ফোন

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

ছেলেটি মস্ত এক ক্ষ্যাত ছিল। যেনতেন ক্ষ্যাত নয়, একেবারে জৈবসার সমৃদ্ধ উর্বর ক্ষ্যাত। কখন কোন পরিস্থিতিতে কি বলতে হবে, তা তার ক্ষ্যাত মস্তিষ্কে কস্মিনকালেও আসে না। ঠিকমতো গুঁছিয়ে কথা বলাটি সে তার জন্মেও শিখতে পারে নি। তবে কোন ঘটনা ঘটে যাবার পর, কিংব উল্টোপাল্টা কিছু বলে বা করে ফেলার পর হয়তো সে বুঝতে পারে যে কি বোকামীটাই না সে করে ফেলেছে। তখন রাগে-দুঃখে সে তার মাথার গুটিকয় চুল ছিড়তে থাকে। ভাবে- "ইশ, তখন কথাটি এভাবে না বলে ওভাবে বলতাম!" বা "কাজটি যদি ঠিকমতো করতে পারতাম!" এই বিবেচনায় তাকে একেবারে এঁদো ক্ষ্যাত হিসেবে আখ্যায়িত করা সুবিচারপ্রসূত হবে না। সে ক্ষ্যাত, তার মধ্যে রবি শস্যের আবাদ হয়তো করা যাবে না, কিন্তু উন্নত জাতের ফডার ঘাস দিয়ে এই ক্ষ্যাত নিশ্চিতভাবেই ভরিয়ে তোলা যাবে। ছেলেটিও দীর্ঘ ক্ষ্যাত জীবন যাপন করতে করতে একসময় উপলব্ধি করতে পারে যে, সে একটা বিশাল মাত্রায় ক্ষ্যাত। এই ক্ষ্যাত অবস্থা থেকে মুক্তি না পাওয়ায় ছেলেটি ভেতরে ভেতরে আরও গুঁটিয়ে যায়। আজকাল অনেক কথাই আর প্রকাশ করে না সে, পাছে আরো বড় কোন অঘটন ঘটিয়ে ফেলে!

যদিও ছেলেটি বিশাল মাত্রায় ক্ষ্যাত এবং কেউই এমন ক্ষ্যাত জীবন চালিয়ে নিতে চায় না, মাঝে মাঝে এই ক্ষ্যাত ছেলেটিরও স্মার্ট হয়ে তার ক্ষ্যাতাবস্থা থেকে পরিত্রাণ লাভ করতে চায়। সে-ও চায় একটু স্মার্ট হয়ে লোকজনের কাছে নিজেকে শো-অফ করবে। কিন্তু অতিমাত্রায় ক্ষ্যাত হলে যা হয় আরকি- সবকিছু ভজকট পাকিয়ে কিছু না কিছু গুবলেট করে ফেলে সে। সে তার আউটলুকের পরিবর্তন আনতে চায়, চায় স্মার্ট ছেলেদের মত করে নিজেকে সাজিয়ে তুলতে। নতুন হেয়ার কাট, ট্রেন্ডি পোষাক-আশাক, ইত্যকার ফ্যাশন এক্সেসরিজ নাই যে ছেলেটি ট্রাই করে দেখে নি। কিন্তু ক্ষ্যাতের ভাগ্যের শিকে আর ছিঁড়ে না। দু'চারদিন পর সে তার পুরনো ক্ষ্যাত চেহারাতেই ফিরে যায়। হাল আমলের ক্রেজ আর তার বয়ে বেড়ানো হয় না। লোকজন তাকে আরও পচায়, সে-ও পচে। পচতে পচতে সে আরও উর্বর হয়। যে হারে সে পচতে থাকে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে তার মধ্যে ধানের বাম্পার ফলন সম্ভব বলে মোটামুটি নিশ্চিন্ত হওয়া যায়। এভাবে দিনকে দিন তার ক্ষ্যাত অবস্থার উন্নতি বৈ অবনতির কোন লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে সে-ও এই ক্ষ্যাত হওয়াটাকে নিয়তির অংশ হিসেবে মেনে নিত বাধ্য হয়।

ক্ষ্যাত হলেও মাঝে মাঝেই তার মানবজাতির সহজাত আকাঙ্খা-অনুকরণপ্রিয়তা জেগে ওঠে। আশেপাশের লোকজনের স্মার্ট লাইফস্টাইল দেখে সে-ও তাদের মত করে জীবন সাজাতে চায়। আজকাল সে স্মার্টনেসের নতুন একটা দিক খুঁজে পায়। অধিকাংশ স্মার্ট ছেলে এক বা একাধিক মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়ায়। নিজের লিমিট সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল না হলেও সে এটা বুঝতে পারে যে, কোন একটি মেয়েকে পটাতে পারলেই তার ক্ষ্যাত জীবন স্বার্থক হবে। তাকে আর সবাই ক্ষ্যাত বলে টিটকারী মারতে পারবে না। এমন আজাইরা ভাবনা থেকেই সে এর-ওর কাছে একটা মেয়ের সন্ধান চায়। তার সাথে কারো লাইন-ঘাট করে দেয়ার জন্য অনুনয় করে বেড়ায়। কিন্তু ক্ষ্যাত ছেলের ক্ষ্যাতমার্কা ভাগ্যে কিছু জোটে না।

তার এই ক্ষ্যাত জীবনে কয়েকজন দয়াশীল লোকজন তাকে বন্ধু হিসেবে স্বীকৃতি দেয়াটাও তার একটা বিশাল এক অর্জন বলে সে স্বীকার করে। এই বন্ধুমহলও অনেক চেষ্টা করে বেড়ায় যাতে তাদের এই ক্ষ্যাত বন্ধুটির কপালে কোন নারীর সংস্পর্শ এসে এর ক্ষ্যাতজীবনের খানিকটা উন্নতি ঘটুক। কিন্তু তাদের অনেক চেষ্টাগুলোও সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হতে থাকে। কোন সুস্থমস্তিষ্কের নারীই এমন ক্ষ্যাতের সাথে তাদের জীবন জড়াবে না। ফলে ক্ষ্যাত ছেলেটির সিঙ্গেল থেকে কাপল তকমা লাগিয়ে উদ্ভট উপায়ে স্মার্ট হওয়াও আর হয় না। বন্ধুদের পক্ষে আর অসাধ্য সাধন করা সম্ভব হয় না। ব্যর্থ হৃদয়ে ছেলেটি তার দীর্ঘ ক্লান্তিকর জীবন টানতে থাকে আর হা-হুতাশ করতে থাকে

ছেলেটিও অন্যদের দেখাদেখি ফেসবুক নামক উর্বর স্থানে তার ক্ষ্যাতমার্কা সময়গুলোর নিয়মিত সদ্ব্যবহার করে থাকে। তার ফেসবুকের বন্ধুলিস্টে সে নানা প্রকার বন্ধু খুঁজে পায়। এদের কেউ আল্ট্রা স্মার্ট, দু'-চারজন ওভার স্মার্ট, কয়েকজন শুধুই স্মার্ট। এইসব স্মার্ট বন্ধুরা তাদের পার্টনারদের নিয়ে কাপল সেল্ফি, চেক ইন, ডাইন ইন ফেসবুকে আপলোড দেয়। নিউজফিডে চোখ বুলায় আর এদের জীবন দেখে ছেলেটির হতাশা বারতে থাকে। তবে কয়েকজন ক্ষ্যাত বন্ধুও তার চোখে পড়ে। তাদেরকে সে কিছুটা স্বান্তনা খুঁজে পায়। প্রতিরাতে সে ফেসবুকে লগইন করে আর বন্ধুদের কার্যকলাপ দেখে। তবে ফেসবুকে তার সবচেয়ে ভালো সময় কাটে বিভিন্ন ফানপেইজের মজাদার ট্রল, মিম, ভিডিও দেখে। এসব দেখে সে প্রাণখুলে হাসে, কখনো কখনো হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খায়। কিছু সময়ের জন্য হলেও সে তার বিরক্তিকর জীবনের যন্ত্রণা ভুলে থাকে।

এমন করে হতাশা-ব্যর্থতার জীবনটাকে ছেলেটি প্রায় মেনে নিয়েছ। সে বুঝতে পারে যে তার আর এ জন্মে প্রেম করা হবে ন, আর স্মার্টনেসের ধারের কাছেও ঘেষা হবে না। নিত্যকার মতো সেরাতেও ক্ষ্যাত ছেলেটি ফেসবুক খুল বসে ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে ক্যাজুয়াল আলাপ চালিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ করে তার ফোনটি বেজে উঠল। ছেলেটি ঘড়ি দেখল, রাত প্রায় ১ টা। এত রাতে কে ফোন দিল ! সাধারণত ছেলেটির ফোনে খুব একটা কল আসে না। মাঝে মাঝে বাড়ির বাইরে আড্ডা দিতে দিতে দেরি করে ফেললে বাসা থেকে ফোন যায়। আর কিছু বন্ধু-বান্ধব অতি প্রয়োজনে কিছু কল দেয়। তাই বলে এত রাতে কেউ কল দেয় না। টেবিল থেকে মোবাইল ফোনটি হাতে নিয়ে স্ক্রিনে তাকালো সে, অচেনা নাম্বার! কে আবার এত রাতে কল দিল ! ছেলেটি কলটি রিসিভ করে বলল:

-হ্যালো।

-হ্যালো। আপনি ক্ষ্যাত ছেলেটি বলছেন?

-হ্যা, আমি ক্ষ্যাত ছেলেটি বলছি।

ছেলেটি অবাক হলো, অচেনা কণ্ঠস্বর-নারীর কণ্ঠ। চিনতে না পেরে সে তার পরিচয় জানতে চাইল। কিন্তু টেলিফোনের অপরপাশের মেয়েটি তার পরিচয় না দিয়ে উল্টো বলে:

-মাঝে মাঝে এই নাম্বারে কল দিবেন।

-দিলাম, কিন্তু কেন?

-দিতে বলেছি, দিবেন। না দিলে রিগ্রেট করবেন।

ছেলেটি তো আকাশ থেকে পড়লো! কি বলে এই মেয়ে ! এটা কি করে সম্ভব! ছেলেটি ভাবে। ক্ষ্যাত হলেও তার মাথায় এই বুদ্ধিটুকু আছে যে কোন মেয়ে তাকে অন্তত কল দিয়ে এভাবে বলবে না। ক্ষ্যাত ছেলেট পুরোপুরি বিস্ময়ে বিমূঢ়। কিছুটা ঘোর কাটিয়ে ছেলেটি জিজ্ঞেস করে:

-মানে!

-মানে কিচ্ছু না। মাঝে মাঝে কল দিবেন।

-আচ্ছা, তা না হয় দিলাম। কিন্তু আপনি কে বলছেন?

-আরে ধীরে ধীরে। যেদিন আমার মুড ভালো থাকবে, সেদিন বলব-আমি কে।

-এখন কি মুড ভালো নেই? এখন বলেন।

-না, এখন মুড ভালো নেই আমার। এখন তো বলতে ইচ্ছে করছে না।

-ওহ, তাই?

-হুম, তাই।

এ পর্যন্ত ছেলেটি মোটামুটি ঠিক ছিল। কিন্ত পরের কথা শুনে তার মাথা পুরো ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল। মেয়েটি হঠাৎ বলতে শুরু করলো:

-আচ্ছা, আপনি এত মুডি কেন?

-মুডি ! আমি মুডি ? মানে?

-হ্যা আপনার অনেক মুড।

মেয়েটি বলে চলে:

-আর হ্যা, আপনার গেটআপটায় একটু চেঞ্জ আনেন। বুঝছেন?

-মানে !

-মানে, নতুন হেয়ার কাট নেন। ট্রেন্ডি পোষাক-আশাক পরেন। ট্রাই সামথিং নিউ।

-ওকে।

ছেলেটি বুঝতে পারল না, আর কি বলবে। সে প্রশ্ন করে:

-আচ্ছা, আপনি কি আমাকে চেনেন?

-চিনতে পারি।

-আমি কি আপনাকে চিনি?

-চিনতে পারেন।

-তাহলে বলছেন না কেন, আপনি কে?

-ঐ যে বললাম আজকে মুড নাই।

-ওহ, তাই?

-হ্যা। আচ্ছা ভালো থাকবেন।

-হুম।

-আর হ্যা মাঝে মাঝে এই নাম্বারে কল দিবেন। শুভরাত্রি।

-শুভরাত্রি।

এরপর অপরপাশ থেকে লাইনটি কেটে গেল। ছেলেটি কিছু সময়ের জন্য অবাক হয়ে পুরোই তব্দা খেয়ে গেল। সে বুঝতে পারছে না, এইমাত্র তার সাথে কি ঘটে গেল। অবশেষে কি তার ক্ষ্যাত জীবনের মধুর পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে, নাকি সে কোন প্র্যাঙ্কের শিকার হলো! সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে সে মনে মনে ঠিক করলো- নাহ, স্মার্ট তাকে হতেই হবে। যদি সত্যিই কেউ এসে থাকে তবে তো আর ক্ষ্যাত থাকা সম্ভব না।

সেরাতে তার ক্ষ্যাত অবস্থার আশু উন্নতির স্বপ্ন দেখতে দেখতে ছেলেটি ঘুমাতে গেল। ছেলটির সেরাতের ঘুমটি অস্বস্তিকর সুন্দর হলো।

*ক্ষ্যাত* *ছেলে* *স্মার্ট* *মেয়ে* *ভালোবাসা* *আবেগ* *ফোন* *কল* *গল্প*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

"তুই কিন্তু আমাকে রোজ ফোন করবি ! রোজ । মনে থাকে যেন রোজ !"

"আচ্ছা মা ।"

"আচ্ছা না ! বল করবি ?"

"ঠিক আছে মা । রোজ ফোন করবো তোমাকে আমি ।"

"আর প্রতি শুক্রবার আসবি ঘরে । বিকেলে চলে এসে রাতে খেয়ে তারপর যাবি ।"

"ঠিক আছে মা ।"

"আর প্রতিদিন ফোন দিবি ঠিক সাড়ে দশটা-এগারোটার সময় ।"

"আচ্ছা ।"

"তোর বাবা দোকানে চলে যাবে । তারপর আমি রান্না করবো আর কথা বলবো তোর সাথে ।"

"ঠিক আছে ।"

"তখন কিন্তু ব্যস্ত বললে শুনবো না ।"

"বলবো না ব্যস্ত আছি ।"

''সত্যি তো ?"

"হ্যা সত্যি । এখন ওঠো তো ইনসুলিনটা পুশ করতে হবে এখন । তারপর আধ ঘন্টা পর রাতের খাবার খেতে হবে |"

"আজ কি রান্না করলি মা ?"

"নিরামিষ আর তোমার জন্য দুটো মোমো ।"

"বাহ্ ! তোর বাবা খেয়েছে ?"

"হ্যা ।"

আলিহা তার মাকে ইনসুলিন ইনজেকশন পুশ করে দিয়ে চলে গেল খাবার গরম করতে । রাহেলা চুপ করে বসে মেয়ের বিয়ের কথা ভাবতে লাগলেন । আচ্ছা হলুদের দিন কেমন শাড়ি কেনা উচিত ? সিল্ক না জামদানি ? জামদানি, টাঙ্গাইল খুব কমন হয়ে যায় ! কাতান একটা আর কতই নেবে ! বড়োজোর চার-পাঁচ হাজার । নাহঃ ! কাতানই কিনবেন । হলুদ কাতান লাল পাড় | আর হলুদ গাঁদার গহনা । কি সুন্দর হবে ! অপূর্ব লাগবে তার মেয়েকে !

আলিহা ট্রেতে করে তার মায়ের খাবার নিয়ে এলো । ল্যাপ টেবিলটা বিছানায় রেখে তাতে খাবার সাজালো । রাহেলা তাকিয়ে দেখলেন মেয়েকে । কি গোছানো স্বভাবের মেয়েটা । সব কাজ পরিপাটি । এই যে কি সুন্দর খাবার বাড়ছে । আসলেই তার মেয়েটা আলাদা ।

আলিহা তার মাকে ধরে বসাল । খাবার খাইয়ে দিতে দিতে বলল, "তুমি সারাদিন এতো কথা বলোনা মা বুয়ার সাথে ।"

"কেন গো মা ?"

"এমনি ।"

"ভালো লাগেনা মা এমনি এমনি ।"

"ডাক্তার তো মানা করেছে তোমাকে বেশি কথা বলতে । সেজন্য মা ।"

আলিহা সত্যি কথাটা বলতে পারলো না । তাদের বুয়া অভিযোগ করেছে, "খালাম্মা এত্ত কতা কয় মাতা ঘুরে আমার ! আমি যামুগা আফা । কাম না পাইলে নাই কিন্তু ইমুন করলে থাহা যায়না ।"

স্ট্রোক করার পর অতিরিক্তরকম কথা বলেন রাহেলা তা সত্যি । কিন্তু বুয়া এখন কাজ ছেড়ে চলে গেলে বড় বিপদ হবে আলিহার ।

"কি ভাবিস মা ?"

" কিছু না ।"

"তুই খেয়েছিস ?"

"খাবো মা । তোমার খাওয়া হলে ওষুধ খাইয়ে দিয়ে গিয়ে খাবো ।"

"তুই খাবি ঠিকমত মা ।"

"আচ্ছা ।"

রাহেলা স্ট্রোক করে তার শরীরের বামপাশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছে । তাকে খাওয়ানো, জামা পড়ানো, গোসল করানো সব তার মেয়ে করে । তিনি প্রায় অচল এখন শারীরিকভাবে ।

রাহেলা এক হাতে অনেক কসরত করে রুটি ছিঁড়ে নিয়ে সবজি দিয়ে আলিহাকে বললেন, "হা কর মা । খাইয়ে দেই তোকে ।"

"আমাকে খাওয়াতে হবে না । তুমি খাও ।"

"খা না মা । মার হাতে খেতে হয় ।"

আলিহা রুটির টুকরোটা গালে নিয়ে বলল, "তাড়াতাড়ি খাও মা |"

সব কাজ সেরে রাতে ঘুমাতে এলে রাহেলা বলল, "জানিস তোর বিয়েতে তোর জন্য একটা আলাদা দামি শাড়ি কিনবো ।"

"হুম ।"

এই গল্প প্রায় প্রতিদিন করেন রাহেলা । এইসব কথা আলিহার জন্য নতুন নয় ।

রাহেলা আবার বললেন, "খালি একটাই দুঃখ মা ।"

"কি ?"

"ছেলের বয়স বেশি অনেক ।"

"সব কি মেলে মা !"

"ঠিক গো মা । তবে দেখিস ছেলে ভালো ।"

"ভালো হলেই ভালো |"

"নাগো ভালো অনেক । আমি হাসপাতালে থাকতে কতবার এসেছে ।"

"হুম । এখন ঘুমাও মা ।"

"ঘুম আসবে একটু পর । লিহা ?"

"বলো মা । বাথরুম যাবে ?"

"না । একটা কথা শুনবি ?"

"কি ?"

"আমার বিয়ের বেনারসীটা পড়বি একবার এখন ? পড়না মা । দেখি কেমন লাগে তোকে ?"

"কি পাগলামো করছো মা ! ঘুমাও এখন ।"

"পড়না মা বেনারসীটা ।"

"এখন না মা ।"

"কেন গো ? পুরোনো তাই ? জানিস আমার বিয়ের সময় ঐটা ছিল বাজারের সবচেয়ে দামি শাড়ি । ওই যুগে দশ হাজার টাকা দাম ।

তখন অনেক টাকা ছিল তো তোর বাবার তাই এতো দামি শাড়ি কিনেছিল । সবাই বিয়ের দিন শাড়ি দেখে অবাক । এতো দামি শাড়ি !"

"ঘুমাও মা এখন । তোমার শাড়ির গল্প কাল শুনবো ।"

"পড় না শাড়িটা !"

"পড়বো মা । প্রমিজ আমার বিয়ের দিন পড়বো ।"

"এখন ?"

"এখন না ।"

"মাগো তুই প্রতিদিন ফোন দিস ।"

"দেব মা ।"

রাহেলা তার পুরোনো ছোট নকিয়ার ফোনটা হাতড়ে হাতড়ে বালিশের তোলা থেকে বের করে বললেন, "আমি ফোনটা সবসময় কাছে রেখে দেব । যাতে তুই ফোন দিলেই ধরতে পারি ।"

"আচ্ছা মা ।"

"আমি খাবার রান্না করে তোকে পাঠাবো রোজ । খাবি তো মা ? নাকি বড়োলোক শাশুড়ি পেয়ে মাকে ভুলে যাবি ?"

"কি যে বলো না মা ! মা ঘুমাও তো এখন ।"

সারাদিনের খাটুনির পর আলিহার চোখে ঘুম জড়িয়ে এসেছে । সে ঘুমিয়ে গেল । রাহেলা বকে যেতে লাগলেন তার মতো ।

আলিহার বিয়েটা হল না । বিয়ের নির্ধারিত তারিখের সতের দিন আগে আলিহার মা মারা যান ।

শাহেদ বেশ রাগ হয়ে বলল, "তোমাকে অনেকবার ফোন দিয়েছি আমি ।"

"আমার ফোনে চার্জ ছিল না ।"

"চার্জ ছিল না ? নতুন ফোনে চার্জ ছিল না ? তুমি চার্জ দাওনি ফোনে ?"

"ওটাতে ছিল । তুমি যেটাতে দিয়েছিলে সেটায় ছিল না ।"

"মানে ? আমি তোমার জিপি নম্বরে ফোন দিয়েছি । সেটা অফ ছিল ।''

আলিহা অপরাধ স্বীকার করে বলল, "হ্যা ওটার চার্জ ছিলোনা ।"

শাহেদ দেখলো ডেস্কের উপর পুরোনো জীর্ন একটা ছোট নকিয়ার ফোন চার্জে দেয়া । সে এগিয়ে এসে বলল, " এটা কার ?"

"আমার ।"

"এতেই কি ফোন দিয়েছিলাম ?"

"হ্যা ।"

"আর যেটা নতুন কিনে দিয়েছি সেই ফোনটা কই ?"

"ঐযে পাশে । ওটায় অন্য অপারেটরের সিম কার্ড । ওটায় ফোন দিলে পেতে ।"

শাহেদ বহু কষ্টে রাগ সামলে বলল, "আমি তোমাকে ব্র্যান্ড নিউ আইফোন সেভেন কিনে দিয়েছি এতগুলো টাকা খরচ করে আর তুমি এই মান্ধাতার আমলের নষ্ট ফোন নিয়ে পরে আছো । ফ্যালো এটা !"

আলিহা চমকে উঠে বলল, "না । ওটা চার্জ দিলেই ঠিক হয়ে যাবে ।''

"এটা দেখতে কেমন ! ছিঃ আলিহা !"

"থাক । যেমনি হোক । আমি ওটাই রাখবো ।"

শাহেদ রেগে গিয়ে ফোনটা টেনে চার্জার থেকে খুলে ফেলে বলল, "ফোন রাখা হয় যোগাযোগের জন্য ! আর এটা যদি সারাদিন এমন চার্জে সেঁক দিয়ে রাখতে হয় তো এর জায়গা ডাস্টবিন ।"

শাহেদ ফোনটা খুলে নিতেই দৌড়ে এগিয়ে এলো আলিহা । তার সাথে জোরাজুরি করতে লাগলো ফোনটা ফিরিয়ে নিতে । বারবার অনুনয় করে বলতে লাগলো, "শাহেদ প্লিজ দাও, ফিরিয়ে দাও ফোনটা । তুমি ওই নম্বরে ফোন করো । ওটা আমি সবসময় খোলা রাখবো । প্লিজ দাও ।"

কিছুক্ষন ধস্তাধস্তির পর এই মামুলি অকেজো একটা ফোন নিয়ে আলিহার এতো আগ্রহ দেখে শাহেদ ফোনটা ছুড়ে ফেলে দিল বারান্দায় ।

একটা চিৎকার করে আলিহা দৌড়ে গেল সেদিকে । এতো পুরোনো বহুব্যবহারে জীর্ন ফোন এতো চাপ নিতে পারেনি । ভেঙে খুলে ছড়িয়ে গেলো ।

আলিহা হতবাক চোখে ভেঙে ছড়ানো ফোনটার দিকে কিছুক্ষন চেয়ে থেকে মাটিতে বসে একটা একটা টুকরো টুকিয়ে জড়ো করলো ।

শাহেদ একটু সামনে এগিয়ে এসে বলল, "যাহ । এতো ভেঙে গুঁড়ো হয়ে গেল !"

আলিহা একবার মাথা তুলে চাইলো শুধু । শাহেদ দেখলো তার চোখে পানি টলটল করছে ।

নাহঃ ঠিক হয়নি কাজটা ! রাগের মাথায় একটু বেশিই হয়ে গিয়েছে ।

শাহেদ পাশে হাটুগেড়ে বসে বলল, "দেখি কি হল ?"

আলিহা তাকে দেখালো না । টুকরোগুলো সব শাড়ির আঁচলে বেঁধে নিয়ে চলে গেল ।

তাদের বিয়ে হয়েছে চার মাস । এখনো আনুষ্ঠানিকতা হয়নি । সেসবের প্রস্তুতি চলছে । তাই এখনো আলিহা এবাড়িতে নববধূ ।

আলিহার শাশুড়ি ছেলের ঘরে এসে বললেন, "কি বলেছিস তুই বৌমা কে ?"

"তেমন কিছুনা মা ।"

"যাক তুই অন্তত স্বীকার গেলি ! ওতো যতই জিজ্ঞাসা করি বলে তুই কিছুই বলিসনি এমনি ওর মন খারাপ ।"

"ইয়ে মা । মানে আমি একটু খারাপ ব্যবহার করে ফেলেছি ওর সাথে ।"

"সেতো বুঝতেই পারছি ! নতুন বৌ, মা মরা মেয়ে কাঁদাও তাকে !"

রাতে ঘুম ভেঙে শাহেদ দেখলো আলিহা বিছানায় বসে কাঁদছে । তার হাতে ফোনটা ।

শাহেদ উঠে বসে তার স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে বলল, "আই এম স্যরি আলিহা ! প্লিজ কেঁদোনা ।"

আলিহা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো । শাহেদ তার হাত থেকে ফোনটা নিল । দেখলো আলিহা জোড়া লাগিয়েছে ঠিক কিন্তু ফোনটা চালু হচ্ছে না । শাহেদ বলল, "আমি এটা কাল ঠিক করে এনে দেব । প্লিজ তুমি মন খারাপ করো না ।"

পরদিন সন্ধ্যায় শাহেদ ঘরে ফিরে আলিহার খোঁজে রান্নাঘরে গিয়ে দেখলো সেখানে সে আর তার মা কি যেন একটা রান্নার যোগাড় করছে ।

শাহেদ এগিয়ে গিয়ে বলল, "আলিহা এই দ্যাখো ঠিক হয়ে গেছে ।" বলে সে ফোনটা এগিয়ে দিল ।

আলিহা খুব খুশি হয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে বলল, "হ্যা তাইতো ! ওমা চার্জ প্রায় শেষ । যাই চার্জে দেই ।"

আলিহা চলে যেতে শাহেদের বোন বলল, "পাগল কেমন দেখলে ভাইয়া ! ঐরকম একটা ট্র্যাশ নিয়ে কি এক্সসাইমেন্ট ! ঘরে আইফোন পরে রয়েছে আর ওই একটা তিনইঞ্চি খেলনা নিয়ে ওর কি পাগলামো !"

শাহেদ বলল, "তাই তো দেখছি ।"

শাহেদের মা নিগার একটা ছোট নিঃস্বাস ফেলে বললেন, "ওটা ওর মার ফোন ।"

শাহেদ আর তানিকা চমকে তাকালো ।

নিগার বললেন, "ওর মা স্ট্রোক করার পর ওর এক জায়গায় সম্বন্ধ হয়েছিল বিয়ের । ওর মা ওকে সবসময় বলতেন শশুরবাড়ি গিয়ে রোজ ফোন দিবি । আমি আমার ফোনটা সবসময় কাছে রাখবো যাতে যখন তখন তোর সাথে যোগাযোগ করতে পারি ।"

শাহেদ রুদ্ধশ্বাসে বলল, "তারপর ?"

"তারপর আর কি ! ওর মা মারা গিয়েছে কিন্তু ফোনটা আছে । যোগাযোগের মানুষটা নেই কিন্তু মাধ্যমটা রয়ে গেছে ।"

এই পুরোনো অল্পপ্রাণ জীর্ন বস্তুটার প্রতি তার স্ত্রীর এতটা মায়ার কারণ তার কাছে স্পষ্ট হল । শাহেদ ঘরে গিয়ে দেখলো ফোনটা চার্জে দিয়ে ফোনটার উপর হাত রেখে আলিহা দাঁড়িয়ে আছে । তার দুচোখের কাজল অশ্রুতে লেপ্টে গেছে ।

আজ শাহেদ আর আলিহার বিয়ের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান । তাদের বাড়ির ছাদেই অনুষ্ঠান হবে আর নতুন বানানো চারতলার খালি ফ্লোরে খাবারের আয়োজন । হঠাৎ কিসের যেন শোরগোলে উঠে গেল শাহেদ । ভেতরে গিয়ে দেখলো তার বোন আর চাচাতো ভাইয়ের বৌ চিৎকার করে অস্থির ।

তানিকা বলছে, "এত্ত বললাম ! এত্ত বললাম শুনলেই না । কেমন পাগল !"

শাহেদ এগিয়ে গিয়ে বলল, "কি হয়েছে ?"

তার চাচাতো ভাইয়ের বৌ বলল, "কি আর ! তোমার বৌ ! পুরো পাগল !"

"কেন ?"

"আরে কি এক কাজ করেছে দেখ গিয়ে !"

"কি হয়েছে কি ?"

"আরে এমন একটা দিন আর আসবে জীবনে ? আর এই দিনে কিনা কোথেকে এক পুরোনো বেনারসী পরে বসে আছে । পার্লারে এতো বললাম নতুন বিয়ের শাড়িটা পড়ো । শুনলো না । কে জানে কোন নমুনা ! মানুষ সত্তর হাজার টাকা দামের নতুন জারদৌসি বেনারসী বাদ দিয়ে পুরোনো কাপড় পরে ! দুঃখ আছে ভাই তোমার !"

শাহেদ তার মায়ের ঘরের দিকে গেল । আজ আলিহা নিগারের ঘরেই বসেছে । বেশ রাগই লাগছে শাহেদের । এটা কেমন কথা কেউ বিয়ের শাড়ি পড়বে না !

নিগারের খাটের কোনে দেয়ালের জানালার দিকে মুখ ফিরিয়ে আলিহা বসে আছে । সে গলা খাকারি দিয়ে ঘরে ঢুকে বলল, "এসব কি কথা আলিহা ? তুমি কেন বিয়ের জন্য কেনা শাড়ি পড়োনি ?"

আলিহা ফিরে তাকালো শাহেদের দিকে । মাথা নিচু করে বসে রইলো । শেষ বিকেলের আলো তার মুখে পরে অপূর্ব দেখাচ্ছে ।

আলিহার পরনের বেনারসীটা লক্ষ করে শাহেদ মাথা নাড়ল বিশেষভাবে ।

শাহেদ একটু হাসলো, বলল, "এটাই ঠিক হয়েছে । আই এম প্রাউড অফ ইউ !"

তানিকা ঘরে এসে বলল, "দেখেছো ভাইয়া ?"

"হ্যা ।"

"বলো কিছু ।"

"আমিই তো বলেছি ওকে এই শাড়িটা পড়তে ।"

"কি ?"

"হ্যা ।"

"এত্ত সুন্দর দামি শাড়ি রেখে এটা ?"

"হ্যা । ও যত দামি শাড়িই পড়ুকনা কেন এই শাড়িটায় ওকে যত সুন্দর লাগছে আর কোনোটাতেই ততটা সুন্দর লাগতো না ।"

"সত্যি ? তুমিই বলেছো ?"

"হ্যা । আমিই বলেছি এই শাড়িটা পড়তে ।"

..........................

( রুবাইয়াৎ তৃণা )

*মা* *গল্প* *যোগাযোগ* *আবেগ* *কান্না* *ফোন* *শাড়ি*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ মোবাইল ফোন নির্মাতা শাওমি (Xiaomi – যাকে আমরা অনেকেই ভুলভাবে জিয়াওমি উচ্চারণ করে থাকি) অনেকের কাছে পরিচিত হলেও, বাংলাদেশে অধিকাংশের কাছে এখনো অপরিচিত। এই চাইনিজ মোবাইল ও স্মার্ট ডিভাইস নির্মাতা কোম্পানিটি ২০১০ সালের আগস্ট মাসে তাদের যাত্রা শুরু করে। মাত্র ৬ বছরেই শাওমি তার বর্তমান অবস্থানে পৌঁছে যায় এবং এর অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে দুর্বার গতিতে। আমাদের দেশে আরও দুটি চাইনিজ মোবাইল নির্মাতা হুয়াওয়ে (১৯৮৭) ও অপ্পো (২০০১) কোম্পানি তাদের অনেক শো-রুমের কল্যাণে বেশ পরিচিতি পেলেও শাওমি আজও মোটামুটি অপরিচিতই বলা যায়। অথচ বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ১৭ কোটি শাওমি অপারেটিং সিস্টেম মিইউআই (MIUI) ব্যবহারকারী রয়েছে, যার মধ্যে বৃহৎ অংশটি শাওমি’র মোবাইল সেট ব্যবহার করে। প্রায় ৩৪০ টি মডেলে ব্যবহৃত মিইউআই, অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। কিন্তু শাওমি আর এর অপারেটিং সিস্টেম মিইউআই এর কথা আপনি যদি কাউকে বলেন, তাহলে তার মুখের কৌতুহলের ভ্রুকুটি বা বিদ্রুপের (চাইনিজ হবার কারণে) অভিব্যক্তি দেখে আপনার খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক। শাওমির জনপ্রিয়তার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম এর প্রোডাক্টের মূল্য। বলা হয়ে থাকে, শাওমির প্রোডাক্টগুলোর দাম হয় কস্ট-অফ-ম্যাটেরিয়ালস বা শুধুমাত্র পন্য প্রস্তুতের খরচের সবচেয়ে কাছাকাছি। ফিচার ও কনফিগারেশনের তুলনায় এর দাম অন্যন্য হাই-এন্ড ব্র্যান্ডের সমতূল্য মডেলের সেটের এক তৃতীয়াংশ বা এমনকি এক চতুর্থাংশের মত হয়। শাওমি মূলতঃ মোবাইল ফোন নির্মাতা হিসেবে নামলেও আজ তারা নানা রকমের চমকপ্রদ সব ইলেক্ট্রনিক স্মার্ট ডিভাইস ও গৃহস্থালি পন্য তৈরি করে যাচ্ছে।

তবে আজকের এই লিখাটি কিন্তু শাওমি’র গুণগান করবার জন্য নয়। বরং এর অপারেটিং সিস্টেম মিইউআই (MIUI – Mi User Interface) সম্পর্কে দু-একটি কথা বলবার জন্যই লেখা।

 

মিইউআই কি?

মিইউআই (উচ্চারণ হয়ঃ Me, You, I) মূলতঃ এন্ড্রয়েড-ভিত্তিক আফটার-মার্কেট ফার্মওয়্যার বা এক কথায় একটি কাস্টম রম। তবে, মিইউআই সমস্ত শাওমি মোবাইলে স্টক রম হিসেবে ইন্সটল করা থাকে। আমরা যারা এন্ড্রয়েডের এডভান্সড ইউজার, তাদের জন্য রম, স্টক রম, কাস্টম রম ইত্যাদি পরিচিত শব্দ হলেও আমাদের অনেকেরই কাছে এগুলো অপরিচিত হতে পারে। খুব সহজে বলতে গেলেঃ রম হল এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোনের অপারেটিং সিস্টেম বা অপারেটিং সিস্টেমের মূল কাঠামো যেখানে ডিফল্ট অ্যাপ্লিকেশনগুলো বিন্যস্ত থাকে। স্টক রম হল একটি মোবাইল ফোনে ফ্যাক্টরী থেকে দেয়া রম (যেমনঃ এন্ড্রয়েড কিটক্যাট, ললিপপ, মার্শম্যালো ইত্যাদি) আর কাস্টম রম হল, মূল এন্ড্রয়েড ভার্সনের ওপেন সোর্সকে ডেভেলপ করে নির্মিত রম যেখানে অতিরিক্ত ও ভিন্ন কিছু ফিচার বা অ্যাপ্লিকেশন থাকে (যেমনঃ সায়ানোজেনমড, মিইউআই, এওএসপি ইত্যাদি)। তাই শাওমি বা অন্য কোন ব্র্যান্ডের মোবাইলে মিইউআই রম স্টক হিসেবে দেয়া হলেও এটা যেহেতু মূল এন্ড্রয়েড এর উপর নির্মান করা তাই একে একধরনের কাস্টম রমও বলা যায়। মিইউআই রম শাওমি’র সব মোবাইলের পাশাপাশি প্রায় ৩৪০ মডেলের সেটে কাস্টম রম হিসেবে ইন্সটল করা থাকে যাতে নিচের ব্র্যান্ডগুলোর বেশ কিছু মডেলও উল্লেখযোগ্যঃ

গুগল নেক্সাস
এইচ টি সি
স্যামসাং
মটোরলা
এল জি
সনি এরিকসন
জেড টি ই
অপ্পো
হুয়াওয়ে
মিডিয়াটেক
লেনোভো
ওয়ান প্লাস
টি সি এল
মাইক্রোম্যাক্স
মেইজু
জিওনি

প্রকারভেদ

মিইউআই রম মূলতঃ দুই ধরণের হয়ঃ

চায়না রমঃ এই রম প্রধানতঃ মেইনল্যান্ড চায়নার জন্য তৈরি। চীন সরকার ও গুগলের মধ্যে কিছু মতবিরোধের কারণে চায়না রমে গুগলের কোন অ্যাপ্লিকেশন প্রি-ইন্সটল করা থাকে না (এমনকি এন্ড্রয়েডের জন্য অপরিহার্য গুগলের প্লে-স্টোর অ্যাপ্লিকেশনও না)। যার কারণে এই রম ইন্সটল করলে প্রথম দিকেই আপনাকে সমস্যায় পড়তে হতে পারে, কারণ আমরা আমাদের পছন্দমত অ্যাপ্লিকেশনগুলো প্লে-স্টোর থেকেই ডাউনলোড ও ইন্সটল করে থাকি। তবে, এ সমস্যারও সমাধান আছে। আপনি GApps নামের গুগল অ্যাপ্লিকেশন প্যাক চায়না রমের উপর ইন্সটল করতে পারবেন যেখানে আপনার কাস্টম রিকভারী, রম ফ্ল্যাশিং, রুটিং ইত্যাদি সম্পর্কে কিছুটা এডভান্সড জ্ঞান থাকতে হবে। এছাড়া, চায়না রমে সাধারণতঃ চাইনিজ ভাষার স্থানীয় কিছু অ্যাপ্লিকেশন থাকে যা, চাইনিজদের জন্য উপকারী হলেও আমাদের অন্য সবার জন্য ‘ব্লোটওয়্যার’ (অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার – যা জায়গা আর মেমোরী দখল করে) ছাড়া কিছু নয়। তবে, হালনাগাদ আর নতুনত্বের দিক থেকে চায়না রম সবসময়ই কিছুটা এগিয়ে থাকে।

গ্লোবাল রমঃ এই শ্রেণীর রম মূলতঃ গ্লোবাল ইউজারদের জন্য নির্মিত হয়। গ্লোবাল রমে চাইনিজ ভাষার কোন অ্যাপ্লিকেশন থাকে না এবং গুগলের অপরিহার্য প্রায় সব অ্যাপ্লিকেশনই প্রি-ইন্সটল করা থাকে (না থাকলেও চিন্তা নেই, প্লে-স্টোর যেহেতু থাকছেই!)।

পুরো লেখাটি পড়তেঃ http://lighthome24.com/miui-rom-review/

*শাওমি* *ফোন* *মোবাইল* *বেশটেক* *তথ্যপ্রযুক্তি* *রম* *বিশ্ব*

মোঃ হাবিবুর রহমান (হাবীব): একটি নতুন প্রশ্ন করেছে

 বেশতোতে আমার প্রোফাইল পিকচার চেন্জ করবো কিভাবে ? আমি মোবাইল ফোন থেকে বেশতো চালাই, কোন পিকচারই আপলোড দিতে পাচ্ছি না কেন ?

উত্তর দাও (১ টি উত্তর আছে )

*বেশতো* *আমার* *প্রোফাইল* *পিকচার* *চেন্জ* *মোবাইল* *ফোন* *আপলোড*

আলোহীন ল্যাম্পপোস্ট: একটি বেশব্লগ লিখেছে

এক মাসে বাড়ির ফোনবিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি এল। বাড়িতে জরুরি মিটিং বসল। বাবা বলল, ‘আমি গত মাসে বাড়ির ফোনটা একবারও ধরিনি। আমি সব ফোন করেছি অফিসের ফোন থেকে।' তখন মা এসে বলল, ‘আমিও গত মাসে কোনো ফোন বাড়ি থেকে করেছি বলে মনে হয় না। আমার সমিতির অফিসের ফোনটাই আমি ব্যবহার করি।' একমাত্র ছেলে এসে বলল, ‘আমার তো বাড়ি থেকে ফোন করার প্রশ্নই আসে না। কোম্পানি আমাকে মোবাইল বিল দেয়। আমি অফিসের সেই মোবাইল ব্যবহার করি।' এরপর বাড়ির কাজের মেয়ে এসে বলল, ‘তাহলে তো কোনো সমস্যাই দেখি না। আমরা সবাই যার যার অফিসের ফোন ব্যবহার করি!'

*জোকস* *রসিকতা* *ফোন* *বিল*
*রসিকতা* *ফোন* *বিল*
খবর

Online Khobor: একটি খবর জানাচ্ছে

স্মার্টফোনের সাথে সেলফি স্টিক ফ্রি! - Online Khobor
http://onlinekhobor.com/technology/news/25217
অনলাইন খবর ডটকমঃ   গ্রামীণফোন এবং এডিসন গ্রুপ যৌথ ভাবে বাংলাদেশের ...বিস্তারিত
*গ্রামীণফোন* *সেলফি* *স্মার্টফোন* *প্রযুক্তি* *বিজ্ঞান* *সেলফিস্টিক* *অনলাইনখবর* *মোবাইল* *ফোন*
১২৭ বার দেখা হয়েছে

রং নাম্বার: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

(কান্না২)(মাইরালা)(কান্না২)(মাইরালা)
আমি বরাবরই ফোন বিমুখ| তারপরও কাউকে ফোন দিলেই শুনতে হয় ফোন করো না কেন ?
*প্যারা* *ফোন* *মেজাজ-খারাপ*

অনি: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

৪/৫
আমাদের @Rubel25 তার জন্মদিনে এক বান্ধবীকে ফোন করেছে
রুবেল - জানো ভোরে ঘুম থেকে উঠে আমার ১ম তোমার কথা মনে পড়ে! বান্ধবী - কি আশ্চর্য রানা ও আমাকে একই কথা বলে! রুবেল - তাতে কি ! আমি কিন্তু রানার চেয়ে বেশী ভোরে উঠি!
*ফোন* *বান্ধবী* *ভোর*

হাফিজ উল্লাহ: একটি বেশটুন পোস্ট করেছে

আমরার হরেক নামের রানী @priyonty
একদিন যারিন আধঘন্টা ফোনে কথা বলার পর ফোন রেখে দেওয়ায় তার বাবা খুশি হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন: কার সাথে কথা বলছিলে? সাধারণত তুমি তো ২ঘন্টার আগে ফোন ছাড়ো না?
না বাবা .... ওটা রং নাম্বার ছিল মেয়েটা গম্ভীর মুখে জবাব দিল যারিন l
*রসিকতা* *রংনাম্বার* *ফোন*
জোকস

পাগলী: একটি জোকস পোস্ট করেছে

এক মাসে বাসার ফোনবিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি এল। বাসায় জরুরি মিটিং বসল। বাবা বলল, ‘আমি গত মাসে বাসার ফোনটা একবারও ধরিনি। আমি সব ফোন করেছি অফিসের ফোন থেকে।’ তখন মা এসে বলল, ‘আমিও গত মাসে কোনো ফোন বাসা থেকে করেছি বলে মনে হয় না। আমার সমিতির অফিসের ফোনটাই আমি ব্যবহার করি।’ একমাত্র ছেলে এসে বলল, ‘আমার তো বাসা থেকে ফোন করার প্রশ্নই আসে না। কোম্পানি আমাকে মোবাইল বিল দেয়। আমি অফিসের সেই মোবাইল ব্যবহার করি।’ (নিচেদেখ)
*জোকস* *অফিস* *ফোন*
জোকস

হাফিজ উল্লাহ: একটি জোকস পোস্ট করেছে

আমাদের অভিদা @SOUMIKABHI ফোন ধরলো -হ্যালো কে বলছেন? মেয়ে: আমি এই ফোন টার মালিক যেটা দিয়ে আপনি কথা বলতেছেন - জি, আমি আপনাকেই খুঁজতেছিলাম।যাক অবশেষে আপনাকে পাওয়া গেলো। মেয়ে (খুশি হয়ে)- আপনি এতো ভালো যে আমাকে ফোন টা ফেরত দেয়ার জন্য অপেক্ষা করতে ছিলেন? আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। - আরেহ না, আমার এটার চার্জারটা দরকার, সেটাও প্লিজ দয়া করে একদিন রাস্তায় ফেলে দিয়ে যাইয়েন! (শয়তানিহাসি)(খুশী২)(শয়তানিহাসি)
*রসিকতা* *ফোন* *চার্জার*

বেশতো সাইট টিতে কোনো কন্টেন্ট-এর জন্য বেশতো কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।

কনটেন্ট -এর পুরো দায় যে ব্যক্তি কন্টেন্ট লিখেছে তার।

...বিস্তারিত

QA

★ ঘুরে আসুন প্রশ্নোত্তরের দুনিয়ায় ★