নামাজ

নামাজ নিয়ে কি ভাবছো?

গাজী আজিজ: ১। নিশ্চয়ই নামায মানুষকে অশ্লীল ও ঘৃণিত কাজ থেকে বিরত রাখে। সূরা: আনকাবূত, আয়াত -45. ২। সজাগ দৃষ্টি রেখ সমস্ত নামাযের প্রতি এবং মধ্যবর্তী নামাযের প্রতি। আর আল্লাহর সামনে আদব সহকারে দাড়াও। (সূরাঃ বাকারা, আয়াত: ২38) ৩। নিশ্চয় মুমিনগণ সফলকাম, যারা নিজেদের নামাযে অন্তরের বিনয় প্রকাশ করে। (সূরাঃ মু'মিন আয়াত-1-২)

*নামাজ*

আমানুল্লাহ সরকার: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 সালাতুল তাসবিহ নামাজ আদায়ের নিয়ম কি? এ নামাজ কখন পড়তে হয়?

উত্তর দাও (২ টি উত্তর আছে )

.
*নামাজ* *সালাতুলতাসবিহ* *ইবাদত*

আমানুল্লাহ সরকার: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 নারীদের নিজ ঘরে নামাজ আদায়ের ফযিলত সম্পর্কে জানতে চাই।

উত্তর দাও (১ টি উত্তর আছে )

*নামাজ* *নামাজেরফজিলত* *মেয়েদেরনামাজ* *নারীরইবাদত*

আমানুল্লাহ সরকার: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 ঢাকার কোন কোন মসজিদে নারীরাও তারাবির নামাজ পড়তে পারবে?

উত্তর দাও (১ টি উত্তর আছে )

.
*তারাবিনামাজ* *নামাজ* *রমজানমাস* *ইবাদত*

আমানুল্লাহ সরকার: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 “নামাজ কায়েম কর” এখানে কায়েম করা কি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?

উত্তর দাও (১ টি উত্তর আছে )

.
*কায়েম* *নামাজ* *ইবাদত*

আমানুল্লাহ সরকার: একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 তারাবির নামাজ কি বাসায় একা একা পড়া যাবে?

উত্তর দাও (১ টি উত্তর আছে )

*নামাজ* *তারাবির-নামাজ*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই রয়েছে ডিপ্রেশন,হতাশা। তবে
এমন কিছু মানুষ দুনিয়াতে আছে যাদের হতাশা অন্যান্য
মানুষের থেকে অনেক বেশি। তারা অনেকটাই আমার মত
অভাগা। ডিপ্রেশন যে কতটা টা ভয়ঙ্কর হতে পারে সেটা
ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ জানে না। আর এই ডিপ্রেশন যে
কত মানুষকে নিরবে খুন করেছে তা অজানা। এটা একটা
নিরব ঘাতক। অনকেই এই ডিপ্রেশন সইতে না পেরে
আত্নহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। এটি বর্তমানে তরুণদের মাঝে
বেশি দেখা যায়। এখনকার তরুণদের মধ্যে ডিপ্রেশনের
প্রধান কারণ হল প্রেমঘটিত তবে এটা ছাড়াও অন্যান্য
কারণ আছে। এখন আসি এ থেকে মুক্তি লাভের উপায়ে।
আমি এ বছর এইচ.এস.সি পাস করে ভার্সিটির জন্য
প্রিপারেশন নিচ্ছিলাম এর মধ্যে আমার প্রায় দুই বছরের
রিলেশন টা ফুললি ব্রেকআপ হয়ে গেল। আমার অনেক বন্ধু
থাকলেও আমি খুব বেচে বন্ধুদের সাথে চলি। তেমনি
অল্প কিছু বন্ধুদের সাথে চলতাম তাদেরকে আমি নিজে
এড়িয়ে চলা শুরু করলাম কারণ কারণ আমি সেল্ফিস পছন্দ
করি না। হয়ে গেলাম সম্পূর্ণ একা খুব খারাপ লাগত
ভাবলাম ভার্সিটিতে ভর্তি হতে পারলে হয়তবা ভাল
বোধ করব। ভার্সিটিতে এডমিশন টেস্ট দিলাম কোন
পাবলিক ভার্সিটিটে টিকলাম না। এমনিতে আমি একা
এর মধ্যে সময় সময় ওর কথা মনে পড়ে ওকে ভুলতে
পারতিছি না কোন ভাবে তার নিজের ফিউচার কি হবে
তা জানি না। এমন একটা পরিস্থিতি তে যে পড়বে সে
বুঝবে কেমন ফিল হয় তখন আমার মত হয়ত এমন কারও না
হলেও। আমার মতই হয়ত অনেকে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত
হয়ে পড়েন। তাদের জন্য আমার মেসেজ হল আমাদের
প্রত্যেকেরই নিজ নিজ ধর্ম রয়েছে কেউ মুসলিম,কেউ
হিন্দু,কেউ খ্রিস্টান,কেউ বৌদ্ধ। আমাদের প্রত্যেকেরই
নিজ নিজ ধর্মের আচার,আচরণ,নীতি রয়েছে এবং
প্রত্যেক ধর্মেরই নিজ উপশনালয় আছে। আমারা যদি
কিছুটা সময় নিজ ধর্মের রীতি অনুযায়ী ধর্মকর্মে
মনোনিবেশ করি। কিছুটা সময় প্রার্থনায় রত থাকি
তাহলে দেখবেন অনেকটাই আপনার ডিপ্রেশন হালকা
হয়ে গেছে মন অটোমেটিক ভাল হয়ে যাবে। নিজ
উপশনালয়ে অনেক ধরনের ধর্মীয় কথা হয় সেগুলো শুনতে
পারি। নিজ ধর্মীয় গ্রন্থ রয়েছে এগুলো পাঠ করতে পারি
দেখবেন মন কত ভাল হয়ে গেছে আগের কথা গুলো মনেই
আসবে না। আপনি এক অন্য জগৎ এ প্রবেশ করবেন। মুসলিম
হলে তাবলিক জামাতে যেতে পারেন। আমি যেহুতু একজন
মুসলিম তাই আমি নামাজ পড়া শুরু করেছিলাম আমি যখন
নামাজ পড়ে মসজিদ এর দরজা দিয়ে বের হতাম এবং
আকাশের দিয়ে তাকতাম মনে মনে এত্ত আনন্দ পেতাম
কেন যেন ভাল লাগল ফুরফুরে মনে হত নিজেকে। আগের
অবস্থা থেকে অনেকটাই রিকভার করতে পেরেছি। তাই
যার যে ধর্মই হোক ডিপ্রেশনে থাকলে নিজ ধর্মকর্মে মন
দিন দেখবেন আগের থেকে ভাল আছেন।

*ডিপ্রেশন* *ধর্ম* *নামাজ* *বাস্তবতা*

সাদাত সাদ: একটি বেশব্লগ লিখেছে

নামাযের পূর্বে অযু করা
"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম-আমি নাজাযের উদ্দেশে পবিত্রতা লাভের উদ্দেশে ও আল্লাহ্'র সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে ওযু করিতেছি" বলে প্রথমে দু‘হাত কব্জি পর্যন্ত- তিনবার ধৌত করার পর
মুখে ও নাকে তিনবার পানি দিয়ে কুলি করবে ও নাক ঝাড়বে।

অতঃপর মুখমন্ডল ধৌত করবে (কপালের উপর চুল গজানোর স্থান থেকে নিয়ে দাড়ির নিম্নভাগ, এবং এক কান থেকে নিয়ে অপর কান পর্যন্ত-)।

এরপর দু’হাতের আঙ্গুলের শুরু থেকে কনুই পর্যন- তিন বার ধৌত করবে। প্রথমে ডান হাত অতঃপর বাম হাত।

আবার নতুন করে দু’হাত পানি দিয়ে ভিজিয়ে তা দ্বারা মাথা মাসেহ্ করবে। দু‘হাত মাথার অগ্রভাগ থেকে নিয়ে পিছন দিকে ফিরাবে অতঃপর অগ্রভাগে নিয়ে এসে শেষ করবে। তারপর দু‘কান মাসেহ্ করবে। দু‘হাতের দুই তর্জনী কানের ভিতরের অংশ এবং দু‘বৃদ্ধাঙ্গলী দিয়ে বাহিরের অংশ মাসেহ্ করবে। এর জন্য নতুনভাবে পানি নেয়ার দরকার নেই।

অতঃপর দু‘পা টাখনুসহ তিনবার ধৌত করবে। প্রথমে ডান পা, তারপর বাম পা।
ওজু শেষে এই দোয়া পড়া
أَََشْهَدُ أَنْ لا إلَه إِلّا الله وَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ

জায়নামাজের দোয়াঃ
জায়নামাজে দাঁড়িয়ে নামাজ শুরুর পূর্বেই এই দোয়া পড়তে হয়,
বাংলা উচ্চারন-ইন্নি ওয়াজ্জাহ তু ওয়াজ্ হিয়া লিল্লাজি, ফাত্বরস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল্ আরদ্বঅ হানি-ফাওঁ ওয়ামা-আনা মিনাল মুশরিকী-ন।
অর্থ-নিশ্চই আমি তারই দিকে মুখ করলাম, যিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন এবং বাস্তবিকই আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই ।
এরপর নামাজের নিয়াত ও তাক্বীরে তাহঃরীমা
নামাজের ইচ্ছা করাই হচ্ছে নামাজের নিয়াত করা। মুখে উচ্চারণ করা জরুরী নয়, তবে মুস্তাহাব।
সমস্ত নামাজেই ,নাওয়াইঃতু আন্ উছাল্লিয়া লিল্লাহি তায়া'লা
(২ রাকাত হলে) রাক্ 'য়াতাই ছালাতিল
(৩ রাকাত হলে) ছালাছা রাক্ 'য়াতাই ছালাতিল
(৪ রাকাত হলে) আর্ বায় রাক্ 'য়াতাই ছালাতিল
(ওয়াক্তের নাম) ফাজ্ রি/ জ্জুহরি/আ'ছরি/মাগরিবি/ইশাই/জুমুয়া'তি
(কি নামাজ তার নাম) ফরজ হলে ফারদ্বুল্ল-হি/ ওয়াযিব হলে ওয়াজিবুল্ল-হি/ সুন্নত হলে সুন্নাতু রসূলিল্লাহি/নফল হলে নাফলি।
(সমস্ত নামাজেই) তায়া'লা মুতাওয়াজ্জিহান্ ইলা জিহাতিল্ কা'বাতিশ শারীফাতি আল্ল-হু আক্ বার।
বাংলায় নিয়াত করতে চাইলে বলতে হবে,
আমি আল্লাহ্'র উদ্দেশ্যে ক্কেবল মুখী হয়ে,
ফজরের/জোহরের/আসরের/মাফরিবের/ঈশার/জুময়ার/বি'তরের/তারঅবি/তাহাজ্জুদের (অথবা যে নামাজ হয় তার নাম)
২ র'কাত/৩র'কাত/৪ র'কাত (যে কয় রাকাত নামাজ তার নাম)
ফরজ/ওয়াজিব/সুন্নাত/নফল নামাজ পড়ার নিয়াত করলাম, আল্লাহু আকবার ।

তাকবীরে তাহরীমা-
আল্লাহু আকবার (৪বার)
আশহাদু আল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহ(২বার)
আশহাদু আন্নামুহাম্মাদার রাসুল্লাহ‌(২বার)
হাইয়া আলাস্ সালাহ(২বার)
হাইয়া আলাল্ ফালাহ(২বার)
কাদকামাতিস সালাহ্(২বার)
আল্লাহু আকবার(২বার)
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ(২বার)
সানাঃ (হাত বাধার পর(বুকের বা নাভীর উপর বাম হাতের উপর ডান হাত) এই দোয়া পড়তে হয়)
উচ্চারণ : সুবহা-না কাল্লা-হুম্মা ওয়া বিহাম্ দিকা ওয়াতাবারঅ কাস্ মুকা ওয়াতা’ আ-লা জাদ্দুকা ওয়া লা-ইলা-হা গাইরুক।
অর্থ-হে আল্লাহ ! আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আপনার মহিমা বর্ণনা করছি। আপনার নাম বরকতময়, আপনার মাহাত্ম্য সর্বোচ্চ এবং আপনি ভিন্ন কেহই ইবাদতের যোগ্য নয় ।
নবী (সাঃ) নামায অবস্থায় মাথা নীচু করে যমীনের দিকে দৃষ্টি রাখতেন। তিনি আকাশের দিকে দৃষ্টি উঠাতে নিষেধ করেছেন।
তাআ’উজঃ
উচ্চারণ- আউযুবিল্লা-হি মিনাশ শাইত্বা-নির রাজীম ।
অর্থ-বিতশয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি ।
তাসমিয়াঃ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ।
অর্থ-পরম দাতা ও দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি ।
এরপর সূরা ফাতিহা পাঠ করতে হয়,
আয়াত নং ১ الْحَمْدُ للّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
বাংলা উচ্চারন আলহামদুলিল্লাহি রাব্লিল আ’লামিন
বাংলা অনুবাদ সমস্ত প্রসংশা একমাত্র আল্লাহ তা’য়ালার জন্য ।

আয়াত নং ২ الرَّحْمـنِ الرَّحِيمِ
বাংলা উচ্চারন আর রাহহমানির রাহিম
বাংলা অনুবাদ যিনি পরম করুনাময় ও মহান দয়ালু

আয়াত নং ৩ مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ
বাংলা উচ্চারন মালিকি ইয়াওমিদ্দিন
বাংলা অনুবাদ যিনি বিচার দিনের মালিক

আয়াত নং ৪ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
বাংলা উচ্চারন ইয়্যা কানা’বুদু ওয়াইয়্যা-কানাসতাঈন
বাংলা অনুবাদ আমরা যেন তোমারই এবাদত করি এবং তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি

আয়াত নং ৫ اهدِنَـا الصِّرَاطَ المُستَقِيمَ
বাংলা উচ্চারন ইহদিনাস সিরাত্বাল মুস্তাক্বিম
বাংলা অনুবাদ তুমি আমাদের সরল এ সহজ পথ দেখাও

আয়াত নং ৬ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنعَمتَ عَلَيهِمْ
বাংলা উচ্চারন সিরাত্বাল্লাযিনা আন আ’মতা আলাইহিম
বাংলা অনুবাদ তাদের পথ যাদের তুমি অনুগ্রহ দান করেছ ।

আয়াত নং ৭ غَيرِ المَغضُوبِ عَلَيهِمْ وَلا الضَّالِّينَ َ

বাংলা উচ্চারন গাইরিল মাগদুবে আলাইহিম ওয়ালাদ্বদ্বো-য়াল্লিন
বাংলা অনুবাদ তাদের পথ নয়,(যারা) অভিশপ্ত এ পথহারা হয়েছে।
সূরা ফাতিহা তিলাওয়াতের পর পবিত্র কোরআনের যে কোন জায়গা থেকে তিলাওয়াত বা অপর একটি সূরা পাঠ করতে হয়।

মুক্তাদীর জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ জরুরীঃ
ইমামের পিছনে মুক্তাদীও সূরা ফাতিহা পাঠ করবে। কারণ রাসূল (সাঃ) এর বাণী “যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পাঠ করবেনা, তার নামায হবেনা।” (বুখারী-মুসলিম) এ কথাটি ইমাম, মুক্তাদী এবং একাকী নামায আদায়কারী সবাইকে অন-র্ভুক্ত করে। কাজেই সকলকেই সূরা ফাতিহা পাঠ করতে হবে। যেসমস- নামাযে ইমাম স্বরবে কিরাত পাঠ করেন, সে সমস- নামাযে মুক্তাদী ইমামের কিরাত শ্রবন করবে এবং নীরবে শুধুমাত্র সূরা ফাতিহা পাঠ করবে। অন্যান্য সূরা পাঠ থেকে বিরত থাকবে।
সুন্নীরা চুপকে চুপকে আর শিয়ারা জোরে আমিন বলতঃ।
হাদীছে আছে, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, তোমরা আমীন বল, আল্লাহ তোমাদের দু‘আ কবুল করবেন। (মুসলিম)

রুকূ করাঃ
কিরা‘আত পাঠ শেষে রাসূল (সাঃ) আল্লাহ আকবার (اَللَّهُ اَكْبَرُ) বলে রুকূতে যেতন। (বুখারী)
রুকুতে স্বীয় হাঁটুদ্বয়ের উপর হস-দ্বয় রাখতেন এবং তিনি এজন্য নির্দেশ দিতেন। (বুখারী) তিনি কনুই দু‘টোকে পাঁজর দেশ থেকে দূরে রাখতেন। তিনি রুকু অবস্থায় পিঠকে সমান করে প্রসারিত করতেন। এমন সমান করতেন যে, তাতে পানি ঢেলে দিলেও তা যেন সি'র থাকে। (বুখারী, তিরমিজী, তাবরানী) তিনি নামাযে ত্রুটিকারীকে বলেছিলেন, অতঃপর যখন রুকূ করবে, তখন স্বীয় হস্তদ্বয় হাটুদ্বয়ের উপর রাখবে এবং পিঠকে প্রসারিত করে সি'রভাবে রুকূ করবে। (আহমাদ) তিনি পিঠ অপেক্ষা মাথা উঁচু বা নীচু রাখতেন না। বরং তা মাঝামাঝি থাকত। (বুখারী, আবু দাউদ)

রুকুতে রাসূল (সাঃ) এই দূ‘আ পাঠ করতেন سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيْمِ)) উচ্চারণঃ ‘সুবহানা রাব্বীয়াল আযীম’। অর্থঃ আমি মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি। এই দূ‘আটি তিনি তিনবার বলতেন। কখনও তিনবারের বেশীও পাঠ করতেন। (আহমাদ)

অতঃপর রাসূল (সাঃ) রুকূ হতে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। তিনি এই দূ‘আ বলতে বলতে রুকূ হতে মাথা উঠাতেন, ( سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ) উচ্চারণঃ সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ। অর্থঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে, আল্লাহ তার কথা শ্রবন করেন। (বুখারী-মুসলিম) তিনি যখন রুকূ হতে মাথা উঠাতেন, তখন এমনভাবে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন যে, মেরুদন্ডের হাড়গুলো স্ব-স্ব স্থানে ফিরে যেত। অতঃপর তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় বলতেন, رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ)) উচ্চারণঃ রাব্বানা লাকাল হাম্ দ। হে আমার প্রতিপালক! সকল প্রশংসা তোমার জন্য। মুক্তাদী ও ইমাম উভয়েই দূ‘আ দু‘টি পাঠ করবে।


সাজদাহ করাঃ
অতঃপর রাসূল (সাঃ) আল্লাহ আকবার বলে সাজদায় যেতেন। তিনি বলেছেন, কারও নামায ততক্ষন পর্যন- পূর্ণ হবেনা, যতক্ষন না সে সামিআল্লাহ হুলিমান হামিদাহ বলে সোজা হয়ে দাঁড়াবে অথঃপর আল্লাহ আকবার বলবে, অতঃপর এমনভাবে সাজদাহ করবে যে, তার শরীরের জোড়াগুলো সুসি'রভাবে অবস্থান নেয়। সাজদাহ অবস্থায় পার্শ্বদ্বয় থেকে হস'দ্বয় দূরে রাখতেন। (বুখারী, আবু দাউদ)
তিনি মাটিতে হাটু রাখার পূর্বে হস-দ্বয় রাখতেন। (ইবনু খুযাইমাহ)
নবী (সাঃ) রুকূ-সাজদাহ পূর্ণাঙ্গরূপে ধীরসি'রভাবে আদায় করার নির্দেশ দিতেন।
সাজদার দূ‘আঃ সাজদাহ অবস্থায় তিনি এই দূ‘আ পাঠ করতেন, (سُبْحَانَ رَبِّيَ الاَعْلَى) উচ্চারণঃ “সুবহানা রাব্বীয়াল আ‘লা”। অর্থঃ ‘আমি আমার সুউচ্চ প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করছি’। তিনি এই দূ‘আটি তিনবার পাঠ করতেন। অতঃপর নবী (সাঃ) আল্লাহ আকবার বলে সাজদাহ থেকে মাথা উঠাতেন। তিনি বলেছেন, কোন ব্যক্তির নামায ততক্ষন পর্যন- পূর্ণ হবেনা, যতক্ষন না এমনভাবে সাজদাহ করবে যে, তার দেহের প্রত্যেকটি জোড়া সুসি'রভাবে অবস্থান নেয়।

দুই সাজদার মাঝখানে বসাঃ প্রথম সাজদাহ ও সাজদার তাসবীহ পাঠ করার পর ‘আল্লাহ আকবার’ বলে স্বীয় মস-ক উত্তলন করতেন। দুই সাজদার মাঝখানে ধীরসি'রতা অবলম্ভন করা ওয়াজিব। নবী (সাঃ) দুই সাজদার মধ্যবতী অবস'ায় এমনভাবে সি'রতা অবলম্ভন করতেন, যার ফলে প্রত্যেক হাড় স্ব স্ব স'ানে ফিরে যেত। (আবু দাউদ)
দুই সাজদার মাঝখানে দূ‘আঃ দুই সাজদার মধ্যখানে নবী (সাঃ) এই দূ‘আ পাঠ করতেন,(اَللَّهُمَّ اغْفِرْلِىْ وَ ارْحَمْنِى وَ اهْدِنِىْ وَ عَافِنِىْ وارْزُقْنِىْ)

উচ্চারণঃ ‘আল্লাহু ম্মাগ ফিরলী ওয়ার হামনি ওয়ার যুক্কনী’

অর্থঃ “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা কর, দয়া কর, হিদায়াত দান কর, মর্যাদা বৃদ্ধি কর এবং জীবিকা দান কর”।
এই দূ‘আ পাঠ করে নবী (সাঃ) আল্লাহ আকবার বলে দ্বিতীয় সাজদায় যেতেন এবং প্রথম সাজদার মতই দ্বিতীয় সাজদায় তাসবীহ পাঠ করতেন। অতঃপর আল্লাহ আকবার বলে সাজদাহ থেকে মাথা উঠাতেন এবং দ্বিতীয় রাকা‘আতের জন্য দাঁড়ানোর পূর্বে বাম পায়ের উপর সোজা হয়ে বসতেন। এবং প্রত্যেক হাড় স্ব স্ব স্থানে ফেরত আসা পর্যন- বিরাম নিতেন। (বুখারী)
অতঃপর হাতে ভর দিয়ে দ্বিতীয় রাকা‘আতের জন্য দাঁড়াতেন এবং প্রথম রাকা‘আতের ন্যায় সবকিছু করতেন, তবে ছানা ও আউযুবিল্লাহ পাঠ করতেন না। একথা বিশেষভাবে স্মরণ রাখা দরকার যে, নামাযের প্রত্যেক রাকা‘আতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা ফরজ।

তাশাহুদঃ
নবী (সাঃ) চার রাকা‘আত বা তিন রাকা‘আত বিশিষ্ট নামাযের প্রথম দুই রাকা‘আত শেষে তাশাহ্*হুদ পাঠের জন্য বসার সময় দুই সাজদার মাঝখানে বসার ন্যায় পা বিছিয়ে বসতেন। (বুখারী)

তাশাহহুদের উচ্চারণঃ
আত্তাহিয়াতু লিল্লাহি ওয়াস্ ছালাওয়াতু ওয়াত্বায়্যিবাতু আস্ সালামু আলাইকা আইয়্যুহান্ নাবিউ ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু আস্-সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস্ সালিহীন আশহাদু আল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু। এভাবে তাশাহ্হুদ পাঠ করার পর আল্লাহ আকবার বলে চার বা তিন রাকা‘আত বিশিষ্ট নামাযের বাকী নামাযের জন্য দাঁড়াবে। বাকী নামায পূর্বের নিয়মে সমাপ্ত করবে। তবে কিরা‘আতের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সূরা ফাতিহা পাঠ করবে।

অর্থঃ আমাদের সব সালাম শ্রদ্ধা, আমাদের সব নামাজ এবং সকল প্রকার পবিত্রতা একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে। হে নবী, আপনার প্রতি সালাম, আপনার উপর আল্লাহর রহমত এবং অনুগ্রহ বর্ষিত হউক । আমাদের ও আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর আল্লাহর রহমত এবং অনুগ্রহ বর্ষিত হউক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই, আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত মুহাম্মদ (সঃ) আল্লাহর বান্দা এবং রাসুল ।

শেষ বৈঠক ও সালাম ফেরানোঃ
তাশাহ্হুদ পাঠের জন্য শেষ বৈঠকে বসা ওয়াজিব। তবে বসার সময় তাওয়াররুক করতে হবে। তাওয়াররুক অর্থ ডান পা খাঁড়া রেখে বাম পা ডান উরুর নীচ দিয়ে বের করে দিয়ে নিতম্বের উপর বসা। এভাবে বসে প্রথমে আত্যাহিয়াতু পাঠ শেষে রাসূল (সাঃ) এর উপর (দরূদ) সালাত পাঠ করতে হবে।

দরূদের উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাযীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাযীদ ।

অর্থ-হে আল্লাহ, দয়া ও রহমত করুন হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর প্রতি এবং তার বংশধরদের প্রতি, যেমন রহমত করেছেন হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও তার বংশধরদের উপর। নিশ্চই আপনি উত্তম গুনের আধার এবং মহান। হে আল্লাহ, বরকত নাযিল করুন হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর প্রতি এবং তার বংশধরদের প্রতি, যেমন করেছেন হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও তার বংশধরদের উপর।নিশ্চই আপনি প্রশংসার যোগ্য ও সম্মানের অধিকারী ।

দরূদ পাঠ শেষে দূ‘আ মাসুরা পাঠ করতে হবে(বুখারী),
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নি জালামতু নাফসী জুলমান কাছীরাও ওয়ালা ইয়াগফিরুজ্ জুনুবা ইল্লা আনতা ফাগফিরলী মাগফিরাতাম মিন ইন্দিকা ওয়ারহামনী ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর্ রাহীম।

অর্থ-হে মহান আল্লাহ, আমি আমার নিজের উপর অনেক জুলুম করেছি (অর্থাৎ অনেক গুনাহ/পাপ করেছি) কিন্তু আপনি ব্যতীত অন্য কেহ গুনাহ মাফ করতে পারে না। অতএব হে আল্লাহ অনুগ্রহ পূর্বক আমার গুনাহ মাফ করে দিন এবং আমার প্রতি সদয় হোন; নিশ্চই আপনি অতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু ।

অতঃপর প্রথমে ডান দিকে পরে বাম দিকে সালাম ফিরিয়ে নামায সমাধা করবে।


বিতরের নামাজঃ
বিতরের নামাজের পর ৩য় রাকায়াতে সূরা ফাতিহা ও অন্য কিরআত পড়ার পর আল্লাহু আকবার বলে হাত তুলে আবার হাত বাঁধতে হয় এবং দোয়া কুনুত পড়তে হয় ।

উচ্চারণ-"আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতা'ঈনুকা ওয়া নাসতাগ ফিরুকা, ওয়া নু'মিনু বিকা ওয়া না তা ওয়াক্কালু আলাইকা ওয়া নুছনি আলাইকাল খাইর। ওয়া নাশকুরুকা, ওয়ালা নাকফুরুকা, ওয়া নাখ লা, ওয়া নাত রুকু মাইয়্যাফ জুরুকা। আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না'বুদু ওয়ালাকা নুছাল্লি ওয়া নাসজুদু ওয়া ইলাইকা নাস'আ, ওয়া নাহফিদু ওয়া নারজু রাহমাতাকা ওয়া নাখ'শা আযাবাকা ইন্না আযা-বাকা বিল কুফফা-রি মুল হিক ।"

অর্থ-হে আল্লাহ, আমারা আপনার নিকট সাহায্য চাই। আপনার নিকট গোনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি। আপনার প্রতি ঈমান এনেছি। আমরা কেবল মাত্র আপনার উপরেই ভরসা করি। সর্বপ্রকার কল্যান ও মংগলের সাথে আপনার প্রশংসা করি। আমরা আপনার শোকর আদায় করি, আপনার দানকে অস্বীকার করি না।আপনার নিকট ওয়াদা করছি যা, আপনার অবাধ্য লোকদের সাথে আমরা কোন সম্পর্ক রাখব না-তাদেরকে পরিত্যাগ করব । হে আল্লাহ, আমরা আপনারই দাসত্ব স্বীকার করি। কেবলমাত্র আপনার জন্যই নামাজ পড়ি, কেবল আপনাকেই সিজদা করি এবং আমাদের সকল প্রকার চেষ্টা-সাধনা ও কষ্ট স্বীকার কেবল আপনার সন্ততুষ্টির জন্যই । আমরা কেবল আপনার ই রহমত লাভের আশা করি, আপনার আযাবকে আমাওরা ভয় করি। নিশ্চই আপনার আযাবে কেবল কাফেরগনই নিক্ষিপ্ত হবে

*নামাজশিক্ষা* *নামাজ* *সালাত*

ঈশান রাব্বি: [রমজান-নামাজ১] রোজা রাখুন সাথে নামাজ ও আদায় করুণ (দোয়া)

*রোজা* *নামাজ*

বিডি আইডল: একটি বেশব্লগ লিখেছে

সালাতুত তারাবি বিশেষ নামাজ। ইসলামী হুকুম অনুযায়ী এটি সুন্নাতে মোয়াক্কাদাহ। মূলত মাহে রমজানে রাতের বেলায় এশার ফরজ ও সুন্নাত নামাজের পরে বিতরের আগে তারাবির নামাজ আদায় করতে হয়।
সাধারণ নফল ও সাধারণ সুন্নাতের চেয়ে অধিকতর মর্যাদাবান। গুরুত্বের দিক থেকে ওয়াজিবের কাছাকাছি। তারাবির নামাজ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত। এর ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স.) এর অনেক হাদিস রয়েছে।

মূলত মাহে রমজানে তারাবির নামাজের গুরুত্ব সীমাহীন। কারণ মাহে রমজান যেসব বিশেষ বৈশিষ্ট্যের জন্য মহিমান্বিত, তার মধ্যে অন্যতম হলো তারাবির নামাজ। তারাবির নামাজ মুসলমানদের ওপর সারা বছরের মধ্যে শুধুই রমজান মাসের জন্য সুন্নাত বিধান হিসেবে স্থিরকৃত। রমজানে তারাবির গুরুত্ব অনেক। তারাবি রমজানের বিশেষ এবাদত হিসেবে গণ্য। পবিত্র রমজানে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সবচেয়ে পছন্দের এবাদত ছিল, তাই এটি উম্মতে মোহাম্মদীর কাছেও পছন্দের। যুগ যুগ ধরে বিশ্ব মুসলিম অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মাহে রমজানে সালাতুত তারাবিহ আদায় করে আসছেন।

সাহাবি হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে (সা.) রমজান সম্পর্কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াব (পুণ্য) লাভের আশায় কিয়ামে রমজান তথা তারাহির নামাজ আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (সহিহ বোখারি/ সহিহ মুসলিম) রাসুলুল্লাহ (সা.) সালাতুত তারাবিহকে কতখানি গুরুত্ব দিতেন এবং উম্মতি মোহাম্মদীর জন্য তারাবি যাতে ফরজ হয়ে না যায়, সেজন্য কী করেছেন তা নিচের হাদিস পড়লেই অনুমেয় হবে।

"এ প্রসঙ্গে হজরত উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের (রা.) হজরত আয়েশা সিদ্দিকী (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) একবার রমজান মাসে রাত্রিবেলায় মসজিদে নববীতে নামাজ (তারাবি) আদায় করলেন। উপস্থিত লোকজনও তাঁর সঙ্গে নামাজ আদায় করলেন। একইভাবে তাঁরা দ্বিতীয় দিনেও নামাজ আদায় করলেন এবং লোকসংখ্যা অনেক বেশি হল। অতঃপর তৃতীয় এবং চতুর্থ দিনেও মানুষ একত্রিত হলো কিন্তু রাসুলুল্লাহ (স.) হুজরা থেকে বেরিয়ে তাদের কাছে এলেন না। অতঃপর সকাল হলে তিনি এলেন এবং বললেন, তোমাদের অপেক্ষা করার বিষয়টি আমি লক্ষ্য করেছি। কিন্তু শুধু এ ভয়ে আমি তোমাদের নিকট আসা থেকে বিরত থেকেছি যে, আমার আশঙ্কা হচ্ছিল, না জানি তোমাদের ওপর উহা (তারাবি) ফরজ করে দেওয়া হয়। (সহি বোখারি : ৯২৪, সহি মুসলিম : ৭৬১)।"


হাদিসের তথ্যমতে রাসুলুল্লাহ (স.) তিনদিন মসজিদে নববীতে জামাতের সঙ্গে তারাবির নামাজ আদায় করেছেন। অতঃপর রাসুলের যুগে এবং হজরত আবু বকর (রা.)-এর খিলাফতকালে এবং হজরত ওমর (রা.)-এর খিলাফতের প্রথম দিকে মুসলমানরা একাকী অথবা খণ্ড খণ্ড ছোট জামাতে তারাবির নামাজ আদায় করতেন। অবশেষে হজরত ওমর (রা.) হজরত উবাই ইবনে কা’ব (রা.)-কে ইমাম নির্ধারণ করে সম্মিলিতভাবে জামাতের সঙ্গে ২০ রাকাত তারাবির নামাজ আদায়ের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ প্রসঙ্গে সহি বোখারি : ২০১০ দ্রষ্টব্য।


তারাবির নামাজ এশার নামাজের পর বিতরের আগে ২০ রাকাত জামাতে পড়া উত্তম। মহানবী (সা.) কখনো চার রাকাত, কখনো আট রাকাত, কখনো ১২ রাকাত, তবে বেশির ভাগ ২০ রাকাত পড়তেন। নবীজীর জীবদ্দশায় সাহাবাগণও অধিকাংশ ২০ রাকাত তারাবি আদায় করতেন। ২০ রাকাত পড়ার ব্যাপারে সর্বজন ফকীহগণও একমত হয়েছেন। বরং আমিরুল মোমিনিন হযরত ওমর ফারুকের (রা.) জামানায় জামাতের সঙ্গে ২০ রাকাত তারাবি আদায় করা হতো। ইমাম আজম আবু হানিফা (রা.) এর অনুসারীরা সুদীর্ঘকাল ধরে জামাতে ২০ রাকাত তারাবি পড়ে আসছেন। তবে কেউ চাইলে ৮ কিংবা ১২ রাকাতও পড়তে পারেন।


যেহেতু রমজান মাস ছাড়া বছরের অন্য কোনো সময়ে তারাবির নামাজ আদায় করার সুযোগ নেই, তাই বার্ষিক ইবাদত হিসেবে এর গুরুত্ব অন্যান্য সুন্নাত নামাজ অপেক্ষা বেশি। অতএব মাহে রমজানের বিশেষ ফজিলতপূর্ণ তারাবির নামাজকে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। 


আল্লাহতাআলা আমাদের সবাইকে ইসলামী হুকুমমতে তারাবির নামাজ আদায় করার তওফিক দিন- আমিন।

*তারাবি* *নামাজ* *রমজানমাস* *ইসলামীবিধান*

আমির: একটি বেশব্লগ লিখেছে

মাহে রমজানে রাত্রিকালে এশার নামাজের চার রাকাত ফরজ ও দুই রাকাত সুন্নতের পর এবং বিতর নামাজের আগে দুই রাকাত করে ১০ সালামে যে ২০ রাকাত নামাজ আদায় করা হয়, একে ‘তারাবি নামাজ’ বলা হয়। আরবি ‘তারাবিহ’ শব্দটির মূল ধাতু ‘রাহাতুন’ অর্থ আরাম বা বিশ্রাম করা। তারাবি নামাজ পড়াকালে প্রতি দুই রাকাত বা চার রাকাত পরপর বিশ্রাম করার জন্য একটু বসার নামই ‘তারাবি’। দীর্ঘ নামাজের কঠোর পরিশ্রম লাঘবের জন্য প্রতি দুই রাকাত, বিশেষ করে প্রতি চার রাকাত পর একটু বসে বিশ্রাম করে দোয়া ও তসবিহ পাঠ করতে হয় বলে এ নামাজকে ‘সালাতুত তারাবিহ’ বা তারাবি নামাজ বলা হয়।
রমজান মাসের জন্য নির্দিষ্ট তারাবি নামাজ জামাতে পড়া ও সম্পূর্ণ কোরআন শরিফ একবার খতম করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে তারাবি নামাজ পড়েছেন এবং সাহাবায়ে কিরামকে পড়ার জন্য আদেশ দিয়েছেন। তারাবি নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা ও কোরআন শরিফ খতম করা অধিক সওয়াবের কাজ। তবে ঘরে সূরা-কিরাআতের মাধ্যমে আদায় করলেও সওয়াব পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) তারাবি নামাজের জন্য রাতের কোনো বিশেষ সময়কে নির্দিষ্ট করে দেননি। তবে তারাবি নামাজ অবশ্যই এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিকের পূর্ববর্তী সময়ের মধ্যে আদায় করতে হবে।

শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে রমজান। প্রথম রোজায় ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সেহেরির শেষ সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা ৩৮ মিনিট এবং ইফতার শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে।

শুক্রবার থেকে রোজা শুরু হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতেই এশার নামাজের পর তারাবির নামাজ শুরু হবে। যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হবে মাহে রমজান।

তারাবি নামাজ
এশার নামাজের চার রাকাত ফরজ ও দুই রাকাত সুন্নতের পর এবং বিতর নামাজের আগে দুই রাকাত করে ১০ সালামে যে ২০ রাকাত নামাজ আদায় করা হয়, একে ‘তারাবি নামাজ’ বলা হয়। আরবি ‘তারাবিহ’ শব্দটির মূল ধাতু ‘রাহাতুন’ অর্থ আরাম বা বিশ্রাম করা।

রমজান মাসের জন্য নির্দিষ্ট তারাবি নামাজ জামাতে পড়া ও সম্পূর্ণ কোরআন শরিফ একবার খতম করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে তারাবি নামাজ পড়েছেন এবং সাহাবায়ে কিরামকে পড়ার জন্য আদেশ দিয়েছেন। তারাবি নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা ও কোরআন শরিফ খতম করা অধিক সওয়াবের কাজ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) তারাবি নামাজের জন্য রাতের কোনো বিশেষ সময়কে নির্দিষ্ট করে দেননি। তবে তারাবি নামাজ অবশ্যই এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিকের পূর্ববর্তী সময়ের মধ্যে আদায় করতে হবে।

তারাবি নামাজের নিয়ত
نويت ان اصلى لله تعالى ركعتى صلوة التراويح سنة رسول الله تعالى متوجها الى جهة الكعبة الشريفة الله اكبر.
(নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা, রকাআতাই সালাতিত তারাবিহ সুন্নাতু রাসুলিল্লাহি তা’আলা, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।)
অর্থ: আমি ক্বিবলামুখি হয়ে দু’রাকাআত তারাবিহ সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ নামাযের নিয়ত করছি। আল্লাহু আকবার।

তারাবি নামাজের চার রাকাত পরপর দোয়া
سبحان ذى الملك والملكوت سبحان ذى العزة والعظمة والهيبة والقدرة والكبرياء والجبروت . سبحان الملك الحى الذى لاينام ولا يموت ابدا ابدا سبوح قدوس ربنا ورب الملئكة والروح.
উচ্চারণ: সুব্হানাযিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি সুবহানাযিল ইযযাতি ওয়াল আযমাতি ওয়াল হাইবাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়াল জাবারূত। সুব্হানাল মালিকিল হায়্যিল্লাযি লা-ইয়ানামু ওয়ালা ইয়ামুতু আবাদান আবাদা। সুব্বুহুন কুদ্দুছুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রূহ।

 

 

 

*তারাবি* *নামাজ* *নিয়ত*

আড়াল থেকেই বলছি: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

হয়তো আজ থেকেই পবিত্র মাহে রমজানের তারাবী নামা শুরু হবে...
*তারাবী* *নামাজ*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★