প্রশাধনী

প্রশাধনী নিয়ে কি ভাবছো?

শপাহলিক: একটি বেশব্লগ লিখেছে

শীতের প্রসাধনী কিনতে ক্লিক করুনপ্রকৃতিতে শীতের আমেজ বেশ ভাল ভাবেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শীতের এই সময়টাতে বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকায় ত্বকের এপিডার্মাল লেয়ার থেকে আর্দ্র ভাব কমে যায়। যার ফলে শীতকালে আমাদের ত্বক সহজেই শুষ্ক হয়ে যায়। শীতে শুষ্ক ত্বক আর্দ্রতা হারানোর ফলে হাত-পা ও ঠোট সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ফাটা ভাব লক্ষ্য করা যায়।  তাই এ সময় ত্বকের চাই বাড়তি যত্ন। শীতে আপনার ত্বকের শুষ্কতা থেকে রক্ষার জন্য নিচের প্রশাধনীগুলো ব্যবহার করুন। এগুলো আপনার শুষ্ক ত্বককে কোমল করে তুলবে।
 
 
ময়শ্চারাইজিং ক্রিম
এই শীতে আপনার শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বককে কোমল ও মসৃন করতে ময়শ্চারাইজিং ক্রিম  ব্যবহার করতে পারেন।  ময়শ্চারাইজিং ক্রিমচামড়া স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ময়শ্চারাইজার শুধু আপনার ত্বককে কোমলই করে না বরং লাবণ্যময় ও উজ্জ্বল করে।
 
 
ভ্যাসলিন লিপ থেরাপী
ভ্যাসলিন ঠোঁটের জন্য খুব ভালো এক্সফলিয়েটর হিসেবে কাজ করে। নরম ও সুন্দর ঠোঁট পেতে ঠোঁটে ভ্যাসলিন লাগিয়ে নিন। এটি কোকোয়া বাটার ও ভিটামিন ই সমৃদ্ধ পেট্রোলিয়াম জেলী যা ঠোটের কোমলতা রক্ষায় খুবই কার্যকর।
 
 
বডি লোশন
বডি লোশন শরীরের উপরি ভাগে পাতলা আবরণ তৈরি করে যাতে শরীরের ভেতরের পানি তাড়াতাড়ি শুকিয়ে না যায়। যা শুষ্ক দিনগুলোর এবং শুষ্ক ত্বকের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তাই শীত ছাড়াও ব্যবহার করতে পারেন বডি লোশন। এটি ত্বকের দাগ দূর করতে সাহায্য করে। এটা ত্বকের উজ্বলতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি করে। 
 
 
লাভ লিপ বাম
লিপ বাম আমরা কম বেশি সবাই ব্যবহার করি, তাই সবাই নিশ্চয়ই এই নামটির সাথে পরিচিত। শীতকালে তো বটেই, অনেকেই আছে যারা সারা বছরই লিপ বাম ব্যবহার করে অভ্যস্ত। লিপ বাম ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে বিশেষ ভাবে সহায়তা করে, কেননা সেই ভাবেই এটি তৈরি। আজকাল বিভিন্ন ফ্লেভার ও ঠোঁটের ভিন্নতার উপর নির্ভর করেও লিপ বাম তৈরি হচ্ছে।
 
 
ভিটামিন ই ক্রিম
ভিটামিন ই ত্বকের আর্দতা বজায় রাখার পাশাপাশি ত্বকে পুষ্টি যোগায়। সুতরাং এই শীতে ত্বকের পরিপূর্ণ সুরক্ষার জন্য ভিটামিন ই সমৃদ্ধ ক্রিম ব্যবহার করুন। 
 
এছাড়াও শীতে ত্বকের যত্নের যব প্রোডাক্ট দেখতে  এখানে ক্লিক করুন
*শীতেত্বকেরযত্ন* *ত্বকেরযত্ন* *প্রশাধনী* *শপিং* *কেনাকাটা* *স্মার্টশপিং*

শপাহলিক: একটি বেশব্লগ লিখেছে

শীতের এই সময়টাতে ধুলোবালির পরিমান এমনিতেই বেড়ে যায়। সেই সাথে সারা দিনের ব্যস্ততা আর অবহেলায় ত্বকে জম্মের ধুলোবালি জমে যায়। ফলে ত্বকে ব্রণ ও ব্লাকহেডস সহ নানান সমস্যা দেখা দেয়। আর ধুলোবালি থেকে আপনি যত দূরেই থাকতে চান না কেন, ঘুরে-ফিরে তা আপনার কাছে আসবেই।যেহেতু ছেলেরা ত্বকের যত্নে মেয়েদের মত এতো বেশি তৎপর নয়। এ কারণে ছেলেদের পক্ষে সব সময় ত্বক ভালো রাখা অনেক কঠিন একটি কাজ? কিন্তু ত্বকের যত্নে কোন রকম অবহেলা কাম্য নয়। ত্বক ভালো রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত ত্বকের যত্ন নেয়া। তাই বাইরে থেকে ফিরে একটি ভালো মানের ফেসওয়াশ দিয়ে মুখের ত্বক পরিষ্কার করা উচিত।
 
ফেসওয়াশ ব্যবহারে মুখের ত্বকের ধুলাবালি পরিষ্কার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের ব্রণের আশংকা যেমন কমে, তেমনি ত্বক স্বাভাবিক লাবণ্যময়তা ধরে রাখে। কিন্তু নানান ধরনের ফেসওয়াশ গুলোর মধ্যে কোনগুলো আপনি বেছে নিবেন? কোথায় থেকে কিনবেন? চলনু আপনাকে একটু হেল্প করি। 
 
গার্নিয়ারঃ 
আমাদের দেশে প্রচলিত কসমেটিক্স গুলোর মধ্যে সর্বাধিক ব্যবহৃত একটি ফেসওয়াশের নাম গার্নিয়ার ম্যান। কসমেট্রিকস জগতে এটির বেশ করদ রয়েছে। মুখের ব্রুণ ও কাল দাগ দূর করতে গার্নিয়ার ফেসওয়াশ সব চেয়ে কার্যকর। 
 
গার্নিয়ারের একটি ফেসওয়াশঃ
নামঃ GARNIER MEN OIL CLEAR ফেস ওয়াশ
এটির বৈশিষ্ঠ্য-
-Garnier Men Oil Clear ফেস ওয়াশ আপনার ত্বকের ময়লা সহজেই পরিষ্কার করবে।
-ত্বকের তেল দূর করবে।
-ত্বককে কোমল রাখবে।
-তত্বককে করবে প্রানবন্ত ও আরো মসৃণ।
-সবধরনের ত্বকে এটি সহজেই খাপ খেয়ে যায়।
-ওজন ১০০ গ্রাম
-দাম ৩৫০ টাকা
 
 
হিমালয়াঃ 
ফেসওয়াশ ব্যবহারকারীদের কাছে হিমালয়া একটি বিশ্বস্থ নাম। ছেলেদের ত্বকের জন্য হিমালয়া ফেসওয়াশটি দারুন কার্যকর। দেশের সবগুলো অনলাইন মার্কেট গুলো থেকে এটি কিনতে পারবেন।
 
হিমালয়ার একটি ফেসওয়াশঃ
নাম: HIMALAYA HERBALS ফেস ওয়াশ
এটির বৈশিষ্ঠ্য-
-ত্বকের ধূলা, ময়লা পরিস্কার করবে
-ত্বককে কোমল রাখবে
-তত্বককে করবে প্রানবন্ত ও আরো মসৃণ
-মুখমন্ডলের ব্রণ ও দাগ এবং শুস্কতা দূর করবে
-সব ধরণের ত্বকের জন্য
-পরিমান-৫০ মিলি 
-মেড ইন ইন্ডিয়া
-দাম: ৩৫০ টাকা
 
 
 
পন্ডসঃ
দেশে ব্যবহৃত বেষ্ট কোয়ালিটি গুলোর মধ্যে পন্ডস অন্যতম। দ্রুত ত্বক পরিষ্কার ও লাবণ্য ফিরিয়ে আনতে এটি খুবই কার্যকর।
 
পন্ডস এর একটি ফেসওয়াশঃ
নাম: POND'S MEN OIL CONTROL ফেস ওয়াশ
এটির বৈশিষ্ঠ্য-
-বেস্ট কোয়ালিটি POND'S ফেস ওয়াশ ফর মেন
-Oil Control 
-ফর্মূলা ১০০ গ্রাম
-দাম: ৪২০
 
 
ক্লিয়ারঃ
নাম শুনেই হয়তবা বুঝতে পারছেন এটি একেবারে ক্লিন এবং ক্লিয়ার কাজ করে। ছেলেদের ত্বকের সাথে ক্লিয়ার বেশ মানানসই।
 
ক্লিয়ারের একটি ফেসওয়াশঃ
নাম:  CLEAN & CLEAR ব্লাকহেড ফেস ওয়াশ ও মাস্ক
এটির বৈশিষ্ঠ্যঃ
-Clean & Clear ব্লাকহেড ওয়াশ ও মাস্ক
-ত্বককে রাখবে দাগমুক্ত ও মসৃণ
-পরিমান- ১৫০ মিলি
-Uk থেকে আমদানিকৃত
-১০০% জেনুইন
-ত্বকের ধূলা, ময়লা পরিস্কার করবে
-ত্বককে কোমল রাখবে
*ফেসওয়াশ* *প্রশাধনী* *কসমেটিকস* *ত্বকেরযত্ন* *সৌন্দর্য্যচর্চা* *শপিং* *অনলাইনশপিং* *স্মার্টশপিং*

খুশি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

মানুষের ত্বক খুব নরম ও পাতলা হয়। বিশেষ করে মুখমণ্ডলের ত্বক আরো কোমল ও মসৃণ হয়। এর ফলে আমরা যখন বাইরে বের হই তখন রোদের প্রখরতা আমাদের মুখমণ্ডলসহ সমস্ত শরীরের ত্বকে নষ্ট করে দেয়। সোজা ভাষায় বলতে গেলে, রোদের কারণে ত্বক পুড়ে যায়। এজন্য রোদের হাত থেকে ত্বককে বাঁচাতে চাই বাড়তি সতর্কতা।

প্রতিনিয়ত রোদে পুড়লে ত্বকের উপর কালো কালো ছোপ ছোপ দাগ পড়ে যায়, ত্বকের উজ্জ্বল ভাব নষ্ট হয়ে যায় এবং চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে।  মোটকথা  চেহারায় রোদেপোড়া একটা ভাব চলে আসে। এছাড়াও রোদের কারনে আমাদের ত্বকে নানা ধরনের চর্ম রোগ দেখা দিতে পারে । এমনকি গবেষণায় দেখাগেছে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি স্কিন ক্যান্সারের জন্যও দায়ী।

কী করবেন? 
রোদের যাবার পূর্বে সানস্ক্রিন বা লোশন লাগিয়ে বের হলে এসব সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে পারেন। পাঁচ ধরনের সান-বার্নের ঝুঁকি থেকে সানস্ক্রিন আমাদের  সুরক্ষা দেয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় মাত্র ২০ শতাংশ লোক প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন। রোদ থাকুক আর নাই বা থাকুক প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলুন। যখন তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে সানস্ক্রিনের কিছু  sun-protection tricks আপনার ত্বকের সুরক্ষা দিতে শুরু করে।

প্রতিবার বাইরে যাওয়ার আগে অবশ্যই ত্বক ভালভাবে পরিষ্কার করে সানস্ক্রিন বা লোশন ব্যবহার করবেন। সানস্ক্রিন ক্রিম বা লোশন কেনার আগে অবশ্যই SPF এর মাত্রা দেখে কিনবেন। আমাদের দেশের আবহাওয়ার জন্য SPF ৩০-৪০ এর সানস্ক্রিন ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা উচিত।

নিচে কিছু ভালো সানস্ক্রিনের নাম দেয়া হলো। অবশ্য আরো অনেক ভালো সানস্ক্রিনও আছে সেখান থেকেও বেছে নিতে আপনার পছন্দেরটি

    Aveeno Continuous Protection Sunblock Lotion for the Face SPF 30
    Neutrogena Norwegian Formula Age Shield Sunblock SFP 30
    SPECTRABAN ULTRA 28 (sunscreen)
    ZO Skin Health Oclipse Sunscreen SPF 30
(সংকলিত)
*সানস্ক্রিন* *প্রশাধনী* *রূপচর্চা*

শ্রীময়ী: একটি বেশব্লগ লিখেছে

সময়ের আলোচিত প্রসাধনী বিবি ও সিসি ক্রিম। এই ক্রিম নানা ব্র্যান্ড, ফর্মুলা, শেড আর দামে পাওয়া যায়। আমরা অনেকেই জানি না, এই ক্রিমের বিশেষত্ব কী, ব্যবহার প্রণালিই বা কী রকম। 


বিবি ক্রিম
ব্লেমিশ বাম বা বিউটি বামের সংক্ষিপ্ত রূপ বিবি ক্রিম। শুরুতে এটা স্কিন লেজার ট্রিটমেন্টের জন্য ব্যবহার হতো। এখন বিবি ক্রিম বাজারে মাল্টি-টাস্কার ক্রিম হিসেবে ব্যবহার হয়। বিবি ক্রিমের বিশেষত্ব হলো এটি ত্বক পরিচর্যা ও মেকআপ উপাদানের সংমিশ্রণে তৈরি। এই ক্রিম আপনাকে দেবে অল-ইন-ওয়ান স্কিন কেয়ার।
অমসৃণ ত্বক থেকে শুরু করে রোদ থেকে ত্বককে বাঁচায় এবং ব্লেমিশ, ব্রণ ও দাগ প্রতিরোধ এবং ময়েশ্চারাইজ করে।


সিসি ক্রিম
কালার কারেকশন অথবা কমপ্লেকশন কেয়ারের সংক্ষিপ্ত রূপ সিসি ক্রিম। বিবি ক্রিম সব ধরনের স্কিন টোনের সঙ্গে মানায় না, ত্বক তৈলাক্ত করে ফেলে, ঠিকমতো মেকআপ নেওয়া যায় না। এসব সমস্যা সমাধান দিতেই আসে সিসি ক্রিম। সিসি ক্রিম সহজেই ত্বকে বসে যায়, বিবি ক্রিমের তুলনায় বেশি মেকআপ কাভারেজ দেয়, ত্বক তৈলাক্ত হয় না। অনেক সময় স্থায়ী হয়। সিসি ক্রিমে এমন এক উপাদান আছে, যা ত্বকের কোলোজেন বাড়াতে সাহায্য করে। কোলোজেন ত্বক মসৃণ, উজ্জ্বল এবং ত্বক কোষের আয়ু বাড়ায়।


বিবি ক্রিম বা সিসি ক্রিম যেভাবে কাজ করে
এক অর্থে বিবি ও সিসি ক্রিম সাধারণ ময়েশ্চারাইজারের সঙ্গে ফাউন্ডেশন ও সানস্কিনের সংমিশ্রণ। তার মানে এই নয় যে এগুলো আপনার দৈনন্দিন ব্যবহারের ময়েশ্চারাইজার ও সানস্কিনের পরিবর্তে। এর মধ্যে থাকা উপাদান আপনাকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। ক্রিম শুধু আপনি ফাউন্ডেশনের পরিবর্তে ব্যবহার করতে পারেন। তার পরও মুখে যদি গাঢ় দাগ থাকে, তাহলে কনসিলারের বিকল্প নেই। বিবি বা সিসি ক্রিম দুটিই মেকআপের বেইস প্রাইমার হিসেবে ভালো কাজ করে।

বিবি বা সিসি ক্রিমের অসুবিধা হলো শুধু দুটি শেডে পাওয়া যায়। বিবি ও সিসি ক্রিম ছেলেদের কাছেও জনপ্রিয়। এ ছাড়া সহজে ব্যবহার করা যায়। এমনকি যাঁরা মেকআপ নিতে আগ্রহী কিন্তু চান না সেটা বোঝা যাক, তাঁদের কাছেও জনপ্রিয়।

কেনার সময় খেয়াল রাখুন

* হাতের উল্টো পাশের ত্বক ও ক্রিমের রং মিলিয়ে নিন। খেয়াল করুন আপনার ত্বকের সঙ্গে ক্রিমের টেক্সার ঠিকমতো মিশছে কি না।


* তৈলাক্ত ত্বকের জন্য লুমিনাস এবং শিমার ফর্মুলা বাদে কিনুন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সবচেয়ে ভালো ম্যাট ও জেল বেইসড ফর্মুলা।

* শুষ্ক এবং স্বাভাবিক ত্বকের জন্য লুমিনাশ, শিমার, যেকোনো ফর্মুলা বেছে নিতে পারেন।

বিবি ক্রিম কিনবেন যদি আপনার ত্বক হয়

* সংবেদনশীল

* শুষ্ক

* রোদে পোড়া

* একনে ও ব্রণে ভরা।

সিসি ক্রিম কিনবেন যদি আপনার ত্বক হয়

* তৈলাক্ত

* অসমান

* দাগ বহুল

* ফাইন লাইন এবং বয়সজনিত ভাঁজে ভরা।

ব্যবহার বিধি

বিবি বা সিসি ক্রিম একবারে অল্প করে পুরো মুখে মিশিয়ে দিন। কিছুটা বেশি কাভারেজ চাইলে দ্বিতীয়বার ব্যবহার করুন। কিন্তু মনে রাখবেন, অতিরিক্ত হয়ে গেলে মুখে মিশবে না, উল্টো মাস্কের মতো দেখাবে। ইচ্ছে করলে ব্রাশের সাহায্যেও লাগাতে পারেন।
*প্রশাধনী* *ক্রিম* *রূপচর্চা* *সৌন্দর্য্যচর্চা* *ত্বকেরযত্ন* *প্রসাধনী* *বিউটিটিপস*

আমানুল্লাহ সরকার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ঠোঁট রাঙাতে লিপিস্টিকের জুড়ি নেই। তবে কোন রঙের লিপিস্টিকের কি আবেদন কখন কোন রঙ আপনার জন্য পারফেক্ট তা কিন্তু আপনাকে জানতেই হবে। লিপিস্টিকের রঙের কম্বিনেশন না বুঝলে নারীর আবেদন ও আকর্ষণ ধরে রাখা খুবই কষ্টকর।
একটি পুরুষের চোখে নারীর মুখমন্ডলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হচ্ছে ঠোঁট আর রঙিন ঠোঁট জোড়া থেকে পুরুষের চোখ স্বভাবতই সরানো মুশকিল। কেন নানান রঙে রাঙানো ঠোঁটের প্রতি পুরুষের এতো আকর্ষন? এর কারন হল ভিন্ন ভিন্ন রঙের লিপস্টিক প্রকাশ করে ভিন্ন ভিন্ন ভাষা ও সেটার আছে আলাদা আকর্ষন করার ক্ষমতা। লিপস্টিকের রঙ দিয়েই আপনি প্রকাশ করতে পারবেন আপনার ব্যক্তিত্ব ও মনের ভাব। চলুন তাহলে জেনে নেই লিপিস্টিকের রঙ বিচিত্রা।

লাল লিপস্টিক :
লাল হলো আবেদনময় একটি রঙ। লাল রঙের লিপস্টিক সাধারণত ঠোঁট জোড়াকে আবেদনময় দেখানো ও বিপরীত লিঙ্গকে আকর্ষণ করার জন্যই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিশেষ করে তা যদি হয় গ্লসি লাল লিপস্টিক তাহলে সেটা নিঃসন্দেহে যৌন আবেদন প্রকাশ করে। ম্যাট লাল লিপস্টিক চেহারায় একটি নাটকীয় সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে। চেহারায় কিছুটা আবেদন ও কিছুটা রহস্যের সংমিশ্রন তৈরী করে ম্যাট লাল লিপস্টিক। লাল লিপস্টিক হলো ড্রামা, যৌন আবেদন, প্যাশন, উত্তেজনা ও আনন্দের প্রতীক। বিজ্ঞানীরা বলেন, তীব্র যৌন উত্তেজনার সময়ে নারীর ঠোঁট রক্তিম হয়ে ওঠে। লাল লিপস্টিক সেই রক্তিমতার প্রতীক।

গোলাপি লিপস্টিক :
গোলাপি, ম্যাজেন্টা, হট পিঙ্ক কিংবা হালকা গোলাপি রঙের লিপস্টিক সমগ্র বিশ্বেই বেশ জনপ্রিয়। বেশ প্রাচীনকাল থেকেই ঠোঁট জোড়াতে গোলাপি আভা নিয়ে আসতে নারীরা গোলাপি লিপস্টিক লাগাতে ভালোবাসেন। গোলাপি রঙটি নারীত্ব, কমনীয়তা ও রোমান্সের প্রতীক। নিজের নারীত্বকে আরো বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে গোলাপি লিপস্টিক ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ত্বকের রঙের সাথে মিলিয়ে হালকা কিংবা গাঢ় গোলাপি রঙ ব্যবহৃত হয়।

কমলা বা কোরাল লিপস্টিক :
যৌবনের উচ্ছাস, আনন্দ, খুশি ও প্রানশক্তি প্রকাশের জন্য কমলা লিপস্টিককে আদর্শ হিসেবে ধরা হয়। নিজের মনের ভেতরের উচ্ছাস প্রকাশের ভাষা হতে পারে কমলা কিংবা কোরাল লিপস্টিক। মানুষের সাথে কথা বলার সময় তাদের মনযোগ আকর্ষণ এবং নিজেকে প্রানবন্ত দেখানোর জন্য ঠোঁট জোড়াকে রাঙিয়ে নিতে পারেন কমলা কিংবা কোরাল রঙের লিপস্টিকে। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই ত্বকের সঙ্গে মানানসই রঙ বেছে নিতে হবে।

বার্গেন্ডি বা পার্পল লিপস্টিক :
বার্গেন্ডি কিংবা পার্পল লিপস্টিক ম্যাজিক, ক্ষমতা, মর্যাদা, আভিজাত্য ও গভীরতা প্রকাশ করে। আপনার গায়ের রঙ যদি শ্যামলা হয় তাহলে পার্পল ও বার্গেন্ডি লিপস্টিক আপনার নারীত্বকে বেশ মর্যাদার সাথে প্রকাশ করবে। যাদের গায়ের রঙ ফর্সা তারা এই রঙ ২টার হালকা শেড গুলো ব্যবহার করে প্রকাশ করুন নিজের মর্যাদা, নারীত্ব ও আভিজাত্য।

ন্যুড ও ব্রাউন লিপস্টিক :
ন্যুড ও ব্রাউন লিপস্টিকের প্রচলন সব সময়েই থাকে। এ রঙ গুলো ব্যবহার করে প্রায় সবাই বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ন্যুড ও ব্রাউন লিপস্টিক প্রকৃতি ও নিরপেক্ষতার প্রতীক। ন্যুড ও ব্রাউন রঙের লিপস্টিক প্রায় সব ধরনের ত্বকেই মানিয়ে যায়। তবে এ দুটি রঙের লিপস্টিক লাগালে দাঁত কিছুটা হলুদ দেখানোর সম্ভাবনা থাকে।
*প্রশাধনী* *লিপিস্টিক* *ঠোটেরযত্ন* *সৌন্দর্য্যচর্চা*

আমানুল্লাহ সরকার: একটি বেশব্লগ লিখেছে

প্রাকৃতিক কারনে মেয়রা এমনিতেই সুন্দর হয়। তারপরেও বেশির ভাগ সময় সাজগোজ নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটান ফ্যাশন প্রিয় নারীরা। সৌন্দর্য্যের বিকাশ ঘটানো এবং নিজেকে আকর্ষনীয় করে তুলতে অন্যান্য অনুসঙ্গ গুলোর মধ্যে অন্যতম উপাদান প্রসাধনী।  নারীর সৌন্দর্য্যে অন্যতম হল ঠোঁট। আর এই ঠোঁটকে রাঙাতেই ব্যবহৃত নানারকম ঠোঁট পালিশ বা রঙ যাকে কিনা লিপস্টিক বলে। কোথায় এবং কিভাবে এই লিপস্টিকের উদ্ভব তা বের করতে ইতিহাসের পাতায় ডুব দিতে হল।

আজ থেকে ৫০০০ বছর আগে ব্যবিলনের কাছে ঐতিহাসিক উর শহরে মেসপটেমিয়ান নারীদের ঠোঁটে লিপস্টিকের ব্যবহার প্রথম দেখা যায়। সেসময় লিপস্টিক হিসেবে ব্যবহৃত হয় মূল্যবান পাথর গুড়া। পাথর চূর্ণ করে একেবারে মিহি গুড়ার প্রলেপ লাগানো হত ঠোঁটের উপর। ইন্দাস ভেলি সভ্যতায় নারীরা লাল রং তাদের ঠোঁটে প্রয়োগ করত।

ঐতিহাসিক মিশরীয় নারীরা আয়োডিন এবং ব্রোমিন থেকে রক্ত বর্ণ রং নিংড়ে বের করত ঠোঁট পালিশ হিসেবে ব্যবহার করার নিমিত্তে। সময়ের আবর্তনে এর নাম হয় মৃত্যু চুম্বন (The kiss of death)। রানী ক্লিওপেট্রা তাঁর ঠোঁটে লিপস্টিক ব্যবহার করতেন। ক্লিওপেট্রার লিপস্টিক তৈরী হত মেরুন রঙের বিটল পোকা থেকে। যা একটি গাঢ় লাল রঙের আভা তৈরী করত। তাছাড়া লিপস্টিকের বেজ হিসেবে ব্যবহার করতেন পিঁপড়া। ১৬০০ শতাব্দিতে ইংল্যান্ডের রানী এলিজাবেথ এর শাসনকাল লিপস্টিক বেশ জনপ্রিয় প্রসাধনী ছিল। চক সাদা মুখে গাঢ় রঙের পালিশের প্রকাশ ঘটান। তখন এই ঠোঁট পালিশ তৈরি করা হত মোম আর গাছ-গাছড়া থেকে।

লিপস্টিক একটি আকর্ষনীয় এবং জনপ্রিয় প্রসাধনী হলেও এর বিরুদ্ধে রয়েছে বহু সমালোচনা। প্রথমদিকে ইংল্যান্ডের এক ধর্মযাজক থমাস হল লিপস্টিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেন। তার মতে, মুখে রং ব্যবহার করা শয়তানের কাজ।

১৭৭০ সালে ইংল্যান্ডের পার্লামেন্ট একটি আইন পাশ করে লিপস্টিকের বিরুদ্ধে। সেখানে বলা হয়, কোন নারী সৌন্দর্য্য চর্চার মাধ্যমে কোন পুরুষকে বিবাহের জন্য বিমোহিত করলে তা ডাইনির মত কাজ বলে বিবেচিত হবে।১৮০০ সালে রানী ভিক্টোরিয়া প্রকাশ্যে এই লিপস্টিকের বিরোধিতা করেন। এত সমালোচনার পরও চলচ্চিত্রের কল্যাণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর লিপস্টিক আরো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। (তথ্য-ইন্টারনেট)

লিপস্টিকের আকার হয় মোম দন্ডের ন্যায়। এটা তৈরীতে বিশেষ উপাদান হল জলপাই, খনিজ, রেড়ির তৈল, কোকোয়া বাটার, পেট্রোলিয়াম এবং ভেড়ার চর্বি। এছাড়াও ভিটামিন-ই, এ্যলোভেরা, এমাইনো এসিড, সানস্ক্রিন, কোলাজেন এর সাথে বিভিন্ন রঙ মিশিয়ে আকার প্রদান করা হয়। বর্তমানে বহু রকম লিপস্টিক পাওয়া যায়। সময়ের আবর্তনে লিপস্টিক ধারণ করে আধুনিক রূপ। ১৯৯০ সালে লিপ লাইনার এর আগমন ঘটে।

বর্তমানে লিপিস্টিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ঠোঁট রাঙাতে নানা রঙের লিপিস্টিক সব সময় ব্যবহার করে থাকেন নারীরা। তাইতো ফ্যাশনের অন্যতম অনুসঙ্গ হিসেবে লিপিস্টিকের জুড়ি নেই।
*লিপিস্টিক* *প্রশাধনী* *ঠোটেরযত্ন* *সৌন্দর্য্যচর্চা*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★