন্তু এভাবেই বা কতক্ষণ! দিশা হারিয়ে কত সময়ই বা আর উড়ে চলা যায়। শক্তি ফুরিয়ে আসলে ক্লান্ত হয়ে ধীরে ধীরে নেমে আসল ভূমির দিকে। নিয়তি আজ তার নিশ্চিন্ত গাছের ডালে যে বিশ্বাসের আশ্রয় ছিল, তাও কেড়ে নিলো। নিজের দুঃখ নিয়ে বিলাপ করবারও আগে দুশ্চিন্তায় ঘিরে ধরল তাকে। সে তো ভুল দিশায় হলেও অবশেষে নিস্তার পেয়েছে ঐ নিষ্ঠুর বালি-ঝড় হতে। কিন্তু তার সাথী পাখি? সে কি বের হতে পেরেছিল ঐ ঝড় থেকে?

মনে এমন দুশ্চিন্তা নিয়েই কাটাতে লাগল সময়। হঠাৎ হঠাৎ যখন দূর থেকে কোন শব্দ ভেসে আসে তখনই চিৎকার করে সাথী পাখিটার নাম ধরে ডেকে উঠে। তারপর আবারও অপেক্ষাতে থাকে, এই বুঝি সাথী পাখিটা উড়ে এসে বলবে- "এভাবে পথ হারালে কেন! জানো না কতটা দুশ্চিন্তায় দৌড়ে বেড়িয়েছি আমি।"

সেই আশা আর পূরণ হয় না। ধীরে ধীরে ভোর হতে শুরু করে। চারিদিকের ব্যস্ততার শব্দ ঠিকই ভেসে আসে তার কানে। মাঝে মাঝে দূর আকাশে পাখিদের আলাপ করতে করতে উড়ে যাওয়া বুঝতে পারলে চিৎকার দেয় সাথী পাখিটার নাম ধরে। নিজে উড়ে যায় না। যদি উড়তে গিয়ে ভিন দিশাতে আরও দূরে কোথাও হারিয়ে যায়, সেই ভয়ে।

হঠাৎ একদল পাখি তার পাশে এসে নামল। অন্ধ পাখিটা মনে করল হয়তো তার সাথী পাখিটাই এসেছে। আনন্দে চিৎকার করে উঠে সে সাথী পাখিটার নাম ধরে। কিন্তু তার সাথী তো সেখানে নেই। পাখির দলটা অন্ধ পাখিটার কাছ থেকে তার ঘটনাটা শোনে। তারপর মোটামুটি একটা ধারণা নিয়ে তাকে তাদের সাথে উড়িয়ে নিয়ে চলে অন্ধ পাখিটার নীড়ের খোঁজে।

অনেক ঘুরতে ঘুরতে শেষ পর্যন্ত নিজের নীড়ের ঠিকানা খুঁজে পায় অন্ধ পাখিটি। আনন্দে আত্মহারা হয়ে চিৎকার জুড়ে দেয় সাথী পাখিটার নাম জুড়ে। কিন্তু সেই চিৎকারের বিপরীতে কোন সাড়া নেই। পাখির দল ভাবে হয়তো অন্ধ পাখিটার খোঁজে সাথী পাখিটা বের হয়েছে। সেজন্যেই কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তাই তারা অন্ধ পাখিটাকে নীড়ে পৌঁছে দিয়ে উড়ে যেতে থাকে আপন ঠিকানায়।

অন্ধ পাখিটা আপন নীড়ে প্রবেশ করে। সেও ভেবে নিয়েছে, সাথী পাখিটা হয়তো তার খোঁজেই ঘুরে ফিরছে। এখনই হয়তো যে কোন সময়ে হুট করে ফিরে আসবে সে। তারপর তাকে এখানে আবিষ্কার করে আনন্দে চিৎকার জুড়ে দিবে। হয়তো কেঁদে কেটে একটা হুলস্থুল কাণ্ডও ঘটিয়ে বসতে পারে।

এসব সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে আপন মনে নীড় জুড়ে হেঁটে বেড়াচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎই থমকে যেতে হল। থমকাল সাথী পাখিটার গায়ের গন্ধ পেয়ে। তার সাথী তো এখানেই আছে, এই নীড়েই রয়েছে সে। তবুও কেন তাকে দেখছে না? নাকি ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে সাথীটি তার? মনে এমন প্রশ্ন নিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে যেতে থাকল সাথী পাখিটার ঘ্রাণ বরাবর। হাটতে হাটতেই আবার হোঁচট খেল। সাথী পাখিটার গায়ের সাথেই হোঁচট খেয়েছে সে। মুখটা নামিয়ে সাথী পাখিটার গায়ে আদুরে ভঙ্গিতে ঘসতে লাগল অন্ধ পাখিটা। মাঝে মাঝে এমন করে সে। সাথী পাখিটা এমন করলে মনে মনে বেশ আনন্দিত হয়। যদিও মুখে বলে ভিন্ন কথা। এমন করলে বার বার বলতে থাকে- "কেন যে এমন ছেলেমানুষি কর"। অথচ তার কণ্ঠই বলে সেও মনে মনে এমন আদর বেশ উপভোগ করছে।

কিন্তু আজ তেমন কিছুই হল না। নিশ্চুপই পড়ে রইল সাথী পাখিটা। অন্ধ পাখিটা মনে করল কাল ঐভাবে তার কথা খেয়াল না করে পথ হারানোতে মান করেছে তার সাথী। তাই সে বলতে শুরু করল-
আমি কি ইচ্ছে করে এমনটা করেছি নাকি?
বাতাসের ধাক্কায় দিক হারিয়ে ফেলেছিলাম যে! নয়তো কি আর এমন হয় নাকি?

কিন্তু তাতেও কোন পরিবর্তন নেই সাথী পাখির। ওভাবেই গো ধরে পড়ে আছে সে।
এবারে অন্ধ পাখিটি ঘুরে সাথী পাখিটার সামনে চলে এলো। কিন্তু মেঝেতে এমন কি ফেলেছে তার সাথী। কেমন চিটচিটে হয়ে আছে মেঝে। পায়ে ঐসব চিটচিটে জিনিষ লেগে একাকার অবস্থা। তারপরও এগিয়ে এসে বার কয়েক ধাক্কা দিল সাথী পাখিটার গায়ে। কিন্তু না, কোন নড়াচড়াই নেই তার।

হঠাৎই অন্ধ পাখিটা বুঝতে পারল কেন সাথী পাখিটা আর নড়ছে না, কেন অভিযোগ করছে না তার পথ হারানো নিয়ে। চিটচিটে বস্তুটাই বা কি তাও বুঝতে আর কোন সমস্যা হল না তার।

ভোরে সাথী পাখিটা তার ক্লান্ত শরীর নিয়ে ফিরে এসেছিল নীড়ে। নীড়টা তৈরির সময় ঘরের এক কোণে সে লুকিয়ে রেখেছিল ভাঙ্গা একটি সুঁই। সন্তর্পণে সেই সুঁই বের করে নিয়ে আসে সে। এরপর সেই সুঁইটাকেই নিজের চোখ বরাবর গেঁথে দেয়। রক্তের ধারার সাথে সকল গ্লানি আর অপরাধ-বোধ বের হয়ে আসে তাতে ভেতর থেকে। ধীরে ধীরে নিথর হয়ে আসে তার শরীর।

অন্ধ পাখিটা এবারে আর কোন চিৎকার করে না, বিলাপ করে না আর। সে তার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছে। সময়ের কাছে তার যে প্রশ্নের উত্তর সাথী পাখিটি লুকিয়ে রেখেছিল, আজ ঐ উত্তর সে জেনে গেছে। জেনে গেছে নিয়তি তাকে পথ হারা করে কী ছিনিয়ে নিয়েছে তার আপন খেয়ালে...

 

 

 

 

 

*গল্প* *ডায়েরি* *এলোমেলো*

একজন 'র': বহুকাল পর যখন সত্যের আলো আমার মিথ্যের পৃথিবীকে আলোকিত করতে পায়ে পায়ে এগিয়ে আসতে শুরু করল। তখন বুঝতে পারলাম, মিথ্যে হলেও আমার অন্ধকার পৃথিবীটা জুড়েই ছিল আমার পূর্ণ অস্তিত্ব, মিথ্যের অন্ধকারেই উজ্জ্বল ছিল এই জীবনের সকল সৌন্দর্য। এই প্রথম অনুভূত হচ্ছিল সত্যের সৌরভ সকলের জন্যে হয় না। কিছু আত্মার জন্মই হয় অন্ধকারে ডুবে থাকবার জন্যে। সত্যের আলো তাদের জন্যে মশালের আগুন স্বরূপ। যে আগুন পুড়িয়ে দিয়ে যায় ঐসকল আত্মার বিশ্বাস আর মনে জমে থাকা মায়াগুলিকে....

*এলোমেলো* *ডায়েরি*

একজন 'র': জীবনের সময়টা যত ভালো কিংবা খারাপ সময়ে পরিপূর্ণ হোক না কেন, এই সময়ের প্রতি আপনি কৃতজ্ঞ থাকুন। দুনিয়ার কোন এক কোণে, কেউ হয়তো আপনার যাপিত এই জীবনটাকে ছুঁয়ে দেবার স্বপ্ন পূরণে জীবনেরই বিপরীতে আজন্ম যুদ্ধ করে যাচ্ছে....

*ডায়েরি* *এলোমেলো*

একজন 'র': ফুটন্ত পানির উপর কখনো নিজের প্রতিফলন দেখার চেষ্টা করেছেন কি? দেখা যায়? যায় না তো! যেমনি ভাবে ফুটন্ত পানির উপর নিজের প্রতিফলন দেখা যায় না, তেমনি ক্রোধ, রোষ আর রাগান্বিত অবস্থাতেও আপনি আপনার নিজের ভুলগুলি কখনোই অনুধাবন করতে পারবেন না। ঐ সময়ের প্রতিটি পদক্ষেপই হতে আপনার জন্যে চরম মাত্রার ভুল। তাই ক্রোধ ভুলে, রোষ কমিয়ে আগে স্থির পানির মত নিজেকে শান্ত করুন। তারপর ভাবুন পুরো ব্যাপারটিতে কার, কোথায়, কতটুকু ভুল রয়েছে...

*এলোমেলো* *ডায়েরি*

একজন 'র': একটি বেশব্লগ লিখেছে

“মহিলা সমিতির সামনে দেখলাম ছোটখাট একটা জটলা, এগিয়ে গিয়ে দেখি, এক যুবক চা খাচ্ছে, আর একদল যুবক তাকে ঘিরে ধরে চা খাওয়া দেখছে, যুবকটি হুমায়ূন ফরীদি। আমার এই বইটি সেই যুবককে উৎসর্গ করলাম”। -- জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ তাঁর “রজনী” গ্রন্থের উৎসর্গপত্রে লিখেছেন নিজের মিতা সম্পর্কে।

মঞ্চ থেকে টিভি নাটক, আর সেখান থেকে নিতান্তই পেটের তাগিদে এসেছিলেন চলচ্চিত্রের রঙিন পর্দায়। যেখানেই গিয়েছেন, নিজ অভিনয় প্রতিভার গুণে জয় করেছেন দর্শকহৃদয়। চলচ্চিত্রে কিভাবে এলেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন– পরিচালক খোকনের সাথে। প্রশ্নকর্তা শুধরে দিলেন, না মানে এফডিসিতে কিভাবে? চটপট উত্তর-বেবীটেক্সিতে করে। বাংলা চলচ্চিত্রে খলনায়ক চরিত্রকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন যিনি, সিনেমায় নায়কের চেয়ে খলনায়কের প্রতিই দর্শকের আকর্ষণ ছিল বেশী– তিনি হুমায়ূন ফরীদি।

সালটা ১৯৫২, মে মাসের ২৯ তারিখে ঢাকার নারিন্দায় জুট বোর্ডের কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম ও গৃহিণী ফরিদা ইসলামের কোলজুড়ে এলেন ফরীদি। পরিবারের কোথাও অভিনয় বা সাংস্কৃতিক আবহ ছিলো না। একেবারেই শুন্য থেকে উঠে এসেছিলেন তিনি। ১৯৭০ সালে চাঁদপুর সরকারী কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে ভর্তি হলেন প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে। ক্লাস আর করা হলো না, কিছুদিন পরেই শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ। দেশমাতৃকার টানে যুদ্ধে গেলেন তিনি। যুদ্ধ শেষে ঢাকায় ফিরলেন, কিন্ত ঢাবিতে ফেরা হলো না আর।

এবার ফিরে যাই, সাতাত্তরের ফরীদির কাছে। তখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তিনি। এর আগের বোহেমিয়ান জীবনের বর্ণনা না দিয়ে কেবল এটুকু বলাই ভালো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও উড়নচণ্ডী স্বভাবের কারণে ব্রেক অব স্টাডি হলো পাঁচ বছরের। বিশ্ববিদ্যালয় কি তাঁকে আর ফিরিয়ে নেবে? রেজাল্ট ছিল ভালো। চেষ্টা করলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। সুযোগও পেয়ে গেলেন অর্থনীতি বিভাগে। এরপর আন্তঃহল নাটক প্রতিযোগিতায় নাটক লিখে ও নির্দেশনা দিয়ে প্রথম হলেন। সেখানেই বিচারক হয়ে আসা নাসিরউদ্দিন ইউসুফের সঙ্গে পরিচয়। এই পরিচয়ের সূত্র ধরেই ঢাকা থিয়েটারে যাওয়া-আসা। টুকটাক ফাইফরমাশ খাটা। সে সময় ঢাকা থিয়েটার পথনাটক করছিল। চর কাঁকড়ার ডকুমেন্টারি ছিল ঘূর্ণিঝড়ের পটভূমিতে তৈরি পথনাটক। এই পথনাটকে প্রোডাকশনে কাজ করলেন ফরীদি। এরপর সংবাদ কার্টুনে ছোট্ট একটি চরিত্রে বিকল্প হিসেবে মঞ্চে উঠলেন। নাট্যকার সেলিম আল দীন তখন আল বেরুনী হলের হাউস টিউটর। তিনিই একদিন ফরীদিকে বললেন, একটু আয় তো!

“শকুন্তলার দ্বিতীয় পর্ব” পড়ে শোনালেন সেলিম। ভাষা-শব্দ চয়নে স্তম্ভিত ফরীদি। নাসিরউদ্দিন ইউসুফের নির্দেশনায় এই নাটকেই সর্পরাজ তক্ষকের ভূমিকায় অভিনয় করলেন তিনি। সে সময় ঢাকা থিয়েটার তারকাখচিত দল। আছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, আফজাল হোসেন, সুবর্ণা মুস্তাফা, জহিরউদ্দিন পিয়ার ও হাবিবুল হাসান। সে দলেই নাম লেখালেন ফরীদি। এরপর শুধু এগিয়ে যাওয়ার কাহিনী। “শকুন্তলা”র পর “ফণীমনসা”। তারপর “কিত্তনখোলা”, “কেরামত মঙ্গল”। নতুন করে শুরু হওয়া “সংবাদ কার্টুন”, “মুনতাসীর ফ্যান্টাসি”। গ্যেটে ইনস্টিটিউটের সঙ্গে “ধূর্ত উই”, “একটিই পাত্র” পথনাটক “বাসন”। নির্দেশনা দিলেন “ভূত” নাটকে। ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে সেটাই শেষ কাজ ফরীদির। আর “ধূর্ত উই”তে শেষ মঞ্চ-অভিনয়।
সে সময় যাঁরা মঞ্চনাটক দেখেছেন, তাঁরা জানেন, কী অসাধারণ এক স্বর্ণযুগ ছিল আমাদের নাটকের ইতিহাসে। কত ধরনের নিরীক্ষা আর কত নিবেদিতপ্রাণ অভিনয়, নির্দেশনা!

এবার টিভি পর্দা জয়ের পালা। ৭০ দশকের শেষ থেকে মধ্য ৮০ পর্যন্ত সময়টি ছিল সম্ভবত বিটিভির স্বর্নযুগ। বিনোদনের মাধ্যম বলতে ছিল সেই বিটিভি। এ সপ্তাহের নাটক, এ মাসের নাটক, ধারাবাহিক নাটক হিসেবে অসাধারন বেশ কিছু সৃষ্টি দর্শকদের বিটিভি উপহার দিয়েছে। এর পেছনে ছিলেন অনেক নিবেদিতপ্রান শিল্পী, প্রযোজক, কর্মকর্তা। অভিনেতা অভিনেত্রী এ আমলের মত গন্ডায় গন্ডায় ছিল না। তবে যারা ছিলেন বলতে গেলে সবাই অনন্য। বিশেষ করে আফজাল-ফরিদী-সুবর্না ছিলেন স্বতন্ত্র এক যুগের মত। আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় “নিখোঁজ সংবাদ”- ফরিদীর অভিনীত প্রথম টিভি নাটক। “নিখোঁজ সংবাদ” নাটকটির মূল চরিত্রের জন্যই প্রযোজক আতিকুল হক চৌধুরী ফরীদির কথা ভেবেছিলেন। ফরীদি বলে দিলেন, মূল চরিত্রটি তিনি করবেন না, করবেন মোটে এক সিনে থাকা এক বিপ্লবী ছেলের চরিত্র। সেটাতেই রাজি হতে হলো প্রযোজককে। অডিশন নিয়েও ঘাপলা। ফরীদি অডিশন দিলেন না। টিভি নাটকে ফরীদিই সম্ভবত প্রথম অডিশন ছাড়া শিল্পী। আশির দশকের দর্শকদের নিশ্চয়ই বিটিভি’র “আয়না” সিরিজের “ভাঙ্গনের শব্দ শুনি” (১৯৮৩) তে সেরাজ তালুকদারের কথা মনে আছে। সেলিম আল দীনের রচনা ও নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর পরিচালনায় এই নাটকে ফরিদীকে দেখা যায় টুপি দাড়িওয়ালা শয়তানের এক জীবন্ত মূর্তি রূপে। “আরে আমি তো জমি কিনি না, পানি কিনি, পানি...”, “দুধ দিয়া খাইবা না পানি দিয়া খাইবা বাজান”- এই ডায়লগ তখন তুমুল জনপ্রিয়। এরপর শহীদুল্লাহ কায়সারের “সংশপ্তক”(১৯৮৭-৮৮)-এ ‘কান কাটা রমজান’ চরিত্রে-ফরিদীর অনবদ্য অভিনয় কেউ ভোলে নি। ভোলা কি যায়! অসম্ভব! যখন এই বঙ্গ দেশটিতে বিটিভি নামে একটিমাত্র টেলিভিশন চ্যানেল ছিল এবং দর্শক-শ্রোতারা সেই একটিমাত্র চ্যানেলের সাপ্তাহিক নাটক দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকত। সেই সাদাকালো প্যান্ডোরার বাক্সেই সেরাজ তালুকদার আর রমজানের চরিত্রে হুমায়ুন ফরীদির অভিনয় দেখে বিস্ময়-বিমূঢ় হয়ে গেল দর্শক। খল চরিত্রে সাবলীল অভিনয় করে নায়কদের চাইতেও বড় তারকা বনে গেলেন ফরীদি। এর আগে অবশ্য নিখোঁজ সংবাদ, সেতুকাহিনী, চোরকাঁটা, ছিনিমিনি, সে- সহ বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করে ফেলেছেন তিনি। প্রচলিত ধারায় নায়ক বলতে চেহারার যে ধারণা আছে, তা ফরীদিই ভেঙে দিলেন।

নাটকের আলোচনার মধ্যেই ফরীদি সম্পর্কে আল মনসুরের একটি মূল্যায়নের কথা বলি—আল মনসুর বলছিলেন, “এ মাটিতে জন্ম নেওয়া সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ চির উজ্জ্বল অভিনেতা হলো হুমায়ূন ফরীদি।” কীভাবে আল মনসুর সমসাময়িক একজন শিল্পীকে এভাবে ঈর্ষাহীন মূল্যায়ন করতে পারলেন? সেটার জবাব- অভিনয়ের প্রতি ফরীদির একাগ্রতা; এবং সেই সাথে সততা। তিনি নিজেই বলতেন- “আমি চাকরী করতে পারি না, ব্যাবসা জিনিসটাও আমাকে দিয়ে হয় না। সবচাইতে কম খারাপ পারি যেটা, সেটা হচ্ছে অভিনয়; তাই সেটাকেই জীবিকার কাজে লাগিয়েছি।” অভিনেতা যায়, আসে। কিন্তু কিংবন্তি তৈরি হয়। একবার গেলে আর আসে না। নজরুলের ধুমকেতুর মত- “আমি যুগে যুগে আসি; আসিয়াসি পুনঃ মহাবিপ্লব হেতু। এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধুমকেতু।” ফরীদিরা বার বার আসেন না। যুগেই আসেন। একবার। এসে বিপ্লব সাধন করেই চলে যান।

চলচ্চিত্রে হুমায়ূন ফরীদির আগমনটা ছিল- “এলাম, দেখলাম, জয় করলাম” টাইপের। শহীদুল ইসলাম খোকনের “সন্ত্রাস” চলচ্চিত্রে খলচরিত্র দিয়ে রঙিন পর্দায় যাত্রা শুরু। প্রায় দুই যুগের ক্যারিয়ারে অভিনয় করেছেন আড়াইশোর বেশী ছবিতে। তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে “বিচার হবে”, “আনন্দ অশ্রু”, “পালাবি কোথায়”, “হুলিয়া”, “একাত্তরের যিশু”, “ব্যাচেলর”, “জয়যাত্রা”, “শ্যামল ছায়া”, “আহা”, “প্রিয়তমেষু”, “মেহেরজান” ইত্যাদি। নায়ক-খলনায়ক দু চরিত্রেই তিনি ছিলেন সাবলীল, এক কথায় ভার্সেটাইল। এক সময়ে মানুষ আর নায়ককে না, এক ভিলেনকে দেখতেই হলে যেতেন। সেই অপ্রতিদ্বন্দ্বী খলনায়ক ফরিদী। প্রায় দেড় দশক তিনি দর্শকদের চুম্বকের মত সিনেমা হলে আটকে রাখেন। ২০০৩ সালের পর সিনেমা প্রায় ছেড়ে দিলে দর্শকও হলবিমূখ হতে শুরু করে। তার অভিনীত শেষ সিনেমা “এক কাপ চা” ২০১৪ সালে মুক্তি পায়। নাটকে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি মেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মাননা। আর ২০০৪ সালে “মাতৃত্ব” ছবিতে সেরা অভিনেতা হিসাবে পান “জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার”। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে কিছুদিন অতিথি শিক্ষক হিসাবেও পাঠদান করেছিলেন তিনি।

ষাট বছর জীবনকাল কি খুব বেশী সময়??? হুমায়ূন ফরীদির মতো প্রতিভাবান অভিনয়শিল্পীর বেঁচে থাকার জন্য কি ষাটটা বছর যথেষ্ট?? মোটেই না। আরো অনেক কিছু দেয়ার ছিলো, অনেক অনেক অসাধারণ কাজ করার ছিলো। মঞ্চে ফিরতে চাননি কখনো, এক অজানা অভিমানে। কিন্ত মঞ্চেই শেষ কাজটা করার ইচ্ছেটা পুষে রেখেছিলেন মনের ভেতরে। শেক্সপিয়রের “কিং লিয়র” চরিত্রে অভিনয় করতে চেয়েছিলেন। পারেননি। স্রষ্টা তাঁকে সেই সুযোগ দেননি। মাত্র ষাট বছর বয়সে ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী, বসন্তের প্রথম দিনে ধানমন্ডির বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই গুনী অভিনেতা।

ব্যাক্তিগত জীবনে পরিপূর্ণভাবে সুখী কখনোই ছিলেন না। স্বাধীনতার পর সহপাঠীর বোন নাজমুন আরা বেগম মিনুর গলায় বেলী ফুলের মালা দিয়ে বিয়ে করেছিলেন। মিনু তাঁকে বোহেমিয়ান জীবন থেকে সংসারের সাজানো শয্যা পেতে দিয়েছিলেন। ধরে রাখতে পারেন নি। টেকেনি। প্রথম প্রেমের সেই মালা ছিঁড়ে সূবর্ণা মুস্তাফার গলায় পরিয়েছিলেন। না ফেরার দেশে পাড়ি জমানোর বছর চারেক আগে সে বন্ধনও ভেঙে যায়।

“বাঁচো এবং বাঁচতে দাও”-প্রায়ই এমন একটা ফিলোসফিক্যাল কথা বলতেন ফরিদী। সহ-অভিনেতাদের কাছে তার দরাজ দিলের কথা শোনা যায়। নাট্যাঙ্গনে নাকি একটি কথা প্রচলিত ছিল যে, যদি টাকা লাগে তবে হুমায়ূন ফরিদীর কাছ থেকে ধার নাও। কারণ ফেরত দিতে হবে না। কাউকে টাকা দিলে তা নাকি বেমালুম ভুলে যেতেন। তাই কোনদিন ফেরতও চাইতেন না। একবার সেটে চঞ্চল চৌধুরীকে দুপুরের খাবারে ভর্তা দিয়ে ভাত খেতে দেখেছিলেন। চঞ্চলের ভর্তা পছন্দের কথা শুনে একদিন বাসায় নানা রকমের ভর্তা বানিয়ে তাঁকে আসতে বলেন। চঞ্চল তখন পাবনাতে। রাত দুইটায় তিনি ঢাকা ফিরলে ঐ রাতেই নাকি ফরীদির বাসায় যেতে হয় দাওয়াত রক্ষা করতে। গিয়ে দেখেন প্রায় ৫০ রকমের ভর্তা সামনে করে বসে আছেন ফরিদী। আরেকবার নাকি হোতাপাড়া থেকে সূবর্ণার জরুরী ফোন পেয়ে রাত ২ টার পর ঢাকায় রওনা হন। হঠাৎ মনে পড়ে প্রোডাকশন বয় ইসমাইলকে কোন টিপস দেয়া হয়নি। প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে বহুদূর এসে নিজে গাড়ি চালিয়ে আবার সেটে ফিরে গিয়ে ঐ রাতেই তাকে কিছু দিয়ে ঢাকায় ফেরেন। এমন বহু গল্প আছে যা তাঁর হৃদয়ের বিশালতা প্রমাণ করে।

ফরীদির জীবনটা যেন অনেকটা দেবদাসের মত। স্নানঘরে পড়ে গিয়ে কী করুণ মৃত্যু! দেবদাসের করুণ মৃত্যুর পর উপন্যাসের শেষাংশে শরৎচন্দ্রের মন্তব্য ছিল- “এখন এতদিনে পার্বতীর কি হইয়াছে, কেমন আছে জানি না। সংবাদ লইতেও ইচ্ছা করে না। শুধু দেবদাসের জন্য বড় কষ্ট হয়। তোমরা যে কেহ এ কাহিনী পড়িবে, হয়ত আমাদেরই মত দুঃখ পাইবে। তবু যদি কখনো দেবদাসের মত এমন হতভাগ্য, অসংযমী পাপিষ্ঠের সহিত পরিচয় ঘটে, তাহার জন্য একটু প্রার্থনা করিও। প্রার্থনা করিও আর যাহাই হোক, যেন তাহার মত এমন করিয়া কাহারও মৃত্যু না ঘটে। মরণে ক্ষতি নাই, কিন্তু সে সময়ে যেন একটি স্নেহ করস্পর্শ তাহার ললাটে পৌঁছে-যেন একটিও করুণার্দ্র স্নেহময় মুখ দেখিতে দেখিতে এ জীবনের অন্ত হয়। মরিবার সময় যেন কাহারও এক ফোঁটা চোখের জল দেখিয়া সে মরিতে পারে।”

 

লেখাটি সংগ্রহীত -▐
লেখকঃ মুহাম্মদ সাইদুজ্জামান আহাদ

*ডায়েরি*

একজন 'র': আলোয় পূর্ণ প্রতিটি কোন - এই শহুরে জীবন, আত্মার আধার দূর হয় এমন আলো কোথা?

*এলোমেলো* *ডায়েরি*

একজন 'র': একটি বেশব্লগ লিখেছে

দূর থেকে কে যেন হাত নাড়ছিল, আমার ডিঙ্গি তখনও অনেক দূরে। ডিঙ্গিতে আপন খেয়ালেই নাটাই হাতে ঘুড়িটাকে উড়িয়ে দিয়েছিলাম সেই কবে। আর ঘুড়িটাও বাতাসের সাথে মিলে ষড়যন্ত্র করে উড়তে লাগল ভিন দিশাতে। দাড় ছিল না আমার। ডিঙ্গিটাকে অনেক চেষ্টাতেও এগিয়ে নিতে পারি নি পাড়ের দিশায়। অসহায়ের মত অপেক্ষা করছিলাম ঘুড়িটার মত পালটাবার, অপেক্ষা ছিল স্রোতের দিক পাল্টে যাবার।

তারপর একটা সময় সত্যি সত্যি ঘুড়িটা তার মত পালটাল। বাতাসকে বলে কয়ে পাড়ের দিশাতেই ছুট লাগাল। এই দেখে স্রোতের মনও বোধ করি গলতে শুরু করল। সেও ঘুড়ির মত দিক পাল্টে ডিঙ্গিটাকে মৃদু ধাক্কায় পাড়ের দিকে নিয়ে চলল। ধীরে ধীরে স্রোতের ধাক্কায় যখন ডিঙ্গিটা পাড়ে ভিড়ল, দিন গড়িয়ে তখন সন্ধ্যা প্রায়। পাড়ের দিকে যতই কাছে আসছিলাম, আহবানের হাত গুলি ততই পরিষ্কার হচ্ছিল। কিন্তু আলো কমে যাওয়াতে সবই মলিন লাগছিল তখন। একদম পাড়ে যখন ডিঙ্গি ভিড়ল, তখন দেখলাম আহ্বানের সেই সে হাত, সে তো আর কিছু নয়, আমার মনে আকটে থাকা সেই মরীচিকাই ছিল!

আক্ষেপ ছিল আমার অনেক অনেক বেশি! আহ্বানের হাতকে ঘিরে নয়, তাকে না পাওয়াতেও নয়। বরং ঘুড়িটার উপরেই যত আক্ষেপ ছিল আমার। উড়েছিলিই যখন তখন মাঝ পথে কেন আবার মত পাল্টে এ পথে এলি? ভিন দিশাতেই উড়ে চলতি। আমি না হয় মনের ভেতর ঐ মরীচিকার ডাক ধরে রেখেই সান্ত্বনা দিতেম নিজেকে। তাকে না দেখার আফসোসেই না হয় মরতাম বাকিটা জীবন...

 

 

*এলোমেলো* *ডায়েরি*

একজন 'র': একটি বেশব্লগ লিখেছে

২৫ বছরের এক যুবক ট্রেনের জানালা দিয়ে অবাক নয়নে বাইরে তাকিয়ে আছে। হেলে দুলে এগিয়ে যাচ্ছে ট্রেন তার আপন গতিতে।

ছেলেটি হঠাৎ চিৎকার করে পাশে থাকা ভদ্রলোককে উদ্দেশ্য করে বলল-
"বাবা! বাবা! দেখো গাছগুলি দৌড়ে পেছনে চলে যাচ্ছে!"

ভদ্রলোক তার ছেলের এমন কথা শুনে হাসলেন, তবে তার চোখে কেমন জানি একটা তৃপ্তির ছায়া। ঐ ভদ্রলোক আর ছেলের সামনের সিটে করে আরেক দম্পতি ট্রেনে ভ্রমণ করছিলেন। তারা ছেলেটির এমন কথা আর বাবার এমন প্রতিক্রিয়া দেখে বেশ অবাক হচ্ছিল।

একটু পর ছেলেটি আবারও চিৎকার বলে বলল-
"বাবা! বাবা! দেখ আকাশের মেঘ গুলিও আমাদের সাথে দৌড়চ্ছে!!"

এবারেও ভদ্রলোক আগের মতই মুগ্ধতা নিয়ে ছেলের কথা শুনে হাসলেন।
এবারে আর দম্পতি নিজেদের বিস্ময় লুকিয়ে রাখতে পারল না। ছেলেটির বাবাকে উদ্দেশ্য করে বলল-
"মনে হচ্ছে আপনার ছেলেকে একজন ভালো ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন"

দম্পতির কথা শুনে ভদ্রলোক মৃদু হাসলেন। তারপর বললেন-
আপনারা ঠিকই বলেছেন। আর বলতে গেলে, আমিও তাকে ডাক্তার দেখিয়ে বাসায় ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
আমার এই ছেলেটি অন্ধ হয়ে জন্ম নিয়েছিল। দীর্ঘ ২৫ বছর সে পৃথিবীর কোন বস্তুকে না দেখে শুধুমাত্র তাদের গল্প শুনে গেছে। আর আজ প্রথমবারের মত সে প্রকৃত অর্থেই দৌড়ে চলা মেঘ আর গাছগুলিকে দেখতে পাচ্ছে।

 


ιιιιιগল্পটা যেভাবে দেখছেন ঠিক ঐভাবেই ঘটছে বা ঘটেছে এমন হওয়াটা জরুরী নয়। দেখে যাওয়া গল্পটার ভিন্ন আরেকটা রূপও থাকতে পারে। যা আপনার আমার কিংবা হয়ত সকলেরই অজানাই রয়ে গেছে....

*ডায়েরি* *এলোমেলো*

একজন 'র': Oh, Ophelia! You've been on my mind girl like a drug... Oh, Ophelia! Heaven help a fool who falls in love.... https://www.youtube.com/watch?v=pTOC_q0NLTk

*প্রিয়-গান* *ডায়েরি*

একজন 'র': একটি বেশব্লগ লিখেছে

 স্ট্যান্ডার্ড ব্রাউজার গুলির মাঝে গুগল ক্রোম বেশ অনেক এগিয়ে আছে। বিল্টইন বিভিন্ন প্লাগ-ইন, এক্সটেনশন ব্যবহারের সুবিধা আর নিরাপত্তার দিক থেকে চিন্তা করলে বর্তমানের জন্যে চমৎকার একটি ব্রাউজার হচ্ছে Google Chrome। আপনি সরাসরি Google Chrome এর অফিসিয়াল সাইট থেকে অথবা এই লিংক ( Chrome 32-bit || Chrome 64-bit ) ব্যবহার করে ব্রাউজারটি বিনামূল্য ডাওনলোড করে ব্যবহার করতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে প্রথমে ছোট একটা ইন্সটলার প্রোগ্রাম ডাওনলোড হয়, যা পরবর্তীতে সম্পূর্ণ ব্রাউজারের ফাইল সমূহ ডাওনলোড করে তা সিস্টেমে ইন্সটল করে দেয়।

তবে কেউ যদি ব্যাকআপ হিসেবে বা ভিন্ন ভিন্ন পিসিতে Google Chrome ব্রাউজারটি ইন্সটল করতে চান তবে ব্যাপারটা বেশ বিরক্তিকর এবং সময়সাপেক্ষ একটা ঘটনা হিসেবে দাড়ায়। তার উপর ইন্টারনেট কানেকশনে কোন সমস্যায় ডাওনলোড প্রক্রিয়া একবার বন্ধ হয়ে গেলে পুনরায় একদম শুরু থেকে ফাইল ডাওনলোড হওয়া শুরু করে।

আর এইসব ঝামেলা এড়াবার জন্যেই প্রয়োজন অফলাইন ইন্সটলার বা Standalone Installer। অফলাইন ইন্সটলার দিয়ে সরাসরি ক্রোম ব্রাউজারটি ইন্সটল করা যায়, সেক্ষেত্রে আপনাকে অনলাইন থেকে সরাসরি পুরো ব্রাউজারের ডাটা একবারে ডাওনলোড করে নিতে হবে। তারপর যখন ইচ্ছে বা যতগুলি পিসিতে প্রয়োজন সকল স্থানে ঐ একই ইন্সটলার দিয়ে ব্রাউজারটি ইন্সটল করতে পারবেন।

 নিচে Google Chrome ব্রাউজারের অফিসিয়াল অফলাইন ডাওনলোড লিংক দেয়া হল-

  •  একজন ব্যবহারকারীর (Single User) জন্যে ব্রাউজারটি ডাওনলোড করার লিংকঃ

Google Chrome Standalone Offline Installer (32-bit)
Google Chrome Standalone Offline Installer (64-bit)

  • সকল ব্যবহারকারীর (All User) জন্যে ব্রাউজারটি ডাওনলোড করার লিংকঃ

Google Chrome Offline Installer for All User Accounts (32-bit)
Google Chrome Offline Installer for All User Accounts (64-bit)

  • Google Chrome ব্রাউজারের অফলাইন MSI ইন্সটলার ডাওনলোড করার লিংকঃ

Full Standalone Offline Windows Installer (MSI) of Google Chrome

 

 

উপরে প্রদত্ত লিংক সমূহ থেকে আপনি সর্বদাই Google রিলিজ কৃত Google Chrome এর সর্বশেষ সংস্করণের ব্রাউজারটি ডাওনলোড করতে পারবেন।

*গুগলক্রোম* *ব্রাউজার* *ডায়েরি*

একজন 'র': একটি বেশব্লগ লিখেছে

১৯১৪ সালের ডিসেম্বরের রাত। নিউজার্সির অরেণ্জ শহরের একটি ফ্যাক্টরিতে আগুন লেগেছে। যার বর্তমান মূল্য প্রায় ৪৮০ মিলিয়ন ডলার। ফ্যাক্টরির মালিক বলতে গেলে তাঁর জীবনের সমস্ত সঞ্চয় ব্যয় করেছেন ফ্যাক্টরিটি তৈরির পেছনে।

মালিক ফ্যাক্টরির বাইরে দাঁড়িয়ে আগুনের শিখা দেখছেন। আর মিটিমিটি হাসছেন। পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর ২৪ বছরের ছেলে চার্লস। ভদ্রলোক, ছেলেকে হাসতে হাসতে বললেন- যা তোর মাকে তাড়াতাড়ি ডেকে নিয়ে আয়। এমন সুন্দর আগুন একসাথে দেখার সৌভাগ্য মানুষের খুব কমই হয়।

ছেলেটির মা এসে দেখলেন- তার স্বামীর মুখে হাসি আর পুত্রের চোখে কান্না।

পরদিন ভোরে স্বামী আর স্ত্রী একসাথে হাঁটতে বেরিয়েছেন। একসময় স্ত্রী স্বামীকে বললেন- শুধু তোমার ফ্যাক্টরিই পুড়েনি, তোমার সারা জীবনের সঞ্চয়ও একসাথে পুড়ে ছাই, ভস্ম হয়ে গেছে। তোমার বিশ্বাস ছিল ফ্যাক্টরি সম্পূর্ণরূপে ফায়ারপ্রুফ। কোনোদিন আগুনে কোনো ক্ষতি করতে পারবেনা। তাই ভালোভাবে ইনস্যুরেন্স না করায় কোনো টাকাও ক্ষতিপূরণ পাবেনা। এসব কিছু জানার পরও তুমি এরকম শিশুর মতো হাসছ?

ভদ্রলোক বললেন- কারখানা পুড়েছে কই? আমিতো কোথাও কোনো পুড়া কারখানা দেখলাম না। তবে হ্যাঁ, দেখেছি শুধুই আগুণ।

এই উত্তর শুনে তার স্ত্রী বলল- তোমার কি রাতে ভালো ঘুম হয়নি? সবকিছু হারিয়ে তুমি কি পাগল হয়ে গেছো? নিজের চোখের সামনে দাউ দাউ করে জ্বলে পুড়ে ছাই,-ভস্ম হয়ে গেলো পুরো একটা কারখানা। আর তুমি বলছ- কোনো কারখানাই পুড়েনি। তুমি ঠিক আছো তো?

ভদ্রলোক স্ত্রীকে আশ্বস্ত করতে বললেন- হ্যাঁ, রাতে খুব শান্তির ঘুম হয়েছে। আমিও পুরোপুরিই ঠিক আছি। আর ঠিক আছি বলেই বুঝতে পারছি- আগুনে কোনো কারখানা পুড়েনি, পুড়েছে শুধু আমার অহংকার, পুড়ে শেষ হয়ে গেছে আমার জীবনের সব ত্রুটি,বিচ্যুতি আর ভুল।
একটা কারখানা পুড়েছে, আরেকটা কারখানা তৈরি হবে তাতে কোনো দুঃখ নাই। তারচেয়ে বরং খুশী এই জন্য যে- আমার অহংকার, ত্রুটি, বিচ্যুতি সব পুড়ে গিয়ে স্রষ্টা আমাকে নতুনভাবে আবারো জীবন শুরু করে দেয়ার একটা সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন।

 

ফ্যাক্টরির মালিক এই ভদ্রলোক ছিলেন পৃথিবীর পাঁচজন সেরা বিজ্ঞানীর একজন, যিনি "টমাস আলভা এডিসন" নামে পরিচিত। আর যখন তিনি নতুন করে পুনরায় জীবন শুরু করতে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁর বয়স ছিলো ৬৭। উদ্যম, প্রেরণা আর ধ্বংসস্তূপ থেকে পুনরায় জীবন শুরু করার মতো মোটিভেশনের এমন অনুপম দৃষ্টান্ত আর কি হতে পারে?

 

 

 

 

▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
লেখাটি ফেসবুক হতে সংগ্রহীত
♦ মূল লেখকঃ আরিফ মাহমুদ
♦ ত
থ্যসূত্রঃ This Week In New Jersey

*সংগ্রহ* *ডায়েরি* *জীবনের-আলো*

একজন 'র': একটা সময় পর্যন্ত মানুষ অনেক অনেক সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকতে চায়। সব বিকিয়ে দিয়ে হলেও আরও একটু বেশি সময় বেঁচে থাকার আশায় দৌড়ে বেড়ায়। কিন্তু কেউ কেউ যখন সত্যিই অনেক লম্বা একটা সময়ের জীবন পেয়ে যায়, তখন সেই জীবন নিয়ে বেঁচে থাকাটাই তার জন্যে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়ায়...

*এলোমেলো* *ডায়েরি*

একজন 'র': একটি বেশব্লগ লিখেছে

ভিক্টর হুগো সাহেবের লেখা 'লা মিজারেবল' উপন্যাসটা পড়েছিলাম প্রায় বছর খানিক আগে। উপন্যাসটিতে জাঁ ভালজাঁর জীবনের সাথে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার মোড় তুলে ধরেছেন তিনি। আমি সাধারণত কথায় কথায় 'চমৎকার' শব্দটা ব্যবহার করি, কিন্তু ভালজাঁর ঘটনা গুলিকে তুলে ধরাকে আমি চমৎকার বলতে পারছি না। কারণ, শুধু মাত্র "চমৎকার" বলে যদি উপমাও দিতে যাই তবে সেটা ঘোরতর অন্যায় হয়ে যাবে।

তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে ভিক্টর হুগো সাহেবের এই উপন্যাসের আলোকে ২০১২ সালে তৈরি করা Les Miserables মুভিটি আমি উপন্যাসটি পড়ার পূর্বেই দেখেছিলাম। সাধারণত একটা উপন্যাস থেকে কোন মুভি তৈরি করা হলে সর্বোচ্চ ঐ উপন্যাসের মাত্র ২০ শতাংশ ঐ মুভিতে ডিরেক্টর, এবং অভিনেতা, অভিনেত্রীরা তুলে ধরতে পারে। আর তার উপর ভিক্টর হুগো সাহেবের এই 'লা মিজারেবল' উপন্যাসটিতে এত বেশি ঘটনার বর্ণনা রয়েছে যে, কেউ যদি একে হুবহু কোন মুভিতে তুলে ধরতে চায় তবে তাকে ঐ মুভি কেবলমাত্র স্বপ্নেই তৈরি করতে হবে।

IDMB'র সেরা মুভি গুলির লিস্ট দেখতে দেখতে Les Misérables মুভিটি আজ আবারও সামনে চলে আসে। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই একই টাইটেল দিয়ে সাতটি ফুলটাইম মুভি এবং দুইটি টেলিফ্লিম গোছের মুভি সহ মোট নয়টি মুভি তৈরি হয়েছে (IMDB'র তথ্যানুসারে*)। প্রথমে অনলাইনেই ১৯৯৮ সনে তৈরি হওয়া মুভিটি দেখতে বসেছিলাম। সেখানে উপন্যাসে বর্ণিত ভালজাঁর বোনের পরিবারের অল্প কিছু দুর্দশা আর তারপর ভালজাঁ'র রুটি চুরি করা হতে মুভিটির শুরু হয়। তারপর সেটাকে রেখে আবারও দেখা শুরু করলাম ২০১২ সালে নির্মিত হওয়া মুভিটি। ভিক্টর হুগো সাহেবের মূল লেখাটি উপন্যাস হলেও এই মুভিতে ডায়লগ গুলিকে ছন্দ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। গুটি কয়েক ডায়লগ বাদ দিলে পুরো মুভির কথোপকথনই ছিল ছন্দ নির্ভর।

উপন্যাসে বর্ণিত ঘটনার অনেক ঘটনাই মুভিতে অনুপস্থিত। এখানে শুরুটাই হয়েছে ভালজাঁ'র দণ্ড দিবসের শেষ দিন দিয়ে, যেখানে জেলার জাভেয়া তাকে শর্তসহ মুক্তির কাগজ ধরিয়ে দেয়। তারপর উপন্যাসে বর্ণিত ঘটনার মতই এগিয়ে চলে ঘটনা। মুভিতে ব্যবহৃত কিছু ভালোলাগা ছন্দময় উক্তি এখানে তুলে ধরলাম।

 ককয়েদীর উপর নির্যাতন এবং তাদের দিয়ে অমানুষিক কাজ করিয়ে নেয়ার একটা চিত্র এখানে স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে একই সাথে কয়েদীদের ভীতিকর জীবনও চলে এসেছে ছন্দময় উক্তিতে। তারা তাদের দৃষ্টিকে উপরে না উঠবার তাগিদ দিচ্ছে। যাতে একই সাথে কোন প্রহরীর কাছে তাদের ঐ দৃষ্টি ক্রোধের দৃষ্টি হিসেবে মনে না হয় এবং উপরের দিকে তাকিয়ে জীবনের স্বাধীনতা খোঁজার স্বপ্ন না দেখে -সেই ব্যাপারটাই বোঝানো হয়েছে।

Look down, look down
You'll always be a slave
Look down, look down
You're standing in your grave.

শর্তসাপেক্ষে মুক্তি মিলল, মিলল নতুন স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকবার আশা। সে আশাই মন থেকে বের হয়ে আসল ছন্দ রূপে-

Freedom at last-
How strange the taste!
Never forget the years- the waste,
Nor forgive them
for what they’ve done.
They are the guilty-
Everyone!
The day begins
And now lets see
What this new world
Will do for me!

মুক্তি পেয়েও মুক্ত হতে পারে নি জাঁ ভালজাঁ। সমাজে তার কোন অবস্থান নেই, নেই সাধারণের মত বেঁচে থাকবার সুযোগ। দাড়ে দাড়ে গিয়ে কুকুরের মত তাড়া খেয়ে বেড়াতে থাকে সে। অবশেষে এক গির্জায় আশ্রয় মেলে।

কিন্তু অভাব যে স্বভাব নষ্ট করেছে তার সেই স্বভাবই তাকে দিয়ে করিয়ে নেয় আরেক ভুল। রাতের অন্ধকারে তার ভয় আবারও তাকে চোর বানিয়ে দেয়। চুরি করে জাঁ ভালজাঁ। ধরাও পড়ে যায় সকাল নাগাদ। সত্যতা জানার জন্যে যখন গির্জায় ফিরিয়ে নিয়ে আসে পুলিশ তখন গির্জার যাজক জানায় চুরি যাওয়া সকল জিনিষই সে ভালজাঁকে দান করেছে।

এই ঘটনায় অনুতপ্ত হয়ে ভালজাঁ হাঁটু গেড়ে বসে সৃষ্টিকর্তার সামনে -

What have I done,
Sweet Jesus, what have I done?
Become a thief in the night
Become a dog in the run!
Have I Fallen s Far
And is the hour so late
That nothing remain
but the cry of my hate?
The cries in the dark
that nobody hears
Here where I stand at the turning of the years.

 

অনুতপ্ত হয়েও নিজের জীবনকে এভাবেই বর্ণনা করে যায় ভালজাঁ-

If there's another way to go,
I missed it twenty long years ago.
My life was a war that could never be won.
They gave me a number and murdered Valjean.
When they chained me and left me for dead
Just for stealing a mouthful of bread!

 

যাপিত জীবনে নিজের বিশ্বাসকে তুলে ধরে এই লাইন কয়েক দিয়ে-

Take an eye for an eye!
Turn your heart into stone!
This is all I have lived for!
This is all I have known!

যাজকের কথা আর নিজের অনুতপ্ত মনকে ভীত ধরে নতুন জীবন গড়ার উদ্দেশ্য তৈরি করে ভালজাঁ। নতুন মানুষ হয়ে বাঁচার শপথ নিতে থাকে-

I'll escape now from that world-
From the world for Jean Valjean.
Jean Valjean is nothing now!
Another story must begin!

 

সময়ের দরিদ্রতা তুলে আসে নিচের ছন্দগুলিকে ভর করে-

At the end of the day
you’re another day older
And that’s all you can say
for the life of the poor.
It’s a struggle!
It’s a war!
And there’s nothing
that anyone’s giving.
One more day standing about- What is it for?
One day less to be living.
At the end of the day
you’re another day colder
And the shirt on your back
doesn’t keep out the chill.
And the righteous hurry past
They don’t hear
the little ones crying
And the plague is coming on fast
Ready to kill-
One day nearer to dying!
At the end of the day
there’s another day dawning
And the sun in the morning is waiting to rise
Like the waves crash on the sand
Like a storm that’ll break any second
There’s a hunger in the land
And there’s gonna be hell to pay
At the end of the day!

ওদিকে ভাগ্যহত এক মা তার সন্তানকে দত্তক দিয়ে তার ভরণপোষণের জন্যে কাজ করে যাচ্ছিল ভালজাঁর প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু ঘটনা বসত সে ঐ প্রতিষ্ঠান থেকে বিতাড়িত হয়। সন্তানের খচর বহন করতে নিজের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সাথে সাথে নিজেকেও বিকিয়ে দেয়। তাতেও দায় মেটে না। আরও অর্থের প্রয়োজন! আরও আরও অর্থ! দেরিতে হলেও জানতে ঘটনাটা পারে জা ভালজাঁ। মৃত্যুপথযাত্রী ঐ মা'কে কথা দেয় তার সন্তানকে ভালজাঁ নিজের দায়িত্ব হিসেবে তুলে নিলো। কিন্তু ততদিনে আবারও বিপদে পড়েছে ভালজাঁ। সার্জেন্ট জাভেয়া চলে আসে তাকে ধাওয়া করে। পালায় ভালজাঁ। 

দত্তকে দিলেও সেখানে কাজের মেয়ে হিসেবেই থাকতে হচ্ছিল কজেটকে। কজেটের দিন যাপনের দুঃখ আর স্বপ্নের ভুবনটা তার ছন্দেই উঠে আসে-

There is a castle on a cloud
I like to go there in my sleep.
Aren’t any floors for me to sweep,
Not in my castle on a cloud.
There is a lady all in white
Holds me and sings a lullaby.
She’s nice to see and she’s soft to touch
She says, Cosette, I love you very much.
I know a place where no one’s lost
I know a place where no one cries.
Crying at all is not allowed,
Not in my castle on a cloud.

 

কজেটকে নিয়ে পালায় ভালজাঁ। সার্জেন্ট জাভেয়া পাগলের মত খুঁজতে থাকে তাকে। এভাবেই সময় পার হতে থাকে। সময়ের সাথে চলে আসে সমসাময়িক অবস্থার বর্ণনা। বিদ্রোহ তখন শহর জুড়ে। তেমনই এক বিদ্রোহীর কথায় উঠে আসে ঐ সময়ের অবস্থার বর্ণনা-

There was a time we killed the King
We tried to change the world too fast.
Now we have got another King,
He is no better than the last.
This is the land that fought for liberty-
Now when we fight we fight for bread!
Here is the thing about equality-
Everyone’s equal when they’re dead.
Take your place! Take your chance!
Vive la France! Vive la France!

 

 তেমনই এক বিদ্রোহী মারিয়াস। সেই মারিয়াসের সাথেই শহরের এক প্রান্তে দেখা হয় কজেটের সাথে। কজেট ততদিনে অবশ্য প্রাপ্তবয়স্ক এক মেয়েতে পরিণত হয়েছে। কজেটও দেখতে পায় মারিয়াসকে। মারিয়াস আর কজেট দুজনেই দুজনের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে প্রথম দিন থেকেই। এই আকর্ষণে কিছুটা হলেও বিদ্রোহ থেকে মন ছুটিয়ে নেয় মারিয়াসের। তার প্রমাণ মেলে তার কথায়। যেখানে বিদ্রোহীদের কাছে লাল আর কালো রঙ এর মানে-
– Red!
– The blood of angry men!
– Black!
– The dark of ages past!
– Red
– a world about to dawn!
–Black
– the night that ends at last!

সেখানে মারিয়াসের কাছে লাল আর কালো রঙ এর মানে হয়ে যায় এমন-
– Red!
– I feel my soul on fire!
– Black!
– My world if she’s not there!
– Red!
– The colour of desire!
– Black!
– The colour of despair!

ভীরের মাঝেই কজেটকে হারিয়ে ফেলে মারিয়াস। মরিয়া হয়ে উঠে তার দেখা পাবার জন্যে। বান্ধবী এপনিকে অনুরোধ করে হারিয়ে ফেলা কজেটের খোঁজ নিয়ে আসার জন্যে। মারিয়াস জানত না এই এপনিই হচ্ছে কজেটকে দত্তক নেয়া দম্পতির সন্তান। আরও জানত না যে এমপনি তার মনে মারিয়াসকে অনেক আগেই স্থান দিয়ে বসে আছে। তবুও এপনি মারিয়াসের অনুরোধে খুঁজে বের করে কজেটের ঠিকানা। পৌঁছে দেয় মারিয়াসকে কজেটের বাড়ির বাগানের প্রান্তে।

 

 

বিদ্রোহীরা অংশগ্রহণ করে শোক প্রদর্শনে। সেখানেই তাদের বিক্ষোভ শুরু করে তাদের ছন্দে-

Do you hear the people sing
Singing the song of angry men?
It is the music of a people
Who will not be slaves again!
When the beating of your heart
Echoes the beating of the drums
There is a life about to start
When tomorrow comes!

 

উপস্থিত জনতাকে আহ্বান জানাতে থাকে বিদ্রোহীরা-
Will you join in our crusade?
Who will be strong and stand with me?
Beyond the barricade
Is there a world you long to see?
Then join in the fight
That will give you the right
To be free!

 

 শুরু হয়ে যায় বিদ্রোহ। এর মাঝে গেভ্রোস বের করে দেয় তাদের মাঝেই লুকিয়ে থাকা ইন্সপেক্টর জাভেয়াকে। জাভেয়া চেয়েছিল ভুল তথ্য দিয়ে সহজেই বিদ্রোহীদের কাবু করতে। কিন্তু সেই উদ্দেশ্য ধরা পরে যায় চতুর বাচ্চা গেভ্রোসের কারণে। তাকে বন্দী করা হয়। এদিকে জাঁ ভালজাঁ জানতে পারে তার মেয়ে কজেট প্রেমে পড়েছে মারিয়াসের। আরও জানতে পারে তার জীবন এখন সংকটময় মুহূর্তে আছে। মেয়ের ভালোবাসাকে বাঁচাতে ছুটে যায় ভালজাঁ। বিদ্রোহীদের সাথে বন্ধু হয়ে যোগদান করে। কৌশলে মুক্ত করে দেয় ইন্সপেক্টর জাভেয়াকে।

এপনির আকস্মিক মৃত্যুতে কিছুটা মনোবল হারায় বিদ্রোহীরা। বারুদ শেষ হয়ে আসলে বারুদের সংগ্রহে বাইরে যেতে ভীত হয়ে থাকে সবাই। সাহস যোগাতেই ঐ ছোট বিদ্রোহী বাচ্চা গেভ্রোস কণ্ঠে ছন্দ নিয়ে উৎসাহ দিতে থাকে সঙ্গীদের।


Do you here the people sing
Singing the song of angry men
It is the music of the people
Who will not be slaves agian.
When the beating of your heart
Echoes the beating of the drums
There is a life about to start
When tomorrow comes!

সৈন্যদের তোয়াক্কা না করে ঐ বিদ্রোহী বাচ্চা গেভ্রোস এগিয়ে যায় বারুদ সংগ্রহে, প্রাণ হারায় সেখানেই। গেভ্রোসকে হারিয়ে তাদের বিদ্রোহী চেতনা আরও দৃঢ়টা লাভ করে। যদিও সৈন্যদের কামানের সামনে তারা বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারে না। তবুও নিজেদের শেষ সময় পর্যন্ত তারা আক্রমণ চালিয়ে যায়। সাহসের সাথেই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে।

এদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় মারিয়াসকে নিয়ে সুড়ঙ্গপথে সেখান থেকে বের হয়ে যায় জাঁ ভালজাঁ। সুরঙ্গ মুখে শেষ প্রান্তে এসে আবারও দেখা মেলে ইন্সপেক্টর জাভেয়ার। অনেক দেরিতে হলেও জাভেয়া বুঝতে পারে ভালজাঁকে নিয়ে তার ভুল ধারণাটাকে। নিজেকেই প্রশ্ন করে উত্তর খুঁজে বেড়ায় জাভেয়া-

Who is this man?
What sort of devil is he?
To have caught me in a trap
And choose to let me go free?
It was his hour at last
To put a seal on my fate
Wipe out the past
And wash me clean off the slate!
All it would take Was
a flick of his knife
Vengeance was his
And he gave me back my life!

আত্মদহন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে জাভেয়া।

ওদিকে নিজের বাসায় ধীরে ধীরে সুস্থ হতে থাকে মারিয়াস। মোটামুটি সুস্থ অবস্থায় ফিরে যায় তাদের আড্ডা-স্থলে। বুলেট আর কামানের গেলায় শত ছিন্ন সেই আড্ডার সেই শূন্য চেয়ার টেবিল তাকেও তার মনটাকেও দহনে জ্বালাতে থাকে। বন্ধুদের সৃতিতে কাতর হয়ে তার কণ্ঠে চলে আসে ছন্দ-

There’s a grief that can’t be spoken
There’s a pain goes on and on
Empty chairs at empty tables
Now my friends are dead and gone.
Here they talked of revolution
Here it was they lit the flame
Here they sang about tomorrow
And tomorrow never came…
From the table in the corner
They could see a world reborn
And they rose with voices ringing
And I can hear them now!
The very words that they had sung
Became their last communion
On the lonely barricade…... at dawn.
Oh my friends, my friends, forgive me
That I live and you are gone
There’s a grief that can’t be spoken
There’s a pain goes on and on…
Phantom faces at the window
Phantom shadows on the floor
Empty chairs at empty tables
Where my friends will meet no more.
Oh my friends, my friends...... don’t ask me
What your sacrifice was for
Empty chairs at empty tables
Where my friends will sing…... no more.

 

শেষ পর্যন্ত দায়বদ্ধতা থেকে মুক্ত হয় জাঁ ভালজাঁ। প্রাণের চেয়ে প্রিয় কন্যা সমতুল্য কজেটকে তার প্রিয়পাত্রের হাতে তুলে দিয়ে তাদের জীবন থেকে অনেক দূরে চলে আসে। প্রার্থনা করতে থাকে কজেটের সুখী জীবনের জন্যে, ক্ষমা প্রার্থনা করে তার পাপের জন্যে। একদম অন্তিম মুহূর্তে কজেটের উপস্থিতি ঘটে আবার। নিজের জীবনের কথাগুলিকে অক্ষরে বন্দী করে বিদায় নেই ভালজাঁ।

 

 

অভিনয় নিয়ে বলার মত তেমন কিছুই নেই। প্রতিটা চরিত্র চেষ্টা করেছে তাদের সত্তাটাকে ঢেলে দিতে। উপন্যাসের সাথে তুলনা করলে হয়ত অনেক কিছুই অনুপস্থিত, তবে অভিনেতা আর অভিনেত্রীদের অভিনয় সেই অংশটুকুকে পূর্ণতা দান করেছে। Wolverine খ্যাত Hugh Jackman এর Real Steel এ তার অভিনয়টাকেই এতদিন তার ভালো কাজ হিসেবে ধরে নিয়েছিলাম। আজবের পর সেই ধারণা অবশ্যই পাল্টে গেছে। Les Misérables তার সবচেয়ে ভালো কাজগুলির মধ্যে অন্যতম এটা বলতে আমার মোটেও কোন দ্বিধা নেই। এছাড়াও Russell Crowe এর অভিনয় বরাবরের মতই চমৎকৃত করেছে। খল একটা চরিত্র দেখার পর অভিনয়ের মাঝেই যখন তার প্রতি বিদ্বেষ মনে না আসে ততক্ষণ পর্যন্ত খল চরিত্রটা কোনভাবেই সার্থক হতে পারে না। Russell Crowe সেই হিসেবে অতিমাত্রায় সার্থক অভিনেতা। মুভিতে কিছু কিছু সময় তার অভিনয় সার্জেন্ট জাভেয়া চরিত্রটাকে এত বেশি পারফেকশন দিয়েছে যে প্রায়ই মন বিদ্বেষে ভরে উঠত।

 

 

ঘটনার বর্ণনায় পুরোটাই স্পয়লার হয়ে গেছে। তবুও নিজের ভালোলাগা অংশগুলিকে না বলে থাকা যাচ্ছিল না। তাই কিবোর্ডকে অত্যাচার করে লিখেই ফেললাম। যারা সময় নিয়ে পড়লেন তাদের জন্যে বেশ অনেক অনেক অসমবেদনা রইল (ভেঙ্গানো)

 

 

*মুভিকথন* *প্রিয়মুভি* *ডায়েরি*

একজন 'র': যুদ্ধ...! বুদ্ধি আর শক্তির বলে এক দল জিতে যায়। শুধু মানুষ হারায়, মানবতা হেরে যায়।

*এলোমেলো* *ডায়েরি*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★