নাফাখুম ঝর্না

নাফাখুমঝর্না নিয়ে কি ভাবছো?

ট্রাভেলার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর পার্বত্য জেলা বান্দরবানে রয়েছে অনেক গুলো দর্শনীয় স্থান। পাহাড়, ঝর্না, লেক ও প্রাকৃতিক বনভূমির যোগসূত্র বান্দরবান জেলার সৌন্দর্য্যকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছে। ভ্রমন পিপাসু বন্ধুরা আপনারা যারা বান্দরবান ঘুরতে যাবেন তাদের সাথে বান্দরবানের দর্শনীয় একটি স্থানের পরিচয় করিয়ে দেব যার নাম নাফাখুম (নাফাখুম ঝর্না)। বান্দরবন গিয়ে নাফাখুম ঝর্না না দেখে বাড়ি ফিরলে আপনার ভ্রমন অপূর্ণ রয়ে যাবে।

নাফাখুম ঝর্নার অবস্থানঃ

বান্দরবন জেলার একটি উপজেলা হচ্ছে থানচি। এই উপজেলার একটি এলাকার নাম রেমাক্রি। এটি একটি মারমা অধ্যুষিত এলাকা। বান্দরবান জেলার যে স্থানগুলোর কারণে এই জেলাটি পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে থাকা জেলাগুলোর তালিকায় স্থান করে নিয়েছে তার একটি হচ্ছে ‘নাফাখুম ঝর্না’ । আর এই রেমাক্রি গ্রামটিকে কেন্দ্র করেই এই নাফাখুম  ঝর্নাটি অবস্থিত।

রেমাক্রি থেকে প্রায় ২ থেকে ৩ ঘন্টার হাটা দূরত্বে এই ঝর্নাটি  অবস্থিত। রেমাক্রি খালের পানি প্রবাহ এই স্থানে এসে বাক খেয়ে প্রায় ৩০ ফুট নিচে পতিত হয়ে প্রকৃতির অপরূপ ছোয়ায় সৃষ্টি হয়ে অসাধারণ এই ঝর্নাটি।

নাফাখুম ঝর্না সম্পর্কে প্রচলিত গল্পঃ
ইতিহাস ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা যায়, স্থানীয় মারমা ভাষায় ‘খুম; শব্দের অর্থ ঝর্না। এছাড়া রেমাক্রী নদীতে এক ধরনের মাছ পাওয়া যায়, যার নাম নাফা মাছ। এই মাছ সবসময় স্রোতের ঠিক বিপরীত দিকে চলে। বিপরীত দিকে চলতে চলতে মাছগুলো যখন লাফিয়ে ঝর্না পার হতে যায় ঠিক তখনই উপজাতীয়রা লাফিয়ে ওঠা মাছগুলোকে জাল বা কাপড় দিয়ে ধরে ফেলে। এ থেকে এই ঝর্নার নাম দেওয়া হয়েছে নাফাখুম ঝর্না।

নাফাখুম ঝর্নার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যঃ
উপরে খোলা আকাশে রৌদ্র-মেঘের লুকোচুরি আর নিচে খরস্রোতা নদীর ধেয়ে আসা ছল ছল শব্দ। সব মিলিয়ে এ যেনো স্রষ্টার এক অপরূপ সৃষ্টি। চারিদিকে পাহাড়-পর্বত, নদী ও পাথুরে খাল দেখে যে কারো মনে হতে পারে যেনো শিল্পীর আকা কোনো ছবি চোখের সামনে ভাসছে। বর্ষাকালে ঝর্না দিয়ে তীব্র গতিতে বড় হয়ে পানি নিচের দিকে পতিত হয় এবং গ্রীষ্মকালে তীব্রতা কমে যায় ও ঝরনার আকার ছোট হয়ে আসে। তবে যারা নাফাখুম ঝর্নার প্রকৃত সৌন্দর্য দেখতে চান তারা সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসের মধ্যে ভ্রমণ করলে তা দেখতে পারবেন। এই সময় উপর থেকে আছড়ে পড়া পানির প্রচন্ড আঘাতে ঝর্নার চারপাশে অনেকটা স্থান জুড়ে সৃষ্টি হয় ঘন কুয়াশার সেই সাথে উপর থেকে নিচে পানি পতিত হওয়ার আওয়াজ তো রয়েছেই। বাতাসের সাথে উড়ে যাওয়া পানির বিন্দু পর্যটকদের দেহ মন সব আনন্দে ভিজিয়ে দেয়। যা কিনা মুহুর্তের মধ্যে যে কারো মন ভালো করতে সক্ষম। এই স্থানের কিছু কিছু পাহাড় বেশ উচু। দেখে মনে হবে সেই সেই পাহাড়গুলোর চুড়া মেঘের আবরণে ঢাকা পড়েছে। পাহাড়ের ঢালে মাঝে মাঝে রয়েছে টিনের ঘরবাড়ি। এই এলাকার নদীগুলোর গভীরতা খুব কম। কোনো কোনো স্থানে পানির নিচের মাটি দেখা যায়। তবে নদীগুলো সবসময় প্রচন্ড স্রোত থাকে। তাই পথ চলতে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়।

কীভাবে যাবেন?
বান্দরবান শহর থেকে থানচি উপজেলা সদরের দূরত্ব ৮২ কিঃমিঃ। রিজার্ভ চাঁদের গাড়ীতে বান্দরবান থেকে থানচি যেতে সময় লাগবে ৩ ঘন্টা। বর্ষায় ইঞ্জিনবোটে থানচি থেকে তিন্দু যেতে সময় লাগবে আড়াই ঘন্টা। তিন্দু থেকে রেমাক্রি যেতে লাগবে আরও আড়াই ঘন্টা। এই পাঁচ ঘন্টার নৌ-পথে আপনি উজান ঠেলে উপরের দিকে উঠতে থাকবেন। শীতের সময় ইঞ্জিন বোট চলার মত নদীতে যথেষ্ট গভীরতা থাকেনা। তখন ঠ্যালা নৌকাই একমাত্র বাহন।

ভ্রমন প্রিয় বন্ধুরা, আপনারা যদি সত্যিকারের সৌন্দর্য্য পিপাসু  হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই নাফাখুম ঝর্না দেখে আসতে ভুল করবেন না। আর পাশাপাশি আপনার ভ্রমনের দুঃসাহসিক অভিযানের কথা আমাদের মাঝে শেয়ার করুন। 
*ভ্রমন* *ভ্রমনটিপস* *ভ্রমনগাইড* *নতুনভ্রমন* *বান্দরবান* *নাফাখুমঝর্না* *ঘুরেএলাম* *ট্রাভেল*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★