পয়লা বৈশাখ

পয়লাবৈশাখ নিয়ে কি ভাবছো?

Risingbd.com: রাজধানীতে পয়লা বৈশাখে বেড়ানো ও পেটপূজা ঢাকার ভেতরে আমাদের চারপাশে অনেক বেড়ানোর জায়গা রয়েছে। এবারের বৈশাখের তিন দিনের ছুটিতে ঢাকা প্রায় ফাঁকা হয়ে যাবে। তাই সারাদিন রিকশা নিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখতে... বিস্তারিত পড়ুন - http://bit.ly/1SeFfi1

*পয়লাবৈশাখ* *আড্ডা* *রাজধানী* *ঘুরাফেরা* *বিনোদন*

পূজা: একটি বেশব্লগ লিখেছে

পয়লা বৈশাখে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশই মেতে উঠবে উৎসবে। নতুন বাংলা বছর ১৪২৩ আসবে নানা আয়োজনে। রমনার বটমূলে সূর্যোদয়ের সময়টাতে ছায়ানট বরণ করে নেবে নতুন বছরকে। পয়লা বৈশাখে ঢাকার নানা জায়গায় থাকবে নানা মেলা, বিভিন্ন আয়োজন—সব মিলিয়েই হবে নববর্ষ উদ্যাপন। সে রকম কিছু আয়োজনের খোঁজখবর থাকছে এখানে।

রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ উৎসব শুরু হবে সূর্যোদয়ের সময় থেকে। ছায়ানটের শিল্পীদের পরিবেশনায় থাকবে দলীয় গান, একক গান ও আবৃত্তি। সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার মাধ্যমে শেষ হবে এ আয়োজন। সকাল আটটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে বের হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। বাঙালি সংস্কৃতির নানা উপকরণে সজ্জিত শোভাযাত্রাটি রূপসী বাংলা হোটেল হয়ে চারুকলার সামনে এসে শেষ হবে। ঢাকা শিশুপার্কের প্রধান ফটকের সামনে সকাল থেকেই চলবে ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর অনুষ্ঠান।

ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবরে আয়োজন করা হয়েছে নানা রকম অনুষ্ঠানের। সকাল ছয়টায় শুরু হয়ে বেলা ১১টা পর্যন্ত চলবে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। এতে থাকবে নাচ, গান ও আবৃত্তি। সন্ধ্যা সাতটা থেকে শুরু হবে আরেক দফা সংগীতানুষ্ঠান, চলবে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। নববর্ষের দিন সকালে বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে থাকবে আলোচনা সভা, গান ও আবৃত্তি। একাডেমি প্রাঙ্গণে আরও থাকবে কারুপণ্য প্রদর্শনী এবং বইয়ের আড়ং। 
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর খোলা মাঠে ৩০ চৈত্র বর্ষবিদায় এবং পয়লা বৈশাখ বর্ষবরণ অনুষ্ঠান হবে। থাকবে সমবেত সংগীত, একক সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, বাউলগান ইত্যাদি।

কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের মাঠে আয়োজন করা হবে বৈশাখী মেলার। ১২ এপ্রিল শুরু হয়ে মেলা শেষ হবে ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখের দিন। মেলায় লোকজ পণ্যের বিকিকিনির পাশাপাশি থাকবে পালাগান, বাউলগান, সাপ খেলা, বানর খেলা ও বায়োস্কোপ প্রদর্শনী। এ ছাড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের লোকজ সংগীতের আসরসহ শহরজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নানা রকম অনুষ্ঠান থাকছে দিনের বিভিন্ন সময়ে।

তথ্যসূত্র: ছায়ানট, কলাবাগান ক্রীড়া চক্র, ধানমন্ডি ক্লাব, ইন্টারনেট, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, বাংলা একাডেমি

*বৈশাখীআয়োজন* *বৈশাখীমেলা* *পহেলাবৈশাখ* *পয়লাবৈশাখ* *নববর্ষ*

শপাহলিক: একটি বেশব্লগ লিখেছে

আর কিছুদিন পর বাঙালির দুয়ারে আসছে ঐতিহ্যবাহী সেই দিন—পহেলা বৈশাখ। যেদিন সবাই উত্সুক হয়ে থাকবে সকালে পান্তা ইলিশ খেয়ে বৈশাখের পোশাক পরে রমনার বটমূলে প্রাণ খুলে গাইতে 'এসো হে বৈশাখ, এসো এসো'। আর বৈশাখকে উপলক্ষ করে বাজারে আসতে শুরু করেছে বৈশাখী ডিজাইনের রকমারি পোশাক। সেই সাথে পাওয়া যাচ্ছে ছেলেদের বৈশাখের পাঞ্জাবি। আর তারই খোঁজখবর রইল এবার। 
 
 
বৈশাখ শুধু আমাদের কাছে নতুন বছরের শুরুই নয়, বৈশাখ মানে জীবনের নতুন স্পন্দন। আর হালে এতে যোগ হয়েছে নতুন পোশাক পরার রেওয়াজ। ছেলেদের বৈশাখের পাঞ্জাবির এবারের কালেকশনে রয়েছে লম্বা বা মাঝারি দৈর্ঘ্যের পাশাপাশি জিন্সের সঙ্গে পরার উপযোগী শর্ট পাঞ্জাবিও। বরাবরের মতো এবারও বৈশাখের কালেকশনে শিশুদের জন্যও আছে ভিন্নধর্মী ডিজাইন ও বাহারি রঙের বৈশাখী পাঞ্জাবি। রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেট, কাঁটাবন, এলিফ্যান্ট রোড, নিউমার্কেট, গুলশান, ধানমন্ডি-২৭, মিরপুর, উত্তরাসহ দেশের বিভিন্ন মার্কেটে আসতে শুরু করেছে এই বৈশাখের পাঞ্জাবি। নতুন ডিজাইনের বিভিন্ন পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে ফ্যাশন হাউসগুলোতে। রঙ, কাপড় এবং ডিজাইনে বৈচিত্র্য থাকছে বৈশাখী কালেকশনে।
 
 
পয়লা বৈশাখের সকালবেলা চারুকলা বা বিশ্ববিদ্যাল্যয় এলাকায় যাওয়া, সন্ধ্যায় নানা নিমন্ত্রণ তো হয়ই। এদিন ছেলেদের পছন্দের পোশাক বলতে পাঞ্জাবিই আছে। তবে সকালে যেমন হালকা ও আরামদায়ক, তেমনি রাতের বেলা একটু ভারী কাজের জমকালো পাঞ্জাবি পরা ভালো। বৈশাখ মানেই পোশাকে লাল-সাদার ছড়াছড়ি। এর বাইরেও অনেকে একটু ভিন্নধর্মী কিছু চায়। উৎসবের এই সময়ে গরমের তীব্রতা থাকে। আর তাই পাঞ্জাবিতে সুতির পাশাপাশি হালকা কাপড় ব্যবহার করেছে ফ্যাশন হাউসগুলো। খাটো, লম্বা ও টিউন ফিট—এই তিন ধরনের পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে অনলাইন শপ আজকের ডিলে।  তবে বিকেলে বা সন্ধ্যায় দাওয়াতে যেতে উজ্জ্বল রঙের লম্বা পাঞ্জাবিগুলো প্রাধান্য পাচ্ছে। এখানে পাঞ্জাবির দাম পড়বে ১৪০০ থেকে ৩৫০০ টাকা। 
 
 
 
এছাড়াও আছে জরির কাজ করা শেরওয়ানি কাটের পাঞ্জাবি। রঙের মধ্যে লালচে, কফি, সাদার প্রাধান্য বেশি। পাঞ্জাবিতে কলার, বুক ও হাতে পাইপিং, পুঁতি, স্প্রিং, সুতা ইত্যাদির নকশা করা হয়েছে। সুতির খাটো পাঞ্জাবিতে আছে স্ক্রিন প্রিন্টের কাজ।  দাম পড়বে ১৪০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত। বৈশাখ উপলক্ষে তারা এনেছে বেশ কয়েক ধরনের নতুন পাঞ্জাবি। লাল-সাদা ছাড়াও নানা রঙের এসব পাঞ্জাবির দাম পড়বে ৯৭৫ থেকে ১৫০০ টাকা। 
 
 
 
 
 
 
যেতে পারেন শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে। দামও নাগালের মধ্যে। বিশেষ করে হালকা নকশা ও আরামদায়ক কাপড়ের পাঞ্জাবির জন্য যেতে পারেন এখানে। দাম পড়বে ৫০০ থেকে ১৪০০ টাকার মধ্যে। বৈশাখের চিরন্তন লাল-সাদার পাশাপাশি পাঞ্জাবিতে রঙ-এর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য উজ্জ্বল সব বাহারি রং ব্যবহার করেছে ফ্যাশন হাউসগুলো। এ ছাড়া নানা ধরনের সুতি ও সিল্কের কাপড়ের ওপর স্ক্রিন ও ব্লকপ্রিন্ট, হ্যান্ড ও মেশিন এমব্রয়ডারি, কারচুপি, প্যাচওয়ার্ক ও হ্যান্ড পেইন্টের কাজ করেছে নান্দনিকভাবে। বিভিন্ন ধরনের মোটিফ ব্যবহার করা হয়েছে পাঞ্জাবির ডিজাইনে। বৈশাখের থিমকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের কাজ করা হয়েছে। কিছু কাজ শুধু গলায় আর হাতায় করা হয়েছে। আবার কিছু পাঞ্জাবি রয়েছে যার পুরো ক্যানভাসে কাজ করা হয়েছে। সুতি, সিল্ক এবং হাফসিল্কের পাঞ্জাবির ওপর করা হয়েছে নানা ডিজাইনের কারুকার্য।
 
 
এবার শর্ট এবং লং দুই ধরনের পাঞ্জাবিরই চল চোখে পড়ছে। যার যেমন পছন্দ বাছাই করে নিতে পারেন। পরতে পারেন জিন্স অথবা পায়জামার সঙ্গে। আর পায়ে পরুন স্লিপার অথবা নাগরা ডিজাইনের জুতা; যা আপনাকে স্বাচ্ছন্দ্যের পাশাপাশি আধুনিক লুকও এনে দেবে। যারা ফিটিংস নিয়ে ভয় পাচ্ছেন, তাঁরা চাইলে পাঞ্জাবি বানিয়েও নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে গজকাপড় কিনে দর্জির কাছে নিজের পছন্দের ডিজাইন অনুযায়ী বানিয়ে নিন। এতে খরচটাও থাকবে আপনার হাতের নাগালে। 
বন্ধুরা, ঘরে বসেই বৈশাখের আকর্ষণীয় সব পাঞ্জাবি পেতে ঢুঁ মারতে পারেন আজকের ডিলে। বাজারে গিয়ে দামদর করতে না পারলেই ঠকবেন কিন্তু আজকের ডিল থেকে পণ্য কিনে ঠকার কোন সম্ভাবনা নেই। তাই দ্রুত ডেলিভারি নিতে দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে পাঞ্জাবি কিনতে এখানে ক্লিক করুন। 
*পহেলাবৈশাখ* *পয়লাবৈশাখ* *বৈশাখেরপোশাক* *আজকেরডিল*

দীপ্তি: একটি বেশব্লগ লিখেছে

পয়লা বৈশাখ, নতুন সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যায় বাঙালির নতুন জীবন। আমাদের ছেলেবেলার মফস্বল শহরে পয়লা বৈশাখ আর হালখাতা ছিল অনেকটা যমজ ভাইবোনের মতো। হাত ধরাধরি করে হাজির হতো দুজনে বছরের প্রথম দিনটিতে। বাজারের প্রায় সব দোকানেই বাংলা বছরের প্রথম দিনে ‘হালখাতা’ হতো বেশ ঘটা করেই। এই দিন দোকানে অতিথি-অভ্যাগতদের মণ্ডা-মিঠাই দিয়ে আদর-আপ্যায়ন করা হতো। আর সেটিই ছিল আমাদের ছেলেবেলার পয়লা বৈশাখের বাড়তি আকর্ষণ। অভিভাবকদের হাত ধরে আমরাও মাঝেমধ্যে সেই নিমন্ত্রণে হাজির হয়েছি। বড়দের মতো আমাদের প্লেটেও দেওয়া হয়েছে রসে ডুবুডুবু ধবধবে সাদা বড় রাজভোগ, রসগোল্লা, কালোজাম, চমচম আর মিরিন্ডার কাঁচের বোতল স্ট্র সহ। সঙ্গে কালিজিরা ছিটানো হালকা গেরুয়া রঙের একখানা নিমকি। মচমচে ভাজা। সাথে এক গ্লাস পানি। রাজভোগের মিষ্টতার বিলাসী আবেশের সঙ্গে নোনতা নিমকির নিরপেক্ষ স্বাদ এই দুই বিপরীত রসের স্রোতে রসনার তৃপ্তি হতে সময় লাগত না।
 
 
ছোটবেলায় বাবার সাথে হালখাতা খেতে যেতাম। খেতে যেতাম বলছি, কারণ খুব ছোটতে ভাবতাম হালখাতা মানে বোধয় মিষ্টি খাওয়া। মিষ্টি, দোকানের সাজগোজ সব মিলে ছেলেবেলাতে হালখাতা আমাকে টানতো, এখনো টানে তবে ডিজিটাল যুগে হালখাতার সেই আবহমানতা ফুটে উঠে কি না তা নিয়ে আমি বড়ই সন্দিহান। রঙিন কাগজের মালা, ফুল, জরির ঝালর দিয়ে সব দোকান সাজানো হতো। বাজারের একটা দোকানের সামনে কলাগাছের গেট তৈরি করে দেবদারু পাতা দিয়ে ছাওয়া হতো। তারই মাঝখানে রঙিন অক্ষরে লেখা ‘শুভ হালখাতা’। তারপর বাবার সাথে ঢুকে পড়তাম হালখাতার দোকানে। দোকানদার খুব আদর করে বসতে দিতেন। প্লেটভর্তি মিষ্টি এনে সামনে ধরে দিতেন। এত মিষ্টি খেতে যদিও পারতাম না, তবুও মিষ্টি দেখে চক্ষু হতো ছানাবড়া। জিভে আস্ত জল। দেনা পাওনা মিটিয়ে বাবা বলতেন "মেয়ে হালখাতা চেনে না, বুঝেছ। হা হা করে খানিক হেসে আমাকে বলতেন —মা এর নামই হালখাতা। খাও, মিষ্টি খাও। এর পরও দোকান থেকে ওঠার সময় আরও এক প্যাকেট মিষ্টি ধরিয়ে দিতেন দোকানদার। বৈশাখী মেলা থেকে নানা রকম খেলনা, বাঁশি, বেলুন কিনে বাবা আর আমার দুজনেরই হাত ভর্তি। তবু দোকানদার নাছোড়। হালখাতার মিষ্টি না নিলে তার দোকানের অকল্যাণ হবে। অতিথি দোকানে বসে খাবে, আর বাড়ির লোকেরা খাবে না, তাই হয়! বাঙালি হচ্ছে অতিথিপরায়ণ জাতি। অতিথিকে খাইয়ে-পরিয়ে আশ মেটে না। 
 
 
তারপর বেশ বড় হবার পর বুঝলাম, "হালখাতা" জিনিষটা কি আসলে ! ’হালখাতা শব্দটি বাংলা ভাষার অতিথি, আরবি-ফারসি জাত। জমিদারি আমলে ‘হালখাতা’ বৈভবের চূড়ান্তে পৌঁছেছিল।হালখাতা নতুন বাংলা বছরের হিসাব টুকে রাখার জন্য ব্যবসায়ীদের অর্থাৎ দেশীয় ধরনের যাঁরা ব্যবসার হিসাব রাখেন, তাঁদের নতুন খাতা খোলায় এক আনুষ্ঠানিক উৎসব। পয়লা বৈশাখের এই অনুষ্ঠানটি এখন বেশ কিছুটা কমে গেছে। তবু হালখাতা এখনো যথারীতি খোলা হয়। 
 
 
‘মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো করে এভাবে না ভাবলেও নতুন বছরে পুরনো দিনের হিসাব শেষ করতে চান ব্যবসায়ীরা। গত বছরের সকল দেনা-পাওনা চুকিয়ে নতুন বছর থেকে হিসাবের নতুন খাতা খোলেন তারা। এতে ব্যবসায়ীরা তাদের লেনদেন, বাকি বকেয়া, সবকিছুর হিসাব-নিকাশ লিখে রাখেন। নতুন বছরের প্রথম দিনটিতে যারা ব্যবসায়ীদের নিয়মিত গ্রাহক, পৃষ্ঠপোষক ও শুভার্থী, তাদের চিঠি দিয় বৈশাখের প্রথম দিন গ্রামবাংলা-শহরে ছোট-মাঝারি-বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হালখাতার আয়োজন করা হতো। এ উপলক্ষে ছাপানো হতো নিমন্ত্রণপত্র। মুসলমানদের নিমন্ত্রণপত্রে থাকত মসজিদের মিনারের ছবি, আর হিন্দুদের কার্ডে মাটির পাত্রে কলাগাছের পাতা, ডাব এবং উপরে দেবতা গণেশের ছবি।
হালখাতার এ রেওয়াজটি সময়ের বিবর্তনে প্রায় হারিয়ে গেছে। বাংলা নববর্ষের দিনটিতে হালখাতার আয়োজন এখন তেমন চোখে পড়ে না, তবুও শুনেছি পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীরা হালখাতার এ ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। চিঠি বা লোক মারফত আমন্ত্রণ জানিয়ে এখনো জলযোগে আপ্যায়ন করা হয়। এই দিনটিতে কেনাবেচার চেয়ে সামাজিকতা ও সৌজন্য বিনিময় হয় বেশি। তবে মনন সৌজন্যমূলক হলেও এ সুযোগে অনেকে তাদের বকেয়াও শোধ করে দেন।
 
 
হালখাতার অনুষ্ঠানটি অবশ্যই পয়লা বৈশাখে প্রতিপালিত হতে হবে। সেদিন যে নতুন খাতার সূচনা হয়, তা অন্য দিনে চলে না। ব্যাপারটি সাংবাৎসরিক হিসাব রাখার বিষয় বলে তার ব্যবস্থা বাধ্য হয়েই নির্দিষ্ট দিনেই করতে হয়। হালখাতার সঙ্গে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের কোনো সম্বন্ধ নেই, যদিও হালখাতার মাথায় একটা স্বস্তিবচন লেখা থাকে। মুসলিম ব্যবসায়ী হলে তাঁর হালখাতায় ‘এলাহি ভরসা’ অথবা হিন্দু ব্যবসায়ী হলে ‘গণেশায় নমঃ’ লেখা থাকতে পারে। 
 
ঐতিহ্যগতভাবে আগেকার দিনে ব্যবসায়ীরা একটি মাত্র মোটা খাতায় তাদের যাবতীয় হিসাব লিখে রাখতেন। এই খাতাটি বৈশাখের প্রথম দিনে নতুন করে হালনাগাদ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে সর্বত্র ইংরেজি মাসের হিসাব-নিকাশ প্রচলিত হওয়ায় হালখাতার উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এখন আগের মতো ঘটা করে হালখাতা পালন করা হয় না। তবে পহেলা বৈশাখের আগে দোকানগুলো ধোয়া-মোছা এবং পহেলা বৈশাখের দিনে মিষ্টি খাওয়া ও নতুন হিসাবের খাতা খোলার রেওয়াজ এখনও চালু আছে। 
 
পয়লা বৈশাখ—নববর্ষের উৎসব, যা আমাদের সমাজজীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নির্মল, ভেদবুদ্ধিমুক্ত অসাম্প্রদায়িক উৎসব। নতুন বছর সকলের মিষ্টি মধুর হয়ে উঠুক l  হালখাতা খেতে যেতে পারি কি না পারি নববর্ষে মুখ মিষ্টি করতে দোষ কি ! বছরের শুরুটা যদি মিষ্টিমুখ দিয়ে শুরু না হয় তাহলে কি জমে নাকি বলুন l আজকে সকালে আজকের ডিল ঘাটতে গিয়ে চোখে পড়ল "হালখাতার মিষ্টি" নামের ক্যাটাগরি আর আমি হয়ে গেলাম নস্টালজিক, আর তারই ফল স্বরূপ এই লেখাটি l "শুভ হালখাতা", সকলের মিষ্টি খাওয়ার নিমন্ত্রণ রইলো ! 
 
 
 
 
 
*হালখাতা* *হালখাতারমিষ্টি* *পয়লাবৈশাখ* *পহেলাবৈশাখ* *মিষ্টি* *শৈশবস্মৃতি*
ছবি

ফাইসাল হক: ফটো পোস্ট করেছে

বৈশাখ ১৪২২ শুভো বাংলাবর্ষ

*বৈশাখ* *নববর্ষ১৪২২* *বাংলানববর্ষ* *পয়লাবৈশাখ*

ঝিঁঝিপোকা: একটি বেশব্লগ লিখেছে

আর মাত্র ১৪ দিন দেখতে দেখতে চলে এলো বাঙালির ঐতিহ্যবাহী আর সরূপে উজ্জ্বল উৎসব পয়লা বৈশাখ 
পয়লা বৈশাখ নিয়ে শুধু দেশের মানুষই নয় বরং পুরো পৃথিবীর বাংলা ভাষাভাষী মানুষের আছে আলাদা এক উৎসব কেন্দ্রিক প্রস্তুতি। এবার তাই বৈশাখে আপনার সাজ-পোশাক আর মেকাপের প্রস্তুতি নিয়ে থাকছে কিছু টিপস।

পোশাক:
পয়লা বৈশাখ মানেই যে শুধু লাল সাদা পোশাক, সে ভাবনাটা এখন আর নেই। এখন ফ্যাশন সচেতনরা বেছে নিচ্ছেন লাল, সাদা, কমলা, নীল, হলুদ, বেগুনী ইত্যাদি রঙ। বয়স, পরিবেশ আর অভ্যাস মিলে বেছে নিন আপনার পোশাক। তবে যেহেতু উৎসবটি একেবারে দেশীয় সংস্কৃতির তাই মেয়েদের জন্য শাড়ি, আর ছেলেদের জন্য পাঞ্জাবীটাই বেশি মানানসই। বাচ্চাদের পরাতে পারেন পাতলা সুতির শাড়ি বা সালওয়ার-কামিজ।

পোশাকের রঙের প্রাধান্য যেটাই থাকুক না কেন, গলায় আর কানে পরতে পারেন নানা রঙের মাটির গয়না। এছাড়াও মানানসই যেকোনো গয়না আপনার বৈশাখি সাজে যোগ করতে পারে ভিন্ন মাত্রা।  

মেকআপ:
বৈশাখী সাজে মেকআপের জন্য বেছে নিতে পারেন হাল্কা বেইজের কিছু। তবে তা অবশ্যই স্বাভাবিক মানের হওয়া চাই। প্রচণ্ড গরম আর রোদের তাপে মেকআপ নষ্ট হবার ভয় থাকে। তাই বেছে নিতে পারেন অয়েল ফ্রি বা ওয়াটার প্রুফ মেকআপ। চোখে লাগাতে পারেন হাল্কা আই শ্যাডো আর মাশকারা। ক্ষেত্রে কাজল, আই লাইনার বা মাশকারা অবশ্যই ওয়াটার প্রুফ হতে হবে। যাদের কাজল ছড়িয়ে যায় তারা কাজল দেওয়ার পর তার ওপর হাল্কা একটু পাউডার দিয়ে নেবেন। তাতে আর কাজল ছড়ানোর ভয় থাকবে না। ঠোঁটে দিতে পারেন লাল কিংবা অন্য হালকা রঙের লিপস্টিক। কপালে ছোট বা বড়  লাল টিপই বেশি মানাবে।

চুলের সাজ:

বৈশাখের সাজে চুলে করতে পারেন খোঁপা বা বেণী। শাড়ি বা সালওয়ার কামিজ যাই পরুন না কেন, চুলে করতে পারেন খোঁপা বা বেণী। ক্ষেত্রে হাত খোঁপা করে চুলের দু পাশে বা পুরোটা জুড়ে গেঁথে নিতে পারেন দেশি ফুলের মালা। 
মাঝারি বা ছোট হলে চুল হলে এখনই দিয়ে ফেলুন মানানসই কোনো হেয়ার কাট। উৎসবের দিন সেটাকে আয়রন করে একপাশে রেখে দিতে পারেন বা ছোট্ট কোনো ব্যান্ড দিয়ে হাল্কা হাতে একটু অগোছালো করে আঁটকে নিতে পারেন। তবে তাতেও ফুল থাকা চাই- চাই!

অন্যান্য অনুষঙ্গ:

বাঙালী সংস্কৃতিতে চুড়ির উপস্থিতি অবশ্যই আছে। রেশমি চুড়ির পাশাপাশি অন্যান্য সাধারণ মানের কাচের চুড়ি জায়গা করে নিয়েছে, যাতে ব্যবহার হচ্ছে স্টোন, চুমকি, গ্লিটার ইত্যাদি। শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে পরতে পারেন হাতভর্তি এসব চুড়ি। বাঙালির প্রাণের উৎসবে চুড়ির মতো নিখাদ বাঙালি ফ্যাশন অনুষঙ্গ বৈশাখের সাজকে সত্যিই দেয় পূর্ণতা। ছাড়া বৈশাখী সাজের পূর্ণতা এনে দিতে পারে কপালের লাল টিপ। মুখে এঁকে নিতে পারেন লোকজ নকশা। ব্যস! হয়ে গেল আপনার বৈশাখী সাজ।
 


_
সূত্র ইন্টারনেট


*পহেলাবৈশাখ* *পয়লাবৈশাখ* *বৈশাখ* *বৈশাখেরপ্রস্তুতি* *বৈশাখিসাজ*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★