দ্বীপ

দ্বীপ নিয়ে কি ভাবছো?

ঈশান রাব্বি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত এলাকায় কৃত্রিমভাবে তৈরি করা একটি দ্বীপে শিল্পীদের একটি দল পাঠিয়েছে চীনের সামরিক বাহিনী।

এ দলে আছেন চীনের জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত শিল্পী সং জুইং। নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নির্মাণ শ্রমিকদের উজ্জীবিত করতে এ উদ্যোগ নিয়েছে সেনাবাহিনী।

সফরের শুরুতে বিতর্কিত স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জে জাতীয় সঙ্গীত সহ দেশপ্রেম ও উদ্দীপনামূলক গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা।

কৃত্রিম দ্বীপটিতে লাইটহাউজ, পোতশ্রয় ও কয়েকটি ভবন নির্মাণ করেছে চীন। দক্ষিণ চিন সাগরের ওই অঞ্চলের মালিকানা দাবি করে আসছে তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেই।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ঐ অঞ্চলে নিজের আধিপত্যের জানান দিতে নতুন কৌশল নিয়েছে বেইজিং

*দ্বীপ*

Risingbd.com: সাপের দ্বীপ ‘লা দ্য কুইমাদা গ্রানাদে’ দ্বীপকে আদর করে আপনি সাপের দ্বীপ নামেও ডাকতে পারেন। তাতে কোন ভুল হবে না। সারা দ্বীপ জুড়ে কিলবিল করছে হাজার হাজার সাপ...বিস্তারিত পড়ুন - http://www.risingbd.com/%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%AA/150219

*সাপ* *বেশম্ভব* *আড্ডা* *দ্বীপ* *জানাঅজানা* *সারাবিশ্ব*

খুশি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

সুন্দরবনের পশ্চিম কোল ঘেঁষে দাড়িয়ে আছে চমকপ্রদ একটি দ্বীপ যার নাম হেনরী দ্বীপ। তবে এই হেনরী দ্বীপটি বাংলাদেশের সীমানাতে নয় এটি ভারতের সীমানায় পড়েছে। ভারতের বকখালি ও ফ্লেজারগঞ্জের কাছে সমুদ্রের ধারে, সুন্দরবনের পশ্চিম সীমানা ঘেঁষে এটির অবস্থান। ভ্রমনপ্রিয়সীদের কাছে এটি একটি সুন্দর বেড়াবার জায়গা। 



হেনরী দ্বীপ কোলকাতা থেকে মাত্র ১৩০ কিঃমিঃ দুরে ও গাড়ীতে করে প্রায় ৪ ঘণ্টায় পৌছান যায়। প্রায় ১০০ বছর আগে হেনরী নামে এক ব্রিটিশ সার্ভেয়ার এই (উপ)দ্বীপটি সার্ভে করেন ৷ তারই নামে এই দ্বীপের নাম হেনরী দ্বীপ ৷ ১৯৮০ সালে মৎস দপ্তর দ্বীপটিকে পর্যটনের উপযুক্ত করে তোলেন।



হেনরী দ্বীপে রাত্রি বাসের জন্য বেশ কয়েকটি আবাস আছে যার মধ্যে “সুন্দরী” নামে বাড়িটি খুব ভাল। এর সাথে ওয়াচ টাওয়ারও আছে, যার ওপর থেকে বন এবং, ভাগ্য ভাল থাকলে, হরিণ ও বন্য শুয়োর দেখা যায়। এই ওয়াচ টাওয়ার পেরিয়ে বিচের দিকে বেশি দুর গাড়ী যায়না। পায়ে হেঁটে বনের ভিতর দিয়ে মেঠো রাস্তা আর বাঁশের সাকো পেরিয়ে বিচ-এ য়েতে হয়। ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগে। বিচটির নাম কিরণ বিচ।



এই বালি ও মাটি মেশানো বিচটি খুব চওড়া। ভাটার সময় সমুদ্র অনেক দূরে চলে যায়। বিচের ধারে প্রচুর গাছ আছে। এমনকি বিচের ওপরেও কিছু গাছ আছে। বিচের ওপরে অনেক সময় ঝাকে ঝাকে লাল কাঁকড়া দেখা যায়। সাধারণত বিচটি নির্জন থাকে। সব মিলিয়ে জায়গাটা খুব সুন্দর।
(সংকলিত)
*ভ্রমন* *ট্রাভেল* *দ্বীপ* *বিদেশভ্রমন* *ভ্রমনটিপস* *ভ্রমনগাইড*

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর উপকূলীয় জীব বৈচিত্র্য, স্ফটিক স্বচ্ছ পানি, বহুরকমের প্রবাল আর সৈকত জুড়ে মুক্ত ছড়িয়ে থাকা অনন্য সুন্দর দ্বীপটির নাম ‘কীশ’। কীশ ইরানের একটি দ্বীপ। পারস্য উপসাগরে ইরানের যতোগুলো দ্বীপ রয়েছে তাদের মাঝে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ এটি। সমগ্র বিশ্বের সাথে ইরানের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এই দ্বীপটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। চমৎকার আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমণ্ডিত হওয়ায় দ্বীপটি সারা বছর দেশি বিদেশি পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত থাকে। আপনিও চাইলে ঘুরে আসতে পারেন ইরানের অনন্য সুন্দর দ্বীপ ‘কীশ’ থেকে।

কীশ দ্বীপটির অবস্থানঃ
ইরানের দক্ষিণ উপকূল হতে ২০ কিলোমিটার দূরে পারস্য উপসাগরের উত্তরাঞ্চলে ৯১ বর্গ কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে অনেকটা ডিম আকৃতির একটি দ্বীপ রয়েছে। দ্বীপটির নাম কীশ। পূর্ব-পশ্চিমে কীশ দ্বীপের দৈর্ঘ্য হলো ১৫ কিলোমিটার। আর উত্তর দক্ষিণে দ্বীপটির প্রস্থ প্রায় ৮ কিলোমিটারের মত।

কীশ দ্বীপের সৌন্দর্য্য কথনঃ
কীশ দ্বীপ নৌচালনা এবং মুক্তা কুড়ানোর জন্যে বিখ্যাত। এর চমৎকার আবহাওয়াও পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। শীতকালেও কীশের আবহাওয়ায় উষ্ণতার পরিমাণ ১৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের নীচে নামে না। বছরের ছয় মাস গরম থাকলেও বাকি ছয়মাসের আবহাওয়া বেশ উপভোগ্য।

এই দ্বীপে প্রচুর পরিমাণ প্রবাল রয়েছে। খ্রিষ্টপূর্ব দুই হাজার বছর আগে থেকে এখানে মানব বসতি গড়ে ওঠে। ফলে কীশের সংস্কৃতিতে রয়েছে প্রাচীনত্ব আর বেশ সমৃদ্ধও। তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবেও প্রাচীনকাল থেকেই কীশের খ্যাতি রয়েছে।

ইরানের কালজয়ী কবি সাদি সপ্তম শতকে তাঁর বিখ্যাত ‘গোলেস্তান’ কাব্যগ্রন্থে কীশ দ্বীপ প্রসঙ্গে লিখেছেন। তাঁর লেখায় উঠে এসেছে তৎকালীন কীশের মর্যাদা, বিস্তৃতি এবং বাণিজ্যিক লেনদেনের বিষয়গুলো।

কীশ দ্বীপ ইরানের সর্বপ্রথম ফ্রি ট্রেড জোন। কেবল বাণিজ্য নয় টুরিস্ট স্পট হিসেবেও কীশ দ্বীপটির খ্যাতি রয়েছে। সমগ্র দ্বীপের শতকরা প্রায় ৫৫ ভাগ এলাকা পর্যটনের জন্যে নির্দিষ্ট। পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্যে গড়ে উঠেছে নান্দনিক স্থাপনা, চমৎকার হোটেল। প্রকৃতির সৌন্দর্য আর স্থাপনার নান্দনিকতায় কীশ হয়ে উঠেছে দর্শনীয় একটি দ্বীপ।

কীশ দ্বীপে রয়েছে উপকূলীয় বৈচিত্র্য, রয়েছে স্ফটিক স্বচ্ছ পানি, বহুরকমের প্রবাল, বিচিত্র রঙের অ্যাকুরিয়ামের মাছ এবং সর্বোপরি কীশে রয়েছে মন কেড়ে নেওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এগুলো কীশ দ্বীপ দেখতে যাওয়া যে কোনো দর্শক বা পর্যটককেই কীশ দ্বীপের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হলো ‘হারিরা’ নামক পুরনো শহর। হারিরা শহরের প্রাচীন নিদর্শনগুলো দর্শকদের নিয়ে যায় সময়ের পর্দা ভেদ করে ইতিহাসের অনেক গভীরে। যেখানে এই চমৎকার প্রবাল দ্বীপের প্রাচীন বাসিন্দাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।

কীশের আরেকটি দর্শনীয় স্থাপনা হলো শেইখ আলে আলি ভবন। শেখ আলে আলি ছিলেন কীশ দ্বীপের সাবেক শাসক। সমুদ্রের পাড়ে যে সুরম্য প্রাসাদ তিনি গড়ে তুলেছেন তা অনন্য। যদিও অনেকের অভিমত স্থাপত্য কৌশলের দিক থেকে কাজারি রাজবংশের শাসনামলের স্থাপত্যের সাথে মিলে রয়েছে।

বন্ধুরা, তবে আর দেরি কেন ঘুরে আসুন ইরানের অনন্য সুন্দর  কীশ দ্বীপ থেকে। আর আপনার ভ্রমনের খুটিনাটি অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে শেয়ার করতে একদম ‍ভুল করবেন না।


*ভ্রমন* *ট্রাভেল* *ভ্রমনটিপস* *ভ্রমনগাইড* *বিদেশভ্রমন* *ইরান* *দ্বীপ* *কীশ*

Shuvojit Roy: একটি বেশব্লগ লিখেছে

মাদাগাস্কার দ্বীপের গায়ে ঝিনুকের মতো ছোট্ট দ্বীপ মরিশাস। এখানে গ্রীষ্মকাল নভেম্বর থেকে মে, আর শীতকাল মে থেকে নভেম্বর। রাজধানী পোর্ট লুইয়ের বিমানবন্দরে নেমে প্রথমেই ঠিক করে নিন মাথা গোঁজার ঠাঁই। মনে রাখতে হবে, পৃথিবীর অন্যতম বিলাসবহুল পর্যটনকেন্দ্র মরিশাস। এখানকার মূল পরিবহন বাস। গাড়িও মেলে। তবে কোনও ট্রেন চলে না। গোটা দ্বীপটা বাসে চড়েই ঘুরে নেওয়া যায়। হোটেলে ঢুকে নাওয়াখাওয়া সেরে বেরিয়ে পড়ুন ট্যুরে। ভিক্টোরিয়া বাস স্টেশন থেকেই পাওয়া যাবে বাস। যেতে যেতে চোখে পড়বে ছোট ছোট গাছে ঢাকা বসতি, বাজার। পথের ধারেই বিকোচ্ছে খাদ্য, পানীয়, সাজসজ্জা,গৃহস্থালি, বাসনপত্র। বাজার পেরিয়ে বন্দর। সারি সারি বাণিজ্যপোত। 


শহর ছাড়িয়ে চড়াই বেয়ে বাস উঠে আসবে লা-সিটাডেল পাহাড়ের মাথায়। ওপর থেকে সমুদ্রের তীরে পোর্ট লুইকে ছবির মতো লাগে। ডানদিকে ওলন্দাজের কালো পাথরের তৈরি প্রাচীন দুর্গ। ফেরার পথে আসতে হবে কাডন ওয়াটারফ্রন্ট লাগোয়া শপিং কমপ্লেসে। রাতে হোটেলে ডিনারের আগে নিতে পারেন এখানকার স্থানীয় ‘টিরাম’-এর স্বাদ। রাতে সৈকতে আগুন জ্বালিয়ে ক্রেয়োল সেগা নাচের আসরে মাতুন। পরদিন সকালবেলা চলুন বেলে মারে-তে। এখানে নানারকম জলক্রীড়ার আয়োজন আছে। আছে সাবমেরিন রাইডও। জলক্রীড়া সেরে সাগরবেলায় দেখুন সাগরজলে যৌবনের ঝড় তুলে মধুচন্দ্রিমায় মগ্ন নবদম্পতিদের। স্পিডবোটে যেতে পারেন শার্প আইল্যান্ড। 


পরের দিন মরিশাসের বিখ্যাত কাঠের তৈরি জাহাজের শো-পিস দেখে চলুন গোল পাহাড়ের মাথায়। নীচে আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ। এবার চলুন হিন্দু মন্দিরের পথে, রাস্তায় বিশাল এক পাথরের শিবমূর্তি। পৃথিবীর সাতরঙা মাটি দেখতে যেতে হবে চ্যামারেল শহর থেকে দূরে এক টিলার মাথায়। ফিরে এসে সন্ধ্যায় আবার সাগরকূলে। তারপর আনন্দ, স্নিগ্ধতাকে পিছনে ফেলে বাড়ির পথে।
*বিদেশভ্রমন* *দ্বীপ* *মরিশাস* *ভ্রমনগাইড* *ভ্রমনটিপস*

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি আর দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে মেঘনার বুকে জেগে ওঠা আটশ বছরের পুরানো একটি দ্বীপ যার নাম মনপুরা। মনপুরা দ্বীপ বাংলাদেশের দ্বীপ জেলা ভোলার মূল ভূখন্ডের বাইরে বিচ্ছিন্ন ভাবে গড়ে ওঠা প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্যময় স্থান। আপনারা ইচ্ছে করলেই প্রকৃতির সুন্দরতম এই স্থানটিতে ফ্যামিলি নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন। তাহলে চলুন যাই ফ্যামিলি ট্রিপে মনপুরা দ্বীপে...

মনপুরা দ্বীপের সৌন্দর্য্যঃ
মনপুরা দ্বীপটিকে নিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্রে ‘মনপুরা’ নামের চলচ্চিত্র নিমির্ত হওয়ার পর থেকে এই দ্বীপটির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। প্রাণী ও উদ্ভিদ সম্পদের বৈচিত্রে ভরপুর এ দ্বীপে না আসলে বোঝাই যাবে না এ দ্বীপ উপেজলায় কি মায়া লুকিয়ে আছে। পর্যটক বা ভ্রমণ পিপাসু মানুষকে মুগ্ধতার বন্ধনে আটকে দেয়ার বহু জাদু ছড়ানো আছে এ দ্বীপে। এখানে ভোরের সূর্য ধীরে ধীরে পৃথিবীতে তার আগমনী বার্তা ঘোষণা করে। আবার বিকালের শেষে এক পা-দুপা করে সে আকাশের সিঁড়ি বেয়ে লাল আভা ছড়াতে ছড়াতে পশ্চিমাকাশে মুখ লুকোয়। রাতে নতুন শাড়িতে ঘোমটা জড়ানো বধুর মত সলাজ নিস্তব্ধতা ছেয়ে যায় পুরো দ্বীপ।

মনপুরা দ্বীপের সংখিপ্ত ইতিহাসঃ

জমির শাহ পূর্ণ সাধকের স্মৃতি বিজড়িত এই মনপুরা দ্বীপের ইতিহাসে বেশ প্রাচীন। সাতশ বছর আগে পর্তুগিজ জলদস্যুদের আস্তানা ছিল মনপুরায়। ভোলা জেলার ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, তেরশ শতাব্দীতে এ দ্বীপের উৎপত্তি হয়। তবে মানুষের বসবাস শুরু হয় ষোড়শ শতাব্দীতে। দ্বীপটি বাকলা চন্দদ্বীপের (বরিশালের পূর্ব নাম) জমিদারি প্রথার অন্তর্ভুক্ত ছিল। সে সময় কয়েকজন ইউরোপীয় পরিব্রাজক ডারথেমা লি ব্রাংক, সিজার ফ্রেডরিক ও মউনরিক এই দ্বীপ ভ্রমণে আসেন। এ সময় মি. মউনরিক তৎকালীন দক্ষিণ শাহবাজপুর ও চর মনপুরাকে উদ্ভিদ বৈচিত্র্য পরিপূর্ণ দ্বীপ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

১৫১৭ সালে এই পরিব্রাজকরা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য মনপুরাকে নির্বাচিত করে বসতি স্থাপন শুরু করেন। তখন এ দ্বীপটির অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদী জলাশয়ের মাছ, পশুসম্পদ, মহিষের দুধ, পনির এবং দই যে কোনো আগন্তুকের মন ভরিয়ে দিত বলে এই দ্বীপের নামকরণ করা হয় মনপুরা। তবে মনপুরার নামকরণ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।

ঐতিহাসিক বেভারিজ মনপুরার নামকরণ নিয়ে লিখেছেন, মনগাজী নামের এক ব্যক্তি সেই সময়ের জমিদারি থেকে মনপুরা চর লিজ নেন অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে। পরবর্তী সময়ে তার নামনুসারে এই দ্বীপটির নামকরণ করা হয় মনপুরা। স্থানীয় লোককাহিনী মতে, মনগাজী নামের এখানকার একজন মাঝি বাঘের আক্রমেণ প্রাণ হারালে এ চরের নাম হয়ে যায় মনপুরা। এই দ্বীপটি এক সময় হাতিয়া-সন্দ্বীপের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং মোঘল শাসনামলে এখানে সন্দ্বীপের লোকেরা বসতি স্থাপন শুরু করে।
১৮৩৩ সালে মনপুরাকে ভোলার অধীনে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়া হয়। এর একশ বছর পর ১৯৮৩ সালে মনপুরা উপজেলায় উন্নীত হয়।

নজরকাড়া মনপুরাঃ
মনপুরার প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে হাজার হাজার একরের ম্যানগ্রোভ বন। যেখানে জীবিত গাছের সংখ্যা এক কোটিরও বেশি। মাইলের পর মাইল বৃক্ষরাজির বিশাল ক্যানভাস মনপুরাকে সাজিয়েছে সবুজের সমারোহে।

মনপুরার বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল চর তাজাম্মুল, চরজামশেদ, চরপাতিলা, চর পিয়াল, চরনিজাম, লালচর, বালুয়ারচর, চর গোয়ালিয়া, সাকুচিয়াসহ ছোট-বড় ১০-১২টি চরে বন বিভাগের প্রচেষ্টায় চলছে নীরব সবুজ বিপ্লব। চোখ ধাঁধানো রূপ নিয়েই যেন এসব চরের জন্ম। চরগুলো কিশোরীর গলার মুক্তোর মালার মতো মনপুরাকে ঘিরে আছে। শীত মৌসুমে হাজার হাজার অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে সমগ্র চরাঞ্চল। চরাঞ্চলের অতিথি পাখির উড়ে বেড়ানো, হরিনের পালের ছোটাছুটি, সুবিশাল নদীর বুক চিরে ছুটে চলা জেলে নৌকা, ঘুরে বেড়নো মহিষের পাল আর আকাশ ছোঁয়া কেওড়া বাগান কঠিন হৃদয়ের মানুষের মনও ছুঁয়ে যায়। চারদিকে নদীবেষ্টিত মনপুরায় নৌকা কিংবা সাম্পানের ছপছপ দাঁড় টানার শব্দ আর দেশি-বিদেশি জাহাজের হুঁইসেলের মিলে মিশে একাকার হলে মনে হয় কোনো দক্ষ সানাইবাদক আর তবলচির মন ভোলানো যুদ্ধ চলছে।

বাহারি সব খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে মনপুরা দ্বীপেঃ
মনপুরায় যে শুধু প্রাকৃতিক দৃশ্যই দেখা যাবে তা নয়। গতানুগতিক সব খাবার ছাড়াও তিনটি স্পেশাল আইটেম আছে মনপুরার। এগুলো হচ্ছে খাসি পাঙ্গাস, মহিষের দুধের কাঁচা দই ও শীতের হাঁস। নদী থেকে ধরে আনা টাটকা খাসি পাঙ্গাস আর চরাঞ্চলে ঘুরে বেড়নো মহিষের পাল (বাতান) থেকে সংগৃহিত কাঁচা দুধ বা দইয়ের স্বাদই আলাদা। তাছাড়া মেঘনার টাটকা ইলিশের স্বাদও ভোলা যায় না কখনো।

থাকবেন কোথায়,
যোগাযোগ ব্যবস্থা কেমন
মনপুরার দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে সরাকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গায় গড়ে উঠেছে মনপুরা ফিশারিজ লিমিটেড। ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২১০ একর জমিতে গড়ে ওঠা ওই খামারবাড়িতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গড়ে উঠতে পারে পর্যটন কেন্দ্র। এ খামার বাড়িতে রয়েছে বিশাল চার-পাঁচটি পুকুর ও বাগান। সেখানে নারিকেল গাছের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। দৃষ্টিনন্দন এ খামার বাড়িটি হতে পারে পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।
অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাই মনপুরার প্রধান সমস্যা। মনপুরার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ উন্নত হলেও বাণিজ্যিক যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই করুণ। যখন তখন যে কেউ ইচ্ছে করলেই মনপুরা যেতে-আসতে পারেন না। ঢাকা থেকে সরাসরি লঞ্চে মনপুরায় যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে হাতিয়াগামী লঞ্চ মনপুরায় রামনেওয়াজ ঘাটে প্রায় এক ঘণ্টা যাত্রাবিরতি করে। মনপুরার মানুষও ওই লঞ্চেই ঢাকায় যাতায়াত করেন। আবার ঢাকা থেকে ফেরেন ওই একই লঞ্চে। এছাড়া ঢাকা কিংবা বরিশাল থেকে ভোলা হয়ে তজুমদ্দিন ঘাটের সি-ট্রাকে মনপুরায় যাওয়া যায়। সি-ট্রাকটি তজুমদ্দিন থেকে ছাড়ে প্রতিদিন বিকাল ৩টায় আর মনপুরা থেকে ছাড়ে সকাল ১০টায়। অপরদিকে চরফ্যাশনের বেতুয়াঘাট থেকে মনপুরার জনতা বাজার রুটে দৈনিক দুটি লঞ্চ চলাচল করে। ওই রুট দিয়েও প্রতিদিন শত শত মানুষ মনপুরায় আসা-যাওয়া করছেন। এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এ নদীপথটি ডেঞ্জার পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় এই রুটে তখন লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকে।

মনপুরায় ভালো মানের কোনো পর্যটন হোটেল না থাকায় পর্যকটকরা এখানে আসতে খুব একটা আগ্রহী হন না। তবে মনপুরা প্রেসক্লাব প্রাথমিকভাবে মাঝারি মানের একটি হোটেলের ব্যবস্থা করেছে। মনপুরা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নজির আহমেদ মিয়া বলেন, মনপুরাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রথমেই যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যেক্তারাও যদি গুরুত্বের সাথে অবহেলিত এ সম্ভাবনার উপর দৃষ্টি রাখতেন, তবে এখানে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব।

সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে তজুমদ্দিন-মনপুরা এবং চরফ্যাশন-মনপুরা রুটে স্পিডবোট সার্ভিস চালু করলে পর্যটকরা কম সময়ে মনপুরায় যেতে পারবেন। তাছাড়া মনপুরায় ভালো মানের হোটেল-মোটেল গড়ে উঠলে এ দ্বীপে পর্যটকদের আগমন বাড়বে। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করলে মনপুরা হতে পারে দেশের অন্যতম পর্যটন স্পট। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

আশা রাখি অচিরেই মনপুরা দ্বীপে পর্যটন বান্ধব পরিবেশ গড়ে উঠবে, পাশাপাশি দেশী বিদেশী পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হবে ভোলার মনুপুরা দ্বীপ।

*ফ্যামিলিট্রিপ* *ভ্রমন* *দ্বীপ* *মনপুরাদ্বীপ* *ভোলা* *ভ্রমনটিপস* *ভ্রমনগাইড* *ঘুরেএলাম*

লীনা জাম্বিল: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

ভূতের গান
সারা নিশি জ্বলে কত দ্বীপ নিভে যায় নিজেকে পুড়িয়ে ধূপ গন্ধ বিলায়
দ্বীপের কথা ধূপের ব্যাথা স্নরণ করো কোন অবসরে ---
*দ্বীপ* *ধূপ*

মহিন আহমেদ: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 নিঝুম দ্বীপ কোথায় অবস্থিত?

উত্তর দাও (৯ টি উত্তর আছে )

*নিঝুমদ্বীপ* *নোয়াখালী* *দ্বীপ*

মেহেদী হাসান: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ব' দ্বীপ কোন দেশ?

উত্তর দাও (১১ টি উত্তর আছে )

*দ্বীপ* *বদ্বীপ* *সাধারনজ্ঞান*
সাক্ষী

নিউজ ফ্ল্যাশ: একটি ঘটনা জানাচ্ছে

কিছুদিন আগে কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটে বিআইডব্লিউটিসির তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ রুটে অবিলম্বে উভয়মুখি স্টিমার সার্ভিস চালু এবং সীতাকুণ্ডে সন্দ্বীপ লঞ্চ ঘাটসমূহে জেলা পরিষদের কতিপয় কর্মকর্তার সহায়তায় ইজারাদারের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধসহ চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ কার্যালয় ঘেরাও করেছিল চট্টগ্রাম শহরে বসবাসরত সন্দ্বীপবাসী। ছবিঃ ফেসবুক
*জীবনেরঝুঁকি* *দ্বীপ*

ছামির দি সাকির: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 west indies কোন মহাদেশে অবস্তিত ?একে west indies বলা হয় কেন?

উত্তর দাও (২ টি উত্তর আছে )

*ওয়েস্টইন্ডিজ* *দ্বীপ* *ক্যারিবিয়ান*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★