নামকরণের ইতিহাস

নামকরণেরইতিহাস নিয়ে কি ভাবছো?

শ্রীময়ী: একটি বেশব্লগ লিখেছে

পা দিলাম ২০১৬ তে, হ্যাপী নিউ ইয়ার সবাইকে । আজ পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই ব্যবহৃত হওয়া বর্ষপঞ্জি ‘ইংলিশ ক্যালেন্ডার ইয়ার’ নামে পরিচিত হলেও আসলে এই ক্যালেন্ডার রোমানদের তৈরি। তারা আবার এটি ধার করেছিল গ্রিকেদের কাছ থেকে । প্রাচীন গ্রিকবাসীদের নিজস্ব বছরের সময়কাল ছিল তিনশো চার দিনের এবং তা দশটি মাসে বিভক্ত । বছরের সূচনা ধরা হতো মার্চ মাস থেকে । খ্রিস্টপূর্ব সাতশো অব্দে রোম-সম্রাট নুমা পম্পিলিউস গ্রিক ক্যালেন্ডারের সঙ্গে বছরের এগারো ও বারে মাস হিসাবে যথাক্রমে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি-কে যুক্ত করেন । ওই বারো মাসের ক্যালেন্ডারটি আগের থেকে ভাল হলেও তাতে কিছু সমস্যা থেকে যাচ্ছিল। তবু দীর্ঘ দিন ওই ব্যবস্থাই বজায় ছিল। অনেক দিন পর খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতকে রোম-সম্রাট জুলিয়াস সিজারের নির্দেশে ক্যালেন্ডারকে তারিখ অনুযায়ী সাজানো হলো এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি হল বছরের প্রথম এবং দ্বিতীয় মাস ।

সিজারের সময়কালে নির্মিত এই ক্যালেন্ডারকে ‘জুলিয়েন ক্যালেন্ডার’-ও বলা হয়ে থাকে । ইংরেজি ক্যালেন্ডার ইয়ারের প্রথম মাস জানুয়ারি । এই মাসটিকে নববর্ষের প্রবেশ-তোরণ । ‘জানুয়ারি’ এই নাম সেজেছে প্রাচীন দু-মাথাওয়ালা রোমান দেবতা ‘জানুস’ (anus) থেকে। পুরাণে তিনি দ্বাররক্ষক বা প্রবেশ পথের দেবতা । 

রোমান পুরাণে বলা হয়েছে, জানুস একটি মাথা দিয়ে অতীতের দিকে দৃষ্টি রাখেন, আর তার অন্য মাথার দৃষ্টি ভবিষ্যতের দিকে প্রসারিত । বছরের দ্বিতীয় মাস ‘ফেব্রুয়ারি’-র শব্দটি এসেছে ল্যাটিন ‘ফেব্রুয়ারিয়াস’ (februarius) থেকে, যার অর্থ শুদ্ধ করা । রোম-সম্রাট পম্পিলিউস প্রবর্তিত প্রাচীন রোমান ক্যালেন্ডারে ফেব্রুয়ারি বছরের শেষ মাস হিসাবে চিহ্নিত ছিল। এই শেষ মাসে রোমানরা একটি শুদ্ধিকরণ বা পুরনো বছরের যা কিছু খারাপ যত আবর্জনা ঝেড়ে ফেলে নতুন বছরকে আমন্ত্রণ করবার উৎসব করত; অনেকটা বাংলা বছরের চৈত্রশেষের গাজন উৎসবের মতো । এই শুদ্ধিকরণ উৎসবের নাম থেকেই মাসটির নাম ‘ফেব্রুয়ারি’। প্রথম দিকে ফেব্রুয়ারি মাসের দিন সংখ্যা ছিল তিরিশ ।

জুলিয়াস সিজার তার থেকে একটি দিন কেটে নিয়ে বছরের মাঝের দিকের একটি মাস ‘কুইন্টিলিস’ (quintilies)-এর সঙ্গে যুক্ত করেন (পরে ওই মাসটিকে সিজারের নামানুসারে ‘জুলাই’ নামে চিহ্নিত করা হয়)। আবার আর এক রোম-সম্রাট অগস্টাস ফেব্রুয়ারি থেকে আরও একটি দিন কেটে নিয়ে ‘সেক্সটিলিয়েস’ (sextilies) নামের মাসটির সঙ্গে জুড়ে দেন সেই মাসটিও পরে সম্রাটের নামানুসারে ‘অগস্ট’ নামে চিহ্নিত হয়)। ফলে ফেব্রুয়ারি মাসের দিন সংখ্যা কমে গিয়ে দাঁড়ায় আঠাশ।

এদিকে বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে যখন জানা গেল যে, পৃথিবীর বার্ষিক গতির সময়কাল ৩৬৫ দিন ৬ ঘন্টা ২৪ মিনিট, তখন পুরো বছরকে ৩৬৫ দিনের হিসাবে মাস অনুযায়ী ভাগ করে নিলেও সমস্যা হল অতিরিক্ত ৬ ঘণ্টা সময়কে নিয়ে। তখন হিসেবপত্র করে স্থির করা হল যে, ওই ৬ ঘণ্টাগুলিকে যোগ করে প্রতি চার বছর অন্তর একটি করে দিন বেশি ধরা হবে। এই অতিরিক্ত দিনটি যে বছর যোগ করা হবে তার নাম হবে ‘লিপ-ইয়ার’। দুই রোমান সম্রাট কর্তৃক দিন কেটে নেওয়ার ফলে ফেব্রুয়ারি মাসের দিন সংখ্যা কমে হয়েছিল আঠাশ । তাই অতিরিক্ত দিনটি যোগ করে দেওয়া হল ফেব্রুয়ারি মাসের সঙ্গে। সেজন্য প্রতি চার বছর অন্তর ফেব্রুয়ারি মাসের দিন সংখ্যা হয় উনত্রিশ।

গণনার সুবিধার জন্য স্থির করা হয়, যে সমস্ত অব্দ বা বছর চার দ্বারা বিভাজ্য, সেই সব বছরকে ‘লিপ-ইয়ার’ ধরা হবে । আমাদের দেশে ঋতু পর্যায়ের বসন্তকালের মধ্য পর্বটি ইংরেজি ক্যালেন্ডারের মার্চ মাস। অর্থাৎ ফাল্গুনের শেষ আর চৈত্রের শুরু । বসন্তের এই সময়টা প্রকৃতির তাণ্ডবের কাল । বছর শেষের ধুলোময়লা ঝেড়ে ফেলতে আবির্ভাব হয় অকাল ঝড়-বৃষ্টির, বাংলায় যার নাম ‘কালবৈশাখী’। আগেই দেখেছি, প্রাচীন রোমক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বছরের প্রথম মাস ছিল মার্চ। প্রকৃতির এই রূদ্ররূপের ব্যঞ্জনাকে ধরে রাখতেই বছরের প্রথম মাসের নাম রাখা হয়েছিল ‘মার্চ’। শব্দটি এসেছে রোমান যুদ্ধ-দেবতা ‘মার্স’ (Marc)-এর নাম থেকে। যিনি ভয়ঙ্কর, লোমশ । আত্মরক্ষার জন্য বর্ম আর শিরস্ত্রাণ পরে হাতে ঢাল আর বল্লম নিয়ে সর্বোচ্চ যুদ্ধসাজে সজ্জিত। তবে রোমানদের পুরাণ অনুসারে মার্স শুধু যুদ্ধেরই দেবতা নন, তিনি শস্য ও উপাসনারও দেবতা । সেজন্য বোধহয় প্রাচীন রোমকরা তাদের বছরের প্রথম মাসটির নামকরণ করেছিল যুদ্ধের ও শস্যের দেবতার নামে। পরবর্তীকালে মাসটি বছরের তৃতীয় মাসে পরিবর্তিত হলেও নামটি কিন্তু সেই একই রয়ে গেছে ।

বছরের চতুর্থ মাস এপ্রিল-এর নামকরণ নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। রোমানদের মতে এই মাসটি তাদের প্রেমের দেবী ‘ভেনাস’(Venus)-এর কাছে উৎসর্গীকৃত মাস । Venus শব্দটিকে গ্রিক ভাষায় বলা হয় ‘অ্যাফ্রেডাইটি’ (Aphrodite), যা থেকেই এপ্রিল (April) শব্দটির উৎপত্তি । এই নিয়ে কিছু অন্য মতও আছে, অনেকে মনে করেন ল্যাতিন (Perio) শব্দ থেকে এপ্রিল কথার উৎপত্তি, যার অর্থ উন্মুক্ত করা । প্রকৃতির তাণ্ডবের শেষে এপ্রিল মাস যেন বছরের প্রকৃত শুরুর মাস । বসন্ত-আরম্ভের প্রথম দিনের উৎসবকে স্মরণ রাখতে ১ এপ্রিলকে ‘সব বোকাদের দিন’ বা All Fools’ Day হিসাবে পালন করবার প্রথা প্রাচীন কাল থেকেই শুরু হয়েছিল।

বছরের প্রথম মাস ‘মে’-এর নামটি এসেছে গ্রিক পুরাণে বর্ণিত পৃথিবী ধারণকারী এ্যাটলাস-এর কন্যা মায়া (Maia)-র নাম থেকে। মধ্যযুগে ইংল্যান্ডে ১ মে তারিখটি একজন ‘মে-কুইন’ অভিষিক্ত করবার উৎসব হিসাবে পালন করা হত । ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দের পর থেকে আমেরিকার শিকাগো শহরে সংঘটিত শ্রমিক আন্দোলনের স্মৃতি হিসাবে ১ মে দিনটি পৃথিবীব্যাপী শ্রমিক শ্রেণির ‘মুক্তি দিবস’ হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে এটি একটি আন্তর্জাতিক ছুটির দিন ।

ষষ্ঠ মাস ‘জুন’-এর নামকরণের উৎস নিয়েও দ্বিমত রয়েছে। অনেকে মনে করেন, ‘জুনিয়াস’ (Junius) নামে কোনও একটি রোমান পরিবারের নাম থেকে এর উৎপত্তি। কিন্তু অধিক প্রচলিত মত হল ‘জুন’ নামটি এসেছে গ্রিক দেবরাজ জুপিটারের রানি জুনো (Juno)-র নাম থেকে, যিনি ময়ূরবাহিত রথে চড়ে ঘোরাফেরা করতেন। প্রাচীন রোমে জুন মাসের প্রথমে দেবী জুনোর সম্মানে উৎসবের আয়োজন করা হতো ।

সপ্তম মাস ‘জুলাই’-এর নামটি এসেছে বিখ্যাত রোম-সম্রাট জুলিয়াস সিজারের নাম থেকে। জুলিয়াস সিজার কর্তৃক ক্যালেন্ডার পুনর্গঠন করবার সময়য়ে জুলাই মাসের সময়কালের মাসটির নামকরণ নিয়ে সমস্যা দেখা দিল । প্রাচীন রোমক ক্যালেন্ডার অনুসারে এটি ছিল বছরের পঞ্চম মাস । তাই নামও ছিল Quintilis। কিন্তু নতুন ক্যালেন্ডারে এটিকে স্থাপন করা হল সপ্তম স্থানে। সেজন্য সিজার এর নাম পরিবর্তন করে নিজের নামানুসারে July রাখেন । আরেকটি মত হল সিজারের মৃত্যুর পর (খ্রিস্টপূর্ব ৪৪ অব্দ) এই নামকরণ হয়।

অষ্টম মাস ‘অগস্ট’-এর সময়কালটিও পুরনো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ছিল ষষ্ঠ মাস। সেই অনুসারে তার নামও ছিল Sextilies। পুনর্গঠিত ক্যালেন্ডারে একে অষ্টম মাসে রূপান্তরিত করা হলেও নামটি ওই একই থেকে গিয়েছিল । পরবর্তীকালে সিজারের পৌত্র (ভ্রাতুষ্পুত্রের পুত্র) রোম-সম্রাট অগস্টাস-এর নামানুসারে এই মাসের নাম হয় ‘অগস্ট’

ইংরেজি ক্যালেন্ডারের শেষ চারটি মাস ‘সেপ্টেম্বর’, ‘অক্টোবর’, ‘নভেম্বর’ ‘ডিসেম্বর’ পুরনো ক্যালেন্ডার অনুসারে ছিল যথাক্রমে সপ্তম, অষ্টম, নবম ও দশম মাস; সেজন্য নামগুলিও তাদের সেই পরিচয়ই বহন করত । যেমন ‘সেপ্টেম্বর’ নামটি এসেছে ‘Septem’ শব্দ থেকে, যার অর্থ সপ্তম । অক্টোবর এসেছে ‘Octo’ থেকে, যার অর্থ 
অষ্টম। এই মাসটিকে Anglo-Saxon-রা অনেক সময়ে ‘Yellow-Month’ নামে ডাকত । নভেম্বর এসেছে ‘Novem’ শব্দ থেকে, যার অর্থ নবম । এই সময়ে বেশি পশু শিকার করা হতো বলে Anglo-Saxon-দের কাছে এই মাসটির পরিচিতি ছিল Lood-Month নামে । বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে-র নামটিও পুরনো ক্যালেন্ডার থেকে ধার করা । শব্দটি এসেছে ‘Dsecem’ থেকে, যার অর্থ দশম । খ্রিস্টপূর্ব প্রথম অব্দ থেকে প্রচলিত হওয়া ‘ইংলিশ ক্যালেন্ডার ইয়ার’-এ মাসের সংখ্যা দশ থেকে বারোতে বৃদ্ধি পাওয়ায় শেষ চারটি মাসের পর্যায়ের মানও পরিবর্তিত হয়েছে। কিন্তু নামগুলি সেই একই রয়ে গেছে আজ দু’হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে । (সংগৃহীত) 
*ইংরেজিমাস* *নামকরণেরইতিহাস*

জিসান জাকারিয়া: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 "নোয়াখালী" জেলার নামকরণের ইতিহাস জানতে চাই । কিভাবে এই জেলার নামকরন করা হয় ?

উত্তর দাও (৩ টি উত্তর আছে )

.
*জেলা* *বাংলাদেশ* *নোয়াখালী* *নামকরণেরইতিহাস*

Shuvojit Roy: একটি বেশব্লগ লিখেছে

মুসলিম নারী জাগরনের অগ্রদূত মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়ার জন্মস্থান হিসেবে রংপুর সুপরিচিত। প্রখ্যাত সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায় রংপুর কালেক্টরেটে দেওয়ান হিসাবে ১৮০৯ থেকে ১৮১৪ পর্যন্ত কাজ করেন। রংপুর  স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষিতে অগ্রবর্তী এবং রংপুরের স্থানীয় ভাষাও আঞ্চলিক সংস্কৃতি বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। রংপুর জেলাকে বৃহত্তর বঙ্গপ্লাবন ভূমির অংশ মনে করা হয়। কিন্তু ভূতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর গঠন দেশের অন্যান্য জেলা থেকে আলাদা। এ জেলার ভূগঠন অতীতে উত্তরাঞ্চল প্রবাহমান কযয়েকটি নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং ভূকম্পনজনিত ভুমি উত্তোলনের সাথে জড়িত। তিস্তা নদীর আদি গতিপথ পরিবর্তন ছিল রংপুর জেলার ভূমি গঠনের ক্ষেত্রে অতি গুরুত্বপূর্ণ। তিস্তা নদী ১৭৮৭ সালের পূর্বে গঙ্গানদীর একটি উপনদী ছিল। তিস্তা সিকিম বা হিমালয়ে পরিচিত রাংগু ১৭৮৭ সাল পর্যন্ত দিনাজপুর জেলার নিকট আত্রাই এর সাথে মিলিত হয়ে নিম্ন গঙ্গা নদীতে পতিত হতো। ১৮শ শতকে তিস্তা, আত্রাই নদীর পথ ধরে গঙ্গা ও বিছিন্ন কিছু খাল বিলের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্র, উভয় কিছু নদীর সাথে ঋতু ভিত্তিক সংযোগ করত। অপর নদী ধরলা তিস্তা থেকে নিম্ন হিমালয় অঞ্চল বৃহত্তর রংপুর জেলার পূর্ব দিক দিয়ে (বর্তমান কুড়িগ্রাম) ব্রহ্মপুত্র নদে মিলিত হয়েছে। ঘাঘট এ জেলার অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ নদ । ঘাঘট তিস্তার গর্ভ থেকে উৎপন্ন হয়ে রংপুর জেলার মধ্য দিয়ে দক্ষিণে গাইবান্ধা জেলা অতিক্রম করে করতোয়া নদীতে পতিত হয়। আত্রাই নদী এ সময় করতোয়া ও গঙ্গার মধ্যে সংযোগ রক্ষা করত।


বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিকভাবে জনপদ রংপুরের রয়েছে অনেক কীর্তিময় গৌরবগাঁথা । রংপুর নামকরণের ক্ষেত্রে লোকমুখে প্রচলিত আছে যে পূর্বের ‘রঙ্গপুর’ থেকেই কালক্রমে এই নামটি এসেছে। ইতিহাস থেকে জানা যায় যে উপমহাদেশে ইংরেজরা নীলের চাষ শুরু করে। এই অঞ্চলে মাটি উর্বর হবার কারণে এখানে প্রচুর নীলের চাষ হত। সেই নীলকে স্থানীয় লোকজন রঙ্গ নামেই জানত। কালের বিবর্তনে সেই রঙ্গ থেকে রঙ্গপুর এবং তা থেকেই আজকের রংপুর। অপর একটি প্রচলিত ধারনা থেকে জানা যায় যে রংপুর জেলার পূর্বনাম রঙ্গপুর। প্রাগ জ্যোতিস্বর নরের পুত্র ভগদত্তের রঙ্গমহল এর নামকরন থেকে এই রঙ্গপুর নামটি আসে। রংপুর জেলার অপর নাম জঙ্গপুর । ম্যালেরিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব থাকায় কেউ কেউ এই জেলাকে যমপুর বলেও ডাকত। তবে রংপুর জেলা সুদুর অতীত থেকে আন্দোলন প্রতিরোধের মূল ঘাঁটি ছিল। তাই জঙ্গপুর নামকেই রংপুরের আদি নাম হিসেবে ধরা হয়। জঙ্গ অর্থ যুদ্ধ, পুর অর্থ নগর বা শহর। গ্রাম থেকে আগত মানুষ প্রায়ই ইংরেজদের অত্যাচারে নিহত হত বা ম্যালেরিয়ায় মারা যেত। তাই সাধারণ মানুষ শহরে আসতে ভয় পেত। সুদুর অতীতে রংপুর জেলা যে রণভূমি ছিল তা সন্দেহাতীত ভাবেই বলা যায়। ত্রিশের দশকের শেষ ভাগে এ জেলায় কৃষক আন্দোলন যে ভাবে বিকাশ লাভ করে ছিল তার কারণে রংপুরকে লাল রংপুর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল।

এছাড়াও লোকমুখে আরো একটি কাহিনী রংপুর জেলার সাথে জুড়িয়ে আছে যে, রংপুর সদর উপজেলা শহর পূর্বে "রঙ্গপুর" নামে খ্যাত ছিল, রংপুর সদর উপজেলা ঐহিত্যবাহী একটি প্রাচীন শহর যা ১৭৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত। রঙ্গপুর অর্থ যে জনপদের জনগণ কৌতুক প্রিয়। যদিও ঐতিহাসিকগণ ‘‘রঙ্গপুর’’ নামের উৎপত্তি সম্প‍‌র্কে নিশ্চিত নন তবে প্রচলিত মতে হচ্ছে রাজা বাঘাদত্ত ‘ঘাঘট’ নদীর তীরে রঙ্গমহল তৈরী করেন এবং এই রঙ্গমহল থেকে রংপুর নামের উৎপত্তি। ১৩’শ শতকে মুসলিম শাসক ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খলজি বাংলা জয় করে রংপুর অঞ্চলে তাঁর প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। মহান সম্রাট আকবরের সেনাপতি মানসিংহ ১৬৮৫ সালে রংপুর'কে সম্রাজ্য ভূক্ত করেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর আমলে শহরের পুরাতন অংশ ‘‘মাহিগঞ্জ’’ এই অঞ্চলের প্রধান বানিজ্য কেন্দ্র ছিল।


*রংপুরজেলা* *জেলারনামকরণ* *নামকরণেরইতিহাস* *বাংলাদেশ*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★