নেতৃত্ব

নেতৃত্ব নিয়ে কি ভাবছো?

Risingbd.com: কী হতে যাচ্ছে আগামী ১০ বছরে? রাশিয়া কি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্রের ঘুঁটির চালে মাথা নোয়াতে বাধ্য হবে? রাজনীতি ও অর্থনীতির মোড়ল হিসেবে ছড়ি ঘোরাবে কে? প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে থাকবে কে-? বিস্তারিত- http://bit.ly/1T9DeTu

*রাজনীতি* *অর্থনীতি* *আগামী* *ভাগ্য* *আড্ডা* *নেতৃত্ব* *সারাবিশ্ব*
৫/৫

অর্ঘ্য কাব্যিক শূন্য: [টাইগারস-মাসরাফিমুর্তজা] নেতৃত্ব দিয়েছেন মোট ২১ ম্যাচে... জয় ১৫টিতে... দ্বিতীয় দফায় ক্যাপ্টেন্সীতে ১৩ ম্যাচে জয় ১০টিতে... ঘরের মাঠে টানা ১০ ম্যাচে জয় এই মানুষটার জন্য... জয়লাভের পার্সেন্টেজ ৭১.৫%... শতকরা হারের দিক দিয়ে সেরা ৪ জন অধিনায়কের মধ্যে একজন আমাদের ম্যাশ... ম্যাশকিন সেলিব্রেশনের উদ্ভাবক... আমাদের আদরের পাগলা... (ভালবাসি)

*মাশরাফি* *সাফল্য* *নেতৃত্ব*

আবু কিশোয়ার মির্জা শিহাব: একটি বেশব্লগ লিখেছে


পুজিবাদ, ও সাম্রাজ্যবাদ মানুষের মানবিকতাকে বিনষ্ট করছে। ইহা এক জগন্য সমাজের জন্ম দিচ্ছে, তৈরী করছে এক বিষাক্ত পরিবেশ। মানুষের মাঝে লোভ লালসা ও ভীরুতার জন্ম দিচ্ছে। লিডিং লাইট মানুষকে অন্দ্বকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসার জন্য পথ প্রদর্শন করছে। আমরা লড়ছি সকল দুঃখ কষ্ট লাগবের জন্য, নির্মমতার অবসানের জন্য, সকল শোষন ও যন্ত্রণার পরিসমাপ্তির জন্য। আমাদের সংগ্রাম আগামী দিনের জন্য,ভবিষ্যতের জন্য, আমাদের সন্তানদের জন্য, ভুমি, সমূদ্র ও আকাশের জন্য । আমরা এমন একটি আগামীর জন্য লড়াই করে চলেছি যেখানে থাকবে শান্তি ও সমৃদ্বি। যেখানে মানুষের ভেতরকার সকল সুপ্ত প্রতিভার উন্মেষ ঘটবে। আমরা ব্যাক্তি হিসাবে যা হতে চাই, মানুষ হিসাবে যেমন পরিবেশে থাকতে চাই তার জন্য সংগ্রাম করছি। আমরা এমন এক দুনিয়ার জন্য কাজ করছি যেখানে প্রতিটি মানুষের নেতৃত্বের বিকাশ ঘটবে। প্রতিটি মানুষ লিডিং লাইট হয়ে উঠবেন। মানুষের জন্য সত্যিকার অর্থে যে রকমের দুনিয়া দরকার মানুষ ও তা পায়নি। আমরা এখনো চলমান একনায়কত্বের বেড়াজ্বালে বন্দ্বি আছি। আমাদের পূর্ন বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত – সমাজের কিছু লোক এগিয়ে যাবে আর কিছু লোক পিছিয়ে পড়বে, কিছু লোক আলোকিত হবে কিছু লোক অন্দ্বকারেই থেকে যাবেন। যারা আলোকিত হবেন তারাই হলেন নেতা, তারাই হলেন সমাজের আগামী দিনের অভিভাবক। লিডিং লাইটের দায়িত্বই হলো মানবতাকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া। সকল দানবিয়ীয় শক্তির অবসান ঘটানোর জন্য বিপ্লবী বিজ্ঞানের সচেতনাতা সৃজন করা । ইহা খুবই কঠিন কাজ হলে ও আমাদেরকে তা করতেই হবে। সামগ্রীক বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত, নেতৃত্ব দান কারী ও সাধারনের মাঝে একটা দ্বন্দ্ব বিদ্যমান থাকবেই। এমন কি যদি ও লিডিং লাইট সত্যিকার ভাবে সকল কিছুকে পরিচালনা করে কিন্তু এর পরও সেখানে দ্বন্দ্ব থাকতে পারে। তবে তা অনেক ক্ষেত্রে নির্ভর করে নেতৃত্বের যোগ্যতার উপর। এ সম্পর্কে নিম্নে কতিপয় বিষয় তুলে ধরা হলো-

১. লিডিং লাইট হলো আনুগত্যশীল। লিডিং লাইট জনগণ, পৃথিবী, সংগঠন এবং নেতার প্রতি যে শপথ গ্রহন করে তা থেকে পিছিয়ে যাবে না । শপথ হলো একটি শক্তিশালী অস্ত্র তা কোন দিন ভঙ্গ করা যায় না। একতা হলো একটি বিশাল শক্তি। আমরা সকলেই জনগণ, পরিবেশ, সংঠন ও আলোকিত সাম্যবাদের জন্য নিবেদিত প্রান ।

২. লিডিং লাইট উদাহরন অনুসরন করে। লিডিং লাইট কেবল মানুষকে বলে না যে উটা করুন – বরং তারা তা নিজেরা করে উদাহরন সৃজন করেন। আমাদের মাঝে সেই হলো সম্মানি ও উজ্জ্বল ব্যাক্তি যিনি মানুষকে বেশী করে সেবা দান করে থাকেন। মানুষ, পরিবেশ ও নেতৃত্বের প্রতি সর্বদা যত্নশীল ভূমিকা পালন করে। লিডিং লাইট হলো উত্তম স্বাচ্ছা সেবী মানুষের দল।

৩. লিডিং লাইট ত্যাগের জন্য সর্বদা প্রস্তুত। লিডিং লাইট হলো তারা যারা মহান কর্ম সম্পাদনের জন্য নিজেদের বিলিয়ে দিতে কুন্ঠিত হয় না । লিডিং লাইট হলো সেই ব্যাক্তি যিনি মানুষের জন্য, পৃথিবীর জন্য যে কোন প্রকারের কার্য করতে যে কোন ধরনের ত্যাগ এমন কি প্রান দিতে এবং নিতে দ্বিধা করে না। তারা জান মাল দিয়ে সাধারন মানুষের পাশে থাকে। তারা প্রতি দিন, প্রতি সপ্তাহে ও প্রতি মাসে অর্থ ও সময় দিয়ে জনগণের সেবা করে । সেবাই তাদের অন্যতম গুনাবলী।

৪. লিডিং লাইটের লোকেরা বুক ভরা সাহস নিয়ে চলে । আমরা আমাদের ইগু কে বাদ দিয়ে দেই। বিশ্ব জন যুদ্ব টি হলো সামগ্রীক ভাবে আমাদের পশ্চাৎ পদতার বিরুদ্বে। সত্যিকার মানব জীবনের জন্য ভয়কে জয় করতেই হবে। আমরা এটা বুঝি সে বিপ্লব কোন ডিনার পার্টি নয়। আমরা যেকন সময় যে কোন স্থানে লড়াই করতে ভিত নই। বিজয়ী হবার জন্য যা যা করা দরকার তার সবই আমরা করতে চাই। এর জন্য যদি আমাদের ভালোবাসার জীবনটা ও দিতে হয় আমরা তাই দিতে কুন্ঠি নই। আমরা ভালো পিতা-মাতা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী কিন্তু আমরা ভালো যুদ্বা হতে চাই- মানুষের জন্য ও সুন্দর পৃথিবীর জন্য ।

৫. লিডিং লাইট আমাদের ইগুকে বিদূরিত করে। আমরা আমাদের মতামত সংগঠনের যথাযত ফোরামে তুলে ধরবলিডিং লাইট বিশ্বাস করে বিজয়ের জন্য দরকার হলো একতা ও শৃঙ্খলা। আমরা অবশ্যই নেতৃত্বের শৃংখলা মেনে চলব। আমারা আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিক ভাবেই পালন করব।  আমাদের দায়িত্ব পালনা পিছপা হব না ।

৬. লিডিং লাইটের লোকেরা নিচুতা, ভীরুতা ও মূর্খতায় ভোগবে না । আমরা আমাদের মাঠ ছেড়ে যাবনা । আমরা জানি লড়াইটাই হলো বিজয়ের আসল পথ । এটাই গুরুত্বপূর্ন। মুর্খতা নিয়ে আমরা আমাদের সময় নষ্ট করব না । আমাদের পিছিয়ে যাবার পথ নেই । আমাদেরকে বিজয়ী হতেই হবে ।

৭. লিডিং লাইট উদ্যোগ নিবেই। লিডিং লাইট এটা বুঝে যে, অনুগত্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সত্যিকার আনুগত্য ও উদ্যোগ মানুষের মাঝে সৃজন শীলতা বৃদ্বি করে দেয়। মানুষকে সাহসী করে। সেই তো ভালো লড়াকো হয় যে চিন্তাশীল হয়ে কাজ করতে পারে। আমরা শৃজনশীল, সাহসী ও উদ্যোগী।

৮. লিডিং লাইট সময়ের সঠিক ব্যবহার করে থাকে। অন্যকে সাহায্য করা। সেবা করা। পরিবেশ ও প্রতিবেশকে উন্নত করতে কাজ করা দায়িত্ব মনে করে। সম্পদ বাড়ানো, প্রশিক্ষন গ্রহন ও শিক্ষা প্রচারের কাজ করা হয়ে থাকে। লিডিং লাইট কোন সময় নষ্ট করে না ।

৯. লিডিং লাইট মানুষকে, পরিবেশ ও পৃথিবীকে সম্মান করে। মানুষের মাঝে যে পশ্চাৎ পদতা আছে তা দূরী করনের জন্য আমরা অসীম ধৈর্যের সাথে কাজ করে থাকি । আমরা বিশ্বাস করি শক্তি প্রয়োগের চেয়ে মৌখিক অবেদন অনেক কার্যকরী। আমরা ভূমি,সমূদ্র আকাশের নির্মলতা কামনা করি। আমরা গৃহের প্রতি আস্থাশীল। আমরা সমালোচনাকে সম্মান করি। আবার আমরা ও আমাদের সমালোচনা করে থাকি ।

১০. লিডিং লাইট সর্বদাই অন্যকে সাহায্য করে থাকে। ইহা মানুষকে, পৃথিবীকে, একে অন্যকে, নিজেদের পরিবার পরিজনকে, প্রতিবেশী ও সমাজকে সামর্থ মত সাহায্য করে থাকে । আমরা মানুষে ভালো সাথী, বন্দ্বু ও ভালো প্রতিবেশী হিসাবে ভূমিকা পালন করতে চাই। আমরা সত্যিকার বন্দ্বু, ভালো পিতা-মাতা,পুত্র-কন্য, ভাই – বোন, হিসাবে জীবন যাপন করছি। লিডিং লাইট তার সমাজে, কাজের স্থানে ও সংগঠনে জ্বল জ্বল করে জ্বলে তারা উজ্জ্বল তারকার মত নজির হয়ে ভুমিকা রাখে।

১১. লিডিং লাইট বিপ্লবী বিজ্ঞানী। লিডিং লাইট কোন দিন তার শিক্ষার কাজ বন্দ্ব করে না । আমরা সর্বদাই কিছু না কিছু পড়ে থাকি। আমরা আমাদের বিপ্লবী বিজ্ঞানের প্রতিটি স্তরকে বুঝতে চেষ্টা করে থাকি। আমরা অগ্রসর বিজ্ঞানকে অনুসরন করে থাকি। আমরা উজ্জ্বল সত্যের অনুসারী। আলোকিত সাম্যবাদ আমাদের পথজ্ঞানকে আমরা শক্তি মনে করি।  

১২. লিডিং লাইট কোন দিন আত্মসমর্পন করবে না। প্রতি যুগেই কিছু কিছু ভূয়া বিপ্লবীকে ও বিপ্লবের নামে লম্প জম্প করতে দেখা যায়। আমরা যাছাই বাচাই না করে কাঊকে বিপ্লবী হিসাবে গন্য করতে পারি না । মেকি বিপ্লবীদেরকে আমরা কোন না কোন ভাবে সনাক্ত করতে পারি। কেবল খাঁটি মানুষেরাই বিপ্লবী হতে পারেন। সুবিধাবাদি, ভীরু, কাপুরুষ শ্রেনীর মানুষ বিপ্লবী হতে পারেন না । খাঁটি বিপ্লবী তার জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত লড়াই করে যায়। আর তারাই হলেন সত্যিকার লিডিং লাইট বা আলোকিত মানুষ।

আমাদের লড়াকু সৈনিকেরা একতবদ্ব হচ্ছেন। আমরা লং মার্চ করছি। দিনে দিনে এগুচ্ছি।  আমাদের মহান নেতা আছেন। আছে আমাদের চমৎকার সংগঠন। আমরা অবশ্যই বিজয়ী হব।


*লিডিংলাইট* *নেতৃত্ব*
খবর

নাহিন: একটি খবর জানাচ্ছে

ইন্টারনেট কেন্দ্রিক ব্যবসাগুলো ম্যারাথন দৌড়ের মতো- ফাহিম মাশরুর
http://www.banglatribune.com/%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%9F-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF
তিনি ইন্টারনেটে চাকরির খবর প্রকাশ করেন। সহজ করে বললে, তিনি দেশের প্রথম জব পোর্টাল 'বিডিজবস' -এর স্বপ্ন দ্রষ্টা এ কে এম ফাহিম মাশরুর। যে সময় দেশে খবরের কাগজ ছিল চাকরি খোঁজার একমাত্র মাধ্যম সে সময়ে তিনি বিডিজবসের মাধ্যমে ইন্টারনেটে চাকরির খবর ...বিস্তারিত
*আইটিউদ্যোক্তা* *উদ্যোক্তা* *প্রযুক্তিরখবর* *বেশটেক* *লিডারশিপ* *নেতৃত্ব* *অনুপ্রেরণা*
৩২১ বার দেখা হয়েছে

ক্যারিয়ারগুরু: একটি বেশব্লগ লিখেছে

নেতা হিসেবে কারিশমা আয়ত্ত্ব করতে চাইলে আপনাকে অল্প অল্প করেই শিখতে হবে। নেতা হিসেবে আপনার ভূমিকার জন্যই আপনাকে কারশিম্যাটিক দক্ষতা অর্জন করে নিতে হবে। নিজেকে কখনও অন্য কারোর মত করে গড়ে তুলতে পারলেই পরিবর্তন হয় না, আপনাকে আপনার ভেতরের শক্তিকেই কাজে লাগিয়ে আপনার কারিশমা দিয়েই পরিবর্তন সাধন করতে হবে এবং সেটা হবে অন্য যেকোন কিছুর থেকে হাজার গুন বেশি ভাল।


লিডারশিপের কারিশমা বোঝা যায় যখন একজন নেতা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে বা আরো বড় অন্য কোন কিছুর স্বার্থে কাজ করে থাকে। ব্যক্তিগত কারিশমা একজন নেতাকে সাহায্য করতে পারে কিন্তু বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে গেলে কিন্তু তা ভালো নয়। যেসব নেতা সব সময় অন্যদের প্রভাবিত করার ব্যাপারে জোর দেয়, তারা তাদের অনুসারীদের প্রেরণা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ক্ষীণ করে দেয়। লিডারশিপের ক্ষেত্রে কারিশমা তৈরি করতে চাইলে আপনাকে কিছু বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে যা এখানে দেওয়া হলঃ


১. নিজেকে জিজ্ঞেশ করুনঃ কেন?

আপনি কেন কারিশম্যাটিক হতে চান সেই ভাবনার প্রেক্ষিতেই বোঝা যাবে আপনি কী ধরনের কারিশমা নিজের মাঝে তৈরি করতে চান। নিজেকে প্রশ্ন করুন, কেন আপনি এটি করতে চান? আপনি কী অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান নাকি আপনি কোন নিরাপত্তাহীনতার দরূন এমনটি করতে চাইছেন? নেতাদেরকে অন্যদের আকর্ষণ করার ক্ষমতা থাকতে হবে এমনটাই কী আপনার বিশ্বাস? অন্যদের আকর্ষণ করার ফলে আপনার নেতৃত্বের বিকাশ কীভাবে ঘটবে? এর ফলে আপনি প্রতিষ্ঠানকে আরো কত ভালভাবে সেবা করতে পারবেন?

২. নিজের ব্যাপারে সাচ্ছন্দ্য হোন

নিজের কারিশম্যাটিক যোগ্যতাযাচাই করার আগে আপনাকে আগে বুঝতে হবে আপনি কী ধরনের নেতা এবং কেন একজন নেতা হয়েছেন। আপনার নিজস্বতা হল আপনার সব ব্যক্তিগত মূল্যবোধ এবং চালিকা শক্তি সমূহ যা আপনার বর্তমান জীবনে ভূমিকা রেখেছে। নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনার জীবনের বর্তমান সময়ে এই নেতৃত্বের ভূমিকা আসলেই সঠিক কিনা এবং আপনি কীভাবে নিজেকে এর জন্য তৈরি করেছেন এবং কীভাবে আপনি আপনার শেখার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবেন? অনেক নেতাই এই কঠিন প্রশ্নের উত্তরগুলো এড়িয়ে গিয়ে কারিশমার বাহ্যিক দিক নিয়ে বেশি ঝুঁকে পড়েন। তারা ভাবেন, অন্যদের সাথে একটু বেশি বিনীত হলেই চলবে। কিন্তু বেশি বিনয় অনেক সময় বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যে কারিশমার পেছনে কোন প্রস্তুতি থাকে না তা ঝামেলারই বটে।

৩. নিজের পরিবেশে সাচ্ছন্দ্য হোন

কার্যকর কারিশম্যাটিক নেতারা জানেন তারা কেমন এবং নিজেদেরকে দলের সামনে তুলে ধরতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কারিশমার বেশিরভাগ গুণই বাহ্যিকভাবে প্রকাশ পায়, তাই একজন নেতাকে শিখতে হবে কীভাবে কারিশমা সঠিকভাবে প্রকাশ করা যায়। আপনি কীভাবে অন্যদের সাথে কথা বলেন? অন্যদের সাথে কথা বলার সময় আপনার বাহ্যিক বিষয়গুলো কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন? আবার কথা না বলেও শারীরিক ভাবে অন্যদের সাথে ইন্টার‍্যাকশান করাও প্রভাব ফেলতে পারে। যেসব নেতা এসব ব্যাপারে যত্নশীল নয়, তারা সফল হতে পারেনা।

৪. অনুশীলন করুন, দরকার হলে কাউকে কোচ হিসেবে রাখুন  

কারিশমা যেহেতু শেখার ব্যাপার তাই একজন কোচের কাছ থেকেই শেখাটাই ভাল। কারিশমার ব্যক্ত ও অব্যক্ত সব বিষয়গুলো অনুশীলন করুন। আপনার বাহ্যিক আচরণের পাশাপাশি আপনার অন্তর্গত চিন্তাধারার প্রক্রিয়া সম্পর্কেও আপনার ধারণা থাকতে হবে। যেমন, আপনি যদি পাবলিক স্পিকিং দক্ষতা অর্জন করতে চান তাহলে আপনার কন্ঠের অনুশীলন ছাড়াও আপনাকে জানতে হবে কেন পাবলিক স্পিকিং আপনার জন্য জরুরি।

৫. ভাল পরিবেশে অনুশীলন করুন  

অনেক নেতাই ভাবেন যে তারা তাদের লিডারশিপ ক্ষমতা উন্নত করতে সক্ষম। পূর্ব প্রস্তুতি ও চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই তারা তাদের দলের সামনে নতুন নতুন বিষয় উপস্থাপন করতে চায় যা খুব একটা কার্যকর নয়। কোন কিছু উপস্থাপন করার আগে সেটা অনুশীলন করে নেওয়াটা জরুরি। একজন কোচের সাথে একান্তে অনুশীলনের ফলে আপনি আপনার ভুলগুলো থেকে শিখতে পারবেন। পাবলিকলি যেকোন ভুল হতেই পারে, কিন্তু প্রাইভেটলি ভুলগুলো বেশি হয় এবং তা শুঢরে নেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ থাকে

৬. সবার সাথে সম্পর্ক রাখাঃ

অফিস পার্টি, কোম্পানি রিট্রিট এবং একসাথে দুপুরের খাবার খাওয়া যে কোনও প্রতিষ্ঠানেরই অংশ। কিন্তু দলনেতাকে এটা দেখতে হয় যে যাতে সবাই সেখানে আসে এবং কেউ যাতে তাকে অনাকাঙ্ক্ষিত না ভাবে। দলের সবাই একসাথে ডিনারে যাবে এটা ভাল উদ্যোগ কিন্তু অনেকই আছেন যাদের পক্ষে সন্ধ্যাটা ডিনারের জন্য ব্যয় করা সম্ভব নয়, তাই নেতাকে দেখতে হয় যাতে এসব অনুষ্ঠান গুলো ছুটির দিনে হয় যাতে সবাই অংশ নিতে পারে।

৭. কথা বলার সময় সতর্ক থাকাঃ

মুখের ভাষার দ্বারা মানুষ আহত হয়, তাই শব্দ নির্বাচনে সতর্ক থাকা উচিত। সবসময় সবকথাই যে খুব চিন্তা করে বলতে হবে এমন নয়, কিন্তু মনে রাখতে হবে-অনেক সময় অনেক খেয়ালী মন্তব্য অথবা হাসি কেউ কেউ অন্যভাবেও নিতে পারে। কেউ যদি বলে কারো কথা বলায় ভুল ছিল, তর্ক না করে তা মেনে নেয়া উচিত, ক্ষমা চাওয় উচিতা। নেতা বিশৃঙ্খলা মেনে নিবেন না, তার জন্য যে ই দায়ী হোকনা কেন। সবার কাছ থেকে নেতা কেমন ব্যবহার আশা করেন তার একটি নমুনা তৈরি করবেন। এবং একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পদ্ধতির ব্যবস্থা করা উচিত যাতে সবাই নির্ভয়ে অভিযোগের কথা বলতে পারে।
৮. সবাইকে কথা বলার সুযোগ দেয়াঃ

দলনেতাকেই এটা নিশ্চিত করতে হয় যে, আলোচনা সভায় সবাই যেন কেবল বসে না থাকে বরং কথা বলে। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করে অংশগ্রহণ করতে পারে। যদি এমনটি হয় যে আলোচনায় কেবল মাত্র গুটিকয়েক মানুষ অংশ নিতে পারবে তবে সে আলোচনা অর্থহীন। আজকের যুগে অনেকেই স্ক্যাইপ বা অন্যানও অনলাইন প্রযুক্তির সাহায্যে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করে। এটা নেতার দায়িত্ব যাতে সবাই বুঝতে পারে যে প্রতিষ্ঠানের আলোচনা সভায় সবার কথা বলার সুযোগ আছে।

৯. নিয়োগ এবং পদন্নতিঃ

সব সময় নিয়োগ এবং পদোন্নতির সিধান্ত কেবল মাত্র প্রত্যেকের  কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতার উপর নির্ভর করে নিতে হবে। প্রথমেই লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত যে পলিসি  গ্রহণ করা হয়েছে তা প্রশংসনীয়, তবে যারা সিধান্ত নিবেন তারা যাতে পক্ষপাত মুক্ত হয় তার দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত। যখন কোনও কর্মীর কাজের মূল্যায়ন হয় তখন যাতে সেই মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রভাবমুক্ত হয়। নিরপেক্ষ থাকতে চেষ্টা করতে হবে এবং অন্যদেরও এমন  হতে উৎসাহিত করতে হবে।
১০. মেধা অন্বেষণ প্রকল্পকে গোপন না রাখাঃ

মেধা অন্বেষণ প্রকল্পকে কোনও বিভাগ বা দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত না। যখন একজন যোগ্য ব্যক্তিকে খোঁজা হয় যে তার কাজের দ্বারা অন্যদের চেয়ে বেশি দিতে পারে, তখন সে অন্বেষণের কথা প্রচার করা দরকার। হয়ত অযাচিতভাবে সেই বিশেষ জনকে পাওয়া যায়।

১১. সঠিক মতামত প্রকাশে ব্যর্থ হওয়া:
আপনার কাছে যদি এমন কোন ধারনা, মতামত, পরিকল্পনা থাকে যা আপনার প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসাকে আরও উন্নত করবে, তাহলে তা আলোচনা করুন। একটি চমৎকার পরিকল্পনা বা ধারনা আপনার নেতৃত্ব অনেক উপরে নিয়ে যেতে পারে যদি আপনার সেই ধারনা বা পরিকল্পনা উপযুক্ত মানুষগুলির সাথে আলোচনা করেন।
 
১২. দর কষাকষি করতে ব্যর্থ হওয়া:

কেউ জন্ম থেকেই ভাল দরকষাকষি করতে জানে না। এটি একটি গুন এবং আপনাকে এটি শিখতে হবে। এটি একটি খেলার মত । খেলায় যেমন কিছু নিয়ম কানুন থাকে এবং আপনার কিছু প্রতিযোগীতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়, এখানেও তাই । কাজেই বোঝার চেষ্টা করুন অন্য পক্ষ কি চায়। তার চাওয়াকে বিবেচনায় রাখুন।

১৩. মূল্যায়ন করতে না পারা:

যেকোন কাজের সঠিক মূল্যায়ন করতে শিখুন। আপনার মূল্যায়ন বা মতামত যদি যথাযথ না হয় তাহলে আপনাকে মনে হবে অসহায় । কিভাবে একটি পরিস্থিতি আপনি সামলে উঠেন সেটা আপনার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।

১৪. উৎসাহ দিতে না পারা:

সফল যারা তারা জানে কিভাবে অন্যকে উৎসাহিত করতে হয়। ব্যবসার ক্ষেত্রে ভাল নেতা হতে হলে এই গুনটি আপনার থাকা প্রয়োজন। আপনার ভেতরে যদি এই গুনটি থাকে তাহলে আপনি অন্যদের তুলনায় আলাদা হবেন। আপনার কাজে আপনার ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠবে।

এই উপায় গুলো সহজ এবং স্পষ্ট। কিন্তু কখনও কখনও সহজ নিয়ম পালন করাই অনেক কঠিন হয়ে উঠে। দলনেতাকেই অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণের কথা মাথায় রাখতে হবে যাতে প্রতিষ্ঠানে একটি সুন্দর কর্ম পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

(সংকলিত)
*নেতৃত্ব* *টিমলিডার* *ক্যারিয়ারটিপস*

রানা মাসুদ: *নেতৃত্ব* নেতুত্ব শব্দটার বিশালতা এত ব্যাপক ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। নেতৃত্ব সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত এক নেয়ামত। যিনি নেতা হন তিনি জন্মের পর থেকে তার চরিত্রে নেতৃত্বের গুণ প্রকাশ করে যান। ত্যাগ না থাকলে নেতৃত্ব পাওয়া যায় না।সততা থাকা বাঞ্চনীয়।

হাফিজ উল্লাহ: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

৪/৫
জীবনে ঝুঁকি নাও, জিতলে তুমি নেতৃত্ব দিবে, আর না জিতলে তুমি পরবর্তী কাউকে পথ দেখিয়ে দিবে। ----- স্বামী বিবেকানন্দ
*ঝুঁকি* *নেতৃত্ব*

হাফিজ উল্লাহ: একটি টিপস পোস্ট করেছে

সৃজনশীল হওয়ার ৮ টি উপায়
http://www.safollo.com/%E0%A6%B8%E0%A7%83%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A6%B6%E0%A7%80%E0%A6%B2-%E0%A6%B9%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A7%AE-%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A7%9F/
চাহিদা অনুযায়ী সৃজনশীল হতে পারছেন না? মন খারাপের কিছু নেউ। খুব বেশি লোক তা পারে না। সৌভাগ্যবশত এটি একটি দক্ষতা যা আপনি তৈরি এবং উন্নত করতে পারবেন। চেষ্টা করে উদ্ভাবনী হতে পারা অধিকাংশ মানুষের জন্যই প্রায় অসম্ভব। বিশ্বাস হচ্ছে না? এক্ষুনি একবার চেষ্টা করে দেখুন। সৃজনশীল কিছু চিন্তা করুন। সম্পূর্ণ নতুন এবং ভিন্ন কিছু নিয়ে আসুন। এত তাড়াতাড়ি ফিরে এসেছেন? দুঃখ পাবেন না; প্রথমে অনেকেই আপনার অনেক আগেই ফিরে আসে। সৃজনশীলতা কোন সুইচ নয় যা আমাদের অধিকাংশই ইচ্ছা অনুযায়ী চালু করতে পারি। সুতরাং, সৃজনশীলতার চাবিকাঠি হল কোন একটি সমস্যাকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা। প্রয়োজন আবিষ্কারের জননী, তাই একটু কৃত্রিম প্রয়োজন তৈরি করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সৃজনশীলতা উদ্দীপকের কাজ করে। এখানে আপনার উদ্ভাবনী সুইচ টোকার কয়েকটি সহজ উপায় আছে। ...বিস্তারিত
*ক্যরিয়ার* *নেতৃত্ব* *ক্যারিয়ারটিপস* *টিমলিডার*
৪৩৫ বার দেখা হয়েছে

নাহিন: একটি বেশব্লগ লিখেছে

মানুষ তাঁর স্বপ্নের সমান বড়। কথাটা সব সময় বলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। চেষ্টা, কর্মস্পৃহা ও ইচ্ছাশক্তিই স্বপ্ন দেখা মানুষকে তাঁর স্বপ্নের কাছাকাছি নিয়ে যায়। তবে এ বছর বেগম রোকেয়া পদক বিজয়ী গোলাপ বানুর জীবনের গল্পটি যেন স্বপ্নকেও ছাড়িয়ে যাওয়া বাস্তব এক চরিত্র। জীবনযুদ্ধ করতে করতেই যেন তিনি হয়ে উঠেছেন স্বপ্নের চেয়েও বড়।

নারী উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় অসামান্য অবদানের জন্য স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৯ ডিসেম্বর গোলাপ বানুর গলায় পরিয়ে দিয়েছেন বেগম রোকেয়া পদক।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ছোঁয়া না পাওয়া গোলাপ বানু (৬০) এখন হাজারো নারীর স্বপ্ন দেখার চোখ। অনেকের কাছে প্রেরণাও। অভাবী নারীদের নিয়ে প্রতিদিনের রান্নার চাল থেকে জমানো মুঠো চাল দিয়ে সঞ্চয়ের শুরু। এরপর সমবায় সমিতি গড়ে তা শতকোটিতে নিয়ে যাওয়া। সত্যিই স্বপ্নকেও ছাড়িয়ে যাওয়া। গোলাপ বানুর সেই সমিতির নাম ‘বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতি’।
সংগ্রামী জীবন: গরিব কৃষক বাবার ঘরে জন্ম গোলাপ বানুর। বাবা রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বাজারে গিয়ে কৃষিপণ্য বেচতেন। মাথায় করে সেসব পণ্য বাজারে নিয়ে যেতেন গোলাপ বানুও। তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বলতে এক মাসের স্কুলযাত্রা আর ছয় মাসের বয়স্ক শিক্ষা। গোলাপ বানু বলেন, ‘বড় ভাই একদিন পড়াতে বসালেন। বহু চেষ্টার পরও “অ” উচ্চারণটা ঠিকভাবে করতে পারিনি। তাই খেপে গিয়ে থাপড় দিলেন। তখন বাবা বললেন, আমার মেয়ে তো বড় হয়ে জজ-ব্যারিস্টার হবে না। স্বামীর সংসারে গিয়ে কাজ করবে। তাই তার স্কুলে যাওয়ার দরকার নেই। এরপর আর স্কুলে যাওয়া হয়নি।’
মাত্র ১৪ বছর বয়সে বিয়ে হয় গোলাপ বানুর। অভাবকে সঙ্গী করে রাজমিস্ত্রি স্বামীর সঙ্গে শুরু করেন সংসার। বিয়ের চার বছরের মাথায় প্রথম মেয়ের জন্ম। তারপর স্বামী উধাও। মেয়েকে নিয়ে ফিরলেন বাবার সংসারে। বাবার সংসারে বোঝা হয়ে না থেকে একটি চটের কারখানায় চাকরি নিলেন। এক বছর পর স্বামীর খোঁজ পেলেন। বাবার অমতে স্বামীর কাছে চলে গেলেন। আবার শুরু করলেন কষ্টের সংসার। একপর্যায়ে মন গলে বাবারও। রাজধানীর ভাটারার নুরের চালায় নিজের জমিতে থাকার ব্যবস্থা করে দেন মেয়েকে। সংগ্রামের কথা স্মরণ করে গোলাপ বানু বলেন, ‘ছনের কুঁড়েঘরে বৃষ্টি হইলেই পানি পড়ত। মুরগি যেমন তার পালকের নিচে ছানা আগলে রাখে, আমিও ওপরে পলিথিন দিয়া ছোট ছোট চার ছেলেমেয়েরে আগলে রাখতাম, যাতে ভিইজ্যা না যায়।’
সমিতির জন্মকথা: ১৯৮৯ সালে নুরেরচালা এলাকার অভাবী পরিবারের শিশুদের পড়াশোনার উদ্যোগ নেয় একটি বেসরকারি সংস্থা। গোলাপ বানুর ছেলেও সেখানে যায়। সে সময় ওই সংস্থার তৎকালীন মাঠ কর্মকর্তা নিত্য অধিকারী (বর্তমানে বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপক) গোলাপ বানুর মতো অভাবী নারীদের জন্য বয়স্কশিক্ষার পাশাপাশি সমবায় সমিতি গঠনের প্রস্তাব দেন। প্রতি দলে ২০ জন করে পাঁচটি দলের ১০০ সদস্য নিয়ে ১৯৯২ সাল থেকে দলভিত্তিক সমবায় কার্যক্রম শুরু করেন গোলাপ বানুরা। ১৯৯৪ সালে তাঁদের নিয়ে গঠিত হয় ‘বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতি’। শুরুতে প্রত্যেক সদস্য মাসে ৫০ টাকা করে জমা দেবেন বলে ঠিক হয়। কিন্তু এই ৫০ টাকা জোগাড় করাও তাঁদের জন্য কঠিন ছিল। পথ বাতলে দিলেন নিত্য অধিকারী। রান্নার চাল থেকে দু-এক মুঠো চাল আলাদা করে জমিয়ে তা বিক্রি করে টাকা জোগাড়ের পরামর্শ দেন। পরামর্শটি মনে ধরল অনেকেরই। টাকা জমাতে থাকলেন গোলাপ বানুরা। ১৯৯৭ সালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাটি এলাকা ছেড়ে চলে যায়। তখন নতুনভাবে সমিতির কার্যক্রম শুরু হয়। গোলাপ বানু হন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। নিত্য অধিকারী বলেন, ‘আমি যে সংস্থাটিতে কাজ করতাম সেটি এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পরও গোলাপ বানু এবং অন্যরা মিলে আমাকে রেখে দেন। সেই থেকে আমি এ সমিতির ব্যবস্থাপক।’
সমিতি গড়ার শুরুতে অনেক কিছুই সহ্য করতে হয়েছে গোলাপ বানুকে। ‘সমিতি করতে গিয়া পাড়ার মানুষেরও কথা শুনছি। তবে যারা বাধা দিত, তারাই একসময় সমিতি থেকে ঋণ নেওয়া শুরু করে’, বললেন গোলাপ বানু। সমিতি ও তাঁর আজকের অবস্থানে উঠে আসার পেছনে নিত্য অধিকারীর অবদানের কথাটিও কৃতজ্ঞতা ভরে স্মরণ করলেন তিনি।
সমিতির কার্যক্রম: নুরের চালা এলাকায় ১০০ সদস্য আর পাঁচ হাজার টাকার মূলধন নিয়ে শুরু করা বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতির এখন নিজস্ব জমিতে সাড়ে ছয়তলা ভবন। মূলধন ১৭০ কোটি টাকা। সদস্যসংখ্যা ৪৩ হাজারের বেশি। ব্যবস্থাপক নিত্য অধিকারী জানান, ১৭০ কোটি টাকার মূলধনের মধ্যে প্রায় ১৫০ কোটি টাকায় এখন ঋণ হিসেবে সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। বাকি টাকা নগদ ও বিভিন্ন সম্পদে বিনিয়োগ রয়েছে।
সমিতির নামে গাজীপুরেও সাড়ে ১৬ বিঘা জমি রয়েছে। তার মধ্যে কিছু জায়গায় প্লট বানিয়ে সদস্যদের দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর ভাটারা, বাড্ডা, গুলশান, উত্তরা, খিলক্ষেত ও ক্যান্টনমেন্টসহ ছয়টি থানায় সমিতি কাজ করছে। গাজীপুরেও সীমিত আকারে কাজ শুরু করেছে। সঞ্চয় ও ঋণ দেওয়া ছাড়াও রাজধানীতে ছয়টি বয়স্কশিক্ষার স্কুল পরিচালনাসহ ১১ ধরনের কাজ করছে সমিতি।
সমিতির সদস্যদের নির্বাচিত ১২ জন প্রতিনিধির মাধ্যমে চলে এর কার্যক্রম। সমিতিতে কর্মরত আছেন ৭১ জন। মাসে গড়ে লেনদেন হয় প্রায় ১০ কোটি টাকা।
গোলাপ বানুর চার ছেলেমেয়ে। বিয়ে হয়ে গেছে সবার। অভাবের কারণে ছেলেমেয়েদেরও খুব বেশি পড়াতে পারেননি। স্বামী হাবিবুর রহমান রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। এখন ধর্মপ্রচারে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। একমাত্র ছেলেটি বেকার।
প্রতিদিন সমিতির নানা কাজে যুক্ত থাকলেও মাসিক সম্মানী নেন না গোলাপ বানু। সমিতির কর্মকর্তারা জানালেন, সপ্তাহে মাত্র দুদিন ৫০০ টাকা করে মোট এক হাজার টাকা সম্মানী দেওয়া হয় তাঁকে। এর বাইরে সমিতির পরিচালনা পর্ষদের সভা হলে তাতে উপস্থিতির জন্য পান ৫০০ টাকা। আর ব্যক্তিগতভাবে মুঠোফোন ব্যবহার করেন না বলে যোগাযোগের জন্য তাঁর বাড়ির মুঠোফোনে ৫০০ টাকা দেওয়া হয়। গোলাপ বানু বলেন, ‘সমিতির টাকাগুলো অভাবী নারীদের সঞ্চয়। আমি তার হেফাজতকারী। বিশ্বাস ও সম্মান করে সদস্যরা আমাকে এ দায়িত্বে বসিয়েছেন। এ সম্মানের জন্য তো আমি কোনো অর্থ নিতে পারি না।’ তিনি জানালেন, সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে বাবার দেওয়া জায়গার ওপর তিনতলা বাড়ি করেছেন। ভাড়া দিয়ে তা থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকার মতো পান। তা দিয়েই চলে সংসার।
সমিতিতেই নিজের ছেলেকে চাকরি দেওয়ার সুযোগ আছে গোলাপ বানুর। সেটি করছেন না কেন? জানতে চাইলে তাঁর সরল জবাব, ‘সেটি কখনোই করব না। আমি তো মা। ছেলেকে নিজের সমিতিতে চাকরি দেওয়ার পর ছেলে যদি কোনো অপরাধ করে, তাহলে তার বিচার করব কীভাবে? যদি ছেলের সঠিক বিচার করতে না পারি তাহলে আমার সম্পর্কে সদস্যদের ধারণা নষ্ট হবে, সমিতির ক্ষতি হবে। আমাকে যে সম্মান সদস্যরা দিয়েছেন, সেটির অমর্যাদা করতে চাই না।’
স্বীকৃতি: বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতি ২০০২ ও ২০০৯ সালে সরকারিভাবে শ্রেষ্ঠ মহিলা সমবায় সমিতি নির্বাচিত হয়। আর গোলাপ বানু ২০১০ সালে জাতীয়ভাবে শ্রেষ্ঠ সমবায়ী নির্বাচিত হন। এ ছাড়া দেশ-বিদেশে একাধিক পুরস্কার পেয়েছে এই সমিতি।
নতুন স্বপ্ন: সমিতির সদস্যদের জন্য একটি বৃদ্ধাশ্রম আর সন্তানদের জন্য একটি স্কুল গড়ার স্বপ্ন দেখেন গোলাপ বানু। কিন্তু সমিতির আওতাভুক্ত এলাকায় এমন জায়গা পাওয়া কঠিন। তাই এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন নিয়ে দুশ্চিন্তাও রয়েছে তাঁর। সরকারের সহায়তা চান কি না, জবাবে গোলাপ বানু বললেন, ‘সরকারের কাছে চাইলে হয়তো কিছু জমির ব্যবস্থা হবে। সে জন্য হয়তো কাউকে উচ্ছেদ করা হবে। আমি তো কারও কপালে লাথি মেরে আমার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই না।’
গোলাপ বানুর জীবনের জয়গান প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বললেন, শুধু স্বপ্ন দিয়ে তিনি আজকের অবস্থানে আসতে পারতেন না, যদি কাজ ও উদ্যমকে স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত করতে না পারতেন। কিন্তু গোলাপ বানু সেটি পেরেছেন, তাই তিনি বিজয়ী।

মুল সংবাদ : প্রথম আলো
লিংক : http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/408478/
*উদ্যোক্তা* *সফলনারী* *নারী* *নেতৃত্ব* *সমবায়*
খবর

ফাহিম মাশরুর: একটি খবর জানাচ্ছে

দক্ষ নেতৃত্বের ৭টি প্রয়োজনীয় গুন
http://www.inc.com/peter-economy/7-daily-habits-of-exceptionally-productive-leaders.html?cid=sf01002
দক্ষ নেতৃত্বের ৭টি প্রয়োজনীয় গুন ...বিস্তারিত
*দক্ষতা* *নেতৃত্ব* *লাইফস্টাইলটিপস*
২০৫ বার দেখা হয়েছে

সীমান্ত নাঈম: একজন নেতার মধ্যে সবার আগে বিশ্বস্ততা থাকতে হবে। থাকতে হবে যোগাযোগ ধরে রাখার মানসিকতা। থাকতে হবে সকল স্তরের মানুষের সাখে মিশতে পারার মানসিকতাও। এবং সবার কথা ভেবে সবার পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার যোগ্যতা। *নেতৃত্ব*

*নেতৃত্ব*

মো: ওয়াহিদ মুরাদ : *নেতৃত্ব* আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে , নইলে মোরা রাজার সনে মিলবো কি শর্তে । আমারা সবাই রাজা .......

তাজাল্লিনূর সিদ্দিকা: *নেতৃত্ব* তার একমাত্র গুণাবলী থাকা উচিৎ হল দেশকে ভালোবাসা। একমাত্র দেশকে ভালবাসলে বাকি সব গুণাবলী এমনিতেই চলে আসবে।

জোকস

এ. আর. খান: একটি জোকস পোস্ট করেছে

এক নেতা ভাষণ দিল: নির্ব্বাআআআচিত হলে আাআআমি এই এলাকায়....আআআআপনাদের বহুদিনের দাবি...নৈশ কলেজ স্থাপন করে দিব!!(ভাষণ)(ভাষণ)(ভাষণ) (তালি)(তালি)(তালি) অপজিশন পার্টির নেতার চ্যালা এই শুনে গিয়ে নেতাকে সঅঅঅব বলল(চুপ২) ঐ নেতা ভাষণ দিল: নির্ব্বাআআআচিত হলে আাআআমি এই এলাকায়....আআআআপনাদের বহুদিনের দাবি...ইয়েএএএক হাজার(১০০০) কলেজ স্থাপন করে দিব!!(ভাষণ)(ভাষণ)(ভাষণ) (ব্যাপকটেনশনেআসি)(খুশী২)(খিকখিক)(হাসি-৩) (তালি)(তালি)(তালি)
*নেতৃত্ব*

হাফিজ উল্লাহ: নেতৃত্ব একটি শিল্প। পৃথিবীতে এই শিল্পের কুশলীর অভাব প্রচণ্ড। নেতৃত্বের সংকটে একটি জাতি ধ্বংসের মুখোমুখি হয়। প্রকৃত নেতৃত্ব তখনই গড়ে ওঠে যখন কতগুলো নির্দিষ্ট বিষয় একযোগে কাজ করে এবং সফলতা অর্জিত হয়। নেতৃত্বগুণ গড়তে চাইলে ৮টি বিষয় নিবিড়ভাবে মেনে চলতে হবে: ১. প্লাটফর্ম নয় মানুষই হলো নেতৃত্বের মূল, ২. চিন্তার সীমাবদ্ধতা নয়, প্রয়োজন উদ্ভাবন,

*নেতৃত্ব*

রানা মাসুদ: *নেতৃত্ব* ব্যাক্তিগত তথা দলীয় স্বার্থ ত্যাগ করে দেশের আপামর সাধারণ জনগণের ভালো চাইতে পারা একজন দক্ষ নেতা হওয়ার জন্য অবশ্যই দরকার। নেতাকে অবশ্যই শিক্ষিত, রুচিবান, নিরোগ এবং উদার মানসিকতা সম্পন্ন হতে হবে।ভাল নেতা হতে হলে তাকে অবশ্যই সৎ হতে হবে।(চিন্তাকরি)

নির্বান্ধব: *নেতৃত্ব* নেতা হতে হয় জনগনের মন জয় করে কারো সন্তান বা বউ হয়ে নয়

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★