ননস্টিক

ননস্টিক নিয়ে কি ভাবছো?

শপাহলিক: একটি বেশব্লগ লিখেছে

আধুনিক রান্নাঘরের অন্যতম প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হচ্ছে ননস্টিকের তৈজসপত্র। তুলনামূলক কম ঝামেলায় রান্না শেষ করার জন্য ননস্টিকের জুড়ি নেই। আবার পরিষ্কার করার জন্যও পোহাতে হয় না বাড়তি ঝক্কি। 
 
জেনে নিন ননস্টিক তৈজসপত্রের খুঁটিনাটি বিষয়- 
 
ননস্টিকে রান্নার সময় তুলনামূলক কম তেল দিন। এ ধরণের তৈজসের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এতে তলায় লেগে যাওয়ার ভয় থাকে না। অ্যালুমিনিয়ামের বাসন-কোসনের সাথে ননস্টিকের তৈজসপত্র না রাখাই ভালো। রান্না শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গরম অবস্থায় ননস্টিকের তৈজস পানিতে ডুবাবেন না। ঠাণ্ডা হওয়ার পর তারপর পরিষ্কার করুন।
ননস্টিক তৈজসপত্রের যত্নআত্তি
  • ননস্টিকের তৈজসপত্র পরিষ্কার করার আগে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর নরম স্পঞ্জ দিয়ে হালকা করে ঘষে পরিষ্কার করুন। কখনো ধারালো কিছু দিয়ে কিংবা বল প্রয়োগ করে এ ধরণের তৈজসপত্র পরিষ্কার করতে যাবেন না। এতে স্ক্র্যাচ পড়ে যাওয়ার আশংকা থাকে।
  • ছাই, বালি বা অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান দিয়ে ননস্টিক পরিষ্কার করা অনুচিত। লিকুইড সাবান দিয়ে পরিষ্কার করুন ননস্টিকের বাসন কোসন। 
  • ননস্টিক তৈজসপত্র কখনোই তারজালি দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করা উচিত না। কারণ এতে ননস্টিকের উপরের প্রলেপ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে পরবর্তীতে খাবার আটকে যায়। তাই ননস্টিক তৈজসপত্র নরম কাপড় অথবা ফোম দিয়ে পরিষ্কার করুন।
  • ননস্টিক তৈজসপত্রে রান্নার সময় সব সময়েই বিশেষ ধরণের প্লাস্টিকের চামচ অথবা কাঠের চামচ ব্যবহার করা উচিত। লোহার অথবা অ্যালুমিনিয়ামের চামচ ব্যবহার করলে ননস্টিকে স্ক্র্যাচ পড়ে নষ্ট হয়ে যায়।
  • পরিষ্কার শেষে শুকনা কাপড় দিয়ে মুছে নির্দিষ্ট জায়গায় তুলে রাখুন। 
  • ননস্টিকে একেবারে শুকনো রান্না করার চাইতে সামান্য তেল ব্রাশ করে রান্না করলে অনেক বেশিদিন ভালো থাকে তৈজসপত্রগুলো। কোন খাবার পুড়ে আটকে গেলে ঘষাঘষি না করে পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখুন। এর পর আলতো করে নরম কাপড় দিয়ে ধীরে ধীরে পরিষ্কার করে নিন।
  • ননস্টিক কুকওয়্যারের ঢাকনি হিসেবে ননস্টিক প্যানকভার ব্যবহার করতে পারেন। 
  • ননস্টিকের হাড়ি বা প্যান চুলার উপর খুব বেশি আঁচে দীর্ঘক্ষণ রাখবেন না। 
  • খুব বেশি টক খাবার ননস্টিকের আয়ু কমায়। তাই এ ধরণের খাবার ননস্টিকে রান্না না করাই ভালো। 
  • ননস্টিকের তৈজস চুলা থেকে নামানোর সময় আশেপাশের অংশ না ধরে প্লাস্টিকের হাতল ধরে তারপর নামান। 
  • ননস্টিক কুকওয়্যারের ঢাকনি হিসেবে ননস্টিক প্যানকভার ব্যবহার করুন। রান্না দ্রুত হবে। সাধারণত ঢাকনা কাচের হয়। তাই গরম অবস্থায় পানিতে দেবেন না। ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
  • অনেক সময় দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ননস্টিক বাসনে দাগ পড়ে যায়। এ দাগ দূর করার জন্য অল্প পানির সাথে সিরকা মিশিয়ে চুলার মৃদু আঁচে কয়েক মিনিট নাড়ুন। দাগ উঠে যাবে।
  • ননস্টিকের তৈজস পরিষ্কার করার পর র‍্যাকে ঝুলিয়ে রাখুন। দীর্ঘদিনের জন্য তুলে রাখতে চাইলে নরম কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে তারপর কেবিনেটে রাখুন। 
  • খুব বেশি টক খাবার ননস্টিকের আয়ু কমায়। তাই এ ধরনের খাবার ননস্টিকে রান্না না করাই ভালো।
  • ননস্টিকের তৈজস কেনার সময় ভালো ব্র্যান্ড দেখে কেনা উচিত। এতে দীর্ঘদিন ভালো থাকবে আপনার দামী তৈজসটি। 
ননস্টিকি ফ্রাইং প্যান ধোয়া পদ্ধতি
  • দ্রুত কাজ করা যায় ও সুবিধাজনক বলে আমরা এখন অনেকেই বাসা বাড়িতে ননস্টিকি ফ্রাইং প্যান ব্যবহার করে থাকি। মাঝে মাঝে ফ্রাইং প্যানে রাঁধতে গিয়ে কিছু পুড়ে গেলে সেটা ধোয়া নিয়ে আমরা প্রায় প্রত্যেকেই ঝামেলায় পড়ে থাকি। কারন এটি সাধারন কড়াই কিংবা পাতিলের মত স্টীল বা শক্ত ধরনের কোন মাজুনি দিয়ে ধোয়া যায় না, তাতে প্যানের ননস্টিকি আবরণ উঠে যায়। কিন্তু স্টিলের মাজুনি দিয়ে না ধুলে ঠিকমত পরিষ্কার হতে চায় না। এই সমস্যারও সমাধান রয়েছে।
  • ননস্টিকি ফ্রাইং প্যান ধোয়ার জন্য আপনার লাগবে শুধুমাত্র ভিনেগার ও বেকিং সোডা। প্রথমে নোংরা প্যানটি পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এরপর প্যানটিতে পানি ও ১ কাপ ভিনেগার দিয়ে চুলায় জ্বাল দিতে থাকুন। ৫ মিনিট চুলা থেকে নামিয়ে পানিতে বেকিং সোডা দিয়ে ঠাণ্ডা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন এরপর আপনি ঠাণ্ডা পানি দিয়ে সাধারন মাজুনি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে পারবেন। এতে প্যানের ননস্টিকি আবরণ ঠিক থাকবে এবং প্যানটি ভালোভাবে পরিষ্কারও হবে। 
  • বাসন পরিষ্কার করে শুকনা কাপড় দিয়ে মুছে নির্দিষ্ট জায়গায় তুলে রাখুন। তলায় মরচে ধরবে না। 
ব্যবহারে সতর্কতা
ননস্টিক বাসনে টেফলন নামে এক প্রকার ধাতব বস্তু ব্যবহার করা হয়, যা উত্তপ্ত হয়ে বিশেষ এক ধরণের রাসায়নিক বিকিরণ ঘটায়। এই রাসায়নিক রান্না করা সময় খাবার-দাবারেও মিশে যায়। শুধু তাই নয়, খাবার রান্নার সময় সৃষ্ট ধোঁয়াতেও থাকে এই বিষাক্ত রাসায়নিক। এই রাসায়নিকের নাম পারফ্লুরোকট্যানোইক অ্যাসিড। মানুষের শরীরে এই অ্যাসিডের বিষ ধীরে ধীরে কাজ করে। তবে এর ক্ষতিকর প্রভাব সব থেকে বেশি বোঝা যায় পাখিদের উপর। যে বাড়িতে ননস্টিক কুকওয়্যারে বেশি রান্না হয়, সেখানে রান্নাঘরের কাছাকাছি পোষা পাখি থাকলে, রান্নার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি মারা যেতে পারে। খাবার না দিয়েই ননস্টিক প্যান আগুনে গরম করলে, সব চেয়ে বেশি টেফলনের বিষ নির্গত হয়। এছাড়াও রান্না করতে গিয়ে তা কোনও কারণে পুড়ে গেলেও, সেই রান্নায় টেফলন রাসায়নিক প্রচুর পরিমাণে থাকে।
কেমন চাই-
বাজারে পাবেন ননস্টিক ফ্রাইপ্যান, তাওয়া, কড়াই, সসপ্যান ঢাকনাসহ ও ছাড়া, প্রেশার কুকার, রাইস কুকার, কারি কুকার। 
ধরন বুঝে দাম-
সাইজ ২২ থেকে ৩৬ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। ননস্টিক ২২ সেন্টিমিটার ১৫০০, ২৪ সেন্টিমিটার ১৫৫০ এবং ২৬ সেন্টিমিটার ১৬০০ টাকায়। এ ছাড়া ২৮ সেন্টিমিটার ১৬৫০, ৩০ সেন্টিমিটার ১৭০০, ৩২ সেন্টিমিটার ১৭৫০, ৩৪ সেন্টিমিটার ১৮০০ এবং ৩৬ সেন্টিমিটার ১৮৫০ টাকায়। সসপ্যান পাওয়া যাবে ১ থেকে ১০ নম্বর অনুযায়ী। সসপ্যান ঢাকনাসহ দাম পড়বে ৬০০ থেকে ৩৫০০ টাকার মধ্যে। আর একসঙ্গে সেট নিলে পাওয়া যাবে ৭০০০ টাকার মধ্যে। 
পাবেন যেখানে-
নিউ মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি, কারওয়ান বাজার, বিগ বাজার, আড়ং, মীনা বাজার, স্বপ্ন ও আগোরাতে সিরামিকের পণ্য পাবেন মন্নু সিরামিক, পিপলস সিরামিক ও শাইনপুকুরের। সিরামিকের বিভিন্ন শোরুম এবং ক্রোকারিজ আইটেমের সবচেয়ে বড় সংগ্রহ পাবেন রাজধানীর চকবাজারে। এ ছাড়া যেকোনো শপিং মলে পাবেন। এছাড়া আজকের ডিলের কিচেন সামগ্রীর একটা বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে ননস্টিক তৈজসপত্র l 
 
 
*ননস্টিক* *ননস্টিকতৈজসপত্র* *কিচেনসামগ্রী* *গৃহস্থালিটিপস* *বাসন-কোসন*

পূজা: একটি বেশব্লগ লিখেছে

এখনকার স্মার্ট গৃহিণীরা তাই আধুনিক সব তৈজসপত্র দিয়ে সাজাতে চায় তাদের রান্নাঘর। রান্না এখন শুধু ক্ষুধা নিবারণের উপাদান না থেকে বরং তা একটা শিল্পতে পরিণত হয়েছে। আর তাই স্মার্ট গৃহিণীর রান্নাঘরের প্রথম পছন্দ ননস্টিক তৈজসপত্র। শুধু জিনিস দিয়েই ঘর ভরিয়ে ফেললে হবে না, তার চাই সঠিক ব্যবহারের নিয়ম এবং সঠিক উপায়ে যত্ন। 

আপনার শখের ননস্টিক তৈজসের যত্নের কিছু খুঁটিনাটি জেনে নেয়া যাক-

০ রান্নার পরপরই বা সাথে সাথে ননস্টিক বাসন পানি বা সাবান পানিতে ডুবাবেন না। এতে করে কোটিংয়ে চিড় ধরে যাবে এবং পাত্রে সমানভাবে হিট ডিস্ট্রিবিউশন হবে না।

০ ননস্টিক পাত্র সবসময় পরিষ্কার করবেন প্লাস্টিক জালি বা নরম স্পঞ্জ দিয়ে। খসখসে, স্টিল বা মেটালের তৈরি কোনো প্রোডাক্ট দিয়ে ননস্টিক বাসন ঘষবেন না।

০ রান্না শেষ করার পর পাত্রটি ঠান্ডা হলে তা কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এতে করে পাত্রে জমে থাকা খাবার কণা নরম হবে এবং এটা পরিষ্কার করতে সুবিধা হবে। না হলে পাত্রে জমে থাকা খাবার কণা তুলতে বেশি ঘষাঘষি করতে হবে।


০ বেশি ক্ষারযুক্ত সাবান, ছাই, বালি এইসব দিয়ে কখনোই ননস্টিক বাসন ধুবেন না। ব্যবহার করুন লিক্যুইড সোপ।

০ ননস্টিক বাসন পরিষ্কার করার পর শুকিয়ে গেলে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে তুলে রাখুন।

০ মাছ, ডিম বা পাত্রে লেগে যায় এমন সব খাবার ভাজার জন্য কাঠ, প্লাস্টিক বা সিলিকনের হাতা বা চামচ ব্যবহার করুন। স্টিলের খুন্তি বা কাঁটা চামচ দিয়ে খাবার নাড়াচাড়া করলে কোটিং উঠে যেতে পারে।

০ ননস্টিক প্যানে ডেজর্ট বা মিটলোফ তৈরি করে খাবার বের করার সময় রাবার বা সিলিকনের স্প্যাচুলা ব্যবহার করুন। তা না হলে ছুরি বা স্টিকের চামচ ব্যবহার করলে সহজেই মরিচা পড়ে যাবে।

০ খুব বেশি টক কোনো খাবার ননস্টিক কুকওয়্যারে রান্না না করা ভাল। বেশি টকে ননস্টিকের কোটিং তাড়াতাড়ি নস্ট হয়ে যায়।

বাড়তি যত্ন
০ গাদাগাদি করে স্টিল বা অ্যালুমিনিয়ামের সঙ্গে ননস্টিক বাসন রাখবেন না। এতে স্ক্র্যাচ পড়ে যাবে। ঢাকনা হিসেবে শুধু ননস্টিক প্যান কভার ব্যবহার করুন।
০ প্রথম ব্যবহারে আগে আপনার ননস্টিক প্যানটি হালকা গরম পানিতে লিক্যুইড সোপ দিয়ে ধুয়ে নিবেন। এরপর শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে অল্প তেল দিয়ে গ্রিজ করে নিবেন।
০ অনেক দিন ব্যবহারের ফলে যদি ননস্টিক বাসনে সাদা দাগ দেখা দেয় তবে প্যানে অল্প পানি দিয়ে একটু ভিনেগার মিশিয়ে অল্প আঁচে ৫-১০ মিনিট কাঠের হাতা দিয়ে নাড়ুন। দাগ ওঠে যাবে।
০ ননস্টিক বাসন ধোয়ার পর হ্যাঙ্গিং র‌্যাকে ঝুলিয়ে রাখুন বা তুলে রাখতে চাইলে নরম কাপড় বা তোয়ালে মুড়িয়ে স্টোর করুন।
*বাসনপত্র* *ননস্টিক* *গৃহস্থালিটিপস* *স্মার্টগৃহিনী*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★