নস্টালজিয়া

নস্টালজিয়া নিয়ে কি ভাবছো?

Mahi Rudro: "... আমার মায়ের চুলের ভাঁজে ভাঁজে ছেলেবেলার গন্ধ ভাসে সেই স্মৃতিতেই ডুব দিতে চাই আমার যখন কান্না আসে..."

*নস্টালজিয়া*

দীপ্তি: [কাকতাড়ুয়া-আমারওবেলআছে] 'নস্টালজিয়া' একটা খুব পরিচিত শব্দ যার বাংলা প্রতিশব্দ দাঁড়ায় স্মৃতিবিধুরতা। যতটুকু জানি, গ্রিক শব্দ নসটস (বাড়ি ফেরা) ও আলজিয়া (আশা বা প্রত্যাশা) নিয়ে নস্টালজিয়া শব্দের উৎপত্তি। এটা সম্ভবত বাড়ি ফেরার উদগ্র বাসনার দিকে ইঙ্গিত করে (খুকখুকহাসি)

*নস্টালজিয়া*

মাসুম: একটি বেশব্লগ লিখেছে

যেহেতু আমি নিম্নবিত্ত পরিবারের আর বাড়ির বাইরে থেকে পড়ছি সেহেতু ছুটিতে বাড়ি গেলে আমার মত বেকার আর ব্যাচেলারের জায়গা হয় বা পছন্দ করি পরিত্যক্ত ঘরে! সে ঘরে নেই কোন দরজা বা জানালা! আছে শুধু মাচা বা পাটাতন! আর মায়ের স্নেহভরা হাতের পরশে সেলাই করা কাথা, মায়ের কোমল হাতে বিছানো বেডসিট। যেহেতু দরজা জানালা নাই সেহেতু প্রাকৃতিক বাতাসে মুখরিত থাকে সারাক্ষণ! আর রাতে যখন ঘুমাই তখন ঘুমের আগে বা মাঝরাতে বা গভীর রাতে ঘুম ভাঙলে ঘরের মধ্যে এলোমেলো উড়তে থাকা জোনাকি দেখি! ক্ষণেক্ষণে রুপালী আলোর আঁচড় দিয়ে, এলোমেলো বা আকাবাকা রশ্মিজাল ছড়িয়ে উড়তে থাকে। কখনও পথের দিশা পেলে হারিয়ে যায় বাগানে উড়তে থাকা জোনাইয়ের ঝাকে! আর দিশা না মিললে এ কোণ ও কোণ উড়ে মশারির উপর এসে বসে! ইচ্ছে জাগে হাতের তালুতে রেখে ওর আলো জ্বালানো দেখি! মুগ্ধ হয়ে ছুয়ে দিতে চাই! কখনো ভাবি আমার পাশে শুয়ে থাকা কোন রুপসী কন্যার কপাল নতুবা গন্ডদেশে আলতো ছুয়ে দিই! অথবা সাদা আঁচলের নিচে আটকে দেই! সেসব ভাবনাগুলো গভীর রাতে দানা বাধে, জোনাকি হয়ে রুপালী আঁচড় কেটে উড়ে চলে দিগ্বিদিক!
আজ বাড়ি থেকে চলে আসলাম! এই গভীর রাতে সেই মায়ের স্নেহাশিস বিছানা মিছ করি, রান্নাকরা খাবার মিস করি, জোনাকির রুপালি আলো মিস করি!
শুধু পাশে ঘরঘর করা টেবিল ফ্যানের একঘেয়ে শব্দে সেই কল্পিত রুপসী এসে কোন লোভ দেখায় না! এই হল শহর! অকৃত্রিমতা বর্জিত শহর! শুধু মাঝেমধ্যে ঘুমকাতুরে এই আমারে নস্টালজিক করে দেয়!
*দুখোব্লগ* *নস্টালজিয়া* *জোনাকি* *আমারমা* *মায়েরস্নেহ*

ঝিঁঝিপোকা: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

৪/৫
আউলা + লাইফ = আউলাইফ
ধুরো! আজকে 'ইনসোমনিয়া', 'নস্টালজিয়া' ... সঅঅঅব "ইয়া"- রা ছেঁকে ধরেছে!!!
হেহে... খুব সাবধান... কালকে যেন আবার 'ডায়রি + ইয়া' = ডায়রিয়া-র পাল্লায় পড়িস না!!
*নস্টালজিয়া* *ইনসোমনিয়া* *লাইফটাএকদমডাল*

ঝিঁঝিপোকা: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

৫/৫
নস্টালজিয়া
নস্টালজিয়ায় ঘেরা ফাগুনী পূর্ণিমা রাতে ভাবছি... সময় কেন এতো তাড়াতাড়ি চলে যাচ্ছে! ছোটবেলায় যদি ফিরে যেতে পারতাম... আবার... আর একবার!
*নস্টালজিয়া*

ঝিঁঝিপোকা: একটি বেশব্লগ লিখেছে

‘আফা, চা দিবাম?’- বছর দশেকের একটি ছেলের ডাকে ভাবনার জগত থেকে ফিরে এলাম।

‘দে এক কাপ।’

‘আফা কি একলাই আইছুইন?’, আশেপাশে তাকাচ্ছে সে।

ওর বলার ধরনে হাসি পেল।

‘কেন এখানে কেউ একা আসেনা?’

‘এই সকালে বুড়া ব্যাডাডি আয়া পড়ে। নাইলে সবটি দল বাইন্দাই আয়ে। একলা পিকনিক কইরা মজা নাই।’

‘আমি একলা কোথায়? এই যে তুই আছিস।’, হেসে জবাব দিলাম।

‘আফায় যে কি কইন না! ইয়া চা আরেক কাপ দিবাম?’

‘না, আর লাগবেনা’

‘আফা, চা লাগলে আমারে স্বরণ কইরেন। আয়া পড়বাম।’

 

চায়ের দাম দিয়ে হাঁটা শুরু করলাম। অনেক্ষণ হল এসেছি। এবার যেতে হবে।

ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে বসে ছিলাম এতক্ষণ।

 

অনেকদিন পর ময়মনসিংহ আসা হল। আমার খুব প্রিয় বন্ধু তানিয়ার বিয়ে।

তানিয়া আমার খুব ছোটবেলার বন্ধু। আমরা একসাথে বড় হয়েছি। কলেজে পড়ার আগ পর্যন্ত এই শহরে একই সাথে আমরা পড়েছি, খেলেছি, ঘুরেছি। কাটিয়েছি জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময়।

কলেজে উঠে আমি ভর্তি হলাম ঢাকায়। কারণ, বাবা-মা তখন ঢাকায় স্থায়ী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তানিয়া এখানেই থেকে গেল। আমাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে লাগল ধীরে ধীরে।

 

সেদিন হঠাৎ তানিয়ার ফোন। ও বলেছে, এখনও নাকি ওর বেস্ট ফ্রেন্ড আমিই। তাই ওর বিয়েতেও যদি আমি ময়মনসিংহ না আসি। তাহলে নাকি ও বিয়েই করবেনা।

তাই এখানে আসা। তানিয়া বলেছিল ওর সাথে কেনাকাটা করতে যেতে। কিন্তু এই বিকেলটা আমি ওর থেকে চেয়ে নিয়েছি। শুধু একা নিজেকে কিছু সময় দেব বলে।

আসলেই কি একা? স্মৃতি থেকে উঠে আসা কোন অশরীরী কি থাকবে আমার সাথে?

 

হাঁটতে হাঁটতে টাউন হলের মোড়ে গিয়ে রিকশা নেব ভেবেছি। কিন্তু তার আগেই আমাকে দাঁড়িয়ে পড়তে হল। একটা স্কুলের গেটের সামনে। আজ থেকে সাত বছর আগে এই জায়গায় দাঁড়িয়ে একটা পনের ষোল বছরের মেয়ে সবুজ পোশাক পরে সবুজ রঙের আইসক্রিম খাচ্ছিল। আর একজন তাকে বেশ কিছুটা দূর থেকে দেখছিল। যে তাকে পরে জানিয়েছিল- সবুজ রঙে নাকি মেয়েটাকে সবুজ পরীর মত লাগে! 

 

অঙ্কন এই স্কুলেই লেখাপড়া করেছিল। বিষয়টা তার জন্য মোটেও সহজ ছিলনা। মফস্বলের একটা মূক ও বধির স্কুলে তেমন কোন সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়না। কঠোর পরিশ্রম করলে হয়তো ফল মেলে। কিন্তু এই দেশে এখনও শারীরিক কিংবা বুদ্ধি প্রতিবন্ধিদের চলার পথে আছে অনেক প্রতিবন্ধকতা।

 

এই স্কুলের একটা ক্লাসরুম ভাড়া নিয়ে একজন বাংলার শিক্ষক ছেলেমেয়েদের মাধ্যমিকের বাংলা দ্বিতীয় পত্র পড়াতেন। সপ্তাহে তিন দিন। একদল কথা বলতে পারা ছেলেমেয়ে চিৎকার করে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পড়া আওড়াতো। কথা বলতে না পারা, কথা শুনতে না পারা ছেলেমেয়েগুলো তাকিয়ে থাকত বাইরে থেকে। আর নিজেদের মধ্যে ইশারায় কিছু হয়ত বলতো।

এই ব্যাপারটাকে খুব অমানবিক আর স্বার্থপরতা বলে মনে হত অরণীর। তাই কোচিং ক্লাস শেষ করে ফিরতে ফিরতে ওর বেস্ট ফ্রেন্ড তানিয়ার কাছে অরণী বলেছিল,

‘এখানে আমি আর পড়তে আসবনা। তুইও আসবিনা।’

 

‘কেন? সমস্যা কি?’

 ‘ওদেরকে আমরা মনে করিয়ে দিচ্ছি যে, ওরা কথা বলতে পারেনা কিন্তু আমরা পারি। ওরা শুনতে পায়না কিন্তু আমরা পাই।’

 ‘ও বুঝলাম! আবার পাগলামি!’- হতাশ হয়ে বলত তানিয়া।

 

পাগলামি হোক আর যাই হোক আর ওখানে না গেলেই ভালো হত। সাত বছর পর এখানে এসে থমকে যেতে হতনা আমাকে আজ।

আমি অরণী।

অঙ্কন আমাকে বলেছিল, আমাকে নাকি সবুজ রঙে সবুজ পরীর মত লাগে। আমি ওকে বলেছিলাম, ওকে আমার সব সময়ই দেবদূতের মত লাগে। কারণ, এত পবিত্র আর মায়াময় মুখমন্ডল, চাহনি আমি আর দেখিনি।

আমরা দু’জন দু’জনকে বলেছিলাম বললে ভুল বলা হবে। বরং ইশারায় বুঝিয়েছিলাম। কারণ, আগেই বলেছি অঙ্কন ছিল এই স্কুলের একজন ছাত্র। কথা বলতে এবং শুনতে পায়না। সৃষ্টিকর্তা ওকে দু’টো ইন্দ্রিয় থেকে বঞ্চিত করেছেন। কিন্তু তার বদলে দিয়েছেন অসম্ভব সুন্দর একটা মন। যার সৌন্দর্য ওর চেহারায় প্রকাশ পেত। 

 

কেউ একটানা তাকিয়ে থাকলে অসহ্য লাগত অরণীর। আরও অসহ্য লাগত বাংলা কোচিং ক্লাসে জোরে জোরে পড়া মুখস্তের ব্যাপারটা। বাংলা দ্বিতীয় পত্রটা একটু খটমটে বটে! কিন্তু তাই বলে কোচিং করার কি আছে তা অরণীর মাথায় আসেনা। সব দোষ ঐ তানিয়াটার! বলে কিনা, ‘আরে পড়া টড়া তো বাজে কথা। কোচিংয়ের নাম করে বাসা থেকে বেরিয়ে আড্ডাটাই আসল।’

 

কিন্তু একজন তাকিয়ে থাকলে কেন যেন অসহ্য লাগতনা অরনীর। কয়েকদিন ধরে খেয়াল করেছে সে। এই স্কুলেরই ছেলেটা। এক সময় জোরে জোরে পড়া আওড়ানো বাদ দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকতে লাগল অরণী। তাকিয়ে থাকার কম্পিটিশনে অরণীই জিতেছিল। হেসে চোখ নামিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল অঙ্কন।

 

বাংলা কোচিংয়ে আসার আগ্রহ বেড়ে গেল অরণীর। এসেই প্রথমে খুঁজত অঙ্কনকে। আর কিছুই না। তাকিয়ে থেকে চোখে চোখে ভাব বিনিময়। তাই কতই না রোমাঞ্চকর!

একদিন অরণী এসে খুঁজে পেলনা ওকে। নেই নেই তো নেই। পুরো ক্লাসে অন্যমনস্ক আর অস্থির হয়ে থাকল সে। তানিয়া খেয়াল করল ব্যাপারটা। ক্লাস শেষে চলে যাওয়ার সময় পিচ্চি একটা ছেলে, সেও ঐ স্কুলেরই, এসে অরণীর সামনে দাঁড়িয়ে কিছু ইশারায় বলল। অরণী বুঝতে পারেনা খুব একটা। তাই স্কুলের দপ্তরির কাছে নিয়ে যায় ছেলেটাকে।

দপ্তরি চাচা যা বললেন তা হল, অরণীর ‘চোখাচোখি’ বন্ধুর নাম অঙ্কন। সে আজ আসতে পারেনি স্কুলে কারণ তার মা অসুস্থ। তাই সে খুবই দুঃখিত।

দপ্তরি চাচা অবাক, ‘চোখাচোখি বন্ধু জিনিসটা কি আম্মাজান?’

অরণী হেসে বলে, ‘মানে হল খুব ভালো বন্ধু!’

 

সেদিন তানিয়াকে সব খুলে বলল অরণী। ওর ধারণা ও প্রেমে পড়েছে ঐ ছেলেটার।

তানিয়া বলেছিল,

‘হেহ, দেখা যাবে। এইরকম কত প্রেমে পড়বি আর উঠবি! এইগুলা হইল ভাইরাস অব টিনেজ! তিন দিন পর যাবি ভুইলা।’ 

 

আসলেই কি তাই? তাহলে আজও ভুলতে পারিনি কেন তাকে?

 

একদিন দেখি অঙ্কন দু’টো পিচ্চিকে আইসক্রিম কিনে দিচ্ছে। তাই দেখে আরও দশ পনের জন মোটামুটি একই বয়সের ছেলেমেয়ে তাকে ঘিরে ধরল। একে একে সবাইকে শান্ত করে ফেলল সে। একটু পর দেখি ঘাসের উপর মধ্যমনি হয়ে বসে আছে অঙ্কন। চারপাশে অনেকগুলো পিচ্চি, তাদের হাতে নানা রঙের আইসক্রিম। হাত নেড়ে ইশারা করে খুব মজার একটা গল্প শোনাচ্ছে ওদের সে। পিচ্চিগুলো খুব মজা পাচ্ছে।

আমার খুব ইচ্ছে করছিল আমিও গিয়ে বসি। কিন্তু ইচ্ছেঘুড়িটাকে অত দূরে ওড়াতে পারলাম না। 

 

আস্তে আস্তে অরণী ইশারায় অভ্যস্ত হয়ে গেল। হাক ডাক করে মনের আবেগকে প্রকাশ না করেও কত সুন্দর বন্ধুতা, কত সহজ বোঝাপড়া, কত মূল্যবান একটা সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব!

একদিন অঙ্কন অরণীকে বুঝিয়েছে,

ওদের দু’জনের অনুভূতিগুলোর মূল্য কেউ দেবেনা। তাই আর মায়া বাড়িয়ে লাভ নেই। অরণী আর অঙ্কন সৃষ্টির শুরু থেকেই ভিন্ন পথের পথিক। তাদের পথ কখনও এক হবেনা। হতে পারেনা।

 

অঙ্কন খুব ভালো ছবি আঁকতে পারত। এটা অরনী জানতে পেরেছে যখন একদিন বিকেলে অঙ্কনের সাথে বেড়াতে বেরিয়েছিল ব্রহ্মপুত্রের ধারে। একটা বেঞ্চিতে অরণীকে বসিয়ে দিয়ে দেখতে দেখতে ওর একটা অসাধারণ স্কেচ করেছিল অঙ্কন। 

 

ভুলেই যদি গিয়ে থাকি তবে ঐ স্কেচটা পরম যত্নে কেন রেখে দিয়েছি আমি?

 

কেন ওকে ভালো লাগত তা সত্যিই বোঝানো সম্ভব নয়। কেন ওকে এই সাতটি বছর ধরে মনে রেখেছি তা আমি নিজেও বুঝিনা একদম। স্মৃতির এক অশরীরী হয়ে আমার আশেপাশেই সবসময় আছে অঙ্কন।

 

মাধ্যমিক পরীক্ষার পর আমি ঢাকায় চলে যাই। ওখানেই স্থায়ী হবে বাবা-মা। আমাদের নতুন বাড়িতে।

নতুন বাড়িতে যাব। কিন্তু আমার মন খারাপ। মা’র কাছে বিষয়টা ধরা পড়ে গেল। নানাভাবে আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন মা। তানিয়াকেও। কিন্তু কেউ কিছুই বলিনি। বলে কীই বা লাভ হত!

 

একদিন।

আমাদের শেষ দেখা। এই জায়গাতেই। আমি এসেছিলাম শেষবারের মত।

চাইনি যে ওর সাথে দেখা হোক। তাই এসেছিলাম ছুটির দিনের এক মেঘলা এবং বিষন্ন বিকেলে।

এসে দেখেছিলাম এক দেবমূর্তি স্থির দাঁড়িয়ে। অবনত মুখে, প্রার্থনামগ্ন যেন!

অঙ্কন এসেছিল। আমাদের মোবাইল, ইন্টারনেট কিছুই ছিলনা। কিন্তু আমরা কী অবলীলায় একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে পেরেছিলাম। দু’টো বিশুদ্ধ মনের মাধ্যমে।

 

ঐদিন প্রথম এবং শেষবারের মত আমরা পরস্পরের হাত ধরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। বিষাদমাখা চারটি চোখে অশ্রুর আবছায়া।

এই সময় বৃষ্টি নামল। প্রকৃতি যেন বলল, মন খুলে কেঁদে নাও আমার সাথে।

 

 ** পরিশিষ্ট **

 

 ‘আমি জানতাম তুই এইখানেই আসবি।’-- তানিয়া এসে দাঁড়িয়েছে অরণীর পাশে।

 ‘তুই চলে এলি। আমি তো...’

 ‘তোর চোখে পানি কেন? এখনও মনে পড়ে দেবদূতকে!’

 অরণী কিছু বলতে পারেনা।

তানিয়া পরম মমতায় ওর কাঁধে হাত রাখে,

 ‘চল। বাসায় চল।’

 বন্ধুকে নিয়ে চলে যেতে থাকে তানিয়া।

 পেছনে পড়ে থাকে কিছু স্মৃতি এবং স্মৃতির পাতা থেকে উঠে আসা অশরীরী এক দেবদূত!

*স্মৃতি* *নস্টালজিয়া*

দীপ্তি: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

৫/৫
এই মেঘলা দিনে একলা
এই মেঘলা দিনে একলা, ঘরে থাকে না তো মন কাছে যাবো; কবে পাবো, ওগো তোমার নিমন্ত্রন! ♪♪ যুথি বনে ঐ হাওয়া শুধু করে আসা যাওয়া যুথি বনে ঐ হাওয়া শুধু করে আসা যাওয়া হায় হায়রে, দিন যায় রে, ভরে আধাঁরে ভূবন কাছে যাবো; কবে পাবো, ওগো তোমার নিমন্ত্রন। এই মেঘলা দিনে একলা, ঘরে থাকে না তো মন কাছে যাবো; কবে পাবো, ওগো তোমার নিমন্ত্রন!
শুধু ঝড়ে ঝড়ো ঝড়ো আজ বারি সারাদিন আজ যেন মেঘে মেঘে হলো মন যে উদাসীন। আজ আমি ক্ষণে ক্ষণে কী যে ভাবি আনমনে তুমি আসবে ওগো হাসবে কবে হবে সে মিলন।। ♪♪
*শীতেরবৃষ্টি* *প্রেম* *ভালোবাসা* *নস্টালজিয়া* *মেঘলাদিন*
৫/৫

নাহিন: আজি ঝড় ঝড় মুখর বাদল দিনে... https://www.youtube.com/watch?v=oCmdFo3felo

*বৃষ্টিরগান* *বৃষ্টি* *নস্টালজিয়া* *শীতেরবৃষ্টি*
ছবি

নাহিন: ফটো পোস্ট করেছে

৫/৫

ছবিটি দেখে ছোটবেলায় আমার গ্রামের স্বপ্নময় সেই দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়ছে...

(ফুঁপিয়েকান্না)(মনখারাপ)(মনখারাপ)(ফুঁপিয়েকান্না)

*নস্টালজিয়া* *শৈশবস্মৃতি* *গ্রামেরস্মৃতি*

অর্ঘ্য কাব্যিক শূন্য: একটি বেশব্লগ লিখেছে

রূপকথা !

যে বয়সে " ওরে বাবা, পৃথিবীটা এত্তো বড় নাকি ? " খুব স্বাভাবিক একটা প্রশ্ন !
যে বয়সে আকাশের নীলিমায় আশ্রয় নেয়া সুবিশাল যান্ত্রিক দৈত্য পাখিটাকে মনে হয় ছোট্ট একটা ময়না !
যে বয়সে প্রচণ্ড ঝড়ের সময় বিজলির চমকে পাগলের মতন দোল খাওয়া নারিকেল গাছটাকে দেখে মনে হয় কি ভয়ঙ্কর ! কত্ত বড় হাঁ করে !

সেই বয়সে আমাদের প্রায় সবারই একটা করে কল্পনার সঙ্গী ছিল।
কারও ছিল জিনি ! জাদুর জিনি ! জিনির কাছে মনে মনে যেটা চাওয়া হত জিনিটা সেটাই এনে দিত !
সিন্দাবাদের ভূতও কি মাথার পোকা কম নাড়াতো ?
কারও কল্পনায় ছিল আলীবাবা ! চল্লিশ চোরের দলকে একাই নাস্তানাবুদ করে দিত ! ঘুমন্ত সুন্দরী বা সিন্ডারেলা ওই ছোট্ট অবস্থাতেই অনেকেরই ক্রাশ ছিল !
কেউ কেউ বা স্বপ্নে চলে যেত চাঁদের বুড়ির সাথে দেখা করতে !

" দাদী, ও দাদী, আরেকটা গল্প কও না ! " মীনার মত আমরাও কি ছোটবেলায় কম বায়না ধরেছি মুরুব্বিদের কাছে ? কতই না মজার ছিল সেই দিনগুলি, তাই না ? জানি, আজকের বাস্তবতায় বসে শৈশবের নানা রংয়ের দিনগুলির কথা মনে করে দীর্ঘশ্বাসটা অনেকেই গোপন করেন। একটু খোলা আকাশ, বিশুদ্ধ বাতাসের নির্মলতা, মাটির সোঁদা গন্ধে উন্মুখ হয়ে ছুটে চলা ক্ষেতের আইল ধরে, দিগন্তের সূর্যটাকে খপ করে নিজের মুঠোয় ভরে নেয়া, দুপুরের তপ্ত রোদ গায়ে মেখে পুকুরে ঝাঁপিয়ে পরে ডুব সাঁতারে একদমে অন্যপারে চলে যাওয়া এসবই এখন সোনালী অতীত !



ইচ্ছে করে, জানেন তো ? খুব ইচ্ছে করে ! যান্ত্রিকতার এই জঙ্গল ছেড়ে সবুজের মাঝে হারিয়ে যেতে। মাঝে মাঝে কিচ্ছু ভালো লাগে না। একটানা কাজের ফাঁকে একটু ফুরসৎ পেলে তাই জানালাটা খুলে দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি অপলক। মেঘের কোলে নিজেকে মেলে দিয়ে ভেসে বেড়ানো গাংচিলের ঝাঁক যেন আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকছে,

" চলে এসো, জীবনের আহ্বানে ! "

একটু বেশীই নস্টালজিক হয়ে গিয়েছি আজকে। তাই আবেগটা একটু বেয়াড়া হয়ে গেছে। হয়তো ফিরে পাবো না সেই কোলাহল ! দল বেঁধে লুকোচুরি খেলা হবে না কোন বিষণ্ণ দুপুরে ! হওয়া হবে না কানামাছির চোর কিংবা বোম বাস্টিংয়ের টার্গেট !

' OLD SCHOOL 'র সাথে গলা মিলিয়ে তখন গাইতে ইচ্ছে করে ......

" কেরে তুই, কেরে তুই
  সব সহজ শৈশবকে বদলে দিলি
  কিছু যান্ত্রিক বর্জ্যে

  তুই, কে রে তুই যত বিষাক্ত প্রলোভনে
  আমায় ঠেলে দিলি কোনো এক ভুল স্রোতে "

কিন্তু এটা তো ঠিক সামনের অনাগত দিনগুলোতে এই স্মৃতির টনিকেই আমাদের অন্যমনস্ক মুহূর্তে ঠোঁটের কোনের এক চিলতে হাসিটা হয়ে উঠবে আরও প্রানবন্ত ! প্রাণোচ্ছল !

সেই এক চিলতে মুহূর্তের কামনায় ………
*শৈশব* *নস্টালজিয়া* *স্মৃতিচারণ*

শাকিল: স্মৃতিকাতরতা মানুষের মধ্যে টাকা খরচের প্রবণতা বাড়িয়ে দেয় | এতে মানুষের টাকার প্রতি মায়া কমে যায়। ক্যাথলিন ভোস

*নস্টালজিয়া*

রোমেল বড়ুয়া: [বাঘমামা-আরপারিনা] ছোটবেলায় বর্ষাকালে একটু সুযোগ পেলেই বৃষ্টিতে ভিজতাম এবং ফলস্বরূপ আমার মায়ের বকা/মাইর খাইতাম। তখন ভাবতাম, বড় হইয়া নিই। ইচ্ছেমতো ভিজমু। (বস) এখন বৃষ্টিতে ভিজতে গেলেও কেউ মানা করবেনা কিন্তু ভিজতে পারিনা। একবার ভেজার চিন্তা করার আগেই দশবার চিন্তা করি, " গায়ে জ্বর আসলে তখন কি হবে?" ছোটকালেই ভাল ছিলাম। আমি আবার ছোট হতে চাই। (মিয়াও)

*নস্টালজিয়া* *ছেলেবেলা* *শৈশব* *বৃষ্টি* *বর্ষাকাল* *বৃষ্টিতেভেজা*

রোমেল বড়ুয়া: [পিরিতি-আগডুমবাগডুম]এক বিয়ের আসরে এক ললনার সাথে নাচতে গিয়ে তার হাতটা মনে হয় একটু বেশি জোরেই চেপে ধরেছিলাম।কিছুক্ষণ পর তাকে ড্যান্সফ্লোরে না পেয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে দেখি, সে চুপচাপ এক কোণে বসে আছে। পাশে গিয়ে দেখলাম তার হাতের কাঁচের চুড়ি ভেঙ্গে গিয়ে ছোটোখাটো রক্তারক্তি কান্ড। - এটা কি করলেন রোমেলদা? (ফুঁপিয়েকান্না) - স্মৃতিচিহ্ন রেখে দিলাম। (শয়তানিহাসি)

*নস্টালজিয়া*
ছবি

শফিক ইসলাম: ফটো পোস্ট করেছে

নস্টালজিয়া

এখনকি এ বন্দুক পাওয়া যায়

*নস্টালজিয়া* *স্মৃতি* *অতীতস্মৃতি*
ছবি

শফিক ইসলাম: ফটো পোস্ট করেছে

মেঘলা দিনে মনে পড়ে ছেলে বেলার গান, বৃষ্টি পরে টাপুর টুপুর নদেয় এলো বান

সকাল থেকেই *বৃষ্টি* হচ্ছে, আকাশে মেঘ বইছে, আর আমি ফিরে যাচ্ছি আমার কৈশোরে ... নারায়ানগঞ্জে

*নারায়ানগঞ্জ* *বাংলাদেশ* *নস্টালজিয়া* *প্রবাস*
ছবি

শফিক ইসলাম: ফটো পোস্ট করেছে

হে *অতীত* তুমি মোরে করেছে মহান, তুমি মোরে দানিয়াছ......

বিংশ শতকের গোড়ার দিকে আমাদের *নারায়ানগঞ্জ*

*নস্টালজিয়া* *পাট* *নারায়ানগঞ্জ* *অতীত*

কাকতাড়ুয়া: নিঝুম রাতে, আকাশে নীল রঙা চাঁদ ওঠে ঐ। দক্ষিণ সমীরণে, হাসনাহেনার সুবাস ভেসে আসে সেই। সেই পুরনো দিনে পথ হারানো স্মৃতির মেলায়, আসে সর্পিল বাঁক। এখনো বাতায়ন কোণে নিঝুম রাত, দক্ষিণ সমীরণ জাগে; তবে, ওঠেনা সেই নীল রঙা চাঁদ- আসেনা হাসনাহেনা সুবাস......।।

*নস্টালজিয়া*

কাকতাড়ুয়া: চিরচেনা মাঠ, চিরচেনা গাছ চিরচেনা রাস্তা, চিরচেনা নিয়ন আলো, কর্ণকুহরে বেজে ওঠা চিরচেনা কন্ঠস্সর, নয়ন সমুখে সদা জাগ্রত চিরচেনা মুখ- সকলি আজ সুদুর পরাহত; শত শত মাইল দুরে বসে আপনজনের সান্নিধ্য না পাওয়ার কষ্ট বুকের মাঝে মোচর দিয়ে দেয়ে ওঠে......(ফুঁপিয়েকান্না)

*নস্টালজিয়া*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★