প্রজন্ম

প্রজন্ম নিয়ে কি ভাবছো?

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

এ প্রজন্ম জানে না মধ্য ফেব্রুয়ারীর ইতিহাস।১৯৮৩ সালের ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারী কি ঘটেছিল? ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি না এলে সামরিকতন্ত্র ও স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে উঠতো না। আজ সেই রক্তঝরা দিন।

১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ছিলো স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্রদের প্রতিরোধ আন্দোলন ও মজিদ খানের কুখ্যাত শিক্ষানীতি প্রত্যাহার, বন্দী মুক্তি ও জনগণের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে জমায়েত ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে। সেটাই পরিণত হয়েছিল বুট ও বুলেটের দমনে পিষ্ট ছাত্র জনতার প্রথম বিরাট প্রতিরোধে। কে জানত বসন্তের আগুনরাঙা রঙের সঙ্গে মিশে যাবে ছাত্রদের রক্ত !স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্রদের প্রতিরোধ আন্দোলনে প্রথম শহীদের নাম জয়নাল,দিপালী সাহা ,কাঞ্চন । সেদিন স্বৈরাচারের দোসর পুলিশ জয়নালকে গুলিবিদ্ধ করেই ক্ষান্ত হয়নি, তাঁর শরীর বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। বেয়নেট ফলা আর জয়নালের শরীর থেকে চুইয়েপড়া রক্ত বাংলার পথ-প্রান্তর ভাসিয়ে দেয়। শুধু জয়নাল নয়, ছাত্রদের ওপর পুলিশি তাণ্ডবের সময় শিশু একাডেমীতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা দিপালী সাহা নামের এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। তবে দিপালীর লাশ পুলিশ গুম করে ফেলে।পুলিশ সেদিন শুধু হত্যা করেই স্থির থাকেনি, বিকেলে ক্যাম্পাসে একটি যুদ্ধ-পরিস্থিতি তৈরি করে সেনাবাহিনী। তার সঙ্গে যোগ দেয় বিডিআর-পুলিশ। শাহবাগ, টিএসসি চত্বর, কলাভবনের সামনে, নীলক্ষেত, কাঁটাবনের রাস্তা ধরে পুরো অঞ্চল ঘেরাও করে ফেলে তারা। অপরাজেয় বাংলার সমাবেশে পুলিশ অতর্কিত লাঠিচার্জ শুরু করে এবং বহু ছাত্রনেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।ভিসি কার্যালয়ে ঢুকে পুলিশ ছাত্রছাত্রীদের মেরে হাত-পা ভেঙে ট্রাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে তৎকালীন ভিসি পদত্যাগ করেন। গ্রেপ্তার করে দুই হাজার ছাত্র-জনতাকে। গ্রেপ্তার করে নেয়া হয় শাহবাগের পুলিশ কন্ট্রোল রুমে। পরে তাঁদের তুলে দেওয়া হয় আর্মির হাতে। বন্দি ছাত্র-জনতার ওপর চলে প্রথমে পুলিশ ও পরে আর্মির নিষ্ঠুর নির্যাতন।১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী কাঞ্চন চট্টগ্রাম শহরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।১৯৮৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি শহীদ হন রাউফুন বসুনিয়া। এরপর থেকেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠে।পশ্চিম থেকে আগত ভ্যালেন্টাইনের জোয়ারে ভেসে গেছে রক্তের অক্ষরে লেখা শহীদদের নাম।

এ প্রজন্ম ভুলে যাচ্ছে সেই সব শহীদের কথা। কি দূর্ভাগ্য অামাদের!

*ইতিহাস* *ভ্যালেন্টাইন* *প্রজন্ম*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ তরুণ-তরুণী পর্ণোসাইটের প্রতি আসক্ত। অথচ এ ব্যাপারে অধিকাংশ অভিভাবক অসচেতন। এমনকি অনেক অভিভাবক ইন্টারনেট সম্পর্কে কোন ধারণা-ই রাখেন না। আবার অনেক অভিভাবক এমন রয়েছেন, যারা প্রতিমাসে সন্তানের ইন্টারনেট বিল পরিশোধ করতে পেরে গর্ববোধ করেন। অথচ সন্তানের পড়ালেখা ও খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে যতটা খোজ খবর রাখেন, সন্তানের নীতি-নৈতিকতা নিয়ে ততটা পেরেশানি বোধ করেন না। ইন্টারনেটের ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা আর্টিকেল লিখেছিল। এখন অবশ্য সাংবাদিকরাও হাল ছেড়ে দিয়েছেন। নামকাওয়াস্তে “পর্নোগ্রাফী নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২” নামে একটি আইন তৈরী করা হয়েছিল। কিন্তু তার বাস্তব প্রয়োগ এখনো পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়নি। তবে সাম্প্রতিকালে ৫৬০টি পর্নসাইট ব্লক করা সরকারের বড় একটি পদক্ষেপ। কিন্তু অসংখ্য পর্ণোসাইট এখনো অবাধে প্রদর্শিত হচ্ছে। ফলে যুব সমাজ যেমন চারিত্রিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে তেমনি আইনী শিথিলতার সুযোগে সিনেমা পরিচালকেরা ইচ্ছামত “এডাল্ট” চলচিত্র নির্মাণ করছে। এক টিকেটে দুই ছবির নামে প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষ অবাধে “নীলছবি” প্রদর্শন করছে। ২/৩ ঘন্টা এমন সিনেমা দেখে উত্তেজিত হয়ে পর্নো দেখতে আগ্রহী হয়ে পড়ছে।

একজন ছাত্র খুব সহজেই ইন্টারনেট ব্রাউজ করে পর্নোসাইট ভিজিট করতে পারছে। ইচ্ছেমত পর্নো ভিডিও ডাউনলোড করছে। বিশেষ করে উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা এসব অনৈতিকতায় বিরামহীন নেশায় মগ্ন হয়ে পড়ছে। মাত্রাতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যাবহারের ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে অসামাজিক ও সহিংস আচরণ, এমনকি মানসিক রোগের আশংকাও রয়েছে। এ বর্ণিল ফাঁদে পা দিচ্ছে হাজারো কোমলমতি শিশু-কিশোর। বিগত বছরের পহেলা অক্টোবর ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ নামে একটি বেসরকারী সংস্থা তাদের জরিপে বলেছে- রাজধানীর শতকরা ৭৭ জন স্কুলগামী শিশু পর্নো আসক্ত।

এই মহামারী চারিত্রিক বিপর্যয় গোটা যুবসমাজকে অন্তঃসারশুন্যতা, চরিত্রহীনতা ও মানসিক বেকারগ্রস্ততা আচ্ছন্ন করে ফেলবে। অতেএব এখনি কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আগামী প্রজন্ম ভয়াবহ সমস্যার সম্মুখীন হবে। এ জন্য সরকারীভাবে সকল পর্নোসাইট বন্ধ এবং এ ব্যপারে কঠোর নীতিমালা তৈরী করতে হবে।

*পর্ন* *আসক্তি* *সমাজ* *বাস্তবতা* *প্রজন্ম*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

গতকাল বিকেলে আমার ছাত্র অন্তিম কে পড়াচ্ছি এমন সময় বন্ধু নাজির আসলো।
অন্তিমের cute গাল টেনে নাজির জিজ্ঞেস করলোঃ- তুমি কোথায় পড়?
অন্তিমের উত্তরঃ- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে
নাজির একটু শুধরে দিয়ে বললঃ- বাবু বিশ্ববিদ্যালয় নয়,বল যে তুমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজে পড়।
অন্তিকের আবেগি counter উত্তরঃ- নাহ! আমার তো কোটা আছে...।(উল্লেখ্য- অন্তিকের বাবা জাবির একজন কর্মকর্তা সে অনুসারে)
যাহোক class-4 এ পড়ুয়া ছাত্রের মুখ থেকে এমন পাখনা উত্তর শুনে নাজির মৃদু হেসে চলে গেলেও আমি একটু বিরক্তির সুরেই বললাম; অন্তিক পড়ায় মন দাও। ভাবলাম,কোটা system অন্তিককেও এর power বুঝিয়ে ফেলেছে।
.
.
কিছুক্ষণ পর; অন্তিককে নৈতিক শিক্ষা বিষয়টি পড়াতে গিয়ে সাম্য ও সৌহার্দ্য অধ্যায় বোঝাতে জিজ্ঞেস করলাম- বলতো পৃথিবীর কোন স্থানে মানুষ পরস্পরের ভেদাভেদ ভুলে যায়, এমনকি এক সাথে দাড়াতে বা বসতে কোন দ্বিধা করে না? আমি আশা করেছিলাম কোন ধর্মালয়ের(মসজিদ,মন্দির,গির্জা ইত্যাদির) নাম বলবে।কিন্তু না—
অন্তিকের উত্তরঃ- গুলিশ্তান- ধামরাই বাস (উল্লেখ্যঃ এটি সাভার- ঢাকা রোডের আপামর জনতার বাস)
তার উত্তর শুধু আমাকে অবাকই করলো না আমায় ভাবতে বাধ্য করলো।সত্যিই আমি নিজেও কখন এভাবে চিন্তা করিনি।আসলে ওর বয়সে আমি বোধয় এমন উত্তর করে কাউকে surprise করতে পারিনি।
-
-
যাহোক, বর্তমান উদ্ভাবনী বিশ্বে আমাদের নতুন প্রজন্মরাও যে সব কিছুর সাথে তাল মিলিয়ে এবং তাদের সৃজনশীলতার আলো ছড়িয়ে চলছে সেটি সত্য। তবে কোটা নামের ক্যানসার আর প্রশ্নপত্র ফাঁস করে প্রশ্ন নামের বিষ গলায় দিয়ে- A+ আর পাশের হার বাড়িয়ে অন্তিকদের মেধার বারোটা আর আমার দেশের ছাব্বিশটা যেন আমরা শিক্ষকরা বা সরকাররা না বাজাই সেটা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না!
[বি দ্রঃ অন্তিকদের পাশ,ফেল কিংবা বখে যাওয়া বা কর্মহীন বেকার হওয়া আমাদের(জনগন=সরকার) কর্মের উপর নির্ভর করে।

উল্লেখ্য, লেখাটির প্রথম প্রকাশঃ ২৯ মার্চ ২০১৫

*প্রজন্ম* *কোঠা* *জ্ঞ্যান* *বাস্তবতা* *সমস্যা* *জাতী*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

আমরা যারা "90's Kid [ মোটামুটি যাদের জন্ম ১৯৮৮ থেকে ১৯৯২ এর মধ্যে] আমরা হচ্ছি পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান প্রজন্ম। আমি প্রায়ই অবশ্য আমাদেরকে 'গত প্রজন্মের শেষ বংশধর' বলে থাকি। পৃথিবীর বিশাল বিশাল অগ্রগতিগুলোর চাক্ষুস সাক্ষী আমরা।
আমাদের ঘরে মায়ের হাতে বানানো হাতপাখা ছিলো। মেলা থেকে কেনা রঙ্গিন তালপাতার পাখাও ছিলো। আমাদের প্রিয় চকলেটের নাম -মিমি চকলেট। লজেন্স বলতে নীল রঙের পলিথিনে মোড়ানো নাবিস্কো লজেন্স। ১ টাকায় চারটি পাওয়া যেত। পঞ্চাশ পয়সা করে যেগুলোর দাম ছিলো সেগুলোর স্বাদ ছিলো ঝাল। ডোরাকাটা কালো পলিথিনে মোড়ানো থাকতো।

 


ছবিঃ গোল্লাছুট খেলার একটি দৃশ্য

আমাদের শৈশবে আমাদের প্রিয় খেলা ছিলো গোল্লাছুট, দায়রাবন্দে আর কাঁনামাছি। আমাদের বড় হওয়ার সাথে সাথে বড় হয়েছে টেকনোলজি। পৃথিবীতে 'Technology revolution'-এর সবচেয়ে বড় সাক্ষী আমাদের প্রজন্ম। তখনো কম্পিউটার গেমস আসেনি... জন্মদিনে আমাদের সবচেয়ে উপহার হতো ভিডিও গেমস। প্রিন্স হয়ে ড্রাগনকে মারতে পারাই তখন জীবনের ব্রত হয়ে দাড়াতো।
আমাদের শৈশবটা সাদাকালো নিপপন টিভি'র সাথে এন্টেনা ঘুরিয়ে কেটেছে। অনুষ্ঠান যাইহোক টিভি পেলেই সামনে বসে পরতাম। লুকাস ব্যাটারি তখন শুধু গাড়ির ব্যাটারি ছিলোনা। রাত আটটার বাংলা সংবাদ দেখার জন্যে আব্বার জন্যে ব্যাটারীতে চার্জ রাখতে হতো। তারপর বিটিভি'র সাথে ইটিভি পেয়ে যেন মনে হলো - পরিবারে নতুন কোন সদস্য এসেছে! শুক্রবার তিনটা বিশে দেখানো বাংলা মুভির জন্যে কত শুক্রবার যে দুপুরের ঘুমকে হারাম করে বকা শুনেছি হিসেব নেই। ছবির প্রেম রোমান্স না বুঝলেও শেষ দৃশ্যে যে একটা 'লাস্ট মাইর' থাকতো এটার জন্যেই ছিলোই অধির আগ্রহে বসে থাকা। সব সময় নায়কের পক্ষে থাকতাম। আর নায়কেরাও হতাশ করতো না...সকল মুভিতেই 'তামা পাহাড়ে চলে আয়' টাইপের একটা দৃশ্য থাকতো এবং নায়কই জিততো।

 


ছবিঃ নায়ক আবদুল খায়ের জসিম উদ্দিন ছিলেন তখনকার একমাত্র একশন হিরো

পুরো এলাকা জুড়ে তখন শুধু একটা রঙ্গিন টিভি থাকতো- যাদেরকে আমরা বনিয়াদি ঘর বলতাম! তাদের পরিবারের একজন সদস্য নিশ্চিত ভাবে বিদেশে থাকবে।
আমাদের প্রত্যেকের বাসায় টেলিভিশন থাকুক আর না থাকুক প্রতেকের বাসায় অন্তত একটা করে রেডিও থাকতো। ঢাকা ক বা খ'র তিব্বত ঘামাচি পাউডার অনুরোধের আসরের দ্বরাজ গলার উপস্থাপকের কণ্ঠ শুনার জন্যে প্রতিদিন অপেক্ষা করতাম। 'হক ব্যাটারি হক ব্যাটারি- সাতশ ছিয়াশি' কিংবা 'আলো আলো বেশী আলো, শব্দে শব্দে মন মাতালো'র বিজ্ঞাপন শুনে আমাদের মন মাততো। আমাদের স্কুল ব্যাগে কাঠের রংপেন্সিলের সাথে সানলাইটের নষ্ট ব্যাটারিগুলোও থাকতো।

 

 

আমাদের শৈশবের নায়ক বলতে মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, আকরাম খান কিংবা হাসিবুল হোসাইন শান্ত। ৯৯ এর বিশ্বকাপে পত্রিকায় ছাপানো ১৮ জনের স্কোয়াডকে পত্রিকা থেকে কেটে পড়ার টিবেলি আঠা দিয়ে লাগিয়ে রেখেছিলাম। ওনাদেরকে একদিন বাস্তবে দেখার স্বপ্ন দেখতাম প্রতিনিয়ত। হারলে কেঁদে দিতাম... পাকিস্তানের সাথে জিতার পর না বুঝেই কেঁদে দিছিলাম।


ছবিঃ বিশ্বকাপ স্কোয়াড ১৯৯৯ইংরেজি

দু'হাজারের দিকে গ্রামীন ফোন আসলো। বাসায় একটা মোবাইল আসলো। জিরো ওয়ান সেভেন সিরিজের। তখন একঘরের মধ্যে পাঁচটা মোবাইল ছিলোনা...বরং পাঁচ ঘর মিলে ছিলো একটা টেলিফোন নাম্বার। বাবা-মা'রা নিজের ঘরে টিএন্ডটি নাম্বার না থাকলে বাচ্চাদেরকে আশে-পাশের কারো বাড়ির নাম্বার মুখস্ত করাতো। যেন বাচ্চা হারিয়ে গেলে খুঁজে পাওয়া যায় সহজেই।
তখনো কোন প্রিয়ার সাথে দেখা না পেলেও আসিফের 'ও প্রিয়া তুমি কোথায়' এলবামের সবগুলা গান মুখস্ত ছিলো। ঘরে ঘরে ক্যাসেট প্লেয়ার ছিলো। আঙ্গুল কিংবা পেন্সিল দিয়ে এলবামের ফিতা ঘুরিয়ে একই গান বারবার শোনার প্রচলন ছিলো। বিদেশীর বউ'রা জামাইয়ের কাছে ফিতাওয়ালা ক্যাসেডের রেকর্ড করে পাঠাতো।

 


ছবিঃ ক্যাসেড প্লেয়ার

২০০২ সালের দিক ঘরে কম্পিউটার আসলো। বন্ধুরা বিকেলে বাসায় চলে আসতো গেইম খেলতে। Dx Ball 2 , Road Rash কিংবা হাউজ অব ডেড ছিলো সবচেয়ে জনপ্রিয় গেইম। স্কুল ফাঁকি দিয়ে ভিডিও গেইমের দোকানে খেলার কথা আর নাই'বা বলি। ভিডিও গেইমসের দোকানে ধরা পরে বাসায় বকুনি খাইনি এমন ছেলে খুঁজে পাওয়া প্রায় দুষ্কর।


ছবিঃ রোডর‍্যাশ গেইমসের এই ছবি আপনাকে নস্টালজিক হবেন নিশ্চিত

তারপর আমরা আরেকটু বড় হলাম! হটাৎ করে পৃথিবীর যেন কি হলো। সবকিছু দ্রুত বদলাতে থাকলো। এতো দ্রুত বদলালো যে আমাদের আবেগের জায়গা বলে কিছু আছে এমনটা খুঁজে পেতেই কষ্ট হয়ে যায়। তারপরও আমরা ভাগ্যবান যে আমরা দুইটা প্রজন্মকেই একসাথে দেখেছি। সাদাকালো পাঞ্জাবি পরা প্রজন্ম এবং 'ইয়ো ইয়ো' টাইপের মাল্টিকালারের প্রজন্ম।
আমরা "90's kid...আমাদের পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান প্রজন্ম and we proud to be a 90's kid।

*প্রজন্ম* *৯০* *বাচ্চা* *বাস্তবতা* *ভাগ্যবান* *গর্বিত* *সংগৃহীত*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

'স্বাধীনতা এবং ভাষা আন্দোলন নিয়ে নতুন প্রজন্ম কতটুকু জানে'- এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরী এবং প্রদর্শন করলো 'ডিজাইন বাংলাদেশ' নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
খুব দুঃখ পেলাম! যখন দেখলাম নতুন প্রজন্ম ভালবাসা দিবসটাকে খুব ভাল করে চেনে। কিন্তু চেনেনা আমাদের ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা এবং ঐতিহাসিক দিবসগুলো। জানেনা আমাদের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ এবং ভাষাশহীদদের নাম। উল্লেখ করতে দ্বিধাবোধ করি, তাদের ঐ প্রতিবেদনে কয়েকজন শিক্ষক মহোদয়ও সঠিকভাবে বলতে পারলেন না এসব বিষয়ে। এমন মহৎ অথচ খুদ্র বিষয়গুলো জানার অথবা মনে রাখার জ্ঞানটুকু কি তাদের নেই? অবশ্যই আছে। তবে কি তারা কিছুই জানে না? জানে, তারা অনেক কিছুই জানে। তাহলে কেন এই উদাসীনতা?
=> হতে পারে আমাদের হীন রাজনৈতিক বাড়াবাড়িতে মানুষের মনে এসব বিষয়ে এক ধরণের অবজ্ঞা অথবা অবহেলার জন্ম দিয়েছে।
=> হতে পারে বিদেশী শিক্ষা এবং সংস্কৃতির ক্ষতিকর প্রভাব।
=> হতে পারে আরো অনেক কিছু ।

যাই হোক না কেন, এসব বিষয়ে আমাদের অবহেলা নয় বরং দলমত নির্বিশেষে শ্রদ্ধা এবং মন থেকে আমরা তাঁদের স্মরণ করতে পারি, মনে রাখতে পারি আমাদের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যগুলো। তাহলে আমরা যেখানে এবং যেভাবেই থাকিনা কেন আমাদের মুল্য বাড়বে বই কমবেনা। আসুন অবনত চিত্তে আমরা স্মরণ করি তাঁদের- যাঁরা আমাদের জন্য আত্মত্যাগ করে গেলেন, নিজের জীবন দিয়ে যাঁরা আমাদের জন্য রেখে গেলেন একটি স্বাধীন ভূখন্ড এবং একটি পতাকা।
*স্বাধীনতা* *ভাষাআন্দলন* *প্রজন্ম*
*ভাষাআন্দলন* *প্রজন্ম*

অর্ঘ্য কাব্যিক শূন্য: একটি বেশব্লগ লিখেছে

[ বেশ আগের লেখা ]

প্রজন্ম, তুমি খুব অদ্ভুত !


তোমরা সবাই নায়ক হতে চাও। এমনকি আমার পাড়ার মোখলেসও নিজেকে আয়নার সামনে দাঁড়ালে টালিউডের হিরো প্রসেনজিৎ ভাবে।
নায়ক হওয়া এখন অনেক সহজ...... অনেক...... প্রযুক্তি এখন রেডিমেড নায়ক বানায় !
হাজার ফলোয়ার আর কয়েকশত লাইকের অধিকারী ছেলেটা নিজেকে নায়ক ভাবে, তৃপ্তিতে মন ভরে যায়।
মানব বন্ধনে যেয়ে সেলফি না তুললে কেমন দেখায় !
কি পোস্ট দিবে সে ফেসবুকে ?

প্রজন্ম, তুমি খুব অদ্ভুত !

মধ্যবিত্ত পিতার পকেটের দিকে থোড়াই কেয়ার করে একটা বাইক না হয় কিনেইছো !
বাইকের সাথে ছবি দিলে ইজ্জত বাড়ে ফেসবুকে...... নায়ক লাগে নিজেকে !
আহা ! নায়ক ! ডি এস এল আর দামী ক্যামেরা থাকলে তুমি মেয়েদের চোখের মধ্যমনি !
তুমি নায়ক !
প্রজন্ম তুমি নায়ক !

এসো প্রজন্ম, তোমাদের নায়ক দেখাই......

ছোট্ট ছেলেটা যে বয়সে ফুটবল হাতে ঘুরে বেড়ানোর কথা সেই বয়সে মুট কাঁধে নিয়েছে......
যেন পুরো পৃথিবীর ভারটাই তার কাঁধে...... এই ছেলেটাই নায়ক......
ক্লান্ত শরীরে প্রতিদিন অফিস থেকে সম্মান নিয়ে কোনরকমে জীবন ধারন করা প্রতিটি বাবাই নায়ক......
প্রতিটি দিন ভয়ানক অসুখের সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকা লোকগুলোই নায়ক......
মানুষের কষ্ট দেখে ছলছলে চোখে পৃথিবী দেখা সেই সাদা মনের মানুষটিই নায়ক......
বুক আগলে রেখে ভালোবাসতে পারা প্রতিটি মানুষই নায়ক...... এরাই সেলিব্রিটি......
শত শত লাইক নেই এদের...... চেতনার ব্যবসা এরা করে না...... তবু এই মানুষগুলোই পৃথিবীর অলঙ্কার......
তোমার লোক দেখানো মুখ চোখ বাঁকা করা সেলফির রাজ্যে হয়ত মানুষগুলো বড্ড বেমানান......

তবু জেনে রেখো...... পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষগুলোর রাজ্যটা মানুষের হৃদয়......
নীল পাড়ের সাদা ক্যানভাসের ফেসবুক নয়...... ! ! !


*প্রজন্ম* *অন্তঃসারশূন্যতা* *জীবনভাবনা*

নাহিয়ান সেজান: ইদানিং টিভিতে মোবাইলফোনের মজার একটা অ্যাড দেখছি যতবারি দেখছি ততবারি অনেক মজা পাচ্ছি! অ্যাডটায় দেখায় বাচ্চাটা ক্লিনিকে জন্মানোর পরই ওর বাবার হাত থেকে মোবাইল নিয়ে গুগোলে সার্চ দেয় কি করে নারি কাটতে হয় তারপর ও নিজেই নিজের নারি কেটে ফেলে এবং নার্সের সাথে ছবি তুলে ফেবু আইডি খুলে ফেলে! (মামাকিদেখলাম) যুগে যুগে আর কত্ত কি যে দেখুম কেডায় জানে! (বেইলনাই)

*প্রজন্ম* *মোবাইল* *ইন্টারনেট*

মারগুব: পোস্টটি শেয়ার করেছে "এই সরকার গতবার জন মেজরের কাছে আমাদের গ্যাস বেচলো যা কিনা পেট্রোবাংলাই উত্তোলন করতে পারত | দেশকে বেঁচার এই প্রবণতা আগেও দেখেছি | তরুণ *প্রজন্ম* কে এর প্রতিবাদে এগিয়ে আসতে হবে "

আলভিরা আমায়া: জাতীয় কমিটির আহবানে সমাবেশ ও মিছিল। ১৪ মে ২০১৩। বিকাল ৪টা। প্রেসক্লাবের সামনে। যোগ দিন,,,,,,- সুন্দরবন ধ্বংস করে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প চাই না। - বঙ্গোপসাগরের গ্যাস সম্পদ হরিলুটের নকশা ‘পিএসসি ২০১২’ বাতিল কর..........

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★